#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_৫
#অরুনিতা_আঁখি
অনেকক্ষণ হলো মায়া ওয়াশরুমের ট্যাপ ছেড়ে পানিতে হাত ভিজিয়ে রেখেছে,,,তারপরেও হাতের জ্বালা কমছে না।।মায়া বাইরে বেরিয়ে এলো।।
~কিরে বেরিয়ে এলি! আমি তো ভাবলাম আজকে সারা রাত বোধহয় ওয়াশরুমে কাটিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছিলি।।
~আমি জানিনা আপনি আমার সাথে কেন এরকম করছেন,,জানিনা আমার ভুল কি!!তবে দেখবেন একদিন আপনার নিজের এই কাজে আপসোস যেন করতে না হয়।।
~আপসোস??তাও আবার আমি!!হাসালি,, এই “রুদ্র কাইনাথ মির্জা”কোনদিনও তার কাজে আপসোস করে না,, আর করবেও না।।বেশি কথা না বলে,ওখানে ফার্স্টএইড বক্স রাখা আছে,, হাতে ওয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে নে।।মায়া গেলো না,,, রুদ্র নিজেই ফার্স্টএইড বক্স এনে মায়ার হাতে ধরিয়ে দিলো,”শোন!আবার ভাবিস না আমি তোর কেয়ার করছি,,বাবাকে তো বশ করেছিস!!হাতের ক্ষত যেন বাবা না দেখে,,না হলে বুঝতেই পারছিস কি হবে!!
রুদ্রের মুখে ত্বাছ্যিল্যে’র হাসি,,সেই হাসিতে মায়া নিজের প্রতি বিদ্রুপ আর কটাক্ষ দেখতে ফেলো।।
মায়ার হাতে ফোঁসকা পড়ে গেছে,,রুদ্রের হাতের চাপ লাগায় কিছু কিছু জায়গার চামড়া’ও উঠে গেছে,,হাতের যন্ত্রণা সহ্য করা যাচ্ছে না,, না পারতে সে হাতে ওয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে নিল।।
রাত এগারোটা,,রুদ্র বিছানায় শুয়ে আছে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়ে,,মায়াকে বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,,”এই রুমে তোর জায়গা হবে না,,ব্যালকনিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়,যা।।
মায়ার গতকাল রাত্রের সেই ভয়াবহ সময়ের কথা মনে পড়তেই আতঙ্ক ঘিরে ধরলো,,,”নাহহ!অসম্ভব,,আমি ব্যালকনিতে যাবো না”,,বেশ জোড়েই কথাটি বলল মায়া।।
~না মানে?তাহলে কোথায় ঘুমাবি!!
~আমাকে বালিশ আর একটা ব্ল্যাঙ্কেট দিন,, আমি সোফায় ঘুমাবো।।
~কাকের বাচ্চা!!তুই কথা শুনিস নি?এই রুমে তোর জায়গা হবে না,তোকে ব্যালকনিতেই ঘুমোতে হবে।।
~ঠিক আছে তাহলে আমি বাবাকে গিয়ে বলছি,, আমাকে অন্য একটা রুমের ব্যবস্থা করে দিতে।।
~বাবাকে বলবি মানে??তোর জ্বীভ টেনে ছিড়ে ফেলবো আমি!!
~আপনার যখন এতই সমস্যা আমাকে নিয়ে,, তাহলে আমি বাবাকে বলে দিবো আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি,,তখন শুধু রুম কেন,আপনাকে মুক্ত করে দিয়ে আমি এই বাড়ি থেকেই চলে যাব।।
~আমার জীবন থেকে তো তুই যাবিই,,তোর মতো নোংরা নারীকে আমি এমনিতেও আমার জীবনে রাখবো না।। তবে তার আগে আমার সাথে ছলনা করার শাস্তি না পেয়ে তুই মুক্ত হতে পারবি না।।
~ঠিক আছে,,আমি এখনই গিয়ে বাবাকে সব বলে দিচ্ছি,,কথাটি বলেই মায়া চলে যাচ্ছিলো।।
~খবরদার,,কাকের বাচ্চা!!দরজার ওই পাশে যদি তোর এক পাও পড়েছে,,, তাহলে……..
~শুধু শুধু ঝামেলা বাড়াচ্ছেন কেন??আমি চাইনা আমার জন্য আপনাদের বাবা ছেলের সম্পর্ক খারাপ হোক,, তার জন্য এখনো পর্যন্ত আপনি যা যা করেছেন আমার সাথে, তার কিছুই বলিনি বাবাকে,,সামনেও বলবো না,,আমাকে শুধু সোফায় ঘুমাতে দিন,,ব্যাস।।
~কয়দিন বাঁচবি আমার থেকে??এর শোধ আমি পরে তুলবো,,,জাস্ট ওয়্যেট!!শান্ত কন্ঠে কথাগুলো বলে রুদ্র শুয়ে পড়লো।।
মায়া’ও আর কিছু বললো না,,,বিছানা থেকে বালিশ আর একটা পাতলা ব্লাঙ্কেট নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো।।সোফাটা বেশ বড় হওয়ায় ঘুমোতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না।।
~~~~~~~~~~
সকাল বেলা,, ফজরের আযান দিচ্ছে।।মায়া নামাজ পড়ে আর ঘুমালো না,,,রুদ্রকে দেখলো এখনো ঘুমিয়ে আছে।।”উনি কি নামাজ পড়বেন না??আমি কি উনাকে ডেকে তুলবো,,পরে যদি এর জন্য আবার
রাগারাগি করেন??
না,না,, কি ভাবছি আমি!!নামাজ আদায় করা এবং অন্যদের নামাজ পড়তে আহ্বান করা প্রতিটা মুমিন ব্যক্তির কর্তব্য।। কথাগুলো ভেবে মনে ভয় ও সংশয় নিয়ে মায়া রুদ্রকে ডাকতে গেল।।
অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পরেও রুদ্র যখন উঠলো না,, মায়া তখন ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই এক ভয়ঙ্কর কাজ করে ফেললো,,পাশে রাখা জগ থেকে অল্প কিছু পানি হাতে নিয়ে রুদ্রের মুখে ছিটিয়ে দিলো।।
ঘুমের মধ্যে রুদ্রের মনে হচ্ছে,,তার চোখে মুখে কেউ পানি দিচ্ছে।।বিরক্ত হয়ে চোখ খুলতেই সামনে জগ হাতে মায়াকে দেখতে পেয়ে যা বুঝার বুঝে গেল।।
~স্যার,,নামাজের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।।অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পরেও আপনি উঠছিলেন না ,,তাই আমি……….. মায়া পুরো কথা শেষ করার আগেই নিজের গালে পুনরায় দাবাং মার্কা থাপ্পর খেয়ে ফ্লোরে উল্টে পড়লো!!
‘৬’ ফিট ‘১’ইঞ্চি উচ্চতার দানবীয় শরীর,,দেখেই মনে হয় প্রতিদিন নিয়মিত জ্যিম করার ফসল।’৫’ফিট’৪’ ইঞ্চির রোগা পাতলা মায়াকে রুদ্রের কাছে নিতান্তই চুঁনোপুটি মনে হয়।।রুদ্রের দানবীয় শরীরের শক্ত হাতের থাপ্পরে যেকোনো পুরুষ’ও খেই হারিয়ে ফেলে,,সেখানে দুই দিনে দুইবার থাপ্পড় খেয়ে মায়ার অবস্থা শোচনীয়।।
মায়া ফ্লোরে একইভাবে পড়ে আছে,,মাথা ঘুরছে,ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে,,কান ঝাঁ ঝাঁ করছে।।বাঁম গালের ব্যথাই এখনো সারেনি,,এখন অপর গালে আবারও থাপ্পর খেয়ে তার অবস্থা নাজেহাল, ফ্লোর থেকে মাথা’ই তুলতে পারছে না।।
রুদ্র এগিয়ে এসে মায়ার কাছে হাটু মুঁড়ে বসলো,,অন্ধকারে মায়ার দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো।। তারপর হঠাৎ করে পিছন থেকে মায়ার চুল খামচে ধরে টান দিয়ে মায়ার মুখ উপরে তুলে নিজের মুখোমুখি করলো।।চুলে টান লাগায় ও গালের যন্ত্রণায় মায়া অস্পুট’স্বরে ঘু’ঙ্গিয়ে উঠছে।। রুদ্র ক্রুর হাসলো,,বলল,”আমার হাতে মার খেতে খুব মজা লাগে,,তাইনা বেবি??”
Then okay,,as your wish!!আমারও তোকে কষ্ট দিতে ভীষণ মজা লাগে।।
অন্ধকার ঘর,,বারান্দার দরজা খোলা থাকায়,,চাঁদের হালকা টিমটিমে আলো ঘরে প্রবেশ করছে।।আবছা আলোয় মায়ার জলে ঘেরা ভাসা ভাসা চোখ গুলো শুধু দেখা যাচ্ছে,,রুদ্র আর কিছু বলছেনা!!নিঃশব্দে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে শুধু।।দেখতে দেখতে মায়ার চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।।সেদিকে রুদ্র আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো,,হঠাৎ’ই জানে না কি হলো রুদ্রর!!মায়াকে ছেড়ে কেমন অস্থির চিত্তে গটগট পায়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো সে!!
~~~~~~~~~~~~
মায়া ও তার শ্বশুর বাবা একসাথে বসে সকালের নাস্তা করছে।। রুদ্র কোথায় আছে জানেনা মায়া।।হঠাৎ রায়হান মির্জা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মায়া কে জিজ্ঞেস করলো,,”একি,মায়া মা!!তোমার হাতের এই অবস্থা হলো কি করে,,আর কপাল আর ঠোঁট কাটলো কিভাবে??
রায়হান মির্জার প্রশ্ন শুনে মায়া থমকে গেল,,এতক্ষণ অন্যমনস্ক থাকায় শরীরের ক্ষত ঢাকার কথা ভুলে গিয়েছিল সে।।এখন বাবাকে কি উত্তর দিবে সে??মিথ্যা বলা ছাড়া উপায় নেই,,”আসলে বাবা,, রান্না করতে গিয়ে হাতে গরম পানি পড়ে হাত পুড়ে গিয়েছে।।আর সকালে ওয়াশরুমে পরে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি।। তুমি চিন্তা করোনা বাবা,,ঠিক হয়ে যাবে।।
~তোমাকে না বলেছি কাজ করার দরকার নেই।।বাসায় এতগুলো সার্ভেন্ট থাকতে তুমি কেন কাজ করতে গেলে মা??
মায়া কথা কাটাতে রায়হান মির্জাকে জিজ্ঞেস করলো,”রুদ্র কোথায়,বাবা??
~ওই ব্যাটা তোমাকে বলে যায়নি!!ও তো জ্যিম করতে গিয়েছে।।ওই হতমূর্খের কথা বাদ দাও তো মা,,চলো আমরা বরং নাস্তা সেরে নিই।।
~আপনি উনাকে জ্যিম করতে কেন দেন,বাবা??ওসব করতে করতে শরীর কেমন গন্ডারের মতো বানিয়েছে, দেখেছেন!!উনাকে দেখতে কেমন রাক্ষসের মতো লাগে।।
মায়ার কথা শুনে রায়হান মির্জা হো হো করে হেসে ফেললেন।। শশুর বাবাকে হাসতে দেখে মায়াও মুচকি হাসলো।।
~ওই রাক্ষস টার জন্য কত মেয়েরা যে পাগল,তুমি জানো??কি দেখে যে মেয়েরা ওই হতচ্ছা*ড়াটার পিছে পড়ে থাকে বলোতো মা!!
~”উমম,,,তা তো জানি না!!”মায়া ও রায়হান মির্জা রুদ্রকে নিয়ে হাসা-হাসি করছে।। হাসি থামিয়ে রায়হান মির্জা মায়াকে বলল,,”তবে তোমাকেও কিন্তু বেশি বেশি খেতে হবে মায়া মা,,,এত শুকনো হলে চলবে না!! যাতে করে মাঝে মাঝে একটা-দুটো লাগিয়ে ওই ব্যাটাকে জব্দ করতে পারো,,ঠিক আছে মা??
~যাহা আজ্ঞা জাহাপনা!!
রায়হান মির্জা আবারও হাসছে,, মনে হচ্ছে কত বছর পর যেন তিনি মন খুলে হাসছেন।।মায়া তাকিয়ে দেখলো,,এই মুহূর্তে মায়ার একজন শাশুড়ি না থাকার বিশাল আফসোস হচ্ছে।। রায়হান মির্জার মাধ্যমে সে তার বাবাকে ফিরে পেয়েছে,,,আজ তার শাশুড়ি থাকলে হয়তো মায়ের অভাবটাও কমতো!!!
…….চলবে??
প্লিজ আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক অথবা ফলো দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন।
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
Follow ✓
আপনাদের কমেন্টের লাইক দেওয়ার মানে হল এই গল্পের পরবর্তী পর্বটি আসছে ,
তাই প্লিজ আপনাদের মন্তব্য জানান…
Comment…

