সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৫১

0
22

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৫১(জাহান-মেহরিমা বাসর স্পেশাল)

[১৮+ এলার্ট। পর্বটি প্রাপ্তমনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত]

জাহান চলে যাওয়ায় মেহরিমা ভাবে জাহান হয়ত তাকে ক্ষমা করতে পারছে না। নিজের করা নির্বোধ কর্মের জন্য মেহরিমার নিজের উপরই প্রচন্ড রাগ হয়। ফুলের বুকেটা বেলকনি দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। তারপর নিজেকে নিজেই আঘাত করতে থাকে আর কাদতে থাকে।

এরই মাঝে জাহান ফিরে এসে তাকে এমন পাগলামি করতে দেখে হকচকিয়ে যায়। সে দ্রুত পায়ে হেঁটে মেহরিমার কাছে এসে তার হাত দু’টো ধরে বলে–

—কি হয়েছে মেহু? এমন করছো কেনো? আর কাঁদছই বা কেনো?

মেহরিমার কান্না কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে যায়। কতগুলো দিন পর জাহান তাকে “মেহু” ডাকল। মেহরিমা জানে এই ছোট ডাক টায় জাহানের কত ভালোবাসা, আদর, যত্ন, আহ্লাদ মিশে আছে। তারও যে এই ডাকটা ভীষণই প্রিয়। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পেতে কে না চায় না? মেহরিমা চায়। সে যে জন্মদুঃখীনী, তার যে ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা সকলের চেয়ে একটু বেশিই।

হুট করে মেহরিমা নিচে বসে জাহানের পা আঁকড়ে ধরে। জাহান হকচকিয়ে গিয়ে পেছনে সরে যেতে নিলে মেহরিমা তার পা ছাড়ে না, বরং আগের থেকে আরো একটু বেশি শক্ত করে হাতের বাঁধন। মেহরিমা জাহানের পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে–

—জাহান প্লিজ শেষ বারের মতো মাফ করে দেন। আমি আর কখনো আপনার অবাধ্যতা করব না। আপনি আমায় থেকে আর মুখ ফিরিয়ে রাখবেন না জাহান। আ…আপনি ছাড়া আমার আর কে আছে বলেন যে কিনা আমায় ভালোবাসবে। আপনার ইগনোর আমায় ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমি মরে যাচ্ছি আপনার ভালোবাসার অভাবে।

জাহান মেহরিমার কথা ও কাজ দুটোতেই হতভম্ব হয়ে যায়। সে তাড়াতাড়ি করে নিচে বসে মেহরিমাকে নিজের বাহুতে আগলে নেয়। মেহরিমা তার সব শক্তি দিয়ে জাহানকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকে। জাহান তাকে এমনভাবে কাঁদতে দেখে বিচলিত হয়ে যায়। সে মেহরিমার মাথায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–

—হুশ, আর কাঁদো না। শরীর খারাপ করবে তো এরপর। মাফ তো সেই কবেই করে দিয়েছি তোমায়, এতদিন শুধু দেখছিলাম তুমি আমার রাগ ভাঙাতে কি কি করতে পারো।

মেহরিমা জাহানের বুক থেকে মুখ তুলে তার দিকে তাকায়। মেহরিমার এমন বিধ্বস্ত মুখাবয়ব দেখে জাহানের বুকটা ধক করে উঠে। ইশশশ রে, মেয়েটার একটু পরীক্ষা নিতে গিয়ে বড্ড বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছে জাহান। জাহান নিজের কাছেই নিজে পুনরায় ওয়াদা বদ্ধ হয় মেহরিমাকে ভালো রাখার, তার অপ্রাপ্তি গুলো জাহানের মাধ্যমে পূর্ণ করার।

মেহরিমা হিচকি তুলতে তুলতে বলে–

—তা..হলে ত..খন ওভাবে চলে গেলেন কে..নো কিছু না বলে?

জাহান তার হাত দিয়ে মেহরিমার চোখের পানি গুলো মুছে দেয়। কিন্তু সাথে সাথেই আবার মেহরিমার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। জাহান মেহরিমার কান্না থামানোর জন্য হুট করেই তার চোখজোড়ায় নিজের ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শ দিতে থাকে। একবার, দুইবার, পরপর অনেকবার। একটা সময় পর মেহরিমা কান্না থামিয়ে লজ্জা পেয়ে জাহানের বুকে পুনরায় মুখ গুঁজে দেয়।

জাহান বেলকনির ফ্লোরে বাবু হয়ে বসে পড়ে মেহরিমাকে টেনে তার কোলের উপর বসায়। তারপর একটা মাঝারি সাইজের বক্স আর ছোট একটা বক্স মেহরিমাকে দেখিয়ে বলে–

—এটা আনার জন্য গিয়েছিলাম রে পাগলি।

মেহরিমা বক্স গুলো দেখে বলে–

—কি আছে বক্সগুলোতে।

—আপনার ভালোবাসার কনফেশন ও আমাদের ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কিছু গিফটস।

—মানে?

—মানে হলো, আমার কিছু দুষ্টু কলিগস আছে, তারা বলেছিল, বিয়ের পর ফার্স্ট নাইটে নাকি বউকে কিছু না দিলে তারা বিড়াল মারতে দেয় না। মানুষ বিড়াল মারে বিয়ের দিন, আর আমি? আজ আমাদের বিয়ের ১৬তম রাত চলছে, যদি আজও বিড়াল মারতে না পারি তাহলে, আমার পারসোনাল ফুটবল টিম বানানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

লাস্টের কথাটা জাহান আফসোস করেই বলে। কিন্তু তার চোখে-মুখে খেলা করছে দুষ্টুমিপনা। মেহরিমা জাহানের এমন ঠোঁটকাটা কথা শুনে লজ্জায় হাসফাস করতে থাকে।

জাহান বড় বক্সটা খুলে সেখান থেকে একটা লাভ সেইপের পেন্ডেটওয়ালা চেইন বের করে মেহরিমার কাঁধের থেকে চুল সরিয়ে সেটা পরিয়ে দেয়। চেইন পরানোর পর টুকুস করে একটা চুমু দিতে ভুলে না। মেহরিমা কেঁপে জাহানের শার্ট খামচে ধরে। জাহান পরপর এক জোড়া কানের দুল, আর একজোড়া চুড়ি পরিয়ে দেয় মেহরিমাকে। সবগুলোই ডায়মন্ডের তৈরি আর একদম সিম্পল করে বানানো যাতে সবসময় পরে থাকতে পারে।

জাহান ওর্নামেন্টস গুলো পরিয়ে নিজের দিকে ফেরায় তারপর তার একগালে হাত রেখে বলে–

—এগুলো সবসময় পরবে বলে একদম সিম্পল করে বানিয়েছি, কখনো খুলবে না এগুলো ঠিক আছে?

মেহরিমা বাধ্যগত মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে জাহানের কথায় সম্মতি দেয়। সবশেষে জাহান ছোট বক্সটা থেকে একটা ডায়মন্ডের রিং বের করে মেহরিমার বাম হাতের অনামিকা অঙ্গুলে পরিয়ে দিয়ে সেখানে ছোট্ট একটা চুমু দেয়। মেহরিমার সেই হাতটা নিজের গালে রেখে মোহনীয় গলায় বলে–

—আই লাভ ইউ বউ, লাভ ইউ সো মাচ। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, তা এই তিনটি শব্দে আটকে রাখা যায় না। যদি ভালোবাসা দেখানো যেতো, আমি বুকটা চিরে দেখিয়ে দিতাম, তোমার জন্য কী পরিমাণ অনুভব জমে আছে সেখানে।

আমার কথাগুলো শুনে তোমার গল্প উপন্যাসের থেকে টুকলি করা ডায়লগ মনে হতে পারে কিন্তু জানো মেহরিমা? আমি বাস্তবেই এমনভাবে তোমায় ভালোবাসি যে, নিজেকে তোমার বাইরে চিন্তাই করতে পারি না। বিয়ের আগে, আমি প্রায় প্রতিটি রাত এই বেলকনিতে বসে কাটিয়েছি তোমার কথা ভাবতে ভাবতে। ভাবনাগুলো এক সময় অভ্যেস হয়ে গিয়েছিলো। তোমাকে ভাবা, তোমাকে কল্পনা করা, তোমার মুখখানা মনে করে নিঃশ্বাস ফেলা সবই এক ধরণের প্রশান্তি দেয় আমায়।

এই যে তুমি আজ আমার বাহুতে আবদ্ধ হয়ে আছো, এমন একটা দিনের আমার জীবনের পাওয়ার জন্য আমি কতকত প্রার্থনা করেছি সেসব আর না বলি।

আমি তোমার জীবনে সকালের স্নিগ্ধ রোদ্দুর হতে চাই, যে তোমার প্রতিটি দিনকে উজ্জ্বল করে তুলবে।
তোমার মন খারাপের দিনের শ্রোতা হতে চাই, যাকে নির্ভয়ে বলতে পারো—‘আজ আমার মনটা ভালো না’।
আমি চাই, তুমি যখন হাসো তখন সেই হাসির পেছনে আমি থাকি নীরব ছায়ার মতো, অথচ নির্ভরযোগ্য।

জাহান হঠাৎ থেমে যায়। মেহরিমার চোখে জল দেখে সে অস্থির হয়ে পড়ে। সে কিছুক্ষণ আগের মতো করে মেহরিমার চোখের জল মুছে দেয়।

তারপর কণ্ঠে আরো কোমলতা নিয়ে মৃদু স্বরে বলে—

—তুমি জানো, আমার সবচেয়ে বড় ভয় কীসের?

মেহরিমা প্রশ্মবোধক দৃষ্টি নিয়ে জাহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। জাহান নিজেই বলে–

—তোমার চোখের অশ্রু। তোমার চোখ থেকে একটা অশ্রুও যদি ঝরে, আর তার কারণ যদি আমি হই,
তাহলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না কখনো।

মেহরিমার কপালে দীর্ঘসময় নিয়ে একটা চুমু দেয় জাহান। তার কপালে নিজের ঠোঁট ঠেকিয়ে রেখেই বলে উঠে–

—তুমি শুধু আমার স্ত্রী নও, তুমি আমার শান্তি।
এই জীবনে আমি যতদিন বাঁচি, প্রতিটি দিন শুধু তোমাকে ভালোবেসে যেতে চাই। আর একদিন যদি তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাও, তবে আমায় আর খুঁজে পাবো না।

শেষ কথাটা শুনে মেহরিমার বুক কেঁপে উঠে। সে নিজের হাত দিয়ে জাহানের মুখ চেপে ধরে। সে ধীরে ধীরে জাহানের গাল ছুঁয়ে বলে—

—আপনি জানেন, আমি কখনো ভাবিনি কেউ আমাকে এমনভাবে ভালোবাসবে। জীবনের এতগুলো বছর ভালোবাসাহীন, অবহেলা, অনাদরে বড় হওয়ায় ভালোবাসা শব্দটা থেকে বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল।কিন্তু আমার সেই বিশ্বাস আবারও ফিরিয়ে আনলেন আপনি। আপনার চোখে আমার জন্য যে ভালোবাসা দেখি, তা আমার আত্মায় ছুঁয়ে যায়। আপনার প্রতিটা কথায় যেন আমি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই।

সে চোখ নামিয়ে নিজের আঙুলে থাকা আংটিটার দিকে তাকায়। হীরেটার ঝিকিমিকির চেয়েও বেশি উজ্জ্বল তখন তার মুখের হাসি। সে জাহানের চোখে চোখ রেখে বলে–

—আপনি আমার জীবনের সেই উপহার, যেটা চাইলেও কখনো কল্পনা করতে পারিনি। আমি চিরকাল আপনার এই ভালোবাসার ছায়ায় বাঁচতে চাই জাহান।আর যদি কখনো অভিমান করি, মন খারাপ করি…জানবেন, তার মাঝেও আমি শুধু আপনারই হয়ে থাকতে চাই।

এরপর সে জাহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। পরিবেশও বোধহয় তাদের পবিত্র ভালোবাসার পূর্ণতা দেখে খুশি হয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর জাহান মেহরিমার মুখশ্রী তার বক্ষ থেকে উঠিয়ে দুই হাতের আঁজলায় নেয়। মেহরিমার কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। তারপর বলে–

—বউ, আজ যদি আমি তোমায় আমার করে নেই, তাহলে কি তুমি রাগ করবে? আজ রাতে… আমি তোমায় শুধু ভালোবাসতে চাই না, তোমার সমস্ত সত্ত্বায় নিজেকে বিলীন করে দিতে চাই। তোমার শরীর নয়, আমি তোমার আত্মাকে ছুঁতে চাই।

মেহু, আজ রাতে আমি শুধু ছুঁতে চাই না, তোমার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে চাই। তুমি কি আমায় সেই ঘন নীরবতায় প্রবেশ করতে দেবে? যেখানে ভালোবাসা শরীরে নয়, আত্মায় লেখা থাকে?

জাহান কথাগুলো শেষ করে মেহরিমার দিকে তাকিয়ে থাকে তার উত্তর জানার জন্য। মেহরিমা জাহানের কথাগুলো বুঝতে পেরে লজ্জায় লজ্জাবতী গাছের মতো আরো নেতিয়ে পড়ে। সেও চাইছে আজ জাহানের অস্তিত্বের সাথে মিশে যেতে, তাকে একান্ত নিজের করে পেতে চাইছে। কিন্তু ঐ যে লজ্জা! সে যে স্বাভাবিকের চেয়েও একটু বেশিই লাজুক।

মেহরিমার কাছে আবারও বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলে–

—মেহু, আজ রাতে আমি কি তোমায় ভালোবাসতে পারি, বউ?

ইশশ, রে! কি কিউট আবদার। ভালোবাসার মানুষটি ভালোবাসতে চাইছে, তাও এত কিউট করে। মেহরিমা কেন কোন প্রেয়সীই তার প্রেমিক পুরুষকে ফিরিয়ে দিতো পারবে না এই আবদারে।

মেহরিমার হঠাৎই এক দুঃসাহসিক কাজ করে ফেলে। সে জাহানের এক গালে হাত রেখে তার অন্য হাত দিয়ে জাহানের চোখ চেপে ধরে তাদের দুইজনের অধর মিলিয়ে দেয়। স্পর্শটার স্থায়ীত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ডের জন্য, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা ছিল অবর্ণনীয়। মেহরিমার তার অধর সরিয়ে এনে জাহানের কাঁধে মুখ লুকিয়ে নেয়। লজ্জায় তার গাল দুটো গরম হয়ে এসেছে। মেহরিমা মুখে কিছু না বলেও জাহানকে তার সম্মতির কথা বুঝিয়ে দিয়েছে, নিজের কাজ দ্বারা।

অন্যদিকে মেহরিমার এমনভাবে উত্তর দেওয়ায় জাহানের চিত্ত উল্লাসে মেতে উঠে। আজ তার প্রেয়সী অনুমতি দিয়েছে তাকে ভালোবাসার। এত খুশি জাহান কই রাখবে ভেবে পায় না।

জাহান ঝট করে মেহরিমাকে কোলে তুলে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রুমে এসে তাঁকে বেডে শুয়ে দিয়ে নিজে চলে যায় বেলকনির দরজার লাগাতে। বেলকনির দরজা লাগিয়ে রুমে ডিম লাইট জ্বালিয়ে গায়ে থাকা ব্রেজারটা খুলে দূরে ছুড়ে মারে। কোথায় গিয়ে পরল সেদিকে আপাতত তার মাথা ব্যথা নেই। শার্টের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে বেডে উঠে আসে।

জাহান যতই এক কদম করে এগোচ্ছে, মেহরিমা নার্ভাস হয়ে পড়ছে। জাহান যখন একদম মেহরিমার কাছে এসে পড়ে তখন মেহরিমা ঘাবড়ে গিয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিয়ে বেডশিট খামচে ধরে। তাকে এমনটা করতে দেখে জাহান বুঝে যায় মেহরিমা ভয় পাচ্ছে। বউকে ভয় দেখিয়ে তাকে আপন করে নেওয়ার মতো মানুষস জাহান না। সে চায় জাহান মেহরিমাকে যতটা স্পেশাল ফিল করাতে চায় এই মোমেন্টে, মেহরিমা যেন তা বুঝে।

জাহান মেহরিমার দুই গালে তার রেখে তার কপালের মধ্যিখানে গভীর ভাবো চুম্বন করে। জাহানের এই স্পর্শ মেহরিমার কাছে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তার সকল ভয়, কাঁপানি সব দূর হয়ে যায়। জাহান এক এক করে মেহরিমার দুই চোখ, কপোল দ্বয় নিজের ওষ্ঠের স্পর্শ দিয়ে সিক্ত করে তুলতে থাকে। মেহরিমা যখন একদম শান্ত হয়ে যায় তখন জাহান তার অধর স্পর্শ করে স্বীয় অধর দ্বারা। মেহরিমা তার একহাত দ্বারা জাহানের পিঠ আর অন্যহাত দ্বারা তার কাঁধের কাছের চুল খামচে ধরে তাকে আরো নিজের কাছে টেনে আনে।

সময় তার আপন নিয়মে বইতে থাকে সেই সাথে জাহান আর মেহরিমার ভালোবাসা আরো গভীর হতে থাকে। দুই ভালোবাসার মানুষ তাদের ভালোবাসাকে পেয়ে সময়ের জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সময় যতই পার হতে থাকে তালুকদার বাড়ির দো’তলার এই বদ্ধ রুমে সুখের আর্তনাদগুলো ততই প্রখর হতে থাকে।

_______________________________

দূরের মসজিদ থেকে আজানের পবিত্র বাণী ভেসে আসছে। আশিয়ানের ঘুমটা তখনই ভাঙে। ভোরে হয়ে এসেছে দেখে সে ভাবেন”এখন তাদের রুমে ফেরা উচিত”। যেই ভাবা সেই কাজ। সে তার বুকের উপর বিড়ালছানার মতো ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকা বউয়ের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তাকে ডাকতে থাকে–

—হায়া, ও বউ, উঠো। রুমে যেতে হবে যে, সকাল হয়ে এসেছে।

আশিয়ান কোন তাড়াহুড়ো ছাড়া আস্তে ধীরেই হায়াকে ডেকে তুলে। মূলত সে ভয় পাচ্ছে হায়াকে ডাকতে। কারণ, আজ সারারাত না সে ঘুমিয়েছে আর নাই বা মেয়েটাকে ঘুমাতে দিয়েছে। আধাঘন্টা হবে হয়ত তারা চোখ বন্ধ করেছে, আর এরই মাঝে আজান দিয়ে দিয়েছে। এখন হায়া উঠে তার মাথায় বাশ দিয়ে বারি মারতে চায় তাহলে আশিয়ান বেশি একটা অবাক হবে না।

হায়া একটি গাইগুই করতে করতে শোয়া থেকে উঠে বসে। গলা পর্যন্ত কাঁথা জড়িয়ে একহাত দিয়ে চুল খামচে ধরে বসে থাকে কিছুক্ষণের জন্য। দুইদিন ধরে এত দৌড়ঝাঁপ করার পর আজ আবার অশান্ত আশিয়ানকে সামলে সে প্রচন্ড ক্লান্ত। মাথা ভো ভো করে ঘুরছে তার। আশিয়ানের একটু খারাপই লাগে মেয়েটার বেহাল দশা দেখে। আজ সে একটু বেশিই বেপরোয়া হয়ে পরেছিল।

আশিয়ান নিজেই তার গায়ে কোন মতো শাড়ি পেঁচিয়ে দিয়ে কোলে তুলে নেয়। তারপর হাঁটা লাগায় রুমের উদ্দেশ্য। হায়া কোন বাঁধা দেয় না বা রাগ দেখায় না। মূলত সে এসব দেখানোর মতো পরিস্থিতিতে নেই।

আশিয়ান রুমে এসে সোজা চলে যায় ওয়াশরুমে। হায়া ও সে একসাথে ফ্রেশ হয়ে বের হয়। আশিয়ান হায়ার সকল কাজ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে করে দেয়। দু’জনে একসাথে নামাজ আদায় করে আশিয়ান হায়াকে বেডে আধশোয়া করে বসিয়ে দিয়ে নিচে চলে যায় কিছু খাবার আনতে। বিশ মিনিট পর আশিয়ান মাঝারি এক বোল নুডলস আর বড় এক গ্লাস গরম দুধ নিয়ে আসে। রুমে এসে হায়াকে জাগ্রত অবস্থাতেই পায় আশিয়ান। আশিয়ান খাবারগুলো আস্তেধীরে হায়াকে খাইয়ে দিতে থাকে। এই পুরোটা সময় হায়া একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। আশিয়ান তাকে এত চুপচাপ দেখে ভেতরে ভেতরে বেশ অস্থির হয়ে পড়ে কিন্তু বাহিরে শান্ত থাকে।

আশিয়ানের মনের অস্থির তাও খানিক সময়ের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় যখন কিনা হায়া বলে–

—আপনিও খান। আমার মুখে শুধু ঠুসছেন কেন?

হায়ার গলা কাঠকাঠ শোনালেও তার আড়ালে যে ভালোবাসা,যত্ন লুকিয়ে আছে সেটা আশিয়ানের থেকে ভালো আর কেই বা বুঝতে পারবে। আশিয়ান হায়ার সাথে সাথে নিজেও খেতে থাকে। দুধটাও হায়া অর্ধেক খেয়ে বাকি অর্ধেকটা আশিয়ানকে খাওয়ায়। আশিয়ান খাওয়াদাওয়া শেষ করে এঁটো থালাগুলো নিচে রেখে রুমে এসে দেখে বেড খালি। “বউ কই আমার?” সর্বপ্রথম এই প্রশ্নটাই আশিয়ানের মস্তিকে আসে। আশিয়ান ওয়াশরুমের দিকে তাকালে দরজা বন্ধ পায়। সে তড়িঘড়ি করে বেলকনিতে গেলে সেখানে তার বউকে পায়।

হায়াকে দেখতে পেয়ে সে বড় করে এক নিঃশ্বাস ছাড়ে। বউটা ইদানীং চোখের আড়াল হলে তার বুকে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। সে বিড়াল পায়ে হেঁটে হায়ার পেছনে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে তার অল্প ভেজা চুলে মুখ ডুবিয়ে দেয়। বিরবিরিয়ে কতবার ক্ষমা চায়, নিজের ভালোবাসা জাহির করে তার ইয়ত্তা নেই।

হঠাৎই হায়ার কিছু কথায় সে স্তব্ধ হয়ে যায়। মনের মাঝে বিরাজমান ভালোলাগা গুলো নিঃশেষ হয়ে গিয়ে সেখানে ঠায় নেয় ভয়।

শব্দসংখ্যা~২১০০
~চলবে?

[দুঃখিত আপনাদের এতদিন অপেক্ষা করানোর জন্য। মূলত আমার অসুস্থতা ও গতকাল ১২ ঘণ্টার জন্য রেস্ট্রিকটেড করা হয়েছিল আমার আইডি ও পেইজ যার কারণে এতটা দিন অপেক্ষা করতে হলো আপনাদের।

এটায় ৬০০ রিয়াক্ট করে দেন সবাই🥹 অনেক অসুস্থতা নিয়ে লিখেছিলাম। আপনারা যারা পড়ে চলে যান তারা এমনটা করবেন না প্লিজ। মন ভেঙে যায় আমার আপনাদের এসব কারণে।😞

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 🥹]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here