মায়ার_যাতনা #পর্ব_৪ #অরুনিতা_আঁখি

0
222

#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_৪
#অরুনিতা_আঁখি
শ্বশুর বাবাকে খাইয়ে,মায়া ওনাকে রেস্ট করতে দিয়ে উপরে চলে এলো।।সে নিজেও খেয়ে নিয়েছিল।। কি করবে,না করবে,,তা অনেকক্ষণ ভেবে-চিন্তে মায়া তার নানুমনিকে ফোন দিলো,,ওই বাড়ির সবার ও নানুর খোঁজখবর নিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো,,আসলে মায়া তার নানুকে কিভাবে কি বলবে তা বুঝে উঠতে পারছে না,,নাতনিকে অনেক শখ করে বিয়ে দিয়েছিলেন রহিমা সিকদার,,এখন এসব বিষয়ে শুনলে নিশ্চয়ই তিনি অনেক কষ্ট পাবেন।।মায়া বারবার নিজেকে ধাতস্থ করতে চাইছে,,সে ভেবেছিল নিজেকে শক্ত রেখে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলবে তার নানুমণিকে,,কিন্তু গলায় যেন কান্না বেঁধে আছে।।চাইলেও নিজেকে শক্ত রাখা যাচ্ছে না।।মায়াকে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকতে দেখে তার নানুমা জিজ্ঞেস করলো,,”কিরে মায়া,কথা বলছিস না কেন?কতক্ষণ ধরে হ্যালো হ্যালো করছি!!
~আসলে নানুমা তোমাকে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলার ছিল।।
~হ্যাঁ!তা বল!!আর তোর কন্ঠ এমন শোনা যাচ্ছে কেন,, মনে হচ্ছে তুই কাঁদছিস?
~নানুমা,আমি রুদ্রের সাথে সংসার করতে পারবো না।।
~এসব কি বলছিস তুই,মায়া!!মাত্র একদিন হয়েছে তোর বিয়ে হয়েছে,,আর এখন এসব কী বলছিস তুই??~নানুমা
~হ্যাঁ, নানুমা,,তুমি ঠিকই শুনেছ।।রুদ্র আমাকে অপছন্দ করেন।।শুধু অপছন্দ বললে ভুল হবে নানুমা,,তিনি রীতিমতো আমাকে ঘৃণা করেন।।উ’নার বাবা হয়তো আমাকে বিয়ে করতে জোর করেছেন উনা’কে।।আচ্ছা নানুমা?আমি দেখতে কুৎসিত,,তাই না??অত্যন্ত ভঙ্গুর কন্ঠে মায়া জিজ্ঞাসা করল রহিমা সিকদার কে।।
নাতনির কথা শুনে ‘থ’ বনে গিয়েছিলেন রহিমা সিকদার।।এমন সময় মায়ার এইই প্রশ্ন শুনে তিনি অবাক হয়ে উত্তর দিলেন,,”কে বলেছে তুই কুৎসিত!!যে বলেছে তার চোখ নষ্টরে মায়া দিদিমণি।।তোর দিকে তাকিয়ে কেউ ঘৃণা করা তো দূরে থাক,, উল্টো মায়া না করে থাকতে পারবেনা,,তুই যে বড্ড মায়াবতী’রে দিদিমনি।। তুই জানিস?ছোটবেলায় তুই যখন প্রচুর দুষ্টুমি করতি,,তোর মা তোকে মারতে পারতো না!!আমাকে বলতো,,”মেয়েটা বড্ড দুষ্টুমি করে,,মা।।কিন্তু আমি ওকে একটু মারতে পারিনা!মেয়েটার চোখের দিকে তাকালেই আমার মায়া লেগে যায়,,ওই বড় বড় চোখে কেমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে!!”
পুরনো স্মৃতিচারণ করতেই রহিমা শিকদারের চোখে জল এসে ভিড়লো,,,তার মেয়েটা অতি অল্প বয়সেই স্বামী হারা হলো,আবার অল্প বয়সেই জীবনটাও হারালো।
মায়ের কথা মনে পড়তেই মায়ার বুক জ্বলতে লাগলো,,এত বছর কেটে গেলো,, এখনো মায়া তার মায়ের অভাব বোধ করে।।মায়ের ব্যবহৃত সকল জিনিস অতি সযত্নে গুছিয়ে রাখে।।
~তোমরা আমাকে ভালোবাসো বলেই তোমাদের কাছে মায়াবতী মনে হয়।।মায়াবতী আর রূপবতীরা যে এক নয় নানুমা!!
আচ্ছা বাদ দাও সেসব কথা,, রুদ্র আমার সাথে সংসার করতে চায় না নানুমা,, উনি চান আমি যেন উনার জীবন থেকে চলে যাই।।
~তুই তোর এই বুড়ো নানু’টাকে মাফ করে দে রে দিদি ভাই!আমাদের আরও ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো।কিন্তু তুই এই সংসার ভাঙার কথা ভুলেও ভাবিস না রে মায়া।বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয়,, যে মন চাইলো করলাম আর ছেড়ে দিলাম।।বিয়ে হচ্ছে পবিত্র বন্ধন।মেয়েদের শ্বশুরবাড়ির মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়,,তুই তোর স্বামীর মন জয় করার চেষ্টা কর,দিদিভাই। এক সময় না একসময় তোর স্বামী তোকে ঠিকই ভালবাসবে।।
এবার মায়া হুঁ হুঁ করে কেঁদে দিলো,,বললো,”কিন্তু উনি যে আমাকে প্রতিনিয়ত অপমান করে নানুমা।।উনি আমাকে যা নয় তাই বলেন,,এমনকি আমার মৃত বাবা-মাকেও ছাড়েন না!!এত অপমানিত ও অসম্মানিত হয়ে আমি কি করে উনার সাথে থাকবো নানুমা?উনি যে বারবার আমার আত্মসম্মানে আঘাত করেন!!
নাতিনের কষ্টে ও অপরাধবোধে হৃদয়ে ভার অনুভব করলেন রহিমা সিকদার।।কিন্তু তবুও তিনি মায়াকে বুঝালেন,,”তুই বড্ড অভিমানী মায়া!! স্বামীর ঘর করতে হলে আত্মসম্মান আর অভিমান রাখতে নেই।।আর তুই শুধু তোর স্বামীর কাছে অসম্মানিত ও অপমানিত হচ্ছিস,,কিন্তু তালাক হলে পুরো সমাজের মানুষেরা তোকে অসম্মান করবে,অপমান করবে।।তুই কি জানিস না?স্বামীর ঘর করতে না পারা মেয়েদের মানুষ কি নজরে দেখে,,ওরা যে পরিবার-সমাজ সবার বোঝা!!বড় শখ করে তোকে বিয়ে দিয়েছি,,বড় মুখ করে মানুষদের বলেছি,,আমার নাতনি কে আমি অনেক বড় ঘরে বিয়ে দিয়েছি।।এখন তুই সংসার করতে না পারলে আমি মানুষকে মুখ দেখাবো কি করে দিদিমণি!!
রহিমা সিকদার আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু মায়া ফোন কেটে দিলো।।
~~~~~~~~~~
এখন সময় বিকেল বেলা,,,মায়া তার মায়ের একটা পুরনো শাড়ি হাতে জড়িয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে।। প্রায় সময় যখন মন খারাপ থাকে,,মায়ের পরিধান করা পুরনো পোশাক বুকে জড়িয়ে মায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।।মায়ার মনে হয়,,এই পোশাকে মায়ের শরীরের গন্ধ লেগে আছে,,মাকে অনুভব করতে পারে।।
~আচ্ছা মা,,আজ যদি তুমি বেঁচে থাকতে,, তাহলে তুমিও কি নানুমার মতো একই কথা বলতে??
-মা!মা গো!তুমি তো বলেছিলে বাবার মত হবে না তুমি!!তুমি তো বলেছিলে মা,আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না তুমি!!অথচ স্বার্থপর এর মত চলে গেলে তোমরা!আমাকে একা করে দিয়ে উপরে তোমরা সুখে আছো,তাই না??কোন উত্তর আসে না মায়ার কাছে।।মায়ার কথাগুলো যেন প্রতিধ্বনি হয়ে তারই কাছে ফিরে আসে।।

মায়ার হঠাৎ করে বিয়ের দিনের কথা মনে পড়লো,,বিদায়ের সময় তার বড় মামী ও মেঝো মামি তাকে বলেছিল,,”মায়া শোন!তোকে খাইয়ে দাইয়ে বড় করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি,,অনেক বছর তোর বোঝা আমরা টেনেছি,,আমরা আর পারছিনা।। দেখিস বিয়ের পরে যেন তোর বোঝা আর আমাদের টানতে না হয়,,যদি সংসার করে খেতে পারিস তাহলে তো ভালো।।আর না পারলে কোনদিনও যেন তোকে এই বাড়িতে পা রাখতে না দেখি।।নিজেদের খেয়ে-পরে অন্যের মেয়েকে পালন আমরা করতে পারবো না,বাপু!!
বিদায়ের সময় মামনীদের কাছ থেকে এমন কথা শুনবে তা কখন’ও ভাবতেও পারেনি মায়া,, মামনীরা তাকে এত অপছন্দ করতো??কই কোনদিনও তো বুঝতে পারেনি সে!!বুকে পাথর চাপা দিয়ে মায়া তার মামনিদেরকে বলেছিল,,চিন্তা করো না তোমরা,,আমি কথা দিলাম,পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন কোনদিনও তোমাদের বোঝা হয়ে এ বাড়িতে আমার প্রবেশ ঘটবে না।।আমাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তোমাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।।ইনশাআল্লাহ একদিন আমার পিছনে তোমরা যত খরচা করেছো,তা পরিশোধ করে দিবো।
~হ্যাঁ তা তো করবেই! বড়লোক বর পেয়েছ কিনা!!মনে মনে কথাগুলো বলল রুকসানা সিদ্দিকী।

মায়া জানতো,তার মামারা নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খান,,তাই মায়া ক্লাস সিক্স থেকে টিউশনি শুরু করেছিল,এবং তা দিয়ে পড়াশোনা এবং হাত খরচা চালাতো।।মায়ার বাবা ডাক্তার ছিলো,আর মা বেশ ভালো মানের একটা জব করতো।সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা আগে থেকেই বড় একটা এমাউন্টের টাকা জমিয়ে ছিল,,মায়ার জন্মের তিন মাস পরেই তার বাবা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়।। তারপর মায়ার মা সেই টাকার অর্ধেকটা দিয়ে মেয়ের জন্য কিছু গয়না-গাটি কিনে বাকিটা ব্যাংকে জমা রাখেন।।মায়ার যখন বয়স ১৮ হবে,,তখন সে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবে।।টাকা আর গয়নার কথা শুধুমাত্র মায়ার নানুমণি এবং সে জানতো।।থাকা-খাওয়া বাদে মায়া কখনোই মামাদের কাছ থেকে কোনরকম আর্থিক সাহায্য নিতে চায়নি।।ভাগ্নিকে ভালোবেসে মামারা মাঝে মাঝেই মায়াকে এটা সেটা উপহার দিতো।।হাত খরচের টাকা দিতে চাইলে নিতো না সেই টাকা।।
টিউশনের টাকায় সবকিছু সামাল দিতে না পেরে মায়া তার জন্য রেখে যাওয়া গহনার মধ্যে কয়েকটা বিক্রি করে দিয়েছে।।কোনদিন ব্যাহিসাবে একটা টাকা খরচ করেনি,,ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজের অনেক শখ পূরণ করেনি।।বান্ধবীরা তো তাকে মাঝে মাঝে কিপ্টে বলতো।।অথচ সেদিন তার মামনীরা থাকা খাওয়ার খোটা দিল!!

মামনিদের সেদিনকার দেওয়া খোটা আর নানুমার কথাগুলো চিন্তা করে মায়া একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো,,”রুদ্র সাহেব!!আমি আমার সবটুকু দিয়ে আপনার মন জয় করার চেষ্টা করবো।।আমার ধৈর্যের শেষ সীমা পর্যন্ত আপনার দেওয়া সকল আঘাত,অপমান,অসম্মান সহ্য করে নিবো।অন্যান্য সব মেয়েদের মতই আমিও একটা সুন্দর সংসার জীবন চাই, আপনাকে সাথে নিয়ে।।দয়া করে এমন কোনো আঘাত দিবেন না,যাতে আমার এই স্বপ্নটা নষ্ট হয়ে যায়!!
~~~~~~~~~~~~~~
সন্ধ্যা সাতটা,,রুদ্র অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এসেছে।।রুদ্রর ইচ্ছা করছিল না বাড়ি ফিরতে,, কারণ বাড়িতে আসলেই ওই নোংরা মেয়েটাকে দেখতে হবে।।উফফ,,অসহ্যকর!!বাবা যতদিন দেশে আছে ততদিন মেয়েটাকে তার সহ্য করতে হবে।।
বাবার সাথে কতক্ষণ সময় কাটিয়ে রুদ্র নিজের রুমে চলে এসে ওয়াশরুমে গেল ফ্রেশ হতে।।ফ্রেশ হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই আধা হাত ঘোমটা দিয়ে গ্লাস হাতে মায়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার কপালে কিঞ্চিৎ ভাজ পরলো।।
~রুদ্র সাহেব,,গ্লাসে লেবুর ঠান্ডা শরবত আছে।।অফিস থেকে নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে এসেছেন,,এটা খেলে আপনার ভালো লাগবে।
রুদ্র কিছু বললো না, ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মায়ার সামনে দাঁড়ালো।।মায়ার যদিও বা ভয় করছিল তবুও সে শান্তভাবে দাড়িয়ে রইলো।।রুদ্র কিছু না বলে মায়ার হাত থেকে গ্লাসটা নিলো,,এতে মায়া অবাক এর সাথে সাথে খুশিও হলো অনেক।।কিন্তু পরমুহূর্তেই মায়ার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে রুদ্র গ্লাসটি’কে ফ্লোরে আঁচরে ফেললো।
~ আমার সম্পর্কে তোর ধারনা দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি আমি!!তুই ভাবলি কি করে তোর এই নোংরা হাতে বানানো কিছু আমি মুখে তুলবো??বউ গিরি করতে আসছিস আমার সাথে??
~বিয়ে করে,বউ করে এনেছেন যেহেতু বউয়ের দায়িত্বটা তো আমাকে পালন করতেই হবে, রুদ্র সাহেব।।
~বউ ইজ মাই ফুট!!একদম মুখে মুখে তর্ক করবি না,,জিভ কেটে রেখে দিবো।।আর আমি তোকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি,, তোর এই অপবিত্র মুখে যেন আমি আমার নাম শুনতে না পাই।।না হলে,তোর সাথে কি হবে তা তুই কল্পনাও করতে পারবি না!!
~আপনার নাম ধরে না ডাকলে,তাহলে কি বলে ডাকবো?
~’স্যার’ বলে ডাকবি।।আর শোন,,বাবার সামনে পারফেক্ট স্বামী-স্ত্রী হয়ে থাকবি,,,বাবাকে যদি তুই কিছু বলেছিস,,তাহলে তোকে আমি মে*/রেই ফেলবো।।
মায়া কিছু বললোনা,, সে নিশ্চুপ হয়ে ফ্লোর থেকে কাঁচ পরিষ্কার করছে।।হাত কেটে গেছে কিছুটা,, ফ্লোর থেকে কাঁচ উঠিয়ে মায়া চলে যাচ্ছিলো,,এমন সময় রুদ্র বললো,,,”এই কাকের বাচ্চা,শোন!বাবার সামনে রুদ্র বলেই ডাকবি,,আর আলাদাভাবে থাকলে স্যার বলবি।।”
~~~~~~
রাত ৯ টা,,,রুদ্র বসে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে,,আগামীকালের প্রয়োজনীয় ডকুম্যান্টস পুনরায় চ্যাক করে দেখছিলো।। এমন সময় মায়া হাতে ব্ল্যাক কফি নিয়ে রুদ্রের পাশে মিনি টেবিলে রাখলো,,,এতক্ষন সে সার্ভেন্টেদের কাছ থেকে শশুর বাবা এবং রুদ্র কি কি খেতে পছন্দ করে তা জেনে নিয়েছে।।রুদ্রের জন্য বানানো কফি মুখে দিয়ে টেস্ট করতেই যেন মুখ উল্টে বমি পেলো তার,, এত তেঁতো কফি এই লোক খায় কিভাবে??রুদ্র ল্যাপটপ থেকে মুখ তুলে মায়ার দিকে তাকাতেই মায়া বললো,,”আপনার ব্লাক কফি এনেছি,,রুদ্র সাহেব।।”
রুদ্র শান্ত স্বরে মায়াকে বললো,,,”এইই তুই কি নির্লজ্জ রে??
~ইনশাআল্লাহ, কাল থেকে আমি সকল খাবার রান্না করবো,,তখনও কি আপনি না খেয়ে থাকবেন,রুদ্র?
~আচ্ছা,আমার হাতে দে কফিটা।।
মায়া হাতে দিতেই রুদ্র কফিটা মায়ার মুখের দিকে ছুড়ে মারলো।।মায়া সাথে সাথে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিয়েছে,, যার কারনে কফি সবটাই মায়ার হাতে পড়েছে।। গরম ধোঁয়া ওঠা কফি ছিলো,,মায়ার হাত জ্বলে উঠলো।।মায়ার মুখ থেকে ভেসে আসলো করুন চিৎকার,,, রুদ্রের রুম সাউন্ড প্রুফ,, যার কারনে সেই চিৎকার বাইরে গেল না।।
মায়া দৌড়ে ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছিলো,,কিন্তু রুদ্র যেতে দিল না।হাত মোচরে পিছনে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,,”এইটা হচ্ছে নিষেধ করার পরেও আমার নাম ধরে ডাকার শাস্তি।।এরপর এই ভুল আবারও করলে আরও বড় শাস্তি পাবি৷।
একে তো পুড়ে গেছে,, আবারো সেই পোড়া জায়গায় হাত দিয়ে চেপে ধরায় মায়ার মনে হচ্ছিল জান বেরিয়ে আসছে।।।
~আর আপনাকে নাম ধরে ডাকবো না,,স্যার!!আমাকে প্লিজ ছেড়ে দিন,,আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,,, আমার হাত জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে!!আমাকে ছেড়ে দিন দয়া করে!!কান্না করতে করতে করুন আর্তনাদে হাত ছেড়ে দেওয়ার আকুতি-মিনতি করছে মেয়েটা…………..

…চলবে??

https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/

আপনাদের কমেন্টের লাইক দেওয়ার মানে হল এই গল্পের পরবর্তী পর্বটি আসছে ,
তাই প্লিজ আপনাদের মন্তব্য জানান…
Comment…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here