প্রেমের ঘাটের মাঝি #পর্ব ৬ #লেখনিতে খুশবু আকতার

0
148

#প্রেমের ঘাটের মাঝি
#পর্ব ৬
#লেখনিতে খুশবু আকতার

আজ জবার নিজের শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু নাদিম মতিউরকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করে গেছে যেন ওর বোনের বিয়েতে অবশ্যই যায়।জলিল তালুকদারও নিজের মেয়ে জামাইকে একদিন থেকেই যেতে দিতে রাজি নন।তাই বাধ্য হয়ে শেষে মতিউরকে রাজি হতে হলো থাকার জন্য।সকালে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ির পুরুষরা যে যার মতন কাজে বেরিয়ে পড়ল।মতিউর গেলো জামশেদ এর সাথে বাজারে।উঠোন তখন ফাঁকাই বলা চলে।জবা গেল ওর বড় ভাবি মুক্তার ঘরে।মুক্তা তখন নিজের দুই ছেলে মেয়েকে খাওয়াতে ব্যস্ত।দরজায় দাঁড়িয়ে জবা একবার ভেতরে আসার অনুমতি চাইলো।ওকে দেখতেই মুক্তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

“আমার ঘরে আসবার জন্যে তোমার আবার অনুমতি নেয়া লাগে নাকি?আইসো।”

মুক্তা বরাবরই এমন আন্তরিক।আর ওর এই আন্তরিক স্বভাবের জন্য জবা আর জুঁইয়ের কাছে একটু বেশি প্রিয়।বাকি দুই ভাবিও যে খারাপ সেটা বলা চলে না তবে তাদের মিল বড় ভাবির সাথে একটু বেশি কারণ সম্পর্কটা তার সাথে বেশি দিনের।যবে থেকে বিয়ে হয়ে এসেছে একটা দিনের জন্যও জবা কিংবা জুঁইয়ের সাথে খারাপ আচরণ করেনি।গ্রামের মানুষের মুখে সবসময় শুনে এসেছে ননদ ভাবির সম্পর্ক নাকি বড্ড ঝামেলার হয়।সংসারে সারাদিন অশান্তি লেগেই থাকে অথচ ওদের বাড়িতে সম্পূর্ণ বিপরীত।
জবা ঘরের ভেতরে যেতেই মুক্তা ওকে বিছানায় বসতে ইশারা করলো।আলতো হেসে বলল,

“তুমি একটু বইসো।আমি হাতটা ধুঁইয়া আসতাছি।”

মুক্তা গেল হাত ধুঁতে।জবা নিজের ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের এই সুযোগে একটু আদর করলো।কিছুক্ষণ পর দুজনেই খেলতে চলে গেল।মুক্তা শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ঘরে প্রবেশ করে হাস্যজ্জ্বল মুখে জবাকে বলল,

“তা ননদিনী নতুন সংসার কেমন কাটতাছে?আমাদের জামাইবাবু কিন্তু খুব ভালো মানুষ।নিশ্চয়ই খুব ভালোবাসে তোমারে তাই না?”

কথাটা বলে মুক্তা ঠোঁট টিপে হাসলো।এই কথার মানেটা জবা ধরতে পারলো তবে এই মুহূর্তে ওর মাঝে হাসার কোন ইচ্ছে দেখা গেল না।অবশ্য এই মুহূর্তে কেন গত কয়েকদিন হলো জবা হাসির ইচ্ছেই হারিয়ে ফেলেছে। আদৌ কখনো আর মন খুলে হাসতে পারবে কিনা সেটা তার জানা নেই।জবা আবার নাটক করতে পারে না।বড্ড নরম মনের মেয়ে তো তাই নিজের কষ্ট গুলো লুকিয়েও রাখতে পারে না।সেজন্যই তো নিজের বিয়েতেও বাবা ভাইদের এত বকা খাওয়ার পরেও একটু হাসার নাটক করতে পারেনি।তার নরম মনটা ধুকেধুকে তাকে সর্বক্ষণ কাঁদিয়েছে।তবে সবাই সেই কান্নাকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে।মেয়ে মানুষ বিয়ের সময় একটু কাঁদবে এটাই তো স্বাভাবিক।এটাকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কোন মানেই হয় না।কেউ আর তাই আলাদা করে গুরুত্ব দেয়নি তাই আর কোন সমস্যাও হয়নি।জবা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মুক্তার দিকে।জবার এমন দৃষ্টিতে মুক্তা একটু বিভ্রান্ত হলো।তবে নিজের বিভ্রান্তি টুকু জবাকে বুঝতে দিল না।কাঠের মিটসেফের এক পাল্লা খুলে একটা কাচের বয়াম বের করল।সেটা হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে বিছানায় জবার পাশে বসে বলল,

“গুড়ের জিলাপি আছে।তুমি তো ভালোবাসো।লও খাও।”

জিলাপি এগিয়ে দিতে ধরলে জবা বাঁধা দিল।দৃষ্টি তার বড়ই নির্জীব।কেন যেন জবার সে দৃষ্টি দেখে মুক্তা একটু ঘাবড়াচ্ছে।
অনাকাঙ্খিতভাবে তার ভয় হচ্ছে।জবা মুক্তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

“মণি কে তুমি খুব ভালোবাসো তাই না বড় ভাবি?”

জবার এমন প্রশ্নে মুক্তা একটু অবাক হল।তবে কথা না বাড়িয়ে জবার প্রশ্নের উত্তর দিল।

“ছোট বইনরে কেডা ভালোবাসে না?ওরে কোলে পিঠে কইরা মানুষ করছি।ভালো তো বাসিই।”

“তুমি তো বলতে আমি আর জুঁইও নাকি তোমার কাছে মণির মতনই।আমাদেরও তাহলে তুমি নিশ্চয়ই অনেক ভালোবাসা,তাই না?”

মুক্তা জবার গালে আদুরে হাত রেখে বলল,

“হ।বিয়ে হওনের পরে এই বাড়িত আইসা তোমরা দুই বইনে আমারে মেলা ভালোবাসছো।আমার মণির অভাব পূরণ কইরা দিছো।এই কথা শুনলে হয়তো কেউ বিশ্বাস করবো না কিন্তু এইডাই সত্যি যে আমি আমার দুইডা ননদরে আমার বইনের মতনই ভালোবাসি।”

জবা হাসলো।জবার সে হাসির মাঝে মুক্তা তাচ্ছিল্যতা দেখতে পেল।বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠলো।জড়ানো গলায় বলল,

“হাসতাছো ক্যান?”

“র/ক্তে/র সম্পর্কের ব্যাপারটাই আলাদা তাই না?র/ক্তে/র একটা আলাদা টানই থাকে।তুমি যতই কাউকে নিজের বোন বানাও না কেন বড় ভাবি নিজের বোনের মতন তাকে কখনোই ভালোবাসতে পারবে না।ঠিক যেমন আমাকে পারোনি।”

মুক্তা চমকে উঠলো।সংকিত গলায় বলল,

“এইসব কি কইতাছো জবা?আমি তোমারে আর জুঁই রে সব সময় মণির নজরেই দেখছি।”

“তাই নাকি?তাহলে আমাকে আর সুজনকে এত বড় একটা মিথ্যে কথা কেন বললে?তোমার জন্য আমার আর সুজনের সংসার করা হলো না বড় ভাবি।আমরা দুজনে চাইলে তো তোমাদের কারো কথা না ভেবে পালিয়ে যেতে পারতাম বলো?আমরা তোমাদের জন্য নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিলাম আর তুমি কিনা আমাদের সাথে স্বার্থপরের মতন আচরণ করলে।”

শেষের দিকে জবার কন্ঠ কাঁপলো।চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো।মুক্তা তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল।দরজার ছিটকিনি আটকে দিয়ে সোজা এসে জবার পায়ের কাছে বসলো।ইতোমধ্যে তার গাল দিয়েও জল গড়িয়ে পড়েছে।জবার দুই হাত নিজের হাতের মাঝে নিয়ে অপরাধী গলায় বলল,

“আমারে মাফ কইরা দাও জবা।কিন্তু বিশ্বাস করো বইন আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না।তুমি তো তোমার ভাইরে চেনো কও?সে আমারে তালাক দেওনের হুমকি দিছিলো।সে যদি আমারে তালাক দিতো তাইলে আমি আমার দুইডা ব্যাটা-বেটি নিয়া কই যাইতাম কও?আমার তো গলায় দড়ি দেওন ছাড়া আর কোন উপায় থাকতো না তহন।”

“আর যদি আমি গলায় দড়ি দিতাম?”

মুক্তা আৎকে উঠে বলল,

“এইসব কি কও?এমন করে না জবা।জামাই মেলা ভালো মানুষ।আমার ভাইয়ের সাথে বিয়া হইলে তোমরা ভালো থাকতে পারতা না।তোমার ভাই বাঁচতে দিতো না ওরে।”

“সেজন্যই তো তোমাদের সবার থেকে দূরে চলে যেতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তুমি হতে দিলে না বড় ভাবি।জানো মতিউর আমায় কি বলেছে?যদি উনি সময় মত আমার আর সুজনের সম্পর্কের কথাটা জানতে পারতেন তাহলে উনি আমাদের এক করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন।তোমার জন্য আমার সাধের সংসারের স্বপ্ন পূরণ হলো না বড় ভাবি।আর এর জন্য আমি তোমায় কোনদিনও ক্ষমা করতে পারব না।”

কথাগুলো জবা একপ্রকার চেঁচিয়ে বলল।মুক্তা ধপ করে মাটির উপরে বসে পড়ল।কিছুক্ষণ অসহায় দৃষ্টিতে জবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বলল,

“দ্যাখছো জবা দিনশেষে সব্বাই স্বার্থপর।তুমি একটা বারের জন্যেও তোমার ভাইয়ের দোষটা দেখলা না।তুমি তোমার ভাইরে এই কথাগুলো কইতেও পারবা না।তুমি জানো আমারে কইলে আমি কিছু করতে পারুম না হের লাইগা তুমি আমার সাথে এমন করতাছো।তোমার ভাইও জানত যে আমি আমার সংসার বাঁচানের লাইগা সব করুম সেজন্য সেও আমারে তালাকের ভয় দেখাইছে।সবাই অবিচার করলো আমার লগে আর দিন শেষে সব দোষও আমার।”

জবা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চোখ দুটো মুছে নিয়ে কঠিন গলায় বলল,

“তোমার দোষ একটাই বড় ভাবি,তুমি মতিউরের ব্যাপারে আমায় আর সুজনকে মিথ্যে বলেছো।তোমার একটা সত্যি অনেকগুলো মানুষের সারা জীবন বদলে দিত।তুমি নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে গিয়ে আমার,সুজন আর মতিউর,তিনজনেরই জীবন শেষ করে দিয়েছো।না আমি আর সুজন কখনো একে অপরকে ভুলতে পারবো আর না আমি মতিউর কে কখনো ভালোবাসতে পারব।আর রইল কথা আমার ভাইয়ের তবে বলব তাকে আমি মানুষ হিসেবেই গণ্য করি না।আমি মনে করি সে আমার ঘৃণারও যোগ্য না।”

কথাটা বলে জবা সেখান থেকে চলে গেল।মুক্তা অসহায় দৃষ্টিতে ওর যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল।সবার আড়ালে শাড়ির আঁচলে চোখের জল মুছে নিল।কত স্বপ্ন নিয়ে এ বাড়িতে পা রেখেছিল।তার বাপের বাড়িতে তিন বেলা পেট ভরে খাবার পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার।যখন শুনলো গ্রামের মাতব্বরের ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তখন একটা কথাই মনে হয়েছিল তিন বেলা পেট ভরে অন্তত খেতে তো পারবে।তারপরে যখন প্রথম জামশেদকে দেখলো মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিল।পেট ভরে খাওয়ার সাথে আরো একটা নতুন স্বপ্ন যোগ হলো।ওই মানুষটার সাথে সুখের সংসার করবে।কিন্তু বিয়ে হয়ে আসার পর ধীরে ধীরে বুঝতে পারলো মানুষটা দেখতে যতটা সুন্দর তার আচরণ ঠিক ততটাই ঘৃণিত।শুরুর দিকে মুক্তা প্রচুর কাঁদতো তবে এখন তার চোখের জল শুকিয়েছে।কেউ না জানুক কিন্তু মুক্তা জামশেদকে খুব ভালো করেই চেনে।ওই মানুষটার নৃশংসতা ঠিক কত দূর যেতে পারে সেটা তার আন্দাজে এসেছে বিয়ের এতগুলো বছরে।সুজন জবাকে নিয়ে কতদূরই বা পালাতো?জামশেদ ঠিকই ওদের খুঁজে বের করত।আর একবার যদি খুঁজে পেত তাহলে সুজনের যে হাল করতো সেটা ভাবলেই মুক্তার বুক কেঁপে ওঠে।মুক্তা তো তৈরি হওয়া সংসারটা ভাঙতো তখন,কিন্তু জবার তো সংসার ভাঙ্গে নি।বরং মতিউরের মতন একজন ভালো জীবনসঙ্গী পেয়েছে।তবে দিনশেষে একটাই কথা থেকে যায়,জবা যাকে চেয়েছিলো তাকে পায় নি। সেজন্যই বোধহয় এত অভিমান।

_______
উঠোনে রাগ আর চিন্তিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জুঁই।ওর পাশে দাঁড়িয়ে জবা একটু পর পর কি সব বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।মতিউর আড় চোখে একবার দুই বোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।একটা বিষয় মতিউরকে ভীষণ অবাক করলো।জবা আর সুজনের ভালোবাসার পরিণতি দেখার পরেও কি জুঁইয়ের একটুও ভয় করলো না?যেখানে সুজনের সাথে সম্পর্কটা মেনে নেয়নি সেখানে জহিরের সাথে জুঁইয়ের সম্পর্কটা মেনে নেবে এটা অসম্ভব।তার থেকেও বড় কথা জুঁইয়ের মতন শিক্ষিত,দেখতে সুন্দর একটা মেয়ে জহিরকে কি করে ভালোবাসলো?এই প্রশ্নটা থেকেই মতিউর আরও একবার গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারলো যে ভালোবাসায় সব সময় সৌন্দর্য জিনিসটা বড় হয়ে দাঁড়ায় না।কার চোখে যে কাকে ভালো লাগে সেটা বোঝা বড় মুশকিল।কে কার কোন বিশেষ গুণে আকৃষ্ট হয়ে তাকে ভালোবেসে ফেলে সেটাও বোঝা মুশকিল।এই যেমন মতিউর জবার কান্না দেখে ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।এই কথা যে শুনবে সেই হয়তো হেসে ফেলবে।ব্যঙ্গ করে বলবে কান্না দেখে আবার কাউকে ভালোবাসা যায় নাকি?মতিউর তখন দুচোখ বন্ধ করে জবার সেই কান্না মাখা মুখশ্রীটা আরেকবার মনে করে আনমনে হেসে বলবে তাকে,

“যদি সেই মানুষটা জবা হয় তবে অবশ্যই তার কান্না দেখে তাকে ভালোবাসা যায়।”

মতিউরের এসব ভাবনার মাঝে জাফর আর জামশেদের কণ্ঠস্বরে তার ধ্যান ভাঙলো।ভীষণ বিরক্ত হলো সে।কি সুন্দর কল্পনায় জবা এসে ধরা দিয়েছিল।মতিউর একটা বিষয় খেয়াল করেছে এই বাড়ির পুরুষেরা অকারণে অধিক চেঁচায়।একটা ছোট ঘটনাকে তারা পাহাড় সমান করতে অভ্যস্ত।তারা যা বুঝবে সেটাই সঠিক,কারো সাধ্য নেই তাদের সে ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করার।বাড়ির মেয়েদের তো আরোই না।একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে জামশেদকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“এত উত্তেজিত কেন হচ্ছো জামশেদ?হ্যাঁ মানছি জহির শুধুমাত্র তোমাদের জন্যই কাজ করে তাই বলে কি ওর ব্যক্তিগত কোন জীবন থাকতে পারে না?হয়তো ওরও কোন দরকারি কাজ আছে সেখানে গেছে।”

“ওর আবার কি দরকারি কাজ থাকবে?এমন তো না যে কোন চাকরি বাকরি করে সেখান থেকে হঠাৎ করে ডাক পড়েছে।আমাদের টাকায় খায় তার আবার আলাদা করে কি কাজ থাকবে?”

“মানছি তোমাদের টাকায় খায়,কিন্তু সেটা তো বিনামূল্যে না।এই যে সারাদিন গাধার মতন খাটা-খাটনি করাও,আবার ওর সাথে গাধাদের মতনই আচরণ করো।মানে আমি বলতে চাইছিলাম যে দিনরাত কিচ্ছু মানো না যখন তখন ওকে যে সে কাজের জন্য ডাকো। এসবের বদলে খেতে দেবে,টাকা দেবে এটাই তো স্বাভাবিক।বিনামূল্যে তো আর কেউ এসব করবে না,তাই না?”

জামশেদ কিছুটা সময় শান্ত দৃষ্টিতে মতিউরের দিকে তাকিয়ে থাকলো।জামশেদের সেই দৃষ্টির মানে মতিউর বেশ ভালো করেই বুঝতে পারলো যে ওর ইচ্ছা করছে মতিউরকে আচ্ছা মত কথা শোনাতে।তবে মতিউর এই বাড়ির জামাই,এর জন্য কিছু বলতে পারছে না।ব্যাপারটাকে বেশ উপভোগ করল মতিউর।জামাই হওয়ার যে এত সুযোগ-সুবিধা সেটা তার আগে জানা ছিল না।না হলে আরো কয়েক বছর আগেই বিয়েটা সেরে ফেলতো।অবশ্য তখন তাহলে জবা কে পাওয়া হতো না।তাহলে এখন বিয়ে করাটাই ঠিক আছে।
বেশ কিছুটা সময় সবাই চুপ থাকলো।নীরবতা ভেঙে এবার জাফর জামশেদকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ভাইজান,জহিরের পাখনা ছাটাই করতে হবে।খোঁজ নিতে হবে যে আবার অন্য কোথাও কাজ শুরু করলো নাকি।আর আজ ফিরলে আপনি কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা অবশ্যই করবেন।”

জামশেদ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,

“তা তো অবশ্যই।ওকে কালকে বলে রেখেছি যে এই সময় নদীর ওপার যেতে হবে।তার পরেও কোন সাহসে নৌকা নিয়ে ওইপার একা একাই চলে গেছে।”

“আজকাল হুট হাট ওর খবর পাইনা।দেখো হয়তো কোন মেয়ের চক্করে পড়লো।”

মতিউর মনে মনে ঠিক করেছিল যে সে এবারে আর কোন কথা বলবে না কিন্তু তার জিব নিশপিশ করছে কিছু বলার জন্য।অবশেষে চুপ করে থাকতে না পেরে জাফরকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“জাফর তুমি ভাই আবার আ/গুনে ঘি ঢালার কাজ করছ কেন?আর কি পাখনা ছাটবে? জহির কি কোন পাখি নাকি?আর মেয়ে ঘটিত যদি কোন চক্কর হয়েই থাকে তাহলে সমস্যা কি?ও তো পুরুষ মানুষ বিয়ে তো একসময় করতে হবে। নাকি সারা জীবন তোমরা ওকে দিয়ে শুধু নৌকাই চালিয়ে নেবে?ঘর সংসার কিছু করতে দেবে না?”

জাফর কিছু বলল না।মতিউরের সাথে তর্কে যে সে পেরে উঠবে না সেটা এতক্ষণে বুঝে গিয়েছে।জামশেদ জোরপূর্বক মুখে হাসি এনে বলল,

“আপাতত এসব কথা থাক মতিউর।তুমি বরং ঘরে গিয়ে আরাম করো অযথা রোদের মধ্যে বসে আছো,কষ্ট হচ্ছে তো!”

“না জামশেদ,একটুও কষ্ট হচ্ছে না আমার। এমনিতেই শ্বশুর বাড়িতে এসে তোমাদের সবার আদর যত্নে আমার শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।সেজন্য তো বাইরে একটু সিনেমা দেখতে বসলাম।এখন জহির আসবে তোমরা পুলিশের মত জিজ্ঞাসাবাদ চালাবে তারপর আমার লাঠিয়াল দের মত হয়তো পিটবে।এইসব ছেড়ে কি আর ঘরে আরাম করা যায়?”

জামশেদের মতন মানুষও হার মেনে নিলো মতিউরের কাছে।এদিকে মতিউরের শেষের কথাগুলো শুনে জুঁইয়ের আত্মা কেঁপে উঠল।আতঙ্কিত গলায় জবাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপা ওরা কি জহির কে মা/রবে?”

জবা সান্ত্বনা দিয়ে বলল,

“চিন্তা করিস না কিচ্ছু হবে না।কিন্তু জহির ভাই গেছে কোথায়?”

“সেটা তো আমিও জানি না।পা/গলটা যে কোথায় গেল কে জানে।”

দূরে বসা মতিউর জুঁইয়ের চিন্তিত মুখটা দেখে এগিয়ে এলো।মতিউরকে আসতে দেখে জবা একটু জড়োসড় হয়ে দাঁড়ালো।ঘোমটা টা আরেকটু টেনে নিল।মতিউর হাস্যজ্জ্বল মুখে জুঁইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তা জুঁই,তোমার জহির কোথায় গিয়েছে?”

“আস্তে কথা বলুন দুলাভাই।”

“কেন জোরে বললে কি হবে?তুমিতো সাহসী মেয়ে।”

“আমি সাহসী সেটা ঠিক আছে তবে ভাইজানদের সাথে পেরে উঠবো না।”

“আমি আছি তো।তোমার ভাইজানরা একা, আর তোমার সাহসের সাথে আছে আমার ক্ষমতা।বেশি বাড়াবাড়ি করলে একদম মা/রামা/রি লাগিয়ে দেবো। তাহলে কোন দিকটা বেশি শক্তিশালী হলো বলোতো?”

জবা প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আপনার পেশা কি তবে মাস্তানি করা?”

মতিউর বিষ্ময়ভরা কন্ঠে বলল,

“মা/রামা/রির কথা শুনে তবে তোমার মুখে বুলি ফুটেছে জবা।ভয় পেয়ো না তোমার স্বামী মাস্তান না।প্রয়োজনে একটু মাস্তানদের ভাড়া করতে হয় এই আর কি।”

“এখানে এসবের প্রয়োজন নেই।আপনার মাস্তানি আপনার বাড়িতে গিয়ে করবেন।”

“আজ বলছো প্রয়োজন নেই তবে আমার বিশ্বাস একদিন তুমি আমাকে বলবে তোমার বাড়িতে মাস্তানি করার জন্য।তবে চিন্তা করো না সেদিন তোমাকে আমি ফিরিয়ে দেবো না।তোমাকে ফেরানোর সাধ্য আমার নেই।”

এই প্রথম মতিউরের এত কথাবার্তায় জুঁই বিরক্ত হল।বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলল,

“এখন আপনার এসব কথা বন্ধ করুন তো দুলাভাই।এতই যখন ক্ষমতা আমার একটা অনুরোধ রাখতে পারবেন?”

“একবার বলেই তো দেখো।”

জুঁই অনুরোধ করে বলল,

“দয়া করে দেখবেন ওরা যেন জহিরের গায়ে হাত না তোলে।আমি জানি মুখে অনেক কথাই বলবে গালাগালি করবে কিন্তু হাতটা যেন না তোলে ওর গায়ে।”

“এতোটুকুই?”

জবা বলে উঠলো,

“আগে এতোটুকুই করে দেখান পরে না হয় বাদ বাকিটুকু বলবো।”

মতিউর হালকা হেসে বলল,

“তোমার দেখি আমার ওপর একটুও বিশ্বাস নেই জবা।সুজনকে যতটুকু বিশ্বাস করো তার থেকে না হয় অল্প একটু বিশ্বাস আমার উপরেও আনলে।দেখবে ঠকবে না।”

জবা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মতিউরের দিকে তাকিয়ে বলল,

“সুজনের জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করছেন?”

“উঁহু।তা কেন করতে যাব?সুজনের জায়গা যদি নেওয়ার চেষ্টা করি তাহলে তো তোমাকে হারাতে হবে।আমি বরং মতিউর হয়েই তোমাকে অর্জন করে তোমার জীবনে থেকে যাব।”

ওদের কথাবার্তার মাঝে হন্তদন্ত পায়ে ছুটে এলো জহির।পরনের হাফ হাতা শার্টটা ঘামে ভিজে গেছে।চোখমুখে তার উঁপচে পড়া চিন্তা আর ভয়।উঠোনে এসে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে জামশেদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“মাফ করবেন ভাইজান।ভুল হইয়া গেছে আর হইব না এমন।”

জহিরকে আসতে দেখে জুঁই ঠিকঠাক হয়ে দাঁড়ালো।মতিউর ব্যস্ত কন্ঠে বলল,

“তোমার সাথে পরে এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করছি জবা।আপাতত জহির কে বাঁচাই।”

জহিরের পিছন পিছন সুজনও এলো।সে এতক্ষণ নদীর ধারে অপেক্ষা করছিল জহিরের আসার জন্য।সুজনের থেকে খবরটা পেয়ে জহির তাড়াহুড়ো করে এসেছে।সুজন জুঁইয়ের দিকে এগিয়ে গেল।ওকে আসতে দেখে জবা সেখান থেকে চলে গেল।সুজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করার সাথে মতিউর আড় চোখে একবার জবা কেও দেখে নিল।জবাকে সেখান থেকে চলে আসতে দেখে মতিউরের ঠোঁটে সূক্ষ্ম একটা হাসির রেখা ফুটে উঠলো।সুজন জুঁইয়ের পাশে এসে দাঁড়ালো।জুঁই একটু ঝুঁকে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করল,

“জহির কোথায় গিয়েছিল সুজন ভাই?”

সুজন সবার আড়ালে পিছন দিয়ে জুঁইয়ের হাতে একটা পলিথিন ধরিয়ে দিলো।পলিথিনটা বেশ ভারী লাগলো জুঁইয়ের কাছে।পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখতে নিলে সুজন বাঁধা দিয়ে বলে উঠলো,

“তাকিয়ো না,কেউ দেখলে সমস্যা হবে।”

“কিন্তু কি আছে এটাতে?”

“ওই গ্রামের মোদাচ্ছের চাচার গাছের আম তো তোমার ভীষণ পছন্দ।তো চাচা আজ বাগানের সব আম বিক্রি করে দিচ্ছিল।তোমার জহির সেই খবর পেয়ে তোমার জন্য আম আনতে গিয়েছিল।”

জুঁই রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

“ওর আম আমি ওকেই খাওয়াবো।আমি ওকে বলেছিলাম আম আনার কথা?কে ওকে মাতব্বরি করে আনতে বলেছিল?”

“ওকে কিছু বলো না জুঁই।তোমায় ভালোবাসে জন্যই তো তোমার পছন্দের কথা মনে রেখেছে।নিজের বিপদের তোয়াক্কা করে নি।মানছি তুমি ওকে বলোনি আনতে কিন্তু তোমায় ভালোবাসে জন্যই তো এনেছে।”

“এখন তো গালিগুলো ওকেই শুনতে হবে।”

“ও কোন ব্যাপার না।প্রেমিকরা ভালোবেসে এমন হাজারটা গালি শুনতে পারে তার প্রেমিকার মুখে এক চিলতে হাসি দেখার জন্য।ওকে কিছু বলো না জুঁই।সবার ভাগ্যে থাকে না তার প্রেমিকার জন্য তার পছন্দের জিনিস গুলো এনে তাকে দেওয়ার।ওর ভালোবাসাটাকে ব্যর্থ করে দিও না কেমন?”

জুঁই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নেড়ে সায় জানালো।

জামশেদ চেয়ার থেকে উঠে জহিরের দিকে এগিয়ে গেল।চোখ মুখে তার রাগী ভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

“কোথায় গিয়েছিলি?”

“ওই গায়ের মোদাচ্ছের চাচা ডাকছিল আজ।বাগানের সব আম বেঁচলো।আসলে মানুষখান অসুস্থ তো,তারওপর সাহায্যের কোন লোকও নাই।তাই গেছিলাম।”

“তিন বেলা তোকে খাবার কি মোদাচ্ছের দেয়?বছরে দুটো করে জামা কাপড় কি তোকে মোদাচ্ছের দেয়?নাকি প্রতিদিন দুই টাকা করে তোকে মোদাচ্ছের দেয় যে তুই আমাদের কাজগুলো রেখে ওর কাজে গিয়েছিলি?”

গম্ভীর কন্ঠে কথাগুলো বলল জামশেদ।জহির কিছু বলার সাহস পেল না।ওকে চুপ করে থাকতে দেখে জামশেদ আরও বেশি রেগে গেল।খুব জোরেও না,আবার খুব আস্তেও না জহিরের গালে একটা চড় লাগালো।ব্যাপারটা জামশেদের জন্য খুবই সাধারণ।তবে এতোটুকু আঘাতে জুঁই আতকে উঠলো।নিজেকে আর সামলাতে পারল না।এগিয়ে এসে জামশেদকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“মা/রবেন না ভাইজান।ও তো বললোই আর এমন হবে না।”

জুঁই কথা বলাতে মতিউর বিরক্তিতে নাক মুখ কোঁচকালো।ও তো এবারে কথা বলতোই অযথা জুঁইকে কেন নাক গলাতে হবে?জাফর এগিয়ে এসে ধমকের সুরে জুঁইকে বলল,

“তুই এর মাঝখানে কথা বলছিস কেন?দেখছিস না বড় ভাইজান কথা বলছে?যা ভেতরে যা।”

“তো ভাইজান মা/রছে কেন জহিরকে?ওতো বললো যে আর হবে না।”

জামশেদ চোখ গরম করে জুঁইয়ের দিকে তাকালো।তবে কণ্ঠ তার শীতল।

“সব ব্যাপারে তোর এত মাতব্বরি কিন্তু আমার পছন্দ হচ্ছে না জুঁই।তোর এসব মাতব্বরি আব্বার কাছে চলতে পারে কিন্তু আমার কাছে না।ভেতরে যা।মেয়ে মানুষের এমন সব বিষয়ে নাক গলানো আমার পছন্দ না।”

“কেন মেয়েরা কি মানুষ না নাকি তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কোন অধিকার নেই?নাকি আমাদের মূর্খ পেয়েছো?আমিও এই বাড়ির মেয়ে,প্রত্যেকটা বিষয়ে আমারও কথা বলার অধিকার আছে।”

জহির বুঝলে জুঁই আর কথা বাড়ালে ব্যাপারটা খারাপের দিকে এগোবে।তাই নিজ থেকে সে জুঁইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“জুঁই তুমি ভিত্রে যাও।ভাইজান তো ঠিকই কইছে,আমি ভুল করছি।তুমি চিন্তা কইরো না আমি ভাইজানের কাছে মাফ চাইলে আমারে ক্ষমা কইরা দিব।যাও তুমি ভিত্রে যাও।”

জহিরের কথাটা শেষ হতেই জামশেদ শক্ত হাতে ওর চোয়াল চেপে ধরল।জহিরের গালে হয়তো জামশেদের আঙ্গুলের ছাপ বসে গেল তবে সে একটুও আর্তনাদ করলো না।জামশেদ দাঁত চিবিয়ে বলল,

“তোর সিদ্ধান্ত চলবে নাকি এখন এই বাড়িতে?এমন ভাবে ওর সাথে কথা বলছিস যেন তোর কথা ও খুব শুনবে?তোর বাড়াবাড়িটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না জহির?”

জুঁইকে এবারে আর আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে হলো না।মতিউর এগিয়ে গিয়ে জহিরের চোয়াল থেকে জামশেদের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল,

“গায়ে হাত তোলা অপরাধ জামশেদ।ও একটা সাধারন কথা বলেছে,তাই সেটা সাধারণ ভাবে নেওয়ারই চেষ্টা করো।এত কথা বলতে হবে না এসব নিয়ে।জহির তুমি যাও গিয়ে নৌকায় বসো,ওরা আসছে।”

জহির আর সেখানে দাঁড়ালো না,চলে গেল।জামশেদ মতিউরের দিকে শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

“শোন মতিউর তুমি এই বাড়ির জামাই তাই তোমায় সম্মান দিচ্ছি।কিন্তু এমন কোন কাজ করো না যেন তোমার সম্মানহানি ঘটাতে বাধ্য হই।”

“আরে সম্বন্ধি হুমকি দিচ্ছো আমায়?এবার কিন্তু তোমায় দেখে আমার ভয় হচ্ছে।না এবারে আমার লাঠিয়ালদের মনে হয় ডাকতেই হবে।বলা যায়না জহিরের রাগ যদি তুমি আবার আমার ওপরে দেখাও।”

জামশেদও আর সেখানে দাঁড়ালো না।দাঁত কিড়মিড় করে চলে গেল।ওর পিছন পিছন জাফরও গেল।মতিউর এবারে হালকা রাগ দেখিয়ে জুঁইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুমি কথা বলতে গেলে কেন এর মাঝে?আমি তো ছিলাম।”

জুঁই ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল,

“আপনি থাকার পরেও ভাইজান জহিরের গায়ে হাত তুলল কেন তাহলে?”

“ওটাতো আকস্মিকভাবে হয়ে গেছে।তেমন জোরে লাগেনি।আর তুমি এসেই কি আটকাতে পারলে?সেই তো আমাকেই আটকাতে হলো।”

জুঁই আর কোন কথা না বলে হেঁটে নিজের ঘরে গিয়ে দরজায় বন্ধ করে দিল।জুঁইকে চলে যেতে দেখে সুজনও চলে গেল।মতিউর নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।দরজায় জবা দাঁড়িয়ে ছিল।জবা কে দেখতে পেয়ে মতিউর আফসোসের সুরে বলল,

“দেখলে জবা,সবার ভালো করতে চেয়েও বরাবর আমি খারাপ হয়ে যাই।জুঁইও মনে হয় আজ আমার উপরে চটে গেল।”

“আমি বুঝিয়ে বলব ওকে।”

জবার এমন কথায় মতিউর বিষ্মিত হওয়ার ভান ধরে বলল,

“আমার ব্যাপারে তুমি ওকে বুঝিয়ে বলবে?বাহ্ চমৎকার।”

“বেশি খুশি হওয়ার দরকার নেই।যতটুকু দেখেছি ততটুকুই বুঝিয়ে বলবো ওকে।”

“তা কি বলবে?”

“এটাই যে আপনি মানুষটা অতটা খারাপ না।সাহায্য করেছেন।”

মতিউর মৃদু হেসে বলল,

“তোমার চোখে ভালো মানুষ হতে পেরে জীবনটা যেন আমার সার্থক হয়ে গেল জবা।”

জবা বিরক্তিকর দৃষ্টিতে একবার মতিউরের দিকে তাকিয়ে জুঁইয়ের ঘরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।মতিউর জবা যাওয়ার পরে শব্দ করে হেসে উঠলো।জবা চোখের আড়াল হতে সেও নিজেও ঘরে চলে গেল।

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here