তোমার_আমার_প্রেম পর্ব – ২২ লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা

0
27

#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২২
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
বুড়িগঙ্গা — ঢাকার প্রাণ, ঢাকার ইতিহাসের এক সজীব সাক্ষী। তার স্থির অথচ গম্ভীর স্রোত বয়ে চলে যুগের পর যুগের গৌরব আর বিস্মৃতি বুকে ধারণ করে। আরহানদের গাড়ি থেমেছে প্রায় ২০/২৫ মিনিট।সে ঈশানিকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে বাহিরে গেছে।ঈশানিকে কড়া করে বলে গেছে–সে না অব্দি যেনো গাড়ি থেকে না বের হয়।ঈশানি তখন থেকে খুটখাট করছে গাড়িতেই।বেশ কিছুক্ষণ পর আরহান আসলো।ঈশানিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার নরম তুলতুলে হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিলো।তারপর এগিয়ে গেলো ঘাটের দিকে।সে একটা ছোট নৌকা রিজার্ভ করেছে।সেটায় চড়েছে দুজন।ঈশানি প্রথমবার নৌকা উঠেছে।বিশাল আকাশের নিচে নদীর শান্ত পানি।ঈশানির চক্ষুদ্বয় চকচক করে উঠলো।হৃদয় নেচে উঠলো আনন্দ।সে আরহানের হাত ছেড়ে উঠে সামনে গেলো।নৌকার পাশঘেষে বসে নদীর পানিতে হাত ভেজাচ্ছে।চোখে মুখে তার দীপ্তি,বাচ্চাদের আগ্রহ,চোখে খুশির ঝিলিক এবং ঠোঁটে মিষ্টি মধুর হাসি। আরহান পুরোটায় দেখে যাচ্ছে।ঈশানি হাত উঁচিয়ে ডাকলো তাকে। আরহান পা বাড়ালো সেদিকে।গিয়ে বসলো ঈশানির পাশে।ঈশানি খিলখিল করে হেসে বললো –
“কি সুন্দর তাই না?জানেন আমি আগে কখনো এদিকে আসিনি, নৌকাতেও উঠিনি।কি সুন্দর চারদিক।”

আরহানের নজর কি আর চারদিকে আছে? তার সবটুকু নজর,দৃষ্টি সামনে বসা প্রাণোচ্ছল মেয়েটার দিকে।হাসলে দুগাল দুদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে,চোখদুটো ছোটো হয়ে যাচ্ছে,সাথে দুলে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। আরহানের কেনো যেনো তৃষ্ণা পেলো।ঈশানি তখন থেকে এটা ওটা দেখাচ্ছে আর জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে এটা কি? ওটা কি? এটা এখানে কেনো?এরকম নানা ধরনের প্রশ্ন নাস্তানাবুদ করছে আরহানকে।কিন্তু আরহান একটুও বিরক্ত হচ্ছে না।হাসিমুখে সবকিছুর উত্তর দিচ্ছে।সতর্ক নজরে খেয়াল রাখছে।ঈশানিকে টেনে পানি থেকে দূরে আনছে।কিন্তু মেয়েটা আজ বড্ড অবাধ্য হয়েছে।ছুট্টে যাচ্ছে বারবার পানির দিকে।আকাশ দেখছে। আরহান ঈশানিকে না জানিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি তুলেছে তার।
প্রায় ঘণ্টাখানেক থেকে তারা নৌকায়। সময়টা এখন পরন্ত বিকেলে হলেও দেখে মনে হচ্ছে ঘোর সন্ধ্যা।হুট করেই সাদা মেঘগুলোকে সরিয়ে কালো রাশি রাশি মেঘরা ভিড় জমিয়েছে আকাশে।ঢেকে গেছে সেই তেজস্বী উদীয়মান সূর্যটাও।বাতাস ছেড়েছে ভালই। শা শা করে বয়ে যাচ্ছে তুমুল বাতাস।আরহান পরিবেশ প্রতিকূল দেখে মাঝিকে বললো নৌকা ঘুরাতে।দ্রুত ঘাটে নিয়ে যেতে।মাঝিও কথামতো নৌকা ঘুরিয়েছে।প্রাণপণে চেষ্টা করছে যতদ্রুত সম্ভব ঘাটে পৌঁছানোর।এর মধ্যে কয়েকবার মেঘ ডেকেছে।ঈশানি বেশ ভয় পেয়ে আছে। আরহান ঈশানির হাত ধরে আছে।কোমল মৃদু স্বরে বলে –
“কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাটে পৌঁছে যাবো।চিন্তা করো না।”

ঈশানি মাথা নাড়লো। অবশ্য তার বৃষ্টির আগমনী এই মুহূর্ত ও খারাপ লাগছে না।একটা গা ছমছম ব্যাপার আছে।পাশে পছন্দের নিজস্ব পুরুষ পরিবেশটাতে একটা অন্যরকম শিহরণ জাগাচ্ছে।ঈশানি একটু শক্ত করে ধরলো আরহানের হাত।কিন্তু ঈশানির গা ছমছমে ভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আকাশ থেকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো।তারা প্রায় ঘাটে পৌঁছে গেছে।বৃষ্টির পানিতে দুজনের ভিজে জবজবে।নৌকা থামলে কোনরকম তারা নেমে পড়ে।দৌড়ে গিয়ে ঠাঁই নেয় একটা টিনের দোচালা চায়ের দোকানের সামনে।ঈশানির শরীর ভিজে বাজে অবস্থা। তারওপর ঠাণ্ডায় কাপছে। আরহান একবার ঈশানিকে দেখে নিলো।কাধে হাত দিয়ে আগলে নিলো ঈশানিকে। চা বিক্রেতা লোকটা চায়ের কাপে দুধ দিয়ে ঘুটতে ঘুটতে বললো
“মামা,কি নৌকায় উডতে আইছিলেন?”

আরহান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো। চা বিক্রেতা আবার বললো –
“মামী তো পুরা ভেইজা গ্যাছে গা।কাপতাছে ঠাণ্ডায়।”

আরহান বেশ চিন্তিত হলো।গাড়িটাও একটু দূরে পার্ক করা।মেয়েটা ইতোমধ্যে ভিজে গেছে। আর এই ঝড়ো আবহাওয়াতে গাড়ি চালানো রিস্ক।তারউপর সাথে ঈশানি আছে।কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো –
“আশেপাশে,কোনো থাকার মতো হোটেল আছে মামা?

বুড়িগঙ্গার আশেপাশে সাধারণত কোনো রিসোর্ট অথবা কিছু নেই।তবুও মামা বললো –
“এনে তো রিসোর্ট – টিশোর্ট নাই। তয় একটু সামনে আগায় গেলে নতুন একটা বড় হোটেল হইছে নাকি। অনে গিয়ে খোঁজ নিয়া দেহেন।”

বৃষ্টি তখনো ঝড়েই যাচ্ছে।ঈশানি নিজের গায়ের ওড়নাটা নিয়ে পুরো শরীরে জড়িয়ে নিয়েছে।তবুও আরহান নিজের শার্টটা খুলে ঈশানির মাথায় দিলো।দিয়ে ঈশানিকে নিয়ে ছুটলো গাড়ির দিকে।ঈশানি কিছু বলতেও পারলো না।দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে।বৃষ্টির পানি আবার শরীরে পড়তেই ঈশানির হাঁচি শুরু হয়ে গেলো। আরহান টিস্যু দিয়ে যতটুকু পারলো ঈশানির মুখ,চুল মুছে দিতে থাকলো।মেয়েটার অবস্থা জুবুথুবু। আরহান গাড়ি টান দিলো।৫/৭ মিনিট পরেই গাড়ি থামলো একটি আবাসিক হোটেলের সামনে।ঈশানির কাধ জড়িয়ে ভিতরে গেলো।ঈশানি অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
“বাড়ি যাবো না?এখানে কেনো এলেন?”

আরহান শুধু প্রত্যুত্তর করলো –
“ওয়েদার ফোরকাস্ট বলছে বৃষ্টি আরো বাড়বে।সাথে ঝড় হওয়ার সম্ভবনা আছে।এ অবস্থায় গাড়ি চালানো রিস্ক।”

তারপর রিসেপশনে গিয়ে একটি রুম বুকড করলো আজকের জন্য।ঈশানিকে নিয়ে রুমে গেলো। আরহান বিছানার উপর বসে টাওয়াল দিয়ে ভিজে মাথা মুছতেছিলো।ঈশানি তখনো দাড়িয়ে। আরহান একবার চাইলো ঈশানির দিকে।তারপর বললো –
“দাড়িয়ে আছো কেনো? যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।”

ঈশানি তখনো দাড়িয়ে।কেমন যেনো হাসফাঁস করছে।তবুও মিনমিনিয়ে বললো –
“এখানে তো এক্সট্রা জামা নেই।”

আরহান শান্ত দৃষ্টি দিলো ঈশানির দিকে।পরপরই দৃষ্টি সরিয়ে বললো –
“ওয়াশরুমে বাথরোব আছে।আজরাত ওটা দিয়েই ম্যানেজ করে নেও।”

ঈশানির শরীর যেন চমকে কেঁপে উঠলো খানিক।এদিকে ওদিক নজর ঘোরালো।কিছু বলতে চাইছে কিন্তু পারছে না।পরিস্থিতি অনুকূল।ঈশানি পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে।

প্রায় চল্লিশ মিনিট হয়ে গেছে ঈশানির এখনো বের হওয়ার নাম – গন্ধ নেই। আরহান ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।তার মাথায় চললো – মেয়েটাকে কি অসুস্থ্য হয়ে গেলো নাকি? সাড়াশব্দ ও নেই। আরহান গিয়ে দুটো টোকা দিলো ওয়াশরুমের দরজায়।তারপর প্রশ্ন করলো –
“ঈশানি?ঈশানি,ঠিক আছো তুমি?”

ভিতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেলো না।এবার একটু জোড়ে দুম দুম করে বাড়ি দিলো।উদ্বিগ্ন হয়ে বললো –
“ঈশানি, সাড়া দিচ্ছোনা কেনো?আমি কিন্তু ভিতরে ঢুকে যাবো।”

খট করে আওয়াজ হলো।ঈশানি নিজের মাথাটা শুধু বের করলো।তারপর মাথা নামিয়ে মৃদু কণ্ঠে বললো –
“এটা অনেক ছোটো।এটা পড়ে আমি বের হতে পারবো না।”

আরহান শীতল চোখে চেয়ে আছে। তার চোখ যেন অন্য কিছু বলছে।কিন্তু মুখে বললো –
“বাচ্চামো করো না।পরিস্থিতি বুঝতে শেখো।বেরিয়ে আসো।”

ঈশানি শক্ত হয়ে রইলো।তার মাথা খালি খালি লাগছে।লোকটা যদিও তার স্বামী কিন্তু এখনো সেরকম খোলামেলা সম্পর্কে পৌঁছায়নি তারা। সে কিভাবে যাবে সামনে?

আরহানের তীক্ষ্ণ নজরে টিকতে পারলোনা সে।দরজা আটকে দিতে গেলো। আরহান হাত দিয়ে ধরে ফেললো।ঈশানির হাত ধরে বাইরে নিয়ে আসলো। বাথরোবটা ঈশানির হাঁটু পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গলাটা ভি শেইপ ও লম্বা হওয়ায় বুকের অনেকদূর পর্যন্ত এসেছে। আরহানের শরীরের রক্ত সঞ্চালন দৃঢ় হলো যেনো।হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেলো।গলাটা যেনো শুকিয়ে আসছে।একটা শুকনো ঢোক গিললো সে।ঈশানি লজ্জায় হাসফাঁস করছে।শরীর যেন জড়িয়ে নিয়েছে সে।সেভাবেই দাড়িয়ে পা দিয়ে খুঁটে যাচ্ছিলো মেঝে।গালদুটো লজ্জায় মেদুর হয়ে যায়।নিচের দিকে দৃষ্টি তার, সেদিকে তাকিয়ে বলে –
“আমার …

আর কিছু বলতে পারে না। আরহান এক হাত ঈশানির কোমড়ে আর একহাত ঈশানির মাথার পিছনে রেখে আঁকড়ে ধরে ঈশানির অধরজোড়া।হঠাৎ আক্রমনে ঈশানি দুকদম পিছিয়ে যায়,দেয়ালে ঠেকে পিঠ।সাথে পিছিয়ে যায় আরহানও।তবুও অধরচুম্বনে ব্যাঘাত ঘটায় না।ঈশানি বিস্ফোরিত নয়নে চেয়ে।তখনো তার ছোটমাথা কাজ করছে না যেনো।বিমূঢ়, বিষ্ময়। আরহান যেনো নিজের মধ্যে নেই আজ।বেসামাল ভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছে ঈশানির দেহ।ঈশানি ছটফটিয়ে উঠলো। আরহান ছাড়লো না।হাতের বাধন শক্ত করলো,গভীর করলো চুম্বন।

প্রায় মিনিট পাঁচেক পর আরহান অধরদয়ের মাঝে একটি ফাঁক করলো।দুজনের উত্তপ্ত নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে একে অপরের উপর।ভারী হয়েছে দুজনের নিশ্বাস।ঈশানির শরীর কাপছে।সেদিনের চুমুর মতো আজকেরটা সফট ছিলোনা।অন্যরকম ছিলো। আরহান ঈশানির মুখ নিজের হাতের আজলায় নিলো।ঈশানির চোখ তখনো বন্ধ।গভীর আবেশে কপালে চুমু আকলো।হুট করেই কোলে তুলে নিলো ঈশানিকে।ঈশানি চট করে চোখ খুললো।চোখের মিলন ঘটলো আরহানের সাথে।ঈশানির নারিসত্তা কেঁপে উঠলো।বুঝে নিলো ভয়ংকর একটা রাতের আভাস। আরহান ঈশানিকে বিছানায় শুইয়ে নিজেও আধশোয়া হয় তার উপর।তারপর ঈশানির কাছে মুখ এনে উত্তপ্ত নিশ্বাস ফেলে ভারিক্কি,গম্ভীর হাস্কিটোনে বলে -“নতুন একটি জগতে নতুন কিছু অনুভূতির সাথে পরিচিত হতে চাও,ঈশানি?”

ঈশানি কেঁপে উঠলো আবার। আরহান কথাটা অনুমতি চাওয়ার মতো বললেও অনুভূতির ধারধারলো না।মুখ গুঁজে দিলো ঈশানির গলায়।ঈশানি ছটফটিয়ে আঁকড়ে ধরলো আরহানের ঘাড়ের মাংসল জায়গা। আরহান যেনো উত্তাল হলো,উন্মাদ হলো,বেপরোয়া হলো সে তার স্পর্শ।ধীরে ধীরে অসহনীয়, অসহ্য হয়ে উঠল ঈশানি।সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো নতুন অনুভূতির জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো ঈশানিকে। ব্যথামিশ্রিত সুখানন্দে গুঙিয়ে উঠলো সে।বাহিরের উত্তাল ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডবের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়লো বদ্ধ রুমের ভেতরের উত্তাল বৃষ্টি, তাণ্ডব।প্রেমের সেই উত্তাল বৃষ্টিতে ভিজে গেলো দুটো নর – নারী।ভাসিয়ে নিয়ে গেলো নিজেদের অজানা জগতে।
.
ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত -১১:২০ মিনিট। আয়রা খেয়ে দেয়ে মাত্র শুয়েছে।সবেই চোখটা লেগে এসেছিলো তার।কিন্তু ফোনের কর্কশ শব্দে তার ঘুম ব্যাঘাত ঘটে।নম্বর চেক না করেই কল রিসিভ করে সে।কর্কশ কন্ঠে বলে –
“হলো,কে বলছেন?”

ওপাশ থেকে রাশভারী কণ্ঠের ঠাট্টার আওয়াজ পাওয়া যায় –
“আপনার একমাত্র ভোলাভালা ,নাদান,অবুঝ স্বামী আর আপনার বাবুর বাবা বলছি।”

আয়রা চোখ মেলে তাকায়। ফোন নম্বরটা দেখে ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠে।সে বলে –
“তো আমার ভোলাভালা,নাদান,অবুঝ স্বামী এবং বাচ্চার বাবা এতো রাতে কল করেছেন কেনো?”

ইয়াসিন সে কথার উত্তর দিলো না।বরং তাড়া দিয়ে বললো –
“সোনা,তাড়াতাড়ি গেটটা খুলে দেও।ভিজে যাচ্ছি তো।”

আয়রা এপর্যায়ে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো।তারপর ব্যাস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে –
“আপনি বাহিরে দাড়িয়ে আছেন?”

প্রশ্ন করলেও উত্তরের অপেক্ষা করল না সে। তড়িঘড়ি করে গায়ে ওড়না চাপিয়ে,পায় সেন্ডেল ঠেলে হাতে একটি ছাতা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল।সদর দরজা পেরিয়ে গেটের সামনে এগিয়ে গেলো।দেখতে পেলো তার প্রাণের মানুষটা একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। আয়রা ছাতা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ধরলো তার মাথার উপর।ইয়াসিন নিজেই ছাতাটা হাতে নিলো। আয়রা কপট রাগ দেখিয়ে বললো –
“গাড়ি আনেননি আপনি?রাস্তায় কি করছেন এতো বৃষ্টিতে?”

ইয়াসিন প্রিয়তমা স্ত্রীর কপালে টুপ করে একটা চুমু খেলো।তারপর আয়রার কাধ জড়িয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বললো –
“রিক্সা করে এসেছি।তাড়াহুড়ায় গাড়ির চাবি আনিনি আর যাইনি উপড়ে।”

আয়রায়া কিছু বললো না।বাড়িতে নিয়ে এলো আগে।রুমে এনে একটা গেঞ্জি আর টাওজার দিলো হাতে।ইয়াসিন পোশাক পাল্টে আসলে আয়রা যত্ন করে চুল মুছিয়ে দেয়।আর সাথে বকবক করতে থাকে –
“আপনি এতো রাতে কেনো এসেছো? জানাবে তো আগে।তাহলেই তো ভিজতে হতো না।ঠাণ্ডা লাগুক শুধু একবার।”

ইয়াসিন হাসলো ।হাল্কাহাতে কোমড় পেচিয়ে ধরলো আয়রার।তারপর পেটে নাক ঘষে বলে –
“এসেছি আজ কদিন হয়?বিয়ের পর বউ ছাড়া ঘুম হয়না আমার জানো না।দুটোরাত কত কষ্টে কাটিয়েছি জানো।আজ বউ ছাড়া ঘুমালে নির্ঘাত স্টোক করতাম।”

পেটে একটা চুমু বসায় ইয়াসিন। আয়রা ইয়াসিনের চুল টেনে বলে –
“শুধু বাজে কথা তাই না?আমি তো আজই যেতাম কিন্তু ঝড় বৃষ্টিতে আটকে গেছি।”

ইয়াসিন “আহ “করে উঠলো।তারপর আয়রাকে নিজের পাশে বসিয়ে জড়িয়ে বলে –
“এরজন্যই তো আমি চলে এসেছি। কাল বউ নিয়ে তবেই যাবো।”

আয়রা লজ্জা পেলো। কাল সকালে বাবা – মার সামনে বেশ লজ্জা পেতে হবে।মুখে বললো –
“খেয়েছো কিছু? খাবার আনবো?”

ইয়াসিন খেয়েছে জানালো।তারপর আয়রাকে টেনে শুইয়ে দিয়ে,নিজেও শুয়ে পড়লো।তার ফাঁকা বুকে আয়র মাথা নিয়ে বুলিয়ে দিতে দিতে বললো –
“ঘুমিয়ে পড়।অনেক রাত হয়েছে।”

আয়রা বিড়াল ছানার মতো গুটিয়ে রইলো প্রশস্ত বুকটায়। এই বুকটাতেই তো সে স্বর্গের সুখ পায়।তার পৃথিবী এখানেই।
.
ঝড়ের তান্ডব মাঝরাতের দিকেই থেমে গেছে।চারদিক এখন শীতল ঠাণ্ডা আবহাওয়া।চারদিকে আজানের ধ্বনি জানান দিচ্ছে ফজর ওয়াক্তের। আরহান উন্মুক্ত বুকের উপর শুয়ে আছে ঈশানি। আরহান মৃদু কণ্ঠে ডেকে উঠে –
“ঈশানি?”

ঈশানি সেভাবেই কোনরকম উচ্চারণ করে –
“হু।”

আরহান ঈশানির মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে –
“উঠে পড়।গোসল করা দরকার।আজান পরে গেছে।”

ঈশানি ঠোঁটভেঙে কেঁদে উঠে।দুর্বল ক্রদনরত অবস্থায় বলে –
“প্রচুর ব্যথা।করবো না আমি গোসল।”

আরহান যেনো তৃপ্তি পেলো ঈশানির কথায়।গাল একপেশে ছড়িয়ে গেলো।হুট করে উঠে ঈশানিকে কোলে তুলে নেয়।ঈশানি কুকড়ে গেলো ব্যথায়।চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। আরহান গালে চুমু খেয়ে বলে –
“গোসলটা করতে হবে,বউ।প্লীজ কেঁদো না।গোসল করে এসেই ঘুমিও।”

ঈশানির কান্না কমলো না। আরো বাড়লো যেনো।সেভাবেই বলে –
“আপনি খুব খারাপ।খুব পঁচা।”

আরহান গাল ভরে হাসলো।ঈশানিকে গোসল করিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজেও গোসল করে নিলো।ঈশানি ও নিজের শরীরে ব্ল্যাংকেট জড়িয়ে নিলো।ঈশানির ছোট্ট শরীর তার বক্ষাতলে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো ঈশানিকে।সারারাতের ক্লান্তির পর নিমিষেই ঘুমিয়ে গেলো সে। আরহান তার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ,অনেকক্ষণ।তারপর ঈশানির কপালে গাঢ় গভীর চুমু একে দিয়ে নিজেও ঘুমিয়ে পড়লো।

~চলবে

{আপনাদের সকলের অভিযোগ আমি নাকি দেরি করে গল্প দেই অথচ আমি প্রতিদিন একটি করে পর্ব দেই কিন্তু।যাক সেটা,নিন আজকে দ্রুত পর্ব দিলাম।দুদিন ধরে পোস্টে রিয়েক্ট কমেন্ট কমে গেছে ।প্লীজ একটু বেশি বেশি রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন।}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here