#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২৭
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
শহর থেকে অনেকটা ভিতরের দিকে নির্জন জনমানবহীন জায়গায় সেই পরিত্যক্ত লোহার কারখানাটি।ইয়াসিন তার পরিচিত স্পেশাল ফোর্স নিয়ে ইতোমধ্যে সেই কারখানাটি ঘিরে ধরেছে।ভেতরের পরিবেশ আন্দাজ না করে তারা কোনো পদক্ষেপ ও নিতে পারছে না– এতে করে জানের ঝুঁকি হতে পারে তাদের।প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে ভেবে চিন্তে,সতর্কতার সাথে।
ইয়াসিন খুবই বিচলিত ও ভীত।কিন্তু এভাবে দাড়িয়ে থাকার মতো মানসিকতা নেই। সেও এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকটায়।চারদিকের ঘোর নীরবতা,অমানিশায় শরীরের লোমকূপ দাড়িয়ে যাচ্ছে।ভেতরে দুজন মানুষ জীবন মরণের দ্বারপ্রান্তে।
.
রনির দুজন লোক আরহানের দুহাত চেপে ধরে আছে। আর রনি একাধারে মেরে যাচ্ছে আরহানকে।সে নিশ্চুপ, নির্জীব হয়ে তাকিয়ে আছে ঈশানির দিকে। যার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে একজন পাষণ্ড লোক।ঈশানি ছটফট করছে – যেনো মার গুলো আরহানকে নয়।তাকেই মারা হচ্ছে।
এপর্যায়ে থেমে গেলো রনি।তার লোককে ইশারা করলো ঈশানির মুখের কোস্টিপ খুলে দিতে।সেই লোকটি আদেশনুযায়ী কাজ করলো।ঈশানি চিল্লিয়ে বলে উঠলো –
“ছেড়ে দেন ওনাকে।উনি আপনার কিছু করেনি।আপনার ক্ষতি আমি করেছি।ওনাকে ছেড়ে দেন।আল্লাহর দোহাই লাগে ছেড়ে দেন ওনাকে।”
কাদতে কাদতে নিশ্বাস আটকে যাওয়ার উপক্রম ঈশানির। আরহান চেয়ে দেখলো তার প্রাণভোমরার আকুতি,করুন আর্তনাদ।রনি পৈচাশিক হাসি আসলো।বিকৃতভাবে বললো –
“আরো চিল্লা।তোর নাগরকে মেরে শান্তি পাচ্ছিলাম না।তুই চিল্লাবি আর তোর নাগরকে রক্তাক্ত করবো।তাতেই না ফিল আসবে।চিল্লা আরো বেশি চিল্লা।
ঈশানি ঘর কাঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।আকুতি,মিনতি করে গেলো তার নিজের মানুষটার জন্য।
রনি এবার হাতে একটা হকিস্টিক নিলো। আরহানের হাঁটু বরাবর মেরে দেয়। সে হাটুভেঙ্গে বসে পড়ে।ঈশানির আর্তনাদ, চিল্লানোর শব্দ আরো বেড়ে যায়। সে আরহানকে অনুরোধ করে বলে –
“আপনি উঠুন প্লীজ।আমি দেখতে পারছি না।আমি মরে যাবো।আপনি উঠুন।”
আরহান একটা শব্দ করে না।রনি ওকে বেগতিক মারতে থাকে।একপর্যায় ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে কাঠের চৌকিতে। আরহানের অবস্থা তখন নির্জীব কোনো বস্তুর মতো।যেনো যখন তখন জান বেরিয়ে যাবে।কপাল চুঁইয়ে রক্ত বের হচ্ছে,ঠোঁটের কোনে কেটে রক্ত বেরোচ্ছে, হাত ও পা ছিলে ছুলে খুলে যাওয়ার উপক্রম।
ঈশানি কাদতে কাদতে সেও নিষ্প্রাণ।মনে মনে আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কোনো উপায় পাচ্ছে না।
রনি আবার উঠে দাড়ায়। আরহানের সামনে গিয়ে এক হাঁটু গেড়ে বসে তার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে বলে –
“চোখ খোল,শালা।এটা তো শুধু আমাকে মেরেছিস সেটার হিসেব চুকলো। তোর সামনে এখন তোর বউয়ের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে স্পর্শ করবো–দেখবি না তুই। ওঠ শালা।চোখ খুলে দেখ – যেই মেয়েকে স্পর্শ করার জন্য তুই এসব শুরু করেছিস সেই মেয়ে আজ পুড়িয়ে আমি সব শেষ করবো।তাও চোখের সামনে।ওঠ,চোখ মেলে তাকা,শালা।”
শেষের কথা বলে জোরে লাথি দেয় আরহানের পেটে। আরহান কেশে উঠে।মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়।রনি পা ঘুরিয়ে অগ্রসর হয় ঈশানির দিকে।কিন্তু পা আর সামনে আগায় না।পিছনে ঘুরে দেখতে পায় আরহান তাকে ধরেছে একহাতে।রনি গা দুলিয়ে হাসে।যেনো খুবই মজার কিছু ঘটেছে।বিড়বিড় করে বলে –
“শালা ভাঙবে তবুও মোচকাবে না। আজ ওকে ভেঙেই গুড়িয়ে দেবো।”
আরহান দুর্বল চিত্তে বলে –
“ওরদিকে একপা বাড়ালে তোর পা কেটে কুত্তাকে খাওয়াবো।ওকে স্পর্শ করলে তোর হাত আমি পুড়িয়ে দেবো।”
রনি পা ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে দেয়। এগিয়ে যায় ঈশানির দিকে।তৎক্ষণাৎ একটা মরিচা ধরা রড ঘূর্ণি খেয়ে এসে ধাক্কা মারে ঈশানির পাশে দাঁড়ানো লোকটার হাতে। তার হাত থেকে বন্দুকটা ছিটকে মেঝেতে পড়ে যায় ধাতব ধ্বনিতে।
আরহানের পাশের দুজন বিশালদেহী লোক তেড়ে আসে। আরহান দুপা দিয়ে দুজনকে লাথি দেয়।সাময়িকভাবে তারা ছিটকে পড়লেও তেড়ে আসে আরহানকে ধরতে। আরহান দুহাতে শক্ত করে ধরে রাখে।
রনি এগিয়ে আসে আরহানের দিকে। আরহানের গলা চেপে ধরে বলে –
“শুয়োরের বাচ্চা,বেশি লাফালাফি করলে এখানেই জান নিয়ে নেবো।তখন দেখিস তোর বউকে ব্যা*শ্যাগিরি করতে।”
আরহান থু থু মারে রনির মুখে।তারপর ক্রোধে চিল্লিয়ে বলে –
“রনি,কসম আল্লাহর ওকে স্পর্শ করলে তোদের জান নিতেও দুবার ভাববো না। ওকে স্পর্শ করবি না।ওকে ছেড়ে দে।তোর আমার হিসেব আছে –আমার সাথে মিটিয়ে নে।”
রনি ক্ষোভে আরহানের নাক বরাবর ঘুষি মারে। আরো কয়েকটা ঘুষি – লাথি দিয়ে আবার যায় ঈশানির কাছে।এতক্ষণে আরহানের অবস্থা করুন। সে ঝুঁকে পড়ছে।পাশের দুটো লোকের সাহায্যে দাড়িয়ে আছে শুধু।
রনি এগিয়ে যায়।গিয়ে একটানে ওড়না কেড়ে নে ঈশানির।ঈশানি ডুকরে কেঁদে উঠে।
আরহান নিভু নিভু চোখে দেখছে।রনি যেই ঈশানির গায়ে স্পর্শ করতে যায় আরহানের শরীরে যেনো অশুরের শক্তি ভর করে।সে দুটো লোককে ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দৌড়ে যায় রনির কাছে।রনির ঘাড় বড়াবড় লাথি দিলে সে মুখ থুবড়ে পড়ে। এলোপাথাড়ি মারতে থাকে রনিকে।পিছন থেকে দুইজন লোক এসে ধরে আরহানকে। তারা ছাড়াতে ব্যর্থ হয়। আরহান কাধ ঝাড়া দিয়ে ওদের সরিয়ে দেয়।
আরহান পাগলের মতো মারতে থাকে রনিকে।কিন্তু দু/তিনটে লোকের সাথে সে পারে না তারউপর সে জখমী।তারা এসে ছিন্ন করে নিয়ে যায় আরহানকে। তাকে আলাদা করলেও সে সমানে রনিকে গালি ও সাবধানবাণী দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে রনি উঠে দাড়ায়।মুখের রক্ত থুতুর সাথে ফেলে দিয়ে ক্ষিপ্ত নজরে তাকায় আরহানের দিকে।এগিয়ে গিয়ে আরহানকে আবার এলোপাথাড়ি মারতে থাকে।
ভেসে আসে ঈশানির ক্রন্দনরত চিৎকার,আর্তনাদ আকুতি। নিমিষেই বদ্ধ রুম হয়ে উঠে যেনো কোনো জাহান্নাম।রনি পৈচাশিক আনন্দ নিয়ে মারতে থাকে আরহানকে।
কিন্তু রুমটা হঠাৎ থমথমে হয়ে যায়।বিকট একে শব্দে রনির দলবল নিশ্চুপ ও চমকে উঠে।একে একে সব লোক পড়ে যেতে থাকে—কেউ বুঝে উঠার আগেই। গুলির নিঃশব্দ শব্দ, যেনো বাতাস ছিঁড়ে এগিয়ে আসে। রনি ঘুরে তাকিয়ে দেখে—দু’জন, তিনজন… পাঁচজন। মুখে মুখোশ, গায়ে কালো ট্যাকটিকাল পোশাক, হাতে সাইলেন্সার লাগানো সাবমেশিন গান। স্পেশাল ফোর্স!
রনি তাকিয়ে দেখে কিন্তু তার মুখে ভয়,বিচলিত,আতঙ্ক অথবা বিষ্ময় কিছুই নেই।বরং আরহানের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুতভাবে হাসে সে।
তার পাশে দুজন লোকের হাতে গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।ঈশানির পাশের লোকটা স্পেশাল ফোর্সের হাতে বন্দী।
ইয়াসিন ও উঠে এসেছে। সে ঈশানির হাত পা খুলে দিচ্ছে চেয়ার থেকে।ঈশানি যেনো এক আশার আলো পেলো।
স্পেশাল ফোর্সের একজন লোক সতর্কবাণী হিসেবে ছুড়লো –
“নিজেকে আত্মসমর্পণ করুন রনি সিকদার।নাহলে কিন্তু আমাদের গুলি করার পারমিশন আছে।”
রনি তাকায় অফিসারের দিকে।বিশ্রীভাবে হেসে বলে –
“গুলি করবেন স্যার?করেন।আমি রনি সিকদার মৃত্যুর ভয় পাই না।তবে মরণের আগে আমার কাজ শেষ করতে দিলেন না এটা নিয়ে কিন্তু আমি কষ্ট পেয়েছি।”
অভিনয় করে মুখ ছোটো করে ফেললো। আরহান তখনো মাটিতে লুটানো।সে উঠে ঈশানির কাছে যেতে নিলে রনি পা দিয়ে ফেলে দেয় তাকে।তারপর
আরহানের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আবার হিংস্রভাবে বলে –
“আমি যদি আজ নিজে মরি তবে মরলাম কিন্তু ওদের মৃত্যু নিশ্চিত করে তবেই মরবো।এখন স্যার আপনারা ভাবেন একজন মরবে না দুজন মরবে।”
ঈশানি চিৎকার করে উঠে দৌড়ে আসতে চায় আরহানের কাছে।কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চেয়ারের হাতে বাধা থাকায় তার হাতপা ঝিমিয়ে গেছে।তৎক্ষণাৎ বল না পেয়ে পরে গেলো সে।
ঈশানি দৌড়াতে চায়, কিন্তু শরীর আর সাড়া দেয় না। চোখ দিয়ে নেমে আসে নিঃশব্দ কান্না, ঠোঁট কাঁপে ।
রনি ঈশানিকে দেখে বললো –
“এক পা এগোবি তো তোর নাগরের খুলি উড়িয়ে দেবো।”
ঈশানি ওখানে বসেই কাদতে থাকে।ফোর্সের লোক রনিকে বলে –
“আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।আপনি আত্ম সমর্পণ করুন আপনার শাস্তি কম হবে।”
রনি হাসলো।বিশ্রী ভাবে পৈচাশিক হাসি হাসলো।কিছু বলতে নেয়ার আগেই আরহান আঘাত করলো তাকে।মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো রনি।
আরহান দৌড়ে যায় ঈশানির কাছে।ঈশানিকে জড়িয়ে ধরে।যেনো তার আত্মায় রুহ ফিরে এসেছে।ঈশানি আরহানকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়।প্রতিটি ক্ষতে চুমু বসায়।
ওদিকে রনি পড়ে যাওয়ার সাথে ফোর্সের লোক তাকে ধরে ফেলে।কিন্তু রনি তাদের ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায়।তার পিছু নেয় ফোর্সের লোকেরা।পুরো বিল্ডিং জুড়ে ছমছমিয়ে উঠে বুটের ঠকঠক শব্দ।
আরহানের অবস্থা নাজুক।রনি ও তার লোকেরা তাকে পিটিয়েছে বেধড়ক।তার শরীরের প্রতিটি অংশ ক্ষতে ভরা।
ঈশানি কেঁদে ফেললো আরহানের এই অবস্থা দেখে। আরহানকে জড়িয়ে ধরে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।প্রতিটি ক্ষতে চুমু দিয়ে যেনো সেসব ব্যথা শুষে নেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। আরহান নির্জীব হয়ে দেখে যাচ্ছে ঈশানির পাগলামি।
কক্ষে আরহান – ঈশানি ছাড়াও উপস্থিত ছিলো ইয়াসিন।বাকি ফোর্সের লোকেরা রনিকে ধরতে পিছু নিয়েছে। ইয়াসিন এগিয়ে গিয়ে বললো –
“ভাই, আমাদের এবার বেড়িয়ে পড়া উচিৎ।এখনো বিপদমুক্ত নন আপনারা।”
ঈশানির দিকে তাকিয়ে আবার বলে –
“ঈশানি,উঠো।ভাইকে তুলতে সাহায্য করি।তুমিও দুর্বল।”
আরহানের দুহাত ঈশানি ও ইয়াসিনের দুকাধে ভর দিয়ে উঠে দাড়ায়।পায়ের হাঁটু ও গোড়ালিতে মেরে জায়গা গুলো ভালো জখম করেছে। প্যান্ট ছিঁড়ে রক্ত বেরোচ্ছে। থেঁতলে গেছে জায়গা গুলো।রুম থেকে বের হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর আরহান ইয়াসিনকে বলে –
“তুমি একটু গিয়ে দেখো রনিকে ধরতে পেরেছে কি না। আর গাড়িটাও বের করো।এখান থেকে বের হয়েই আমরা রওনা দেবো।”
ইয়াসিন ইতস্তত করে বললো –
“ভাই,ঈশানি তো একা আপনাকে নিয়ে যেতে পারবে না।আমি নিচে নিয়ে যাই পরে দেখছি।”
আরহান শুনলো না। জোর দিয়ে বললো –
“আমি যেতে পারবো।তুমি ওদিকটা দেখো। এখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেড়োতে হবে আমাদের।”
ইয়াসিন আর কিছু বলে না। সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে আসে।নিচে যে কয়েকজন ফোর্সকে আত্মরক্ষার জন্য পাহাড়া দিতে বলা হয়েছিলো তারা রয়েছে।ইয়াসিন এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলো –
“ক্রিমিনালকে কি ধরা হয়েছে?শাহেদ কোথায়?আসেনি এখনো?”
ফোর্সের লোকের মধ্যে একজন বলে –
“স্যার তো এখনো এদিকে আসেনি।আর ক্রিমিনালদের ও এদিকে দেখা যায়নি।”
ইয়াসিন কিছুটা চিন্তিত হয়ে।তারপর আবার প্রশ্ন করে –
“পুরো বাড়ি কি ঘেরাও করা হয়েছে?”
উত্তর পাবার আগেই “বুম” করে শব্দ হয়।ইয়াসিন সহ বাকি সবাই সামনে তাকিয়ে দেখতে পায় পুরানো লোহার কারখানাটিতে আগুন জ্বলছে। ইয়াসিন হতবিহ্বল,অবাক ও চমকে তাকিয়ে থাকে।প্রমুহূর্তেই চিল্লিয়ে উঠে –
“ভাই,ঈশানি!”
তখনি একদল ফোর্সের লোক বেড়িয়ে আসে ভেতর থেকে।তাদের দেখে ইয়াসিন ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করে –
“আপনারা এসেছেন – ভাই কোথায়?ঈশানি কোথায়? আগুন জ্বলছে কিভাবে?”
শাহেদ নামের লোকটি যে ইয়াসিনের বন্ধু এবং বর্তমানে টিমটিকে লিড করছে সে জানায় –
“ওনারা ভেতর থেকে বের হয়নি এখনো?”
ইয়াসিন পাগল প্রায় হয়ে সুধায় –
“না।ওরা এখনো ভেতরে।আগুন লাগলো কিভাবে? ভাই ,ঈশানি..”
বলতে বলতে ভেতরে যেতে নেয় ইয়াসিন।আটকে দেয় বাকি লোকজন।দুজন লোক রনিকে নিয়ে আসে।হাতে তার গুলি লেগেছে।তবুও হাসতে হাসতে বলে –
“বলে ছিলাম না আজ এখানে ওদের মরণ নিশ্চিত। আজ ওদের মরণ হবেই।”
ইয়াসিন তেড়ে যায়।গিয়ে ঘুষি লাগায় রনির মুখে ও নাকে।বাকিরা তাকে আটকে রাখে।ইয়াসিন চকিত হয়।শাহেদকে গিয়ে বলে –
“শাহেদ,ভাই ঈশানি ভেতরে।ওদের বাঁচা।কিছু কর।”
শাহেদ ইয়াসিনকে সামলায়।তার জুনিয়রকে নির্দেশ দেয় ফায়ার ব্রিগেডকে কল দেয়ার জন্য।
ইয়াসিন সোজা হয়ে দাঁড়ায়।সাহেদের উদ্দেশ্যে বলে –
“বউকে কথা দিয়ে এসেছি ভাই ও ঈশানিকে নিয়ে ফিরবো।সরি দোস্ত ,তোর ফায়ার ব্রিগেডের অপেক্ষা করতে পারবো না।তবে যা করবি তাড়াতাড়ি করিস ভাই।”
বলেই চোখের নিমিষে ইয়াসিন ঝাপিয়ে পড়ে জ্বলন্ত কারখানায়।পিছন থেকে শোনা গেলো একঝাঁক শোরগোল।কিন্তু ইয়াসিন জানে – তার আয়রাবিবিকে দেয়া কথার খেলাপ করলে মেয়েটা কি ভীষন রেগে যায়।
মিলিয়ে গেলো সে আগুন ও ধোঁয়ার অন্তরালে।পিছন থেকে শোনা গেলো রনির হিংস্র বিকট হাসি যেনো আজ তার সর্বোচ্চ খুশির দিন।সেই হাসি যেনো মৃত্যুর আগে পাওয়া শেষ উল্লাস।
~চলবে
{ভুল – ত্রুটি ক্ষমা করবেন।গল্পটা প্রায় শেষের দিকে।আর দু/একটা পর্ব হবে।}

