#মায়ার_যাতনা
#পর্ব_৯
#অরুনিতা_আঁখি
~দয়া করে আমার উপর থেকে সরুন,,স্যার!!
~উমম??আসিফ! তুই এখানেও চলে এসেছিস??কিন্তু তোর কন্ঠ এমন মেয়েদের মত লাগছে কেন!!
উপপ!!কোমরটা মনে হয় আর নেই,, মায়ার হাঁড়-গোর গুলো সব মনে হচ্ছে এবার ভেঙ্গেই যাবে!!
(আসলে তখনকার লোকটা আর কেউ নয়,রুদ্রই ছিলো)।আর এক সপ্তাহ পর এসে এখন মায়ার হাড়গোড় ভাঙ্গার পায়ে তারা করছে!!
“আসিফ কে??কার কথা বলছে এই লোক??”মায়া কখন থেকে রুদ্রকে ঠেলে সরাতে চাইছে,,”কিন্তু শরীর কেমন রাক্ষসের মতো!!” এত চেষ্টা করেও সে এক বিন্দু’ও টলাতে পারেনি।। মনে হচ্ছে রুদ্রের নিচে চাপা পড়েই তার প্রানটা বেরিয়ে যাবে এবার।।
~আমি আসিফ নই!!আসিফ কে? আমি চিনিনা তাকে!!প্লিজ আমার উপর থেকে উঠুন এবার,, আমার কষ্ট হচ্ছে।।
~”তুই আসিফ না??তাহলে তুই কে??”রুদ্র মায়াকে প্রশ্ন করলো।।
কিছুক্ষণ থম ধরে থেকে,,পরে নিজে নিজেই বললো,,
~উমম,,, বউ??আমি তো বিয়ে করেছি!!তুই আমার বউ??
“বউ” শব্দ টা মায়ার কানে বাড়ি খেলো যেন,,সেই সাথে হৃদয়কে করলো স্তম্ভিত!!
মায়া কোন উত্তর করতে পারল না!! “এই লোক আজ কে এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করছে??
তাছাড়া রুদ্রের মুখ থেকে কেমন বাজে স্মেল আসছে!!
~রুদ্র,,আপনার মুখ থেকে কিসের গন্ধ আসছে??আপনি মদ খাননি তো??
~ মদ!!খেয়েছি তো,,বেশি না বউ অল্প একটু ড্রিংক করেছি।।
আমার এখন কথা বলতে ভালো লাগছে না,,আমার ঘুম পাচ্ছে!!আমি এখন ঘুমাই,,বউউ??
রুদ্রের কথাগুলো ছোট বাচ্চাদের মতো শোনালো।।
ছোট বাচ্চারা যেমন আবদার করে,,মায়ার মনে হচ্ছে রুদ্র তেমনি ভাবে তার কাছে আবদার করছে।।
হঠাৎ করেই মায়ার হাসি পেলো,,”রুদ্রের মতো রাগী গম্ভীর মানুষ’ও এরকম বাচ্চামী করতে পারে, ধারণা ছিল না।।”
মায়া অনেক কষ্টে নিজের হাসি থামিয়ে রুদ্রকে বললো,,
~আচ্ছা ঘুমান,, তবে বিছানায় গিয়ে।।আমার উপর থেকে উঠুন!!
~না,না।।আমি বিছানায় যাবো না।।আমার এখানে থাকতেই বেশি আরাম লাগছে!!
অস্পুটস্বরে কথাগুলো বলেই মায়ার গলায় মুখ গুজে শুয়ে পড়লো রুদ্র।।
এতক্ষণ হাসি পেলেও এখন মায়ার বিরক্ত লাগছে।।রাত-বিরেতে মদ খেয়ে এসে মাতলামো হচ্ছে!!
মাঝে মাঝে নিজের ভাগ্যের উপরে করুন উপহাস লাগে তার,,এতদিন জানতো তার স্বামী তাকে পছন্দ করে না,,আর এখন জানে মদ খাওয়ার মতো বাজে অভ্যাস’ও আছে তার স্বামীর!!আর কি কি দেখতে হবে??
রুদ্রের স্পর্শে তার অস্বস্তি হচ্ছে,,,বাধ্য হয়ে মায়া চুলে টান দিয়ে তার গলা থেকে রুদ্রের মুখ উঠাতে চাইলো।।
চুলে টান খেয়ে রুদ্র মুখ তুললো,,,বিরক্ত ভঙ্গিতে মায়াকে ধমকে উঠলো,,
~”এই মেয়ে,,,বিরক্ত করছো কেন??”
-আর মুখে এটা কি দিয়েছো??এটা সরাও,,আমি তোমার মুখ দেখতে পাচ্ছি না!!
মায়াকে বকে রুদ্র আবারো মায়ার গলায় মুখ দাবিয়ে নাক ঘষতে লাগলো,,, কিছুক্ষণ পরেই মায়ার গলায় জোরে শ্বাস টেনে কেমন মাতোয়ারা ভঙ্গিতে আওরালো,,
~ উমম,,,তুমি এত নরম কেন,,বউ??
আর এইই স্মেইলটা………………..
“Ahhh,,, scent of your body feels like a sweet addiction I can’t escape.”
-আমার আগে কখনো এমন লাগেনি,,,তুই শরীরে কি মাখিস,,বউউ??
কথাগুলো বলে রুদ্র মায়ার গলায় আরো কয়েকবার জোরে শ্বাস টানলো।।
মায়ার এবার রীতিমতো রাগ লাগছে,,মনে মনে বললো,,”লাল পানি খেয়ে মনে রং লেগেছে না,,মেয়ে মানুষের শরীরের গন্ধ তো ভালো লাগবেই!!”
রুদ্রের স্পর্শ ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে,,মায়ার এবার ভয় লাগা শুরু করলো!!আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে তাকে,,”লোকটা সজ্ঞানে নেই,,এখন যে কোনো কিছু করে ফেলতে পারে!!রুদ্র স্বামী হওয়া সত্ত্বেও,,তার স্পর্শ মায়ার সহ্য হচ্ছে না।।রুদ্রকে ঠেলে ঠুলেও সরানো যাচ্ছে না,,,মায়ার এবার কান্না পাচ্ছে।।”
কি করবে ভেবে না পেয়ে মায়া রুদ্রের ঘাড়ে প্রচন্ড জোড়ে কামড় লাগালো।।ব্যথা পেয়ে রুদ্র একটু আলগা হতেই,,সেই সুযোগে মায়া রুদ্রকে তার সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা লাগিয়ে উঠে দাঁড়ালো।।
আর কোনো দিকে না তাকিয়ে মায়া দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে।।
কিছুক্ষণ পরেই হাতে এক বালতি পানি নিয়ে পুনরায় রুমে আসলো।।
রুদ্রের হুঁশ নেই,,কি হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না।।কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়া পুরো এক বালতি পানি রুদ্রের গায়ে ঢেলে দিয়েছে।।
যে করেই হোক লোকটার মাতাল অবস্থা কাটাতে হবে,,না হলে বিপদ তার দিকেই আসতে পারে,ভেবেই মায়া ওয়াশরুম থেকে আর’ও এক বালতি পানি নিয়ে এসে সেটাও রুদ্রের গায়ে ঢেলেছে।
রুদ্রের শরীর ভিজে জঁব-জবে অবস্থা!!রুমের অবস্থাও তাই।।মাথা ধরে আছে,,,ভেঁজা ফ্লোরে প্রায় দশ মিনিট ধরে থম মেরে বসে আছে সে।।
এখন’ও ঘোর কাটেনি!!কি হচ্ছে,কি হয়েছে কিছুই মনে করতে পারছে না।।
অনেকদিন ড্রিঙ্ক না করায় অনভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল ,সহসায় আচমকা অতিরিক্ত ড্রিঙ্ক করে ফেলায় নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছিলো।।
রুদ্রের যখন হুঁশ ফিরেছে,, তখন ঘর ও নিজের অবস্থা দেখে মায়ার দিকে তাকাতেই রাগে খেই হারালো,,,হুংকার ছেড়ে তেরে আসলো মায়ার দিকে,,,
~”What the hell?? How dare you bl**dy b****?”
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মাঝে দু’দিন কেটেছে,,রুদ্র আবার’ও কোথায় জানি হারিয়ে গেছে!!
রাত দশ টা,,,বাসার কলিং বেল বেজে উঠেছে।।মায়া বুঝলো,,এ সময় রুদ্র ছাড়া অন্য কারো আসার কথা না।।মায়া ড্রয়িং রুমেই ছিলো,,তাই সে দৌড়ে গিয়ে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিয়েছে।।
দরজা খুলে দিতেই মায়াকে ধাক্কা দিয়ে এক যুবতী ঘরে ঢুকলো,,”পরনের শর্ট ড্রেস,,সাজ-শয্যায় আধুনিকতা!!”
ধাক্কা খেয়ে মায়া অবাক হলো,,কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে,, দেখলো মেয়েটার পেছনে রুদ্র এসে দাঁড়িয়েছে!!
মায়া জানে শহরে এই ধরনের পোশাক পড়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক,,,কিন্তু রুদ্রের সাথে মেয়েটাকে ছোট কাপড়ে দেখে তার ভীষণ খারাপ অনুভূতি হচ্ছে। মেয়ে হিসেবে আর একটা মেয়েকে এমন পোশাকে দেখে,,তার নিজেরই কেমন লজ্জা লাগছে।।
মায়া রুদ্র আর মেয়েটাকে দেখে অবাক চোখে রুদ্রের দিকে তাকালো,,”বুঝতে পারছে না এই মেয়েটা কে??আর রুদ্রের সাথেই বা এখানে কি করছে??”
~রুদ্র বেইব,,,এই গেঁয়ো মেয়েটা কে?? এইভাবে চোখ মুখ ঢেকে ব্যাঁবলার মতো দাঁড়িয়ে আছে কেন!!
মায়া অপমানিত বোধ করলো,,রুদ্রের দিকে আশান্বিত চোখে তাকালো কিছু বলার জন্য।।
রুদ্র বাইরে থেকে এসে কাঁধে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে মেয়েটাকে নিয়ে সোফায় বসলো,, কিছু বললো না!!
নিজের স্বামীকে এভাবে অন্য একটা মেয়েকে জড়িয়ে থাকতে দেখে,, মায়ার বুকটা ছেঁত করে উঠলো।।সে কেন যেন কিছু বলতে পারছে না,,, শুধু মেয়েটা আর রুদ্রকে দেখছে।।
রুদ্র একবার মায়ার দিকে তাকিয়ে মেয়েটার তখনকার কথার উত্তর করলো,,
~”কেউ না,,,এ বাড়ির কাজের লোক!!”
রুদ্র ঠিক যতটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কথাটা বলছে,,মায়ার ভিতরটায় ঠিক ততটাই ধ্বস নেমেছে।। সে অবাক হয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে,,যেন তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে!!
~ওহহ রুদ্র!!তোমরা এখন এই ধরনের লো স্ট্যান্ডার্ড এর মানুষকে এই বাড়িতে রাখছো??
-মানে তোমাদের বাড়ির সার্ভেন্ট হতে গেলেও তো একটা ক্লাস লাগে!!মেয়েটা কেমন গাঁইয়া!!কেমন আধ-হাত ঘোঁমটা দিয়ে রেখেছে!!
কথাগুলো বলেই লিজা অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসছে।।
তারপর মায়ার দিকে তাকিয়ে শাসিয়ে বলল,,”এই মেয়ে,চোখ নামাও!! বাড়ির মালিকদের দিকে তুমি কোন সাহসে এইভাবে তাকিয়ে আছো??
-যাও আমাদের জন্য ডিনার রেডি করো।।
মায়ার পায়ে শক্তি নেই!!ওর বুকটা ভেঙে-চুরে যাচ্ছে।। “রুদ্র যখন যা ইচ্ছা বলে তাকে অপমান করে,, তাই বলে বাইরের মানুষের সামনে তাকে কাজের লোক বলতে পারলো!!আর ওই মেয়েটাও রুদ্রের সামনে অপমান করছে,,অথচ তার স্বামী কিছু বলছে না??”
মায়া রুদ্রের সামনে এসে শক্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,
~রুদ্র!! উনি কে??আর আপনি ওনার সামনে আমাকে কাজের লোক কেন বললেন??
মায়া জিজ্ঞাসূ দৃষ্টিতে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে,,তখনই ম্যায়েলি হাতের ধাক্কায় সে খানিক দূরে ছিটকে পড়লো,,
~এই মেয়ে,,তোর সাহস তো কম নয়??সার্ভেন্ট হয়ে বাড়ির মালিকের সাথে এভাবে কথা বলিস!!আর রুদ্র কি,হ্যাঁ??
-রুদ্র,,এই মেয়েটা তোমার কাছে কৈপিয়ত চাচ্ছে,, তোমাকে নাম ধরে ডাকছে!!তুমি কিছু বলছো না কেন??(লিজা)
রুদ্র মায়ার দিকে তাকিয়ে লিজার হাত ধরে বলল,,”রিলাক্স বেইব”
আর মায়া কে বললো,,”ডিনার রেডি করেছিস??যা আমাদের জন্য খাবার সার্ভ কর!!
আর হ্যাঁ, যা শুনতে চাচ্ছিস,,”সি ইজ মাই গার্লফ্রেন্ড,, অ্যান্ড মাই উড’বি ওয়াইফ।।”
মায়ার ভিতর দিয়ে যে কি যাচ্ছে!!বুকের ভিতর টা ভেঙ্গে-চুঁড়ে যাচ্ছে,,,কিন্তু তা উপর থেকে দেখে কেউ বলতে পারবে না।।
কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার,,সে রুদ্র বা লিজা আর কাউকেই কিছু বলছে না,,নিস্তেজ ভাবে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে ওদের খাবার বাড়লো।।
খেতে গিয়েও,,মায়াকে লিজার অপমান করা থামছে না,,আর রুদ্র’ও কিছু বলছে না।।মায়া শুধু নীরবে সই’ছিলো!!
~”Let’s enjoy this night,, Darling”,,,,খাওয়া শেষে রুদ্র লিজাকে জড়িয়ে ধরে উপরে উঠতে উঠতে বললো।
মায়া শুনলো সেই কথা,,,”তারমানে রুদ্র আর লিজা…….!! ছিহহহ,,,,আর ভাবতে পারছে না সে!!,,, কিন্তু না মায়া এটা কিছুতেই হতে দিবে না।।”
মায়া আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলো না,,তার বুক ফেটে এলো বাঁধ ভাঙ্গা কান্নায়।।লিজা আর রুদ্র উপরে রুদ্রের ঘরের দিকে যাচ্ছিলো,,মায়া কান্না করতে করতে দৌড়ে তাদের সামনে দুহাত মেলে আঁটকে দাঁড়িয়েছে।।
লিজাকে রুদ্রের কাছ থেকে ছাড়িয়ে,, নিজের দুহাত দিয়ে লিজার হাত আঁকড়ে ধরে করুন স্বরে কান্না করতে করতে বলছে,,
~”বোন,,আপনি হয়তো আমার থেকে বড়ই হবেন।।একটু শুনুন আমার কথা,,আপনি হয়তো জানেন না,, আমি রুদ্রের স্ত্রী!!
দয়া করে এমন পাপ করবেন না,,আমি আপনার ছোট বোনের মতো,,মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের সংসার ভাঙ্গবেন না, বোন!!”
……চলবে??
https://www.facebook.com/share/1AYhCCqwqL/
https://www.facebook.com/share/g/1AufQdkZf8/
এই গল্পের নেক্সট পার্ট এর হাইলাইট নোটিফিকেশন পেতে অবশ্যই কমেন্ট অথবা follow ফলো করে রাখুন..!

