উৎসর্গ #পর্ব:১৮ #তানজিনা ইসলাম

0
25

#উৎসর্গ
#পর্ব:১৮
#তানজিনা ইসলাম

-“রুদ্র!”
-“হু!”
-“কী দেখছিস বেবি?”

ভীষণ মনোযোগে মোবাইল টিপছে রুদ্র।বুড়ো আঙুল অনবরত টাইপিং এ ব্যস্ত ওর।নিজের ধ্যান-জ্ঞান সবটুকু দিয়ে অহর্নিশ চেটিং করে যাচ্ছে কারো সাথে।ফোনে দৃষ্টি রেখেই অন্যমনষ্ক হয়ে বললো ‘হু’!

-“কী হু?কার সাথে এভাবে মন-প্রাণ সব খুইয়ে কথা বলছিস?”

এ পর্যায়ে ফোন থেকে মাথা তুললো রুদ্র।মাথার নিচে হাত দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে মায়া।শাড়ি পরেছে আজ ও!কোমড় সমান চুলগুলো ছিটিয়ে আছে বেডের উপর।পা দিয়ে পেঁচিয়ে রেখেছে কোলবালিশ।ফর্সা পায়ে চকচক করছে সোনার নুপুর খানা।বিছানার একপ্রান্তে মায়া বসা,অন্য প্রান্তে রুদ্র।ফলস্বরূপ রুদ্র মেইনলি করছে টা কী সেটা দেখতে পারছে না মায়া।আসলে ও দেখার চেষ্টাই করছে না।ও শুধু তীক্ষ্ণ নজরে দেখছে রুদ্রর এক্সপ্রেশন! ভ্রু দ্বয়ের মাঝে গোটা কয়েক ভাজ ওর।সন্দেহীন দৃষ্টি।যেন স্ক্যান করছে ওঁকে। রুদ্র সোজা হয়ে বসলো।সাফাই দিয়ে বললো
-“কই কারো সাথে কথা বলছি না তো!”
-“কিন্তু আমি যে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি!চ্যাটিং করছিস কারো সাথে।”

রুদ্র ঠোঁট কামড়ে,মিনমিন করে বললো
-“না তো!”
-“যেভাবে ধরা আছিস ফোনটা, ওভাবেই উল্টো করে দেখাতো!”

রুদ্র তাৎক্ষণিক দেখালো না।একটু সময় নিয়ে ফোনটা এগিয়ে দিলো মায়ার দিকে।মায়া হাত বাড়িয়ে নিলো।মেসেঞ্জারে ঢুকে প্রথমেই আরশির নাম্বারের সব মেসেজ চেক করলো।রুদ্র কাচুমাচু হয়ে বসলো।
ফোন চেক করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো মায়া!রুদ্রর মোবাইল ফিরিয়ে দিলো রুদ্রকে।রুদ্র কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো
-“এমনিই ওর হেলথ কন্ডিশন জিজ্ঞেস করছিলাম!”
-“চারঘন্টা ধরে!খোঁজখবর নিতে চার ঘন্টা লাগে?”

রুদ্র উত্তর দিলো না। মায়া উঠে বসলো।অসহায় স্বরে বললো
-“আমার মধ্যে কী খুব বেশিই কমতি আছে রুদ্র?”
-“এভাবে কেন বলছিস?”
-“কিভাবে বলতাম বল!বিয়ের পরও তুই তোর এসব কাহিনী ছাড়তে পারছিস না।আরশি এখন সুস্থ রুদ্র।তারপরও ওর সাথে এমন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলার দরকার কী!আমার কষ্ট লাগে তো!অন্য মেয়ের ছায়াও সহ্য হয় না তোর উপর।অথচ তুই আমাকে কষ্ট দিতেই বেশি ভালোবাসিস।”

রুদ্র মুখ কালো করে তাকালো মায়ার দিকে।বললো
-“আমরা জাস্ট এমনিই কথা বলছিলাম!”

বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ালো মায়া।মলিন হেঁসে বললো
-“বল!যার সাথে মন চায় তার সাথে কথা বল!আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি তোর সাথে মারামারি করতে করতে!আমি আজ থেকে আর তোকে কিচ্ছু নিষেধ করবো না।তোর যা মন চায় তুই তাই করিস!”

বলেই বেলকনিতে চলে গেলো।মাথা নিচু করে বসে থাকলো রুদ্র।ওরা সত্যিই এমনিই কথা বলছিলো,বন্ধুর মতো।
মায়া ভুল বুঝলো ওঁকে। রাগ করে এখন বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।রুদ্র উঠে দাঁড়ালো। ধীর পায়ে বেলকনিতে গিয়ে দেখল,বেলকনির রেলিঙ ধরে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।রুদ্র গিয়ে দাঁড়ালো ওর পাশে।মায়া ফিরে তাকালো না।রুদ্র আরেকটু ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়ালো। হাত দিয়ে কাঁধ জড়িয়ে ধরে বললো
-“আমি ওর সাথে বন্ধুর মতোই কথা বলছিলাম জান।”
-“বলনা, মানা করিনি তো!নিষেধ সেখানেই করা যায়, যেখানে অধিকার থাকে।আমার কোনো অধিকার নাই,তোর উপর!তোর যা মন চায় কর!”

-“না! মানা করবি!যেটা তোর পছন্দ হবে না সেটাতে নিষেধ করবি আমাকে।ঝগড়া করবি,মারামারি করবি!বিশ্বাস কর,আমি রুহানি আর রিয়ানার সাথে যেভাবে কথা বলি,সেভাবেই কথা বলছিলাম আরশির সাথে।”

-“রুহানি আর রিয়ানার সাথে আরশিকে মিলাবি না রুদ্র!ওঁদের সাথে সম্পর্কে ছিলি না তুই!কিন্তু আরশির সাথে ছিলি!দু’টো গুলিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার দরকার নাই!”

রুদ্র অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে। মায়া তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। ওর চোখে পানি টলমল করছে। মেয়েটা ইদানীং কিছু হলেই মন খারাপ করে ফেলে। চোখে পানি এসে ভীড়ে নিমিষেই। অথচ মায়া অনেক স্ট্রং। কোনোকিছুই ওর উপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু রুদ্র সংঘটিত কিছু হলেই ও এমন বিহেভ করে। রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেললো। একহাতে মায়াকে জড়িয়ে নিজের কাছে নিলো। মায়া ছুটতে চায়লো। রুদ্র ছাড়লো না।
-“সরি!”
-“দরকার নেই। যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে কথা বল। আমি কে হই তোকে মানা করার!”
-“জেলাস ফিল করছিস?”
মায়া হাসলো।ব্যঙ্গ করে বললো
-“আমি কেউ? আমার জেলাস ফিল হয় না। হৃদয় টা দুমড়ে মুচড়ে যায়। তোকে সারাজীবন নিজের ভেবে এসেছি তো। অন্য কেও অধিকার দেখালে সহ্য হয় না। জানি আমি খারাপ! কিন্তু ভালো হয়ে কী লাভ, যদি নিজের ভালোবাসাকেই হারিয়ে ফেলতে হয়!”
-“তুই খারাপ না!”
-“মিথ্যা কেন বলছিস? তুই তো আমাকে খারাপ ভাবিস! মুক্তি পেতে চাস আমার থেকে। কিন্তু তোর মুক্তি নেই। খারাপ মানুষরা অন্যদের অনুভূতির ধার ধারে না। শুধু নিজেরটাই বোঝে!”
-“আর কতো নিজের বুঝবি!তোর অনুশোচনা হয় না মায়ু, একটুও? বিয়ে টা আমি করতে চাইনি। এতো ছলাকলা করার কোনো দরকার ছিলো না।”
-“আমি তো চেয়েছিলাম বিয়ে করতে। তোর সাথে থাকতে। কিন্তু তুই তো আমাকে রাখতে চাস না। এজন্য এতো ছলাকলা।”
-” আমি তো চাইলে এখনো ছেড়ে চলে যেতে পারি তোকে? তখন এই বিয়ের মূল্য কী? সংসার করাটা দু’জনের তরফ থেকে আসে। তুই কখনোই একা এই সংসার টা টেনে নিয়ে যেতে পারবি না!আমার এখনো সুযোগ আছে তোকে ছেড়ে দেওয়ার। জোর করে সংসার হয় না। ভালোবাসাও পাওয়া যায় না।
মায়া অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো রুদ্রর দিকে। চোখ বেয়ে জল গড়ালো ওর। রুদ্র ওর গাল ধরে দুহাতে মুছিয়ে দিলো। নরম স্বরে বললো
-“খারাপ মানুষরা তো কাঁদে না। তুই কেন কাঁদছিস? মায়াতে কান্না মানায় না। ও সবসময় কঠিন ব্যাক্তিত্ব নিয়ে থাকে।”

মায়া আচমকা জড়িয়ে ধরলো রুদ্রকে। রুদ্র অবাক হলো না। মায়া সবকাজ হুটহাট করে। রুদ্র হাত রাখলো ওর পিঠে। মায়া ভাঙা গলায় বললো
-“ভালোবাসতে হবে না। শুধু কথা দে, কোনোদিন ছেড়ে যাবি না। আমি থাকতে পারবো না রে তোকে ছাড়া। অনেক কষ্টে পেয়েছি আমি তোকে।”
-“যাবো না। কক্ষণো না।”
,

পরেরদিন।
ক্লাসরুমের অবস্থা খারাপ।চারিদিকে শোরগোল। যে যার মতো বন্ধুমহলের সাথে বসে কথা বলছে। শিডিউল অনুযায়ী ফার্স্ট ক্লাস কেমিস্ট্রি।আর কেমিস্ট্রি টিচার আজকে অনুপস্থিত। তাই সবাই মনের সুখে গল্প করছে। মায়া আপ্পার বেঞ্চের উপর বসে আছে।বন্ধুমহলের সবাই গোল হয়ে এক এক বেঞ্চে বসা।কেউ উপরের বেঞ্চে বসেছে তো কেউ নিচের বেঞ্চে।খুবই গুরুত্বহীন আলোচনা হচ্ছে। ক্লাসের কে কার সাথে রিলেশনশিপে গেলো,কার ব্রেকআপ হয়ে গেছে,কে কী করেছে, কোন স্যার কোন ম্যামের সাথে ইটিস পিটিস করছে মূলত এটাই হচ্ছে আলোচনার টপিক।আবার মাঝে মাঝে আরশিকে নিয়েও কথা হচ্ছে। কিছুক্ষণ সবাই একসাথে সমবেদনা জানাচ্ছে মেয়েটার জন্য। আবার তারপর সবাই মিলে রুদ্রকে একসাথে পিঞ্চ মারছে এই কয়েকদিনে দেখানো অতি দরদ নিয়ে।সবাই তুমুল রোস্ট করছে রুদ্রকে।বেচারা রুদ্র কাচুমাচু হয়ে বসে আছে । না পারছে সইতে না পারছে কইতে।সেই যে আরশির সাথে রিলেশনে গেলো তারপর থেকে এগুলার এসব কাহিনি শুরু হয়েছে,এর আগে অবশ্য এমন করতো না।তবে এখন গন্ডারের চামড়া হয়ে গেছে। এসব এখন আর গায়ে লাগে না।

রুদ্র এদের আজগুবি কাহিনি শুনতে শুনতে দরজার দিকে তাকালো।আরশি ঢুকছে দরজা দিয়ে।পেছনে তার বন্ধুরা।হেঁসে হেঁসে কথা বলছে সবার সাথে।মুহূর্তেই একটা জটলা বেঁধে গেলো ওখানে।সবাই জেনেছে আরশির অসুস্থতার কথা। তাই অনেকে গিয়ে কথা বলছে ওর সাথে।
রুহানি রুদ্রর পাশেই বসা ছিলো।রুদ্রকে ঐদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাথার পিছনে গাট্টা মারলো।রুদ্র বিরক্তিকর চোখে তাকালো ওর দিকে।
-“ঐদিকে কী দেখছিস,বেদ্দপ?দেখছিস না গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।”

-“হ্যাঁ রে বন্ধু অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।কিন্তু এতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আমার মন টিকছে না।”

-“টিকবে কী করে?মনতো অন্য কোথাও পাখনা মেলে উড়াল দিয়েছে।”

রুদ্র আর কথা বাড়ালো না।এদের সাথে কথায় কোনোদিন জিততে পারেনি আর পারবেও না।

-“চল সবাই, ওর সাথে গিয়ে কথা বলে আসি।যতই হোক গতকালই হসপিটাল থেকে ছাড়া পেয়েছে মেয়েটা। একটা মানবতা তো আছে নাকি!”

মায়ার কথাই সবাই একবারে সম্মতি জানিয়ে নেমে দাড়ালো,তারপর চলে গেল আরশির সাথে কথা বলতে।রুদ্র গাট হয়ে বসে থাকলো।কতবড়ো খাচ্চোর এরা।মায়া বলা মাত্রই দৌড় দিয়েছে। কিন্তু এখন এই কথাটা যদি রুদ্র বলতো তাহলে অনর্থ হয়ে যেতো।
সবাই গিয়ে কথা বলছে আরশির সাথে। রুহানিতো একেবারে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখলো আরশিকে।যেন কতদিনের সাথী এরা। ও হসপিটালে এডমিট থাকায় এই দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট যেন রুহানিই পেয়েছে,এমন একটা ভাব ধরছে।
রুদ্র বেঞ্চে বসেই ছিলো, আরশি রুদ্রর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।টেবিলে হাত রেখে ওর দিকে ঝুঁকে বললো
-“আমার সাথে কথা বলতে গেলে না কেন?”

-“সবাই কথা বলছিলো তাই আর যাইনি।”রুদ্র আমতা আমতা করে বললো।

-“সো হুয়াট!সবাই গেছে বলে তুমি যাবে না?সবাই আর তুমি এক নাকি?”

-“এক না?”

-“না, তুমি আলাদা।”

রুদ্র কিছু বলতেই যাবে তার আগেই মায়া আরশির গলা জড়িয়ে কাঁধে হাত রাখলো।আরশির দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবার ভান করে বললো
-“ও সবার চেয়ে আলাদা কেন?”

-“সেটা আমার চেয়ে বেশি তুই জানিস।তাই নয়কি মায়া?”

মায়া ঠোঁট বাঁকা করে হাসলো।পরপর আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
-“ওসব অনেক আগের কথা।কিন্তু এখন রুদ্র তোর কাছে সবার চেয়ে আলাদা হওয়ার কথা নয়।তোকে একটা এডভাইস দি,একটা সুন্দর ছেলে দেখে বিয়ে করে নে।যা হবার নয় তার স্বপ্ন দেখিস না।অন্যের হাসবেন্ডের সাথে এভাবে কথা বলতে নেই।”

-“যার সাথে কথা বলছে তারতো কোনো সমস্যা হচ্ছে না।তোর এতো সমস্যা কীসের সেটাই তো বুঝতে পারছিনা।”

-“ব্রো।যার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিস সে আমার ব্যাক্তিগত মানুষ।তাই তার সাথে এই টাইপের কথা-বার্তা আমি সহ্য করবো না।তোর কী লজ্জা করছে না ওর সাথে কথা বলতে? যে তোকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করে নিলো তার সাথে কথা বলার আগে তোর লজ্জা পাওয়া উচিত।রুচিবোধ বলে কিছু আছে নাকি সেটাও নেই?”

রুদ্র চকিতে উঠে দাড়ালো। মায়াকে থামানোর চেষ্টা করে বললো
-“কেন বলছিস এসব ওকে?ওর কী দোষ?একজন অসুস্থ মানুষকে অন্তত তোর তিক্ত বুলি থেকে রেহাই দে।”

-“ওর কোনো দোষ নেই?আমি তিক্ত বুলি আওড়াচ্ছি?ও কেন এতো পিরিতি দেখাতে আসছে তোর সাথে,তুই বিবাহিত জেনেও?তারপরও বলবি ওর দোষ নেই? ভালোবাসাতো দেখি একেবারে উতলে পরছে ওর জন্য। ”

-“হ্যাঁ।উতলে পরছে ভালোবাসা। এতো যে ওকে কথা শোনাচ্ছিস, কখনো নিজের দিকটা ভেবে দেখেছিস?ও আর যা-ই করুক না কেন অন্তত তোর মতো অন্যের সাথে জোর জবরদস্তি করে না।অন্তত ছলনা করে,ট্র্যাপে ফেলে কাউকে বিয়ে করেনি।তাই লজ্জা ওর না, তোর পাওয়া উচিত। রুচিবোধে সমস্যা তোর আছে,ওর না।আগে নিজেকে ঠিক কর তারপর অন্যজনকে ব্লেইম করতে আসিস।”

রুদ্র খুব কঠোর স্বরে বললো।তারপর হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো ক্লাসরুমের বাইরে।রাহুল রুদ্রর পিছু পিছু গেলো।
মায়া পাথর হয়ে দেখলো ওর প্রস্হান। আরশির সামনে ওঁকে এভাবে বলতে পারলো? রুদ্রর একটুও খারাপ লাগলো না।আরশির ওসব কথা বলায় ওর খারাপ লেগেছিল। তাইতো এভাবে বললো আরশিকে। নয়তো ও তো কিছু বলতে চায়নি আরশিকে।আরশির সাথে এসব ঝগড়া তো ওর হরহামেশাই লেগে থাকে।কিন্তু রুদ্র আজ যা বললো তা?এভাবেতো কেনোদিন বলেনি রুদ্র।তাহলে আজ কেনো বললো?মায়ার চোখ জলছে।কিন্তু কাঁদতে পারছে না।এতোগুলা মানুষের সামনে কাদলে ইজ্জতের দফা রফদ হয়ে যাবে।
আরশি মায়ার সামনে দাঁড়ালো।শিস বাজালো মায়াকে বিদ্রুপ করে।তাচ্ছিল্য করে হেসে বললো
-“ইশ!এটা কী হয়ে গেলো।যে বিয়ে নিয়ে এতোক্ষণ এতো অহংকার করলি,সেই বিয়েরই তো রুদ্রর কাছে কোনো দাম নেই।বেচারি!খারাপ লাগছে তোর জন্য। কী বলেছিলি মনে আছে?রুদ্রকে তুই কেড়ে নিয়েছিস আমার থেকে।আর কখনো আমি যাতে মিথ্যা স্বপ্ন না দেখি ব্লা,ব্লা।কিন্তু মিথ্যা স্বপ্ন দেখছিস তুই, আমি না।রুদ্র তোকে ভালোবাসে না,আর না কোনোদিন বাসবে।তুই ওকে ছলনা করে বিয়ে করতে পেরেছিস ঠিকই কিন্তু ওর ভালোবাসা কোনোদিন তুই পাবি না।”

রুহানি এগিয়ে এসে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরশি থামিয়ে দিলো।
-“নো,রুহানি।এটা আমার আর মায়ার ব্যাপার তুই কথা বলবি না।যদি তোর কথা বলতেই হয় তাহলে আমি মনে করবো তোর বান্ধবী একা যুদ্ধ করে পারছে না আমার সঙ্গে।”

তারপর মায়ার দিকে তাকিয়ে আবার হাসলো।দুখী হওয়ার ভান করে বললো
-“আসলেই পারছিস নারে যুদ্ধে। রুদ্র আমাকে বিয়ে না করেও আমাকে ডিফেন্ড করলো তাও তার বিয়ে করা বউয়ের থেকে।কিন্তু একটা জায়গায় তুই ভুল,ও কোনোদিন বিয়ের স্বপ্ন দেখায়নি আমাকে।আমরা এমনিই একসাথে ছিলাম। চ্যালেন্জে আমিই জিতবো বেবি।খুব তাড়াতাড়িই তোর পুতুল বিয়ের সমাপ্তি ঘটবে।আর এটা রুদ্র নিজেই করবে।”

বলেই আরশি শিস বাজিয়ে মায়ার সামনে থেকে চলে গেলো।



#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here