সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৩৪

0
23

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৪

মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জাভিয়ানের দিকে ঘুরে অভ্যাস বসত শরীরে হাত রাখে হানিয়া। কিন্তু জাভিয়ানের শরীরের স্পর্শ পায় না। ঘুমটা হালকা হয়ে যায় কিন্তু পুরোপুরি ছাড়ে না। চোখ বন্ধ রেখেই জায়গাটা হাতড়াতে থাকে, কিন্তু নাহ জাভিয়ান নেই। এই পর্যায়ে হানিয়া চোখ খুলে। একটু আগেই শুয়েছিলো তারা। ভালো মতো চোখ কচলে ঘুমটা ভালো মতো ছাড়িয়ে তারপর ওয়াশরুমের দিকে তাকায়। নাহ, ওয়াশরুমের দরজাও বন্ধ। তাহলে গেলো কই লোকটা?

হানিয়া বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চিন্তিত মুখে চপল পায়ে হেঁটে বেলকনিতে উপস্থিত হয়। হ্যা, সেখানেই দাড়িয়ে আছে জাভিয়ান। হানিয়া একটা লম্বা শ্বাস ফেলে তার দিকে এগিয়ে যায়। হানিয়া জাভিয়ানের কাঁধে হাত রাখলে জাভিয়ান চমকে তার দিকে তাকায়। এই সময়ে সে হানিয়াকে আশা করে নি। থতমত খেয়ে বলে উঠে–

—উঠে আসলে যে? ঘুমাও নি তুমি?

—ঘুমিয়েছিলাম তো, কিন্তু এই ফাঁকে আপনি এখানে এসে পরলেন। একা একা দাঁড়িয়ে আবারও আজগুবি চিন্তাভাবনা করছেন, তাই না? এবার বুকে শুধু ব্যথা উঠুক, আমি বাপের বাড়ি যদি না গিয়েছি তাহলে হানিয়া মির্জা না আমার নাম।

খানিকটা রাগ ও প্রিয়জনকে হারানোর ভয় নিয়েই কথাগুলো বলে হানিয়া। জাভিয়ান তার কথা শুনে হেঁসে দেয়। বিয়ের এতগুলো বছরে কয়েক হাজার বার এই হুমকি শুনে এসেছে সে। হানিয়া বলে তো ঠিকই কিন্তু কথাটা বাস্তবায়ন করতে পারে না। হ্যাঁ, রাগ করে থাকে একবেলা কিন্তু জাভিয়ান একটু ভালোবাসা দিয়ে বুকে আগলে নিলেই তার সব রাগ গলে যায়।

বরাবরের মতো এবারও সেই পন্থা অবলম্বন করে জাভিয়ান। হাত বাড়িয়ে প্রিয়তমাকে নিজের বাহু বন্ধনে আগলে নেয়। হানিয়া একটু রাগ দেখিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চাইলেও জাভিয়ান হানিয়াকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখে। একসময়ে হানিয়া শান্ত হয়ে যায়।

জাভিয়ান হানিয়ার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–

—ঐসব না অন্যকিছু ভাবছিলাম।

—কি ভাবছেন শুনি?

—মেহরিমার কথা ভাবছিলাম। মিসেস চৌধুরী আর জাহানের কথা দ্বারা যা বুঝলাম, মেহরিমা মেয়েটা একটু বেশিই সহজসরল ও ভীতু স্বভাবের। যার কারণে রাহাত যা বুঝিয়েছে তাই বুঝে চুপচাপ নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে।

হানিয়া জাভিয়ানের বুকে মাথা রেখে তার কথা শুনছে। জাভিয়ান আবার বলা শুরু করে–

—আমি ভাবছি এমন একটা ভীতু মেয়ের পক্ষে একা অন্য একটা শহরে গিয়ে সার্ভাইভ করা বেশ কঠিন ও জটিল বিষয় যদি না তাকে কেউ পেছন থেকে সাহায্য করে।

—মানে? কি বুঝাতে চাইছেন আপনি?

—আমি বুঝাতে চাইছি, মেহরিমার গায়েব হওয়ার পেছনে হয়ত রাহাতের হাত রয়েছে। যদিও আমি সিউর না কিন্তু সেদিনের পর থেকে আমার মনে বারবার কথাটা আসছে। আর রাহাতের মেয়ের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে মনে হচ্ছে সে যা কিছু করতে পারো তার মেয়ের খুশির জন্য।

—আর মেহরিমা যে এই শহরে নেই সেটাই বা বুঝলেন কিভাবে?

—এই কয়েকদিনে আমি আমার সব সোর্সদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। তাদের একপ্রকার নাওয়াখাওয়া হারাম করে দিয়েছি মেয়েটাকে খুজে বের করার জন্য। যেমনটা তুমি হারিয়ে যাওয়ার পর করেছিলাম। সে যদি এই শহরে থাকতই তাহলে এতদিনে ধরা পরে যেতো।

হানিয়া জাভিয়ানের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে। ভালো করে ভেবে দেখলে আপত দৃষ্টিতে জাভিয়ানের কথাগুলোই তার সঠিক মনে হয়।

হানিয়া জাভিয়ানের বুকে মাথা রেখেই তার দিকে তাকিয়ে বলে–

—হায়ার পাপা আমি একটা জিনিস চাই আপনার থেকে।

জাভিয়ান হানিয়ার এমন আবদারের কথায় একটু অবাকই হয়। মেয়েটা কখনোই কোন কিছু মুখ ফুটে তার কাছে চায় নি আজ পর্যন্ত। চাওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি, হানিয়া কিছু চাওয়ার আগেই জাভিয়ান তার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে হানিয়া বলার আগেই তার সামনে হাজির করত।

জাভিয়ান খুশি মনেই বলে–

—কি চাও হানি? তোমার জন্য এই জাভিয়ানের জানও হাজির।

—আমি আমার নেতিয়ে পড়া ছেলেটার হাসিখুশি মুখ ফিরে চাই। আমার ছেলে যেটায় ভালো থাকে সেই কারণ টিকে তার জীবনে ফিরিয়ে দিতে চাই। একটা ভরা সংসার চাই ছেলে আর ছেলের বউদের নিয়ে। আপনি প্লিজ কিছু একটা করেন হায়ার পাপা। আমার ছেলের এমন বিষণ্নতায় ঘেরা মুখ আমি দেখতে পারছি না। আমার হাসিখুশি প্রাণবন্ত ছেলেটাকে আমায় ফিরিয়ে দেন জাভিয়ান।

হানিয়া ছলছল চোখে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। জাভিয়ান তার মুখ নামিয়ে হানিয়ার কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে বলে–

—তুমি কিছু চাইলে আর আমি দেই নি এমনটা কখনো হয়েছে? খুব তাড়াতাড়ি তোমার এই ইচ্ছেটাও পূরণ করবো ইনশা আল্লাহ। একটু সময় দাও জাস্ট আমায়।

হানিয়া তার উত্তর পেয়ে যায়। সে প্রশান্ত মনে জাভিয়ানের বুকের সাথে নিজেকে লেপ্টে রাখে। রাত বাড়তে থাকায় জাভিয়ান হানিয়াকে নিয়ে রুমে চলে আসে। প্রথমে নিজে শুয়ে হানিয়াকে নিজের বুকে নিয়ে আসে। চাপা উৎকণ্ঠ আর অস্থিরতা নিয়েই চোখ বন্ধ করে। সে যতক্ষণ না পর্যন্ত হানিয়ার ইচ্ছে পূর্ণ করতে পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পাবে না।

__________________________

মুখোমুখি বসে আছে দু’জন পুরুষ। একজনের চোখে প্রচন্ড ক্রোধ তো আরেকজনের চোখে অনুতাপ, ভয় আর অস্বস্তি। পায়ের উপর পা তুলে রাজকীয় ভাবে বসে রাহাতের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জাভিয়ান। বয়স বাড়লেও অ্যাটিটিউড আগের থেকে একবিন্দু পরিমাণও কমেনি। জাভিয়ানকে এমন শিকারী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহাত আমতাআমতা করে জিজ্ঞেস করে–

—হঠাৎ আমার বাড়িতে কি মনে করে এই সাতসকালে?

জাভিয়ান চোয়াল শক্ত করে গম্ভীর গলায় বলে–

—তোমার সাথে পিরিতের আলাপ পারতে আসিনি, যা বলার সোজাসাপটাই বলছি, মেহরিমা কোথায়?

জাভিয়ানের ছোট একটা প্রশ্নে রাহাত ভীষণ চমকে যায়। চমকানো ভাবটা তার মুখেও ফুটে উঠেছে। জাভিয়ান তার আচরণ খুবই সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে পরখ করে দেখছে। রাহাতের চমকে যাওয়াটা যেনো জাভিয়ানকে আরো একবার জিতিয়ে দিলো। প্রশ্নটা করার আগ পর্যন্তও জাভিয়ান সিউর ছিলো না বিষয়টা নিয়ে, কিন্তু রাহাতের এমন রিয়েকশন দেখে সে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যায় রাহাতই মেহরিমাকে গায়েব করেছে।

রাহাত জাভিয়ানের দিকে তাকায়। দেখতে পায় জাভিয়ানের ঠোঁটে ঝুলে আছে এক অদ্ভুত ধরণের হাসি। হাসিটা যেনো তাকে বলছে–

—আরো একবার হারিয়ে দিতে চলেছি তোমায় রাহাত।

—না না। এটা হতে পারে না। সারাজীবন হারতে হারতে এই পর্যন্ত এসে আজ একটা জেতা বাজি কিছুতেই হারতে পারি না

কথাগুলো আমার না রাহাত চৌধুরী। রাহাত নিজেকে স্বাভাবিক করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাতে জাভিয়ানের কাছে সে ধরা না পড়ে যায়। কিন্তু বোকা রাহাত বুঝতেই পারল না সে অলরেডি ধরা পড়ে গিয়েছে।

রাহাত নিজের অস্থিরতা নিজের মধ্যেই চেপে রেখে বলে–

—আমি কি করে জানব মেহরিমা কোথায়? কি সব আজেবাজে কথা বলছো? হ্যাঁ আমি মানছি, আমি মেহরিমাকে প্রভোক করেছি জাহানের লাইফ থেকে সরে যাওয়ার জন্য, কিন্তু এর ব্যতীত আর কোন কিছুই আমি করিনি।

হঠাৎই জাভিয়ান উচ্চস্বরে হেঁসে উঠে। রাহাত আরো ঘাবড়ে যায় তার এমন হাসিতে। বেশ কিছুক্ষণ হেঁসে জাভিয়ান তারপর থামে। ক্ষণিকের মধ্যে চোখমুখ ইস্পাত কঠিন শক্ত করে ব’লে—

—বলদ মনে হয় আমাকে তোমার তাই না? তুমি বললে আর আমি বিশ্বাস করে ফেললাম। যেই তুমি একটা বাচ্চার মেয়ের মাথা এমন বিশ্রী ভাবে ওয়াশ করতে পারো সে আর কি কি করতে পারো আমার বলা লাগবে না আশা করি।

রাহাত জাভিয়ানের কথা আর মুখভঙ্গি দেখে ভয় পেয়ে যায় মনে মনে। অতীতে জাভিয়ানের রেকর্ড ভালো না সেটা তার জানা। রাহাত নিজেকে সত্য প্রমাণ করার জন্য রাগী গলায় বলে–

—শুনো, আমি যা করেছি সব আমার মেয়ের জন্য করেছি। না জাহানের সাথে আমার কোন শত্রুতা আছে আর নাই বা ঐ এতিম মেয়েটার সাথে। তার বাজে কথা না বলে তুমি এখন আসতে পারো। আমার অফিসে যেতে লেট হচ্ছে।

কথাটা বলে রাহাত নিজের অফিস ব্যাগ নিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে যেতে নেয়। কিন্তু জাভিয়ানের কথায় তার পা থমকে যায়। জাভিয়ান সেভাবে বসে থেকেই বলে–

—মনে করো, তুমি গাড়ি চালিয়ে অফিসে যাচ্ছো মাঝপথে তোমার কাছে একটা ফোন আসল। ফোনটা রিসিভ করে তুমি শুনতে পেলে, তোমার বাপ-দাদার এত কষ্টের তৈরি ব্যবসায় কেউ তার কালো থাবা বসিয়েছে, ধসিয়ে দিয়েছে তোমাদের তিন প্রজন্মের কষ্টের তৈরি সুউচ্চ সেই ইমারত। তাহলে তোমার কেমন লাগবে? আমার তো ভাবতেই ভীষণ খারাপ লাগছে। চু..চু..চু..

রাহাত অবাক হয়ে জাভিয়ানের দিকে তাকায়। দেখতে পায় জাভিয়ানের ঠোঁটের কোণে হাসি থাকলেও চোখে ক্রোধ, প্রতিহিংসার আগুন। জাভিয়ান তার বসা থেকে উঠে এসে রাহাতের সামনে দাঁড়ায়। রাহাত তাঁকে বলে–

—কোথাকার কোন মেয়ের জন্য তুমি এমনটা করতে পারো না জাভিয়ান। আমাদের এত বছরের পারিবারিক ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক তুমি এমনভাবে নষ্ট করে দিবে?

—বিশ্বাস করো আমি করতে চাইছি না কিন্তু তোমার মৌনতা আমায় করাবে। মেহরিমা কোথাকার কোন মেয়ে না। সে জাহান তালুকদারের হবু বউ, তালুকদার বাড়ির বড় বউ। যাকে হারিয়ে আমার বড় সন্তান আজ ভীষণ ভেঙে পড়েছে আর তার ভেঙে পড়া দেখে আমার বধূয়া কষ্ট পাচ্ছে। জানো, আমার বধূয়া আমার কাছে তার ছেলের হাসিখুশি মুখটা দেখতে চেয়েছে, পুত্র আর তাদের বধূদের নিয়ে একটা ভরা সংসার চেয়েছে। বউ আমার কাছে কিছু একটা চেয়েছে আর আমি তাকে তা দিবো না এটা আজ পর্যন্ত্র কোনদিন হয়নি আর ভবিষ্যতেও কোনদিন হবে না ইনশা আল্লাহ।

রাহাত নিশ্চুপ হয়ে জাভিয়ানের সব কথা শুনছে। তার চোখেও ক্রোধ ভেসে উঠছে আস্তে আস্তে। জাভিয়ান পুনরায় বলে–

—এখানে আসার আগ পর্যন্তও আমি সিউর ছিলাম না যে, মেহরিমার গায়েব হওয়ার পেছনে তোমার হাত রয়েছে। আমি জাস্ট ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন করার পর তোমার চমকে যাওয়াটা আমায় আরো একবার প্রমাণিত করে দিলো আমার ধারণা ভুল ছিলো না। তুমি বলবে না তো, ঠিক আছে। এই জাভিয়ান জানে কিভাবে গর্তের সাপ বের করতে হয়। কিন্তু তোমায় একটা কথা বলে যাচ্ছি, আজ থেকে তোমার সাথে আমাদের সকল প্রকার সম্পর্ক শেষ। সেটা পারিবারিক হোক বা ব্যবসা হোক না কেন। তোমার কোম্পানির সাথে আমার কোম্পানির বর্তমান তিনটে প্রজেক্টও আমি ক্যান্সেল করলাম। সেই সাথে আমি এটাও দেখবো তুমি নতুন প্রজেক্ট কিভাবে পাও। প্রশ্নটা যখন প্রতিশোধ নেওয়ার, তখন জাভিয়ান তালুকদার নিষ্ঠুরতার সকল সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আসছি ভালো থেকো।

জাভিয়ান কথাগুলো বলে আসতে নিচ্ছিল তখনই মুনতাহা তার পেছন ডেকে বলে–

—ভাইয়া, কিছু মুখে না দিয়েই চলে যাচ্ছেন? বোনের সাথেও বুঝি রাগ করে আছেন?

কথাগুলো বলতে বলতে মুনতাহা বেগম নাস্তার ট্রে’টা টি টেবিলের উপর রাখে। জাভিয়ান তার কথা শুনে পেছন ফিরে বলে–

—বোনদের সাথে ভাইয়েরা কোনদিন রাগ করে থাকতে পারে না।

—তাহলে কিছু অন্তত মুখে দিয়ে যান। এভাবে খালি মুখে গেলে আমার ভীষণ খারাপ লাগবে।

জাভিয়ান মুনতাহার মন রাখার জন্য একপিস আপেলে মুখে দেয়। জাভিয়ান চলে আসার আগে রাহাতের একদম কাছে এসে বলে–

—সময় থাকতে যত্ন করা শিখো রাহাত। একটা হিরে পেয়েও হেলাফেলা করছো। পরে না এর জন্য কাঁদতে হয় তোমায়।

কথাটা বলেই জাভিয়ান গটগট করে হেটে চলে যায়। মুনতাহা রাহাতের দিকে একবার তাকিয়ে সেও চলে যায়। একা ড্রয়িংরুমে রয়ে যায় শুধু রাহাত। সব থেকেও আজ তার কিছু নেই। একজন আপন মানুষ থেকেও নেই।

__________________________

শুনশান এক রাস্তায় প্রাণপণে ছুটে চলেছে এক রমণী। পেছনে কিছু হায়েনা তার নারী কায়ায় নিজেদের বিষাক্ত, কুৎসিত থাবা বসানোর প্রয়াসে ধাওয়া করেছে। দৌড়াতে দৌড়াতে রমণীটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এমনিতেই দু’দিনের জ্বরে শরীরে গাঁটে গাঁটে ব্যথা ছড়িয়ে পরেছে তারউপর আজ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বের হয়ে এমন ঘটমার সম্মুখীন হতে হলো।

একসময় তার পক্ষে আর দৌঁড়ানো সম্ভব হয়ে উঠে না। পায়ের শক্তি ফুরিয়ে আসে, মাথা ঘুরে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। শরীরে চেতনা হারিয়ে পা ভেঙে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে নেয় ঠিক তখনই এক পুরুষালি হাত তাকে নিজের বাহুডোরে আগলে নেয়।

পুরোপুরি অচেতন হওয়ার আগে শুনতে পায় বহুত পরিচিত সেই সম্বোধনটি–

—মেহু……..

শব্দসংখ্যা ~১৬৫০
~চলবে?

[কারা কারা যেনো জাভিয়ানপর বোল্ড রূপটা মিস করছিলেন, তাদের জন্য আজকের পর্বটা। গল্পটা হয়ত খুব তাড়াতাড়ি শেষ হতে চলেছে। আপনাদের অপেক্ষা করিয়ে ভীষণ গিল্টি ফিল হয় আমার। তাই তাড়াতাড়ি শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 😚🖤]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here