আমরন_চেয়েছি_তোমায় 6 লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন

0
245

আমরন_চেয়েছি_তোমায় 6
লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন

সারা নিজের ঘরে পায়চারি করছে। সানির কথা গুলো ভাবতেই লজ্জা পাচ্ছে সে। সে তো তখন ছোট ছিলো এসব বলে এমন লজ্জা দেওয়ার মানে কি। আর সেও বোকার মতো লজ্জা পেয়ে যাচ্ছে। নিজের বোকামিতে নিজেই রাগ হচ্ছে সারা। তবে সারা এতোটুকু আন্দাজ করে নিলো মানুষটা যতটা ভদ্র দেখায় মোটেও সে এতোটা ভদ্র নয়।

আজ সারা সানির দেওয়া গিফট গুলো বের করে। সেই দিন রাগে আলমারিতে তুলে রেখেছিলো আর বের করা হয় নি। মানুষটার উপর রেগে থাকতে পারলো না বরং হুমড়ি খেয়ে পরেছে একই ভুল আবারও করতে। সাধারণ হাল্কা কাজের থ্রি পিচ টা বের করে হাতে নিলো সারা। ভার্সিটিতে এটাই পরে যাবে আজকে। খুবই হাল্কা বাদামী রঙের থ্রি পিচ, এ রঙের কাপড় আগে কখনও পরা হয় নি সারা। সাথে গাঢ় খয়েরী রঙের হিজাব বের করে নিলো সারা। অনেক আগ্রহ নিয়ে, খুবই যত্ন করে তৈরি হয়েছে আজ। সানির দেওয়া উপহার আজ পরেছে সে। যত্ন সহকারে তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

সারার জন্য অপেক্ষা করছিলো সাফি। করিডর সোফায় বসে আছে সাফি আর পাশে বসে ফোন দেখছে আয়াদ। সানি হসপিটালে যাওয়ার জন্য মাত্র তৈরি হয়ে বেড়িয়েছে। সাফিকে এখনও বাসায় দেখে সানি সাফিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে,,

” কি ব্যাপার সাফি ভাই এখনও ভার্সিটিতে যাও নি।”

আয়াদ ফোন থেকে চোখ সরিয়ে সানির দিকে তাকায়।
এরপর সানিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” লেডিস এখনও তৈরি হচ্ছে। ”

সাফি স্বাভাবিক ভাবে জবাব দিলো,,

” ওহ আচ্ছা।”

আয়াদ সাফির দিকে তাকিয়ে বলে,,

” আমি জানি, সাফি ভাই তোমার এতো ধৈর্য্য কেন।”

সাফি আয়াদের দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,,,

” কেন?”

” আরে দুইটা লেডিসের ড্রাইভার তুমি এই জন্য তোমার এতো ধৈর্য্য হয়ে গিয়েছে। আর সব সময় এতো ঠান্ডা মেজাজে থাকো। একটা কুল কুল ভাব আর কি।”

আয়াদের কথা শুনে সানি নিশব্দে মুচকি হাঁসে। সাফি পাশ থেকে সোফার কুশন নিয়ে সোজা আয়াদের মুখে ছুঁড়ে মেরে বলে,,

” মুখ খোলা মানে তোর ফালতু কথা শুরু তাই না রে। ”

” মারলে কেন? তোমার সুনাম করলাম আমি। আজকাল সুনাম করাও অপরাধ। মানবতা সত্যি সত্যি হারিয়ে যাচ্ছে। ”

সানি নিশব্দে হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠে,,

” আপনারা ঝগড়া কন্টিনিউ রাখেন আমি আসছি।”

সানি সামনে পা বাড়াবে এমন সময় সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে সারা হাল্কা উঁচু স্বরে বলে,,

” ভাইয়া চলো ”

সানি পেছন ঘুরে তাকায় সারার গলার আওয়াজ শুনে।
সারাকে দেখে বেশ বড় রকমের ধাক্কা খায় সানি। দৃষ্টি যেন সেখানে আটকে রইলো। তার সামনে হেঁটে আসছে কোনো মায়াবিনী। যে তার হৃদয়ের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব জুড়ে রাজত্ব করছে গোপনে। যার মায়ায় আটকে যায় বার বার। যার চোখের চাহনি তার বুকে অসম্ভব ঝড় সৃষ্টি করে। সেই চোখে কাজল যেন ঝড়ের তীব্রতা আরও ভয়ংকর ভাবে বাড়িয়ে তুলে। নিজেকে ধরে রাখাতে নিজের সাথেই ভয়ানক এক যুদ্ধ করতে হয়। বুকের ভেতর অস্বাভাবিক এক কম্পন। তার ডাক্তারির সকল চিকিৎসা এ অস্বাভাবিক কম্পন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ এ সানির অজানা নয়।
নিজের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করে সামনে ঘুরে তাকালো সানি। শ্বাস তার এখনও অস্বাভাবিক। সারা সানির পাশ কাটিয়ে যেতে কি ভেবে আবার দাঁড়িয়ে গেলো। সানি তার প্রশংসা করবে না এ জানে সে। তাই নির্লজ্জের মতো এক প্রকার জোর করে সানির প্রশংসা শুনতে তার সামনে দাঁড়িয়ে সারা বলে উঠে,,

” সানি ভাই কেমন লাগছে আমাকে?”

সানি এক নজর তাকিয়ে নিজের চোখ নামিয়ে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,,

” হুম ভালো। ”

সারার হাঁসি খুশি মুখ চুপসে গেলো মুহুর্তে। মুখে ফুটে উঠেছে বিরক্তির ছাপ। বিড়বিড় করে বলে,,

” আমি দেখতে এতো বিশ্রী নাকি একটু তাকিয়ে থাকা গেলো না। আগ বাড়িয়ে একটু প্রশংসা শুনতে চাইলাম কেমন একটা ভাব দেখালো। মেয়েদের কিভাবে প্রশংসা করতে হয় তাও জানে না। আনরোমান্টিক লোক একটা। ”

সারা বিরক্ত হয়ে বাইরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে বাড়াতে বলে,,

” ভাইয়া চলো।”

আয়াদ সারা দিকে তাকিয়ে বলে,,

” আপুনি।”

সারা বিরক্ত হয়ে বলে,,

” হুম বল।”

” তোকে দেখে বাংলা সিনেমার একটা গান মনে পরছে।”

সারা কোমড়ে দুই হাত রেখে বেশ বিরক্ত হয়ে বলে,,

” তুই ইদানীং বেশি গান বলিস আয়াদ।”

আয়াদ সানির দিকে এক নজর তাকিয়ে মিটমিট করে হেঁসে আবারও সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,

” আরে আপুনি শোন না। কারও মনের কথা আই মিন আমাদের সবার হয়ে দু লাইন গাইছি তোর জন্য।
পড়েনা চোখের পলক
কি তোমার রূপের ঝলক
দোহাই লাগে মুখটি তোমার
একটু আঁচলে ঢাকো
আমি জ্ঞান হারাবো
মরেই যাবো
বাঁচাতে পারবেনাকো।”

অনেক কষ্টে নিজের হাঁসি আটকিয়ে ঠোঁট চেপে হাঁসছে সাফি। সানি বেশ বিরক্ত হলো এবার আয়াদের উপর। সানি বুঝতে বাকি নেই আয়াদ তাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছে। তাকে নিয়ে বেশ মজা নিচ্ছে আয়াদ। সারা ঠোঁট প্রসারিত করে জোর পূর্বক হাঁসি দিয়ে বলে উঠে,

” ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আমার,আমি এখন আসি।”

সারা বাইরে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলে,,

” যার জন্য এতোকিছু করলাম সে মাত্র দুটা শব্দে প্রশংসা করে শেষ। তোর এই গান শুনে খুশিতে ধেই ধেই করে নাচবো নাকি আমি। যদি দু লাইন প্রশংসা করতো কি এমন জাত যেত তার। লেবুর শরবত না খেয়ে মধুর শরবত খেলেও একটু মুখ থেকে মধুর কথা বের হতো৷ তেতো খেলে এমন তো হবেই।ঠাডা পরুক তোর গোমড়া মুখে বেয়াদব ডাক্তার।”

সাফি উঠে দাঁড়িয়ে ডায়নিং থাকা একটা কাঁচের গ্লাসে পানি ঢেলে নেয়। এরপর ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সানির সামনে পানির গ্লাস ধরে বলে,,

” পানি খা।”

সানি এবার আরও বেশি বিরক্ত হলো। সবাই তার সাথে ভীষণ ভাবে মজা নিচ্ছে। আর এদিকে তার জান যায় যায় অবস্থা। সানি বিরক্ত হয়ে বলে,,

” সাফি ভাই তুমিও”

সাফি ঠোঁট চেপে হেঁসে চোখের ইশারায় বলে উঠে,,

” আরে পানি টুকু খেয়ে নে। মুখটা শুকিয়ে গিয়েছে তোর। ”

” তোমরা সবাই মজা নাও। সব তোমার বোনের দোষ। কোনো দিন আমি হার্ট অ্যাটাক করলে তোমার বোন দায়ী থাকবে।”

সাফি মিটিমিটি হাঁসতে হাঁসতে বলে,,

” তোর নজরের দোষ। নজর দিশ না। তোর হার্ট ব্রেক করলে তোর দোষ আমার বোনের দোষ কোথায়। ডাক্তার হয়ে নিজের হার্ট নিজেই সামলাতে পারিশ না রুগির কি সেবা করবি তুই।”

” নিজের বোন না, সাফাই তো গাইবেই আমার সাপোর্ট কি করবে তুমি। দিলাম তোমার বোনের দিকে নজর। যা ইচ্ছে করে নাও তুমি।”

আয়াদ সোফায় বসে হাত তুলে বলে,,

” গুরু আমি কিন্তু তোমার সাপোর্টে সব সময়। ”

সাফি নিশব্দে হাঁসতে হাঁসতে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,,

” দে নজর। তোর নজরে আমার বোনের কোনো ক্ষতি হবে না। আর যদি ক্ষতি হয় তাহলে তার চিকিৎসা তোকেই করতে হবে। আর এদিক ওদিক কিছু হলে এই সাফি তোকে ছাড়ছে না।”

” ছেড়ো না বোনের জামাই বানিয়ে রেখে দাও। তাও তো করছো না।”

” হিংসে গুরু গুরু হিংসে। সাফি ভাই তার আগে তোমার বিয়ে হতে দিবে না এই জন্য। সাফি ভাইকে জোর করে ধরে বিয়ে দিয়ে দাও তারপর তোমারও হয়ে যাবে বিয়ে চিন্তা করো না।”

” কথাটা কিন্তু খারাপ বলিস নি আয়াদ।”

সাফি দাঁড়িয়ে যায় এরপর পেছনে ঘুরে দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” দুটোকেই ঝুলিয়ে রাখবো আমি।”

সাফি আবারও হাঁটা শুরু করে। সানি আয়াদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেঁসে দেয়। সানি সেও গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। দুজনের রাস্তা এক হলেও আলাদা গাড়ি নিয়ে যায় সানি। যাওয়ার সময়টা অনেক সময় মিললেও আসার সময় ভিন্ন। আর কখন কোথায় যেতে হয় ঠিক নেই তাই আলাদা ভাবে নিজের গাড়ি নিয়ে যায় সানি।

সাফি রোজকার মতো আজও আরহিকে তুলে নিলো বাসার সামনে থেকে। আরহি রোজকার মতোই একটা বড়সড় সালাম দিলো সাফিকে। সাফিও গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো সালামের। আরহি সারাকে এই ড্রেস পরতে দেখে অনেকটা অবাক হলো। উৎফুল্ল কন্ঠে বলে উঠে,,

” জানু এই ড্রেস পরেছিস। তোকে ভীষণ ভীষণ সুন্দর লাগছে। ”

সাফি এক পলক আরহির দিকে তাকিয়ে আবারও ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিলো। সারা মন মরা হয়ে ছোট করে জবাব দেয়,,

” থ্যাংকস।”

আরহি সারার মুখ দেখে বুঝতে পারলো সারার মন খারাপ কিন্তু সাফির জন্য প্রশ্ন করতে গিয়েও আটকে গেলো আরহি। ভাবলো ভার্সিটিতে গিয়ে শুনে নিবে সবটা।

সারার মন আরও খারাপ হয়ে যায়। সবাই তার প্রশংসা করে অথচ যার প্রশংসা শোনার জন্য মনটা ব্যকুল ছিলো তার মুখে প্রশংসা শোনার সৌভাগ্য তার হলো না। এসব সকল প্রশংসা তার অস্থির মনকে শান্ত করতে ব্যর্থ। আসলে ভালোবাসায় ভয়ংকর পাগলামো থাকে। যানে যে আশা পূরণ হওয়ার নয়, তবুও সে আশায় বুক অসহ্য ঝড় বয়ে যায়। যেটা নিছক কল্পনা মাত্র তাকে ঘিরে যেন সকল অস্থিরতা। নিজে নিজেই অভিমান করে বসে মনটা। যানে এই অভিমান সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন যার কোনো অর্থ নেই। তবুও এই অভিমানে কালো মেঘ হয়ে ঘিরে ধরে মনটা। কালো মেঘ গুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে অশ্রু ধারায়। এটা এক ভয়ানক রোগ। এ রোগের চিকিৎসা তেমনি অদ্ভুত। এ রোগের সৃষ্টির কারণ যে, এই রোগের নিরাময়ের কারন ও সে। সারার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। মানুষটার প্রতি এতো ভালো লাগা কেন কাজ করে বিষয়টি নিয়ে নিজের উপর বেশ ক্ষিপ্ত সারা।

এবার গাড়ি থামে ভার্সিটির সামনে। সারা আর আরহি দুজনে গাড়ি থেকে নামে। এরপর সাফিও গাড়ি থেকে নামে। সাফি সারার সামনে দাঁড়িয়ে সারার মাথায় হাত রাখে আর এক হাত সারার গালে রেখে নরম কন্ঠে বলে,,

” কি মিষ্টি লাগছে দেখতে আমার বইনাকে। কিন্তু এই মিষ্টি মুখে হাঁসি কোথায় হারিয়ে গেলো। ”

সারা সাফির দিকে তাকিয়ে জোর পূর্বক হাঁসি দিয়ে বলে উঠে,,

” কোথায় হাঁসছি তো আমি।”

সাফি আর কথা বাড়ালো না মুচকি হেঁসে বলে উঠে,,

” গুড গার্ল। খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলবি ক্লাস করতে হবে না তোর। আমি বাসায় রেখে আসবো তোকে। এখন ক্লাসে যা।”

সারা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে বলে,,

” ঠিক আছে। ”

সারা ক্লাসের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। আরহি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে। সাফি মানুষটা গম্ভীর হলেও পরিবারের সকল মানুষের সাথে কথা বলার ধরন খুবই নরম। মানুষটার শাসন কড়া হলেও সে সুন্দর করে যত্ন করতেও জানে। মানুষটাকে চিনতে পারে না আরহি। হুট করে আরহির মস্তিষ্ক যেন হুশিয়ার করে উঠে।

” আরহি এই মানুষকে সাত জনমেও চিনতে পারবি না তুই। আর তুই এতো কেন ভাবছিস অযথা। এই মানুষকে চেনার দরকার নেই তোর। যেমন খুশি তেমন হোক তাতে তোর কি। ”

এসব ভাবতে ভাবতে পা বাড়ায় আরহি। তখনই গম্ভীর কন্ঠে আওয়াজ দেয় সাফি,,

” আরহি।”

মুহুর্তে পা থমকে যায় আরহির। চিন্তার জায়গায় দখল করে নেয় ভয়, আতংক। মানুষটাকে ভীষণ ভয় পায় সে। অপরাধী না হয়েও অপরাধী ভাবে নিজেকে। আরহি সাফির দিকে ঘুরে দাঁড়ায় তবে তার মাথা নিচু তাকিয়ে রয়েছে মাঠের সবুজ ঘাস গুলোর দিকে,,

” জ্বি স্যার।

” গতকালের ঘটনার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ দিতে ভুলে গিয়েছি। থ্যাংকস হেল্প করার জন্য। ”

আরহি এবার অবাক হয়ে দৃষ্টি রাখে সাফির দিকে। মানুষটা ধন্যবাদ দিতে জানে। তাও আবার তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে। বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আরহি। এরপর কালকের কিছু ঘটনা মনে পরতেও বিরক্ত কাজ না করে বরং এক রাশ লজ্জা এসে ভীর করলো আরহির মনে। আরহি আবারও উল্টো ঘুরে তাকায়,,

” ঠিক আছে। ”

সাফি শুকনো ঢোক গিলে আবারও ডাক দিলো,

” আরহি।”

আরহি বেশ অবাক হলো। খুবই যত্ন করে নামটা নিয়েছে তার। এই কন্ঠে কিছু বলার তীব্র আকাঙ্খা এমনটা অনুভব হলো আরহির। কেমন শীতল কন্ঠে নাম নিলো তার। আরহি কৌতূহল নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় সাফির দিকে। সাফির দিকে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকালো আরহি। সাফি আরহির এমন দৃষ্টি দেখে নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে গলা খাকড়ি দিয়ে কাঁশে। এরপর আবারও গম্ভীর কন্ঠে বলে,,

” জানু অর্থ কি জানো?”

সাফির এমন প্রশ্নে বেশ হতভম্ব হলো আরহি। হুট করে এমন প্রশ্ন কারন খুঁজে পেলো না আরহি এছাড়াও এ অর্থ না জানার কি রয়েছে। বর্তমান যুগের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও এর অর্থ জানে। আরহিকে চুপ থাকতে দেখে সাফি আবারও বলে উঠে,,

” কি হলো বলো।”

” জানু অর্থ জান।”

বেশ সংকচ নিয়ে কথাটি বললো আরহি। আর সংকচ কাজ করাটাও স্বাভাবিক কারন এমন শব্দ তার সামনে ব্যবহার করা তাদের সম্পর্ক নয়। সাফি ঠোঁট চেপে হেঁসে বলে,,

” ভুল বলেছো তুমি।”

আরহি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,,

” তাহলে কি?”

” জানু অর্থ হাঁটু। আমার বোনকে কি তোমার হাঁটু মনে হয়।”

আরহির এবার কপাল কুচকে আসে। বেশ বিরক্ত হয় সাফির উপর। সারার সাথে দীর্ঘ বছরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সারাকে ভীষণ ভালোবাসে সে। দুজন একে অপরকে ভালোবেসে আদর করে জানু বলে সম্মোধন করে। আর তার ভালোবাসার আদরের ডাকের এমন বিকৃতি। আরহি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠে,,

” উহু জানু অর্থ প্রিয়া বা জান। মানুষ যাকে ভালোবাসে তাকে আদর করে জানু বলে ডাকে। এছাড়াও অনেকে ময়না, সোনা , লক্ষী বলেও সম্মোধন করে। আপনার মতো আনরোমান্টিক মানুষ জানু মানে হাঁটু সেটাই বুঝবে। ”

সাফি আরহির দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। মুহুর্তে জিহবা কামড় দেয় আরহি। রাগের বসে কি থেকে কি বলে ফেলেছে সে। ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে আরহি৷ এই তো সাফির শক্তপোক্ত হাত তার গাল স্পর্শ করলো বোধ হয়। আরহি তড়িৎ গতিতে উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে এক নিশ্বাসে বলে উঠে,,

” সরি স্যার। আপনি ঠিক বলেছেন জানু মানে হাঁটু। আমারই ভুল হয়েছে। আসি স্যার ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। ”

ঝড়ের গতিতে পা বাড়ায় আরহি। পারছে না শুধু দৌড় দিতে। ক্যাম্পাসে এই ভাবে দৌড় দিলে মানুষ তাকে পাগল ভাববে। তাই প্রান নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাঁটা যায় আরহি হাঁটছে।

সাফি আরহির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিশব্দে হেঁসে তার দুই হাতে চুল ঠিক করতে করতে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মনে মনে বলে,,,

” আমার নিরবতা, গম্ভীরতাই নিতে পারো না তুমি। আর রোমান্টিক সেটা নিতে পারবে কি না এটা নিয়েই মাঝে মাঝে আতংকে থাকি আমি। তোমার জন্ম তিন চার বছর আগে হলে ভালো হতো।”

~~~~!!!!!!~~~~~~!!!!!~~~~~~!!!!!~~~~~~

পুরো ভার্সিটি মন মরা হয়ে ছিলো সারা। আরহি অনেকবার প্রশ্ন করেছে কিন্তু সারা জবাব দেয় নি। আরহি আর জোর করে নি। সারার মন ভালো হলে নিজ থেকে বলবেই। সারার স্বভাব সম্পর্কে আরহি খুব ভালোভাবে অবগত।

এদিকে সানি আর সাফি ফোনে কথা বলেছে এক বার। সাফি কঠোর ভাবে আদেশ করেছে দুপুর পর সময় রাখতে। ভার্সিটি শেষ করে সারা আর আরহিকে নিয়ে যাবে আর সেখান থেকে ঘুরতে যাবে। সারার মন এমনিতেই ভালো নেই। বাড়ি গিয়ে আরও মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে। একটু ঘোরাফেরা করলে মন ভালো হবে সারার। সাফির আদরের একমাত্র বোন সারা তাকে তো আর বিষন্ন মুখে দেখতে পারে না। সানিও এটাই চেয়েছিলো অফিসে জয়েন করার আগে ঘুরতে বের হবে। অফিসে জয়েন করার আর তেমন সময় পাবে না। তাই সাফির কথায় দ্বিমত পোষণ করে নি আর।

~~~~!!!!!!~~~~~~!!!!!~~~~~~!!!!!~~~~

ভার্সিটি শেষে সারা আর আরহিকে নিয়ে রওনা দিলো সানির হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। ভিন্ন রাস্তা দেখে সারা সানিকে প্রশ্ন করে,,

” কোথাও যাচ্ছো ভাইয়া?”

সাফি ড্রাইভ করতে করতে জবাব দেয়,,

” সানির হাসপাতালে। সেখান থেকে ঘুরতে যাবো।”

অন্য দিন হলে সারা খুশিতে লাফিয়ে উঠতো। তবে আজ খুশি হলো না বরং আরও বিরক্ত হলো। ওই তো তাকে এড়িয়ে যাওয়া মানুষটির মুখোমুখি হতে হবে। সারা বিরক্ত ভরা কন্ঠে বলে,,

” প্রয়োজন নেই ভাইয়া। অন্য দিন ঘুরবো বাসায় চলো।”

” এরপর আমার আর সানির সময় হবে না। আজ ফ্রি আছি ঘুরে আসি চল। অনেক দিন হলো ঘুরা হয় না। আর সানির সাথে তো ঘুরাই হয় নি।”

আরহি তাদের মাঝে যেতে চাইছে না। তারা ভাই বোন মজা করবে সেখানে তার কাজ কি। আরহি মাথা নিচু করে মিনমিন করে বলে,,

” তাহলে রাস্তার মোরে আমাকে নামিয়ে দিন বাসায় যাবো আমি।”

সাফি আয়নায় এক পলক আরহিকে দেখে বলে উঠে,,

” তোমার বাসায় জানিয়ে দিয়েছি আমি। কোনো সমস্যা নেই। নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারো।

আরহি বিড়বিড় করে বলে,,

” আপনার মতো দুশ্চিন্তা সঙ্গে থাকলে নিশ্চিন্তের কোনো প্রশ্নই আসে না।”

সানির হসপিটালে এসে পার্কিং এর জায়গায় গাড়ি পার্কিং করে সারা আর আরহিকে নিয়ে এগিয়ে সানির চেম্বারের দিকে। সারা আর আরহির মাঝে বিরক্ত কাজ করলেও এক প্রকার বাধ্য হয়ে যেতো হলো সাফির জন্য।
সাফি সানির কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নক করে নিলো,,

” ডাক্তার স্যার আসবো নাকি।”

সানি মুচকি হেঁসে বলে,,

” ভিজিট কার্ড দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করুন প্লিজ।”

সাফি ভেতরে প্রবেশ করতে করতে বলে,,

” আমার ভিজিট কার্ড আপনার মানি ব্যাগে। তাই কার্ড ছাড়া রুগিকে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসা করে রোগ সারিয়ে দিয়ে আমাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করুন।”

সানি পেছনে সারার দিকে তাকিয়ে নিশব্দে মুচকি হাঁসে। ঠোঁটে সেই স্মিত হাঁসি। সারা সানির দিকে তাকায় নি। চুপচাপ মাথা নিচু করে বিষন্ন মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে আরহি বেশ অবাক হয়ে আশেপাশে দেখছে। হুট করে সাফির ডাকে ঘোর কাটে তার।

” আরহি।”

আরহি তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়,,

” জ্বি স্যার। ”

সাফি সোফায় বসে তার পাশে হাতের ইশারা করে বলে,,

” এখানে এসে বসো।”

আরহি বেশ সংকচে পরে যায়। সাফির পাশে বসতে অসম্ভব ইতস্ততা কাজ করছে তার। কখনও সাফির পাশাপাশি বসা হয় নি। বরাবরই ভয়ের কারনে দুজনের মাঝে অনেক দুরত্ব। হুট করে এমন সম্পর্কের মানুষের পাশে বসতে ইতস্তত বোধ হওয়া স্বাভাবিক। আরহিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাফি আবারও বলে উঠে,,

” কি হলো এসে বসো।”

আরহি দুই হাত কচলাতে কচলাতে ধীর পায়ে গিয়ে মাঝখানে বেশ দুরত্ব রেখে বসে পরে আরহি। সাফি এক পলক আরহির দিকে তাকিয়ে আবার সানির দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচায় সাফি। এরপর সানিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” রুগি হুটহাট মুখ গোমড়া করে বসে থাকে ইদানীং কি ঔষধ আছে এটার দিন।”

সারা বিরক্ত হয়ে বলে,,

” একদম ঠাট্টা করবে না আমার সাথে। আমি কোথায় মুখ গোমড়া করে বসে থাকি।ওটা তোমাদের স্বভাব আমার নয়।”

সারার এমন কড়া জবাবে মনে মনে বেশ খুশি হলো আরহি। সাফি এবার নড়ে চড়ে বসে বলে,,

” আরও একটা সমস্যা অতিরিক্ত রাগ এবং জেদ।”

সারা বেশ বিরক্ত হয়ে বলে,,

” আমার কোনো রোগ নেই। আমি কখনও অসুস্থ হই না। তুমি অসুস্থ থাকলে তুমি চিকিৎসা নাও।”

সারা দিকে এক অদ্ভুত দৃষ্টি সানির। এই চাহনিতে অসম্ভব মায়া লুকিয়ে আছে। ভীষণ ভাবে কাছে পাওয়ার তীব্র এক আকাঙ্খা। সানির ঠোঁটে সেই স্মিত হাঁসি রেখে বলে,,

” অসুস্থ না হওয়াটা এটা আরও বড় অসুস্থতা।”

সারা বিড়বিড় করে বলে,,

” আদিখ্যেতা এখন দেখো। অসহ্য,,। ”

সানি এবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর সারার দিকে তাকিয়ে নিজের চেয়ারে ইশারা করে বলে,,

” এখানে এসে বস।”

সারা বিরক্ত হয়ে বলে,,

” ওখানে কেন বসবো?”

” বসতে বলেছি বসবি। এতো কথা কেন?”

একটু কড়া ভাষায় বললো সানি। সারা একটু ভয় পেলো এবার। সানির ঝাড় খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তার। সারার মন আরও বিষন্নতায় কালো মেঘে ঢেকে গেলো। চুপচাপ সানির চেয়ারে বসে পরে সারা। সাফি মিটিমিটি হাঁসছে এদের কান্ডে।
সানি সাফিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” আমি খাবার আনতে বলছি। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে বের হই। আর আজকে আমার কেবিনে নতুন মেহমান এসেছে অবশ্যই ভালো ভাবে খাতির দারি করতে হয়।”

শেষ কথাটা আরহির দিকে তাকিয়ে বললো সানি। আরহি বিনিময়ে মুচকি হাঁসি উপহার দিলো। বেশ অসস্তি কাজ করছে আরহির। সাফি আর আরহির দিকে এক পলক তাকালো। সানি এবার কেবিনের একদম কোনায় থাকা আর একটা দরজা খুলে দিয়ে হাতের ইশারা করে বলে,,

” তোমরা এই ঘরে রেস্ট নিতে পারো। ভার্সিটি থেকে এসেছো রেস্ট এর প্রয়োজন আছে। রেস্ট নাও, খাওয়া দাওয়া করো এরপর বের হওয়া যাবে।”

সারা বিড়বিড় করে বলে,,

” এখন কথা ফুটছে মুখে। আর আমার বেলায় জ্ঞ্যান না হয় ঝাড়ি অসহ্য লোক একটা।”

সাফি সানিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” তুই খাবারের কথা বলে আয় পরে যাচ্ছি আমরা। ”

” ঠিক আছে।”

সানি বাইরে গিয়ে খুব অল্প সময়ের ভেতর ফিরে আসে। এর মধ্যে সারা টেবিল উপরে রাখা স্ফিগমোম্যানোমিটার হাতে নিয়ে এদিক ওদিক দেখে নাড়তে লাগলো। সানি এসে চেয়ার টেনে একটু বেশ খানিক দুরত্ব বজায় সারা পাশে বসে পরে। সারাকে স্ফিগমোম্যানোমিটার নাড়াচাড়া করতে দেখে সানি বলে উঠে,,

” আয় তোর প্রেশার মেপে দেই। ”

সারা আড় চোখে সানিকে দেখে বলে,,

” লাগবে না।”

সানি আর কথা বাড়ালো না। সারার হাত থেকে স্ফিগমোম্যানোমিটার নিয়ে চেয়ারটা ঘুরিয়ে নিজের দিকে ঘুরালো সানি। এরপর চেয়ার টেনে অনেকটা নিজের কাছাকাছি আনলো সারাকে। সারার হাত ধরে নিজের দিকে একটু এগিয়ে নিলো সানি। সারা এবার অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে সানির দিকে। এই প্রথম সানি তার হাত ধরলো। হুট করে এমন পালটে যাওয়ার কারন বুঝতে পারলো না সারা। মানুষটা গিরগিটির মতো ক্ষনে ক্ষনে রঙ বদলায়। হুট করে সুন্দর আচরণ আবার হুট করে গম্ভীর হয়ে যায়। সানি কিছু সময় চেয়ে রইলো ধরে রাখা সারার হাতের দিকে। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে টান টান হয়ে সোজা হয়ে বসলো। সারা এখন খেয়াল করলো সানিকে। হাল্কা আকাশী রঙের শার্ট এর সাথে সাদা কোর্ট ভীষণ সুন্দর লাগছে সানিকে। সানি সারার বাহুতে কাফটি বেঁধে দেয়। এরপর মনোযোগ দিয়ে প্রেশার দেখে সানি। সানি আবার নিজের হাতে সারার হাতে বাঁধা কাফটি খুলে দিতে দিতে সাফিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” সাফি ভাই তোমার বোনকে আরও অহেতুক খাবার খেতে বলো ঠিক আছে। ছোট বাচ্চাদের মতো প্রেশার, এর বয়স কত? তোমরা বাচ্চা ভেবে আদর করলেও বয়স তো আর বাচ্চাদের মতো নয়। ঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া করে না, কি সব অস্বাস্থ্যকর খাবার খায়। আজ থেকে দৈনিক দুটো করে ডিম আর দুধ না খেলে ভিটামিন এর ইনজেকশন দিবো আমি তোকে সকাল আর রাতে।”

সারা মাথা নিচু করে মুখ বাঁকালো। বিড়বিড় করে বলে,,

” এ ঝাড়ি আর স্বাস্থ্যের জ্ঞ্যান টাই দিতে পারবে বেয়াদব ডাক্তার। এ ছাড়া আর কিছু শিখেছে। ”

সাফি নিশব্দে হাঁসছে। আরহি বোকার মতো তাকিয়ে রয়েছে। মায়াও হচ্ছে বান্ধবীটার জন্য কেমন হিংস্র ভয়ানক মানুষদের সাথে থাকতে হয় তার বান্ধবীর।

এরি মাঝে খাবারও চলে আসে। সানি কর্মচারীকে বলে ভেতরে রুমে খাবার দিয়ে আসতে। সানির বিশ্রাম নেওয়ার ঘর এটা । একটা বিছানা, ছোট একটা ড্রেসিং টেবিল, আর একটা টেবিল। কর্মচারী আরও তিনটা চেয়ার এখন ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। কারন ঘরের ভেতর শুধু একটা চেয়ার ছিলো। সানি সাফি আর আরহিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” ভেতরে গিয়ে বসো দুজন।”

সাফি উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে আরহিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

“এসো। ”

সানি আবারও আরহিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” একদম সংকচ করবে না আপু। এটা তোমার বড় ভাইয়ের কেবিন ভাবতে পারো। ”

আরহি সানির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ধীর পায়ে সাফির পিছু পিছু পা বাড়ায়। সাফি একটা চেয়ার টেনে চোখের ইশারায় আরহিকে বলে,,

” বসো।”

সানি সারার গোমড়া মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়। সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” চল এবার।”

সারা একপ্রকার ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে ঘরে প্রবেশ করে। সানি আবারও দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সারার পিছু পিছু ঘরে প্রবেশ করে।

চলবে______
Follow গল্প ঘর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here