আমরন_চেয়েছি_তোমায়
লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন
০৭
সারার পাশে সানি বসেছে, আর নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করে দিচ্ছে সারাকে। সারা পছন্দের খাবার চিংড়ি মাছের মালাইকারি সানি তাই অর্ডার দিয়েছে, সাথে চিকেন রোস্ট,ডিম এগুলোও অর্ডার দিয়েছে। সারা চিংড়ি মাছের মালাই কারি দেখে বেশ খুশি। এটা ভেবে আরও খুশি হলো তার পছন্দের খাবারের কথা সানির মনে রয়েছে। আর সেটা মাথায় রেখে সানি খাবার অর্ডার দিয়েছে। সানি চিংড়ি মাছ খায় না এটা সারা জানে।তাই তার বুঝতে কষ্ট হলো না তার জন্যই অর্ডার করেছে সানি। সারা বেশ তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে। সানি সারার খাওয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে হাঁসলো সে। সারাকে তৃপ্তি সহকারে খেতে দেখে বেশ শান্তি পেলো সানি।
কিন্তু এদিকে বেশ বিপাকে পরেছে আরহি। সাফি নিজের হাতে এক প্লেট খাবার পরিবেশন করে দিয়েছে আরহিকে। এমনিতেই বেশ অসস্থি লাগছে তার। তারমধ্যে এতো গুলো খাবার কিভাবে শেষ করবে সে। সাফির কড়া আদেশ প্লেটের সব খাবার শেষ করতে হবে। আরহির মাঝে ভয় অসস্থি দুটোই কাজ করছে এই মুহুর্তে। ভীষন কান্না পাচ্ছে এখন আরহির। কোনো রকম কচলিয়ে কচলিয়ে খাবার খাচ্ছে আরহি। সাফি দেখেও না দেখার ভান করছে। সাফি মনে মনে ভাবছে আরহি যদি তার অধিকারে থাকতো এসব বাজে অভ্যাস ত্যাগ করাতো । দৈনিক এই ভাবে খাওয়াতো তাহলে মেয়েটা এমন রোগা থাকতো না। বাসায় যে কারও কথা শুনে না এই নিয়ে অনেক বার নালিশ শুনেছে আরহির বাবা আরজু চাচা থেকে। সাফি খেতে খেতে আরও একবার চোখের ইশারা দিলো আরহিকে সম্পূর্ণ খাবার শেষ করতে। আরহি করুন দৃষ্টিতে তাকালো সাফির দিকে। আরহির এমন দৃষ্টি দেখে নিশব্দে মনে মনে হাঁসলো সাফি, মায়া হলো মেয়েটার উপর একটু। সাফি আরহির প্লেট থেকে একটু খাবার নিজের প্লেটে নিয়ে নিলো। তারপর চোখের ইশারা করে বলে,,
” নাও এবার হয়েছে। খাও এবার, সম্পূর্ণ শেষ করবে খাবার। ”
সাফির এমন কান্ডে আরহি খুশি হওয়া ভুলে গিয়ে অবাকের চরম সীমায় পৌঁছে যায়। সাফি তার এঁটো খাবার খাবে। হেঁচকি তুলতে শুরু করে আরহি। সাফি দ্রুত পানির গ্লাস এগিয়ে নিয়ে নিজের হাতে পানি খাইয়ে দিলো আরহিকে। আরহি অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে সাফির দিকে। সাফির মাঝে মাঝে কিছু আচরণ তাকে ভীষণ অবাক করে দেয়।
সাফির চোখ পরে সানির দিকে। সানি তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেঁসে ভ্রু নাচায় কয়েকবার। সাফি চোখ পাকিয়ে তাকায় সানির দিকে। সানি নিশব্দে হাঁসতে হাঁসতে চোখ জোড়া নামিয়ে নেয়। সারা তার মতো খেয়েই চলেছে। ইদানীং সারার অন্যমনস্ক বেশি থাকায় আশেপাশে তার খেয়াল নেই। যদি খেয়াল থাকতো তাহলে ভীষণ অবাক হতো তার ভাইয়ের এমন কান্ডে। সারা খাওয়া দাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়ায়। এরপর টিস্যু নিয়ে হাত মুছে বিছানায় গিয়ে গাঁ এলিয়ে শুয়ে পরে। আজ একটু বেশি খেয়ে ফেলেছে সে। সানি খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়ে থাকা সারার দিকে তাকালো। এরপর টিস্যু নিয়ে হাত মুছে বিছানায় গিয়ে সারার মাথার কাছে গিয়ে বসতেই সারা উঠে বসতে নিলে সানি বলে উঠে,,
” উঠছিস কেন? শুয়ে থাক।”
সারার সংকচ লাগছে অনেক। তাই একটু ইতস্তত নিয়ে বলে,,
” আপনি রেস্ট নিন।”
” আমার প্রয়োজন নেই। তুই রেস্ট নে। ”
সাফি খাওয়া শেষ হলেও বসে রয়েছে আরহির জন্য। আরহি অনেক কষ্টে সম্পূর্ণ খাবার শেষ করে। আরহির খাওয়া শেষ হতে দেখে সাফি উঠে দাঁড়ায়। এরপর বিছানা দিকে গিয়ে সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” এদিকে সরে যা, আমি রেস্ট নিবো একটু।”
সারা দেয়ালের দিকে একটু চেপে গেলো। সাফি বিছানায় শুয়ে পরে। আরহি খাওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়ায়। কি করবে ভেবে না পেয়ে চেয়ার টেনে বিছানার পাশে বসতেই সারা আরহির দিকে তাকায়।সারা আরহিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” জানু আমার এখানে আয়।তুই ও রেস্ট নে।”
আরহি মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” দরকার নেই আমি এখানেই ঠিক আছি।”
” আরে আয় তো।”
সারা সাফির দিকে চেঁপে শুয়ে পরে। সাফি আড় চোখে তাকায় আরহির দিকে। আরহির শরীর ক্লান্ত লাগায় সারার পাশে গিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে শুয়ে পরে। সারা আরহির দিকে ঘুরে আরহির উপর এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে। সাফি সানি দুজনে একবার তাদের দিকে তাকালো। সাফি সানির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” কোথায় যাওয়া যায় বলতো।”
সানি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” চলো ভাই মুকস বিল যাই। বৃষ্টি সময় নৌকায় ঘুরা যাবে। সাথে প্রাকৃতিক দৃশ্য তো রয়েছে। তিনটা বাজতে অনেক সময় এখনও। ফিরতে রাত হলেও ৭ টার ভেতর চলে আসতে পারবো। ”
” এতো দূর যাবি।”
” দূর কোথায় ১ ঘন্টা লাগবে যেতে। জেম নেই তেমন আজকে।”
” ঠিক আছে চল। নৌকা ভ্রমণ করা হবে।”
কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরলো চারজন। এরই মধ্যে আরহির বাবা আরজুর সাথে কথা বলে নিলো সাফি। সাফি জানে তিনি কখনও আপত্তি করবে না। ভীষণ ভরসা করে তাকে। কিন্তু তার মেয়ে অবশ্যই তার অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন, তাকে জানানোর প্রয়োজন। তাই নিজে ফোন করে সবটা জানালো আরজুকে।সানি ড্রাইভ করছে আজ। পাশে বসে আছে সাফি। পেছনে সারা আর আরহি। সামনে দুজন গম্ভীর মানুষের জন্য দুজন ঠিক ভাবে কথাও বলতে পারছে না। তাদের সাভার থেকে গাজীপুর এর মুকস বিল প্রায় ৩৬ কি.মি মতো। জেম না থাকায় ১ ঘন্টার একটু বেশি সময় লাগলো পৌঁছাতে। ৪ টার দিকে তারা পৌঁছে গেলো মুকস বিল। বৃষ্টির সময় থাকায় পানিতে ভরা চারদিকে।পানির উপর ছোট ছোট রঙ বেরঙের টিনের ঘর। আশেপাশে সবুজ প্রকৃতি, নানা রঙের নৌকা, শীতল এক বাতাস মুহুর্তেই মনটা ভালো হয়ে গেলো সবার। শহরের যানজট, ইট-পাথরের রাজ্য, সেখানে সবুজ প্রকৃতি আর কোথায় দেখা পাওয়া যায়। সারা আর আরহির এতোক্ষন বিরক্ত লাগলেও এখন বেশ খুশি লাগছে এতো সুন্দর প্রকৃতি দেখে। সানি গিয়ে নৌকা ঠিক করলো। সাফি সারা আর আরহিকে ইশারা করে বলে তার সাথে আসতে। সারা আর আরহি সাফির পিছু পিছু হাঁটলো। সানি আগেই নৌকাতে উঠে বসলো। সারা আর আরহির আগে কখনও নৌকায় উঠা হয় নি। তাই দুজনে যেমন বেশ খুশি হয়েছে তেমনি ভীষণ ভয় পাচ্ছে। সাফি সারার হাত ধরে আগে নৌকা তুলে নিলো। সানি সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে সারার হাত ধরে খুবই সাবধানে বসিয়ে দিলো নৌকায়। তবুও সানি চোখের ইশারা করে বলে,,
” ঠিক আছিস।”
সারা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” হুম ঠিক আছি।”
সাফি আরহির দিকে হাত বাড়ায়। আরহির ভীষণ হাত কাঁপছে সাফির হাত ধরতে৷
বুকে যেন ভয়ানক তোলপাড় শুরু হয়েছে। হৃদয়ের অস্বাভাবিক কম্পন। সাফি শীতল কন্ঠে বলে,,
” এসো, ভয় নেই। আমি আছি তো। ”
আরহি অবাক হয়ে তাকালো সাফির মুখ পানে। রৌদ্রের কারনে ফর্সা মুখ লাল হয়ে আছে। দূর থেকে আসা সূর্যের কিরন ছড়িয়ে পরছে তার ছোট মুখটাতে। এই এতোটুকু কথায় অসম্ভব ভরসা খুঁজে পেলো আরহি। এমনটা কেন হলো আরহির জানা নেই। তবে ভীষণ ভাবে ভরসা খুঁজে পেলো এতোটুকু বাক্যে। তারই দেওয়া নামকরণ এই গম্ভীর প্যাঁচা মুখো মানুষটির উপর। আরহি কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে দিলো সাফির দিকে। সাফি শক্ত করে ধরে নিলো হাতটা। এই প্রথম স্পর্শ করলো একে অপরের হাত। সাফি শুকনো ঢোক গিলে আরহিকে তুলে নৌকায়। এরপর অতি সাবধানে সারার পাশে বসিয়ে দিলো আরহিকে।প্রখর সূর্যের আলোয় বেশ বিরক্ত হলো সারা আর আরহি। তাই দুজনেই হিজাব টা খুলে ফেললো।এক সাথে ভাজ করে রেখে দিলো নৌকার কোনে। সানি সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” বাতাসে পরে যাবে আমার হাতে দে।”
সারা দুটো হিজাব এগিয়ে দিলো সানির দিকে। আরহি বাঁধা দিতে নিলে সাফি আরহির হিজাব নিজের হাতে নিয়ে নেয়। আরহি আর বাঁধা দিতে পারলো না। আরহি শুধু শুধু তাদের ঝামেলা বাড়াতে চায় না। সে সারার ভালো বন্ধু, এ বাড়ির লোকেরা তাকে স্নেহ করলেও এ বাড়ির সদস্য তো আর সে নয়।
সানি সারার হিজাব হাতে নিয়ে নিজের গলায় ঝুলিয়ে নিলো। সারা মুচকি হাঁসলো সানির এমন কান্ডে, ছোট বিষয় টুকু সারার মনে ভীষণ ভাবে গেঁথে গেলো।
সাফি আরহির হিজাব নিজের গলায় ঝুলিয়ে নিয়ে ইং করা শার্টের ভাঁজ খুলে ফেলে। আরহি আর সারা বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাফির দিকে। সাফি দীর্ঘ বছর দেশের বাইরে ছিলো, তার স্বভাব কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে জানা নেই সারার। তবে সারা সানির মাঝে বিশেষ কোনো পরিবর্তন খুঁজে পায় নি তার প্রতি তার আচরণ ছাড়া। আগে যেমন মেয়েদের সাথে তার মেলামেশা ছিলো না বললেই চলে কিন্তু এখন রয়েছে কি না জানা নেই তার। তবে সারার জিনিসপত্র, তার পোশাক বহুবার বহন করেছে সানি। সবাই থাকা সত্ত্বেও সারা জিনিসপত্র সানিই সব সময় বহন করেছে। তাই সারা বিস্মিত হয় নি। বরং ভালো লেগেছে সানি আগের মতোই তার জিনিস পত্র বহন করতে দীর্ঘ বছরেও ভুলে যায় নি। ছোটো খাটো বিষয় খেয়াল করতে ভুলে যায় নি এখনও। যেগুলো বিষয় দেখে সারার ছোট মনটায় জায়গায় করে নিয়েছিলো সানি। এখনও সে রুপ আচরণ দেখে আবারও পুরনো অনুভূতি গুলো আশকারা পেয়ে যাচ্ছে। সে বয়সে ভালোবাসা শব্দটুকু সম্পর্কে তার ধারণা না থাকলেও সানির যত্ন, তার ব্যবহার, তার ব্যাক্তিত্ব, তার বচন ভঙ্গি দেখে তার ছোট মনটা ভীষণ ভাবে চেয়েছিলো এই মানুষটা তার পাশে সারাজীবন থাক। অন্য কারও না হোক। এখন ভালোবাসা, দায়িত্ব, যত্ন এসব সম্পর্কে বুঝার যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার আর তো ছোট নেই। এখন তো এই যত্ন, এই ব্যাক্তিত্ব, এই বচন ভঙ্গির উপর নতুন করে প্রেমে পরছে সে। তার কৈশিরের ভালো লাগা যৌবন বয়সের ভালোবাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।
কিন্তু বিস্মিত হলো সাফিকে দেখে। আর বিস্মিত হওয়াটাও স্বাভাবিক। সাফিকে কখনও কোনো মেয়ের জিনিসপত্র বহন করা তো দূর, ধারের কাছেও আসে না। একমাত্র বাড়ির মহিলা সদস্য ছাড়া সাফির ধারের কাছে কেউ আসতে পারে না। আবার এখানেও নিষেধ রয়েছে তার, মেকাপ এসব করলে তার সঙ্গে নিবে না। যে অনুষ্ঠানি হোক না কেন সাফিকে কেউ বলে না। কারন সবাই জানে উত্তর একটাই আসবে না। বিয়ের জন্য কত কথা বলা হয় মেয়ের ছবি পর্যন্ত হাত দেয় না। যতটুকু দেখে আসছে সাফি বরাবর মেয়েদের থেকে ভীষণ দুরত্বে। আরহির সাথে শুধু কথা বলতে দেখেছে সারা। এ ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখে নি। মামাতো, খালাতো ভাই দের সাথে মিশলেও বোনদের সাথে সৌজন্য মূলক যতটুকু কথা বলতে হয় ততটুকুই বলতে দেখেছে। কখনও পাশে গিয়েও বসে নি, সে কিনা একটা মেয়ের হিজাব নিজের গলায় বেঁধেছে। বিস্মিত কেন হবে না সারা। ভাগ্যিস সারা সাফিকে আরহির এঁটো খাবার খেতে দেখে নি। দেখলে হয়তো বিশাল বড় ধাক্কা খেয়ে হার্ট অ্যাটাক করতো।
সারা আরহির কানে ফিসফিস করে বলে,,
” আমি যা দেখছি তুই ও তাই দেখছিস।”
আরহি সারার মতো অনুরূপ অবাক হয়ে জবাব দেয়,,
” হুম ”
” আমার ভাই তোর প্রেমে পরে নি। তুই জাদু করেছিস।”
আরহি সারার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়,,
” তোর প্যাঁচা মুখো ভাইকে জাদু করতে যাবো কোন দুঃখে শুনি।”
” জানি না। আমার যে ভাই কোন মেয়ের প্রেমে পরা সম্ভাবনা দূর দূর পর্যন্ত নেই। কখনও তো কারো সাথে কথাই বলতে দেখি নি। সেখানে তোর হিজাব কিভাবে কি? নিশ্চয়ই তুই জাদু করেছিস, কালা জাদু।”
” দূর সর যাতো। তোর ভাইকে তুই তোর কাছে রাখ বন্দি করে। আমার শখ নেই, আমি আবার কালা জাদু করবো।”
সারা মিটিমিটি হাঁসতে হাঁসতে বলে,,
” চাইলে তুই নিতে পারিস আমার ভাইকে। ”
আরহি বেশ রাগী দৃষ্টিতে তাকায় আরহির দিকে। সারা মুচকি হাঁসে। তবে সারার ভীষণ সন্দেহ হলো। কিন্তু আরহিকে কিছু বললো না। আরহি তো তার ভাইয়ের বিষয়ে শুনলে ভীষণ ভাবে রেগে যায়। তাই নিজের মাঝে রেখে দিলো প্রশ্নটা।
সানি সাফির দিকে এগিয়ে গিয়ে কানে ফিসফিস করে বলে,,
” আমার টা তো বাহানা মাত্র। তুমি তো নিজের ব্যবস্থা করতে এসেছো বলো। ”
সাফি সানির দিকে চোখ পাকিয়ে তাকায়। সানি ঠোঁট চেপে হেঁসে আবারও সোজা হয়ে বসে। সারার দিকে এক বার চেয়ে ইং করা শার্টের ভাঁজ খুলে এক হাত মাথায় রেখে আর এক হাত বক্ষে রেখে গলা ছেড়ে গাইলো সানি,,
” তুমি জানো নারে প্রিয়
তুমি মোর জীবনের সাধনা
তোমায় প্রথম যেদিন দেখেছি
মনে আপন মেনেছি
তুমি বন্ধু আমার বেদন বুঝো না”
সাফি এক রাশ মুখে হাঁসি নিয়ে সানির পাশে শুয়ে গলা ছেড়ে গাইলো,,
” সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো,
সোনা বন্ধে আমারে পাগল করিল।
আরে না জানি কি মন্ত্র করি জাদু করিল,
ও সোনা বন্ধে”
এরপর দুজনে এক সঙ্গে অট্টো হাঁসিতে মেতে উঠলো। তাদের হাঁসির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঙ্গ দিলো মাঝি। মাঝি হাঁসি মুখে বলে উঠলেন,,
” খাসা গাইছেন আপনারা। থামলেন কেন? ”
সাফি হাঁসি মুখে জবাব দিলো,,
” চাচা মস্তিষ্কের ঝুলিতে এতোটুকুই ছিলো। কাজের প্রেশার এ সব ভুলে গিয়েছি। তবে এই প্রকৃতির সাথে সুন্দর মুহুর্ত কাটাতে গিয়ে দুই এক লাইন মনে হলো তাই গাইলাম। প্রকৃতির শীতল বাতাস, পানির বয়ে যাওয়া শব্দ, সূর্যের ছুটে আসা কিরন এগুলো মনের সকল ক্লান্তি দূর করে দিচ্ছে। মনে অন্য রকম প্রশান্তি কাজ করছে।”
” হয় ঠিকি কইছেন। সবুজ প্রকৃতির সাথে সময় কাটাইলে মনে শান্তি লাগে, তাই তো মাঝে মাঝে আপনাগোর চাচি রে নিয়ে আসি। অনেক খুশি হইয়া যায়। ”
সানি হাঁসি মুখে বলে,,
” চাচা তো দেখা যায় সেই মারাত্মক প্রেমিক পুরুষ। খুব ভালোবাসেন চাচি কে। ”
মাঝিও হাঁসতে হাঁসতে জবাব দেয়,,
” প্রেমিক পুরুষ রা তো মহান হয়। অনেক বড় মন ওনাদের। এতো মহান কি না কইবার পামু না। তবে আপনার চাচিরে হাঁসি খুশি দেখলে আমার মন খারাপ থাকলেও ভালো হইয়া যায়। ৪০ বছর ধইরা সংসার করতাছি, কত ঝগড়া, মান অভিমান হইলো দুই জনের এক জনও দূরে যাওয়ার কথা ভাব বার ও সাহস পাই নাই। সুখ দুঃখে সঙ্গে ছিলাম এখনও আছি। খালি একটু আফসোস হয় বেচারার ভালো চিকিৎসা করবার পারতাছি না। তবুও কোনো অভিযোগ করে না। আমি জানি আপনার চাচির কষ্ট হয় কিন্তু আমারে বুঝবার দেয় না।”
সানি মাঝির দিকে জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,,
” কি হয়েছে চাচির।”
” কি যে, কয় দিন পর পর জ্বর আহে। ডাক্তারের কাছে নিছিলাম নানান পরীক্ষা দেয়। মেলা টাকা পয়সার ব্যপার। এতো টাকা জোগাড় করে আবার যাওন লাগবো। ”
সানি শুয়ে থেকে প্যান্টের পকেট থেকে তার মানিব্যাগ বের করলো। এরপর একটা কার্ড বের করে মাঝির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে উঠে,,
” আমি ডা.সানি মেহরাজ শিকদার এই কার্ড রাখুন। এখানে সব থেকে ভালো ক্লিনিক এ যাবেন এরপর আমার নাম্বারে ফোন দিবেন চিকিৎসা নিতে আপনার কোনো টাকা লাগবে না। চাচি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তারপর দুজন এক সঙ্গে আরও ৪০ বছর সময় পার করবেন। ”
মাঝি চোখে খুশিতে পানি চলে আসে। এক হাত দিয়ে কুচকে যাওয়া শার্ট তুলে নিজের চোখের পানি মুছে মুখে হাঁসি এনে বলেন,,
” আপনেরা অনেক ভালা মানুষ। আল্লাহ মঙ্গল করুক আপনাগোর। সবাই তো ডাক্তার গোর কত কিছু কয়। আসলেই সব ডাক্তার এক না। আপনার মতো ভালা ডাক্তার ও আছে।”
সানি মৃদু স্বরে হেঁসে বলে,,
” ভালো কি না জানি না। তবে সাধ্য মতো চেষ্টা করি ভালো হওয়ার। ভালো মন্দ মিলে এই দুনিয়া। যতটুকু সাধ্য চেষ্টা করি ডাক্তার হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করা। রুগিদের সেবা করার। ”
মাঝি অনুরুপ হাঁসি মুখ নিয়ে বলেন,,
” আল্লাহ আপনারে আরও ভালো কাজ করার তৌফিক দিক। চলেন আপনাগোর এক ঘন্টা বেশি ঘুরাই।”
” না থাক। আপনার ক্ষতি হয়ে যাবে। ”
” সব সময় কি আর লাভ ক্ষতির হিসাব করলে চলে। আপনিও তো আমার কত বড় উপকার করলেন।
জানেন কি স্যার শরীর অসুখ এর সাথে মনের অসুখও হয়। আর এ অসুখ এর ডাক্তার নাই। তবে ঔষধ আছে বিনা পয়সায়। মনের অসুখ ছাড়ে পূন্যের কাজ করে। মনের মানুষের লগে সময় কাটালে। আমি যখন আপনার চাচির লগে সময় কাটাই মনের সব অশান্তি দূর হইয়া যায়। আর একটা মনের ঔষধ এই সবুজ প্রকৃতি, সুন্দর মিষ্টি হাওয়া মনের অশান্তি দূর কইরা দেয়। ”
সাফি মাঝির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” ভালো কথা বলেন আপনি চাচা। মনের অসুখ সাড়া প্রয়োজন। শরীর এর অসুখ মরন দিলেও আফসোস নেই। মনের অসুখ যে বেঁচে থাকার সাধই কেড়ে নেয়।”
” খাসা এক খান কথা কইছেন স্যার। মনের অসুখ বড় অসুখ।”
সানি মুখে হাঁসি রেখে বলে,,
” প্রফেসর সাফি মেহতাব খান এর কথা খাসা তো হবেই চাচা।”
সারা আর আরহি চোখ জোড়া বিশাল বড় গোল আকৃতি ধারন করে তাকিয়ে আছে তখন থেকে। এ কোনো নতুন সানি আর সাফিকে দেখছে তারা। এরা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ। এদের একদম চিনতে পারছে না। এদের মুখে এমন গান। সারা বহুবছর আগে ছোট বেলায় দুজনের মুখে গান শুনেছিলো তাও দেশাত্মবোধক। এতো বছর পার হয়ে গেলো কখনও গান বলা তো দূরে থাক শুনতে পর্যন্ত দেখে নি। সব সময় কাজে ব্যস্ততা, ছুটোছুটি জীবন, মুখে ক্লান্তির ছাপ, গম্ভীরতা, যত নিয়মকানুন এ বাঁধা থাকতে দেখে এসেছে। তারা তো ভেবেছিলো এরা অনুভূতি শূন্য মানুষ। তাদেরও অনুভূতি আছে, এটাই যেন অবাক করে তুলছে। সানির মুখে এরুপ গান শুনে অবাক হয়ে যায় সারা। তার জীবনে কোনো রমনী নেই তো। যাকে স্মরণ করে এই গান গাইলো। ভাবতেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। তবে মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখে ভালো লাগলো দুজনের। আরহি মনে মনে ভাবলো এই গোমড়া মুখো মানুষটারও মানুষের প্রতি সহানুভূতি হয়। দুজনের এই অট্টো হাঁসিতে আরও ভীষণ অবাক হয়ে ছিলো। সারা কত বছর পর তার ভাইকে এভাবে হাঁসতে দেখলো স্মরনে নেই তার।
সাফি উঠে দাঁড়ায় এরপর সানির দিকে হাত বাড়ায়।
” দাঁড়া দেখ কি সুন্দর বাতাস।”
সানি উঠে দাঁড়ালো। প্রকৃতির বাতাসে বার বার চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে দুজনের। গলায় ঝুলিয়ে রাখা হিজাব গুলো উড়ছে বাতাসে। দুজনের মুখে হাঁসি, কে বলবে এরা সব সময় এতো সুন্দর স্নিগ্ধ হাঁসি নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখে। তারাও মন খুলে হাঁসতে জানে। দুজনের ভাবনা বিচ্ছেদ ঘটলো সাফির কথায়। সারা আর আরহি কে উদ্দেশ্য করে বলে,,
” তোরাও দাঁড়া। অনেক ভালো লাগবে।”
সারা মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” আমার ভয় লাগে।”
সানি সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,
” আরে ভয় কিসের দাঁড়া কিচ্ছু হবে না।”
সানি সারার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। সারা ভয় পাচ্ছে ভীষণ, সানি চোখের ইশারায় সারাকে আবারও আশ্বাস দেয়। সারা সাহস নিয়ে সানির হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়। সানি আরেক হাত সারার কাঁধের একটু নিচু বাহুতে হাত রাখে। দুজন বেশ কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। সানির বক্ষে সারার পিঠ লেগে আছে। সারার মাঝে এক অদ্ভুত অনুভূতি বিরাজমান। প্রিয় মানুষটার সঙ্গে এক সাথে এতো সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ এটা তো ঘুনাক্ষরেও আশা করতে পারে নি সারা। এ যেন মেঘ না চাইতেও বৃষ্টি পাওয়ার মতো। সারা সানির দিকে তাকাতে সানি চোখের ইশারায় বলে দূর আকাশের দিকে তাকাতে। সারা লজ্জা রাঙানো মুখ নিয়ে আকাশে দিকে তাকায়। সূর্যের কিরন ছড়িয়ে পরছে চারদিকে। দূর দূর পর্যন্ত শুধু পানি আর পানি। পানির এই ঢেউ খেলা ভীষণ ভালো লাগছে সারার। শুরুতে ভয় লাগলেও এখন সানি ধরে থাকাতে আর ভয় পাচ্ছে না সে। সানির দৃষ্টি সারার দিকে। এতো নিকট থেকে দেখছে তার সূবর্ণা নয়নের রাণীকে। খোঁপা করা চলা, মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম, কপালে পরে থাকা ছোট ছোট চুল গুলো বাতাসে উড়ছে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তার সূবর্ণা নয়নের রাণীর মুখ খানা। সানি সারার কানে ধীর কন্ঠে বলে,,
” এখনও ভয় লাগছে। ”
সানির গরম নিশ্বাস সারার কাঁধে পরতে পুরো শরীর কেঁপে উঠলো তার। এক অজানা শিহরণ বয়ে যায় তার শরীরের মাঝে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,,
” না ”
সানি নিশব্দে মুচকি হেঁসে।
সারার শরীর অসম্ভব কাঁপছে এখন। সারা নিজেকে সামলে দৃষ্টি রাখে আরহির দিকে। সম্পূর্ণ তার মনোযোগ পালটানোর চেষ্টা । সারা আরহির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” তুই ও দাঁড়া।”
আরহি মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” না না আমার ভয় করে। ”
” আরে ভয় নেই। ভালো লাগবে তোর।”
সারা সম্পূর্ণ ইচ্ছে করে সাফির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” প্লিজ ভাইয়া হেল্প করো।”
” হুম ”
সাফি হাত বাড়ায় আরহির দিকে। আরহি ভীত ভীত চোখে তাকায় সাফির দিকে। সাফি আবারও নরম কন্ঠে বলে,,
” এসো, এতো ভয় কীসের, আমি আছি তো। ”
আবারও সেই বাক্য। আরহির মাঝে দ্বিগুন ভরসা বাড়িয়ে দেয়। এই মানুষটার এই উক্তিতে ভীষণ ক্ষমতা রয়েছে। এই উক্তি আরহি সকল ভয়, হতাশা, দুশ্চিন্তা দূর করে দেয়। মনে হয়, একজন বিশাল ভরসা যোগ্য মানুষ তার পাশে রয়েছে। কোনো ক্ষতি হতে দিবে না তার। এ মানুষ যেন প্রস্তুত তার বিপদ নিজের করে নেওয়া। আরহি বেশ ইতস্তত নিয়ে হাত ধরল তবে হাত কোড়া এখন আর কাঁপলো না। তবে দাঁড়িয়ে ভীষণ রকম ভয় পেলো আরহি। নৌকা দোল খেতেই আরহি ভয়ে খামচে ধরে সাফির শক্তপোক্ত বাহু। সাফি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরহির ভীত মুখের পানে। চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে আছে মেয়েটা।
সাফি একটু ঝুঁকে আরহির কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,,
” চোখ মেলে তাকাও। ”
আরহির পুরো শরীর থরথরিয়ে কেঁপে উঠে। মুহুর্তে চোখ মেলে তাকায় সে। দৃষ্টি রাখে সাফির মুখের দিকে। কেমন এক অদ্ভুত চাহনি তার। আরহি খেয়াল হলো তার অপর হাতটির দিকে, সঙ্গে সঙ্গে সাফির বাহু থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে ভীত কন্ঠে বলে,,
” সরি স্যার ”
সাফি ঠোঁট চেপে হাঁসে আরহির এমন কান্ডে। মেয়েটা কত ভীতু। এই মেয়ের এমন কান্ড দেখলে নিজেকে সব থেকে কঠোর মানুষ মনে হয়। সাফি আরহির দু বাহুতে হাত রেখে ঘুরে দাঁড় করায়। এরপর আবারও নরম কন্ঠে বলে,,
” আশেপাশে তাকিয়ে দেখো মন ভালো হয়ে যাবে তোমার। ”
আরহির আশেপাশে তাকানোর মনোযোগ নেই। সাফির সাথে এই ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে তার বুকে অসম্ভব ভয়ানক ঝড়ের এক তোলপাড় শুরু করেছে। শুরু হয়েছে অস্বাভাবিক হৃদয়ের কম্পন। মানুষটার পারফিউম এর সুবাস তীব্র ভাবে নাকে বাঁধছে তার।
সাফিকে মোটেও ভয় পাচ্ছে না এই মুহুর্তে তবু্ও অসম্ভব ভাবে শরীর কাঁপছে তার।
সাফি বিষয়টি বুঝতে পারে, দুজনের এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছে না। এমনিতেই ভীষণ ভয় পায় তাকে। আর আগে কখনও দুজন এতো নিকটে আসে নি। সাফি আরহিকে আবারও নরম কন্ঠে বলে,,
” তোমার কি খারাপ লাগছে। ”
আরহি এদিক ওদিক মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” না। ”
” আচ্ছা ঠিক আছে বসে পরো তুমি। ”
আরহি যেন প্রান ফিরে পেলো। এই মানুষটার এতো নিকটে শ্বাস আটকে আসছিলো তার। আরহি দ্রুত গতিতে আবারও বসে পরে। সাফিও নৌকাতে বসে, এরপর নিজের প্যান্ট অনেকাংশ টেনে উপরে তুলে নিয়ে নৌকায় পা ঝুলিয়ে বসে, পা ভেজায় পানিতে। এরপর দৃষ্টি রাখে আরহির দিকে।
” এখানে এসো। ”
আরহি সাফির দিকে তাকায়। সাফি আবারও চোখের ইশারায় বলে তার পাশে বসতে। আরহি ধীর গতিতে সাফির পাশে গিয়ে একটু দূরত্ব রেখে বসে। তবুও কেমন অসস্তি লাগছে তার। মানুষটার নিকটে এলে এমন কেন হয় বুঝতে পারে না সে। সাফি আরহির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” পানি তে পা ভেজাও দেখো অনেক ভালো লাগবে। ”
আরহি সাফির কথা মতো পা ঝুলিয়ে বসে। পা ভেজায় পানিতে। ভীষণ ভালো লাগছে আরহি। পাশে থাকা মানুষটির কথা ভুলে পা দুলাতে থাকে আরহি। সাফি তাকিয়ে আছে আরহির ভেজা পা জোড়ার দিকে।
কি ভেবে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় তার। হুট করে আরহি কিছু ভেবে উঠতেই পা তুলে নেয় তার। সাফি জিজ্ঞাসুক দৃষ্টিতে তাকায় আরহির দিকে। সাফির দৃষ্টি বুঝতে পেরে আরহি ধীর কন্ঠে বলে,,
” আমি শুনেছি পানির নিচে অনেক কিছু থাকে। তারা মানুষের পা ধরে টেনে নিয়ে যায়। এরপর মেরে ফেলে। আপনিও পা ফেলুন। ”
সাফি ঠোঁট চেপে হাঁসে,,
” আমার পা ধরে টেনে নিয়ে গেলে তাহলে তো তোমার ভালো হয়। তোমার জীবনে দেখা সব থেকে কঠোর মানুষের আজীবনের জন্য বিদায় হয়। বিষয়টি ভালো হয় না। ”
এমন কথায় আরহির বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। সে কেন চাইবে এমনটা। কেন জানি এ কথা আরহির বুকে তীব্র ভাবে আঘাত করে। করুন দৃষ্টিতে তাকায় সাফির দিকে তাকায়,,
” এসব মজা নয় সত্যি। আপনি পা তুলুন। প্লিজ ”
আরহির এমন করুন দৃষ্টি দেখে আর কথা বাড়ালো না সাফি। নিজের পা তুলে নিলো। আরহির মুখে ফুটে উঠে হাঁসি। সব সময় সে তার কথা শুনে আজ মানুষটি তার কথা শুনেছে। সাফি আরহির দিকে তাকিয়ে বলে,,
” খুশি। ”
আরহি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে বলে,,
” হুম। ”
চলবে______

