সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৬০

0
19

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৬০

দুই হাত ভর্তি বাচ্চাদের জামাকাপড় নিয়ে বাসায় আসে রাহাত। মনটা আজকাল একটু বেশিই ফুরফুরে। আগে সবসময় মুখটা কেমন যেনো গম্ভীর করে রাখত। কারো সাথে প্রয়োজন ব্যতীত তেমন একটা কথা বলত না। হাসতও খুবই কম। সেই রাহাত নিজের ভোল পাল্টে ফেলেছে। কারণে-অকারণে হাসে মাঝে মধ্যেই, হুটহাট দুয়েক কথা বলে চমকে দেয় ইদানীং তার সঙ্গিনীকে। মুনতাহা বেশ অবাক হয় বটে স্বামীর এমন আচরণে, কিন্তু আগের মতো তেমন একটা উৎসাহ দেখা যায় না তার মধ্যে।

রাহাত আজ বিকেলের দিকেই বাসায় এসে পরেছে। নানা হবে শুনে তার খুশির অন্ত নেই। তার ছোট্ট রাহা যে কিনা দুইদিন আগেও তার হাত ধরে রাস্তা পাড় হতো, সে অফিসে যাওয়ার সময় তার কোলে চড়ে বায়না করত অফিসে যাওয়ার, সেই রাহা মা হতে চলেছে। রাহাত এতটা খুশি তখন হয়েছিল, যখন রাহা তার ঘরে আলো করে এসেছিল। আজ এতগুলো বছর পর আবার হলো।

রাহাত শপিং ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে গুনগুন করতে করতে রুমে ঢুকে। নিচে হেল্পিং হ্যান্ড মহিলার থেকে শুনে এসেছে মুনতাহা নাকি রুমেই আছে, কিন্তু সে রুমে এসে মুনতাহাকে পায় না। সে অনেক এক্সাইটেড হয়ে আছে মুনতাহাকে তার আনা বেবিদের কাপড়গুলো দেখানোর জন্য। কিন্তু রুমে এসে সে মুনতাহাকে কোথাও পায় না।

রুম খালি দেখে রাহাতের কপালে কয়েকটা ভাজ পড়ে। সে শপিংব্যাগ গুলো সোফার উপর রেখে বেলকনির দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে পায় মুনতাহাকে। সে ছোট ছোট নকশিকাঁথা সেলাই করছে দিনের আলোতে বসে।

মুনতাহা একধ্যানে কাজ করছিল বলে সে রাহাতের উপস্থিতি টের পায় নি। রাহাত নিজের উপস্থিতি জানানোর জন্য তাঁকে ডেকে উঠে–

—মুন, এসব কি করছো?

আকস্মিক ডাকায় মুনতাহা চমকে যায় আর একটা দু”র্ঘটনা ঘটে যায়। মুনতাহার হাতে সূঁচ ঢুকে যায়। মুনতাহা ব্যথায় “আহ” করে উঠে। রাহাত তার আর্তনাদ শুনে হন্তদন্ত হয়ে এসে মুনতাহার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। চিন্তিত ভঙ্গিতে মুনতাহার হাতটা টেনে নিয়ে বলে–

—কি যে করো না তুমি? সাবধানে কাজ করবে না একটু। কতটা রক্ত বের হচ্ছে। চলো এক্ষুনি রুমে চলো।

বকতে বকতেই রুমে নিয়ে আসে সে মুনতাহাকে। মুনতাহাকে বেডে বসিয়ে নিজে তাড়াতাড়ি ফার্স্টএড বক্স নিয়ে এসে মুনতাহার ব্যথা জায়গাটায় স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে থাকে। মুনতাহা আর একটা টু শব্দ করে না। এমন দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছুই না তাদের ২৫-২৬ বছরের সংসারে। রাহাত তার কেয়ার করে না এমন না, স্ত্রী হিসেবে, তার সন্তানদের মা হিসেবে যথেষ্ট কেয়ার করে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষ হিসেবে না। সেই জায়গাটা তার কখনো ছিল না, আজও হয়ে উঠেনি, মনে হয় না ভবিষ্যতেও হয়ে উঠবে।

মুনতাহার আঙ্গুলে ছোট একটা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিয়ে রাহাত তার দিকে তাকালে, দেখতে পায় মুনতাহা তার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাহাত তাকে প্রশ্ন করে উঠে–

—কি দেখছো এভাবে?

রাহাতের প্রশ্নে মুনতাহার ধ্যান ভঙ্গ হয়। সে রাহাতের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফিরতি প্রশ্ন করে–

—আজ এত তাড়াতাড়ি আসলেন যে? শরীর খারাপ করেছে?

—না, তেমন কিছুই না। অফিসে তেমন একটা কাজ ছিল না বলে একটু শপিংমলে গিয়েছিলাম শপিং করতে।

—ওহহ্, আচ্ছা। ফ্রেশ হয়ে আসুন, আমি নাস্তা বানাচ্ছি বিকেলের।

মুনতাহা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে গলাগুলো বলে রাহাতকে রেখে উঠে দাঁড়ায়। তারপর কাবার্ডের কাছে চলে যায় রাহাতের বাসা পরা জামাকাপড় নেওয়ার জন্য। রাহাত তার এত নির্লিপ্ততা দেখে অবাক হয়, সেই সাথে কষ্টও পায়। ইদানীং সে খেয়াল করেছে মুনতাহা তার সাথে তেমন একটা কথা বলে না, আগ বাড়িয়ে কিছু বলে না বা আহ্লাদ দেখায় না। মনের দুরত্ব তাদের আগে থেকেই ছিল, এখন সেটা চোখেও ধরা মতো দুরত্বে পরিণত হয়েছে।

রাহাত মলিন গলায় বলে–

—কি শপিং করেছি দেখতে চাইবে না মুন?

মুনতাহা জামাকাপড় বের করে তার দিকে আসতে আসতে বলে–

—আপনার দেখাতে ইচ্ছে হলে দেখান।

—তোমার ইচ্ছে নেই দেখার?

—তেমন না বিষয়টা, আসলে…..

—বুঝতে পেরেছি, আর কিছু বলা লাগবে না।

রাহাত কথাটা বলে মুনতাহার হাত থেকে একপ্রকার থাবা দিয়ে জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। মুনতাহা কয়েক পল ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর একটা হতাশা মিশ্রিত দীর্ঘশ্বাস ফেলো নিচে চলে যায়।

_____________________

—কিরে মেঘলা তুই রান্ধন ঘরে কি করতাছোস? তোরে কইছি না যেই কয়টা দিন তুই এই বাড়িতে আছোস, তোরে রান্ধন ঘরে আসা লাগব না। চুলার ধোঁয়ায় মুখ আরো কালা হইয়া গেলে, বিয়ার দিন তোরে সুন্দর লাগব না।

মেঘলার পেছনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলে মেঘলার ছোট চাচী শান্তা। হ্যাঁ, মেঘলার বিয়ে ঠিক হয়েছে। সেটাও কার সাথে জানতে চান? পাত্র হলো, শান্তার সেই অসভ্য ভাইপো তন্ময়। সেদিন তন্ময়ের বাবা-মা আসল না, ঐদিন তারা এসেছিল মেঘলার জন্য তন্ময়ের বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে। তন্ময় নাকি শহরে একটা ভালো চাকরি পেয়েছে, মেঘলাকে তার মনে ধরেছে। ছেলেটা তার বাবা-মাকে মেঘলাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না। শান্তা তো এমন প্রস্তাব শুনে প্রথমে একটু নাখোশই হয়। তারপর ভাবে আর কতকাল অন্যের মেয়েকে নিজেরা পালবে, বিয়ের সম্বন্ধ নিজ থেকে যখন এসেছে তখন দিয়ে দেওয়া ভালো হবে। মেঘলার ছোট চাচা এনামুল প্রথমে রাজি হয় না, ভাইজির প্রতি তার যথেষ্ট টান রয়েছে। সে অমত করে বলে–

—মেঘলার আঠারো বছর না হওয়া পর্যন্ত সে মেঘলাকে বিয়ে দিবে না।

কিন্তু মেঘলার ছোট চাচী কেমনে কেমনে তাকে মানিয়ে ফেলে বিয়ে করার জন্য। সবাই সেদিনই মেঘলার ও তন্ময়ের বিয়ের ডেট ঠিক করে ফেলে। অথচ কেউ একবার মেঘলাকে জিজ্ঞেসটুকু অব্দি করে না, সে এই বিয়েতে রাজি কিনা? তার কোন পছন্দের মানুষ আছে কিনা?

মেঘলা এসব জানতে পারে পরের দিন। সে এই বিষয়ে তার বৃদ্ধা দাদীর কাছে অসম্মতি জ্ঞাপন করে। মেঘলার চাচী সেটা শুনে ফেলে, তারপর তাকে আলাদা একটা খালি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অনেক কথা শোনায়। সে মেঘলাকে বলে–

—তুই এত অকৃতজ্ঞ কেন রে মেঘলা? এতদিন ধরে আমাদের খাচ্ছিস, আমাদের পরছিস এখন আমাদের কথারই অমান্য করতে চাচ্ছিস? তোর সাত পুরুষের ভাগ্য আমার ভাইপোয়ের সম্বন্ধ তোর জন্য আসছে, নাহলে তোদের যোগ্যতা আছে আমার পরিবারের সাথে আত্নীয়তার সম্পর্ক করার? শুন মেঘলা, ভালোয় ভালোয় বিয়ে করে এই বাড়ি থেকে বিদেয় হবি, নাহলে তোর জন্য বেশি একটা ভালো হবে না। তোর যদি সামান্য কৃতজ্ঞতা বোধ থাকে তাহলে বিয়ে টায় আর ব্যাগড়া দিবি না।

বি”ষমিশ্রিত কথার বান দিয়ে খুব বাজেভাবে আ”ঘা”ত করে। এত সব কথা শোনার পর মেঘলার আর কিছু বলার থাকে না। সে মৃত ব্যক্তির ন্যায় সকলের সকল কাজে সম্মতি দিতে থাকে।

শান্তা আহ্লাদ করে মেঘলার হাত টেনে ধরে বসা থেকে ওঠায়। তারপর নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে মেঘলার কপালে বেয়ে চুইয়ে পড়া ঘাম মুছে দিতে দিতে বলে–

—যা ঘরে গিয়ে একটু রেস্ট নে। জান্নাত তোকে নিয়ে বিউটি পার্লারে যাবে দুপুরের খাবার খেয়ে। সেখান থেকে ফেসিয়াল করে দুই বোনে ঘুরেফিরে বাসায় আসিস।

জান্নাত শান্তার মেয়ে। মেঘলা আর সে সমবয়সী। জান্নাত মেঘলার চেয়ে দুই মাসের বড়। মেঘলারা মফস্বল শহরে থাকে। আগে গ্রামে নিজেদের পৈত্রিক বাড়িরতে থাকলেও ব্যবসার কাজে তার চাচাদের প্রায়ই শহরে আসতে হতো বলে, মেঘলার বাবা-মা মারা যাওয়ার বছর দুয়েক পরেই তারা মফস্বল শহরে এসে একটা বাড়ি করে।

মেঘলা মলিন গলায় বলে–

—এসব ফেসিয়াল টেসিয়ালের কোন দরকার নেই চাচী।

—কে বলেছে দরকার নেই? অবশ্যই আছে, কোন কথা বলবি না। যা গিয়ে রেস্ট নে।

শান্তা মেঘলাকে তার ঘরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু মেঘলা তার ঘরে না গিয়ে তাদের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে গিয়ে বসে। পুকুরের ঘোলা পানির দিকে একধ্যানে তাকিয়ে থাকার সময় টুপ করে একফোঁটা পানি বের হয় মেঘলার চোখ থেকে।

_________________________

আশিয়ান তার দাদীকে আগলে ধরে রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। চোখে অপরাধবোধ ও অনুশোচনা নিয়ে দাদার দিকে তাকালে দেখতে পায় মি.মির্জা প্রিয় নাতনীকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে কাঁদছেন। হায়াও গুনগুনিয়ে কাঁদছে। বেশ কিছুক্ষণ কান্নাকাটির পর হায়া মি.মির্জা পাশ থেকে উঠে গিয়ে আশিয়ানকে বসার জায়গা করে দেয়।

আশিয়ান তার পাশে বসে মি.মির্জা হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। আশিয়ান তার পাশে বসার সাথে সাথে মি.মির্জা নিজের মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। বিষয়টা উপস্থিত সকলে খেয়াল করে। আশিয়ান ধরে আসা গলায় বলে–

—কেমন আছো দাদাভাই?

—আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি?

—তোমায় এই অবস্থায় দেখে কি করে ভালো থাকতে পারি বলো। একটুও ভালো নেই আমি, আমরা।

—আমার জন্য তুমি খারাপ থাকবে কেনো? তোমার কিছু হই নাকি আমি, যে আমার শরীর খারাপ দেখে তুমিও ভালো থাকবে না?

—অবশ্যই হও। তুমি আমার দাদাভাই, আমার শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনার সাথী। মায়ের মার, বাবার বকা থেকে রক্ষা করা সেই ভালোবাসার মানুষটি। দাদাভাই, ও দাদাভাই! তুমি আমার উপর আর রাগ করে থেকে নিজেকে কষ্ট দিও না দাদাভাই।

মি.মির্জা নিজের হাতটি আশিয়ানের হাতের থেকে ছাড়িয়ে নিতে চায়। কিন্তু পারে না, আশিয়ান তার হাত ছাড়ে না। মি.মির্জা নিজের হাত ছাড়ানোর প্রয়াস ত্যাগ করে গম্ভীর থমথমে গলায় বলে–

—আমার তোমার উপর কোন রাগ নেই। আমি বুঝতে ভুল করেছিলাম যে, তোমার নিজেরও আলাদা পছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু তুমি এই কথাটা আমায় সরাসরি বলতেই পারতে, বিয়ের আসরে না এসে আমার নাতনীটাকে ওমন ভাবে অপমান না করলেও পারতে। তার তো কোন দোষ ছিল না। আমাদের সকলের জন্য তুমি আমার নাতনীটাকে এমনভাবে কষ্ট দিলে, এটা ভেবেই আমার তো মরে যেতে ইচ্ছে করছিল।

মি.মির্জা চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে নিঃশব্দে। আশিয়ানের চোখেও অশ্রু। তার একটা হটকারি সিদ্ধান্ত তার পুরো পরিবারকে ভুগিয়েছে, অপমানিত-অসম্মানিত করেছে।

আশিয়ান একটা ঢোক গিলে নিয়ে বলে–

—ছোট ছিলাম তো ভুল করে ফেলেছি। কিন্তু সেটা সুধরেও নিয়েছি। তখন না বুঝতে পারলেও এখন বুঝতে পারছি তুমি সবসময়ের মতো এইবারও আমার জন্য বেস্ট মানুষকে ঠিক করেছিলে। (একহাত দিয়ে মি.মির্জা হাত ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে হায়াকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে তার হাত ধরে কথাটা বলে আশিয়ান) আমি জানি, সেই কষ্টের সময়, সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু ভবিষ্যতে তোমাদের অভিযোগের কোন সুযোগও দিব না।

লাস্ট বারের মতো মাফ করে দাও না দাদাভাই। আমাদের সাথে চলো না ঢাকায়। আমার উপর রাগ করে নিজেকে আর শাস্তি দিও না। তোমরা দু’জন এখনও আমাদের মাথার উপর বটগাছের মতো ছায়া দাও। কিন্তু আমার একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমার পুরো পরিবার সেই বটগাছের ছায়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মি.মির্জা প্রাণভরে প্রিয় নাতি-নাতনীকে দেখেন। বিয়ের পর সব মেয়ের মতোই হায়ার সৌন্দর্যও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। আশিয়ান ও হায়াকে পাশাপাশি অসম্ভব সুন্দর লাগছে দেখতে। তার জীবনের শেষ ইচ্ছে ছিল আশিয়ান-হায়াকে এমনভাবে পাশাপাশি দেখা। আজ সেটাও পূরণ হলো। এখন বোধহয় সে শান্তিতে চোখ বন্ধ করতে পারবেন।

মি.মির্জা বিরবিরিয়ে বলেন–

—মাশা আল্লাহ।

কতক্ষণ একধ্যানে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে বলেন–

—আশিয়ান, আমার আদরের দাদুভাই। আমাদের বংশের পরবর্তী প্রজন্মের প্রথম সন্তান হওয়ায় তুমি সর্বদা অন্যদের থেকে তুমি একটু বেশিই প্রিয় ছিলে। ছিলে কি এখনও আছো, এবং আজীবন থাকবে। আমি তোমার কাজে একটু কষ্ট পেয়েছিলাম বটে, কিন্তু পরবর্তীতে যখন বুঝতে পারি, জীবনটা তোমার, সংসার করবে তুমি, সেখানে তোমার জীবনসঙ্গী পছন্দ করে দেওয়ার আমরা কেউ নই। তারপর থেকে আর কোন কষ্ট বা রাগ নেই তোমার উপর। আর যেখানে কোন রাগ নেই সেখানে শাস্তি দেওয়ার কথা আসছে কেনো?

আমি আমার জীবনের শেষ কয়েকটা দিন এই বাড়িতে, আমার জন্মস্থানে থাকতে চাই। আর অসুস্থতার কথা বলছো? আমার বয়স দেখেছো? এই বয়সে বেশিরভাগ মানুষ কবরে থাকে, সেখানে আমি আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

কথাগুলো হাসি হাসি মুখেই বলে মি.মির্জা। আশিয়ানসহ সকলেই বুঝে যায় মি.মির্জা নিজের জেদে অটল। আশিয়ানও এবার জেদী গলায় বলে–

—তুমি জেদ করছো তো দাদাভাই, ঠিক আছে। তুমি যদি জেদী হও, আমিও তোমার নাতি। তোমাদের না নিয়ে আমি এই গ্রাম ছাড়ছি না। গেলে তোমাদের নিয়েই যাবো, না হয় সারাজীবনের জন্য এখানেই থাকব। এই আমি বলে দিলাম।

কথাটা বলে আশিয়ান রুম থেকে বের হয়ে যায়। মি.মির্জা তার প্রস্থানের পথে চেয়ে মৃদু হেঁসে ওঠে।

~চলবে?

_________________________

#ই_বুক_প্রচার

হবু বর হিসেবে ভাবীর জল্লাদ, গম্ভীর, ঘাড়ত্যাড়া ভাইকে দেখে হানিয়া’র মাথা ঘুরে যায়। এই অসভ্য লোক এখানে কি করছে? তাহলে কি এর সাথেই তার বিয়ে হতে চলেছে? প্রশ্নটা মনে হতেই হানিয়া ঘামতে শুরু করে।

এদিকে হানিয়া’র চমকে যাওয়া মুখ দেখে জাভিয়ান মনে মনে হেঁসে খুন। ভালোই একটা চমক দেওয়া গিয়েছে মেয়েটাকে। জাভিয়ান সকলের অগোচরে হানিয়াকে একটা চোখ টিপ দেয়। জাভিয়ানের এহেন কাণ্ডে হানিয়ার চোখ পূর্বের থেকে আরো বড়বড় হয়ে যায়। কত বড় অসভ্য লোক! হানিয়াকে সেদিন কত অপমান করলো আর আজ এসেছে তাকে বিয়ে করতে। হানিয়া কস্মিনকালেও এই লোককে বিয়ে করবে না।

কথাটা ভেবেই হানিয়া বসা থেকে তড়াক করে দাঁড়িয়ে যায়। জাভিয়ান হানিয়ার এমন হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় থতমত খেয়ে যায়। তাঁকে কিছু বলবে তার আগেই হানিয়া গমগমে গলায় বলে–

—আমি এই বিয়ে করতে পারবো না।

কথাটা বলে হানিয়া হনহনিয়ে চলে যায় নিজের রুমে। সে তো চলে গিয়ে খালাস কিন্তু পেছনে রেখে যায় কৌতূহলে ঠাসা তার পরিবার ও জাভিয়ানের পরিবার। আর ফ্যাসাদে পড়া জাভিয়ানকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here