প্রেমের ঘাটের মাঝি #অন্তিম পর্ব(প্রথমাংশ) #লেখনিতে খুশবু আকতার

0
167

#প্রেমের ঘাটের মাঝি
#অন্তিম পর্ব(প্রথমাংশ)
#লেখনিতে খুশবু আকতার

নদী পার হতে হবে তাই নৌকার জন্য দাঁড়িয়ে আছে সুজন আর রুমি।সুজনের কথা মতন আজকেই খুব তাড়াহুড়োর মাঝে ওদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।কোন অনুষ্ঠান,কোন অতিথি আগমণ,কোন এলাহি খাওয়া দাওয়া কিচ্ছুর আয়োজন করা হয়নি।শুধুমাত্র কাজী ডেকে বাড়ির সদস্যদের নিয়ে বিয়েটা হয়েছে।সেজন্য রুমির গায়েও তেমন কোন বিশেষ সাজ-পোশাক নেই।একটা তাঁতের শাড়ি পড়েছে।গারো বেগুনি রঙের।মাথায় তার ঘোমটা দেওয়া।ঠোঁট জুরে সে কি এক প্রশান্তি,তৃপ্তির হাসি।গায়ে কোন সাজ-সরঞ্জাম নেই তবুও কেন যেন দেখে নববধূর মতন লাগছে।বেশ অনেকক্ষণ হলে ওরা দাঁড়িয়ে আছে।কিছুক্ষণের মাঝে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।এই সময় নৌকা পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে।সেজন্য বোধহয় এত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক পর্যায়ে সুজন হালকা বিরক্তিকর গলায় বলল,

“আজ না জানি আবার এই গ্রামেই থেকে যেতে হয় আমাদের রুমি!”

“যদি দরকার পড়ে থেকে যাব।তোমায় তো আর তালুকদার বাড়িতে থাকতে হচ্ছে না,আমাদের বাড়িতে থাকবে।”

“এই গ্রামেই আমি থাকতে চাই না।এই কয়টা ঘন্টায় ভীষণ দম বন্ধ লাগছিল।”

“সুজন মিয়া না?”

পরিচিত কারো কণ্ঠস্বর কানে যেতেই সুজন চমকে পিছন ফিরে তাকালো।হ্যাঁ সেই কাঙ্খিত মুখ দুটোই দেখতে পেল।জবা আর মতিউর।মতিউর জবার হাত ধরে হাঁটছে।সুজন বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল।কতদিন পর দেখলো সেসবই ভাবলো।
মতিউর জবা কে নিয়ে এগিয়ে এসে বলল,

“কতদিন পর তোমায় দেখলাম!তা এই গ্রামে হঠাৎ?”

সুজন আলতো হেসে বলল,

“আপনার অনেক বড় একটা ইচ্ছে আজ পূরণ করলাম মতিউর সাহেব।আপনি কি করছেন এখানে?আপনারাও তো এই গ্রামে তেমন একটা আসেন না।”

“জবা আব্বা-আম্মার কবর দেখতে চাইছিল তাই নিয়ে এসেছিলাম।তুমি আমার কি ইচ্ছে পূরণ করলে শুনি?”

সুজন নিজের পাশে দাঁড়ানো রুমি কে ইশারা করে বলল,

“নববধূকে নিয়ে শহরে ফিরছি।আমার বিয়ে নিয়ে তো আপনার অনেক আগ্রহ ছিল।আপনি খুব করে চাইতেন যেন আমি বিয়েটা করি নেই।করে নিলাম আজ বিয়ে।”

বিস্ময়ে মতিউর আর জবা দুজনেরই মুখ হা হয়ে গেল।মতিউর অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“তুমি সত্যি বিয়ে করেছো?”

“কেন বিশ্বাস হয় না?ওকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।এই তো ঘন্টাখানেক হলো বিয়ে হয়েছে আমাদের।”

“তুমি তো আচ্ছা লোক মিয়া।বিয়ে করলে,না কোন সংবাদ দিলে,না দাওয়াত দিলে।তুমি যে এতটা কিপটে সেটা তো জানতাম না।”

“কিপটে না।আসলে সবটা হঠাৎ করে হয়ে গেছে।আমি যে বিয়ে করবো সেটা আমি নিজেই জানতাম না।চিন্তা করবেন না একদিন দাওয়াত দেবো আপনাদের।”

সুজন এবার জবার দিকে তাকালো।কি সুন্দর লাগছে দেখতে জবা কে।পরনে তার লাল টুকটুকে শাড়ি।এই লাল রংয়ে জবা কে খুব বেশি মানায়।অবশ্য এমন কোন রং,এমন কোন পোশাক বোধহয় নেই যাতে জবাকে মানায় না।সন্ধ্যার লাল আভা জবার মুখের উপর পড়তেই তার সৌন্দর্য যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে।
জবার শরীর স্বাস্থ্য আগের থেকেও ভালো হয়েছে।একটু বোধয় মোটা হয়েছে।গাল-মুখগুলো ভরা ভরা লাগছে।পুষ্প কুড়ির ন্যয় ঠোঁট দুটো এখনো গোলাপি আছে।চোখ ভরতি করে কাজল পড়েছে।

“কেমন আছো জবা?”

হঠাৎ প্রশ্ন করায় জবা একটু কেঁপে উঠলো।যেই মাত্র সুজন বলেছে যে ও বিয়ে করেছে তখন থেকেই জবা একটা ঘোরের মাঝে ছিল।বিশ্বাসই যেন করে উঠতে পারছিলো না যে সুজন বিয়ে করেছে।খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে মুখে হালকা হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“ভালো আছি।তুমি কেমন আছো?”

“এইতো চলে যাচ্ছে।”

জবা এবার সুজনের পাশে দাঁড়ানো রুমি কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুই কথা বলছিস না কেন আমার সাথে?আমায় দেখে লজ্জা পাচ্ছিস নাকি?”

রুমি লজ্জা পাচ্ছিল নাকি জবার সামনে নিজেকে সুজনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বস্তি হচ্ছিল সেটা বোঝা গেল না।একটু আগেও যে সুজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে আজও ও জবাকেই ভালোবাসে।এখনই আবার জবার সামনাসামনি হতে রুমির একটু অস্বস্তি হলো।তবে সেসব জবা কে বুঝতে দিল না।জবা খুব ভালো,রুমি চায় না নিজের ব্যবহারের দ্বারা ওকে কষ্ট দিতে।জবার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

“একদম ঠিক বলেছো আপা।সত্যি তোমাকে দেখে আজ একটু লজ্জা পাচ্ছিলাম।আর এই যে দুলাভাই আপনার কি খবর হ্যাঁ?আমার আপা এখনো বেশ শক্তিশালী আছে,এভাবে হাত ধরে হাঁটানোর কি আছে?একটুও কি বউকে ছাড়া যায় না?”

“আরে না না তেমন কোন ব্যাপার না।আসলে কি বলোতো রুমি জবা কে এভাবে হাত ধরে হাঁটানোর একটা কারণ আছে”

রুমি প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“কি কারণ?”

“মনে আছে তোমায় একদিন বলেছিলাম আমি যেদিন বাবা হবো সেদিন তুমিও খালা হবে।তো সেই সময়টা এসে গেছে।তো তোমার আপার এই সময় খেয়াল রাখতে হবে না?সেজন্য হাত ধরে হাঁটতে হচ্ছে।আমি তো পারলে ওকে কোলে নিয়ে হাঁটি কিন্তু তাতে তোমার আপার অসুবিধা হবে।”

রুমি উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,

“আরে এ তো অনেক খুশির খবর!অভিনন্দন আপনাদের দুজনকে।জুঁই জানে?”

“না।ওকে জানানো হয়নি।আমরাই তো জানলাম দুদিন হলো।”

“আচ্ছা ঠিক আছে আমি গিয়ে জানিয়ে দেবো কেমন।আর আপা শোনো এখন বেশি বেশি নিজের খেয়াল রাখবে।আর বাচ্চাটাকে বেশি দুলাভাইয়ের কাছে রাখবে না।না হলে দুলাভাইয়ের মতোই একটা খাটাস হবে।একদম তোমার মতন একটা মিষ্টি বাচ্চা বানাবে।”

জবা মাথা নাড়িয়ে আড় চোখে একবার সুজনের দিকে তাকালো ওর অভিব্যক্তি বোঝানোর জন্য।সুজনের থমকে যাওয়া মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওর মনের অবস্থা।আশেপাশের কোন কিছুই,কারো কথাই যেন ওর মস্তিষ্ক নিতে পারছে না।অনেকদিন আগে জবাকে করা সুজনের একটা প্রশ্নের কথা মনে হলো।মতিউর ওকে ছুঁয়েছিল কিনা?আজ কেন যেন সুজনের নিজের কাছে সেই প্রশ্নটা করার জন্য নিজেকে ভীষণ নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে।উচিত হয়নি সেই প্রশ্নটা করা।তবে হ্যাঁ আজ আর এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ রইল না যে সুজনের জবা কে অন্য কেউ ছুঁয়েছে।নিজের ভাবনার উপর আরো একবার ঘৃণা হলো সুজনের।এসব কি যা তা ভাবছে?সুজনের অভিব্যক্তি বুঝতে বাকি রইল না মতিউরের।তবে এখন আর এসব কথা তুলতে চায় না।

“তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে ছিলে কেন সুজন?নৌকার জন্য নাকি?”

মতিউরের কথায় সুজন ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এসে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে বলল,

“হ্যাঁ নৌকা পাচ্ছিলাম না।”

“ও আচ্ছা।কিছুক্ষণের মাঝে আমাদের নৌকা চলে আসবে।আমাদের সাথে চলো ওপাড় পর্যন্ত।এছাড়া এখন আর এখানে নৌকা পাবে বলে মনে হয় না।”

সুজন মাথা নাড়িয়ে সায় জানালা।নৌকা তে মতিউর আগে উঠে জবার হাত ধরে খুব সাবধানে নৌকায় তুলতে নিল।তবুও কাঁদার মাঝে পা ডেবে যাওয়ায় জবা পড়ে যেতে নিলে অন্য হাতটা সুজন ধরল।খুব শক্ত করে ধরেছে যেন জবার কিছু না হয়।জবা একবার মতিউরের দিকে তাকিয়ে পিছনে অন্য হাত ধরে থাকা সুজনের দিকে তাকালো।জবার জীবনে দুজন পুরুষের আগমন ঘটেছে।দুজনেই নিজের সবটা দিয়ে সব সময় জবা কে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে।দুটো মানুষের মাঝে জবা ভীষণ মিল খুঁজে পায়।দুজনেই নিঃস্বার্থভাবে শুধু জবাকে ভালোবাসে,শুধু জবাকে চায়।নিজেদের জীবনের সুখ,শান্তি,আনন্দ সব বিসর্জন দিয়ে হলেও শুধুমাত্র জবাকে চায়।

সুজন হালকে একটু ধমক দিয়ে জবা কে বলল,

“এই অবস্থায় এত দূর আসার কি দরকার ছিল?এখন যদি পড়ে যেতে কি হতো ভাবতে পারছো?আর মতিউর সাহেব আপনাকেও বলছি ওর সব জেদ কে প্রশ্রয় দেবেন না।”

সুজনের জায়গায় যদি অন্য কেউ জবার সাথে উঁচুগলায় কথা বলতো তবে মতিউর সেটা মোটেও সহ্য করতো না।তবে সুজনকে কিছু বলল না।মতিউর জানে সুজন এখনো জবাকে কতটা ভালোবাসে।এতোটুকু অধিকার তো দেওয়াই যায়।ভালোবাসার অধিকার না পেলো অন্তত শাসন করার অধিকার দেওয়াই যায়।

সুজনের হাত ধরে আর একটু ভরসা বৃদ্ধি করে জবা নৌকায় উঠলো।এবারে সুজন নিজে নৌকায় উঠে রুমি কে উঠতে সাহায্য করলো।জবা আর রুমি গিয়ে নৌকার ছইয়ের নিচে বসলো।সবাই ঠিক মতো বসার পরে মাঝি কে নৌকা ছাড়তে বলল।নদী পার হতে বেশ অনেকটা সময় লাগে।সুজন এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।ওর পাশে মতিউর বসা।

“বিয়েটা করলে কেন?”

মতিউরের প্রশ্নে সুজনের সহজ সাবলীল গলায় বলল,

“নাহলে রুমিকে বাঁচাতে পারতাম না।আজ না এলে বি/ষ খেয়ে নিতো,চিঠি পাঠিয়েছিল।”

“আজও তবে জবা ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারলে না?”

সুজনের বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।এটা সুজনের অক্ষমতা যে আজও ও জবাকে ভুলতে পারেনি,আজও জবা ব্যতীত আর কাউকে ভালোবাসতে পারেনি।তবে জানে না এই অক্ষমতা আর কতদিন নিজের মাঝে রাখতে পারবে।

“এসব কথা এখন থাক।আপনি জবার কাছে যান এখন।ওর আবার কোন অসুবিধা হচ্ছে নাকি দেখুন।”

মতিউর কথা বাড়ালো না।উঠে জবার কাছে গেল।রুমি তখন বেরিয়ে এসে সুজনের পাশে বসলো।আবদারের গলায় বলল,

“আমায় নিয়ে একদিন নৌকা ভ্রমণে বের হবে সুজন মিয়া?জানো আমার খুব শখ একদিন আমি আর তুমি দুজনে একা রাতে এই নদীতে নৌকা নিয়ে বের হব।তুমি হবে সেই নৌকার মাঝি।তুমি নৌকা নিয়ে আমার জন্য ঘাটে অপেক্ষা করবে।আমি তোমার ভালোবাসায় ছুটে আসব আর তুমি আমায় ভালোবেসে অপেক্ষা করবে।আর আমি তোমার নাম দেবো তখন প্রেমের ঘাটের মাঝি।”

সুজন কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে রুমির দিকে তাকিয়ে রইল।ওদিকে ছউয়ের মাঝে বসা মতিউর সেই তখন থেকে জবার দিকে তাকিয়ে আছে।চোখের পলকটুকু ফেলার যেন ফুরসৎ মিলছে না।আর জবা আড় চোখে সুজন কে দেখছে।রুমির দৃষ্টি তখন জবার উপরে।চারজনের দৃষ্টিতে যেন কত না বলা কথা আজও লুকিয়ে আছে।

সুজন রুমির কথার কোন উত্তর দিতে পারল না।রুমিও ভেবেছিল যে ওর এই কথার কোন উত্তর সে পাবে না।এই আবদার হয়তো তার কখনো পূরণ হবে না।মনে মনে আওড়ালো,

“আমি জানি সুজন মিয়া তুমি আমার জন্য কখনোই প্রেমের ঘাটের মাঝি হয়ে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করবে না।চিন্তা করোনা এই নিয়ে আমি কখনো অভিযোগও করবো না।তোমার দৃষ্টি তে যেই থাকুক,তোমার হৃদয় যেই থাকুক তোমার ঘরে তোমার স্ত্রী হিসেবে যে আমি থাকবো এটাই আমার জন্য অনেক।”

সুজনের দৃষ্টি পড়লো এবারে জবার দিকে।জবা সুজনকে তাকাতে দেখেই নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল।

“আজ আমিও জীবনে এগিয়ে গেলাম জবা।তুমি এগিয়ে গেছো অনেক দিন আগে।আড় চোখে আর দেখো না কখনো আমায়।ওই চোখ দুটো যে আজও আমাকে খুব জ্বা/লায়।আমি আর মায়ায় পড়তে চাইনা ওই চোখ দুটোর।আমি সারা জীবন চাইবো তুমি যেন সুখে থাকো।আমার জন্য দোয়া করো যেন আমি রুমি কে ভালো রাখতে পারি।তবে একটা কথা জানো তো একটা আফসোস আমার থেকেই গেল।না আমি ইহকালে তোমার সাথে থাকতে পারলাম,আর না পরকালে তোমার সাথে থাকতে পারবো।”

কথাগুলো মনে মনেই বলল সুজন।মুখে বলার ইচ্ছা আর নেই,বলা সাজেও না এখন।মতিউর জবার চোখে অশ্রু দেখলো।তবে আজ বিচলিত হলো না।মতিউর জানে আর কখনো জবা কে কাঁদতে হবে না।জবার চোখের জল টুকু মুছে দিল।

জবা মতিউরকে কিছু বলতে চাইলো তবে কেন যেন বলতে পারলো না।না বলা কথাটুকু মনের মাঝেই চাপা পড়ে গেল।

“সুজন খুব কষ্ট পেয়েছে আমি জানি মতিউর সাহেব।আমি জানি ও এখনো এটা সহ্য করতে পারছে না যে আমায় আপনি ছুঁয়েছেন।তবে কখনো আমায় ভুল বুঝবেন না।আপনি আমায় স্পর্শ করেছেন এতে আমার কোন আফসোস নেই।আর আমার এই চোখের জল কেবলমাত্র সুজন কষ্ট পাচ্ছে সেই জন্য।ও আমার জন্য কষ্ট পাচ্ছে সেই জন্য এই চোখের জল।দ্বিতীয় কোন কারণ নেই।”

জবার মনে মনে আওড়ানো কথাগুলো যেন মতিউর বুঝল।জবার চোখের ভাষা যেন পড়তে পারলো।সবাই নিজেদের মনের কথাগুলো মনের মাঝে রাখলেও মতিউর রাখতে পারল না।জবার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

“কিচ্ছু বলতে হবে না আমায়।আমি জানি তুমি কেমন।”

পাড়ে এসে নৌকা থামল।একে একে সবাই নৌকা থেকে নেমে পড়ল।জবা আর মতিউরের গন্তব্য আলাদা আর সুজন-রুমির গন্তব্য আলাদা।
বিদায়ের আগে সুজন জবার মাথায় স্নেহের হাত রেখে মুচকি হেসে বলল,

“দোয়া করি খুব সুখী হও তুমি।নিজের আর নিজের বাচ্চার খেয়াল রেখো।আর মতিউর সাহেবের কথার অবাধ্যতা করো না।এই কয়েকটা মাস এসব আজেবাজে জেদ করো না।যে আসছে সে তোমাদের খুব আদরের হবে আমি জানি জবা।তবে একটা কথা মনে রেখো সে আমারও ভীষণ আদরের হবে।আমিও তাকে খুব ভালোবাসবো।আমায় একটু তাকে আদর করতে দিও কেমন!”

জবার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো।ডুকরে কাঁদতে ইচ্ছে করলো তবে না এখন কাঁদলে চলবে না।সামনে রুমি আছে।মেয়েটা কি ভাববে?কষ্ট পাবে তো।আজকে কেবল বিয়ে হলো।আলতো হেসে বলল,

“নিশ্চয়ই।ও জানবে ওর বাবা মা ছাড়াও ওকে খুব ভালোবাসার আরো একজন মানুষ আছে।ওকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার আরেকজন মানুষ আছে এই পৃথিবীতে।”

সুজন মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে মতিউর কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ওদের দুজনের খেয়াল রাখবেন সাথে নিজেরও।মনে রাখবেন আপনি ঠিক থাকলে ওদের দুজনের কোন অসুবিধা হবে না।ভালো থাকবেন এবং ভালো রাখবেন।”

মতিউর আলতো হেসে বলল,

“তুমিও ভালো থেকো।যতটা ভালো থাকলে কেউ একজন ভালো থাকবে ঠিক ততটাই ভালো থেকো।”

চলমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here