চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ১৫.

0
24

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

১৫.
হাত দিয়ে চোখ-মুখ চেপে জালানার পাশে কুঁকড়ে বসে পরলো তুলি। বুক ফাটা কষ্ট হচ্ছে তার। সে তো এমন জীবন কখনো চায়নি। তাহলে এমন কেন হলে তার সাথে? সে চেয়েছিল তার একটা সুন্দর পরিবার হোক। কিন্তু সেটা হলো না। শ্বশুড়ি-শ্বাশুড়ি, স্বামী, দেবর, ভাসুর‚ ননদে পরিপূর্ণ হোক তার পরিবার। স্বামী হবে তার পরম বিশ্বাসের। যাকে দেখলেই বুকে লুকিয়ে থাকা সকল কষ্টের অবসান ঘটাবে। যার চোখে তাকিয়ে গভীর সমুদ্রে ডুব দিতে পারবে সে। বুকে জড়িয়ে রাতের পর রাত ঘুমিয়ে পরবে নির্দ্বিধায়। কিন্তু তার আর হলো কই?

কান্নারা দলা পাকিয়েছে গলায়। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তুলির। দ্রুত বসা হতে উঠে দাড়ালো। হাসফাস করতে লাগলো। অস্থির হয়ে এদিক-ওদিক তাকালো। মনে হচ্ছে এই বুঝি দেহ হতে দম বেরিয়ে গেলো। হাত দিয়ে দুই চাপটে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিলো সে। হাতে এত গোছা কাঁচের চুড়ি টুনটুন করে বেজে উঠলো। নিজেররদিকে তাকালো তুলি। লাল শাড়ি পরে বধু সেজেছে সে। দুই হাতে দুই গোছা কাঁচের চুড়ি। কানের দুল‚ নাকে নোলক। কপালে তিরতির করছে একটা চন্দন। সে তো এই সম্পর্কে ঘর বাঁধতে চায় নি। তাহলে তার স্বইচ্ছায় কেন বিয়ে হলো। তার কি হতবুদ্ধি লোপ পেলো? নিজের উপরে ক্ষিপ্ত হলো তুলি। দ্রুত এগিয়ে গেলো টেবিলের দিকে। দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জোড়ে বারি দিলো টেবিলে। কাঁচের চুড়ি ভেঙে বিঁধে গেলো হাতে। রক্তে ভেসে গেলো টেবিলের কাপড়। অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে টেবিলের কোনায় কাঁদতে কাঁদতে বসে পরলো তুলি। রক্তে মাখা দুই হাত কপালে ঠেকিয়ে কাঁদতে লাগলো অনবরত।

রাগে ক্ষোভে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাগানের দিকে গেলো সাইর। সাজাদ আর সহিনী বাগানের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল আর গল্প করছিল। সাজাদের নজর গেলো অন্ধকারে হেঁটে যাওয়া মানবের দিকে। সহিনী কৌতুহল নিয়ে বলল„ —“কে লোকটা? এত রাতে আমাদের বাগানে কি করছে?”

সাজাদ হকচকিয়ে গেলো„ —“হবে বাড়িরই কেউ একজন। চলো দেখি গিয়ে।”

দুজন মিলে লোকটির কাছে গেলো। রাতের আধারে লোকদের চিনতে খুব কষ্ট হয় গ্রাম অঞ্চলে। গ্রামে না সময় মতো বিদুৎ থাকে আর না পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো। চাঁদের তো কোনো ক্ষমতা নেই যে সূর্যের মতো আলো দিবে।

সামনে মাচায় বসে আছে লোকটি। সাজাদ আর সহিনী এগিয়ে গেলো মাচার দিকে। সাজাদ কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলো„ —“কে?”

লোকটি পেছনে ফিরতেই সহিনী বিস্মিত হলো„ —“সাইর তুমি?”

সাইর মাথা উপর-নীচ করে বলল„ —“হ্যাঁ ভাবি আমি।”

সাজাদ এগিয়ে গিয়ে সাইরের কাঁধে হাত রাখলো„ —“কোনো ঝামেলা হয়েছে কি? তুই এত রাতে বাইরে কেন?”

সাইর স্মিত হাসলো„ —“তেমন কিছু না। গরম লাগছিল তাই বাইরে এলাম।”

—“মিথ্যে বলছিস আমাকে?”

সাইর কোনো উত্তর দিলো না। সাজাদ সাইরের সামনে দাড়ালো। অন্ধকারে শুধু সবার চোখ জ্বলজ্বল করছে। সাজাদ বলল„ —“তোর না আজকে বিয়ে হলো? নতুন বউকে ঘরে রেখে বাইরে কি করছিস তুই?”

সাইর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বলল„ —“ভালো তো আমি বাসি। কিন্তু সে তো আমাকে ঘৃণা করে।”

সহিনী বিস্মিত হলো„ —“তাহলে বিয়ে করলে কেন?”

—“আমি ভালোবাসি তুলিকে। তাই বিয়ে করেছি। অনেক ভালোবাসি তুলিকে।”

—“তাহলে তুলিকে একা রেখে বাইরে এলে কেন? ভালোবাসার এই মর্যাদা?”

—“ভাবি তুমি ভুল বুঝো না আমাকে। আমাদের বিয়ে হয়েছে। নতুন সম্পর্ক আমাদের। আমাদের মাঝে ছোঁয়াছুঁয়ি হতেই পারে। কিন্তু তুলি আমার স্পর্শকেও ঘৃণা করে।”

সাইর সামনে তাকালো। রাতের অন্ধকারেরা মরিচীকার মতো ছল করছে। যেদিকে তাকায় মনে হচ্ছে কেউ ছিল কিন্তু কোথাও কেউ নেই।

সাজাদ সাইরের কাছে এসে প্রশ্ন করলো„ —“তাহলে কি বাসর হবে না?”

সাইর স্মিত হাসলো। বলল„ —“নারীকে ছুঁতে পারা সাধনার বিষয়। শরীর ছুঁয়েই যে-পুরুষ বলে, নারীকে ছুঁয়েছি‚ সে নির্বোধ! নারীর হৃদয় ছুঁয়েই তবে দেহ ছুঁতে হয়। শরীর তো ধর্ষকও ছোঁয়।”

সাজাদ থতমত খেলো। এক পলক সহিনীর দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। সহিনী এগিয়ে এসে মাচায় বসলো। ধীর কন্ঠে বলল„ —“তুমি বেকুব সাইর। পুরুষের ভালোবাসা পাওয়াও সাধনার বিষয়। দেহদানের পরেই যে-নারী বলে পুরুষের ভালোবাসা পেয়েছি, সেও নির্বোধ। পুরুষের বিশ্বাস ছুঁয়েই দেহ ছুঁতে হয়। শরীর তো গণিকাও দেয়।”

সাজাদ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। সাইরের দিকে তাকিয়ে শান্ত করলো তাকে„ —“তুই ঘরে যা। তুলি ছোট মানুষ। ওর বুঝতে একটু সময় লাগবে কিন্তু তুই তো সব বুঝিস তাই না। যা মেয়েটা একা ঘরে আছে। আর তোর তো খুশির দিন আজকে। বাবা হঠাৎ করেই তোর বিয়েতে রাজি হলো। নয়তো সেদিন”

থেমে গেলো সাজাদ। সহিনী চটপট বলল„ —“সেদিন কি? বলো?”

সাজাদ মাথা চুলকিয়ে বলল„ —“নাহ কিছু না। চলো ঘরে যাই। সাইর তুইও ঘরে যা। তুলি কিন্তু অন্ধকারে ভয় পায়।”

সহিনী সাজাদের হাতে চিমটি কাটলো„ —“তুলি যে অন্ধকারে ভয় পায় তা তুমি জানলে কি করে?”

সাজাদ ভ্রু উঁচিয়ে কর্কশ গলায় বলল„ —“এই যে মেয়ে মানুষ কথায় কথায় সন্দেহ করে। অন্ধকারে তো সব মেয়েরাই ভয় পায়। তুমিও তো ভয় পাও তাহলে তুলি কেন পাবে না?”

সহিনী সাজাদকে চুপ করিয়ে নিজেদের ঘরের দিকে রওনা হলো। সাইরও চুপচাপ নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

সাইন ঘরে ঢুকতেই ধরফরিয়ে উঠলো। টেবিলের কোণে মাটিতে বসে দুই হাত টেবিলের উপর ভর করে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে তুলি। সাইর দ্রুত কোলে তুলে চৌকিতে শুইয়ে দিলো তুলিকে। বার কয়েক ডেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় নি তুলির। জ্ঞান হারিয়েছে বোধহয়। সাইর দরজা‚ জালানা লাগিয়ে দিলো। দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ঘরটায় আলো আনলো। কাপড়ের নেকড়া দিয়ে তুলির হাতে গুঁজে থাকা কাঁচের চুড়ির ভাঙা অংশ একটা একটা করে টেনে বের করলো। রক্তে মাখা হাতের উপরে মাথা দেওয়ায় তুলির কপাল রক্তে লেপ্টে আছে। কাঁচের টুকরো বের করার পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে হাতের ক্ষতস্থান মুছলো সাইর। তারপর একটা স্বচ্ছ ছেড়া কাপড়ের অংশ দিয়ে তুলির হাতটা বেঁধে দিলো। কপালে রক্ত এতটাই শুকিয়ে লেগে গেছে যে তুলতে গেলেই তুলির ব্যথা করছে। ঘোরের মাঝেই ব্যথায় ছটফট করছে।

কাঁচের টুকরোগুলো তুলে জালানা দিয়ে ফেলে দিলো সাইর। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় এলিয়ে দিলো সে। বালিশে মাথা দিতেই একটা কথা কানে ভেসে এলো„ —“স্বামী স্ত্রীর উচিত একটা বালিশে ঘুমানো। কারণ স্বামী স্ত্রীর মাঝে কখনো ফাঁকা রাখতে নেই। যদি ফাঁকা থাকে তাহলে শয়তান আসে।”

বাম হাত বিছানায় এলিয়ে এক টানে তুলিকে নিজের বক্ষে আনলো সাইর। তুলির মাথার বালিশ পাশে রেখে নিজের মাথার বালিশটা সোজা করে নিলো। তুলিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে রক্তে মাখা কপালে আলতো একটা চুমু এঁকে দিলো। শাড়ি ভেদ করে পেটে হাত রেখে আরও কাছে টানলো তুলিকে। তুলির গলায় মুখ ডুবিয়ে বিরবিরিয়ে বলল„ —“তুমি আমার আড়াই পৃষ্ঠা অংকের শেষ দুই লাইনের গড়মিল!”

সকাল হতেই সকলের কাজকর্ম আবারও বেরে গেলো। ফজরের আযান হয়েছে সেই কখন। জমিদার খানকা ঘরে নামাজ আদায় করেছে। জমিদার গিন্নীর সকাল থেকে কোমড়ের ব্যথাটা বেড়েছে। সহিনী আজ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছে। সকালের নাস্তা মমতা আর মধুরী বানিয়েছে। সহিনী বার বার মানা করেছে মাধুরীকে সে যেন কাজ না করে। কিন্তু মাধুরী শোনার পাত্রী নয়। সে তো কাজ করেই চলছে নিজের মতো করে।

পাখিদের কিচিরমিচির শুনে বিরক্ত হলো তুলি। জালানার ফাঁক পেরিয়ে সূর্যের সাদা রশ্মি এসে পরেছে তুলির চোখে-মুখে। বিরক্ত হয়ে চোখ-মুখ কুঁচকে সাইরের ফতুয়ায় মুখ লুকালো তুলি। একটু নড়াচড়া করতে সে বুঝতে পারলো কোনো ভারি কিছু তার ওপর আছে। চোখ খুলে দেখলো সাইর তার হাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে রেখেছে। ঘুম ভেঙে এমন পরিস্থিতি দেখে রাগ হলো তুলির। রেগেমেগে চোখ-মুখ শক্ত করে তাকালো সাইরের দিকে।

ফর্সা চেহারায় দুই গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। মোঁচ -এর অভাবে মুখটা বড় বড় লাগছে। আস্তে করে উঠে গেলো তুলি। চৌকি ছেড়ে নিচে মাটিতে নামতেই অনিচ্ছা সত্ত্বে শাড়ি খুলে গেলো। দ্রুত শাড়ির কুঁচি চেপে ধরে সাইরের দিকে তাকালো। না লোকটা ঘুমিয়ে আছে। শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে আবারও সাইরের দিকে তাকালো। বার বার মনে প্রশ্ন হচ্ছে লোকটা দেখলো না তো? এবার সন্দেহ নিয়ে সাইরের ওপরে ঝুঁকে পরলো তুলি। একহাতে চোখের সামনে এদিক থেকে ওদিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বুঝলো লোকটা সত্যিই ঘুমচ্ছে। কুঁচিগুলো একসাথে ধরে পেটে গুঁজতে যাবে তখনই সাইর নড়েচড়ে অন্য পাশে ঘুরলো। তুলি বোকার মতো তাকিয়ে রইলো সেদিকে। সাইর ঘুম জড়ানো গলায় বলল„ —“শাড়ি না পরলেও চলবে। আগে কলপাড় থেকে ডুব দিয়ে এসো যাও। আর”

সাইরের কথা শেষ হতে না হতেই তুলি বলল„ —“আমাদের তো কিছুই হয়নি তাহলে আমি ডুব কেন দিবো?”

সাইর ভ্রু উঁচিয়ে বলল„ —“তোমার কি মনে হয় আমাদের মাঝে কিছু হওয়া উচিত? তুমি কি কিছু করতে চাও?”

তুলি মুখ ফিরিয়ে নিলো। সাইর বলল„ —“যাও আগে পরিষ্কার হও তারপর বাইরে যাবে। মাথায় রক্ত লেগে আছে। তুলি কলপাড়ে যাও আমি মায়ের থেকে নতুন জামা-কাপড়ের ব্যবস্থা করছি।”

তুলি মুখ বাকিয়ে শব্দ করলো„ —“উহুহহহহ।”

হনহনিয়ে চলে গেলো ঘরের পাশে কলপাড়ে। কল নেই তবে বালতি ভরতি পানি রাখা আছে এখানে। কলপাড়ের কাপড় টেনে বসে পরলে সেখানে। কিছু ভালো লাগছে না তার। দুই হাত সামনে আনতেই নজর গেলো হাতের দিকে। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হাতটা পরিপাটি করে বাঁধা আছে যাতে রক্ত না ঝরে। কাটা হাতে চোখ পরতেই চোখ দুটো টলমল করে উঠলো তুলির।

—“কি হলো? এতক্ষণ লাগে? নিচে সবাই খেতে বসেছে?”

তুলি কটমটিয়ে বলল„ —“যাবো না এখান থেকে। আপনার কি করার আছে করুন।”

—“আমি ভেতরে যাবো কি? নাকি তুমি বাইরে আসবে?”

—“আমার সময় লাগবে। আপনি নিচে যান।”

—“ঘরে কাপড় রেখেছি। এগুলো পরে নিচে এসো। আমি গেলাম।”

দরজা লাগার শব্দে স্বস্তি পেলো তুলি। মগে পানি তুলি শরীরে ঢালল সে। ব্লাইজ সরে যেতেই পেট দেখে বিস্মিত হলো তুলি। হাত দিয়ে হাতরে কিছুই পেলো না সে। বার কয়েক হাতরেও কিছুই ঠেকলো না হাতে। পেছনে ফিরে মস্ত বড় আয়নায় দেখলো নিজেকে কিন্তু না পেটের কাছে তো কিছুই নেই।

বিরবিরিয়ে বলল„ —“আমার এখানে কাঁটার একটা বড় দাগ ছিল পেটে কিন্তু হঠাৎ দাগটা উধাও হলো কিভাবে?”

ভাবনা ছেড়ে মগ তুলি পানি ঢালতে নিলেই গলার কাছে চোখ পরলো। মগ ফেলে গলায় হাত দিলো তুলি। আয়নার সামনে এসে দেখলে লাগলো। না এখানেও দাগ নেই। বিস্মিয়ের চরম সীমা অতিক্রম করলো তুলি। কপালের রক্ত ধুয়ে দ্রুত ডুব সেরে বাইরে বেরিয়ে এলো সে। চৌকির উপরে রাখা শাড়িটা পরে নিচে নেমে এলো ভদ্রতার সহিত। মাদুর পেতে বাড়ির সকলেই খেতে বসেছে। সাইর মাধুরী আর তারেককেও বসিয়ে রেখেছে নিজের পাশে। তুলিকে আসতে দেখেই সাইর ডাকলো„ —“এখানে এসো।”

তুলি তাকালো। সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নতুন বউ তুলি কিন্তু তার সে ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে খুঁজে খুজে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে বসলো। কিন্তু সহিনী উঠে গিয়ে তাকে তুলে বসিয়ে দিলো সাইরের পাশে। বিরক্তি নিয়ে বসে পরলো তুলি। এসব লোকজনের সাথে ভালো ব্যবহার তার দ্বারা হবে না।

—“পাশে বসতে বলেছিলাম তবুও এলে না। অথচ সারারাত আমার সাথেই ছিলে।”

তুলি কোনো কথা বলল না। যেন সে কিছুই জানতে চায় নি সাইরের থেকে। মমতা খাবার এগিয়ে দিতে সহিনী বলল„ —“নাও বোন। তুমি তোমার স্বামীর থালা থেকে শুরু করো।”

তুলি একবার সহিনীর দিকে তাকিয়ে খাবারের গামলা এগিয়ে নিলো। সাইরের থালায় খাবার দিয়ে উঠে গেলো গামলা নিয়ে। পরপর সবার থালায় খাবার দিলো তুলি। গামলা রেখে নিজের জায়গায় বসতেই দেখলো তার থালা নেই। আছে ঠিক তবে তার কাছে নেই। সেই থালায় কৌশলী নিয়ে খেতে বসলো। তুলি চুপটি করে বসে রইলো থালার অপেক্ষায়। সাইর অল্প একটু খাবার খেয়ে এঁটো থালাটা এগিয়ে দিলো তুলির দিকে। বলল„ —“নাও ধরো।”

তুলি রেগেমেগে তাকালো„ —“আমি কি করবো?”

সহিনী মুচকি হেসে বলল„ —“বিয়ের পরের দিন স্বামীর থালার এঁটো ভাতই খেতে হয় বোন। এটাই নিয়ম।”

তুলি অনিচ্ছায় থালাটা হাতে নিলো। সাইর আঙুল চেটে বলল„ —“নাও খাও?”

তুলি মুখ ভেংচে এক লোকমা মুখে তুললো। পরের বার আর এক লোকমা মুখে পরতেই পাশ থেকে সাইর ফিসফিসিয়ে বলল„ —“এখন তো এঁটো খাবার খাইয়ে দিলাম। এরপরে থুতাও খাওয়াবো।”

কথাটা শুনা মাত্র গলায় ভাত আঁটকে গেলো তুলির। সাইর সামনে থেকে পানির একটা গ্লাস তুলে নিলো। তুলির সামনে ধরতেই সহিনী বলল„ —“আরে আরে। এভাবে দিচ্ছো কেন? আগে তুমি খাও তারপরে তোর বউ।”

সাইর আপত্তি জানালো„ —“কিন্তু ভাবি। তুলির তো?”

—“এতো কথা বলো নাতো। এক ঢোক পানি খেয়ে তুলিকে গ্লাসটা দাও।”

তুলি অনবরত কাঁশতে থাকে। সহিনীর জোড়াজুড়িতে গ্লাসে একটু পানি খেয়ে তুলির সামনে গ্লাসটা ধরলো তুলি। হাতের নাগালে পানি পেয়ে ঢক ঢক করে পানি পান করলো তুলি। জোড়ে একটা নিঃশ্বাস নিলো তুলি। সাইর খুশিতে গদগদ হলো। তুলির কানের কাছে গিয়ে বলল„ —“বলেছিলাম তে থুতাও খাওয়াবো। নাও খাইয়ে দিলাম।”

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ 🕊️

[ ভুল-ভ্রান্তির সম্ভাবনা আছে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। রিচেক দিই নি সুতরাং ভুল থাকতেই পারে। আজকের পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন কিন্তু?

আর হ্যাঁ যদি গল্প পোস্ট করার পরেই ৬০০+ লাইক হয়ে যায় তাহলে দ্রুত পরের পর্ব দিবো ইন-শা-আল্লাহ।

অনেকের কাছে গল্পটা পৌঁছায় না ঠিক মতো। তার কারণ আমি জানি না। আবার অনেকেই পেইজে ফোলো দেন নাই।

বাকি সব কিছু আপনাদের বিষয়। দেখেন যা ভালো মনে করেন। ভালো থাকবেন‚ সুস্থ থাকবেন‚ ধন্যবাদ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here