#শুভ্রফুল —২০
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো
[ কপি নিষিদ্ধ ]
” এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলেন যাননি?
” ক্যান্সেল করে দিয়েছে। ভালোই হয়েছে বাসায় থাকাটায় এখন জরুরি আমার জন্য।
শুভ্র আলোর পাশে বসতেই বাইরে থেকে আঁধারের
কথা শুনা যাচ্ছিলো। দরজার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো আঁধার আফিয়া চৌধুরীকে জোড় করে টেনে নিয়ে আসছে হাত ধরে। কিছু বলার সুযোগটা ও দিচ্ছে না সে৷ একা একাই হাজারটা কথা বলে যাচ্ছে আঁধার।
” আসো তাড়াতাড়ি আমায় সাথে। কে বা কোন পাজি আমার আপুনিকে মেরেছে। এখন তোমার পাজি ছেলে কোথা থেকে এসে আবার আপুনিকে ডিস্টার্ব করছে। ওকে তুমি মায়ের মতো শাসন করবে। নয়তো কিন্তু আমি..
” হয়েছে বাবা থাম এবার। আমি শাসন করছি তুই
মুখটা বন্ধ কর তো আগে। বোনের জন্য ভাই এতো টেনশন করতে পারে তোকে না দেখলে জানতামই না।
” আসো বলো তোমার ছেলেকে।
আলো ও শুভ্র দরজার সামনে তাকিয়ে আছে আঁধার ও আফিয়া চৌধুরীর কথা শুনছিলো তারা ৷ আফিয়া চৌধুরী রুমের ভেতর আসলো। বললো,
” কি ব্যাপার শুভ্র আঁধারের একমাত্র বোনকে তুমি
কষ্ট দিচ্ছো কেন? বিরক্ত করছো কেন? এখনি বের হও রুম থেকে ৷
” হ্যা! মামুনি তোমায় বের হতে বলেছে। অন্যরুমে যাও। আজ থেকে আমি আপুনির সাথে থাকবো আর আপুনির দেখাশোনা করবো। আমার আপুনির জন্য আমিই যথেষ্ট আর কাউকে লাগবে না।
শুভ্র মায়ের দিকে তাকাচ্ছে তো আঁধারের দিকে।
খানিকটা বিরক্তবোধ করলো। পুঁচকে ছেলেটা তার থেকে ওজনের বড় বড় কথা বলছে। আবার তার সাথে তাল মেলাচ্ছে আফিয়া চৌধুরী। তিনি শুভ্রকে বলেন,
” কথা কানে যাচ্ছে না তোমার? যাও রুম থেকে। আগে আমি যায় তারপর তুমি যেয়ো।
আফিয়া চৌধুরী চলে যান৷ ওনি থাকলে আঁধার আরো পাগলামি করবে। আলো হাসতে হাসতে শেষ দু’হাত দিয়ে মুখ ডেকে হাসছে। শুভ্রর মুখ দেখে আরো হাসি পাচ্ছে আলোর৷ শুভ্রর উঠে দাঁড়ালো। আঁধারের সামনে এসে তার হাত ধরলো,
বললো,
” অনেক অত্যাচার করেছিস ভাই আমার। এবার আমার রুম থেকে বের হো। মম ছিলো তাই কিছুই
বলতে পারিনি। এই মেয়েটা আমার বউ হয় আমার প্রোপার্টি বুঝেছিস তুই? তোর আপু পরে হয়। যা তো।
শুভ্র কোলে তুলে নিলো সাথে সাথে। একেবারে রুমের বাইরে এনে দাঁড় করিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো মুখের উপর । বেচারা আঁধার কিছুই বলার সুযোগ পেলো না।
” আঁধার ছোট্ট একটা বাচ্চা আপনি ওর সাথে এমন করছেন কেন? কষ্ট পেয়েছে তো ছেলেটা।
আলোর পাশেই শুইয়ে পড়লো শুভ্র। আলোর দিকে তাকালো সে। বললো,
” ওকে আমার ভিলেন মনে হয়। আমাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে চাইছে। তাই দূরে থাকুক ও।
” ওকে আপনার হিংসে হচ্ছে?
অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো আলো। শুভ্র আলোর হাতটা নিজের বুকের বা পাশে এনে বলে,
” হয়তো! তবে তোমার দূরে থাকার কথা শুনলে আমার এইখানটায় জ্বলে ম্যাডাম।
আলো দুষ্টুমি করে বলে উঠলো,
” উহুম! আপনার প্রেমরোগ নয় চৌধুরী সাহেব আপনার তো এসিডিটির সমস্যা, তাই বুক জ্বলে।
কথা বলতে গিয়ে ও হাসি পাচ্ছিলো আলোর হাসি অনেক কষ্টে আটঁকে রেখেছে। শুভ্র কি রিয়াকশন দিবে বুঝতেছিলো না। সে বোকার মতো তাকিয়ে রইলো আলোর দিকে। কয়েক মুহুর্তর জন্য চোখে চোখ আঁটকে গেলো দুজনার। হাসি মিলিয়ে অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে চলে গেলো আলো। আনমনে তাকিয়ে রইলো সামনের অদ্ভুত দু’টো চোখের দিকে। তাকালেই যেনো সম্মোহিত হতে বাধ্য হয় আলো। মানুষ তো বেহায়া ভাববে। লোকটা ও প্রথম হয় হয়তো এমনই ভেবেছিলো। কিন্তু, সে কি জানে এই অভ্যাসটা আজ নয়। এই বাড়িতে পা রাখার পর থেকেই। একা একা কথা বলা, নীরব দৃষ্টি বিনিময়, এই লোকটার ছবির ফ্রেমেই নিবদ্ধ ছিলো যা এখন চোখের সামনে জলজ্যান্ত লোকটার নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ। কিন্তু, কোথাও একটা কিন্তু থেকে যায়, যার কারনে কেন যেনো বাঁধা সৃষ্টি হয়। কাছে থেকে ও দূরে সরে আসার উপক্রম। চাইলেও বুকে মাথা রেখে মনের কথা বলা যায় না। চাপা আর্তনাদ গুলো হাহাকার করে কিন্তু, প্রকাশ করে হালকা হওয়া যায় না। দূরত্ব গুছিয়ে কাছা আসা নয় বরং গুছিয়ে দূরত্ব হয়।
দরজায় ফের পরপর করাঘাত করলো। আবার তা তীব্র হতে লাগলো। বিরক্ত হলো শুভ্র। আলো দৃষ্টি সরিয়ে নিলো লজ্জা পেলো খানিকটা। শুভ্র ফের ওঠে দাঁড়ায়। দরজার কাছে এসেই কিছু বলতে নিবে তার আগেই আরো কয়েকগুণ বিরক্ত হলো। হুরমুর করে ভেতরে আসলো আঁধার সাথে আসলো রাহা ও। কেবলই এসেছে সে। এসেই আলোকে দেখতে চলে আসছে। আলোর একপাশে এসে বসলো আঁধার অন্যপাশে বসলো রাহা। রাহা হাসি মুখে বলে ওঠলো,
” কেমন আছো ভাবি? আসবো আসবো ভাবছিলাম কিন্তু, সময় হয়ে ওঠেনি। তাই আজ চলে আসলাম।
আলো জোরপূর্বক হাসলো। মেয়েটা তো তাকে দু-চোখে সহ্যই করতে পারে না। আর এখন এতো ভালো কথা বলছে যে? এটা আবার স্টার জলসার নাটকের মতো করছে নাকি? আমাদের দুজনের মধ্যে নিশ্চয় দূরত্ব সৃষ্টি করতে এসেছে। নয়তো এতোদিনে একবার ও আসিনি। ওর মা তো এই বাড়িতে থেকে ও উঁকি অব্দি দেয়নি এইক’দিন । দেখা যাক কি করে, আমি আলো আর সহ্য করবো না। এবার জবাব দেওয়ার পালা। মৃত্যুর স্বাদ দিয়েছো তোমরা আমায়। আমি কিছুই ভুলিনি।
সবার চোখের আড়ালে হিংস্র রুপ দেখিয়েছো তোমরা আমায়। বোকা বলে কাউকে বলিনি ঠিকই কিন্তু, এই বাড়ির মানুষ গুলো ভালো বলে মুখ দেখেই আন্দাজ করতে পারতো কারা আমায় ভালোবাসে, আর কারা আমার ক্ষতি চাই। আলহামদুলিল্লাহ এমন একটা পরিবার এই পোড়া কপালে রেখেছেন উপরওয়ালা ।
” আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা সুস্থ আছি। তুমি কেমন আছো রাফা?
” আমি ভালো! ভালো আছি।
শুভ্র কিছু না বলে রুমের সাথে এটাচ ছোট্ট লিভিং রুমে চলে যায়। যার একপাশে কেবল বই আর বই। ছোট্ট কিউট লাইব্রেরি বলা চলে। অবসর সময়ে মন ভালো করার মতো জায়গা এটা। সে বুকসেল্ফ থেকে বই নিয়ে পড়তে বসে। পাশের জানালা দিয়ে শীতল বাতাশ বয়ছে। আকাশটা মেঘলা মেঘলা ভাব ,হয়তো বৃষ্টি নামবে। সময়টা বিকেল তাই পরিবেশ আর মন দু’টোই অদ্ভুত শান্ত লাগছে শুভ্রর।
হঠাৎ রাফা গল্প করার মধ্যে খানিকটা জোরেই বলে উঠলো,
” আচ্ছা ভাবি তোমার ভার্সিটির ওই সিনিয়র ছেলেটা এখন কোথায়? যে তোমায় অনেক ভালোবাসছিলো। তোমার জন্য কত পাগলামি করছিলো। তার বাবা নাকি এইজন্যই তোমায় মারতে চেয়েছিলো আর শুভ্র ভাইয়াকে ফাঁসাতে চেয়েছিলো। কত বড় সাহস দেখেছো তুমি? এখন তুমি মারা গেলে তো শুভ্র ভইয়াকেই নিজের খুনি ভাব….
” আমি এসব শুনতো চাচ্ছি না রাফা। সবার কাছে
সবটা পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে। আর আমি মি. চৌধুরীর কাছে সরি বলবো কারন না জেনেশুনে আমি ওনাকে দোষারোপ করেছিলাম। আর কে আমায় ভালোবাসতো কে না বাসতো তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমার নামের পাশে একজনের নাম জুড়ে আছে সেটাই আমার পরিচয়। বাকি সব মিথ্যে।
চুপসে এলো রাফার মুখখানা। হয়তো এমনটা আশা করেনি সে। কথা এড়াতে বলে উঠলো রাফা,
” আসলে আমার জানতে ইচ্ছে করলো তাই জিজ্ঞেস করলাম কিছু মনে করো না ভাবি।
আলো ও বললে,
” কিছু মনে করার মতো কথা বললে অবশ্যই মনে করবো। আর হ্যা আমাদের মধ্যে এই নিয়ে কোনো
ঝামেলা নেই। মিহুল ভাইয়া ছিলো আমার সিনিয়র
ভাইয়ের মতো। আমি কখনোই তাকে অন্যভাবে দেখিনি। আমি বারণ ও করেছি কিন্তু, একজন আরেকজনকে ভালোবাসতেই পারে তাতে কোনো সমস্যা নেই। যদি একজন চাই অন্যজন না চাই এতে
কি আর করার থাকতে পারে বলো? আমি আমার জায়গাটা জানতাম। আমি এটাও জানি এই কাজে মিহুল ভাইয়া জড়িত না। তার বাবার কাজ আমার তো সন্দেহ হয় তার সাথে আরো কারোর যোগসূত্র রয়েছে। তারা থাকলে হয়তো জানতে পারতাম। যায় হোক তারা যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। মানুষের খারাপ চাইলে প্রকৃতির নিয়মে ঘুরে-ফিরে নিজেরই খারাপ হয় তাই ভালো চাওয়াটাই উত্তম। ঠিক না রাফা?
রাফা খুশি হলো না বরং ভয় পেলো কিছুটা। সে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বললো,
” আচ্ছা আমি যায় এখন।
” আচ্ছা।
শুভ্র আলো কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো।
মৃদু হাসলো সে। পাশে আঁধার বসে আছে আলোর হাত ধরে। বয়স তেমন বেশি না কেবল দশ হলো। কিন্তু কথা কখনো পাকা আম কখনো তেতো কড়লার মতো। সে শুনছিলো এতোক্ষণ এখন প্রশ্ন করলো,
” আপুনি তাহলে কি আমি কারোর খারাপ চাইবো না? কিন্তু সে যে তোমার খারাপ চাই!
আশ্চর্য হলো আলো।
” কে খারাপ চাইছে আমার?
” কেন ভাইয়া।
” কি করলো সে?
” তোমায় ডিস্টার্ব করছে। এই রুম থেকে যাচ্ছে না।
তোমার কি কোনো প্রাইভেসি নেই?
আলোর মাথা হ্যাং মারার মতো অবস্থা। ছেলেটা এতো পাকা তবুও একটা কথা বুঝতে নারাজ এই বান্দা। শুভ্র এবার ও রাগ করে ওঠে আসলো। গম্ভীর গলায় বললো,
” আঁধার তোর রুমে যা।
আঁধার পাল্টা গম্ভীর গলায় বললো,
” তুমি তোমার রুমে যাও। এটা আমার আপুনির রুম এখানে আমার থাকার পারমিশন আছে। কজ তোমার থাকা উচিত নয়। এতো বড় একটা ছেলে এইটুকু কথা বোঝো না কেন? কি শিখেছো এতো বছর পড়ালেখা করে? এই শিক্ষার জন্য বাবা মা আমায় মারে? বাড়ি থেকে দূরে রাখছে?
এতোদি আলে শুভ্রর ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছিলো।
এখন এই ছেলেটা। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে আলোকে বলে উঠলো,
” আলো ওকে বুঝিয়ে বলো নয়তো একে আছাড় মারতে এক সেকেন্ড ও লাগবে না আমার। মেজাজটা বিগড় যাচ্ছে একদম।
আলো আঁধারকে কাছে টেনে নিলো। গালে হাত দিয়ে বললো,
” লক্ষী ভাইয়া আমার তোমার রুমে চলে যাও প্লিজ। আপুনি তোমার কাছে যাবো কালকে। আজ অনেক জার্নি করে আসছো রেস্ট নাও।
জেদি আঁধার আলোর কথার জবাবে বিছানায় শুইয়ে পড়লো চোখ দু’টো বন্ধ করে বললো,
” আমি তেমার সাথেই থাকবো আপুনি। তুমি না আমায় গ্রামের গল্প বলে ঘুম পাড়াতে। প্লিজ এখন একটা গল্প বলো আমি ঘুমোই। সন্ধ্যা তো হয়েই গিয়েছে।
শুভ্র নিজে ও এমন ঘারত্যারা ছিলো। কিন্তু, এর মতো এমন ছিলো না। এটা তো একদম চরম লেভেলের ঘারত্যারা। মারতে ও পারছে না একটা মাত্র ছোট ভাই। কিন্তু, ছোট ভাই হয়ে বড় ভাইয়ের সাথে এমন করে কেউ ?
” আঁধার এটাই আমার লাস্ট ওয়ার্নিং। রুম থেকে বেরিয়ে সোজা নিজের রুমে যা। আর নয়তো তোর বাবা মায়ের রুমে গিয়ে তাদের বল আলাদা থাকতে তাহলে তারা তোকে বোঝাবে হাসবেন্ড ওয়াইফকে আলাদা করলে কি হয়।
আঁধার বলে,
” আমার মা বাবা একসাথে থাকবে। কেন আমি আলাদা করবো? তোমরা কি মা বাবা নাকি আজব কথাবার্তা বলো কেন? আর আপুনি সবসময় আমার সাথেই থাকতো। এখন কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছো তুমি? আমার আপুনির সাথে থাকবে কেন? একা থাকতে ভয় পাও নাকি?
” দাঁড়া বোঝাচ্ছি তোকে,
” ওকে কিছু করবেন না ও ছোট মানুষ বোঝে না।
আঁধার ভয়ে আলোর পেছনে চলে গেলো। গুটিশুটি মেরে বসে রইলো মুখ লুকিয়ে যে শুভ্র না মারতে পারে।
” পঁচা ভাইয়া। আপুনি তুমি বলো পঁচা ভাইয়াকে চলে যেতে। আই সেইড গেট আউট অফ মাই আপুনির রুম।
” সয়তান পাজি ছেলে তোকে আজ আমি ছাঁদ থেকে ফেলে দিয়ে তোর মাথায় থাকা দুষ্টু ভুতটাকে তাড়াবো।
” আঁধার এই আঁধার কোথায় তুই? আমাকে না জ্বালালে ছেলেটার শান্তি হয় না। এজন্যই আনতে চাইনা বাড়িতে। শুভ্র আঁধার এসেছে তোদের রুমে?
নিজের রুমে নেই দেখলাম। খাবে না ও? আসার পর থেকে কিছুই খাইনি।
শুভ্র হাসি মুখে বললে,
” খেয়ে কি করবে কাকিয়া। ও এই মুহুর্তে আমাদের মাথাটা
” স্টপ ভাইয়া। মাথা আবার কেই খাই নাকি? সব অশিক্ষিত। আম্মু চলো ডিনার করবো দ্যান আপুনির সাথে ঘুমাবো। কতদিন পর বাড়িতে আসলাম আপুনি আমায় গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াবে।
শুভ্র কিছুই বললো না৷ তার আগেই নীলিমা চৌধুরী
রেগে বলে উঠলেন,
” ওরে দুষ্টু আপুনিকে ডিস্টার্ব করছো নিজে আর দোষ দিচ্ছো ভাইয়াকে? তোমার কপালে আজ অনেকক দুঃখ আছে। চলো আমার সাথে।
” কাকিয়া ওকে মেরো না কিন্তু।
” না ওকে আদর দিয়ে বাঁদর তৈরি করেছিস তোরা সবাই মিলে। শাসন করলে এমন পাকনামি করতো না। দেখেছিস তোদের কিভাবে জ্বালাচ্ছে। আর শুভ্র ওর বড় ভাই হয় সম্মান দেওয়া তো দূর উল্টো অসম্মান করছে।
” কেন উল্টা পাল্টা কথা বলো আম্মু? আমি তো ঠিক কথায় বলি। এই যে আমি কিছু না পারলে আমাকে স্যার ম্যাম থেকে শুরু করে তোমরা সবাই শেখাও।
এখন তোমরা বড়রা না জানলে আমি জানলে সেটা কেন শেখবো না। সবকিছু শুধু বড়রা জানবে কেন?
নীলিমা চৌধুরী বিরক্ত তো কবেই, এখন জোড়েই বলে উঠলো,
” তুমি তো সবজান্তা। তাহলে এটা জানো না কেন
ওরা দুজন স্বামী স্ত্রী ওদের মধ্যে তুমি কেন কাবাব মে হাড্ডি হতে আসছো বলো? তুমি এই সম্পর্কটা জানো না? বলো আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি তোমায়।
” যায় হোক আমি আমার আপুনির সাথে থাকবো।
আমার হিংসে হচ্ছে ভাইয়া থাকতে পারবে না। আমার আপুনির সাথে আমিই থাকতাম আগে এখন পরে এসে জোড় করলে হবে না।
” তুই আয় আমার সাথে কালই তোকে হোস্টেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।
” না আমি হোস্টেলে যাবো না আমি আমার আপুনির সাথেই থাকবো। না না যাবো না।
জোড় করে নিয়ে গেলো নীলিমা চৌধুরী। আলো উঠতে চেয়েছিলো কিন্তু ততোক্ষণে চলে যায় আঁধার ও নীলিমা চৌধুরী। শুভ্র বারন করে বলে উঠলো,
” এতো লাফালাফি করো না হীতে বিপরীত হবে।
শান্ত হয়ে বসে থাকো। কাকিয়া ওকে সামলাবে।
বড্ড পাজি ছেলে কবে যে বড় হবে।
” ওর কথায় এতো রাগ দেখাতে হয়? ছোট্ট বাচ্চা
কত কথায় বলে। আপনারা সবাই একটু বেশিই বকছেন। আর ওকে বেশই হিংসে করছেন বোকাদের মতো।
” প্রিয় জিনিস অথবা মানুষের পাশে অন্যের ছায়াটা ও সহ্য হয় না বুঝলে মিসেস চৌধুরী।
চলবে,,,,,,,,

