শুভ্রফুল #কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

0
44

” এই বিয়ে হবে না বর পালিয়ে গিয়েছে। এখন এতিম মেয়েটার কি হবে?

কথা গুলো কানে আসতেই আলোর নীরবতা আরো বেড়ে গেলো। এমনিতে ও এই বিয়েতে তার বিরোধিতা ছিলো। শুধু চাচা চাচির অত্যাচারের কারনে বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলো আলো। বর আসবে না ভেবে সস্থি পেলে ও এখন যে সে সর্ব হারা হলো একেবারে কোথায় যাবে এখন সে? চাচা চাচি তো এই বাড়িতে থাকতে দেবে না। ইতিমধ্যে বাইরের লোকজন বলাবলি করছিলো এবং সবাই বাড়ি চলে যাওয়ার তাড়া দেখাচ্ছিলো। কাজী সাহেব ও চলে যেতে নিচ্ছিলো আর তখনই সবাই থেমে গেলো।

” আপনারা কেউ কোথাও যাবেন না। এই বিয়ে হবে আজ এবং এখনই।

” কে বিয়ে করবে এতিম একটা মাইয়ারে। এই তোমাদের মধ্যে কেউ আছো?

গ্রামের একটা লোকের কথায় সকলেই না বোধক মাথা নেড়ে না বললো। ফের আসিফ চৌধুরী বলে উঠলেন,

” আপনাদের মধ্যে কেউ নয়, বরং আমার একমাত্র
ছেলে শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী আমার বন্ধুর মেয়েকে বিয়ে করবে।

বাবার পাশে এতোক্ষণ বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র চুপচাপ দেখে যাচ্ছিলো শুধু । বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে এখানে তাকে। আর এই মুহুর্তে আসিফ চৌধুরীর কথা যেন বিস্ফোরণ ঘটলো শুভ্রর মধ্যে। সে রেগে বোম। দাঁতে দাঁত চেপে আস্তে ধীরে বাবার কানের কাছে এসে বলে,

” কিসব বাজে কথা বলছো ড্যাড? আমি এখানে আসতে চাইনি। তুমি জোড় করে এনেছো আর এখন আমায় বাঁদরের গলায় জুলিয়ে দিচ্ছো। আই’ম নট গোয়িং টু একসেপ্ট দিস, ড্যাড।

আসিফ চৌধুরী গম্ভীর স্বরে সাথে সাথে বলে উঠলো,

” তোমার মানায় না মানায় কিছুই যায় আসে না শুভ্র। আমি বলেছি মানে এই বিয়ে হবে। আমি মেয়েটাকে এখানে নড়কে ফেলে যেতে চাচ্ছি না।

কোথাকার কোন মেয়ে কোন ছোট বেলায় দেখেছে
কি না সন্দেহ। এতো বছর পর বন্ধুত্ব দেখাতে আসছে।
যেখানে বন্ধু নেই সেখানে বন্ধুর মেয়ে দিয়ে কি হবে। বিয়ের পুড়ো দায়িত্ব নিয়েছে এই তো অনেক। উপর দিয়ে শান্ত হলে ও ভেতর দিয়ে শুভ্র রাগে ক্রোধে ফেটে পড়ার অবস্থা। পারছে না সে সব ধ্বংস করে দিতে।

এতোক্ষণ বিয়ে হবে না বলে চাচা চাচি ভাবনায় মগ্ন থাকা দুজন যখন জানতে পারে বিয়ে হবে। তার বাড়ির আপদ বিদায় হবে। তখন দুজনেই খুশিতে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।

” কে বিয়ে করবে শুনি?

আলোর চাচির কথায় আসিফ চৌধুরী বলেন,

” আমার ছেলে বিয়ে করবে।

হা হয়ে তাকায় দুজন। এতো বড় ঘরে বিয়ে হবে ওই এতিম আপদটার? মানতে কষ্ট হচ্ছে আলোর চাচির। কিছু বললে আবার বিয়ে ভেঙে যেতে পারে। থাক সুখে বা দুঃখে আপদ বিদায় হোক। তাহলেই শান্তি।

” আচ্ছা তাহলে শুভ কাজটা সেরে ফেলা হোক।

আলোর চাচা হাসি মুখে কথাখানা বলে কাজীর কাছে চলে যান।

শুভ্র জানে তার বাবা এক কথার মানুষ এখানে কোনো সিনক্রিয়েট করা যাবে না। যা করার গ্রাম থেকে গিয়ে করতে হবে। তাই চুপচাপ সব মেনে নিলো সে।
_____________

” আরে আরে গয়না খুলছিস কেন? বিয়ে হবে তো,

থেমে গেলো ষোল বছরের ছোট্ট আলোর হাত। কে
বিয়ে করবে তাকে? কেন ওরা বিয়ে দিতে পাগল হচ্ছে? বাবার ভিটেতে কি তার থাকার অধিকার নেই। বর তো আসেনি তাহলে কে সে? যে এতিম আলোকে বিয়ে করতে চাই? আলোর ছোট্ট তনু মন দেখার জন্য ছটফট করতে লাগলো।

চাচি কথাটা বলে রুম থকে বেরিয়ে গেলো। বাইরে
যাওয়া যাবে না। অপেক্ষারত আলো কিছুক্ষণের মধ্যে কাজী সাহেব ও আলোর চাচা চাচি আসলেন

” এই বিয়েতে রাজী থাকলে বলো মা কবুল!

চুপ করে রইলো আলো। ভয় হচ্ছে তার। কাঁপছে ছোট্ট ছিমছাম গড়নের দেহটা। কাজলটানা চোখ দুটো অজানা ভয়ে ভেসে যাচ্ছে অথৈজলে। মন মানছে না তার। কবুল শব্দটা যেন বড্ড ভারী লাগছে।

আলোর চাচি আলোর এহেন কান্ডে রাগ হলেন, তিনি হাত বাড়ি অশ্রু শিক্ত রক্তিম গালে থাপ্পড় মারলো। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

” আপদ একটা তাড়াতাড়ি কবুল বলে বিদায় হো এখান থেকে। খেতে খেতে আমার সব ধ্বংস করে ফেলেছিস। কপাল ও তোর দিছিলাম তো ফকিন্নির বাড়ি কিন্তু ওই ফকিন্নির পুতে আইলো না আইছে এহন রাজার পুত রাজকুমার। বল বলছি নইলে আরেকটা দিমু।

ভয়ে সিঁটিয়ে যায় আলো। কথায় কথায় মারে এই মহিলাটা। অতঃপর থাপ্পড়েরের ভয়ে ফটাফট করে
কবুল বলে দেয় আলো।

” আলহামদুলিল্লাহ বিয়ে সম্পূর্ণ হলো।

” যাক আপদ আজ একেবারে বিদায় হলো। আর আলো, তোকে বলি যতো কিছুই হোক না কেন এবাড়িতে কখনোই আসবি না। তুই তো এতিম তোর কেউ নেই। আমরা তোর কেউ না। মনে রাখিস কথাটা।

ফটফট করে কথাগুলো বলে চলে গেলো আলোর চাচি
সাথে চাচা এবং কাজী সাহেব ও । আলো আগের ন্যায় স্থির চিত্তে বসে রইলো। মানুষ তো পশুপাখির উপর ও দয়া করে আর এই মহিলার নিজের সন্তান নেই তবুও তার প্রতি দয়া হলো না। এতোটা নিকৃষ্ট মানুষের মন কিভাবে হতে পারে? দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আলো। পড়ার স্বপ্ন ছিলো তার। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চাচা চাচিকে ভালো রাখবে। কিন্তু সেই আপন মানুষ গুলোর এহেন রুপ দেখে সব যেনো কাঁচের আয়নার মতো ভেঙে চুরমার হয়ে তার ছোট্ট মনে ক্ষত সৃষ্টি করছে। কেউ যেনো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে মারছে। ডুকরে কেঁদে উঠে আলো।

” কাঁদছিস কেন আলো?

মুখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেলো কান্নারত দু’টো
চোখ। শ্যামবর্ণের মেয়েটার চোখ দু’টো বরাবরই তাকে আকৃষ্ট করে। কাঁদলে চোখ দু’টো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। কেমন মায়াময় মুখটির বর্ণনা করা দায়। কেবল চোখ মেলে দেখে শান্তি অনুভব করা যায়। বৃষ্টি নাম মেয়েটার। আলোর বান্ধবী হয় সে। বান্ধবী বললে ভুল হবে বোন হয় বোন। বিপদে আপদে সবসময় এই মেয়েটি ও তার মা মিলে মেয়ে ও বোনের মতো তাকে আগলে রেখেছে। অসুস্থ হলে সেবা করেছে, যত্ন করেছে। আজ তাদের ছেড়ে যেতে হবে! মন মানছে না আলোর।

” আমি কেন তোর বোন হলাম না বৃষ্টি? আমার যে তোকে ছেড়ে যেতে মন মানছে না।

বৃষ্টি এসে ঝাপটে ধরলো আলোকে। কেঁদে উঠলো
বৃষ্টি। কতক্ষণ ছিলো জানা নেই তাদের কান্না। তবে
থামলো চাচির কথায়।

” এতো দরদ দেখিয়ে লাভ নেই আজ থেকে আর এই রংডং থাকবে না। এই আলো চল বাইরে তোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।

” সাবধানে থাকবি। আর গ্রামে আসবি। আমাকে ফোন দিবি কিন্তু।

কান্নার কারনে কথা বলতে পারলো না আলো। ঘরে থেকে বেরিয়ে এলো চাচি ও বৃষ্টির সাথে। আসিফ চৌধুরী কাছে এসে মাথায় আলতো হাত দেখে বলেন,

” কাঁদে না মা। ভয়ের কিছু নেই আজ থেকে আমি
তোমার বাবা। আর তুমি আমার মেয়ে হয়ে আমার বাড়িতে থাকবে। এবার যেতে হবে যে বাড়িতে তোমায় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তোমার মা।

কথাগুলো শুনে ভরসা পেলো আলো। সবাইকে বিদায় জানিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো সে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যার সাথে বিয়ে হয়েছে সে কোথায়? প্রশ্ন জাগলে ও বলার সাহস পেলো না সে। যেতে যেতে পথিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিলো আলো। হঠাৎই কারোর ডাকে ঘুম ভাঙলো আলোর। চোখ খুলতেই দেখতে পেলো একজন মহিলার হাস্যজ্জল মুখশ্রী। চিনতে পারলো না কে তিনি। তার মধ্যে আফিয়া চৌধুরী বলে উঠলেন,

” তোমায় তোমার নতুন বাড়িতে অভিনন্দন আলো।

অবাক হলো আলো কত সুন্দর করে কথা বলছেন মানুষটা। আলোকে এভাবে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে আসিফ চৌধুরী বলেন,

” দেখেছো আফিয়া মেয়ে আমার কত মিষ্টি। আজ
থেকে তোমার আর মেয়ের অভাব থাকবে না। মেয়ে এনে দিলাম।

” যেমন নাম আলো তেমন আলোময় মুখশ্রী মাশাল্লাহ কারোর নজর না লাগুক। এসো আলো আমার সাথে।
আজ থেকে এই বাড়িটা তোমার।

এতোক্ষণে পুরোটা বুঝতে পারলো আলো আফিয়া চৌধুরী তার শাশুড়ী মা হয়। খানিকটা ভীত আলো
ভয়ে ভয়েই পা রাখে বাড়ির চৌকাঠে। সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আরেক দফা অবাক হয় আলো। এটা বাড়ি নাকি রাজপ্রাসাদ। এতো সুন্দর ঝকঝকে তকতকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সব রং যেনো সাদার আভেসে লেপ্টে আছে। চারদিকে চোখ বুলায় আলো।

” এসো আমার সাথে তোমার রুমে নিয়ে যায়।

আফিয়া চৌধুরী অনেক শান্ত ও হাস্যজ্জল স্বভাবের মানুষ। তিনি বুঝতে পারেন আলোর এই মনোভাব। আফিয়ার সাথে আলো শিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। কত বড় বাড়ি কিন্তু মানুষ কোথায়? কাউকেই তো দেখা যাচ্ছে না। আর ধমিয়ে রাখতে পারলো না আলো বলে উঠলো সে,

” এতো বড় বাড়িতে আর কেউ নেই?

আলোর কথা শুনে মুচকি হেসে আফিয়া চৌধুরী বলেন,

” হ্যা আছে তো তবে এখন এই মুহুর্তে কেউ নেই। আমি আর তোমার বাবা ছাড়া।

জানার আগ্রহা থাকলে ও আর কোনো কথা বাড়ালো না আলো । আফিয়া চৌধুরী শুভ্রর রুমে এনে বসালো
বেডে। আলো শুধু বিস্ময় আর অবাকই হচ্ছে। এটা রুম নাকি তাদের বাড়ি ও উঠোন অব্দি হবে মনে হচ্ছে। আস্ত একটা রুম তার সাথে এটাচ ছোট্ট লিভিংরুম টাইপ তার সাথে একপাশে ইয়া বড় বুকসেল্ফ। কতশত বই রাখা। চোখ জুড়িয় আসলো আলোর। বই বরাবরই তার পছন্দের তালিকায় প্রথম। সাথে দক্ষিণা বাতাস বয়ছে। বেলকনিটা কত সুন্দর। একদম ছোট্ট একটা রাজপ্রাসাদ মনে হচ্ছে। তারপর ও মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন যার সাথে তার বিয়ে হলো সে কোথায় গেলো? কি বলে যে জিজ্ঞেস করবে ভেবে পাচ্ছে না আলো। আলোর ভাবনার মধ্যে আফিয়া বলেন,

” আলো মা তুমি একটু রেস্ট নাও আমি তোমার জন্য খাবার ও ড্রেস আনছি। তুমি অনেক ছোট এই শাড়ি পড়া অনেক কষ্টকর মনে হচ্ছে। একটু কষ্ট করো আমি আসছি।

মাথা নাড়ালো শুধু আলো। চলে গেলেন আফিয়া চৌধুরী। আলো উঠে দাঁড়ালো। ঘুরে ঘুরে চারপাশটা দেখছিলো খুব মনোযোগ দিয়ে। এটা তার স্বামীর রুম। লোকটার পছন্দ আছে। কত সুন্দর গোছানো। তার মতো অগোছালো আন’স্মার্ট, মেয়েকে কি মেনে নিবে? আলো রুম দেখে বাইরে এলো ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ কানে এলো কিছু কথা,

” শুভ্র মোটেও কাজটা ঠিক করেনি আফিয়া। ঘরে নতুন বউ আনতে না আনতেই সে দেশ ছেড়ে দিলো। ও এতো সাহস পায় কোথা থেকে? এখন আলোকে কি জবাব দিবো আমরা?

” তুমি ওকে একা ছাড়লে কেন? জানো না ও কেমন!

” ও বলছিলো ও একা যাবে। মানছি ও বিয়েতে রাজি না। ভেবেছিলাম ধীরে ধীরে সব ঠিক হবে। কিন্তু এভাবে না বলে এই কাজটা তোমার ছেলে….

” আস্তে বলো আলো শুনলে কষ্ট পাবে।

আলো কথাগুলো শুনে চটজলদি রুমে ভেতরে চলে আসলো। মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। তার জন্য একটা লোক তার বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। সবাই ঠিকই বলে আলো তুই আসলেই অপয়া একটা মেয়ে। নামে আলো হলে ও যেখানেই যাস সবাইলে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখিস।

__________________

তিন বছর পর _________

” কি ভাবছিস আলো আমি যে কিছু বলছি তা কি কানে যাচ্ছে তোর?

কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলতেই পুরনো অতীত থেকে বেরিয়ে আসে আলো। আজকে তিনটে বসন্ত পার হলো অথচ যেই মানুষটার নামে সাথে তার নাম জুড়ে আছে তার দেখা মেলেনি। আর না কথা হয়েছে।

” দু’দিন পর যে ভার্সিটিতে নবীন বরন অনুষ্ঠান তার খেয়াল আছে তোর? আমি কিন্তু তোর নাম দিয়েছি। তুই খুব ভালো গান গাস।

চমকে উঠলো আলো। কি বলে এই মেয়ে সে স্টেজে ওঠে গান গাইবে? উহুম!

” কি ফালতু বকছিস আহি আমি গান টান গাইতে
পারবো না। আমার নাম কেটে দিস।

আহি কথা শুনলো না বরং আর একটু হাসলো। বললো,

” উহুম কোনোভাবেই কাটা যাবে না নাম। কারন
তোর নাম আমি না মিহুল ভাইয়া দিয়েছে। সে তোর গান শুনেছে। আর মুগ্ধ হয়ে আকাশে ভেসে বেড়িয়েছে।

আৎকে উঠলো আলো। মিহুল নামটা শুনলে তার ভয় লাগে। লোকটা তার দিকে কিভাবে যেনো তাকায়। মায়া ভরা দৃষ্টিতে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি তার মনের কথা। প্রতিনিয়তই এড়িয়ে চলছে সে। তবুও কেন পাগলামি করে লোকটা বুঝে পায় না আলো।

” ভয় পাচ্ছিস কেন আলো?

” আমি একা থাকতে চাই কেন তারা আমাকে জড়িয়ে নিচ্ছে তাদের সাথে। দেখ আহি তুই ওনাকে বলে দিবি আমার ব…..

থেমে গেলো আলো। মনে পড়ে গেলো আর কিছু
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কিশোরী মনের তীব্র ভয়ের
একটা চ্যাপ্টার। শুভ্র যাওয়া কয়েকদিনের মধ্যে ডিভোর্স পেপার আসে চৌধুরী বাড়িতে। শুভ্র ফোন করে জানায় যে সে এই বিয়ে মানে না তিন মাস কেটে গেলে মেয়েটি যেনো সাইন করে দেয়। আজ ও ডিভোর্স পেপারটা যত্ন করে রেখে দিয়েছে আলো। তখন বুঝলে ও এখনকার মতো বুঝ ছিলো না আলোর। ফিরবে না বোধহয় লোকটা। তবুও তো মানুষ আশায় বাঁচে সে ও আশায় আছে। ছবিতে থাকা লোকটা বাস্তবে তার সামনে এসে দাঁড়াবে। তাকে বউ বলে মেনে নিবে। সে যে স্বামী হিসেবে কবেই মেনে বসে আছে। শুভ্রর ছবির সাথে তার বড়ই মধুর সম্পর্ক। আলো একা একা তার
সুখ দুঃখের কথা বলে। তার অনুভূতির কথা বলে। এভাবেই মেয়েটা শুভ্রর শুভ্রতার মায়ায় পড়ে গিয়েছে। তার রুমটা যত্ন করে গুছিয়ে রাখা৷ তার জিনিসে, জামাকাপড়ে যেনো মানুষটা উপস্থিতি টের পায়। মনে হয় মানুষটার সাথেই আছে। একা লাগেনি কখনো তার।

” আধ কথা বলে থেমে গেলি যে,

” কিছু না। আমি বরং বাসায় যায়। মামুনি তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে আজকে।

হুটহাট মেয়েটার কি যে হয় ভেবে পায় না আহি।
আলো একা একাই চলে যাচ্ছে।

” আলো!

থেমে গেলো আলোর পা। ভয় পেয়ে ডুগ গিললো সে। মিহুল সামনে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো।

” আমাকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই আলো। আমি তোমায় শুধু রিকোয়েস্ট করছি তুমি গান গাইবে।

মাথা নিচু রেখেই আলো জবাব দিলো,

” আমি গান গাইতে পারি না ভাইয়া। আপনি না জেনে কেন আমাকে এসবে জড়াচ্ছেন? আমাকে
দেখেছেন কখনো কোনো অনুষ্ঠানে থাকতে। আমার এসব মোটেও ভালো লাগে না। সামনে থেকে সরুন আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে।

” কেবলই এসোছো ক্লাস না করে যাওয়া হবে না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ক্লাসে যাবে।

গম্ভীর স্বরে বলা কথাগুলো শুনে ভয় হলো আলোর। সে কথা বাড়ালো না বরং উল্টো ঘুরে আহির কাছে চলে গেলো। তারপ সোজা ক্লাসরুমে। সে চাই না কোনো ঝামেলায় জড়াতে। আর না চাই তার জন্য চৌধুরী বাড়ির মানুষের সম্মান নষ্ট হোক। শুভ্র মানুক বা না মানুক সে তো চৌধুরী বাড়ির বড় বউ।
_______________

” এই আলো দেখ আমাদের নতুন স্যার আসছে।

তড়িৎ গতিতে মাথা তুলে তাকালো আলো। চমকে
ওঠে দাড়িয়ে পড়লো সে। অবাক হয় তাকিয়ে রইলো স্যারের দিকে। মাথা ব্যাথার কারনে বইয়ের উপরই মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছিলো সে।
পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করে না আলো। কিন্তু প্রায় তিন বছর পর নিজের হাসবেন্ড কে প্রফেসর হিসেবে দেখে অবাক হয় আলো। তিনি তো দেশে নেই। আর বাড়ির কেউ জানে ও না আসবে কি না। তাহলে সে আসছে কখন? বাড়িতে যায়নি?

সকলেই বসে থাকার ধরুন সকলের চোখে পড়লো
আলোকে। ক্লাসে আসা নতুন স্যারের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় সবাই। এমনকি প্রফেসর শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী ও। ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো সে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির পানে।

শুভ্র কিছু বলতে নিবে তার আগেই আহি হাত টান দিয়ে বসিয়ে দিলো। শুভ্র গম্ভীর ও শান্ত ভাবে বলে,

আমি শুভ্র শাহরিয়ার চৌধুরী। আজ থেকে আপনাদের Differential Equations ক্লাসটা আমি নেব। উইল স্টে ফোকাসড অন দেয়ার স্টাডিজ!

সকলেই সায় জানালো। প্রথম ক্লাস খুব সুন্দর করে নিলো শুভ্র। আলো পড়াশোনা ভুলে সে শুধু তাকিয়ে রইলো। ক্লাস শেষ হতেই শুভ্র চলে গেলো তৎক্ষনাৎ । আলো স্থির হয়ে বসে রইলো। সে কি স্বপ্ন দেখলো নাকি সত্যি!

” আহি আমায় চিমটি কাট তো,

হতভম্ব আহি। এই মেয়ের আবার হলোটা কি? স্যার আসার পর থেকে পড়াশোনায় মন নেই। স্যারের প্রেমে
পড়লো নাকি?

” এই তুই স্যারের প্রেমে পড়লি নাকি? ভুলে ও এই কাজ করিস না বইন। মিহুল ভাইয়া তোর পেছনে প্রায় দের
বছর ধরে পড়ে আছে। আর তুই থাকে পাত্তা না দিয়ে স্যারের প্রম……

” সর সামনে থেকে সর!

আলো ব্যাগ গুছিয়ে বের হতে নেই। আহি আবার ও হতভম্ব হয়ে তাকালো আলোর দিকে।

” কি হয়েছে হঠাৎ তোর?

” আমি বাসায় যাবো। তুই সবগুলো ক্লাস করে যাবি তারপর যাবি। আর আমায় নোট দিবি কালকে।

আলো যেতে নিলে আহি ও পেছনে পেছনে আসতে নেই,

” আসবি না আহি। তুই কালকে আমায় নোট গুলো দিবি। মিস করবি না একটা ক্লাস ও।

” মানে কি আলো আমি একা একা ক্লাস করবো মানে?

” হ্যা তুই একাই আজ ক্লাস করবি। আর না হলে তোর মিহুল ভাইয়াকে ও নিয়ে ক্লাস করবি।

আলো চলে গেলো। আহি বসে রইলো। কারন তাকে নোট দিতে হবে। আর সামনে এক্সাম ও আছে যেহেতু আলো নেই সেই দায়িত্ব এখন তার।

চলবে,

#শুভ্রফুল
#কলমে_লিজা_আক্তার_আলো

[ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

[ গল্পটা ভালো লাগলে পেইজে ফলো দিয়ে রাখবেন। এবং লাইক কমেন্ট করে উৎসাহিত করবেন। পাশে থাকার আমন্ত্রণ রইলো ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here