পর্ব_২-৩ #মায়ার_যাতনা #অরুনিতা_আঁখি

0
217

#পর্ব_২-৩
#মায়ার_যাতনা
#অরুনিতা_আঁখি
বিছানার নিচে এক কোনায় জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে মায়া,,,গলা ও গালের ব্যথায় চোখ থেকে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।। ঘোমটার আড়ালে সেই অশ্রু দেখতে পারছে না রুদ্র,,দেখতে পেলেও হয়তো তার বিশেষ কিছু যায় আসতো না,,মায়াকে আঘাত করেও ক্ষান্ত হচ্ছেনা রুদ্র।। ফর্সা মুখ টকটকে লাল হয়ে আছে,, কপাল ও ঘাড়ের নীলচে রগ ফুলে আছে।।ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মায়ার কাছে বসে ঝুঁকে বসে বললো,,”তোকে খু*/ন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে!কিন্তু এত সহজে তোকে আমি মারবো না,,এই রুদ্র কায়নাথ মির্জার সাথে বেইমানি করা প্রত্যেকটা মানুষকে সে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মেরেছে।।”রুদ্রের গম্ভীর গলায় প্রতিটা কথাই অত্যন্ত শীতল ও ভয়ঙ্কর শোনালো।।
মায়া বুঝতে পারল না কি হচ্ছে?রুদ্র কি বলছে?কেন বলছে?মায়ার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সবকিছু।। সে অবুঝের মতো তাকিয়ে রইলো রুদ্রের দিকে।।

কি বলছেন আপনি?এসব কেন বলছেন,আর আমি কি করেছি? আমার সাথে এমন অস্বাভাবিক আচরণ কেন করছেন!!~মায়া
চুপপপপ!!একদম ইনোসেন্ট সাজার নাটক করবি না।।ইনোসেন্ট সেজে আমার বাবার ব্রেনওয়াশ করিয়ে আমাকে বিয়ে করতে পেরেছিস।।আমার সাথে এই অভিনয় করতে আসলে একেবারে গলা কে*/টে রেখে দিবো।ফকিরের বাচ্চা!!!কিসের জন্য আমাকে বিয়ে করেছিস??
ওহহহহ!
!টাকা! টাকা! টাকার জন্য তাই না???
এত অপমান মায়ার আর সহ্য হচ্ছে না।। সে আর চুপ থাকতে পারলো না।।”সাবধানে কথা বলবেন রুদ্র! অনেক হয়েছে,, অনেকক্ষণ ধরে আপনার অপমান সহ্য করছি।। আপনার যদি আমাকে এতই অপছন্দ তাহলে বিয়ে করলেন কেন??আমরা তো যাইনি আপনার কাছে আমাকে বউ করে ঘরে তুলে আনার জন্য।। বরং আপনারা এসেছেন,,আপনার বাবা তার বন্ধুকে দেওয়া কথা রাখতে আমাকে তার ঘরের বউ করে এনেছে।।আপনার আমাকে অপছন্দ থাকলে আপনি আগে বলেন নি কেন?এখন এসব কি ধরনের ব্যবহার?

এ্যাইইইই,,চুপপপপপ!!তোর সাহস কি করে হয়, তুই আমার সাথে গলাবাজি করছিস? ছলনা করে, বাবাকে ম্যানিপুলেট করে আমাকে বিয়ে করেছিস তুই।। কি যোগ্যতা আছে তোর আমার বউ হওয়ার?? নিজেকে আয়নায় দেখেছিস??আমার কাজের লোক হওয়ার যোগ্যতা ও তোর নেই!!
রুদ্র সবসময়ই তার প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে ভালোবাসে।।গায়ের রং নিয়ে কখনই তার বিশেষ কোনো সমস্যা ছিল না।। রুদ্র এখনো মায়াকে দেখেনি,, তবে যতটুকু দেখেছে তাতে মনে হয়েছে মায়া কালো না হলেও,, উজ্জ্বল শ্যামলা।। আর উজ্জ্বল শ্যামলা’কেও এখনকার টিপিকাল বাঙালি কালোই ধরে।।
রুদ্রকে কি কোনো ভাবে মায়াকে অসুন্দর বলছে??রুদ্র তাকে দেখেছে? কই নানুমনি তো বলল রুদ্র তাকে দেখেনি!কথাগুলো ভেবে মায়া রুদ্রকে জিজ্ঞেস করলো,,”আপনি কি আমাকে অসুন্দর বলছেন রুদ্র? আপনি আমাকে দেখেছেন?
“Ohh yeaahh!!How funny!!তুই কি নিজেকে বিশ্বসুন্দরী মনে করছিস??তোর গায়ের রং দেখ আর আমার গায়ের রঙ দেখ।। তোর এই কুৎসিত চেহারা দেখার আমার কোনো প্রয়োজন নেই,,সবসময়ই এভাবেই মুখ ঢেকে রাখবি।। তোর এই চেহারা যেন আমি কোনোদিন না দেখি।।এই কুৎসিত চেহারা যেদিন আমি দেখবো, সেদিন তা এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিবো, মাথায় রাখবি কথাটা।।
তোর মত ফকিরের বাচ্চা আর চরিত্রহীন নারীকে দুই সেকেন্ডের মধ্যে শুধু আমার জীবন কেন,পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিতে পারি।। কিন্তু আমি তা করবো না,,বলতো কেন???দেখি,, বল! বল?
“ফকিরের বাচ্চা” আর “চরিত্রহীন” এ তিনটি শব্দ যেন তীর হয়ে মায়ার বুকে বেঁধে এপর-উপর করে বেরিয়ে গেলো।।মায়া স্তব্ধ হয়ে গেল,,মুখ খোলার শক্তিটুকুও যেন সে পাচ্ছে না।।
রুদ্র আবার বললো,কি হলো বলছিস না কেন? জিজ্ঞেস কর আমাকে?
ঠিক আছে আমি নিজেই বলছি,,জেনে শুনে যখন এইই জাহান্নামে তুই পা রেখেছিস,,তখন তোকে আমি এই জাহান্নাম থেকে বের করবো না,,, তুই নিজেই এখান থেকে বের হবি।।তবে বের হওয়ার আগে তোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে আমি পুরো নিঃশ্বেস করে দিবো।। তুই পুড়বি,, কিন্তু তোর দহন কেউ দেখবে না।।

রুদ্রের এতগুলো কথার মাঝে মায়া একটু শব্দ’ও করলোনা৷ সে শুধু স্তব্ধ হয়ে শুনে গেলো রূপকথার রাজ্যের রাজপুত্রদের মতো সুদর্শন স্বামীর মুখ নিঃসৃত বিষবাক্য।।পরিশেষে অসহায়ের মতো শুধু এ’টুকু আওড়ালো,,, “ঠিক আছে, রুদ্র সাহেব।। আমার এই কুৎসিত মুখ আপনি না চাইলে কখনো দেখাবো না।।কথা দিলাম আপনাকে। ”
রুদ্রের রাগান্বিত মুখশ্রীতে কুটিল বাঁকা হাসির দেখা মিললো। শুধু বাবা আছে বলে বেঁচে গেলে মায়া।। না হলে আজকে থেকেই বুঝিয়ে দিতাম রুদ্রকে ঠকানোর কি শাস্তি!!সমস্যা নেই,,,খুব তাড়াতাড়ি বাবাকে পাঠিয়ে দিবে সে লন্ডনে ব্যবসার কাজে।। তখন এই চরিত্রহীন, লোভী নারীকে কে বাঁচাবে!রুদ্রের কুটিল বাঁকা হাসি আরও প্রসস্ত হলো।।

মায়া শক্তিহীন পায়ে বিছানার দিকে এগোচ্ছিল ঘুমানোর জন্য।।তার কিছু ভাবতে ইচ্ছা করছে না।। এই প্রথম মায়ার তার শ্যামবর্ণ নিয়ে ভীষণ আফসোস হচ্ছে!!আফসোস হচ্ছে সে কেন ধনী হলো না? সেই সাথে অনাথ হওয়ার আফসোস তো সে ছোটকাল থেকেই ছিলো।এতো এতো আফসোস আর হাহাকারের মাঝে মায়ার নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হচ্ছে।।বিছানায় বসার আগেই পুনরায় আঘাতের শিকার হলো সে।।প্রচন্ড ধাক্কায় দেয়ালের সাথে আঘাত লেগে কপাল কেটে গেছে মায়ার।। র*/ক্ত বের হচ্ছে।।
রুদ্রর হুংকার শুনতে পাচ্ছে,,”You bloo*/dy bit*/ch” এইই বিছানায় তোর জায়গা হবেনা।।সাবধান!!আমার কোন কিছু স্পর্শ করে তুই অপবিত্র করবি না।।
রুদ্র মায়ার হাত ধরে রুম থেকে করে ব্যালকনিতে ফেলে দিয়ে সাথে সাথেই দরজা লক করে দিলো ভিতর থেকে।।
ব্যালকনি অন্ধকার!ছোটবেলার সেই ভয়ংকর অ্যাক্সিডেন্টের পর,, মায়াকে কখনো একা থাকতে দেয়নি তারা নানুমা।অন্ধকারে অস্বাভাবিক ভয় পায় মায়া।। কতক্ষণ ফ্লোরে থম মেরে বসে ছিল জানেনা মায়া,,,কপাল থেকে এখনো রক্ত পড়ছে,, গলা ব্যথায় ঢোক’ও গিলা যাচ্ছে না,,,গাল লাল হয়ে ফুলে উঠেছে,,সেই সাথে চিন চিনে ব্যথা।। শরীরের এত ব্যথা’ও হৃদয়ের ব্যথার তুলনায় বেশি মনে হচ্ছে না তার।।এতো অসম্মান!!বিছানায় সামান্য স্পর্শের কারণে এত বাজে গা*/লি দিলো রুদ্র তাকে?
অনেকক্ষণ পর হুঁশ হলো মায়ার।। চারপাশে এত অন্ধকার দেখে ভরকে গেল সে।।হাত-পা অনবরত কাঁপছে মায়ার।। মস্তিষ্কে ভয় গ্রাস করে নিলো।।মায়া ঢুকরে কেঁদে উঠলো,, অনবরত দরজা ধাক্কা দিচ্ছে আর রুদ্রকে ডাকছে,, “রুদ্র!রুদ্র শুনতে পাচ্ছেন??……
দরজাটা খুলে দিন,,, রুদ্র।।। রুদ্র আমার ভয় করছে! প্লিইইইজ দরজাটা খুলে দিন।।…….
রুদ্র,,,আমি কখনো অন্ধকারে একাকী থাকি নি।। আমি কথা দিচ্ছি আমি আপনার বিছানায় শোবো না।।আমাকে না হয় মেঝেতে অথবা সোপায় ঘুমাতে দিন!!রুদ্র……..
অনেকক্ষণ ধরে রুদ্রকে ডাকাডাকির পরেও দরজাটা খুললো না সে…..রুদ্রের কাছ থেকে কোনো সারাশব্দ না পেয়ে জোড়ে চিৎকার করে কাঁদছে মায়া,,, “অন্ধকার ফোবিয়া”,মাথা ও শরীরের যন্ত্রণা আর সায় দিলোনা মায়াকে।। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেন্সলেস হয়ে মেঝেতে পড়ে রইলো মায়া…………………


#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_৩
#অরুনিতা_আঁখি
সকালে সূর্যের কড়া রোদ মায়ার চোখে-মুখে পড়তেই পিটপিট করে চোখ খুলল সে।। মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে,, কোথায় আছে সে??প্রথমে কিছু না বুঝলেও ধীরে ধীরে রাতের সব ঘটনা চোখে ভাসতে লাগলো।। সকাল হয়ে গেছে?? কয়টা বাজে এখন??
উফ!!মাথা এখনো ঝিমঝিম করছে।।মায়া মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালো,,,বেলকনির দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেলো।।ওহহ,,নিষ্ঠুর লোকটা কখন দরজা খুলেছে??রুমে প্রবেশ করার আগেই মায়ার কিছু একটা মনে পড়লো,,সে তো কথা দিয়েছিল লোকটাকে,যে মায়ার এই কুৎসিত চেহারা কখনোই রুদ্রের বিরক্তির কারণ হবে না।।গতকালের বিয়ের বেনারসি এখনো গায়ে জড়ানো,, শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে রুমে প্রবেশ করলো মায়া।।

নাহহ!ঘরে কেউ নেই,,লোকটা হয়তো তার কাজে চলে গেছে।।মায়া ঘরটাকে ভালো করে দেখলো।।বিশাল বড় রুম,,,মায়াদের বাড়ির তিনটে রুম একসাথে করলে হয়তো এইই রুম’টির সমান হবে,,সাথে নামি-দামী বিভিন্ন ফার্নিচার,,এর মধ্যে অধিকাংশ হয়তো কখনো দেখেওনি মায়া,,আধুনিকতা ও শৌখিনতার সব টুকু রেশ দিয়ে যেন ঘরটা তৈরি।।মায়া বুঝলো তার স্বামী নামক লোকটা হয়তো বেশ শৌখিন ও পরিপাটি।। মায়া বেশি কিছু ভাবলো না আর,,ইচ্ছেও করছে না ভাবতে।।লাগেজ থেকে একটা কলাপাতা রংয়ের শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো সে,,গোসল সেরে শাড়ি পরে পুনরায় রুমে আসলো।

ড্রেসিং টেবিলের সামনে আয়নায় নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে মায়া,,কোনদিনও নিজেকে আয়নায় এভাবে পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি মেয়েটা,, কিন্তু আজ করছে।।
রুদ্র ঠিকই বলেছে,,আমি আসলেই উনার যোগ্য নই।। রুদ্রর পাশে আমাকে কখনোই মানাবে না।। আমার মতো কালো,অসুন্দর ও এতিম মেয়ে কখনোই “রুদ্র কায়নাথ মির্জা’র” মতো মানুষের যোগ্য হতে পারে না।
না, না,আমাকে নানুমা’র সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে।। আমি জোর করে রুদ্রের সাথে থাকতে চাই না,,কারো বিরক্তি ও বোঝার কারণ হতে চাই না।।
~~~~~~~~
দু’তালা বিশিষ্ট “মির্জা ম্যানশন” অর্থাৎ রুদ্রদের বাড়িটি বাইরে থেকে দেখতে যতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয়,,, ম্যানশন এর ভিতর তার থেকেও বেশি আকর্ষণীয়।।রুদ্র মির্জা থাকে উপরের প্ল্যাটে।।

সকাল ৯ টা বাজে।।মায়া সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই দেখলো তার শ্বশুর “রায়হান মির্জা” ডাইনিং টেবিলে বসে আছে।। আর “রুদ্র মির্জা” অদূরে সোফায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে কিছু একটা করছে।।মায়া নিচে নামতেই তার শ্বশুর রায়হান মির্জা বলে উঠলো,,”মায়া মা তোমার ঘুম ভেঙ্গেছে??এখানে থাকতে তোমার কোনো অসুবিধা হয়নি তো মা??
এতো লেট করে নিচে নামায় মায়া বেশ লজ্জা পেলো।শশুর বাড়িতে আজকে তার প্রথম দিন। বাড়ির নতুন বউ হিসেবে তার বিশেষ দায়িত্ব আছে।।~জি না,বাবা,,আমার কোনো অসুবিধা হয়নি।।
রায়হান মির্জা হেসে মায়াকে তার পাশে বসতে বললেন।মায়া বসলে তিনি বলেন,,এতক্ষণ তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম আমরা।।আসো মা, সকালের নাস্তাটা খেয়ে নাও।।
মায়ার আবারো লজ্জা লাগলো এতক্ষন ওনাদের অপেক্ষা করানোর জন্য।।
মায়া~দুঃখিত বাবা আপনাদের এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর জন্য।।
রায়হান মির্জা~আহা!আমার মেয়ে যতক্ষণ ইচ্ছে করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবে।।সরি বলে আমার সাথে কোনো ফরমালিটি করবে না মায়া।না হলে কিন্তু বাবা রাগ করবো।।
রায়হান মির্জার মায়া কে নিজের মেয়ে বলায় আর এমন আদুরে কথায়, মায়া এক মুহূর্তের জন্য তার সকল কষ্ট ভুলে গেল।।মায়া তার বাবাকে দেখেনি কখনো,,বুজ হওয়ার আগেই তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে গেছে বহুদুরে।।মায়ার মনে হচ্ছে সে তার বাবাকে ফিরে পেয়েছে,নতুন রূপে।।এইতো তার বাবা তার সামনে বসে আছে,,তাকে স্নেহ করছে!
মায়াকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রায়হান মির্জা হেসে মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিলো।

এত বড় বাড়িতে কয়েকজন সার্ভেন্ট ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পেলো না মায়া।মায়ার শাশুড়ি নেই।।রুদ্র মির্জা,রায়হান মির্জার একমাত্র পুত্র সন্তান।।মায়া তার শশুরকে বললো,,”বাবা আপনারা খেতে বসুন আমি আপনাদেরকে সার্ভ করছি”।।
তুমি কেন কাজ করবে মায়া মা? কাজ করার জন্য তো সার্ভেন্ট আছে।।তুমি বরং বাবার সাথে খেতে বসো। ~রায়হান মির্জা
রুদ্র এতক্ষণ ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলো।মায়া আর বাবার দিকে তার খেয়াল ছিল না।কাজ সেরে ডাইনিং টেবিলে নজর দিতে মায়াকে তার বাবার পাশে বসে থাকতে দেখলো।এতক্ষণের ঠান্ডা মেজাজ সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তার।।ওহহ!!ড্যাড তাহলে এতক্ষণ এই মেয়েটার জন্য অপেক্ষা করছিলো!!
~What the hell is this??এই মেয়েটা এখানে কি করছে বাবা??(রুদ্র)
~রুদ্র, তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে! ও এখানে থাকবে না তো কোথায় থাকবে!(রায়হান মির্জা)
~এই ছোটলোকের বাচ্চাটাকে এখান থেকে যেতে বলো বাবা।।আমি ওর সাথে একসাথে বসে খেতে পারবো না।।
~~রুদ্র!!!!!
চিৎকার করে লাভ নেই বাবা।।এই ফকিরের বাচ্চা এখনো যাচ্ছিস না কেন এখান থেকে??~রুদ্র
~~ঠাসসসস!ঠাসসসস!!
থাপ্পরের শব্দে মির্জা মহল কেঁপে উঠলো,, সেই সাথে কেঁপে উঠলো যেন মায়া’ও,,রুদ্রের করা অপমানে সে নীরবে কাঁদছিলো এতক্ষন।।
~তুমি আমাকে মারলে বাবা!!রুদ্রের কন্ঠে অবিশ্বাস।। সে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, এই সামান্য মেয়ের জন্য বাবা তার গায়ে হাত তুলেছে?
~এই থাপ্পড়টা তোমাকে আরো আগে মারা উচিত ছিলো, রুদ্র।। তোমার গায়ে আমি কখনো হাত তুলিনি,,তোমাকে কড়াভাবে শাসন করিনি,,,আমি ভুল করেছি।।তোমাকে আদরে আদরে বাঁদর করে তুলেছি।।তুমি কাকে ছোটলোক,ফকির বলছো?আমার বন্ধুকে?তোমার সাহস কি করে হয় এটা বলার!!আর যদি তোমাকে কখনো মায়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখি, তাহলে তুমি আমাকে বাবা বলার অধিকার হারাবে।।
রুদ্র কিছু বলছে না,, শুধু শান্ত চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।।আর সেই চোখ ইতোমধ্যে রক্ত জমে লাল হয়ে উঠেছে,,কপালের নীলচে রগ ভাসমান।।এতক্ষণ রেগে কথাগুলো বললেও,, রুদ্রর চেহারার দিকে নজর পড়তেই রায়হান মির্জা ভয় পেলেন বেশ।।রুদ্রের রাগ সম্পর্কে ধারণা আছে তার,,রেগে গেলে রুদ্র যা তা করতে পারে,,আর সে রাগের প্রভাব পড়ে আশেপাশের মানুষের উপর।।
রায়হান মির্জার হঠাৎ করে বুকে ব্যথা শুরু হলো,,তিনি বুকে হাত দিয়ে নিচে বসে পড়লেন।।বাবাকে বুকে হাত দিতে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লো রুদ্র ও মায়া।দুজনেই দৌড়ে এসে রায়হান মির্জাকে ধরলেন।।
– বাবা!বাবা! বাবা কি হয়েছে তোমার??কষ্ট হচ্ছে? বুকে ব্যথা হচ্ছে?বাবা কথা বলো!~রুদ্র
– বাবা আপনার কি কষ্ট হচ্ছে? কথা বলুন,বাবা!~মায়া।
রায়হান মির্জা বুক চেপে ধরে অনেক কষ্টে বললেন, আমার বুকে ব্যাথা হচ্ছে রুদ্র!
– Relax dad! Don’t worry!Just Relax!
-এই মেয়ে বাবাকে ধরে রাখো! বাবা তুমি জোরে জোরে শ্বাস নাও।। আমি এখুন’ই আসছি।। একটু সয্য করো, বাবা,,কথাগুলো বলে পাগলের মতো অস্থির হয়ে ছুটে গেল রুদ্র,,২ সেকেন্ডের মধ্যে আবার ফিরে আসলো হাতে ঔষধ নিয়ে।।বাবা,এই নাও তাড়াতাড়ি ওষুধগুলো খেয়ে নাও,,প্লিজ বাবা তাড়াতাড়ি ওষুধ খেয়ে নাও।।
কিন্তু রায়হান মির্জা মুখে ওষুধ নিলেন না,, “তুমি আমার কোন কথা শুনো না রুদ্র,, বেঁচে থেকে তোমার এই অবাধ্যতা আমি আর সহ্য করবো না,তার চেয়ে বরং মরে যাই আমি,তুমি শান্তি পাও।।”
~বাবা প্লিজ এখন বাচ্চামো করো না,,আমি,আমি শুনবো,শুনবো তোমার কথা।। রুদ্রের জলে চিকচিক করা চোখ,, মনে হচ্ছে আরেকটু হলেই কেঁদে ফেলবে।।তা দেখে রায়হান মির্জা আর বারণ করলো না,,খেয়ে নিলেন ঔষুধ।।
রুদ্র যেন স্বস্তি ফেলো।বাবাকে বললো,, “খালি পেটে ওষুধ খাওয়া ঠিক না বাবা,কিছু খেয়ে নাও।”
মায়া উঠে খাবার আর পানি নিয়ে নিচে বসলো,, রুদ্র ঠিক বলেছে বাবা,,আমি আপনাকে খাইয়ে দিচ্ছি,,দয়া করে খেয়ে নিন।।
আমি কিছু খাবো না মায়া মা,,তুমি কি আমাকে কষ্ট করে রুম পর্যন্ত দিয়ে আসতে পারবে ~রায়হান মির্জা।
-এমন কেন করছো বাবা? তোমাকে কেন সব সময়ই এমন বাচ্চামো করতে হবে!! জেদ না করে খেয়ে নাও,আমাকে অফিস যেতে হবে!!~রুদ্র
~মায়া!তুমি ওকে বলে দাও,,ও যদি তোমার কাছে ক্ষমা চায় তাহলেই আমি খাব।আর নাহলে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো।।ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ে থমথমে গম্ভীর গলায় কথাগুলো বললেন রায়হান মির্জা।
~”অসম্ভব!!আমি এইই ফকি”…..থেমে গেল রুদ্র। না না,, এই মেয়েকে কিছু বললে বাবা আবার হাইপার হয়ে যাবে।। “আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইতে পারবো না বাবা”!!
– থাক না বাবা,,,উনি আমার কাছে কেন ক্ষমা চাইবেন??~মায়া
– মায়া মা,,চলো।আমরা এখনই এ বাড়ি থেকে চলে যাবো।পথিমধ্যে যদি আমার কিছু হয়,,তাহলে তুমি তোমার মামাদের বাড়িতে চলে যেও,,মা।।এই বলে রুদ্রের বাবা মায়াকে ধরে উঠতে চেষ্টা করছিলেন
-এই মেয়ে!শোনো! সরি,,,।।হয়েছে বাবা?সরি বলেছি,, এবার খেয়ে নাও।~রুদ্র
-ওর একটা নাম আছে,, রুদ্র!!সুন্দর ভাবে ক্ষমা চাও ওর কাছে।। একমাত্র মায়া তোমার সরি একসেপ্ট করলেই আমি তোমার কথা শুনবো।।~রায়হান মির্জা।
~এইবার রুদ্র ধমকে উঠল মায়াকে,, এই মেয়ে তুমি কি বোবা??বাবাকে বলছো না কেন যে তুমি আমার সরি একসেপ্ট করেছ!!
~রুদ্র!!তুমি কিন্তু আবারও মায়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করছো।।
~ওহহ,,সরি বাবা!!
~সরি আমাকে নয়,,মায়াকে বলো এবং সুন্দরভাবে বলবে।
~মায়া,,আই এ্যা’ম সরি।।
রুদ্র সরি বলতেই রায়হান মির্জা মায়াকে বলল,এবার আমাকে খাইয়ে দাও মায়া মা,,খিদে পেয়েছে!!
মায়ার হাতে বাবাকে খেতে দেখে কিছু না বলে সোফা থেকে ল্যাপটপ ও ফাইল নিয়ে রুদ্র অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
রুদ্রকে চলে যেতে দেখে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন রায়হান মির্জা।।মনে মনে বললেন,,”আমি তোমার বাপ রুদ্র।।তুমি যদি হও বুনো ওল,,আমিও তবে বাঘা তেঁতুল।।তোমাকে সোজা করতে যদি আমাকে অভিনয় করতে হয়,,,তাহলে দরকার পড়লে আমি অ্যাকটিং ক্লাসে ভর্তি হয়ে যাব।। ছেলেকে শিক্ষা দিতে পেরে আজ মহা খুশি রায়হান মির্জা……………..
প্লিজ আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক অথবা ফলো দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন।
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
Follow ✓
আপনাদের কমেন্টের লাইক দেওয়ার মানে হল এই গল্পের পরবর্তী পর্বটি আসছে ,
তাই প্লিজ আপনাদের মন্তব্য জানান…
Comment…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here