চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ ১৪.

0
28

#চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড়
লেখনিতে— #সৈয়দ_মারিয়াহ্_হামিদ

১৪.
দুপুর হতেই জমিদারের কথা মতো বিয়ের সকল আয়োজন করা হয়। এদিকে সাজাদ আর সহিনীকে নিতে এসেছে সহিনীর পরিবারের আত্মীয়রা। জমিদার সকলকে ঠান্ডা মাথা আয়ত্ত করছেন। সবাই বুঝিয়ে রেখেছে যাতে সাইর আর তুলির বিয়ের পরে সাজাদ আর সহিনীকে তারা নিয়ে যায়। সহিনীর পরিবারের লোকেরাও কোনো আপত্তি জানালো না। কেননা তারা কন্যা নিতে এসে বিয়েতে সামিল হয়েছে এতেই তাদের কাছে অনেক কিছু।

লোকজনে জমিদার বাড়ি থই-থই করছে। জমিদার গিন্নী কয়েকবার জমিদারের সাথে কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু লোকজনের তাগিদে কথা বলতে পারেনি। হঠাৎই জমিদার নিজের ঘরে গেলো। তাকে ঘরে যেতে দেখে জমিদার গিন্নীও পিছু পিছু ছুটে গেলেন ঘরে। ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো জমিদার। ধরফরিয়ে জালানার কপাট লাগিয়ে দিলো দ্রুত। পুরো ঘর অন্ধকার হতেই আওয়াজ আসলো„ —“হাতে বেশি সময় নেই জমিদার। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আজকেই ওদের দুইজনের বিয়ে দে। খবরদার সাইর যেনো ভুলেএ তোর চালাকি ধরতে না পারে।”

জমিদার হাসফাস করছে„ —“এত এত সমস্যার মাঝে আমাকে কেন ফেললে অর্কা? তুমি নিজেও তো বেরিয়ে আসতে পারতে? তুমি না বলেছিলে তুমি সাইরকে শেষ করতে পারবে?”

কিছুক্ষণ পরেই আবার আওয়াজ আসলো„ —“বেশি বলো না। যেখানে সাইর রাক্ষসের হাত থেকে বেঁচে গেলো সেখানে আমি কি করবো?”

জমিদার হকচকিয়ে গেলো„ —“আমি কি চূড়ায় গিয়ে তোমাকে খাঁচা থেকে বের করবো।”

—“নাহ। ভুলেও এ কাজ করতে এসো না। তাহলে সাইর সবকিছু জেনে যাবে। সাইর জানে তুমি তোমার শক্তি হারিয়ে ফেলেছো। তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার কথা মতো ওদের দুজনের বিয়ে দাও। তারপর সাইর যত ঐ মেয়েটার সাথে মিলিত হবে তত সাইরের শক্তি কমে যাবে। আর ওদের বিয়ের সাত দিন পর। হ্যাঁ ঠিক সাত দিন পরেই আমি বের হবো খাঁচা থেকে। তখন সাইরকে এক নিমিষেই শেষ করা যাবে। তারপর সাইরের শরীরে আমার আত্মা প্রবেশ করবে। আর তখন আমি হবো অমর।”

অট্টহাসিতে মিলিয়ে গেলো অর্কা। জোড়ে ধাক্কা মেরে দরজা খুলে ভেতরে আসে জমিদার গিন্নী। এদিকে ওদিক খুঁজেও কাউকে না পেয়ে জোড়ে জোড়ে বলতে লাগলো„ —“কার সাথে কথা বললে তুমি? কে ছিল ঘরে? বলো আমাকে?”

জমিদার তার স্ত্রীকে শান্ত করার ভঙিমায় বলল„ —“তুমি শান্ত হয়। ঘরে কেউ ছিলো না। আমি ল্যান্ডলাইনে কথা বলছিলাম। শান্ত হও তুমি?”

জমিদার গিন্নী চৌকিতে বসলেন„ —“বেশ মানলাম। তবে তুমি ঐ ফকিন্নির মাইয়ার সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিচ্ছো কেন? তুমি কি বাপ নাকি পিশাচ?”

জমিদার চেতিয়ে উঠলো„ —“হ্যাঁ আমি পিশাচ। আর কিছু? আমি যা বলেছি তাই হবে।”

জমিদার গিন্নী তেড়ে এলো„ —“তুমি কেন আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করছো?”

জমিদার উল্টো ফিরলো„ —“আমি নষ্ট করিনি তোমার ছেলের জীবন৷ সে নিজে নিজে তার জীবন নষ্ট করছে। ঐ মেয়েকে তোমার ছেলে ভালোবাসে। এতে আমার কি করার আছে বলো?”

জমিদার গিন্নী রেগেমেগে বলল„ —“মেরে ফেলো মেয়েটাকে। কেন বাঁচিয়ে রেখেছো? যেমন করে বাড়ির গোলামদের মেরে ফেলো। শেষ করে দাও। আমার ছেলেকে আমি অনেক ভালো‚ সুন্দরী আর গুণবতী মেয়ের সাথে বিয়ে দিবো।”

জমিদার তার স্ত্রীকে ধরে চৌকিতে বসালো„ —“তুমি শান্ত হও। ছেলেকে না হয় আবারও বিয়ে দিয়ো। আগে আপদ’টাকে বিয়ে করে এ বাড়িতে একটা কাজের লোক আনি। তুমি তো জানো এখন আর সহজে কেউ আমাদের বাড়িতে কাজ করতে চায় না। আর ঐ মেয়ের সাথে ওর বাবা-মা বোন সবাই আছে। ওদের দিয়ে বাড়ির সব কাজ করিয়ে নিবো। এতে আমাদের খরচটাও বেচে যাবে।”

—“কিন্তু সবাই তো আমার ছেলেকে দুই বিয়ে করেছে বলবে তাই না?”

জমিদার আশ্বাস দিলো„ —“জমিদারের ছেলেদের দুটো বিয়ে হোক বা চারটে এতে কি যায় এসে যায়। জমিদারি ঠিক থাকলেই হবে।”

জমিদার গিন্নী শান্ত হলেন। হনহনিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে গেলেন। বাইরের আত্মীয়দের সাথে তিনি ভালো ব্যবহার করলেন যাতে কেউ বুঝতে না পারে যে এ বিয়েতে তারা রাজি নয়। সহিনীর পরিবারের লোকদের খুব ভালো করে বুঝালেন যাতে তারা সহিনীকে এখানেই রেখে যায়। বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান যদি বড় বউ না থাকে তাহলে বিষয়টা বেমানান। সহিনীর বাবা রঞ্জু মোল্লা রাজি হয়ে গেলেন।

সন্ধ্যা হতেই তুলিকে সাজানোর জন্য অন্য ঘরে আনা হয়। সাইর এতক্ষণ তুলির সাথেই ছিল। সাইরের হঠাৎ বিয়ের কথা শুনে পরিবারের সবারই বেশ বিরক্তি ছিল। কিন্তু জমিদার গিন্নী সবাইকে বুঝিয়েছে যে বিয়েটা শুধু মিছে মিছে হচ্ছে। দুদিন পরে তাদের ছেলেকে আবারও বিয়ে দিবো তারা। সবাই আয়োজনে মনোযোগ দিলো। তুলির বাবা-মাকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত করলো জমিদার। জমিদার বারবার বলছে„ —“আরে বেয়াই আসুন আসুন। মেয়ের বিয়ে সব কাজ তো আপনাকেই সামলাতে হবে।”

তারেক নিঃশব্দে সব কাজ করছে। মমতা মধুরীকে নিয়ে রান্নাঘরে গেছে সেই কখন। তবুও রান্না শেষ হচ্ছে না। বাড়ির এত এত লোকেদের খাবারের জন্য রান্নাঘরে দুইজন কর্মী থাকলে কি আর তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হয়? জমিদার গিন্নী বার কয়েক রান্নাঘরে এসে গালমন্দ করছে। জোড়ে জোড়ে চেঁচিয়ে বলছে„ —“মেয়ের মা হয়েও রান্না পারো না? মেয়েটাকে কিছু শিখিয়েছো নাকি অলস বানিয়ে আমার ছেলের ঘাড়ে বসিয়ে দিচ্ছো?”

জমিদার গিন্নীর কথায় মধুরী খুব কষ্ট পেলো। তবুও কিছু না বলে চুপচাপ রান্না করতে লাগলো। নিচ থেকে তুলির জন্য লাল বেনারসি নিয়ে যাওয়া হলো দোতলার ঘরের দিকে। সাজাদ বেছে বেছে দোকানের সেরা শেরওয়ানি এনেছে সাইরের জন্য। সহিনী তুলিকে সাজিয়ে দিতে গেলো পাশের ঘরে।

সাজাদ সাইরের ঘরে এসে বেশ অবাক হলো। যে ঘরটা গত তিন-বছর ধরে অন্ধকারে আচ্ছন্ন সেই ঘর আজ আলোকিত। জালানা খোলা। সন্ধ্যার অবছায়া দেখা যাচ্ছে। সূর্য ডোবা দেখা যাচ্ছে জালানার ফারাক দিয়ে। হারিকেনের আলোয় ঘরটা ভরপুর। সাজাদ শেরওয়ানিটা সাইরের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ধপ করে চৌকিতে বসলো। শরীর এলিয়ে দুই হাতে ভর দিলো বিছানায়। বলল„ —“ভাই। ব্যাপার কি? একটা মেয়ের জন্য এতো কিছু? তুই না আলো পছন্দ করিস না? তাহলে দরজা‚ জালানা খোলা কেন ভাই? তুই কি?”

সাইর থামিয়ে দিলো সাজাদকে। মুচকি হেসে বলল„ —“তেমন কিছু না। আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই। আগে ছিলাম একজন আর আজ থেকে হবো দুইজন। তাই একটু পরিবর্তন আর কি?”

সাজাদ ভ্রু উঁচিয়ে বলল„ —“তুই তুলিকে খুব ভালোবাসিস তাই না?”

সাইর হাসলো„ —“ভালো তো আমি তুলিকে বাসি। কিন্তু তুলি তো আমাকে সহ্য করতে পারে না।”

সাজাদ উঠে দাড়ালো। সাইরের কাঁধে দুই হাত রেখে বলল„ —“সমস্যা নেই। ধীরে ধীরে দুইজন ঠিকই এক হবি। তুই চিন্তা করিস না। তুলি ছোট মানুষ ওকে একটু মানিয়ে নিস কেমন?”

সাইর মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। সাজাদ তাড়া দিয়ে বলল„ —“নে তাড়াতাড়ি তৈরি হ। বিয়ে করবি না?”

—“হুম।”

সাইর বিছানার দিকে তাকালো। সাজাদ হাসলো„ —“তুই চিন্তা করিস না। আমার বিয়েতে তোকে পাইনি। তবে তোর বিয়েতে আমি তো আছি। ঘর পুরো ঝাকানাকা বানিয়ে দিবো আমি।”

দুজনই হাসলো। সাজাদ চলে গেলো ঘর ছেড়ে। সাইর শেরওয়ানিটা পরে নিলো। নিজেকে পরিপাটি করতে ব্যস্ত হলো সে। হাতের জাদুতে সামনে আয়না তৈরি করলো সে। মাথায় পাগড়ী পরে নিজেকে আয়নায় দেখে নিলো একবার।

মাথায় ঘোমটার ওড়না তুলে দিয়ে সহিনী তুলির সামনে বসলো। লাল বেনারসি পরেছে‚ কানে দুল‚ নাকে নত‚ মাথায় ঘোমটা ব্যাস সম্পূর্ণ তৈরি তুলি। সহিনী তুলিকে ধরে দাঁড় করালো। হাত দিয়ে থুতনি উঁচু করলো তুলির। মুচকি হেসে বলল„ —“মা-শা-আল্লাহ। আমার দেবর তো চোখ নামাতেই পারবে না তোমাকে দেখে।”

তুলি চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো। পেছন থেকে কৌশলী তুলির ঘাড়ে হাত রাখলো„ —“নিজেকে সামলে নে বোন। সবকিছু ঠিক হবে।”

তুলি মাথা উপর-নিচ করে সম্মতি দিলো। সহিনী আর কৌশলী তুলির দুই পাশে হাত ধরে অতি যত্ন সহকারে নিচে নেমে আনলো তাকে।

মৌলবির পাশে সাইর বসে আছে। বড় ঘরের মেঝেতে পাটি বিছিয়ে মৌলবিকে বসার স্থান দেওয়া হয়েছে। মৌলবির সামনে কত-শত লোকজন এসে হাজির হয়েছে। তারা সকলেই আজ সাইর আর তুলির বিয়ে দেখবে বলে এসেছে।

কিছুক্ষণ আগে সাইর এসেছে নিচে। জমিদারের হুকুমে মৌলবির পাশে গিয়ে বসেছে সে। তুলিকে নিচে আনতে দেখে জমিদার ইশারা করলো তার স্ত্রীকে কাছে যেতে। জমিদার গিন্নীও কোনো ভনিতা ছাড়াই তুলিকে নিতে গেলেন।

বিয়ের খুৎবা পরা শেষে সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসলো মৌলবি। মোহরানা ঠিক করে বিয়ে ধার্য করা হলো। পাঁচশত একটা কড়ি। সাইর রাজি হলো। মোহরানা পরিশোধ করে পবিত্র কালেমা পরে সবাইকে সাক্ষী রেখে মৌলবি সাইর আর তুলির বিয়ে পরিয়ে দিলো।

গ্রামের সকলে খাবারের আয়োজন শেষে যে যার বাড়ি চলে গেলো। সাইর আর তুলি একসাথে খেতে বসেছে পরিবারের সবার সাথে। তারেক আর মাধুরীকে খানকা ঘরে রাখা হয়েছে। কথাটা শুনতে পেয়ে সাইর তাদের নিয়ে বাড়ির ভেতরে এলো। জমিদার রাগান্বিত হলেও কিছু বলল না। সে শুধু সময়ের অপেক্ষায় আছে।

সবাই খাবার শেষ করে যে যার ঘরে গেলো। সহিনী আর কৌশলী তুলিকে নিয়ে সাইরের ঘরে রেখে এলো। কৌশলী এখান থেকে চলে যেতে চাইল সাইর বাঁধা দেয়। তুলি তাকে বোন হিসেবে রেখেছে। আর কৌশলী যদি এখানে থাকে তাহলে তুলি নিজেকে শান্ত রাখতে পারবে। একটু হলেও ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে। এসব ভেবেই কৌশলী যেতে দেয় নি সাইর। কৌশলীও আর জোড় করে নি। সাইরের পাশের ফাঁকা ঘরটা পরিষ্কার করা হলো। সেখানে তুলির বাবা-মাকে তাকার জন্য বলেছে সাইর। কিন্তু তারা থাকতে চায় না। তারা নিজেদের বাড়ি চলে যাবে। এখানে তাদের ভালো লাগছে না। বিলাসিতার নামান্তর এই জমিদার বাড়ি। সাইর তাদের ক্ষান্ত করলো। কোনো মতে বোঝালো„ —“রাত পেরিয়ে সকাল হলেই নিজেদের বাড়ি ফিরবেন না হয়। রাতটুকু এখানে থেকে যান।”

সাইরের জোড়া-জুড়িতে থাকতে বাধ্য হলো তারেক আর মাধুরী। তারা আজ রাতের জন্য জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নিলো। মাঝে শাড়ির বেড়া দিয়ে কোশলী থাকার জন্য বললে মাধুরী।

নিজের ঘরে এসে কিছুটা অবাক হলো সাইর। সাজানো গোছানো ঘরটা তছনছ হয়ে আছে। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলো তুলি জানালার দিকে মুখ করে বাইরে তাকিয়ে আছে। সাইর ধীর পায়ে তুলির দিকে এগিয়ে গেলো। পেছন থেকে শাড়ি ভেদ করে পেট ছুইয়ে দিলে তুলির। আড়ষ্টায় কেঁপে উঠলো তুলি। পেছন ফিরে সাইরকে দেখে দূরে ঠেলে দিলো। কিন্তু পারলো না। তার হাতের জোড়ের থেকে সাইরের হাতের জোড় খুব বেশি। সে আরও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো তুলিকে। তুলি বিরক্তি নিয়ে প্রশ্ন করল„ —“কেন বিয়ে করলেন আমাকে? একবারে বলী দিলেই তো মিটে যায় ঝামেলা। তাহলে আমার পরিবারকে কেন জানালেন এখানে? তাদেরকেও কি বলী দিবেন?”

সাইর এক হাতে তুলির মুখ চেপে ধরলো„ —“সব সময় তুমি এতো বেশি বক কেন তুলি? তোমার কি মনে হয় না আমি তোমাকে ভালোবাসি?”

তুলি ঝটকা মেরে সাইরের হাত সড়িয়ে দিলো„ —“ভালোবাসা না ছাই। আপনাদের মতো জমিদারের ছেলেরা ভালোবাসার কি বোঝে? তারা তো শুধু নারীদের নিয়ে এক বিছানায় রাত কাটাতে জানে? নারীদের ছিঁড়ে খেতে জানে? তাদের ধরা থেকে নিষ্ক্রিয় করতে জানে?”

কথাগুলো আর বলতে পারলো না তুলি। সাইর ‘টাস’ করে একটা চড় বসিয়ে দিলো তুলির গালে। একহাতে গাল চেপে হুহু করে কেঁদে উঠলো তুলি। ঘর ছেড়ে বাইরে চলে গেলো সাইর।

সৈয়দ মারিয়াহ্ হামিদ 🕊️

[ আর একটা পর্বে গল্পটা শেষ করবো। গল্প জগতে এসে যা পেয়েছি তা শুধু লাঞ্ছনা আর ঘৃণা। গল্পের জগতে এসেই আপন জনদের কাছে অচেনা হয়ে গেছি। হারিয়ে ফেলেছি কত-শত কাছের লোকদের। বিনিময়ে পেয়েছি লাঞ্ছনা আর ব্যঞ্জনা। এই গল্পটা শেষ করে গল্প জগত থেকে বিদায় নিবো।

আপনাদেরও তেমন ধৈর্য নেই আমার সাথে থাকার। যারা আমার সাথে আগে থেকেই যুক্ত ছিল তারা জানতো আমি নিয়মিত গল্প দিতাম। আমি কতটা নিয়মিত তারা সবাই জানতো।

আমি অসুস্থ কথাটা সবাইকে বলেছি। কিন্তু এখন এই #চূর্ণচূড়ায়_চাঁদের_পাহাড় গল্পটা বলতে গেলে ভাইরাল। এখন অনেকেই বলছে এজন্যই আমি নাকি দেরি করে গল্প দিচ্ছি। আপনারা গল্প চাইলেই আমি বাহানা করিচ্ছি। তো যাই হোক আমি অসুস্থ বলার পরেও আপনারা যখন গল্পের জন্য আমার সাথে আছেন তাহলে আপনাদের আর বেশি দিন অপেক্ষা করাবো না।

দিনের বেলায় যদি পাঁচজন আমার পেইজে ফোলো দেয় তাহলে দশজন আনফোলো করে গল্প দিতে দেরি করি বলে। তো যাই হোক গল্প জগতে যখন থাকবো না তাহলে এসব নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথাও নেই। সকলেই ভালো থাকবেন‚ সুস্থ থাকবেন‚ ধন্যবাদ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here