#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব – ২৩
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
নিস্তব্দ রুমটায় ফোনের কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো।ঘুমঘুম চোখেই হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে নেয় আরহান।স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে দেখে তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কল দিয়েছে।সে রিসিভ করে।ঘুমে জড়ানো ভারিক্কি কন্ঠে বললো –
“হ্যালো।”
ওপাশ থেকে কিছু বলা হলে তার উত্তরে শুধু ছোটো করে বললো –
“হুম।বিকেলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট রাখো।”
কলটা কেটে গেলো। আরহান সময়টা দেখে নিলো।সকাল – ১০:৩৮ মিনিট।ফোন রেখে নজর দিলো ঈশানির উপর।মেয়েটা এখনো ঘুমে কাবু। তারই বাহুবন্ধনে।কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।তারপর মৃদু স্বরে ,আদুরে করে ডাকলো –
“ঈশানি?ঈশানি?”
ঈশানি ঘুমের মধ্যেই একটু নড়ে চড়ে উঠলো।তবে ঘুম ভাঙলো না।আমার তলিয়ে গেলো। আরহানের ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসি।আবার ঈশানির কানের কাছে আদুরে নরম কন্ঠে বলে –
“এই বউ?বউ?শুনছো বউ?
ঈশানি চোঁখ মেলে চায়।সামনে তার নিজস্ব সুপুরুষ।হুট করেই কাল রাতের ঘনিষ্ট,রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ভেসে উঠে তার চোখে।লজ্জায় মরি মরি হয়ে সেই পুরুষটার বুকেই মুখ লুকায় ,যে তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছিলো লজ্জার সাগরে। আরহান শরীর দুলিয়ে হেসে উঠে যেনো সে জানে ঈশানির লজ্জার কারন।তারপর বলে –
“বউ,উঠে পড়।আমাদের বেরোতে হবে।”
ঈশানি “হু” বলে ওয়াশরুমে চলে যায়।ফ্রেশ হয়ে তারপর তৈরি হয়ে একেবারে বের হয়। আরহান ফ্রেশ হতে চলে যায়।বের হয়ে দেখে ঈশানি আয়নার সামনে দাড়িয়ে। আরহান গিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।ঈশানি কাঁদো কাঁদো মুখ করে নিজের গলার দিকে আঙুল তাক করে বলে –
“কি করেছেন দেখুন তো? আমি বাহিরে কিভাবে যাব।ছোটমা, চাচ্ছু দেখলে কি ভাববে বলুন তো।”
আরহান ঈশানির ঘাড়ে নাক ঘষে বলে –
“ভাববে ,তাদের নাতি – নাতনী আসার সময় হচ্ছে।”
ঈশানির গালদুটো লজ্জায় রাঙা হলো। এই লোকের মুখে কিছু আটকায়। আরহান আবার বললো –
“যাওয়ার সময় মলম কিনে দেবো।লাগিয়ে নিলে চলে যাবে।”
ঈশানি ঘাড় কাত করলো।সকালের নাস্তা করে তারা বেরিয়ে পড়ে। বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তাদের দুপুর গড়িয়ে যায়।গিয়ে দেখে আয়রা চলে গেছে।তার সাথে দেখা না হওয়ায় একটু মন খারাপ ও হলো ঈশানির।তবে সেটা বেশিক্ষণ টিকলো না।তার মনে যে এখন শতরঙ্গা প্রজাপ্রতি উড়ছে। তার বাস এখন নতুন রঙিন দুনিয়ায়।
.
ঈশানির সময় কাটছে কোচিং,পড়াশুনা,স্বামীর সাথে ঘুনসুটি ও ছোটমা নামক শাশুরির সাথে বিভিন্ন গল্প ও কাজ করে।এখন সে গৃহিণী হওয়ার চেষ্টা করে। আরহানের পছন্দের খাবার রান্না করা শেখে।প্রতিদিন কিছু না কিছু ট্রাই করে খাওয়াও।মোটকথা ঈশানির দিন যাচ্ছে এখন স্বপ্নের মতো।
এরই মধ্যে শোনা গেলো আগামীকাল ঈশানির রেজাল্ট বের হবে।সেই থেকে টেনশনে টেনশনে ঈশানির হাত পা ঠাণ্ডা হওয়ার জোগাড়।রূমজুড়ে পায়চারি করে যাচ্ছে।একবার বসছে,একবার উঠছে,একবার দাড়িয়ে কিছু ভাবছে আবার হাঁটছে। আরহান ল্যাপটপে কাজ করছিলো।ল্যাপটপ রেখে বউয়ের দিকে তাকালো।হাসি পেলো তার খুব।তবুও হাসলো না।হাসি সংবরণ করে কাছে ডাকলো ঈশানিকে।ঈশানি সামনে এসে দাঁড়ালে তাকে টেনে নিজের কোলে বসালো।তারপর আদুরে কন্ঠে বললো –
“কি হয়েছে?এতো অস্থির হচ্ছো কেনো?
ঈশানি ঠোঁট উল্টে বলে –
“যদি কালকে আমি ভালো ফলাফল না করি?”
আরহান হাসে।তারপর বলে –
“না করলে আর কি করার? বউ তো ফেলে তো দিতে পারবো না।বাবাকে বলে একটা রিক্সা কিনে নেবো।”
ঈশানি “চ” যুক্ত শব্দ করে বললো –
“আমি সিরিয়াসলি বলছি কিন্তু।”
আরহানো সেভাবেই বললো –
“আমিও তো।”
ঈশানি গাল ফুলালো।ঠোঁট উল্টে বসে থাকলো। আরহান ঈশানির কোমড় পেঁচিয়ে ধরে বলে –
“এতো চিন্তা করো না। যা হবে ভালো হবে।আমার তোমার উপর বিশ্বাস আছে।”
ঈশানি কিছু বললো না।জড়িয়ে ধরলো নিজের স্বামীকে। তবে তার চিন্তা গেলো না।রাতটা প্রায় নির্ঘুম গেলো। ভোর ভোর উঠে ফজরের নামাজ পড়েছে সাথে দুরাকাত নফল নামাজ।এখনো চিন্তায় হাতপা অসাড় লাগছে।
বেলা ১০ টার দিকে মিথিলা কল দিলো ঈশানিকে।ঈশানি রিসিভ করে কিছু বলার আগেই মিথিলা কেঁদে দিল।কাদতে কাদতে বললো –
“এই ঈশু,তোর বাসায় আমাকে জায়গা দিস প্লীজ।”
ঈশানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে রইলো।মাথায় কিছু ঢুকলো না।অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো –
“কি হয়েছে ?এভাবে বলছিস কেনো?”
কান্নার হিড়িক বাড়লো মিথিলার।আবার বললো –
“বাবা বলে দিয়েছে এ+ না পেলে বাসায় রাখবে না।রিক্সাওয়ালা দেখো বিয়ে দিয়ে দেবে।”
ঈশানির ভীষন হাসি পেলো।কিন্তু পরক্ষনেই আরহানের কথা মনে পড়লো।তারপর উদাস গলায় বললো –
“তোকে তো আঙ্কেল বলেছে।আমার বর আমায় কি বলেছে জানিস?রেজাল্ট ভালো না হলে নাকি ডাক্তারি ছেড়ে সে রিক্সা কিনবে।যাতে আমি রিক্সাওয়ালার বউ হতে পারি।”
মিথিলা ফিক করে হেসে ফেললো।তারপর কৌতুক করে বললো –
“তুই তো আমার থেকেও রিস্কে আছিস ।ডাক্টার বর থেকে রিক্সাওয়ালা বর।ব্যাপারটা মন্দ না কিন্তু।”
ঈশানি খেঁকিয়ে উঠলো।তারপর ধমকে বলে –
“বেয়াদপ মহিলা।তোর বিয়ে হোক রিক্সাওয়ালার সাথে।”
মিথিলা শুধু খিলখিল করে হেসেছিলো।পড়ে কল কেটে দেয়।
.
আরহান ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে লিভিংরুমের সোফায়।পাশেই বসে আছে জাহিদ চৌধুরী।তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে ঈশানি ভালো রেজাল্ট করবে।ইতোমধ্যে কয়েক কেজি মিষ্টির অর্ডার দিয়ে ফেলেছে।তিনি এখন আরামসে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে।তার বিপরীত দিকের সোফায় বসে আছে ঈশানি। যার অবস্থা এখন প্রায় নাজেহাল।ভয়ে যেনো কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে।ঘাম হচ্ছে অনবরত।বুকের ভেতর ধড়াস ধড়াস করছে। তারপাশেই বসে আছে মিনারা বেগম।তিনিও চিহ্নিত।বিশেষত ঈশানির চিন্তা দেখে সে আরো বেশি উদ্বিগ্ন। আরহানের ভাবমূর্তি বোঝা যাচ্ছে।আপাতত তার পূর্ণ দৃষ্টি ল্যাপটপে।কয়েকবার ট্রাই করেছে তবে সার্ভার ডাউন দেখাচ্ছে।একটু সময় নিয়ে আবার ট্রাই করলো।এবার কাজ হলো।স্ক্রিনে ভেসে উঠলো – এ+। আরহান তৃপ্তির হাসি হাসলো।কেউ দেখার আগেই মুখটা গম্ভীর করে ফেললো। তার থেকেও গম্ভীর কন্ঠে বললো –
“তোমার ফলাফল এসেছে।”
ঈশানির হৃৎপিণ্ড যেনো ধুক করে উঠলো। আরহানের গম্ভীর ও মলিন মুখ দেখে ধরেই নিলো সে খুবই ভয়াবহ খারাপ রেজাল্ট করেছে।কেঁদে ফেললো ঈশানি। মিনারা বেগম জড়িয়ে ধরলেন। আরহান বোকা বনে গেলো।এখনো তো সে ভালো খারাপ কিছুই বলেনি তার আগেই কান্না করছে।এই মেয়ে পাগল নাকি।তারপর ব্যাস্ত হয়ে বলে উঠলো –
“এই মেয়ে কাদঁছো কেনো?তুমি এ+ পেয়েছো।দেখো,এই যে দেখো।”
ঈশানির কান্না থেমে গেলো।পরমুহুর্তেই হিচকি তুলে আবার কান্না করে দিলো এবার আরহানকে বকলো অনেক।জাহিদ চৌধুরী তো বেজায় খুশি।ঈশানির মাথায় হাত বুলিয়ে উনি বাহিরে চলে গেলেন।এলাকায় মিষ্টি বিলাতে হবে। মিনারা বেগমও উঠে রান্নাঘরে গেলেন। আরহান এসে বসলো ঈশানির পাশে।ঈশানি যেনো তেঁতে উঠলো।চাপা গর্জে বলে উঠলো –
“আপনি ভীষন খারাপ।এভাবে কেউ ভয় দেখায়।”
আরহানের ঠোঁটের কোনে হাসি।সেভাবেই বললো –
“আমি তোমায় কিছু বলেছি?ভালো – খারাপ কিছু? তুমিই তো আগে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে উঠলো।”
ঈশানির রাগ হলো খুব।ইদানিং সে রাগ, কষ্ট,দুঃখ,কান্না আর লুকিয়ে রাখে না।এই মানুষটার ছত্রছায়ায় সে তার আবেগ পূর্ণরূপে মেলে ধরতে শিখেছে।এবারও তাই রাগ সংবরণ করলো না।একদম হঠাৎ করে আরহানের বাহুর অংশ কামড়ে ধরলো।ধরলো তো ধরলো আর ছাড়লো না। আরহান ব্যথায় চোখ বুঝে নেয় কিন্তু ছাড়ানোর চেষ্টা করে না।মিনিট দুয়েক পর ঈশানি নিজেই ছেড়ে দেয়।এখন তার ভাল্লাগছে ।কতবড় সাহস তাকে ভয় দেখানো।কিন্তু পরমুহুর্তেই জমে যায়। আরহানের বলা শব্দে –
“এই কামড়ের শোধ আমি নেবো। আর এমন জায়গায় নেবো না পারবে ঢেকে রাখতে না পারবে কাউকে দেখাতে,বউ।”
ঈশানি ঢোক গিললো। দাঁত বের করে হাসার চেষ্টা করে কিছু বলতে নিলে মিথিলা কল দেয়।সে কথা অসম্পূর্ণ রেখেই কল ধরে।ওপাশ থেকে মিথিলার উল্লসিত আওয়াজে বুঝে যায় তারও ফলাফল আশানুরূপ।
.
রাতে আরহান বেরোলো।সাধারণত হসপিটাল থেকে বাসায় এসে সে বাহিরে যায়না।ঈশানির ফলাফল দেখে আরহান দুপুরের পর আজ চেম্বারে গিয়েছিলো।ফিরে এসেছে রাত ৯ টায়।একটা কল এলো আর রাতের খাবার না খেয়েই আবার ১০ টার পরপরই সে বাহিরে গেছে।এটা নিয়ে ঈশানি ভীষন চিন্তিত।সে টেবিলে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করলো।ঘড়ির কাটার পেন্ডুলাম শব্দ করে জানান দিচ্ছে রাত ১ টা।ঈশানির এবার আরো চিন্তা হলো সাথে কান্না পেলো। দু – ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়ালো।টেবিলের উপর হাত দুটো ভাজ করে দিয়ে তারওপর মাথা দিয়ে শুইলো সে।কখন চোখ লেগেছে সে টের পায়নি।
কলিং বেলের কর্কশ শব্দে ঈশানি লাফিয়ে উঠলো।ঘড়ির দিকে তাকালো রাত ৩ টা বেজে ১৫ মিনিট। সে ভাবলো আরহান এসেছে।দৌড়ে যায় দরজা খুলতে।কিন্তু দরজা খুলতে তার হাসি হওয়ায় মিইয়ে যায়।দরকার সামনে আরহান দাঁড়ানো।তার পাশেই দুর্বল জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে আছে অলিভিয়া।ঈশানির কলিজাটা এক মুহূর্তের জন্য ছ্যাৎ করে উঠলো যেনো।সে নির্বাক দাড়িয়ে আছে।দৃষ্টি কেমন যেনো।
আরহান অলিভিয়াকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বলে –
“তুমি ঘুমাওনি কেনো?”
ঈশানি যেনো এখনো ভ্রমে আছে। গলা দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে না। আরহান অলিভিয়াকে যত্নসহকারে সোফায় বসিয়ে দিলো।এতক্ষণে মিনারা বেগম আর জাহিদ চৌধুরী ও লিভিং রুমে এসেছে।এতরাতে অলিভিয়াকে দেখে তারাও অবাক।কপালে চার ভাঁজ পড়েছে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করছে না।ময়নাকে দেখে আরহান বললো –
“ময়না, গেষ্ট রুমটা একটু পরিষ্কার করে দে।”
তারপর জাহিদ চৌধুরর দিকে তাকিয়ে বলে –
“বাবা,অলিভিয়ার বাবা আজ সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেছে।”
জাহিদ চৌধুরী “ইন্না নীল্লাহি ও ইন্না এলাহী রাজিউন” বলে উঠলেন।অলিভিয়া ডুকরে উঠলেন। মিনারা বেগম গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন।অলিভিয়ার পাগলের মতো কাদতে কাদতে বললো –
“আন্টি আমি এতিম হয়ে গেলাম আন্টি।আমার আর কেউ রইলো না।আমি এই ত্রিভুবনে একা।কি হবে আমার আন্টি।বাবা কেনো আমাকে সাথে নিলেন না।বলুন না।”
মিনারা বেগম জড়িয়ে রইলেন অলিভিয়াকে।শান্তনার বুলি আওড়ে বললেন –
“এভাবে বলতে নেই মা।আল্লাহর আমানত আল্লাহ নিয়েছে।তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে হবে।বাবার জন্য দোয়া করতে হবে।আমরা আছি তো তোমার পাশে।”
অলিভিয়া সেরাতে মিনারা বেগমকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলো। কাদার’ই কথা মাকে হারিয়েছে জন্মের সময়,ছোটবেলা থেকে একমাত্র ছায়া ও শক্তি ছিলো বাবা সেই বাবাও ছেড়ে চলে গেলো।পৃথিবীতে সে তো এখন নিঃস্ব।কিন্তু সেদিন কেনো কেনো ঈশানির অলিভিয়ার জন্য মায়া লাগার বদলে ভয় পেয়েছিলো।কোনো এক অজানা কারণে তার মন কু গেয়েছিলো।ভিতরে ভিতরে কুকড়ে ছিলো মেয়েটা।কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে রিয়েক্ট করবে সেটা বুঝে উঠতে পারেনি।
সেভাবেই ঠাঁয় দাড়িয়ে ছিলো মূর্তি হয়ে।হৃদয়ে বয়ে যাচ্ছিলো কাল বৈশাখী ঝড়।
ময়না এলো ঘর পরিষ্কার করে। মিনারা বেগম অলিভিয়াকে নিয়ে গেলেন রুমে।নিজে যত্নসহকারে শুইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে তবেই নিজের রুমে গেছে।মহিলার মাতৃস্নেহ অনেক। যে কারো কষ্টে তার হৃদয় কেঁদে উঠে।
ঈশানি তখনো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে। আরহান শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছিলো।ঈশানিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলো।ঈশানির হাত ধরে জিজ্ঞেস করলো –
“এখনো দাড়িয়ে আছো কেনো? চলো রুমে চলো।”
আরহান হাত ধরে নিয়ে গেলো ঈশানিকে।ঈশানি শুধু মূর্তির মতো ছুটলো।তার হৃদয়ে দানা বাধা ভয়েরা।তার নিজের উপর ভীষন লজ্জা ও ধিক্কার জানালো।একটা অসহায় মেয়েকে ঘিরে কিসব চিন্তা করছে।নিশ্চয় তার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে।কিন্তু তবুও ভেতর থেকে কারা যেন সমস্বরে চিল্লিয়ে ঈশানিকে বলছিলো -“সাবধান ঈশানি,সামনে বড় ঝড় আসতে চলেছে।এবার হয়তো তুই সেই ঝড়েই উড়ে যাবি।” ঈশানির ভেতর থেকে কেমন হুহু কান্নারা দোলাপাকা হয়ে আছে। সে উপরে স্বাভাবিক থাকলেও ভিতরে চলতে থাকলো এক দুর্বিষহ ঝড়।
~চলবে
{ভুল – ত্রুটি মার্জনা করবেন।আইডির রিচ কমে যাচ্ছে। আমার নতুন পেজ যেটা ভালো লক্ষণ না।প্লীজ সকলকে একটু বড় বড় বেশি বেশি কমেন্ট করার অনুরোধ রইলো।

