গল্প : #লুকোচুরি_রোদ্দুর_ও_তুমি (৮)
লেখনীতে : #অহনা_রহমান
হিয়া সারা ছাঁদ জুড়ে পায়চারি করতে লাগলো। তার মাথায় আগুন ধরে গেছে। ওদের এতো ন্যাকামি ভালোই লাগছে না। মাথায় শুধু ঘুরছে কিভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যায়৷ হিয়া চঞ্চল পায়ে হাঁটাহাঁটি করছে আর মুখে বিরবির করছে। রাজের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা মাথায় আসতেই ওর মনে পরলো তুবার বলা কথা। মানে রাজের ভাইকে বিয়ে করার কথা আরকি! হিয়া দাঁড়িয়ে গেল। নাফির কথা মনে আসতেই বলল,
“এহ! রাজের জন্য ওই বোম্বল দাশকে বিয়ে করতে হবে এখন?”
মুখ ভেঙ্গিয়ে নাফিকে নকল করে বলল,
“আমি কি তোমাদের ড্রাইভার? হুহ নাটক যত্তসব! ওকে বিয়ে? যেই মেয়ে ওই গোমড়ামুখোটার ভাগ্যে আছে, ওই মেয়ের কপাল পুড়েছে।
কিন্তু.. কিন্তু..কিন্তু…কিন্তু ওই রাজের বাচ্চাকে টাইট দিতে হলে, কিছু তো একটা করতেই হবে। কি করি…কি করি…কি করি……!”
হিয়া নক কামড়ে আবারও পায়চারি শুরু করলো। তার কিছুই মাথায় আসছে না। তখনই ওর ফোন বেজে উঠলো সজোড়ে। হিয়ার হাতেই ছিলো ফোনটা। দেখলো স্ক্রিনে ‘নাঈম’ নামটা ভেসে উঠেছে। নাঈম হলো হিয়ার আরেকটা ফ্রেন্ড। বলা যায় সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড। ও নাঈমের নাম্বার দেখে একটু অবাক হলো। নাফিজ ও মারজিয়া যে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো ওর সাথে তারপরে আর কোনও ফ্রেন্ডশিপ থাকতে পারে না ওদের। যদিও ওখানে নাঈম ছিলো না। তারপরও হিয়া নাফিজ ও মারজিয়ার উপর রাগ করে নাঈমের কল ধরলো না।
তবে তাতে খুব একটা লাভও হলো না। একের পর এক কল আসতেই থাকলো। শেষে বিরক্ত হয়ে হিয়া কল রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে কোনও কথা শোনার আগেই সে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,
“বিশ্বাস তো ভেঙে দিয়েছিসই। আবার কেন কল করেছিস? আর কি চাস তোরা?”
ওপাশ থেকে নাঈমের তপ্ত শ্বাসের আওয়াজ এলো। কিছুক্ষণ পর নাঈম বলল,
“আমি এসবের কিছুই জানতাম না হিয়া। তোকে যেমন ঠকানো হয়েছে। আমাকেও ঠকানো হয়েছে হিয়া। বিশ্বাস কর, আমি কিছুই জানতাম না। তোর সাথে তো আমার ওইদিনও কথা হলো বল? আমি গ্রামে গিয়েছিলাম জানিসই তো। ”
নাঈমের কথা কেন যেন বিশ্বাস হলো না হিয়ার। আসলে একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে সহজে কাউকে বিশ্বাস করাও যায় না। হিয়া বলল,
“হ্যাঁ বিশ্বাস করলাম। এখন প্লিজ আমাকে ক্ষমা দে ভাইইই। আর কখনো ফোন দিস না। আমাদের মাঝে কোনোদিন কোনও বন্ধুত্ব ছিলোও না আর ভবিষ্যতেও থাকবে না।”
“হিয়া বিশ্বাস কর আমি সত্যি কিছু জানতাম না। ইভেন আমি আজকেই দেখলাম, রাজ ও রুহির ম্যারিড স্ট্যাটাস। আমি তো রুহি নামে কাউকে চিনিও না। তোকে কল করার আগে, মারজিয়াকে কল করেছি আমি। ও বলল, রুহি নাকি তোর কাজিন। বিশ্বাস কর আমি তো মানতেই পারছি না এসব। কিভাবে কি হলো, আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।”
নাঈমের এতো গুলো কথার প্রতিত্তোরে হিয়া কিছুই বলল না। কি বলবে ও? হিয়ার এইবারে নাঈমের কথা বিশ্বাস হলো। নাফিস ও মারজিয়ার সাথে হিয়ার বন্ধুত্ব ভার্সিটিতে উঠে। আর নাঈমের সাথে তার বন্ধুত্ব সেই হাইস্কুল জীবন থেকে। নাঈম হয়তো সত্যিই জানতো না এসব।
“হিয়া তুই ভালো আছিস তো?”
কিছুক্ষণের নীরাবতা শেষে হঠাৎই বলে উঠলো নাঈম। হিয়া এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল,
“কালকে দেখা করবি? যদি সত্যিই তুই কিছু না করিস, তাহলে একটা হেল্প লাগবে তোর।”
“কি হেল্প?”
“রিভেঞ্জ নেবো রাজ ও রুহির থেকে। তোর একটু হেল্প লাগবে এতে। সারারাত বসে ভাব কি করা যায়। কালকে আমাকে বুদ্ধি দিবি।”
নাঈম মেনে নিলো হিয়ার কথা। এরপর হিয়া কল কেটে দিলো। সে নিচে নেমেই যাবে, তার আগে ঠিক আগের দিনের মতো রাজ এলো। সাথে এলো রুহিও। ওরা দুজন সামনে দাঁড়ালো হিয়ার। রুহি হিয়াকে পিঞ্চ মেরে রাজকে বলল,
“বাবু তোমার এক্স গার্লফ্রেন্ড মেবি আমাদের দেখে জ্বলছে। ওপস স্যরি এক্স গার্লফ্রেন্ড না, তোমার শালিকা।”
রাজ রুহির গালটা একটু চেপে দিয়ে বলল,
“জ্বলবেই তো! আমার বউটা কি সুন্দর। জানো সোনা, তুমি এসেছিলে বলেই একটা ডাইনী-পিশাচিনীকে ঘাড় থেকে নামাতে পেরেছি।”
হিয়া ওদেরকে পাত্তা না দিয়ে চলে যেতে নিলো। তার আগে রুহি হাত টেনে ধরলো হিয়ার। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“তুই সারাজীবন আমার ভালোবাসায় ভাগ বসিয়েছিস হিয়া। ছোট চাচা মরে যাওয়ার পর থেকেই তোকে সকলে আদর করেছে। বিশেষ করে আমার বাবা। আমাকে যতটুকু না দিয়েছে, তারচেয়ে দ্বিগুণ দিয়েছে তোকে। কেন জানিস? তুই যাতে কষ্ট না পাস। অথচ দেখ, তোকে ভালো রাখতে গিয়ে আব্বু আমারই যত্ন নেয়নি কোনদিন। তোকে আমি সেই ছোটবেলা থেকেই ঘৃণা করি। তুই চিরকাল আমার প্রাপ্য ভালোবাসা নিয়েছিস তাই এইবার প্রতিশোধসরূপ আমিও তোরটা কেড়ে নিলাম।”
রুহির কথা শুনে হিয়া থমকে গেল। সময়ও যেন থেমে গেছে ওর সাথে। এই তাহলে আসল কারন? হ্যাঁ এটা ঠিক, হিয়াকে সবাই অনেক ভালোবাসে। বিশেষ করে হিয়ার বড়চাচ্চু অর্থাৎ রুহির বাবা। কিন্তু এমন না যে, রুহিকে নয় হিয়াকে বেশি ভালোবেসেছে। নিজের সন্তানদের সবকিছু দিয়ে যদি কিছু বাদ থাকতো সেটাই সবসময় পেয়েছে হিয়া। বাবা মরা তো! মাও তো চাচাদের সংসারে কাজ করে খায়। এইটুকু আদর যত্ন না করলে ওরা যাবেও বা কোথায়।
হিয়া একটা সাউন্ড পর্যন্ত করতে পারছে না। হিয়ার নীরাবতায় রুহি যেন আরও সুযোগ পেল। সে টিপ্পনী কেটে বলল,
“কি এভাবে কি দেখছিস? শুধু পরিবারে নয়, স্কুল কলেজে যেখানে যায় শুধু তোর সুনাম। লেখাপড়ায় ভালো, চেহারা সুন্দর, ভদ্র-নম্র! হ্যানত্যান আরও কত কি। এসব শুনতে শুনতে না হিয়া, আমার কান পঁচে গেছে। জাস্ট পঁচে গেছে। আরেকটা কথা শোন, রাজ আর আমার সম্পর্কও কিন্তু তিন বছরের। তুই যেদিন প্রথম এসে ওর কথা বলেছিস আমাকে। আমি সেদিনই ওর সাথে কথা বলেছি। বানিয়েছি তোকে ধ্বংস করার মাস্টার প্লান। তুই তো অনেক স্ট্রং বল? তাহলে পালাচ্ছিস কেন বারবার?”
রুহির কথা শেষ হলে রাজ বলল,
“আমাদের হিয়াবাবু কষ্ট পেয়েছে। কষ্টে একেবারে জবান বন্ধ হয়ে গেছে।”
হিয়া রুহির দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। এতদিন তাহলে একটা কালসাপের সাথে থেকেছে? হিয়া বুঝে গেছে, রুহি তাকে হিংসা করতো। আর তার জন্যই সে এমন ভাবে ঠকালো। হিয়া ওদেরকে কিছুই বললো না। যা বলার এখন বলে নিক ওরা। এর জবাব হিয়া সামনে দেবে। খুব শীঘ্রই দেবে।
হিয়া এইবার চলে গেলেও রাজ রুহি আর আটকালো না ওকে। আপাতত যেটুকু হয়েছে এটাই এনাফ। হিয়া চলে যাওয়ার পর ওরাও চলে গেল। এখানে এসেছিলো তো হিয়াকে কথা শোনানোর জন্য। কথা শোনানো শেষ এখন আর থেকে কাজ কি?
সবাই চলে যাওয়ার পর চিপা থেকে বের হলো নাফি। তিনজনের পুরো ঘটনা তার জানা শেষ। নাফির নাকের ডগা লাল হয়ে আছে রাগে। হাতদুটো মুঠো করা তার। সে রেগে আছে মূলত তার ভাইয়ের উপর। নাফির মা একজন কলেজের শিক্ষিকা। তিনি যেমন সৎ। সারাজীবন চেষ্টা করেছেন তার ছেলে দুটোও যেন মানুষের মতো মানুষ হয়। দুঃখের বিষয় হলো এই যে, বড় ছেলেটা মানুষ হলেও ছোটটা হয়েছে মানুষ রুপি আস্ত জানোয়ার।
নাফি রেগে ফেটে পরছে। এতক্ষণ যা সব শুনেছে, এতে এটা স্পষ্ট যে হিয়ার কোন দোষ নেই। মেয়েটা সম্পুর্ন নির্দোষ।
তখন হিয়ার সব কথায় সে শুনেছে। হিয়া যখন ওর কথা মনে করে ভেঙাচ্ছিলো তখন সে দেখেছে মেয়েটা কতটা মিষ্টি। তাকে ভেঙানোর জন্য একটুও রাগ হয়নি তার। বরং তার ভালো লেগেছে মেয়েটাকে। মেয়েটার সরলতাকে।
——
রাজ ও রুহি শুয়ে আছে। ওরা দুজন নিজেদের ফোনে ফেসবুক স্ক্রল করছে। হঠাৎ রুহির ইনবক্সে একটা মেসেজ এলো। আইডির নাম ‘বিয়ে শেষ-ব্যাগ রেডি হানিমুন.কম’ আইডির এমন অদ্ভুত নাম দেখে রুহি একটু অবাক হলো। পরক্ষণেই হেঁসে উঠলো সে। ইনবক্সে মেসেজ এসেছে এমন,
“আসসালামু আলাইকুম!”
রুহি আইডির নাম দেখে কৌতুহলী হয়ে উত্তর করলো,
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। কে বলছেন?”
ওপাশ থেকে মেসেজ এলো,
“আপা দেখলাম আপনার বিয়ে হইছে। আমাদের পেইজে একটা অফার চলছে নব দম্পত্তির জন্য। মাত্র ত্রিশ হাজার টাকায় আপনারা পেয়ে যাচ্ছেন, মালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ।”
“আপনাকে কে বলল, আমরা নতুন বিয়ে করেছি?”
“আপনার একজন শুভাকাঙ্খী বলেছে। আর সে এও বলেছে, আপনাদের নাকি লাভ ম্যারেজ।”
রুহির একটু সন্দেহ হলো। সে ইনবক্স থেকে বের হয়ে আইডির ভেতরে ঢুকলো। দেখে মনে হচ্ছে না ফেইক আইডি। কিন্তু একে ওদের কথা কে বলল??
——-
পরেরদিন সকালে নাফি চলে গেল। রাজ ও রুহি আরও দুই একদিন থাকবে। রাজ তখন বাড়িতে নেই। রুহির মামাতো-খালোতো ভাইদের সঙ্গে ঘুরতে গেছে কোথায় যেন। আর হিয়াও বাড়িতে নেই। সেও কোথায় যেন গিয়েছে। এখন বাড়ি মোটামুটি ফাঁকা।
রুহি বসে আছে নিজের ঘরে। ফোনে ঘাটাঘাটি করছে কাল রাতের ওই আইডি সম্পর্কে। হঠাৎ ওর ফোনে কল এলো। নাম্বারটা আননোন। রুহি কল রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে শুনতে পেল কারোও উদ্বিগ্ন গলার স্বর।
“কেউ আছেন? কে বলছেন?”
রুহি তৎক্ষনাৎ বুঝতে পারলো না কিছু্। সে কিছুক্ষণ পরে বলল,
“হ্যালো কে বলছেন?”
ওপাশ থেকে তখনও একই ধরনের কন্ঠ শোনা গেল।
“আপু! আপু! প্লিজ কল কাটবেন না। আগে পুরো কথাটা শুনুন।”
অপরিচিত পুরুষের এরকম কন্ঠ শুনে রুহি একটু ভরকে গেল। তবে একটু পর নিজেকে শান্ত করে বলল,
“হ্যাঁ বলুন।”
“আপু আমার নানি ভিষণ অসুস্থ। তো তার চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে আমার ছোটভাই বিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু ভুল করে আপনার নম্বরে চলে গেছে। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আপনি মেসেজ চেক করে দেখুন।”
রুহি কল হোল্ড করে দেখলো, সত্যিই একটা টাকার মেসেজ এসেছে। রুহি শান্ত স্বরে বলল,
“হ্যাঁ এসেছে।”
এইবার ওপাশের লোকটা কেঁদে ফেললো পুরোপুরি। কান্না বিজরিত গলায় বলল,
“আপা আমরা গরীব মানুষ অনেক কষ্ট করে টাকাটা ম্যানেজ করা হয়ছে। অপারেশন না হলে আমার নানি মরেই যাবে আপা। আমাদের টাকা গুলো দিয়ে দিন। আমার ভাইটা সেভেনে পড়ে, বুঝতে পারেনি ছোট মানুষ।”
রুহির খারাপ লাগলো। সে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে দিয়ে দেবো। কোন চিন্তা নেই। এই নাম্বারে দেবো?”
“হ্যাঁ আপা এই নাম্বারে। কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেছে যে।”
রুহি কপাল কুঁচকে বলল,
“কি সমস্যা? ”
ওপাশ থেকে উত্তর এলো,
“আসলে এখন মানুষ তো আর মানুষ নেই। মানুষের মধ্যে মানবতাও নেই তেমন। আপনি আপা ভালো মানুষ তাই টাকাটা ফেরত দিবেন বলেছেন। কিন্তু অনেক মানুষ আছে যারা আমার টাকাটা দিতো না। তাই আমার ভাই, আপনার একাউন্টে টাকা যাওয়ার পরই বিকাশের হেড অফিসে কল আপনার একাউন্ট টা বন্ধ করে দিয়েছে। আপনার একাউন্ট থেকে কোনও লেনদেন করা যাবে না।”
“কেন আমার একাউন্ট বন্ধ করবে কেন?”
“আপা এরজন্য আমি দুঃখীত আপা। আমার ভাইটা বুঝতে পারেনি আপা। এখন আমি বিকাশ অফিসে কথা বলছি। আপনার একাউন্ট কিভাবে ঠিক করতে হবে ওরা বলে দিবে।”
রুহি এইবার বিরক্ত হলো। সে খচ করে কল কেটে দিলো। নিজের একাউন্টে ঢুকতে চেষ্টা করলো সে। কিন্তু সত্যিই সে ঢুকতে ব্যর্থ হলো। এরপর সে নিজেই কল করলো উক্ত নম্বরে। কল রিসিভ হওয়ার সাথে সাথে বলল,
“আমার একাউন্ট ঠিক করতে হলে কি করতে হবে??”
ওপাশের অজ্ঞাত ব্যক্তি বলল,
“আমি হেড অফিসে কথা বলেছি। ওরা আপনার কাছে কল দিবে। ওরা যা বলে সেটাই করবেন। আপা আল্লাহর দোহাই লাগে, আমার টাকাটা ফেরত দিয়েন।”
রুহি মেজাজ খারাপ হলো ভিষন। কিন্তু কি আর করার! কিছুক্ষণ পর আবারও কল এলো। এইবার কল রিসিভ করতেই শুনতে পেল একটা মেয়ের কন্ঠ। তবে কেমন অদ্ভুত শোনাচ্ছে। সে যাই হোক! ওসবে খেয়াল দিলো না রুহি। আপাতত তার একাউন্ট ঠিক হলেই হলো।
ওপাশের মেয়েটার সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো রুহির। মেয়েটি তাকে বলে দিলো কি কি করতে হবে। রুহি সেই মোতাবেক কাজ করলো। শেষে মেয়েটি ওকে বলল,
“আপনার ফোনে একটা পিন গেছে। ওই পিন নম্বরটা আমাদের দিন।”
রুহি জানে পিন নম্বর কাউকে দিতে হয়না। কিন্তু এই সময়ে ওর মাথা কাজ করলো না। দোনোমোনো করতে করতে রুহি পিন নম্বর টা দিয়ে দিলো সেই মেয়েটিকে। মেয়েটি বলল,
“আপনার একাউন্ট পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তারপর যার টাকা তাকে দিয়ে দিবেন আপু। মানুষকে ঠকিয়ে কখনোই ভালো থাকা যায় না। সুখি হওয়া যায় না। একদিন তো মরতেই হবে। ওহ হ্যাঁ! যার টাকা আপনার একাউন্টে এসেছে, সে বলেছে বিশ হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা আপনি মিষ্টি খাওয়ার জন্য রেখে দিয়েন।”
রুহি গদগদ হয়ে বলল,
“না না আমার টাকা লাগবে না। রাখছি!”
কল কাটার পাঁচ মিনিট পর রুহি নিজের একাউন্টে ঢুকলো। তারপর যা দেখলো বেচারির মাথায় যেন আকাশটা ভেঙে পরলো। এই বিয়ের সময় অনেক টাকা পেয়েছে সে। সব টাকায় সে নিজের বিকাশ একাউন্টে রেখেছিলো। প্রায় ত্রুিশ হাজার টাকার মতো ছিলো। কিন্তু এখন একাউন্ট পুরো ফাঁকা। রুহি বুঝলো তাকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণে সে বুঝেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
চলবে?
~১৭০০+ শব্দ~
সবাই রেসপন্স করবেন! কাল সকালে রিচেক দেবো। ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।

