#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_১০
#অরুনিতা_আঁখি
~রুদ্র,,এখানে তুমি আর আমি ছাড়া আর কেউ নেই।।
তোমার ওই খেঁত বউটাও জানে আমরা একান্ত সময় পার করছি,, চলো না আমরা……….
“How about we make tonight a night to remember?”
লিজা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো,,কিন্তু থেমে গেল রুদ্রের ক্ষ্যাপাটে দৃষ্টি দেখে!!শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বললো,,
-না মানে,,,আমি তো এমনি বলছিলাম!!
~know your limit Liza!!
তোমাকে এইখানে যে কাজের জন্য আনা হয়েছে সেটাই করো,,,বাড়তি কথা আমার পছন্দ নয়।।
লিজা কে কথাগুলো বলেই রুদ্র চলে গেল বারান্দায়।।
রুদ্র বারান্দা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে যাচ্ছে,,,বাইরে অন্ধকার!!চাঁদের আলো নেই,,অমাবস্যা লেগেছে যেন!!সেই অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আনমনে কিছু হিসাব কষছে সে।।
~~~~~~~~~~
“দরজা খুলুন রুদ্র!!আপনি আমার সাথে এরকমটা করতে পারেন না।।
আপনি কি করে পর নারীকে স্পর্শ করতে পারেন??”
বাইরে থেকে মায়ার করুন আহাজারি-আর্তনাদ!!হাত দিয়ে ক্রমাগত দরজায় আঘাত করছে,,, হাউ মাউ করে কাঁদছে মায়া।।কিন্তু তার এই বুক ফাটা কান্না ভিতরে থাকা নর-নারীর হৃদয় গলাতে পারছে না।।
“আমি আপনার সবকিছু মেনে নিবো,,,আপনি আমাকে মারুন,কাটুন,বকুন,,,আমি কিচ্ছু বলবো না।।কিন্তু দয়া করে আমাকে এমন আঘাত দিবেন না,,,যেটা আমি সইতে পারবো না!!
আমাকে এত বাজে ভাবে ঠকাবেন না রুদ্র!!”
চিৎকার করতে করতে মায়ার গলা ভেঙে এসেছে,,কিন্তু তবুও সে থামল না।।।বুক ভাঙ্গা আহাজারি করতে করতে দরজা ঘেঁষে নিচে বসে পড়লো।।
~~~~~~~~~~~
রুদ্র লিজাকে নিয়ে দরজা আটকেছে দু’ঘণ্টা কেটে গিয়েছে।।রুদ্রর বিরক্ত লাগছে,,এইভাবে আর কতক্ষণ বারান্দায় থাকবে!!মেকাপের ড্রাম টাকে বিদায় দিতে হবে এবার।।
বিরক্ত হয়ে রুমে প্রবেশ করে লিজাকে বললো,,
~লিসেন লিজা,,,যথেষ্ট সময় হয়েছে!!আমার রুম আমি কারো সাথে শেয়ার করতে পারি না।।
-বাইরে গিয়ে দেখো মেয়েটা আছে কিনা,,তারপর সাবধানে চলে যাও।।তবে কেয়ারফুল থাকতে হবে,, মেয়েটা যেন বুঝতে না পারে!!
রুদ্রের কথায় লিজা মুখ ভেংচালো,,”এই রুদ্রের কোনো সমস্যা আছে নাকি আবার,, তার মতো এরকম একটা হট মেয়েকে সামনে পেয়েও কিছু করছে না,,,উল্টো বেরিয়ে যেতে বলছে!!
আবার বিয়েও করেছে গ্রামের কোন খেত মেয়েকে!!সেই মেয়েকে’ও নাকি আবার পছন্দ হয় না!!”
লিজাকে নড়তে না দেখে রুদ্র আবারো বললো,,”কি হলো যাচ্ছো না কেন??”
বাধ্য হয়ে লিজাকে রুম থেকে বের হতে হলো।।
~তোমার সমস্যা কি?? আবার ফিরে আসলে কেন??
~ফিরে এসেছি কি সাধে?? ওই মেয়েটা দরজার নিচে বসে আছে,আমি কিভাবে যাবো??
~~~~~~~~~~~~~
সারারাত মায়া রুদ্রের রুমের বাইরে দরজার পাশে কাটিয়ে দিলো।।
চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই,,, মুখে ঠিকরে পড়ছে ক্লান্তি ও বিধ্বস্ততা!!
ভোর হয়ে গিয়েছে,,, মায়া ভাঙ্গা শরীরে দরজার পাশ থেকে উঠে দাঁড়ালো।।
শেষবার একবার বন্ধ কক্ষের দিকে তাকিয়ে ভেঙে যাওয়া গলায় আওরালো,,
~স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যে পুরুষ পরনারীর সংস্পর্শে যায়,, সেই পুরুষকে আমি ঘৃণা করি।।
আজ থেকে আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে অস্বীকার করলাম,,রুদ্র!!
আমি আর কোনদিনও আপনার হবো না।।
জানি আপনি হয়তো কোনদিনও আমাকে চাইবেন না,,,কিন্তু তবুও বলছি,,”আমি আপনাকে আমার মন থেকে মুছে দিলাম,,আপনি চাইলেও আর কোনদিন আমাকে পাবেন না।।”
~~~~~~~~~~~
মাঝে মাঝেই রুদ্র লিজাকে নিয়ে বাসায় আসে,,তারা একসাথে সময় কাটায়।।মায়াকে দেখলেই যেন আরো বেশি চিপকে থাকে!!
মায়া কিছু বলে না,,কোনো বাধা দেয় না,,এমনকি তাকায়’ও না!!
রুদ্রকে বাসায় পাওয়া যায় না,,”কোথায় থাকবে??হয়তো উনার গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে সময় কাটান!!” মায়া সেসব বিষয় নিয়ে এখন আর ভাবেও না।।
~~~~~~~~
এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার দুইদিন পরেই মায়ার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল,,,আর কয়েকদিন পরেই তার রেজাল্ট প্রকাশিত হবে।।
মায়া পড়ালেখা ছাড়েনি,,,রায়হান মির্জা থাকাকালীন সময়েই,,,তাকে নিয়ে এডমিশন টেস্টের প্রয়োজনীয় বই কিনে এনেছিল।।
এখন তাকে আর’ও বেশি পুরোদমে পড়ালেখা করতে হবে।।এতদিন যা হেলাফেলা করেছে এখন আর তা করা যাবে না,,যে করেই হোক কোন একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে চান্স পেতেই হবে!!
মায়ার বেস্ট ফ্রেন্ড মারিয়ার সাথে তার এই বিষয়ে কথা হয়েছে,,,সে আর মারিয়া প্ল্যানও করে রেখেছে একটা ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবে!!
এখন আরেকটা কাজ বাকি আছে শুধু,”রুদ্রের সাথে সব ঝামেলা মিটমাট করে নেওয়া দরকার।।রুদ্র যা চায় তাই হবে,,মায়া রুদ্রকে মুক্ত করে দিবে।।মায়ার ও আর কোনো ইচ্ছা নেই রুদ্রের সাথে থাকার।।
তবে ঝামেলা মিটানোর জন্য রুদ্রের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন,,কিন্তু সেটা আর পারছে কই??রুদ্রকে তো পাওয়াই যায় না।।কখন আসে কখন যায় বলা যায় না,,তবে মায়ার মন বলছে আজকে রুদ্র আসতে পারে!!
বলা বাহুল্য,,মায়া এখন আর রুদ্রের রুমে থাকে না,, যাওয়ার আগে তার শ্বশুর বাবা তাকে নিজের ঘরের চাবি দিয়ে গিয়েছে,,মায়া এখন তার শ্বশুর বাবার রুমেই থাকে।।
তাই সে ঠিক করেছে,,আজ যত রাত্রি হোক না কেন রুদ্রের রুমে গিয়ে অপেক্ষা করবে।।
~~~~~~~~~~
রাত বারোটা বাজে,,মায়া এখনো জেগে অপেক্ষা করছে রুদ্রের জন্য।।
রুদ্র আসবে কি আসবে না মায়া চিন্তা করতে করতে বিছানায় গিয়ে বসলো।।মায়ার কি হলো কে জানে??
গত রাতগুলোতে জেগে থাকা চোখের পাতা গুলোতে যেন হঠাৎ করেই সব ক্লান্তি এসে ভিড় করেছে।।
অপেক্ষা করতে করতে কখন যে চোখের পাতা মুজে এসেছে!!
রুদ্র আসলো রাত দু’টোর দিকে অর্ধ মাতাল অবস্থায়।।ধূমপান করা,,পার্টি করা,,ড্রিঙ্ক করা,, রাত-বিরেতে বাড়ি আসা এগুলো এখন রুদ্রের রোজকার অভ্যাস!!আজ’ও হলো তাই!!
মায়ার ভাগ্যটা মনে হয় একটু বেশিই খারাপ!!না হলে এতদিন রুদ্রের জিনিসপত্র থেকে দূরে দূরে থেকে আজ কেন তাকে রুদ্রের বিছানায় যেতে হলো!!
রুদ্র হেলে দুলে চাবি দিয়ে নিজের ঘরের দরজা খুলে ভিতর প্রবেশ করতেই তার মাথার রগ যেন চির-বিড়িয়ে উঠলো,, “ওই নোংরা মেয়েটা তার বিছানায় শুয়ে আছে??”
ঘুমের মধ্যে গলায় শক্ত হাতের চাপ লেগে মায়ার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো যেন,,সে ধর-পড়িয়ে উঠে বসলো।।
মায়ার শ্বাস আটকে আসছে,,চোখ বড় বড় হয়ে চোখে রক্ত জমে উঠেছে।।
পুরোপুরি অবস্থা খারাপ হওয়ার আগেই রুদ্র তাকে ছেড়ে দিলো।পিছন থেকে মায়ার চুলের মুঠি ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে শক্ত করে গাল চেপে ধরে,,,দাতে দাত চিবিয়ে বললো,,
~ফকিরের বাচ্চা!!তোর কি একটুও লজ্জা নেই রে??এত কিছুর পরেও তুই আমার বিছানায় কি করিস??
গাল চেপে ধরায় মায়া কিছু বলতে পারছে না,,, চোখে অশ্রুরা ভিড় জমালো।।অনেক কষ্টে রুদ্রকে বলে বোঝাতে চাইলো,,”আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন,স্যার!!আমি অকারনে আপনার রুমে আসিনি।।
আপনার সাথে আমার প্রয়োজনীয় কথা ছিলো।।”
রুদ্র মায়াকে ছেড়ে দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,,,মায়া দূরে ছিটকে পড়েছে।।মেঝেতে উল্টো হয়ে পড়ায় হাতের কনুই আর কোমরে বেশ ব্যথা পেয়েছে।
দেড় মাসের বিবাহিত জীবনে,, মায়া যতটা শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছে,,বিগত কয়েক বছরের সব যন্ত্রণা একসাথে করলেও এর সমান হবে না হয়তো!!
~নোংরা বাজে মেয়ে।। তুই এত চরিত্রহীন,,, তোর মা’ও নিশ্চয়ই প্রস্টিটিউট ছিলো,,তাই না??
~খবরদার রুদ্র!!আমাকে কিছু বললে আমি মেনে নিবো,,কিন্তু আমার মায়ের সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বললে খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম!!
রুদ্র রেগে তেড়ে এলো,,
~তোর কলিজা কত বড়ো??আমার মুখে মুখে তর্ক করিস!!
একশ বার বলবো তোর মায়ের সম্পর্কে খারাপ কথা,,,কি করবি তুই??
তোরা মা-মেয়ে দুটোই প্রস্টিটিউট……
রেগে গেলে এমনিতেই রুদ্রের হুঁশ থাকে না,, তার ওপর এখন ড্রাঙ্ক হয়ে আছে।।
রুদ্র কি বলছে তা হয়তো সে নিজেও জানেনা।।
কিন্তু নিজের মায়ের সম্পর্কে এমন বাজে কথা শুনে এত দিনের শান্তশিষ্ট মায়া কেমন বাঘিনী হয়ে উঠলো,,ধীরে ধীরে রুদ্রের সামনে গিয়ে হঠাৎই রুদ্রর কলার ধরে টেনে নিচে নামিয়ে দু গালে পরপর সর্বশক্তি দিয়ে তিনটা থাপ্পর লাগিয়েছে।।
দু’ সেকেন্ডের মধ্যে কি ঘটে গেল তা রুদ্র ঠাওর করতে পারছে না।।
~অনেক সহ্য করেছি!!রাগ আমিও দেখাতে পারি,,
ভুলেও যদি আর কোনদিন আমার মায়ের সম্পর্কে কোন খারাপ কথা তোকে বলতে শুনি,,তাহলে তোর জ্বিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো,,জানোয়ার!!
রুদ্র যেন অবাক হতেও ভুলে গেছে!! বাবা ছাড়া আজ পর্যন্ত আর কারো সাহস হয়নি “রুদ্র কায়নাথ মির্জার” গায়ে হাত তোলার।। এমনকি রুদ্রের দিকে কেউ আঙ্গুল তুললেও,,রুদ্র মির্জা সেই আঙ্গুলও গুঁড়িয়ে দেয়!!
আর এই মেয়ে কিনা……………!!!
রুদ্রকে দেখতে এখন ভয়ংকর লাগছে,,,রাগে সে সত্যি সত্যিই জানোয়ারের রূপ ধারণ করেছে।।
মায়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকানোর পর তার মুখে ফুটে উঠলো নিষ্ঠুর হাসি!!
রুদ্র নিজের প্যান্টের বেল্ট খুলে হাতে মোড়ালো।।
~~~~~~~~~~~~
মেঝেতে বিধ্বস্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে মায়া!! সারা শরীরে মারের দাগ,,, বুক,পেট,পিঠের চামড়া ছিলে রক্ত বের হচ্ছে!!
বোঝাই যাচ্ছে কারো সবটুকু ক্ষোভের দায় নিচ্ছে তার শরীরটা!!
~~~~~~~~~
আজ তিন দিন হলো,,অসহনীয় জ্বর নিয়ে মায়া বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে!!
কেউ নেই মায়ার পাশে!! বড্ড একেলা তার পৃথিবী,,,
বারবার মৃত্যু যন্ত্রণা তাকে হাতছানি দিয়ে যায়,,কিন্তু ধরা দেয় না।।
মায়ার মনে হচ্ছে,, “তার হয়তো কই মাছের প্রাণ!!
না হলে এই যে এমন অসহনীয় জ্বর নিয়ে বিছানায় পড়ে আছে,,তার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো কেউ নেই!! তাকে এক বেলা রান্না করে খাওয়ানোর মতো’ও কেউ নেই!!শরীরে এত অসহ্যকর যন্ত্রণা!!অথচ এত কিছুর পরেও সে মরছে না!!
এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় তাকে মানায় না,,আল্লাহ কেন তাকে এত দীর্ঘ হায়াত দিতে গেলো!!
নিজের এমন ভাবনায়,, মায়ার এবার নিজের অনুতাপ হতে লাগলো!!আল্লাহর কাছে বারবার তওবা করছে,, “নিজের মৃত্যু কামনা করা মহাপাপ,,সে এমন নাফরমানের মত কাজ কিভাবে করতে পারলো”
মায়া আর বিছানায় শুয়ে থাকলো না,,শরীরটা দাড় করাতেও তারা অনেক কষ্ট হচ্ছে,,মনে হচ্ছে এই বুঝি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবে!!
মায়া উঠে দাঁড়ালো,,এভাবে পড়ে থাকলে চলবে না।। মাথায় পানি দিতে হবে,,তাহলে যদি জ্বরটা একটু কমে!!
বিছানা থেকে ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতেও তাকে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে,,ওয়াশরুমে গিয়ে ট্যাপ ছেড়ে নিচে মাথা দিয়ে রাখল।।
মাথায় পানি দেওয়া শেষ হলে,,রান্নাঘরে গিয়ে হালকা-পাতলা কিছু রান্না করে ওষুধ খেয়ে নিয়েছে।।
এখন আর বিছানায় পিঠ লাগালো না,,তিন দিন একাধারে শুয়ে থাকতে থাকতে মায়ার বিছানাকে এখন বিষ মনে হচ্ছে!!
মায়া তার লাগেজ খুলে ডায়েরি আর পুরনো একটা কাপড় বের করলো।। ডায়েরি আর কাপড় দুটোই তার মায়ের।।
মাঝে মাঝেই মায়া তার মায়ের ডায়েরি খুলে বসে,,,পড়তে ভালো লাগে!!মনে হয় মা বুঝি তার সাথে গল্প করছে।।জ্বরের কারণে চোখ থেকে পানি ঝরায় ডায়েরিটা আর পড়তে পারল না।।
মায়ের কাপড় খানা বুকে জড়িয়ে রাখল কতক্ষণ,,,হঠাৎই মাকে নিয়ে রুদ্রের করা কটুক্তি মনে পড়তেই হুঁ হুঁ করে কেঁদে দিলো।
~আম্মু!!আম্মু,,তোমার চাইতে আমার জীবনে আর কেউই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।।
ওই লোকটা আমার জন্য তোমাকে কত বাজে কথা শুনিয়েছে।।
আমি ঐ লোকটাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি!!
বুক থেকে কাপড় খানা উঠিয়ে,,কয়েকবার সেথায় পরম যত্নে চুমু আঁকলো মায়া,,ফের বললো,,
~”মা,,,মাগো!!তুমি কষ্ট পেয়ো না,,তোমার মেয়ে তোমাকে কসম করে বলছে,,”ওই লোককে আমি কখনোই ক্ষমা করব না।।
যে লোক আমার মাকে অসম্মান করেছে,, তাকে আমি কখনোই ভালোবাসবো না,,সারা জীবন ঘৃণা করে যাবো।।ওই জানোয়ারটাকে আমি কখনোই স্বামী হিসেবে মানবো না।।”
“মা,,, তুমি কেন সেদিন আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের কথা ভাবলে না??কি লাভ হলো,,দেখো আজ আমার পাশে কেউ নেই!!
আমি বাঁচবো মা,,আমি আর কষ্ট পাবো না!!আমি স্বার্থপর হবো,,,সুখী হবো।।আমার জীবনে আর কাউকে দরকার নেই,,আমি একা একাই বাঁচবো!!”
~~~~~~~~~
বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে দুলতে দুলতে গভীর চিন্তায় মগ্ন রুদ্র!!তার অবচেতন মন বারবার বলছে কিছু একটা ঠিক হচ্ছে না।।
আজ কয়েক দিন হলো কিসের যেন শূন্যতা অনুভব হচ্ছে তার,,কিন্তু সে বুঝতে পারছে না।।সবকিছু তো আগের মতই আছে,,তাহলে কিসের শূন্যতা গ্রাস করেছে ঘরটাকে??
মাথাটা ধরে আছে,,ব্ল্যাক কফি প্রয়োজন!!
কফির কথা মাথায় আসতেই রুদ্রের মায়ার কথা মনে পড়লো,,” সেইদিন রাতের পর মেয়েটাকে এখন আর এই ঘরে দেখা যায় না।।এর আগে তো যখন তখন রুদ্রের জন্য এটা সেটা নিয়ে হাজির হতো।।এর আগে হলে রুদ্র ছুঁয়ে’ও দেখতো না।।
কিন্তু বাসার সার্ভেন্ট গুলোকে ছাড়ানোর পর বাধ্য হয়ে তাকে খেতে হয়েছে।।আর যাই হোক,,ঐ মেয়েটার হাতের রান্না অসাধারণ।।
রুদ্রের সেই রাতের ঘটনা স্মৃতিতে আসলো,,”মেয়েটাকে সে ভিজে বিড়াল ভেবেছিল,,,কিন্তু তার সাহস এখনো রুদ্রকে হতভম্ব করে।।
রুদ্র ভাবলো,,”মেয়েটার মা-বাবা তুলে কথা বলাটা হয়তো ঠিক হয়নি!!
আর মার’টাও বোধহয় একটু বেশি হয়ে গিয়েছে,,,মরে গেলে বাড়তি ঝামেলা!!বাবাকে সামলানো কষ্টকর হতো।।”
~ওহহ শিটট!!আমি এতক্ষণ ধরে ওই ইউজলেস মেয়ের কথা ভাবছিলাম??
“রুদ্র মির্জা” কখনো কোন কাজ নিয়ে আফসোস করে না,,,ওই বেয়াদব নারীর জন্য এখন কিনা আমার নিজের কাজ নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে!!
তবে আশ্চর্যের বিষয়,,অন্যান্য মেয়েদের মতো ঐ মেয়েটা আমাকে একবারও সিডিউস করার চেষ্টা করেনি,,ইভেন মনে হতো মেয়েটা আমার থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতো!!
রুদ্রের কপালে গাড় ভাঁজ পরলো,,চিন্তিত কন্ঠে নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করলো,,”মেয়েটা সত্যিই ইনোসেন্ট নয় তো??”
পরক্ষণে আবার নিজেই বললো,,”না,,না,,মেয়েটা ইনোসেন্ট হবেনা!!আর এর প্রমান তো অফিসের সেই ছেলেটা আর মেয়েটার নিজের মামনিরাই!!”
-উফফ,,ডিসকাস্টিং!!মেয়েটা ইনোসেন্ট হলেই বা আমার কি??
আমি এমনিতেও আমার জীবনে কোন নারীকে রাখবো না।।
ড্যাডে’র জন্য বিয়েটা করতে হয়েছে,”,মেয়েটা যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে!!
আর শাস্তি এনাফ না হলেও,,, এখন আর আমার শাস্তি দেওয়ার মুড নেই।।
এসব ইউজলেস নারী জাতকে নিজের জীবনে বেশি দিন রাখার প্রশ্নই উঠে না,,,আর কিছুদিন পরেই মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে মুক্ত করে দিবে।।
~~~~~~~~~~
পড়ন্ত বিকেল বেলা,,প্রয়োজনীয় ফাইল রেখে যাওয়ায় রুদ্রকে আবার অফিস থেকে বাসায় আসতে হয়েছে।।
ফাইল নিয়ে চলেই যাচ্ছিলো রুদ্র,,কিন্তু হঠাৎ বাবার ফোন আসাতে কথা বলতে বলতে আনমনেই বাগানের দিকে হেঁটে গেলো।।
রুদ্র ফোনে রায়হান মির্জার সাথে কথা বলছে,,, কিন্তু তার ধ্যানচ্যুত ঘটলো বাগানের কোথাও ম্যায়েলি রিনঝিনে মিষ্টি হাসির শব্দে!!
…….চলবে???
(গল্পের নাম “মায়ার যাতনা”,,,,,অথচ পোলাপাইনের জ্বালা যন্ত্রণায় আমি ঠিক মতো কাউকে কষ্ট(যাতনা) দিতে পারতাছি কই??
তাইলে কি আমি হুঁদাহুদিই নামটা রাখলাম!!😑😑
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!

