তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ২৬

0
23

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২৬
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
চারদিকে কেমন যেনো আধারের প্রলেপ পড়েছে।চারদিকে মানুষের ছায়াও দেখা যাচ্ছে না। রিক্সাওয়ালা মামা ইতোমধ্যে নিজের জান বাঁচাতে পালিয়েছে।ঈশানির মনে এতক্ষন যতটুকু সাহস সঞ্চয় ছিলো সেটাও যেনো হওয়ায় মিলিয়ে গেলো,সামনের মানুষটিকে দেখে।সামনে দাঁড়ানো মানুষটি বিশ্রীভাবে হেসে উঠলো।ঈশানির মনে হলো যেনো কোনো দৈত্য দাড়িয়ে তার সামনে।মুখ দিয়ে অস্ফুটে বের হলো –
“রনি ভাই।”

রনি বিশ্রীভাবে হাসলো। সেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলে উঠে –
“হ্যাঁ,ডার্লিং আমি।হিসেব চুকাতে এসেছি।”

ঈশানি ভয়ে দুপা পিছিয়ে গেলো।নির্জন রাস্তা।এতক্ষন কয়েকটা প্রাইভেট কার গেলে এখন সেটাও দেখতে পাচ্ছে না।একদম ফাঁকা রাস্তা।ভয়ে ঈশানির হৃদয়ে কামড় মারলো। সে আর কিছু না ভেবে উল্টপাশে ঘুরে দৌড় দিলো।এই লোকগুলো নিশ্চয় তাকে ছাড়বে না। সে প্রাণপণে দৌড়ে যাচ্ছে।পিছন থেকে ছেলে গুলোর দৌড়ানোর আওয়াজ ও বিশ্রী গালি শুনতে পাচ্ছে ঈশানি।তার শরীর গুলিয়ে উঠছে,শরীর অসাড় লাগছে।এমন সময় তার ফোন বেজে উঠল।ঈশানি দৌড়াতে দৌড়াতে ফোন বের করলো।যেনো সে জানে কে কল করেছে এমন ভঙ্গিতে কলটা রিসিভ করে বলে –
“আমাকে বাঁচান প্লীজ।ওরা আমার পিছু নিয়েছে।বাঁচান।”

ঈশানির নিশ্বাস ভারী হয়ে উঠে দৌড়াতে দৌড়াতে। অপরপাশ থেকে আরহানের অস্থিরতা পূর্ণ আওয়াজ আসে –
“কোথায় তুমি? কারা পিছু নিয়েছে? ঈশানি,ঠিক আছো?কোথায় আছো।”

ঈশানি হুহু করে কেঁদে দিলো।একটা ইটের সাথে ধাক্কা লেগে পরে যায় সে।ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে ফেলে ফেলে সে।ফোনের ওপাশ থেকে আরহানের ব্যস্ত ও অস্থির কন্ঠ ভেসে আসছে।পিছনের লোকগুলো ইতোমধ্যে ঈশানিকে ঘিরে ধরেছে।ঈশানি ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে কেঁদে বলো –
“আমাকে ছেড়ে দিন প্লীজ।রনি ভাই ছেড়ে দেন।”

আরহান ফোনের ওপাশ থেকে শুনলো ঈশানির করুন কন্ঠস্বর,আকুতি।রনি নাম শুনতেই সব বুঝে গেলো।রক্ত মাথায় উঠে গেলো।ফোনের মধ্যেই চিল্লিয়ে বলে উঠলো –
“কুত্তার বাচ্চা,ওকে স্পর্শ করবি না।রনি জানোয়ারের বাচ্চা,ওকে স্পর্শ করবি না। হাত কেটে কুকুরকে খাওয়াবো।”
আবার বলে –
“ঈশানি,ঈশানি কোথায় আছো?আমাকে বলো।”

ঈশানি ভয়ার্ত চোখে তাকায় রনির দিকে। সে যেনো খুব মজা পেলো আরহানের কথায়।গা দুলিয়ে হাসছে।ঈশানি ফোনটা হাতে নিয়ে কিছু বলতে নিলে রনি কেড়ে নেয়।তারপর ঈশানির হাতের উপর পা দিয়ে পিষে ধরে।ঈশানি ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে।রনি সেভাবেই ফোন মুখের কাছে নিয়ে বলে –
“বড় ভাই,রিল্যাক্স রিল্যাক্স।এতো তাড়া কিসের।ভাবি আর দেবর একটু কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করবো।এতো উত্তেজিত হলে চলে।”

আরহান একটা অশ্রাব্য গালি দিয়ে চিল্লিয়ে বলে –
“রনি,ওকে ছেড়ে দে। এর পরিণাম অনেক খারাপ হবে।ছেড়ে দে ওকে বলছি।”

রনি আবার হাসে।নির্জন রাস্তায় সেই হাসির ঝংকার ভয়ংকর লাগে।রনি এবার চোখ দুটো লাল করে ঈশানির হাতের উপর পাটা আরেকটু পিষে ধরে বলে –
“ধর,পরিণামের আগে তোর বউটাই নাই হয়ে গেলো তখন।”
“ওকে ছেড়ে দে রনি।ছেড়ে দে।”– এ পর্যায়ে আরহানের কন্ঠস্বর করুন শোনালো।

রনি আবার হাসলো।যেনো খুব মজা পেয়েছে।হাসতে হাসতে বলছে –
“আচ্ছা যা ছেড়ে দিলাম।তুই আয় তবে।ওকে নিয়ে নিজেকে আত্মসমর্পণ করবি।তোর সাথেও তো অনেক হিসাব বাকি।”
“হ্যাঁ,হ্যাঁ আমি রাজি।কোথায় আসতে হবে, বল?”
“ঠিকানা চলে যাবে তোর ফোনে।কিন্তু যদি বেশি চালাকি করে পুলিশ অথবা অন্য কোনো ফন্দি আঁটিশ তাহলে তোর বউয়ের লাশও খুঁজে পাবি না।”

আরহান সঙ্গে সঙ্গে বলে –
“না, একাই যাবো আমি।তুই শুধু বল ঈশানিকে স্পর্শ করবি না,কষ্ট দিবি না।আমি এক্ষণই আসছি।”

রনি আর কিছু না বলে ফোন কেটে দেয়।

এদিকে ঈশানির প্রতিটি রন্ধ্রে ভয়রা জমায় বাঁধতে শুরু করে।।সে মনে মনে আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে,গুলিয়ে ফেলছেন অশ্রু এবং নিশ্বাস।

রনি পা সরিয়ে ঈশানিকে এক ঝটকায় উঠিয়ে সোজা করে দাড় করায়। পাশ থেকে একজন ছেলে বলে –
“ভাই,ওই শালায় যদি পুলিশ নিয়ে আসে।”

রনির চোখ জ্বলছে,যেনো সে কোনো রক্তপিপাসু কোনো শেয়াল।তারপর হিসহিসিয়ে বলে –
“সেই ব্যবস্থাও করা আছে আমার। আগে এই শালীকে নিয়ে চল।”

ঈশানি আর্তনাদ করে মিনতি করলো –
“রনি ভাই,প্লীজ ছেড়ে দিন।আমি তো আপনার কোনো ক্ষতি করিনি।”
রনি বিকৃতভাবে হেসে উঠলো ।তারপর বললো –
“ক্ষতি করিসনি?তোর জন্য জেলে ছিলাম ।আমার বাবার রাজনীতিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে
অপদস্ত হয়েছে।তোর নাগর লেলিয়ে দিয়েছিস এগুলো তোর কম মনে হয়। আজ সবকিছুর প্রতিশোধ তুলবো।প্রতিটি অপমানের,প্রতিটি আঘাতের।আসল খেলা তো শুরু হবে তোর নাগর আসার পর।”

কথাটা শেষ করেই ঈশানির বাহু চেপে ধরে। অপর একটি ছেলে ঈশানির মুখে কষ্টিপ পিষে দেয় এবং মোটা রশি দিয়ে তার হাত বেঁধে দেয়া হয়।

তারা ধীরে ধীরে ঈশানিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে—নির্জন রাস্তায়, গভীর অন্ধকারে, এক ভয়াবহ রাতের দিকে।
.
আরহান বেরিয়ে গেছে আধ ঘণ্টা হবে।চৌধুরী বাড়িতে যেনো নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব শোকাবহ নীরবতা।মিনারা বেগম থেমে থেমে কেঁদে যাচ্ছেন তখন থেকে – আর থামার নাম নেই।অলিভিয়া সামলাচ্ছেন ওনাকে।কিন্তু মিনারা কেঁদেই যাচ্ছেন।শরীর খারাপ হওয়ার উপক্রম।সে জাহিদ চৌধুরীর কাধ ঝাকিয়ে কাদতে কাদতে বললেন –
“মেয়েটা কেমন অবস্থায় আছে আল্লাহ্ জানে।এরমধ্যে ছেলেটা একা এক চলে গেলো।শুনছো… আমার ছেলে মেয়ে দুটোর কিছু হলে আপনার সাথে বোঝাপড়া করবো আমি।আপনি এখানে দাড়িয়ে কেনো কিছু করুন।”

কথারা যেনো গুলিয়ে যাচ্ছে ভিতরে সব।জাহিদ চৌধুরী শক্ত হয়ে থাকলেও তার ভিতরে চলছে অস্বাভাবিক ভয়।অস্থির চিত্তে পায়চারি করে গেছে।ছেলের জীবনের উপর রিস্ক নেয়ার বিন্দুমাত্র সাহস তার নেই।তারউপর মেয়েটা ওদের হাতে বন্দী। হঠাৎই বুকে হাত দিয়ে বসে পড়লেন জাহিদ চৌধুরী। মিনারা বেগম স্বামীকে ধরলেন।আবার কেঁদে দিলেন।তার সোনার সংসারে কিসের নজর পড়লো।ছেলে,মেয়ে এখন স্বামী সবাই অনিশ্চয়তার দ্বারপ্রান্তে ।সে কোথায় যাবে কি করবে।

তখনি ব্যস্তপায়ে ছুটতে ছুটতে প্রবেশ করলো আয়রা।পিছনে ইয়াসিন যথাসম্ভব চেষ্টা করছে তাকে সামলানোর।মাঝে সতর্কবাণী ছুঁড়ছে –
“আস্তে যাও।পড়ে যাবে। আরু সাবধানে যাও।ব্যথা পাবে।”

আয়রা এসব শুনলে তো।সে ছুট্টে এসেছে।মায়ের কাছে।বাবার অবস্থা দেখে এবার সেও কেঁদে দিলো।ইয়াসিন শশুড়কে রুমে নিয়ে গেলো।ডাক্তারকে কল করলো।
তারপর আয়রা ডেকে বললো –
“জান,ভেঙে পড় না। মা ভেঙে পড়েছে এখন তুমি ভেঙে পড়লে হবে।তোমাকেই তো সামলাতে হবে। আর তোমার ভেতরে যে ছোট্ট প্রাণটা আছে সেটাও তো ভয় পাচ্ছে।তুমি এদিকটা সামলাও।আমার এখন ভাইয়ের কাছে যেতে হবে।আমার বন্ধু স্পেশাল ফোর্সে আছে।ওকে আমি খবর দিয়েছি।সেখানে যেতে হবে।এদিকটা সামলে নেও,সোনা।”

আয়রার কপালে চুমু দিলো সে। আয়রা শব্দ করে কেঁদে দিলো।ইয়াসিনকে জড়িয়ে ধরে বললো –
“ভাই আর ঈশানি ….”

কান্নার দমকে আর কিছু বলতে পারলো না।গুলিয়ে ফেললো সব।ইয়াসিন বলতেও দিলো না।উল্টো সে বললো –
“হুস, কাদে না।কিচ্ছু হবে না ওদের।এবার আমকে যেতে দেও আরু।কেঁদো না আর।বাবার কাছে যাও।”

আয়রাকে বুঝিয়ে সে বেরিয়ে গেলো। আয়রা বাবা – মার রুমে গিয়ে দেখে মা জায়নামাজে বসেছে।বাবা অস্থির চিত্তে শুয়ে আছে।সেও মনে মনে আল্লাহকে ডেকে যাচ্ছে।ওদের হেফাজত চাইছে।
.
শহর থেকে অনেকটা দূরে, যেনো সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক লোকেশন। চারপাশে শুধু শূন্যতা আর নিরবতা। আশেপাশে নেই কোনো বাড়িঘর, নেই মানুষের অস্তিত্ব। মাঝখানে এক বিশাল খোলামাঠ, যার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে একটা পুরনো, পরিত্যক্ত মিল-কারখানা। জং ধরা লোহার গেটটি ধাক্কা দিতে একটা কর্কশ শব্দ করলো।নিস্তব্দ পরিবেশে সেই শব্দ কেমন গা ছমছমে শিহরণ জাগালো। আরহান সেই গেট ধাক্কিয়ে ভেতরে যায়। কারখানাটা সম্ভবত কোনো পুরানো লোহার কারখানা।বেশ উচু বিল্ডিং।অন্ধকারে চারপাশ ঠিক ধারণা করতে পারলো না সে।মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে উপরে যায় সে।দোতলার সিঁড়ি মাড়িয়ে তিনতলায় উঠে থেমে যায়।রনির দেয়া বার্তা অনুসারে এখান থেকে তার লোক এসে নিয়ে যাবে তাকে।
আরহান দুমিনিট দাড়িয়ে থাকলে সামনে থেকে দুটি মানবছায়া দেখতে পায়। লোকদুটোর হাতে পিস্তল।সেটা আরহানের মাথার পিছনে ঠেকিয়ে সামনে যেতে ইশারা করে।
আরহান দুহাত উচু করে সামনে এগিয়ে যায় তাদের নির্দেশনা উচিৎ।তার ভিতরে অস্থিরতা– না জানি মেয়েটার কি অবস্থা।তার ঈশানি কি ভয়ে গুটিসুটি মেরে আছে।এই জানোয়ারগুলো কিছু করেনি তো?নানারকম প্রশ্ন ও চিন্তায় জর্জরিত তার ভেতর।

তাকে নির্দিষ্ট কামড়ায় নিয়ে যাওয়া হলো। আরহান একবার চোখ বুলিয়ে পুরো ঘরটা দেখলো।বেশি কিছু নেই। দু -একটা পুরোনো জং ধরা মেশিন ,একটা চকি– যেটার উপর রনি বসে আছে।পাশে দুজন ছেলে মিলে তাশ খেলছে।যেনো পিকনিক করতে এসেছে।
সে পুরো ঘরে নজর ঘুরিয়ে ঈশানিকে কোথাও পেলো না। তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো।

রনি খেলা থামিয়ে তাকালো আরহানের দিকে।ঠোঁটে হাসি রেখে একটা লম্বা সালাম দিলো –
“আসসালামু আলাইকুম , বড়ভাই।”

আরহান শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে –
” ঈশানি কোথায়?কোথায় রেখেছিস ওকে?”

রনি শরীর দুলিয়ে হাসে।তারপর বলে –
“এতো ব্যস্ত হচ্ছেন কেনো বড় ভাই। আগে আপনার সাথে ছোট্ট হিসেবটা মিটিয়ে নেই তারপর না হয় আমার ডার্লিং ওহ সরি আমার ভাবীর সাথে দেখা করবেন।”

আরহান অশ্রাব্য গালি দিয়ে বলে –
“আগে ঈশানিকে আমার সামনে নিয়ে আয়। ওকে ঠিকঠাক না পেলে তোর বুক চিড়ে রুহ বের করে আনবো আমি হারামজাদা।”

রনি আবার হাসে।যেনো কোনো মজার কৌতুক শুনেছে সে।
তারপর হঠাৎ তার চোখে মুখে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।চোখ লাল করে বলে উঠে –
“আমার একটা ইশারায় তোর খুলি উড়ে যাবে। আর তুই আমার রুহ বের করার হুমকি দিচ্ছিস।শালা মরতে এসেও তেজ কমে না।”
“তোর বউকে যত্নে রেখেছি। শুধুমাত্র তোর সামনে তোর বউকে আদর করবো বলে এখনো স্পর্শ করিনি।সেদিন তো তোর কিছুই ছিলো না, তাও একটা মেয়ের জন্য আমাকে মেরেছিলি । আজ সম্পর্কে সেই মেয়ে তোর আর তাকেই তোর সামনে স্পর্শ করবো।প্রতিটি অঙ্গ ঝলসে দেবো।তুই শুধু দেখবি।”

আরহান আর নিজেকে থামাতে পারলো না
এগিয়ে আরহান এগিয়ে গিয়ে মুঠি করে ধরে রনির কলার চেপে বলে –
“চুক্তি ছিলো ,আমি আসলে ওকে ছেড়ে দিবি। ওকে ছেড়ে দে।নাহলে তুই বেঁচে ফিরতে পারবি না।জানোয়ারের বাচ্চা।”

রনি আবার হাসে।তার বিশ্রী হাসিতে রক্ত গরম হয় আরহানের। নাক বরাবর এক ঘুষি মারে।পিছনের দুটো ছেলে তেড়ে আসে আরহানকে ধরতে।

রনি হাত দিয়ে ইশারা করে পিছিয়ে যেতে। ছেলে দুটো পিছিয়ে যায়।তারপর নিজের রক্ত মুছে সোজা হয়ে দাঁড়ায় রনি।গা দুলিয়ে বলে –
“শালা,তোর সাহসের দাঁত দিতে হচ্ছে।তোর বউ আমার জিম্মায় তবুও তেজ কমে না।মেরে দেই তোর বউকে? তারপর সাহস দেখা।”

আরহান বোধ হয় দমলো এবার। দাঁত কিড়মিড় করে বললো –
“ওকে আমার সামনে আন।আমি ওকে ঠিকঠাক দেখতে চাই।তারপর যা খুশি করিস।”

রনি হাত দিয়ে ইশারা করতে দুটো ছেলে ঈশানিকে নিয়ে আসে।মুখে কোষ্টিপ, হাত বাঁধা চেয়ারের সাথে।
আরহান হত্নদন্ত হয়ে দৌড়ে যায় সেদিকে।কিন্তু তখনি রনির লোকেরা ঈশানির মাথায় বন্দুক তাক করে।থেমে যায় আরহানের কদম।

ঈশানি অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে আছে।বুকটা ভেসে যাচ্ছে তার।দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।মুখে কস্টিপ থাকায় কথা বলতে পারছে না।শুধু “উ উ” করে যাচ্ছে। হাত পা ছোঁড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে নিরন্তন।

রনি এগিয়ে আসে আরহানের দিকে। আরহানের হাঁটু বরাবর লাথি দেয়।ঈশানির দিকে মনোযোগ থাকায় সে দুর্বল হয়ে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ে।রনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে –
“দেখেছিস বউকে?এবার তাহলে তোর আর আমার হিসাব বরাবর করা যাক।”

ঈশানি কাতরিয়ে উঠে। আরহানকে ধরার জন্য যেনো ছুট্টে আসতে চাইছে।কিন্তু পারছে না।

রনি আবার পিঠ বরাবর লাথি দিয়ে বলে –
“তুই যতক্ষন মার খাবি ততক্ষন তোর বউয়ের শ্বাস চলবে।”

ঈশানি ছটফটিয়ে উঠে।যেনো বলতে চাইছে – “আপনি চলে যান।আপনার এই অবস্থা আমি সইতে পারছি না।চলে যান।”
কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারলো না।মুখে শুধু ” উ উ ” করে গুঙিয়ে যাচ্ছে।রশি ছিঁড়ে,চেয়ার ভেঙে যেনো আরহানের কাছে যাওয়ার প্রয়াস করে যাচ্ছে।কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

~চলবে

{ ভুল – ত্রুটি মার্জনা করবেন। নাইচ,নেক্সট কমেন্ট বাদ দিয়ে একটু গঠনমূলক মন্তব্য করবেন প্লীজ।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here