রোদ_পোহাবার_ছুতোয় #পর্বঃ১৪ #নাজমুন_নাহার

0
30

গল্প #রোদ_পোহাবার_ছুতোয়
#পর্বঃ১৪
#নাজমুন_নাহার

বিপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের দোতলার ইংরেজি বিভাগের করিডরে বিষন্ন মুখে দাঁড়িয়ে আছে নিরা। সাথে ইমু। ইমু আর নিরা স্কুল জীবন থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড। যাত্রাবাড়ী থেকে আসে সে, আর নিরা মালিবাগ থেকে। আজকাল খুব নিয়ম করেই ভার্সিটিতে আসে নিরা। বাসায় মন বসে না। কেমন একটা হাহাকার লাগে। ইমু তখন থেকেই খেয়াল করছে নিরার আচরণ। আসার পর থেকেই মুখটা ভার করে রেখেছে মেয়েটা। ওর মন খারাপ থাকলে সব বিপদ, ঝড়-ঝাপটা ইমুর উপর দিয়েই যায়। নিরার মেজাজ সম্পর্কে স্পষ্ট আইডিয়া থাকার সত্বেও সে বান্ধবীর উদ্বিগ্নতার কারণ জানতে কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারল না আর। মনটা খুঁতখুঁত করছে। কিছুক্ষণ চোরা চোখে মতিগতি বোঝার চেষ্টা করে আকস্মিক পেঁচিয়ে জড়িয়ে ধরলো নিরাকে সে। নিরা অপ্রস্তুত হলেও রাগ করল না, না নিজের থেকে ছাড়ালো ওকে। ইমু কাঁধে মাথা ঠেকায়। বেশ আহ্লাদ করে বলে,

“ডার্লিং, কী হয়েছে রে তোর? আমি যে এতোক্ষণ ধরে একা একাই বকবক করে যাচ্ছি, তুই শুনছিস কিছু? মনোযোগ কোথায় বাবু তোর?”

এক ধ্যানে ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে চেয়েছিল নিরা। সম্বিত ফিরে ইমুর ডাকে। রাগলো না সে, বরং জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে কন্ঠ খাদে নামিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টে বলে, “কৃষ্ণচূড়া গাছটায় ফুল হয়েছে অনেক। গাছটার নিচে বসতে ইচ্ছে করছে। যাবি ফিল্ডে?”

ইমু এক শব্দে রাজি হয়ে গেলো। প্রায় অনেকক্ষণ ধরে গাছটার নিচে নীরবে বসে রইল ওরা। ইমু ভ্রু, মুখ বাঁকা করে চেয়ে আছে। মনে মনে চরম বিরক্ত সে। এমন শোকসভাময় নীরবতা হজম যাচ্ছে না আর। দুঃখী বানিয়ে রেখেছে পরিবেশটাকে নিরাটা। বলছেও না কিছু” হয়েছে টা কী ওর?

“এই, আমাকে কি তোর জ্যোতিষী মনে হয়?”

নিরা বিভ্রান্ত হয়ে চাইলো।

“খামোখা জ্যোতিষী মনে হতে যাবে কেন?”

“তো মুখটা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো করে রেখেছিস কেন? বোম মারলেও তো মনে হয় না আজ আর কথা বের হবে। মুখে না বললে মনের দুঃখ বুঝবো কী করে? অলৌকিক ক্ষমতা তো নাই।”

নিরা হতাশ শ্বাস ফেলে কপালে হাত ঠেকিয়ে চাইলো ওর পানে। চেহারায় বিরক্তিভাব ইমুর। নিরা হুট করে খেয়াল করলো, ইমুটার আচরণ একেবারেই নাবিল ভাইয়ের মতো। একদমই শান্ত থাকতে পারে না মেয়েটা। সারাক্ষণ প্রাণচঞ্চল ভাব। হাসবে, লাফাবে, সারাক্ষণ অহেতুক বকবক করবে। সবচেয়ে বেশি যেটা মিল, দু’জনেরই বলির পাঠা একমাত্র নিরা। নিরাকে জ্বালাতে না পারলে যেনো এদের জীবনই চলবে না। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইমু নিরার ব্যক্তিত্বের একেবারে বিপরীত একটা মানুষ। তার সত্বেও নিরার কাছে এলে মনে হয় মেয়েটার ছটফটে ভাবটা আরও বাড়ে। এমন একটা উল্টো বৈশিষ্ট্যের মেয়ে কী করে সাত-আট বছর ধরে নিরার মতো চুপচাপ স্বভাবের মেয়ের সাথে অনায়াসেই কাটিয়ে দিচ্ছে, সেটাই ভাবনার বিষয়। এই আট বছরে ইমু আর কোনো নতুন বন্ধু বানায়নি নিজের জন্য। ব্যাপারটা আশ্চর্যের! আরও আশ্চর্যের এই যে, নিরারও চলে না এই রেডিও মেশিনটাকে ছাড়া। কোনো এক অদ্ভুত অলীকত্বে ভীষণ টান লাগে এই মেয়েটার জন্য নিরার।
নিরার চেয়ে থাকার ধরনে কেবল ইমু চোখ টিপে হাসে। ভাবের সাথে চুল পেছনে উড়িয়ে বলে, “এম আই লুকিং হট, বেইবি?”

কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে শব্দ করে হেসে ফেলল নিরা। হাসল ইমুও। নিরা বুঝল, এই এক ইমুর সাথে কখনও স্থির হয়ে, মন খারাপ নিয়ে বসে থাকা সম্ভব না। মেয়েটা থাকতেই দেয় না দুঃখী। তার অভিমানে দুঃখ নামের কোনো শব্দই আবিষ্কৃত হয়নি। জবাব না দিয়ে গালে হাত ঠেকিয়ে হতাশ শ্বাস ফেলল নিরা। এমন সময় পেছন থেকে ডেকে উঠলো কেউ। দু’জনে একসাথে পেছনে চায়। শাওনকে দেখামাত্রই ইমুর হাসিখুশি মুখটায় মুহূর্তেই আঁধার নেমে আসে। বিরক্ত হয় মেয়েটা। নিরা ওর ভাবসাব বুঝতে পেরে ঠোঁট টিপে হেঁসে ফিসফিস করে বলে, “কী হলো? মুখে রা নেই যে এখন? শাওন ভাইকে দেখলেই অটোমেটিক তোর সাইলেন্ট মুড অন হয়ে যায় কেন?”

ইমু তখনও অগ্নিদৃষ্টিতে চেয়ে আছে শাওনের পানে। শাওনের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, ইমুর বিরক্তিমাখা মুখটা দেখার জন্যই এসেছে সে। প্রাণবন্ত মুখখানায় অদ্ভুত পৈশাচিক আনন্দ। এবং সে মেয়েটার রাগ উপভোগও করছে খুব।

“ক্যাম্পাসে ঢুকে এমন স্বাধীন হয়ে যাও কেন জুনিয়রস? নিরুপমা, তোমার সাথের জন বেহুদাই এতো হাসে কেন? এর যন্ত্রণায় বসে থাকতে পারলাম না ক্যান্টিনে। কান ফাটিয়ে দিলো! তার কি হাসাহাসি করার রোগ আছে? অকারণে এত হাসাহাসি করা উচিত না। এটা মানসিক রোগের প্রধান লক্ষন।”

ইমু গর্জে উঠল মুহুর্তেই। “আপনি বুঝি মনস্তাত্ত্বিক রোগের চিকিৎসা দিতে এসেছেন?”

শাওন হাসে মিটিমিটি। ঘাড় বাঁকিয়ে বলে, “রোগীটা তুমি হলে চিকিৎসক হতে আমার কিন্তু বিশেষ আপত্তি নেই, ইমুটিমু।”

দাঁতে দাঁত পিষে চায় ইমু। “দেখুন, আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন। আমাকেই নজরে পড়ে? নিরাও তো হাসছিল, ওকে তো কিছু বলছেন না। আমার সাথে আপনার কীসের এতো শত্রুতা ,শাওন ভাই?”

শাওন তীক্ষ্ণ চোখে চায়। ঠোঁটে ফের সেই রসিকতার হাসি।

“নিরা তোমার মতো আহাম্মক না। ওর হাসিতে যথেষ্ট ভদ্রতা আছে। ও হাসিতে মানবিকতা আছে। তোমার হাসিতে আবার সেসব নেই। অমানবিক কি-না!”

ইমু ফোসফাস করে, “আমি অমানবিক?”

” অফকোর্স! তোমার মধ্যে এম্পেথি কম। অন্যের অসুবিধা কম বোঝো। এই যেমন আমি সুখে শান্তিতে বসে ক্যান্টিনে নাশতা করছিলাম, তোমার হাসির জন্য তা আর অব্যাহত রাখতে পারলাম না। এমন খ্যাকঁ খ্যাকঁ করে হাসবা না, শব্দদূষণ হয়।”

ইমু কিছুক্ষণ আগুন চোখে চেয়ে থেকে রসিয়ে রসিয়ে বলল, “বেশ করেছি। আমি এভাবেই হাসব। চিৎকার করে হাসব, গরুর মতো হাসব, ছাগলের মতো হাসব, একশোবার হাসবো। নিজের রাস্তা মাপেন।”

“কীভাবে মাপবো? সচেতন সিনিয়র না? শব্দদূষণ প্রতিকারের দায়বদ্ধতা কি এরানো যায়?”

“আপনাকে বুঝি ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ শব্দদূষণ প্রতিকারের জন্য বেতনভুক্ত করেছে?”

“ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বেতনভুক্ত করতে যাবে কেন? ক্যাম্পাসে সভ্যতা, ভদ্রতা বজায় রাখার একটা নিয়ম আছে। কেউ অনিয়ম করলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়াটা সিনিয়রদের নৈতিক দায়িত্ব। ভদ্রতাজ্ঞান নেই বলে ব্যাপারটা তোমার মগজে তা আঁটছে না।”

ইমু কোমড়ে দুই হাত রেখে এক পা আগায়। ফুঁসতে ফুঁসতে বলে, “আচ্ছা? কে বানালো এমন গাঁজাখুরি নিয়ম?”

শাওনও এক কদম আগায়। ঝুঁকে চোখে চোখ রাখে ওর। চেহারায় দুষ্টুমি একেঁ বলে, “আমি বানিয়েছি। রুলসটা বাকিরা না মানলেও চলবে, কিন্তু তোমার জন্য মেন্ডাটরি। কারণটা পার্সোনাল। বলতে পারো, তোমার পানিশমেন্ট। সিনিয়রদের মুখে মুখে তর্ক করার পানিশমেন্ট। এইযে, কথার আগেই মুখ দিয়ে নাগা মরিচের ঝাঁঝ বের হয়? সেটার জন্য। আমি আশেপাশে থাকলে এখন থেকে তোমার হাসতে মানা। একেবারে মুখে তালা ঝুলবে।”

নিরা ঠোঁট টিপে হাসল। ইমু রাগে গজগজ করতে করতে উঠে দাঁড়ায়। তেতে উঠে বলে, ” আপনার রুলসের গোষ্ঠী কিলাই মিঞা! আমার মুখ, আমার ক্যাম্পাস। আমি এখানে চিৎ হয়ে, কাত হয়ে হাসব। যা ইচ্ছে করবো। আপনি আমাকে থামানোর কে? ভদ্রতাজ্ঞান শেখাচ্ছেন? ইমু যদি অভদ্র হয় না? আপনার মাথা আর আস্ত থাকবে না। ক্যাম্পাসটাকে নিজের পৈতৃক নিবাস পেয়েছেন? শাওন ভাই, আর একবার আমাকে রাগাবেন তো সত্যি সত্যি ইট তুলে মাথায় মারবো।”

শাওন ঘাড়ে হাত রেখে রসিয়ে রসিয়ে বলে, “হাহ্! কী দুর্দিন আসলো, হাঁটুর বয়সী মেয়ে কি-না মাথা ফাটানোর হুমকি দিচ্ছে। বলি, ডরভয় কি ভেতরে আছে, নাকি ওটাকেও ফাটিয়েছো?”

“ডরভয় আছে কি-না সেটার প্রমাণ চাই?”

শাওন হাসি দমিয়ে আশেপাশে চোখ বুলায়। গ্যারান্টি নেই, সত্যি সত্যি মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর এই মেয়ে। শাওন মুখের সামনে ঝুঁকে দাঁড়ায়। কপালে টোকা মারে ইমুর। পূনরায় নিরার দিকে ফিরে হাই তুলতে তুলতে বলে, “নিরুনিধি, আমি কিন্তু তোমার সাথে কথা বলছি। তার কিছু বলার হলে তোমার মাধ্যমে বলতে বলবে। এভাবে সরাসরি সিনিয়রদের সাথে আক্রমনাত্মক হয়ে যাওয়াটা বিপদের। সাবধান করে দিবে।”

রাগে কটমট করতে করতে ধুপধাপ পা ফেলে করিডরের দিকে যেতে যেতে ইমু বলে, “ছাতার সিনিয়র। ছাতার সভ্য মানুষ আমার। উজবুক কোথাকার!”

ওর যাওয়ার পানে চেয়ে হাসে দু’জনই। কত সহজ এটাকে বাজানো।

“কেমন আছেন, শাওন ভাইয়া?”

শাওন নিরার মুখে না চেয়েই দৃষ্টি এলোমেলো রেখে জবাব দেয়, “আছি ভালোই। শুনলাম এই মাসেই তোমাদের ইনকোর্স? প্রিপারেশন কেমন?”

স্মিত হাসে নিরা। “আছে টুকটাক।”

মাথা ঝাঁকায় শাওন। পূনরায় চায় করিডরে। হতাশ শ্বাস ফেলে বলে, “আমাকে দেখলেই এমন ছেঁকা লাগে কেন তোমার বান্ধবীর? কিচ্ছু বলা যায় না একে, ছেত করে গায়ে লেগে যায়। ইজ্জতই দেয় না মেয়েটা। দেখলেই গিলে খাওয়ার মতো চেয়ে থাকে।”

হেসে ফেলল নিরা। “সেটা আমি কী করে জানবো? কেন ছেঁকা লাগে সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করুন।”

কপাল ঘষে হাসে শাওন। শুধায়, “নাবিলটা কোথায় আছে, বলতে পারো?”

কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিরা। কপালে ভাজ ফেলে বলে,”বাসাতেই থাকার কথা।”

“ওকে ফোনে পাই না দুই-তিন ধরে। ক্যাম্পাসেও দেখা নেই। হয়েছে টা কী ওর?”

অবাক হয় নিরা। “রিসিভ করছে না, না-কি ফোন অফ?”

“রিসিভ করছে না।”

ভাবনায় পড়ে যায় নিরা৷ আবার ভার হয় মনটা। কেন জানি না চিন্তা হচ্ছে লোকটার জন্য। হুট করেই এমন অদৃশ্য আর দমে যাওয়ার মতো মানুষ তো নাবিল ভাই না।
—-

নীলক্ষেতের আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে হুডখোলা রিকশাটি ছুটলো টিএসসির দিকে। মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। প্যাডেলচালিত রিকশার বিপরীত দিকের বাতাস এসে লাগছে বর্ষার প্রতিমা মুখে। উড়াচ্ছে তার শাড়ীর ছোপ ছোপ আঁচল, আর রেশমি কালো চুল। আজকের দিনটা একটু অন্যরকম। স্বপ্নের মতো আশ্চর্য সুন্দর। আজ নীল শাড়ীটাই পরেছে বর্ষা। উজ্জ্বল শরীরে এই রঙটা বেশ মানিয়েছে। শাড়ীর নীল রঙটা যেনো নীল আকাশ ছুঁয়ে এসে সরাসরি লেগেছে তার গায়ে। কপালের ছোট্ট নীল টিপে জলজ্যান্ত এক রোমান্টিক কবিতার পৃষ্ঠা দেখাচ্ছে তাকে। আর পাশে বসে আছে প্রিয় এবং চির আকাঙ্ক্ষিত পুরুষটি! কত কত নির্ঘুম রাত আর বিষন্ন বিকেল কেটেছে লোকটার সঙ্গ পাওয়ার কামনায়। আর আজ, পাশাপাশি বসে থেকেও কেমন রুপকথা মনে হচ্ছে। কল্পনা লাগছে সবটা। বুকের মধ্যে আকাশ সমান মুগ্ধতা টেনে আড়চোখে চাইলো নাবিলের নির্লিপ্ত, নির্বিকার মুখের পানে। কোথায় যেনো হারাচ্ছে নাবিলের মনোযোগ। উদাসীন ভঙ্গিতে চেয়ে আছে বরাবর। অগোছালো লাগছে অনেকটা। চোখ দু’টোয় কীসের একটা ক্লান্তিভাব। সেভাবে থেকেই হাত দু’টো বেশ সাবধানতার সাথে ভাজ করে রেখেছে সামনের দিকে। এদিক-ওদিক কিংবা পাশে তাকানোরও ফুরসত নেই। চোখ ফিরায় বর্ষা। মানুষটার অপ্রতিরোধ্য চেহারায় খুঁজে নেয় পৃথিবীর সকল অপার্থিব সৌন্দর্য। উত্তেজনায় অস্থির হয় প্রাণ। ঠোঁটে অনন্ত অপেক্ষার তৃপ্ত হাসি। বুকের ভেতর আষাঢ়, শ্রাবণ,হেমন্ত টের পায় সে। কিঞ্চিৎ অস্বস্তিতে ভেতরে ভেরতে ভারী অদ্ভুত লাগছে। অতিরিক্ত খুশিতে শরীর কাঁপছে মেয়েটার। লজ্জায় ঠিকঠাক কথাই বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে। আসার পর থেকেই দু’জনেই কোনো কথা বললো না। ফুটপাতের পথচারীদের মধ্যে অনেকেই যাওয়া-আসার পথে তাকাচ্ছে ওদের দিকে। প্রেমের নগরীতে এমন নিরব, বেরসিক কপোত-কপোতীদের দেখা পাওয়া বিরল।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে ওরা বিনাবাক্যে একই জায়গায় কয়েকটা চক্কর কাটলো রিকশায়। শেষে শাহবাগ মোড় নেমে সোজা হাঁটা ধরলো রমনার দিকে। বসে লেকের পাশের সবুজ ঘাসের উপর। গলায় বাষ্প জমে আছে নাবিলের। বুকের মধ্যে পাহাড় টের পায় সে। চোখ দু’টোয় শুধুই যন্ত্রণা। পাশে পরে থাকা ইঁটের টুকরোটা তুলে শূন্যে চেয়ে ঢিল মারে লেকের দিকে। ভারী কিছু শরীরে লাগতেই লাফিয়ে উঠে লেকের সে-ই অংশের পানি। সেভাবে চেয়েই শুধায় সে, “শাড়ী কি আমার জন্য পরেছো?”

মাথা উপরনিচ করে বর্ষা। নাবিল না চেয়েও উত্তরটুকু দেখে নেয়। গলা ঝেরে ম্লান হেসে বলে, “সুন্দর লাগছে।”

অতি নগন্য অথচ ভারী আনন্দের প্রসংশা। লাজুক দৃষ্টিতে চায় বর্ষা। প্রশংসার অনলে নাবিলের শুভ্র, শান্ত মুখটায় অমাবস্যা দেখতে পায় কিঞ্চিৎ। কেঁপে উঠে বর্ষার মন। “আপনি কি কোনোকিছু নিয়ে চিন্তিত?”

আড়চোখে চায় নাবিল। হাসে উদাসীন হয়ে । “চেহারা দেখে এমনই মনে হচ্ছে নাকি?”

“কেমন একটা লাগছে। রাতে ঘুম হয়নি?”

জবাব না দিয়ে অন্যদিকে চেয়ে চোখ মুছে নাবিল। প্রসঙ্গ পাল্টে বলে, “চলো হাঁটি।”

গাছের ছায়ায় ছায়ায় উদ্দেশ্যহীন হাটছে ওরা। মুখে রা নেই, অথচ কতো কথা জমে পিরামিড হয়ে আছে বুকটা। পাশাপাশি দাঁড়ায় ওরা। নাবিল এদিকওদিক চেয়ে প্রবল অস্বস্তি নিয়ে বলে, “আজ সারাদিন আমার সাথে কাটাতে পারো,বর্ষা? সন্ধায়ও থাকবো কিছুক্ষণ এখানে। ঘুরেফিরে আজকের রাতটা আমাদের বাসায় থাকো, সকালে দিয়ে আসবো চান্দিনায়।”

প্রতুত্তর করে না বর্ষা, কেবল এদিকওদিক চেয়ে লুকিয়ে তৃপ্তি নিয়ে হাসে। মনে মনে বলে, “আমি তো আজীবনের জন্য থেকে যেতে চাই, নাবিল ভাই!”

‘কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে,জ্যাম ছিল বলে যেতে পারোনি। আমি আম্মুকে দিয়ে ফোন করিয়ে বাড়িতে জানিয়ে দিচ্ছি।”

মাথা উপরনিচ করে সম্মতি জানায় বর্ষা।

বিকেল ঘনিয়ে কমলা রঙা সন্ধা নেমেছে ধরণীতলে। বিহঙ্গরা ফিরছে আপন ঘরে। তবে এখনও রমনায় ওরা।ল্যামপোস্টের হলদেটে আলোয় জ্বলজ্বল করছে চারজোড়া গভীর চোখ। ওরা পাশাপাশি বসে। মুখে কথা নেই কারো। তবুও ভালো লাগছে নীলাঞ্জনা বর্ষার। পুরো মনটাই আজ বিমোহিত। পৃথিবীর সমস্ত লজ্জাভাব বিধাতা বোধহয় আজ বর্ষার অন্তরে প্রাণভরে ঢেলে দিয়েছেন। আকাশ সমান সংকোচভাব নিয়েও সে কথা বলতে চায়। পাখির মতো কিচিরমিচির করতে চায় সারা সন্ধা। অক্লান্ত হয়ে সারাটা জীবন লোকটার পাশাপাশি হেঁটে হেঁটে কাটিয়ে দিতে চায় এই জাদুর শহরে। এই সন্ধাটুকুও হিরন্ময় হয়ে আজীবন জ্বলে উঠুক স্মৃতির পাতায়।

নাবিল ম্লান শ্বাস ফেলে চায় ওর দিকে। মেয়েটার হাস্যজ্জ্বল মুখটা দেখে কন্ঠ নরম হয়ে আসে তার। কোথায় একটা খারাপ লাগা কাজ করছে ওর জন্য। সে এক হাত বাড়িয়ে বর্ষাকে বলে, “তোমার হাতটা ধরতে দিবে আমায়?”

বর্ষা লজ্জায় কাঁচুমাচু হয়। অতঃপর বিনাবাক্যে কাঁপা কাঁপা হাতটা বাড়ায়। আরেকটু দূরত্ব কমিয়ে বসে নাবিল। মাথা ঝুকিয়ে বলে, “আমার ঘাড়ে মাথা রাখো।”

বিভ্রান্ত হয় মেয়েটা। বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে আসে তার। নাবিল আবার বলে, “ঘাড়ে মাথা রাখো।”

“হাহ্?”

এবার নাবিল আর অনুরোধ করলো না। পেছন দিক দিয়ে ওর মাথাটা টেনে নিজেই রাখলো নিজের কাঁধে। বর্ষার হৃৎস্পন্দনের গতি বাড়ছে। হতভাগ হয় সর্বাঙ্গ। চোখ দু’টো বুজে লম্বা শ্বাস টানে। সে কী স্বপ্ন দেখছে? স্বয়ং নাবিল ভাইয়ের কাঁধে তার মাথা ঠাই পেয়েছে! চৈতন্য হারানোর পথে। সম্বিত ফিরে নাবিলের পুরুষালী কন্ঠের ভারী স্বরে।

“আমার যখন খুব মন খারাপ হয়? আমি প্রায় এখানে এসে ঘাসের উপর শুয়ে থাকি। বেশিরভাগই রাতে আসি। জায়গাটা আমার খুব আপন। এখানে শুলে আকাশটাকে একান্তই নিজের মনে হয়। মন খারাপ ব্যাপারটাকে আর মন খারাপ বলে মনে হয় না।”

মৃদু হাসে বর্ষা। নাবিল হাতটা শক্ত করে ধরে ক্লান্ত কন্ঠে বলে, “একটা গল্প বলবো আজ তোমায়। আজকের এই আয়োজন সেই গল্পটাকে ঘীরেই। শুনবে?”

মাথা উপরনিচ করে বর্ষা। কেন শুনবে না? এই একটা মানুষের সঙ্গ পাওয়া পাশাপাশি বসে কন্ঠ শুনতে পাওয়া তো তার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একটা কেন? একশোটা গল্প বলুক সে। এই গল্পের রাত, এই সময় না ফুরাক। চির অম্লান হয়ে থাক মুহুর্তটা!
নাবিল কিছুক্ষণ চুপ থাকে। চোখ রাখে আকাশের দিকে। অতঃপর ম্লান হাসে সে।

“একবার একটা বোকা মেয়ে থাকে, মেয়েটার নাম মনে করো ‘চিত্রা’। তো একদিন সেই চিত্রা নামের মেয়েটি একটা চিঠি লিখেছিল। তার খুব প্রিয় একজন মানুষকে নিয়ে। চিঠির কাগজটা ছিল নীল, অনেকটা আজকের দিনের আকাশের মতো। বহু আবেগ আর স্বপ্ন ঢেলে মেয়েটা লিখেছিল চিঠিটা। চির আশায়, যে চিঠিটা একদিন পৌঁছাবে প্রিয়জনের ঠিকানায়। মানুষটা যত্ন নিয়ে পড়বে চিঠি, আদর ঢেলে দিবে সাড়া। প্রিয় মানুষের সাড়া পাওয়ার উদ্দেশ্যে সে একদিন চিঠিটা একটা পুরনো ডাকবাক্সে ফেলে এসেছিল। তারপর বহুদিন হয়ে যায়, সেই চিঠির কোনো ফিরতি জবাব আসে না। হতাশ হয় সে। মন খারাপে মন খারাপে কেটে যায় আরও অনেকগুলো দিন। হঠাৎ অনেকদিন পর এসে সে জানতে পারে, সেই ডাকবাক্সটা আসলে অনেক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মানে, চিঠিটা তখনও পৌঁছায়ইনি প্রিয় মানুষের দোরগোড়ায়। তারপর আরও কয়েকবার মেয়েটা একই চিঠি নিয়ে বার-বার ফিরে যায় সেখানে, বিশেষ ফায়দা হয় না। তার চিঠির জন্য, তার জন্য খোলা হয়নি ডাকবাক্সটি।”

থামে নাবিল৷ মাথায় হাত বুলায় বর্ষার। “এমন একটা অবান্তর গল্প কেন বলছি জানতে চাইবে না?”

চোখ বুঁজে ছোট্ট করে জবাব দেয় বর্ষা, “হু।”

সে তখনও কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। নাবিল চোখ নামিয়ে তাকায় ওর দিকে। ছেলেটার চোখ দু’টো ঝিলের মতো টলমল করছে আজ। বিষন্ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে পূনরায় বলতে থাকে,
“আমাকে নিয়ে তোমার অনুভূতিগুলো ওই চিঠিটার মতোই খাঁটি আর স্পেশাল, তা আমি জানি। কিন্তু আমি সেই ডাকবাক্স নই, যেটা তোমার সুক্ষ অনুভুতির অনুরুপ সাড়া দিতে পারবে। আমার মন তার ব্যক্তিগত এক চিঠি বহু আগেই অন্য কারো ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছে। চিঠির মালিকানা এখন অন্যকারো। ডাকবাক্সটাও তারই। সেখানে সে ব্যতিত অন্যকারো চিঠি পাঠানোর নিয়ম আর নেই।”

শেষের কথাটা বলে চোখ দু’টো বন্ধ করে নাবিল। দুই ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে বর্ষার হাতে। অকস্মাৎ হাত আলগা হয়ে আসে বর্ষার। নাবিল তাৎক্ষণিক পূনরায় শক্ত করে ধরে ওর হাতটা। আরেক হাত দিয়ে শক্ত করে মাথাটা বুকের মধ্যে ঠেকায়। নাবিলের প্রশস্ত বুকের ধুকপুক শব্দ শুনতে পায় বর্ষা। বুকের উঠানামা বাড়ে মেয়েটার। শরীর হয়ে আসে ঝড়ে আহত হওয়া মলিন চোখের নিঃসঙ্গ পাখির মতো। নাবিল স্পষ্ট অনুভব করে বর্ষার শরীরের কাঁপুনি। সে তবুও দয়া দেখায় না। চোখ ভিজে আসে তবু আরও নিষ্ঠুর হয় কন্ঠ।

“আমি একজনকে ভালোবাসি। পাগলের মতো ভালোবাসি।”

যেনো ধনুকের মতো বর্ষার বুকে বিঁধল বাক্য দু’টো। কান দু’টো ঝাঁঝরা হয়ে যেতে চায় অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দগুচ্ছের প্রকোপে। শ্বাসকষ্টের রোগীর মতো হাঁপায় বর্ষা। হৃৎস্পন্দন থেমে যেতে চায় তার। নাবিলের হৃদয় ভেঙ্গে আসে মেয়েটার অবস্থা দেখে। মাথায় হাত রাখে বর্ষার।

“তাকে ভালো না বাসাটা এই এক জীবনে আমার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব,বর্ষা। বরং, আমি তাকে ভালোবাসার জন্যই বেঁচে আছি। আমার মনের কোটরে ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে এক টানা টানা চোখের ছোট্ট প্রাণ। তাকে যে ভালোবাসি, সেটা বুঝতে আমার দেরি হলেও উপলব্ধি করলাম, এর মধ্যেও আমি তাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে কখনও তেমন প্রায়োরিটি দেইনি। আম্মু আমার প্রথম প্রায়োরিটি, দ্বিতীয়টা ছিল সে। এখন সেটা আবার যোগবিয়োগ করে হয়েছে সমান সমান। ভালোটা তাকে হয়তো আগেই থেকেই বাসতাম, শুধু বুঝতে একটু সময় লেগেছে। তাকে ভালো না বাসার কোনো কারণ নেই, বরং ভালোবাসার জন্য লক্ষ-কোটি কারণ দেখি। প্রখর উত্তাপ রোদে সে আমায় ছাতার মতো ছায়া দেয়, আবার একই সে পৌষের উষ্ণ কাঁথা হয়ে আষ্ঠেপৃষ্ঠে আলিঙ্গন করে। সে আমার ঘর। আমি অনেক ভেবে দেখেছি, তাকে ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গ আমায় এমন করে আরাম দিবে না। সে আশেপাশে থাকলে আমি যতোটা প্রানবন্ত থাকি, আর কোথাও গেলে তেমন থাকি না। সে আমার কপালে হাত ছোঁয়ায় কেমন মায়া করে! তার ছোট্ট ছোট্ট নারীসুলভ যত্নগুলো আমাকে নেশা ধরায়, বিশ্বাস করো। আমরন তার নরম ছোঁয়া পাওয়ার নেশা। এই একই কাজ অন্য কেউ করলে তাকে আমি একইরকম করে ভালোবাসতে পারতাম না। সে আমায় পদে পদে উপলব্ধি করায়, তাকে ছাড়া আমার চলবে না। একেবারেই চলবে না!”

কথা বলে না বর্ষা। ঠোঁটের কোনে এক টুকরো ক্লান্ত হাসি।

“তোমার উচিৎ এমন কাউকে নিজের জন্য নির্বাচন করা, যে তোমাকে তোমার প্রাপ্য ভালোবাসাটুকু দেবে। যেটা দেওয়ার জন্য আপাতত আমি নিঃশেষ। এমন কাউকে তোমার ভালোবাসা উচিত,যে তোমার নরম হৃদয়টাকে যত্ন করতে পারবে শিমুল তুলোর মতো করে। নাবিল নামক মানুষটা তোমার নির্ভেজাল ভালোবাসার দাম চুকাতে পারবে না, বর্ষা৷ তোমার জন্য সে অযোগ্য। তার বুকের সবটুকু ভালোবাসা ওই একজন জন্যই বরাদ্দ।”

নাক টানে বর্ষা। পৃথিবীর সবটুকু সুখ শেষবারের মতো খুঁজে নেয় মানুষটার প্রশস্ত বুকে।

“আজ আমি তোমাকে ডেকে এনে আমার বুকের মধ্যে মাথা ঠেকানোর জায়গা দিয়েছি কেন জানো? কারণ তুমি আমার পরিবার। আমার রক্ত তুমি। চোখের সামনে নিজের রক্তের ভেঙ্গে যাওয়ার দৃশ্য দেখা আমার জন্য অসম্ভব যন্ত্রণার,বর্ষা। আমি জানি, এখান থেকে গিয়ে এই কথাগুলো তুমি আর কাউকে শেয়ার করবে না। চেয়েও করতে পারবে না। এমনকি বড় মা’কেও বলবে না। তোমার এই করুন দিনে তোমার মাথায় স্নেহ করে হাত বুলানোর মতো একটা মানুষ থাকবে না। নিজের মন না ভাঙ্গলেও তোমার মন ভাঙ্গার ঝনঝন শব্দ আমার চেয়ে স্পষ্ট কেউ শুনতে পাচ্ছে না,বর্ষা। তাই তোমাকে স্বল্প সময়ের জন্য বুকে জায়গা করে দিলাম। মনের শেষ অভিমানটুকু মুছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাঁদো। আজ আমি তোমায় শুধুই স্নেহ করবো। আজকের পর থেকে তুমি আমায় সবসময় তোমার পাশে পাবে,বন্ধু আর পরিবার হিসেবে।”

জড়বস্তুর মতো অনড় রইলো বর্ষা। বুকের মধ্যে তোলপাড় চললেও বাইরে থেকে শীতল। শরীরের শিরা-উপশিরার রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে চায় তার। সর্বাঙ্গ ভার ছেড়ে দেয়। খামচে ধরে নাবিলের শার্টের বুক। মাথা ঠেকায় আর-ও কাছে এসে। চোখ বুঝে আহত মনে। ধীরে ধীরে শ্বাস টানে। বাঁধ ভাঙা কান্নারা গলায় আটকে আছে মাছের কাঁটার মতো, অথচ চোখ ভেজার নাম নেই। আশ্চর্য কথা! প্রবল ঝড়ের আঘাতের পরে যেমন শান্ত হয়ে যায় পৃথিবী, তেমনই স্থির সে।

“বিশ্বাস করো, আমার জীবনের অনেকটা দখল করা সেই মানুষটা না থাকলে হয়তো আমি চেষ্টা করতাম তোমাকে ভালোবাসার। ভালো না বাসতে পারলেও ফিরিয়ে দিতাম না। কিন্তু এখন আমার সত্যিই কিছু করার নেই। তাকে ছাড়া আমি পাগল হয়ে যাবো। আমি আর আমি থাকবো না যদি না জীবনে সে থাকে। আমাকে স্বার্থপর হতে হবে নিজেকে বাঁচাতে। তুমি ক্ষমা করো আমায়, বর্ষা!”

কেমন করে যেনো হাসে বর্ষা। একটাবারের জন্যও সেই ভাগ্যবতীর নামটা পর্যন্ত জানতে চাইলো না মেয়েটা। কেবল ভাঙ্গা গলায় শেষ বারের মতো আবদার করল,”আমি শুয়ে থাকি আপনার বুকের মধ্যে আর কিছুক্ষণ? থাকব? না করবেন না প্লিজ!”

মেয়েটার চোখের পানিতে নাবিলের বাদামী রঙের শার্টটা ভিজে একাকার। কী অতৃপ্ত অবুঝ বায়না তার! নিঃশব্দে, নির্লিপ্তে অশ্রু ঝরাচ্ছে বর্ষা। এই প্রথমবার বুকটা বড্ড ভারী লাগছে নাবিলের। একদিনের অনুশোচনা জমে বুকের মধ্যে সুউচ্চ হিমালয় আর কালবৈশাখী ঝড় টের পায় সে!

[একঘেয়েমি থেকে একটু বের হতে চেয়েছি আজকের পর্বে।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here