#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_২৮
ফোনটা রিং হতে হতে কেটে গেলো আবারও। এই নিয়ে চতুর্থ বার জাহান মেহরিমাকে কল দিয়েছিলো কিন্তু মেহরিমা কলটা রিসিভ করে না। তাদের সম্পর্কের এতগুলো দিনে এমনটা কখনোই হয়নি। কিন্তু ইদানীং একমাস ধরে হচ্ছে। কেন হচ্ছে জাহান নিজেও জানে না।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জাহান আবারও কল লাগায় মেহরিমার ফোনে। পূর্বের ন্যায় বাজতে বাজতে কেটে যাবে তখনই ফোনটা রিসিভ হয়। আনন্দ উচ্ছ্বাসে জাহানের বুকটা কেঁপে উঠে। কিন্তু তার এই আনন্দ স্থায়ী হয় না বেশিক্ষণ। ফোনটা রিসিভ করেই মেহরিমা কোন সালাম বিনিময় ব্যতীতই কর্কশ গলায় বলে–
—সমস্যা কি আপনার বলেন তো? দেখছেন যে আমি রিসিভ করছি না ফোনটা তার মানে আমি নিশ্চয়ই ফোনের কাছে নেই বা আমার এখন কথা বলতে মন চাইছে না তাই করছি না। তাও কেন বারবার ফোন করে আমায় বিরক্ত করছেন? মুড ভালো থাকলে তো আমি সাথে সাথেই ফোন রিসিভ করি, তাই না?
জাহান কিছুটা হতভম্ব হয়ে যায় মেহরিমার এহেন আচরণে। আজকের পূর্বে মেহরিমা কখনোই এমন রূঢ় আচরণ করেনি তার সাথে। মেহরিমা একজন নরম, কোমল, লজ্জাবতী মেয়ে জাহানের জানা মতে। হায়া’র কাছে কিছুটা প্রাণবন্ত ও চঞ্চল হলেও তার কাছে একদম কোমল ফুল মেহরিমা। সেই মেহরিমা আজ এমন রূঢ় ও কর্কশ গলায় কথা বলছে তার সাথে? বিষয়টা জাহানের বিশ্বাস হতে চায় না।
জাহানের হতভম্বতা ভঙ্গ হয় মেহরিমার প্রশ্নের তোপে। মেহরিমা পূর্বের ন্যায় বলে–
—কি হলো কথা বলবেন নাকি রেখে দিবো?
আজ যেনো জাহানের শুধু অবাক হওয়ারই দিন। মেহরিমা কেন এমন আচরণ করছে? জাহান আস্তে করে গলা খাঁকারি দিয়ে বলা শুরু করে–
—কেমন আছো?
—ভালো।
—আমায় জিজ্ঞেস করবে না কেমন আছি?
—আপনি ডাক্তার মানুষ নিশ্চয়ই খারাপ থাকবেন না।
—শারীরিক সুস্থতাই কি সব? মানসিক-আত্মীক সুস্থতা বলতেও কিছু আছে।
—ওহ্হ।
ভীষণ বিরক্তির সহিত বলে মেহরিমা। জাহান বুঝতে পারে তার বিরক্ত হওয়া। তাই সে বলে–
—তুমি বোধহয় বিরক্ত হচ্ছো। আমি তাহলে রাখছি।
—আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ।
কথাটা বলে দুম করে ফোনটা কেটে দেয় মেহরিমা। জাহান আস্তে ধীরে ফোনটা কান থেকে নামায়। মেহরিমার এমন ব্যবহার জাহানকে যে কতটা কষ্ট দিয়েছে যদি মেহরিমা তা জানত তাহলে হয়ত এমনটা কোনদিন করার সাহস করত না।
জাহান টেবিলের উপর হাত রেখে তার উপর মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে। বুকটা তার জ্বলছে, মাথা কেমন ব্লাঙ্কা হয়ে গিয়েছে। নিজেকে স্বাভাবিক করার জন্য ছোট একটা বিরতি না নিলেই নয় তার। চোখ বন্ধ করে বিড়বিড়িয়ে বলে–
—কাউকে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবাসতে নেই। যদি হয়েও যায় তাহলে নিজেকে প্রতিনিয়ত গুমরে মরার জন্য তৈরি করে নিতে হয়।
_______________________________
হায়া ও মেহরিমা ভাইবা দিয়ে বের হয় একসাথে। হায়া’র অনবরত তার মুখ চালালেও মেহরিমা চুপ করে আছে। কথা বলতে বলতে হায়া মেহরিমার চুপ থাকাটা খেয়াল করে। সে মেহরিমার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলে–
—কিরে? চুপ করে আছিস কেন? মুড অফ? বড় দা’ভাইয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে?
মেহরিমা বিরক্তি নিয়ে বলে–
—চুপ করে আছি তার মানে এই নয় যে, তোর ভাইয়ের সাথে আমার ঝগড়া হয়েছে। সবসময় কথা বলতে ভালো লাগে না তাই চুপ করে আছি।
হায়া একটু স্তম্ভিত হয়ে যায় মেহরিমার এমন ঠাশ ঠাশ উত্তর শুনে। তার কাছেও মেহরিমার এমন ব্যবহার একদমই নতুন। হায়া নরম গলায় বলে–
—কি নিয়ে মন খারাপ বল না দোস্ত? আমি কি কোন ভাবে তোকে কষ্ট দিয়েছি? তাহলে সরি রে। তাও তুই এমন মুড অফ করে রাখিস না। আমার ভালো লাগে না তোর এমন চুপচাপ।
মেহরিমা তাদের ভার্সিটির মাঠের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসতে বসতে বলে–
—আমি তো চুপচাপই থাকি। এ আর নতুন কি?
—হ্যাঁ, কিন্তু এমনটা তো কখনো করিস নি।
—কেমনটা করছি?
হায়া বুঝতে পারছে মেহরিমা কোন বিষয় নিয়ে ডিস্টার্ব। তাই এখন কথা না বাড়ানোই ভালো হবে বলে সে মনে করছে। মেহরিমা কথা ঘুরিয়ে নিয়ে বলে–
—আচ্ছা বাদ দে। আমার কথা শুন। আজ বিকালে তোকে আমার সাথে একটু বাহিরে যেতে হবে কিছু কেনাকাটা করবো তাই।
—হঠাৎ কেনাকাটা কিসের জন্য?
—আরে কাল আশিয়ানের জন্মদিন। তাই আমি ভেবেছি তাকে রাত বারোটায় বার্থডে উইশ করবো। আর নিজের মনের কথাও বলতে চাই তাকে৷ এজন্য সামান্য কিছু শপিং করা লাগবে।
—আচ্ছা।
আর টুকটাক কথা বলে মেহরিমা আর হায়া বাসায় চলে যায়।
বিকালে মেহরিমা হায়া’কে ফোন দিয়ে বলে তার মাথা ব্যথা থাকায় সে যেতে পারবে না। হায়া তার মাথা ব্যথা শুনে তার সাথে দেখা করতে যেতে চাইলে মেহরিমা বলে সে ঔষধ খেয়ে ঘুমাবো, তাই এখন যাতে হায়া না আসে। হায়াও তার কথা মেনে নেয়। সে আদিবা’র সাথে শপিংয়ে চলে যায়।
শপিংয়ে গিয়ে হায়া আশিয়ানের জন্য একটা ব্র্যান্ডেড ঘড়ি আর পারফিউম কিনে। তার ঘর সাজানোর জন্য কিছু সামগ্রী ও একটা ভ্যানিলা কেক অর্ডার দিয়ে সে আর আদিবা তাদের ভার্সিটির কাছের পার্কে যায় ফুচকা খেতে।
তারা দু’জন ফুচকা অর্ডার করে পাশে রাখা বেঞ্চে বসে পড়ে। হায়া আদিবাকে বলে–
—শুন, তুই কাল আমাদের বাড়ি আসবি। রাতটা সেখানেই থাকবি। আফিফ ভাইয়াকে আমি বলে রেখেছি উনাকে ডিনারের পর কোন একটা বাহানায় বাহিরে নিয়ে যাবেন আর বারোটার আগ পর্যন্ত নিজের সাথে রাখবেন। এই ফাকে আমি আর তুই আমাদের ঘরটা সাজিয়ে ফেলবো। বুঝেছিস?
—হ আমার মা। এখন অফ যা, ফুচকা এসেছে ফুচকা খেতে দে।
কথাটা বলেই আদিবা গপাগপ কয়েকটা ফুচকা নিজের মুখে ভরে দেয়। হায়া তার খাওয়া দেখে হেসে দেয়। তারপর নিজেও খেতে শুরু করে। খেতে খেতে আদিবার নজর যায় তাদের থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা মেয়ের দিকে। মেয়েটাকে দেখতে তার কাছে মেহরিমার মতোই লাগে। আদিবা কনুই দিয়ে হায়া’কে গুঁতো দিয়ে বলে–
—দেখতো ঐটা মেহরিমা না? নাকি আমিই অন্য কারোর সাথে গুলিয়ে ফেলছি।
আদিবার কথা অনুযায়ী হায়া সেদিকে তাকালে দেখতে পায় আসলেই মেয়েটা মেহরিমা। কিন্তু ওর না মাথা ব্যথা আর ঔষধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে? তাহলে এখানে কি করছে? সবচেয়ে বেশি অবাক করার বিষয় হলো মেহরিমার সাথে একজন পুরুষও আছে। হায়া ও আদিবা তার মুখ দেখতে পায় না। শুধু পেছনের দিকটাই দেখে।
হায়া-আদিবা ফুচকার বিল দিয়ে মেহরিমার কাছে যেতে যেতে মেহরিমা লোকটির সাথে গাড়িতে বসে চলে যায়। হায়া মেহরিমাকে একজন পুরুষের সাথে গাড়িতে যেতে দেখে বেশ চিন্তিত হয়।
____________________________
—আসসালামু আলাইকুম বাবা। কেমন আছো?
—ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো আব্বু?
—আলহামদুলিলাহ ভালো। আম্মু কেমন আছে?
—সেও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।
পিতা-পুত্র স্বাভাবিক কুশলাদি বিনিময় করে। আরো কিছুক্ষণ পরিবারের কথা বার্তা বলে জাভিয়ান এবার আসল কথায় আসে। সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলা শুরু করে–
—বাবা মা যে সন্তানের কখনো খারাপ চায় না এটা নিশ্চয়ই তুমি জানো এবং মানো। আমি কি সঠিক বলছি জাহান?
—জ্বি বাবা। কিন্তু হঠাৎ একথা বললে যে?
বাবার কথা শুনে জাহানের কপালে ভাজ পড়ে। হঠাৎ এধরণের কথায় সে কিছুটা ভরকে গিয়েছে।
—কারণ হলো আমি ও তোমার আম্মু তোমাদের দুই ভাইয়ের জন্য একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবং আশা করি তোমরা সিদ্ধান্তটা শুনে আমাদের সাথে একমত হবে।
—অবশ্যই একমত হবো,কিন্তু সিদ্ধান্তটা কি বাবা?
—আমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর পাত্রী আমাদের অলরেডি পছন্দ করা হয়ে গিয়েছে।
বাবার থেকে এমন কথা শুনে জাহানের বুকটা জোরে ধক করে উঠে। কি বলছে তার বাবা এসব? তাদের বিয়ে দিবে ঠিক আছে তাই বলে তাদের না জানিয়ে পাত্রীও ঠিক করে ফেলেছে? তাদের দুই ভাইয়ের মনেই যে তাদের প্রেয়সীদের বাস এটা কি তারা জানে না? না, জানেই না তো। সে বা জায়িন কেউ তো জানায়নি তাদের ভালোবাসার মানুষগুলোর কথা তাদের পরিবারকে। ভেবেছিলো এই ক্যাম্প শেষ করেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার বাবা-মাকে প্রেয়সীর কথা জানাবে, কিন্তু তার আগেই যে এমন একটা খবর শুনতে হবে সে কস্মিনকালেও ভাবতে পারে নি।
—হ্যালো, জাহান শুনতে পারছো আমায়?
জাভিয়ানের কথায় জাহানের ধ্যাণ ভঙ হয়। সে বলে–
—জ্বি বাবা শুনতে পারছি।
—এ বিষয়ে তোমার মতামত কি? যতই আমরা নিজেরা পাত্রী পছন্দ করি, কিন্তু সংসার তো করবে তোমরা। তাই তোমাদের মতামত ব্যতীত আমরা কোন কথা আপতত আগাচ্ছি না।
জাভিয়ানের কথা শুনে জাহান ভাবে এটা, এটাই সুবর্ণ সুযোগ নিজের ভালোবাসার মনের কথা জানিয়ে দেওয়ার। সে বলে–
—বাবা তোমরা হয়ত জানো হয়ত বা জানো না, আমার ও জায়িন দু’জনই দু’জন রমনীকে মন দিয়ে বসে আছি। কথাটা তোমাদের জানাবো জানাবো করেও সঠিক সময় ও সুযোগের অভাবে জানানো হচ্ছিল না। কিন্তু আজ না জানিয়ে পারলাম না।
জাহানের কথা শুনে জাভিয়ান উচ্চস্বরে হেঁসে দেয়। সে জাহানের কাছ থেকে এই কথাটাই শুনতে চাইছিলো। তার ছেলেদের রিলেশনের কথা কিছুটা হলেও সে জানে। জায়িনেরটা তো সবার কাছে অপেন সিক্রেট, জাহানেরটাও তারা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলো যে, তাদের এই গম্ভীর ও শান্ত স্বভাবের ছেলে টাও হয়ত কোন রমণীর ভালোবাসার নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টা সে সিউর হয়েছে কিছুদিন আগে।
অন্যদিকে বাবার এমন হাসি শুনে জাহান কিছুটা লজ্জায় পায়। জাভিয়ান নিজের হাসি থামিয়ে বলে–
—তো এই কথাটা বলতে এতদিন লাগে? ভরসা ছিলো না আমাদের উপর? আমরা কি তোমাদের দুই ভাইয়ের ভালোবাসায় ভিলেন হতাম নাকি বোকা ছেলে?
লাস্টের কথাগুলো জাভিয়ান আফসোসের সুরে বলে। জাহান এমন কথা শুনে অনুতপ্ত হয়। আসলেই তাদের উচিত ছিলো বিষয়টা আরো আগে বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার। জাভিয়ান-হানিয়া ছেলে-মেয়েদের সাথে সবসময় বন্ধুর মতো মিশেছে। সবসময় ভরসা, স্নেহ, ভালোবাসার মানুষ হয়ে তাদের তিন ভাইয়ের পাশে থেকে তাদের বাবা-মা। সেই বাবা-মাকেই নিজেদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা জানাতে তারা বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছে।
জাহান মন খারাপ করে বলে–
—উই আর সরি বাবা। আসলে কিছু সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম।
—ইটস ওকে আব্বু। তা আমরা কিন্তু জানি আমাদের রাজকুমারদের মন কে চুরি করেছে।
কৌতুক পূর্ণ গলায় কথাটা বলে জাভিয়ান। জাহান অবাক হয়ে যায় জাভিয়ানের কথা শুনে। সে জিজ্ঞেস করে–
—কিভাবে জানলে বাবা? ওয়েট ওয়েট, পুতুল বলেছে নিশ্চয়ই?
—নো মাই সান। সে তার ভাইদের সব সিক্রেটের নিজের পেটেই তালা দিয়ে রেখেছে।
—তাহলে কিভাবে জানলে?
—সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমি জানতে পেরেছি, আমার ছোট রাজকুমারের মনে আমাদের আদিবা মামনি আর আমার বড় রাজকুমারের মনে রয়েছে…….
—কার সাথে কথা বলছেন হায়া’র বাবা?
হানিয়া’র প্রশ্নে জাভিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়। তারপর বলে–
—জাহানের সাথে। কথা বলবে?
হানিয়া চঞ্চল পায়ে তার কাছে এসে ফোনটা হাতে নিতে নিতে বলে–
—তা আর বলতে। দাও দাও।
জাভিয়ান ফোনটা হানিয়ার কাছে দিয়ে দেয়। হানিয়া ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেলের সাথে কথা বলতে। এই প্রথম ছেলেটা তাদের ছেড়ে এতদিন বাড়ির বাহিরে অবস্থান করছে। মায়ের মন তাই সবসময় ছটফট করে সন্তানের জন্য।
বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর জাভিয়ান ফোনটা নিজের কাছে নিয়ে লাউডস্পিকারে দিয়ে বলতে শুরু করে–
—তো যা বলছিলাম। তুমি কি বিয়েতে রাজি? দেখো আমাদের তো বয়স হচ্ছে বাবা। তোমাদের সন্তান দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাবো।
—হায়া’র বাবা।
—বাবা।
দুই দিক দিয়ে দু’জন ধমকে উঠে জাভিয়ানকে। জাভিয়ান তাদের ধমক শুনে হেঁসে দেয়। হাত বাড়িয়ে প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে নিজের বুকে টেনে নেয়। তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–
—আহা রাগছো কেনো, কথার কথা বললাম তো।
—কথার কথাও বলবে না বাবা। তোমার কি এমন বয়স হয়েছে যে, এখনই এসব ভাবছো? জানে আজ ক্যাম্পে একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিল। তার বয়স মিনিমাম ৮০/৮৫ হবে। তাও কি সুন্দর হেঁসে খেলে হাঁটছে। আর তুমি এই বয়সেই এসব বলছো? দ্যাট’স নট ফেয়ার বাবা।
—আচ্ছা সরি সরি। আর বলবো না। এবার আসল কথা বলো, তুমি কি বিয়েতে রাজি?
জাহান একটু ভেবে দেখে, সে যথেষ্ট সময় নিয়েছে আর মেহরিমাকেও দিয়েছে। এছাড়া মেহরিমাকে সে বলেছিলো তার সেকেন্ড ইয়ার কমপ্লিট হলে বাসায় তাদের কথা জানাবে। মেহরিমাও তখন নিরব সম্মতি দিয়েছিলো। তাই এখন আর মানা করার কোন প্রশ্নই আসে না। সে নির্দ্বিধায় বলে দেয়–
—তোমাদের কোন সমস্যা না থাকলে আমি রাজি আছি।
—আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কবে আসছো? আমি আর তোমার আম্মু চাচ্ছিলাম, এই মাসের শেষের দিকে তোমাদের বিয়ের কাজটা সম্পন্ন করতে। সেই হিসেবে আর বেশিদিন বাকি নেই তুমি তো জানোই। ৫ দিনের মতো আছে। তা তুমি কি বলো এই ব্যাপারে?
—আমার আসতে আরো ৩/৪ দিন লাগবে। এই সপ্তাহেই আসতাম কিন্তু একজন কলিগ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে তার পরিবর্তে থাকতে হয়েছে। একজন ডাক্তার আসার কথা, সে না আসলে সময় বাড়তে পারে।
—ওহ্হ। তাহলে ডেট তো তাহলে পেছাতে হবে।
—ডেট পেছানো লাগবে না। তোমরা বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকো,আমি একদম বিয়ের দিন আগে এসে পৌছানোর চেষ্টা করবো।
—তুমি সিউর তো? তাড়াহুড়োর কোন দরকার নেই। তুমি আসলে পরেই না হয়…..
—সমস্যা হবে না বাবা। আই উইল ম্যানেজ।
—আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাদের মর্জি। এখন রাখছি তাহলে।
—আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ।
—আল্লাহ হাফেজ।
জাহান ফোনটা কেটে “ইয়াহুউউউ” বলে একটা চিৎকার দেয়। তার চিৎকারের আওয়াজে তার কলিগরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়। জাহান তাদের তাকানো দেখে বুঝতে পারে হেঁসে খুশিতে কেমন বাচ্চাদের মতো পাগলামি করে ফেলেছে। পরবর্তী সকলের কাছে সরিও চায়।
শব্দসংখ্যা~১৮৫০
~চলবে?
[তালুকদার পুত্রদের বিয়ে হতে চলেছে, সবাই বড় বড় গিফট’স নিয়ে আসবেন কিন্তু 😜
ভুলক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 😘]

