#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২৮
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
চারপাশে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঈশানি আরহানকে নিয়ে যখন দোতলার সিঁড়ি পেরিয়ে নিচতলার সিঁড়ি ধরলো তখনি চারপাশে তাদের আগুন ঘিরে ধরলো।ঈশানি চমকে উঠলো,ভয় পেলো।
আরহান নিজেও কয়কে মুহূর্ত মূর্তি হয়ে ছিলো।কিন্তু পরক্ষনেই ঈশানিকে ধাক্কা দিলো। তাড়া দিয়ে বললো –
“আমাদের তাড়াতাড়ি বেড়োতে হবে,ঈশানি।দ্রুত চলো।”
ঈশানি ও সৎবিৎ ফিরে পেলো।কিন্তু তার ছোট্ট শরীরে আরহানের ভারী শরীর বোঝা হয়।যেটা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলাফেরা করা মুশকিল। আরহান বোধ হয় বুঝলো ব্যাপারটা।নিজের শরীরের ভার কিছুটা আলগা করলো।নিজে থেকে চলতে চাইলে পাদুটো সায় দিলো।হাঁটু ভেঙে পড়লো।
ঈশানি তৎক্ষণাৎ ধরার চেষ্টা করলো।ঠোঁট ভেঙে কান্না করে দিলো।কারণ এতক্ষনে আগুনের মাত্র আরো বেড়ে আছে।শরীরে তাপ লাগছে,নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
আরহান ঈশানির ব্যাকুলতা বুঝলো বোধ হয়।সে ঈশানির হাত চেপে ধরলো।ঈশানির ঠোঁটের কিনারায় চুমু সাহস দিয়ে বললো –
“সাহস হারিয়ে ফেলো না,বউ।আমাদের বের হতেই হবে।তোমার এখনো আমার বাচ্চার মা বাকি হওয়ার বুঝেছো।আমাকে টেনে তোলো একটু।”
ঈশানি নীরবে অশ্রু ফেলে টেনে ধরলো আরহানকে।নিচে নেমে আসছে।কিন্তু চারপাশে সব যেনো পুড়ে ভেঙে ভেঙে পড়ছে।
ঈশানিদের রাস্তায় একটি কাঠের টুকরো ভেঙে এসে পড়ে আটকে দিলো।ঈশানি ভয়ে চিল্লিয়ে উঠলো।একটু জন্য গায়ে পড়েনি।
আরহান ঈশানিকে একহাতে আগলে নিয়ে সাইড দিয়ে নিচে নামলো।নিচ তলায় এসে আটকে গেলো।মূলত আগুন লেগেছেই নিচতলায়।সেখান থেকে পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।এখানে আগুনের তাপ এতো বেশি যে চোখে দেখা মুশকিল। আর ধোঁয়ায় নিশ্বাস নেয়া যাচ্ছে না।ঈশানি কেশে যাচ্ছে। আরহান কেশে যাচ্ছে।
ঈশানি নিজের ওড়নার একাংশ আরহানের মুখে ধরলো আর এক অংশ নিজের মুখে।তবুও লাভ হলো না।চারদিকে শুধু ধু ধূ করছে।মনে হচ্ছে তাদের অঙ্গ ঝলসে যাচ্ছে।তারা আশেপাশে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কোনো দরজা খুঁজে পাচ্ছে না।ধোঁয়ার আড়ালে সব ঢাকা পড়া।
যেদিকে যাচ্ছে সেদিকেই পুড়ে পুড়ে কিছু পড়েছে তাদের সামনে।ঈশানি ভয়ে আতঙ্কে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করে। আরহানের হাত শক্ত করে খামচে ধরে।কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তারা। আরহান ও একহাতে আঁকড়ে ধরে প্রিয়তমাকে।
তারা ধোয়ার মধ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে বেরোনোর।যেখানে কিছু দেখতে পাওয়ায় মুশকিল সেখানে বেরোনোর রাস্তাটা যেনো দুনির্বার।
ঈশানি তবু এদিক ওদিক ছুটলো।কিছু একটা খুঁজছে কোনো একটা আশার আলোর জন্য। আরহানের শরীর আরো খারাপ হয়েছে।দুর্বল হয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়েছে।দাঁড়ানোর শক্তি নেই।পূর্বের ক্ষত আবার নতুন করে পাওয়া তাপের প্রভাবে তার বিশাল দেহ ঝিমিয়ে গেছে।ঈশানি শব্দ করে কেঁদে সাহায্য চাইছে।কিন্তু কোথাও নেই।ঈশানি আবার দৌড়ে আসে আরহানের কাছে। আরহানকে ধরে বলে –
“আপনি চোখ বন্ধ করবেন না।আমরা এখনি বের হবো।উঠুন।উঠুন না।”
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে ঈশানি। আরহানের শরীর ঝাকিয়ে যাচ্ছে আর আযহারী করে যাচ্ছে।
আল্লাহ্ বোধ হয় মায়া করলো ঈশানির উপর। ফেরেস্তা হয়ে আওয়াজ পেলো ইয়াসিনের।ডেকে যাচ্ছে সে –
“ভাই,ঈশানি?কোথায় তোমরা?ভাই?”
ঈশানি দ্রুত উঠে দাড়ালো।তাড়াহুরোয় হাতে এসে লাগলো একটা পোড়া কাঠের টুকরো।ঝলসে গেছে যেনো জায়গাটা এমনভাবে জ্বলে উঠলো।ব্যথায় “আহ্”করে চোখ মুখ খিঁচিয়ে নিলো।কিন্তু পাত্তা দিলো না।ইয়াসিনের জন্য সেও কথা ছুড়লো –
“ভাইয়া ,আমরা এদিকে।ভাইয়া বাঁচান আমাদের।”
ইয়াসিনের কন্ঠস্বর এলো –
“ঈশানি কোথায় আছো?দেখতে পাচ্ছি না তোমাদের।কথা বলো ।”
আগুনেরা দাউ দাউ করে জ্বলছে।ধোঁয়া সব কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে চারদিকে।চাদিকে সব ধোঁয়া দ্বারা আবৃত।কিচ্ছু দেখার উপায় নেই।তবুও শুধু মাত্র কন্ঠস্বর অনুসরণ করে এগিয়ে আসলো ইয়াসিন।
আরহানকে পেলো মেঝেতে,ঈশানির অবস্থাও শোচনীয়।
ঈশানি ইয়াসিনকে দেখে যেনো জানে পানি পেলো।ইয়াসিনকে তখন তার ফেরেস্তা মনে হয়েছে।দৌড়ে গিয়ে বলে –
“ভাইয়া,উনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে।ওনাকে ধরুন প্লীজ।ওনাকে ধরুন।”
ইয়াসিন দৌড়ে যায় সেদিকটায়। আরহানকে কাধে তুলে নেয়।একহাতে ঈশানির হাত ধরে বেরোনর জন্য।কিন্তু আগুন কমার বদলে আরো বাড়তে থাকে। যে রাস্তা দিয়ে ইয়াসিন এসেছে সেই রাস্তায় পড়ে আছে বিশাল বড় একটা কাঠের দরজার অংশ বিশেষ।যাওয়ার রাস্তা আর পেলো না।
তবুও তারা সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করলো।আগুনের তাপে তাদের শরীর পুড়ে যাচ্ছে।কয়েকজয়গায় আগুনের ছ্যাঁকা ও খেয়েছে।সেদিকে কারো লক্ষ্য নেই। প্রাণ নিয়ে বের হয়ে যাওয়ায় মূল লক্ষ্য।
ইয়াসিন এক থাকলে লাফ দিয়ে যেতে পারতো।কাধের উপর একজন বলবান পুরুষ ও পাশে একজন মেয়ে নিয়ে ঘাবড়ে গেলো সে নিজেও।ইয়াসিন কি করবে বুঝতে পারলো না।
আরহানের চেতনা যতদূর ছিলো সে ইয়াসিনকে পিঠে মৃদু থাপ্পড় দিয়ে শ্বাস আটকে আটকে বলে –
“আমাকে নামিয়ে নেও,ইয়াসিন।ঈশানিকে নিয়ে বেড়িয়ে যাও।তিনজন বের হওয়া মুশকিল হবে।”
ঈশানি কেঁদে ফেললো। আরহানের বাহু শক্ত করে জড়িয়ে বলে –
“একদম না।আপনাকে ছাড়া আমি যাবো না।মোটেও না।”
আরহান দুর্বল কন্ঠে বলে –
“পাগলামি করো না,ঈশানি।একজনের জন্য তিনজন মরবো।তোমরা আগে বের হও,পড়ে আমাকে বের করো।”
ঈশানি কান্না করে কিছু বলার আগেই ইয়াসিন বলে উঠলো –
“আপনাদের মেলোড্রামা থামান।এটা কোনো সিরিয়াল না যে আত্মদান করতে হবে। তিনজনই বের হতে পারবো।আগুনের তাপ কমছে।হয়তো ফায়ার সার্ভিসের লোক এসেছে।”
ইয়াসিন বারবার চেষ্টা করেও বের হতে পারছিলো না।দাউদাউ করে আগুন, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পোড়া কাঠের টুকরো, ও নিশ্বাস বন্ধ করা ধোয়ার তাপের ভেতর দিয়ে দুজনকে নিয়ে বের হওয়া ছিল অসম্ভব।
কিন্তু সেই ধোঁয়ায় আড়াল ভেদ করে এলো কিছু মানুষের কণ্ঠস্বর, হাক পেরে যাচ্ছে তারা –
“ফায়ার সার্ভিস!ভেতরে কেউ আছেন?”
ঈশানি ইয়াসিন চকিত তাকালো।ইয়াশনি কাপা গলায় বলে উঠলো –
“এদিকে ,প্লীজ।আমার স্বামী ভীষন অসুস্থ্য।তাড়াতাড়ি আসুন।”
কেঁদে ফেললো ঈশানি আবার।তার ভয় ও বিচলিত এখনো কমেনি।
একটা মুহূর্ত পর দুজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, আগুন প্রতিরোধক পোশাক পরে এবং অক্সিজেন মাস্ক মুখে দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লো। এক হাতে থার্মাল ইমেজার, অন্য হাতে পানি ছিটানো হোসপাইপ।
তারা দ্রুত ঈশানি ও আরহানের অবস্থান চিহ্নিত করলো। একজন আরহানকে পরীক্ষা করে বললো,
“এরা জীবিত। তবে অবস্থা গুরুতর। দ্রুত বের করতে হবে।”
আরেকজন দ্রুত নিজের অতিরিক্ত অক্সিজেন মাস্ক খুলে ঈশানির মুখে ধরলো,
“গভীর শ্বাস নিন। ভয় পাবেন না।”
তারা দ্রুত পুড়ে যাওয়া কাঠ সরিয়ে পথ তৈরি করলো, আরেকজন সামনে থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন ঠেলে পথ বানাতে থাকলো। কেউ একজন ইয়াসিনের দিকেও একটা অক্সিজেন মাস্ক বাড়িয়ে দিলো।
তিনজনের হাত ধরে, একজনকে কাঁধে তুলে তারা ধোঁয়া আর তাপ ঠেলে নিরাপদ রাস্তায় বের করে আনলো।
.
হসপিটালের ফিনাইলের বিদঘুটে কোনোদিন এতটা অসহ্য লাগেনি ঈশানির,আজ যতটা লাগছে। দেয়ালঘেষে বসে আছে স্তব্ধ হয়ে।।পাশেই চেয়ারে বসে মিনারা বেগম গুনগুনিয়ে কেঁদে যাচ্ছেন,মাঝে মাঝে দোয়া দরুদ পড়ে যাচ্ছেন।শক্তপোক্ত জাহিদ চৌধুরী ও ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছেন।তার বুকে ব্যথাটাও বুঝি বাড়লো।
আয়রার পেটটা খানিক উচু হয়েছে।সেও অস্থির হয়ে বসে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।
কারো একমাত্র ভাই, কারো একমাত্র ছেলে ও কারো শেষ সম্বল স্বামীর চিন্তায় জরাজীর্ণ ,ভঙ্গুর।
কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে অলিভিয়া।তার ভেতরেও যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ মানুষটা যে তারও ভীষন কাছের,আদরের, ভালোবাসার।যে ভালোবাসা কোনোদিন পূর্ণতা পাবে না জেনেও সে দূরে আসতে ব্যার্থ।
ইয়াসিন আয়রার পাশে বসে একটা বোতল এগিয়ে দিয়ে বলে –
“খেয়ে নেও।শরীর খারাপ করবে তোমার।”
ইয়াসিনের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। বড় কোনো ক্ষতি না হলেও কিছু জায়গা ভালরকম পুড়ে জখম হয়েছে।যেটা তারা তখন উপলদ্ধি করতে না পারলেও পরে পেরেছে।
একইভাবে ঈশানি ও আরহানের ও কিছু জায়গা পুড়ে গেছে। আরহানের এক পায়ের উপর একটা পোড়া কাঠ পড়েছিল।ফলে জায়গাটা কিছু ঝলসে গেছে।
আয়রা ইয়াসিনের বুকে মাথা দিয়ে হুহু করে কেঁদে দেয়।তার একমাত্র ভাই ভেতরে অপারেশন থিয়েটারে।
আগুনে পোড়া কারখানা থেকে তাদের রক্ষা করে বাহিরে নিয়ে আসার পর,যখন ইয়াসিন তাদের গারি অব্দি নিয়ে যায় তখনি আরহান শরীর ছেড়ে দেয়।
বাড়িতে না নিয়ে সোজা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাকে।সেখানে ডাক্টার এমআরআই করে জানায় – “lumbar spine-এ ইনজুরি হয়েছে এবং sciatic nerve চেপে গেছে।
দ্রুত অপারেশন না করলে আরহান স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।”
তখন থেকেই চৌধুরী বাড়ির প্রতিটি সদস্য নির্জীব,জড়বস্তুর ন্যায় পড়ে আছে হাসপাতালের করিডোরে।
মিনারা বেগম ছেলে ছেলে করে একবার জ্ঞান হারিয়েছে।এখনো তার কান্নার দমকে কমেনি।
জাহিদ চৌধুরী বুকে হাত দিয়ে বসে পড়েছে আবার।
ইয়াসিন শ্বশুরের এই অবস্থা থেকে একটি কেবিনে শিফট করায় তাকে।
এসব কিছুর মধ্যে ঈশানির প্রতিক্রিয়া একদম নীরব।সে একমনে চেয়ে আছে সামনের লাল লাইটের দিকে।যেনো সেটাই তার জীবনের আলো।তার মনে চলছে বলা মুশকিল।চোখ,মুখ কেমন যেনো নির্জীব ,শরীর যেন ছেড়ে দিয়েছে তার।
হঠাৎ করেই ঈশানি মুখ চেপে দাড়িয়ে যায়।কোথায় ওয়াশরুমে সেটা না জানায় জানালার কাছে গিয়ে বমি করে দেয় হরহর করে। আয়রা ,অলিভিয়া এগিয়ে আসে।কিন্তু কেউ ধরার আগেই মাথা ঘুরে পড়ে যায় ঈশানি।
মিনারা বেগম এবার চিল্লিয়ে কেঁদে উঠে।দৌড়ে আসে ঈশানিকে ধরতে।অলিভিয়া চলে গেছে ডাক্তারকে ডাকতে।
আয়রা ঈশানির চোখেমুখে পানি ছিটাচ্ছে। মিনারা বেগম ঈশানির শরীর ঝাকিয়ে ডেকে যাচ্ছে।
দুজন ওয়ার্ডবয় এসে ঈশানিকে তুলে ওয়ার্ডে শিফট করে।ডাক্টার তার চিকিৎসা করতে থাকে।
মিনারা বেগম এই আয়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে যাচ্ছে।একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।যেনো কোনো শকুনের নজর পড়েছে তাদের পরিবারে।
অলিভিয়া এগিয়ে আসে।কান্নারত অবস্থা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে।কি করুন লাগছিলো তাদের কান্নার সুর ও আযহারী।
.
ডাক্তার প্রথমে ভেবেছিলো সারাদিনের ভয়াবহতা , উদ্বিগ্নতা ও চিন্তায় হয়তো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
কিন্তু পরে ঈশানির শরীরের পরিবর্তন দেখে তিনি টেস্ট করে।
বাহিরে বসে আছে ইয়াসিন, আয়রা ও মিনারা বেগম। নার্স এসে ঈশানির স্বামীর খোজ করলে আয়রা জানায় অসুস্থ্য।তখন সে আয়রাকে ভেতরে ডেকে পাঠায়।
কিছুক্ষণ পর আয়রা আসে।চোখে পানি নিয়ে মায়ের পাশে বসে , মাকে জড়িয়ে ধরে। মিনারা বেগমের মাতৃ অন্তর ভয়ে কেঁপে উঠে।তখনি আয়রা জানায় –
” মা,তুমি দাদু হবে।ঈশানি মা হতে চলেছে,ভাইয়া বাবা হবে।একটা পুঁচকে হবে।”
মিনারা বেগমও কেঁদে ফেললেন।কাদঁছে সে,তবুও তার মধ্যে একটা আলো ফুটে উঠেছে।একদিকে ছেলেটার এই অবস্থা এরমধ্যে এমন একটা সংবাদ।।
মিনারা বেগম চোখের পানি মুছে প্রশ্ন করে –
“ডাক্টার ডাকলো কেনো তোকে?কি বলেছে?”
“ঈশুর বয়স কম ।প্রেগন্যান্সিতে ঝুঁকি আছে।তারউপর মেয়েটার শরীরে পুষ্টির অভাব।বাচ্চাটা রাখবে কি না সেটা।”
মিনারা বেগম কেঁপে উঠলেন। আয়রা ও বলতে পারলেন না।সে ও দ্বিধায় আছে – একদিকে ঈশানির শরীর অন্যদিকে তার ভাইয়ের রক্ত।
আর সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র অধিকার যাদের তারা দুজনেই অচেতন।
অলিভিয়া বুকের ভেতর এক অসহনীয় যন্ত্রণা অনুভব করলো।বেশিক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে পারলো না বেশিক্ষণ।খোলা আকাশের নিচে যাওয়া দরকার তার।
.
ঈশানি কেবিনে শুয়ে আছে।তার দৃষ্টি শূন্যে।একহাত পেটের উপর।চোখ মুখে ক্লান্তির ছাপ,চিন্তা,অনিশ্চিয়তা।
মিনারা বেগম ও আয়রা এগিয়ে আসে।ঈশানির পাশের চেয়ারে বসে। মিনারা বেগম ঈশানির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে –
“এখন কেমন লাগছে রে?”
ঈশানি তাকালো ছোটমার দিকে।তারপর ধীর নির্জীব কন্ঠে প্রশ্ন করে –
“ছোটোমা,তোমার ছেলে..”
আর বলতে পারলো না।কেঁদে ফেললো।
আয়রা এগিয়ে এসে চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলে –
“কাদিস না।ভাইয়ের কিচ্ছু হবে না দেখিস।তুই ভরসা রাখ।”
ঈশানি হাসে।তারপর আয়রার হাত ধরে বলে –
“তোমার ভাইকে ঠিক হতেই হবে ,আপু।এই বাচ্চার ভার আমি এক নিতে পারবো না।আমাদের জন্য হলেও তোমার ভাইকে ঠিক হতেই হবে।একদম আগের মতো,আপু।”
ডুকরে কেঁদে উঠে ঈশানি।কেঁদে দেয় আয়রাও। মিনারা বেগম মুখে আচল চেপে কেঁদে উঠে।প্রাণপণে দোয়া করে যাচ্ছে ছেলের জীবনের।রবের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে তার একমাত্র নাড়িছেড়া ধনকে।
~চলবে
{ভুল – ত্রুটি মার্জনা করবেন।গল্পটা কালকে শেষ হয়ে যাবে।আপনারা মিস করবেন তো আরহান – ঈশানিকে?}

