সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৪৩

0
23

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪৩

আজ রাহা জেদ ধরেছে সকলের জন্য রাতে খাবার বানাবে। তাও আবার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও স্বামীর পছন্দ অনুযায়ী খাবার গুলো রাঁধবে নাকি। বাপের ঘরে যে মেয়েটি অহংকার বসত এক গ্লাস পানি পর্যন্ত নিয়ে খায়নি সে আজ নিজ থেকে রান্না করতে চাইছে। সত্যিই অবাক করা আবদার বটে।

অবশ্য এই মাসে খানের মধ্যে রাহা আফরা কাছ থেকে প্রায় বেশ কয়েকটা আইটেন রান্না করা শিখে নিয়েছে। বিয়ের আগে রাহার মা মুনতাহা কতো করে বলত– মেয়ে হয়েছিস একটু রান্না বান্না শিখ, শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কাজে লাগবে। কিন্তু রাহাত প্রতিবার মুনতাহাকে ধমকিয়ে চুপ করিয়ে দিত। মূলত রাহাতের কারণেই রাহা বেশি বিগড়ে গিয়েছে, নাহলে রাহা মেয়েটা খারাপ না বেশি একটা।

আফরা শুরুতে তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছে রান্না করা চারটে খানি কথা না। রাঁধতে গেলে হাত কেটে যায়, অনেক সময় পুড়েও যায়। তার মতে আদুরের দুলালি হুট করে এত বড় আয়োজন করতে পারবে না। কিন্তু রাহা শুনে না। পরে তাকে কড়া গলায় মানা করলেও মন খারাপ করে আফরার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে, নড়ে না জায়গা থেকে। আফরা বুঝে যায় মেয়ে ভালোই জেদি। আফরা তার কাজে মত দেয় ঠিকই কিন্তু এ-ও বলে দেয়, একা সব কাজ করতে পারবে না। হেল্পিং হ্যান্ড সব কেটে বেছে দিবে আর সে ইনস্ট্রাকশন দেবে, তবেই সে রাঁধার অনুমতি পাবে। রাহাও খুশি মনে আফরার কথা মেনে যায়, উপরন্তু খুশি হয়ে আফরাকে চুমুও খায়।

মাহমুদ বাড়ির লোকদের পছন্দ খুবই সাধারণ। আফরা গ্রামের মেয়ে হওয়ায় বিয়ের এত বছরেও গ্রামের প্রতি তার একটা আলাদা টান রয়েই গিয়েছে। সেই টান থেকেই আফরা খাবারের মধ্যে পছন্দের তালিকায় রয়েছে গরম গরম ভাতের সাথে বিভিন্ন পদের ভর্তা। আদিয়াতের পছন্দ সর্ষে ইলিশ বা বড় মাছের কোন একটা আইটেম আর তার বরের পছন্দ হলো মিষ্টি জাতীয় যেকোন খাবার। এসব সে জেনেছে তার শ্বাশুড়ির থেকে।

আফরা আর রাহা বাড়িতে দুই বান্ধবীর মতো থাকে বাড়িতে। বিয়ের আসরে রাহা আর রাহাতের কীর্তিকলাপ শুনে আফরার মনে রাহার জন্য একটা খারাপ ধারণা তৈরি হয়ে যায়, যার কারণে আফিফ ও রাহার বিয়ের পর শুরুতে শুরুতে সে রাহাকে একদমই সহ্য করতে পারত না। বিষয়টা আফিফ খেয়াল করে এবং একদিন সে তার ভুল ভেঙে দেয়। তারপর থেকে রাহা আর আফরা দু’জনে আম আর দুধের মতো মিলে মিশে থাকে। আফিফ আর আদিয়াত আঁটি হয়ে গড়াগড়ি খায়।

মাগরিব নামাজ পড়েই রাহা রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে। আফরার সাহায্যে সে কয়েক পদের রান্না প্রায়ই শেষ করে ফেলেছে। বাকি শুধু আফিফের জন্য পায়েশ আর আদিয়াতের জন্য সর্ষে ইলিশ। রাহা এক চুলায় দুধ ফুটতে বসিয়ে দেয় আরেক চুলায় আদিয়াতের রান্নাটা হচ্ছে। এরই মধ্যে এশারের আজান দিয়ে দিলে রাহা আফরাকে বলে–

—আম্মু, তুমি গিয়ে এশারের নামাজটা পড়ে নিয়ে একটু রেস্ট নাও। রান্না তো প্রায়ই হয়ে এসেছে। আমি বাকিটুকু করে নিতে পারব।

আফরা কপট রাগ দেখিয়ে বলে–

—কান টেনে ঘরে নিয়ে যাবো কথা না রাখলে। এমনটা তো কথা ছিল না। রান্না না শেষ হওয়ার আগে আমি নড়ছি না এখান থেকে।

রাহা আফরার কাঁধ জড়িয়ে ধরে বলে–

—উফফফফ, মাদার বাংলাদেশ তুমি বড্ড নাটুকে। আমি কি বাচ্চা নাকি এসব পারব না? তোমার হাই প্রেশারের সমস্যা ভুলে গিয়েছো? আজ আমার কারণে এতক্ষণ রান্নাঘরে থাকলে, তোমার উনি আর আমার উনি শুনলে আমাকেই না উল্টো বকা খেতে হয়। তুমি যাও তো। ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছো।

রাহার কথা শুনে আফরা আলতো করে কান টেনে বলে–

—ওরে দুষ্টু মেয়ে! ভালোই তো কথা জানিস।

রাহা মিছেমিছি ব্যথা পাওয়ার ভান করে বলে–

—গেলো গেলো রে, এই বয়সেই না বয়রা হওয়া লাগে। মাত্র বিয়েটা হলো আমার, তোমাদের নাতি-নাতনির মুখ দেখানোর আগেই কান টেনে বয়রা করে দিচ্ছো শাশু মা? তারপর তোমার নাতি-নাতনি যদি আমার মতো বয়রা হয়ে যায় তখন কিন্তু দোষ দিতে পারবে না আমায়।

রাহা দুষ্টুমির ছলে কি থেকে কি বলে ফেলেছে তার নিজেরই খেয়াল নেই। এদিকে রাহার কথা শুনে আফরা তার কান ছেড়ে দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। একটু বাদেই রাহার খেয়াল হয় সে কি থেকে কি বলে ফেলেছে। মনে মনে জিভ কেটে কথাটা কাটানোর জন্য আফরাকে ঠেলেঠুলে তার ঘরে দিয়ে আসে।

রান্নাঘরে এসে দেখে দুধ উতলিয়ে গিয়ে পাতিল থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম। রাহা তাড়াতাড়ি করে গিয়ে চুলার জাল কমাতে যায় কিন্তু এরই মাঝে বেশ খানিকটা দুধ উতলিয়ে পড়ে যায়। দুধের কিছু অংশ রাহার হাতেও এসে পড়ে। টগবগিয়ে উতলিয়ে পড়া গরম দুধ রাহার হাতে পড়ে জায়গাটা সাথে সাথে পুড়ে গিয়ে ফোস্কা পড়ে যায়। রাহা “ও মা গো” বলে তাড়াতাড়ি করে পুড়ে যাওয়া হাতটা ট্যাবের পানির নিচে ধরে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

__________________________

রাত নয়টা বাজতেই মাহমুদ বাড়ির সকলে একসাথে খেতে বসে। অন্যদিন আফরা সকলকে খাবার সার্ভ করলেও আজ রাহা করছে। খুশি-খুশি মনে সকলের পাতে নিজের করা রান্নাগুলো তুলে দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখে মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক ধরণের উত্তেজনা। রাহা উদগ্রীব হয়ে আছে নিজের রান্নার প্রশংসা শোনার জন্য।

আদিয়াত ও আফিফ জানত না আজকের রান্না আফরা করেছে। আফিফ ছিলো হসপিটালে আর আদিয়াত মাগরিবের নামাজ মসজিদের পড়তে গিয়ে একদম এশারের নামাজের পর এসেছে। তারা দু’জনই এক লোকমা করে খাবার মুখে দিতেই বুঝে যায় এই রান্না আফরা করেনি।

আফিফই প্রথমে বলে–

—আম্মু, নতুন কুক রেখেছো? খাবারের টেস্টটা আজ ভিন্ন লাগছে যে।

আদিয়াতও তার কথায় তাল মেলায়৷ রাহা আফিফের কথা শুনে মন খারাপ করে মাথা নিচু করে রেখেছে। আফিফ খেয়ে যখন প্রশংসা করল না তার মানে ভালো হয়নি রান্নাটা। আফরা খেতে খেতে বলে–

—না নতুন কুক রাখা হয়নি। আজ অন্যকেউ রেঁধেছে রান্নাগুলো।

—অন্যকেউ? কে সে?

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে। কারণ এই বাড়িতে আফরাই রান্নাবান্না সামলায়, সে অসুস্থ হলে তাদের হেল্পিং হ্যান্ড মহিলাটি রেঁধে দেয়। কিন্তু তার রান্নার টেস্ট অন্যরকম সেটা আদিয়াত আর আফিফ জানে। তারা বাদে আর কে রান্না করেছে সেটা জানতে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে বাবা-ছেলে। আফরা তাদেরকে বেশি অপেক্ষা করায় না, সে বলে–

—আজ আমার একমাত্র পুত্রবধূ শখ করে আমাদের সকলের পছন্দের খাবারগুলো রান্না করেছে।

আফরার কথা শুনে আদিয়াত আর আফিফ বেশ ভালোই অবাক হয়ে। তাদের অবাক হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। আদিয়াত যেমন অবাক হয়েছে তেমনই সাথে খুশি হয়। সে হাসি মুখে–

—আম্মাজান, আপনি শুধু শুধু এত কষ্ট করতে গেলেন কেনো?

—কষ্ট কোথায় আব্বু। আমি কি আমার ফ্যামিলির জন্য কিছু করতে পারি না? নাকি আপনারা আমায় এই পরিবারের সদস্য ভেবে উঠতে পারছেন না এখনও?

লাস্টের কথাটা মলিন মুখ করে বলে রাহা। আদিয়াত তার কথা শুনে হেসে দেয়। সে নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে গিয়ে রাহার সামনে এসে দাঁড়ায়। তার মাথা হাত রেখে বলে–

—অবশ্যই পারো ফ্যামিলির জন্য কিছু করতে। কিন্তু আম্মাজান আপনি তো এখনও ছোট আর এই বিষয়ে এতটা পরিপক্ব নন। আগে আপনার শ্বাশুড়ির থেকে কিছুদিন ধীরে সুস্থে সবটা দেখে শিখেন তারপর গোটা জীবন তো পরেই আছে আমাদের রান্না করে খাওয়ানোর জন্য। আপনি হলেন আমার দ্বিতীয় মেয়ে, এক মেয়েকে বিদায় দিয়ে আরেক মেয়েকে ঘরে তুলেছি। আর তাছাড়া যদি আপনার হাত-টাত পুড়ে বা কেটে যেতো তাহলে কিন্তু আমি ভীষণ কষ্ট পেতাম।

রাহা আদিয়াতের শেষ কথাটা শুনে নিজের ডান হাতটা ওড়না দিয়ে লুকিয়ে নেয়। সেটা আর কারো চোখে না পড়লেও আফিফের চোখে ঠিকই পড়েছে।

রাহা আদিয়াতের কথা শুনে আবেগি হয়ে যায়। তার বাবার কথা মনে পড়ে যায়। জেদের বশে কতদিন হয়ে গেলো মা-বাবার সাথে কথা বলেনি। কিন্তু এখন তাদের জন্য মন পুড়ছে।

আদিয়াত রাহাকে আফিফের পাশে বসিয়ে নিজে তাকে বেড়ে দেয় খাবার। তারপর নিজের জায়গায় বসে বলে–

—আজ আমরা সকলে একসাথে খাবো। সকলে খাওয়া শুরু করো।

আদিয়াতের কথা অনুযায়ী আফরা আর আফিফ খেতে শুরু করলেও রাহা হাত গুটিয়ে বসে থাকে। সকলে বিষয়টা কিছুক্ষণ পর প্রত্যক্ষ করে। আদিয়াত বলে–

—কি হয়েছে মামুনি? খাচ্ছো না কেনো?

রাহা আমতা আমতা করে বলে–

—আব্বু, আমার পেট ভরা সন্ধ্যায় স্ন্যাক্সের কারণে। আমি খাবো না।

রাহার কথা শুনে আদিয়াত বা আফরা কিছু বলতে নিবে তার আগেই আফিফ গম্ভীর গলায় বলে–

—পেট ভরা নাকি হাত পুড়িয়ে ফেলেছ, আর সেই পোড়া হাত দিয়ে খেতে পারবে না বলে মিথ্যে বলছো? কোনটা?

আফিফের কথা উপস্থিত তিনজনেরই বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আদিয়াত ও আরার বিস্মিত হয় এটা শুনে যে, রাহা হাত পুড়িয়ে ফেলেছে এবং সেটা কাউকে জানায়নি পর্যন্ত। আর রাহা বিস্মিত হয়, আফিফের জানতে পেরে যাওয়ার কারণে।

রাহা আবার মিথ্যাে বলতে নিলে আফিফ প্রথমবারের মতো তাকে জোরে একটা ধমক দিয়ে বলে–

—চুপ!! আর একটা মিথ্যাে কথা বললে তোমার খবর আছে আজ। দেখি হাত বের করো ওড়নার নিচ থেকে।

আফিফের ধমক খেয়ে রাহার বুক ধকধক করতে থাকে। বিয়ের এতগুলো দিনে সে সবসময় আফিফকে মিষ্টিভাষী ও কোমল ব্যবহার করতে দেখেছে। আজ এমন রুহ কাঁপানো ধমক খেয়ে সে বেশ ভয়ই পায়, সেই সাথে অভিমানও হয় তার।

রাহা মুখ ফুলিয়ে হাতটা বের করে সকলের সামনে। ডান হাতের উপরের পিঠে বেশ অনেকটা জায়গা ফোস্কা পড়ে রয়েছে। সকলে তার হাতের অবস্থা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ে। আফিফ খাওয়া ছেড়ে উঠে গিয়ে রাহার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে দেখতে থাকে তার পুড়ে যাওয়া জায়গাটা। তারপর আবারও সেখান থেকে উঠে গিয়ে রুম থেকে বার্নার এনে সযত্নে রাহার হাতে লাগিয়ে দেয়। রাহা এক ধ্যানে আফিফকে দেখতে থাকে। আফিফ ভ্রু-জোড়া কুঁচকে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাজটা করছে দেখে রাহার মনে হলো, আফিফ তার প্রতি দিনকে দিন দূর্বল হয়ে পড়ছে। পরক্ষণেই তার মন এটাও বলে উঠে–

—শুধু আফিফ না রে পাগলী! তুইও আবার এক ডাক্তারের প্রেমে পরছিস, সেটা কি তুই বুঝতে পারছিস?

কথাটা ভেবে রাহার পিলে চমকে উঠে। সেদিন রাহাকে আফরাই খাইয়ে দেয় পরম আদরে, মাতৃস্নেহে আগলে।

________________________________

সকালে হায়া আর আশিয়ান ব্রেকফাস্ট সেড়ে নিজেদের কাজের উদ্দেশ্য রওনা হয়। আশিয়ান হায়াকে তালুকদার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে ভার্সিটিতে যাবে। আগামীকাল জাহান-জায়িনের রিসেপশনপার্টি তাই মির্জা বাড়ির সকলে আগে থেকেই তালুকদার বাড়িতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে।

_________________________________

জাহান-জায়িনের রিসিপশন পার্টি তালুকদার বাড়ির পেছনের বাগানে অনুষ্ঠিত হবে বলে পুরো বাড়ি সাজানো হচ্ছে। নিচে অনেক মানুষ থাকায়, আদিবা আর হায়াকে উপরে পাঠিয়ে দেয় হানিয়া। তারা দু’জন গল্প করার উদ্দেশ্য মেহরিমার রুমে আসে। কিন্তু রুমে ঢুকে তারা কাউকে পায় না। নিচেও মেহরিমা ছিলো না। তাহলে মেয়েটা গেলো কোথায়?

হায়া বেলকনিতে গিয়ে দেখে সেখানে ফ্লোরে হাঁটুর উপর মুখ গুঁজে বসে রয়েছে মেহরিমা। আদিবা আর হায়া একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। তারা বুঝতে পারে মেহরিমার হয়ত মনটা খারাপ। তারা দু’জনও মেহরিমার দুই পাশে গিয়ে বসে পড়ে।

নিজের পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে মেহরিমা হাটু থেকে মুখ উঠিয়ে দেখে তার বান্ধবীরা এসেছে। এদিকে মেহরিমা মুখ উঠানোর পর তার মুখশ্রী প্রত্যক্ষ করে হায়া বুকটা হুহু করে উঠে। মেহরিমার চোখজোড়া অশ্রুসিক্ত আর লাল হয়ে রয়েছে। মেয়েটা নিরবে বসে নিজের কষ্ট বিলাশ করছিল।

হায়া মেহরিমার আরো কাছে এসে বসে। তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলে–

—কি হয়েছে দোস্ত? তুই কাঁদছিস কেনো? কেউ তোকে কিছু বলেছে? বড়দা ভাই তোকে কিছু বলেছে বা বলেছে?

মেহরিমা তার নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে তারপর মাথাটা ডানে বায়ে নাড়ায়। মানে জাহান কিছু বলেনি। হায়া আবারও জিজ্ঞেস করে–

—তাহলে কাঁদছিস কেনো?

মেহরিমা হায়ার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকে। আদিবা তার কাঁধে হাত রেখে বলে–

—তুই কিছু না বললে আমরা বুঝবো কিভাবে তোর কি হয়েছে? দেখ নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যে চেপে না রেখে আমাদের সাথে শেয়ার কর, দেখবি হালকা লাগবে। এমনও তো হতে পারে আমরা এমন কিছু সাজেশন দিলাম যার মাধ্যমে তোর সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো।

আদিবার কথায় হায়াও সম্মতি জানায়। মেহরিমারও তার কথাটা ভালো লাগে। মেহরিমা ধীরে সুস্থে বলা শুরু করে। তার কথাগুলো শুনে হায়া ও আদিবার মনটাও বিষাদে ছেয়ে যায়।

শব্দসংখ্যা~১৭০৫
~চলবে?

[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপু রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🖤]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here