#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৫২
[পর্বটি রোমান্টিক। যারা রোমান্সধর্মী পছন্দ করেন না তারা ইগনোর করবেন প্লিজ]
সকালে ঘুম থেকে উঠতেই রাহার মাথাটা কেমন ভার ভার লাগতে থাকে। সেই সাথে সে নিজের উপর ভারী কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। পিটিপিট করে চোখ মেলে তাকালে নিজেকে তাদের রুমে পায়। চোখ ঘুরিয়ে বুকের উপর ভারী বস্তুটার দিকে তাকালে রাহার চোখ দুটো কোটর থেকে বের হয়ে আসতে চায়। আফিফ নিজের শরীরের অর্ধেকাংশ রাহার উপর দিয়ে তার কাঁধে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে আছে।সে আর আফিফ একটা চাদরের তলায়। রাহা অনুভব করে তাদের দুইজনের গায়ে বস্ত্র বলতে সেই চাদর টুকুই রয়েছে। বিষয়টা অনুধাবন করতেই তার হার্টবিট ফাস্ট হয়ে যায়।
রাহা চোখ বন্ধ করে কাল রাতের কথা ভাবতে থাকে। আবছা আবছা করে মনে পরতে থাকে তাদের দুইজনের এই অবস্থায় আসার আগের সময়টুকুর কথা।
___________________
~গতকাল রাতে~
আফিফের মতো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের পক্ষে বউয়ের এমন আদুরে স্পর্শে নিজেকে কন্ট্রোল রাখা খুবই কষ্টের হয়ে যায়। রাহা আফিফের কাঁধের কাছের শার্ট খামচে ধরে তার এডমস অ্যাপেলে একের পর এক চুমু দিয়েই চলছে। মাঝে মধ্যে আবার দাঁত দিয়ে টুকুস করে কামড় দিচ্ছে। কামড় গুলোয় ব্যথা কম অনুভূতিদায়ক যন্ত্রণা বেশি ছিল।
আফিফ বহু কষ্টে রাহাকে নিজের ছাড়ায়। রাহার হাত দু’টো নিজের এক হাতের মুঠোয় নেয় আর অন্যহাত দ্বারা তার থুতনি ধরে রেখেছে। রাহা কেমন উন্মাদের মতো করছে। রাহা বলে–
—এই শয়তান ছেলে থামালি কেন আমায়? আমি চুমু খাচ্ছিলাম না ঐ ফোলাফোলা জায়গায়। ছাড় আমায় আমি আরো চুমু খাবো।
রাহার কথা শুনে আফিফের চোখগুলো রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে যায়। একে তে রাহা তাকে তুই করে বলছে, দুয়ে আবার চুমু খাওয়ার জন্য পাগলামি করছে। আফিফ পারে না হাত-পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে কাঁদতে। সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলে–
—রাহা, এমন করছো কেন সোনা? একটু শান্ত হয়ে বসো। আমি তোমার জন্য লেবুর শরবত নিয়ে আসছি। সেটা খেলে ভালো লাগবে তোমার।
রাহা জেদ দেখিয়ে বলে–
—আমি কোন শরবত টরবত খাবো না। আমি তোকে খাবো।
—আমাকে খাবে মানে?
হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞের করে আফিফ।
—হ্যা, আমি তোর গলার ঐ উঁচু জায়গায় চুমু খাবো। ছাড় বলছি আমার হাত নাহলে কামড় দিলাম কিন্তু।
রাহা কথাটা বলার সাথে সাথে একটা কামড় দিয়েও দেয়। আফিফ ব্যথায় রাহার হাত ছেড়ে দেয়। রাহা যেই না আফিফের গলার কাছে নিজের মুখ আনতে যাবে আফিফ তখনই রাহাকে কোলে নিয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। তারপর বড় বড় পা ফেলে রাহাকে বেডে রেখে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। রাহা তার পেছন পেছন আসতে নিলে আফিফ দরজা বাহির থেকে লক করে নিচে চলে যায়, রাহার জন্য লেবুর শরবত নিয়ে আসতে।
আসলে রাহা পূর্ব কখনোই ওয়াইন খায়নি। সে বাবার বিগড়ে যাওয়া সন্তান হলেও তার বাবা তাকে কিছু সীমানা বেঁধে দিয়েছিল। যেহেতু সে বাবা পাগল মেয়ে তাই বাবার বেঁধে দেওয়া সীমানাগুলোর বাহিরে যায় নি। তাই আজ প্রথমবার তার পেটে লাল পানি প্রবেশ করে তাকে এতটা এলোমেলো করে দিয়েছে।
আফিফ লেবুর শরবত নিয়ে ফিরে আসে পনেরো মিনিট পরই। লেবু খুঁজে পাচ্ছিল না, মেইড জানায় লেবু নাকি শেষ হয়ে গিয়েছে। অগ্যাত এই রাতে তার মায়ের বাগান ক্ষেত থেকে লেবু এনে তারপর শরবত বানাতে হয়েছে।
কিন্তু বেচারা এখন বউয়ের ভয়ে রুমে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না। নেশাগ্রস্ত হয়ে কেমন পাগলামিটাই না করছে রাহা। ভয় লাগছে আফিফের। তাও দোয়া দরুদ পড়ে বুকে ফু দিয়ে আল্লাহর নাম নিতে নিতে রুমে প্রবেশ করে। কিন্তু রুমে ঢুকে বেড খালি পায়। হঠাৎই পেছন থেকে দরজা বন্ধ করার শব্দ শোনা যায়। আফিফ যেই না পেছনে ঘুরবে তার আগেই রাহা বাদরের মতো লাফ মেরে তার কাঁধ ধরে ঝুলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আফিফের হাত থেকে জুসের গ্লাসটা ফ্লোরে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়।।
রাহা আফিফের কাঁধ ধরে ঝুলতে ঝুলতে বলে–
—হাউমাউখাউ, আমি ভুত। এখন তোর ঘাড় মটকাবো জামাই।
কথাটা বলার সাথে সাথে রাহা আফিফের কাঁধে কামড়ে ধরে। ব্যথায় আফিফের লোম খাড়া হয়ে যায়। আফিফ সেই অবস্থাতেই কোন মতে বিছানার কাছে এসে রাহাকে ঝটকা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে ড্রেসিং টেবিলের কাছে চলে যায়। সেখানে গিয়ে আয়নার সাহায্য কাঁধের দিকে তাকালে অবাক হয়ে যায়। রাহা যেই জায়গা টায় কামড় দিয়েছে সেখান থেকে রক্ত না বের হলেও লাল হয়ে ফুলে গিয়েছে। আর কয়েক সেকেন্ড গেলেই হয়ত রক্ত বের হয়ে আসত জায়গাটা দিয়ে।
আফিফের আস্তে আস্তে মেজাজ খারাপ হতে থাকে। সে পেছন ঘুরে রাহাকে বকা দেওয়ার জন্য, কিন্তু রাহাকে দেখে তার মাথা আবারও চক্কর দিয়ে উঠে। রাহা আফিফের একটা শার্ট পরে রয়েছে আর ট্রাউজার। ট্রাউজার টাও বোধহয় আফিফের কারণ সেটা রাহার পায়ের তলায় চলে গিয়েছে।
আফিফ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে–
—এসব চেঞ্জ করলে কখন? আর কেনো?
—যখন আপনি আমায় ধোকা দিয়ে নিচে চলে গিয়েছিলেন। জানেন আমার মাথা না কেমন কেমন করছে তাই বমি করেছি। জামাটা একটু নোংরা লেগে গিয়েছিল তাই চেঞ্জ করে ফেলেছি।
কাঁদো কাঁদো গলায় বলে রাহা। আফিফের বুক চিরে কান্না বের হতে চায়। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাহার কাছে এসে তার দুই গালে হাত রেখে কোমল গলায় বলে–
—রাহা সোনা পাখি, তুমি তো লক্ষী মেয়ে তাই না? তো লক্ষী মেয়েরা সবার কথা শুনে। তুমি একটু শান্ত হয়ে বসো। আমি নিচে যাবো আর আসব, তোমার মাথা কেমন কেমন দূর করার ঔষধ নিয়ে আসছি, হ্যা?
রাহা নিজের গাল থেকে হাত সরিয়ে তাকে হ্যাচকা টান দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়। তারপর তার পেটের উপর বসে মুখের দিকে ঝুকে এসে বলে–
—কোন ঔষধ লাগবে না। আমার বড় ঔষধ তো আপনি। এই আফিফ আপনি আমায় ভালোবাসেন না কেন? জানেন কেউ আমায় ভালোবাসে না।
কথাটা বলে সে আফিফের বুকের উপর শুয়ে কাঁদতে থাকে। আফিফ তার প্রতি মায়া হয়। সে রাহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–
—কে বলেছে কেউ তোমায় ভালোবাসে না? তোমার আম্মু, পাপা, ভাই। আমার আম্মু-বাবা সবাই তোমাকে কত ভালোবাসে।
—আর আপনি?
আফিফ রাহার প্রশ্নটা শুনে থমকে যায়। এমন না তার মনে অন্যকেউ আছে বা রাহাকে তার ভালো লাগে না। রাহা তার আশেপাশে থাকলে প্রচন্ড ভালো লাগে, মেয়েটা হাসলে যখন তার গালে সুন্দর দু’টো টোল পরে তখন তার মন চায় সেখানে একটি আদর দিতে। সে রাহাকে সবসময় স্পেশাল ফিল করাতে চায়। এসব যদি ভালোবাসার লক্ষণ হয় তাহলে আফিফ ভালোবাসে। হ্যা, সে তার স্ত্রীকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু সে একটু দ্বিধান্বিত।
রাহা তাঁকে আবারও প্রশ্ন করে–
—হায়াকে তার বর কত্তো ভালোবাসে। মেহরিমার বরের কথা তে বাদই দিলাম। সে তো বউ বলতে পাগল। আদিবাকেও তার বর ছোট থেকে ভালোবাসে। আর আমার বর? আমার ভাগ্যটা এবারও খারাপ। আসলে আমার মতো মেয়ের জন্য এমনটাই হওয়া উচিত। সবসময় বাবার টাকায় চলে অন্যদের ছোট করেছি, কষ্ট দিয়ে কথা বলেছি। তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছি। তাই তো আল্লাহ এখন আমায় পানিশমেন্ট দিচ্ছে। আমি জানি তো আমি পঁচা মেয়ে। আমার সাথে এমনটাই হওয়া উচিত।
বমি করার কারণে নেশা প্রভাব কিছুটা কমেছে রাহার। সে এসব কথা বলছে আর কাঁদছে আফিফের বুকের উপর শুয়ে শুয়ে। আফিফ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত করতে করতে বলে–
—কে বলেছে রাহা পঁচা? আমার দেখা লক্ষী মেয়েদের মধ্যে রাহা একজন। কাঁদে না সোনা পাখি।
—লক্ষী মেয়েদের তো সকলে ভালোবাসে। তাদের বর রাও, তাহলে আপনি কি আমায় ভালোবাসেন আফিফ?
আফিফ নিজের মনে দ্বিধা থাকায় কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। রাহার হুট করে কি হলো, সে আফিফের পরিধেয় শার্টের বোতাম খুলতে থাকে। আফিফ থতমত খেয়ে তাকে থামাতে নেয় কিন্তু রাহা নিজের কাজ করে চলেছে। আফিফ অস্থির হয়ে বলে–
—এমন করছো কেনো রাহা? প্লিজ এমনটা করো না। তুমি এখন নেশাগ্রস্ত, যখন তোমার নেশা কেটে যাবে তখন তোমার এসব কিছুই মনে থাকবে না। আমায় দোষারোপ করবে। প্লিজ শান্ত হও একটু।
—কে বলেছে আমি নেশাগ্রস্ত। আই এম ফিট এন্ড ফাইন ডাক্তার সাহেব। আর আপনাকে দোষারোপ করার কি আছে? আমরা স্বামী স্ত্রী, এগুলো আমাদের মধ্যে কমন ব্যাপার। আপনি শান্ত হন আর আমার আদর নেন। পারলে নিজেও করতে পারেন আমি কিছু মনে করব না।
কথাগুলো বলতে বলতে সে আফিফের শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে ফেলে, তারপর সেখান টায় নিজের নরম অধরের উষ্ণ স্পর্শ দিতে থাকে। আফিফ তাকে থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু রাহা নিজের সিদ্ধান্তে অটল। সে আজ স্বামীর ভালোবাসা নিয়েই ছাড়বে।
শত হোক আফিফ একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ। কোন নারী যদি নিজ থেকে কাছে যাওয়ার আহবান করে, আর সেই নারীটি যদি হয় হালাল তাহলে কোন পুরুষ কি তার আহবানে সাড়া না দিয়ে পারে? মহা মানবরা ছাড়া হয়ত পারে না। কিন্তু আফিফ তো মহামানব নয়, সে তো সাধারণ একজন।
আফিফ শক্তি খাটিয়ে রাহাকে উল্টে বেডে ফেলে দেয়। রাহা তখনও তার গলা জড়িয়ে ধরে আছে। আফিফ একটা শুকনো ঢোক গিলে বলে–
—ভালোবাসা ছাড়া সম্পর্কের কোন নিশ্চিয়তা নেই রাহা। শারীরিক আকর্ষন কখনোই একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে না। তুমি আরেক বার ভেবে দেখো প্লিজ।
—আমার প্রতি যে আপনার বিশেষ একটা ফিলিংস আছে সেটা আমি বহু আগেই বুঝে গিয়েছি ডাক্তার। আপনি সেটা প্রকাশ করতে না চাইলেও আপনার চোখ আমায় তা জানিয়ে দিয়েছে। আর আমি যে আপনার প্রতি কিছু ফিল করি না এমনটা না। পাপার পর আপনার কাছে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করি। আপনি একটু দেরি করে আসলে আমার বুকটা কেমন ধরফর করতে থাকে। “আপনি ঠিক আছেন তো”? এই প্রশ্নটা বুকের ভেতর ঝড় তুলে দেয়। আপনাকে সুস্থ সবল না দেখা অব্দি সেই ঝড় থামে না। এসব কিসের লক্ষণ ডাক্তার? আমার মন তো বলে এসব প্রেমে পারার লক্ষণ, কিন্তু মস্তিষ্ক বলে এত তাড়াতাড়ি কি করে আবার প্রেমে পরলাম আমি? মন ও মস্তিষ্কের এই আলাদা আলাদা উত্তরে আমি অতিষ্ঠ। আমাদের সম্পর্ক অন্যদের মতো ভালোবাসা দিয়ে না শুরু হোক, আপনি না হয় আমায় ভালোবাসা শিখিয়ে দিয়েন। আমি সব বুঝে শুনেই আজকে এই পদক্ষেপটা নিচ্ছি। আপনি প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিবেন না।
কথাগুলো বলতে বলতে রাহার চোখের কার্ণিশ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরতে থাকে। আফিফ এতক্ষণ একধ্যানে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ছিল। রাহার কথা শেষ হতেই আফিফ রাহার চোখের পানি মুছে দিয়ে তার কপালে এক দীর্ঘ চুম্বন করে। আফিফের গলায় থাকা রাহার হাতের বন্ধন আরো মজবুত হয়। রাহা আফিফের দ্বিধা বুঝতে পেরে নিজেই সর্বপ্রথম তাদের দু’জনের অধর এক করে দেয়। আফিফ মনে মনে কিছুটা সংশয় নিয়েই স্ত্রীকে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে নেয়।
সময় গড়ানোর সাথে সাথে আফিফের সেই সংশয়ও মন থেকে দূর হয়ে যেতে থাকে। আগামীকাল কি হবে এটা ভেবে আজকের সুন্দর মুহূর্তটা সে নষ্ট করতে চাইছে না। রাহার সাথে একবার যখম তার নিয়ে হয়েই গিয়েছে এই জীবনে সে আর রাহাকে ছাড়ছে না।
আফিফ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে–
—এই এক জীবনে তোমার আফিফ মাহমুদের কাছ থেকে মুক্তি নেই সোনা পাখি।
______________________________
~বর্তমান~
গতকাল রাতের সব কথাই রাহার আস্তে আস্তে মনে পরছে। রাহা তৃপ্তিরদায়ক একটা শ্বাস নেয়। একটা হাত উঠিয়ে আফিফের চুলের ভাঁজে গুজে দিয়ে আলতো হাতে টানতে থাকে। আফিফের বোধহয় বিষয়টা ভালো লাগে যার কারণে সে একটু গুঙিয়ে উঠে। রাহা আস্তে করে তার মাথা উঠিয়ে আফিফের এলোমেলো চুলের উপর চুম্বন করে। বিরবিরিয়ে বলে উঠে–
—আমি সেচ্ছায় আপনার বন্দিনী হলাম ডাক্তার সাহেব।
_________________________
—আশিয়ান, আমি একটি সুস্থ-স্বাভাবিক লাইফ চাই। যেখানে অন্যায় অপরাধের বিন্দুমাত্র স্থান থাকবে না। এবং এই সুন্দর লাইফে আমি আপনাকেও আমার অর্ধাঙ্গ হিসেবে চাই। এর জন্য আমার একার এফোর্ট কখনোই যথেষ্ট হবে না, এর জন্য আমার আপনারও সাহায্য প্রয়োজন।
আশিয়ান হায়ার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে। হায়া কথাগুলো বলে থামতেই আশিয়ান তাকে নিজের দিকে ফেরায়। তার দুই গালে হাত রেখে বলে–
—আমিও তোমার সাথে একটা হ্যাপি ম্যারিড লাইফ চাই। এর জন্য আমায় যা যা করতে হবে আমি করব। তুমি বলো আমায় কি করতে হবে আমি সব করব তোমায় নিজের কাছে রাখার জন্য।
আশিয়ানের কথা শুনে সত্যিকার অর্থে হায়ার মনটা ভালো হয়ে যায়। আশিয়ান তাঁকে একটু বেশিই ভালোবাসে, যার প্রমাণ সে বারংবার দিয়ে আসছে তাদের বিয়ের পর থেকে। হায়া বলে–
—বিদেশে যাওয়ার পর থেকে আমায় বিয়ে করার দিন পর্যন্ত সব ঘটনা আমায় খুলে বলুন। আমি চাই না আপনার দ্বারা সংঘটিত অন্যান্য কর্মগুলো কথা আমাকে অন্যের থেকে শুনতে হোক। আপনার মুখে শুনলে আমি হয়ত এতটা বেশি কষ্ট পাবো না, যতটা না অন্যের মুখে শুনে পাবো। ফারাবী ভাইয়ার থেকে আপনার ঐকাজের কথা শুনে আমি কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম তা শব্দে প্রকাশ করতে পারব না।
আশিয়ান হায়ার কথাগুলো শুনে তার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে ভাবতে থাকে–
—আসলেই, আমার আর উচিত হবে না হায়ার থেকে কিছু লুকানো। আমার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে হায়ার সবটা জানার অধিকার আছে। সত্যি গুলো একদিন না একদিন সামনে আসবে। সেই সত্য গুলো অন্যের কাছ থেকে জানার আগে আমার থেকেই নাহয় জানুক।
আশিয়ান হায়াকে নিয়ে বেলকনিতে রাখা ইজি চেয়ারে বসে পরে। হায়ার মাথাটা নিজের বুকের রেখে সে বলতে শুরু করে–
—আচ্ছা শুনো তাহলে……….
শব্দসংখ্যা~২০০০
~চলবে?
[কাল যারা রিলস দেখে ভেবেছিলেন জুটিটা জাহান-মেহরিমা তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা 🤭 ডাক্তার কি গল্পে একটাই?😒🔪 আর জাহান মেহরিমাকে মেহু ছাড়া অন্য নামে ডাকল?
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ]

