#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:25
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕
অন্ধকারে মোড়ানো ঘরে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত পুরুষটার নিটোল বাহু দেখতে না পেলেও, সাদা পাঞ্জাবির একাংশ দেখে ঘাবড়ে গেলো অনু,বুদ্ধি মতি মেয়ে এক ঝটকায় বুঝে ফেললো এটা এমপি মশাই।
তড়িঘড়ি বিছানা হাতরে ওড়না টা গায়ে জড়িয়ে নিলো অনু,ধড়ফড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে দাড়ালো দেওয়ালের পাশে,কম্পিত হাতটা এগিয়ে নিয়ে ঘরের আলো জ্বালাতে চাইলো দ্রুত, কিন্তু পারলো না, তার আগেই তাকরিমের ঠান্ডা হাতটা স্পর্শ করলো তার মসৃন হাত।কেঁপে উঠলো অনু,ঢোক গিললো ঘনঘন,কম্পিত কন্ঠে বললো,
“আপনি আমার হাত ধরলেন কেনো?আমার ঘরে কেনো এসেছেন এতো রাতে?”
তাকরিম আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলো অনুর হাত,হেচকা টানে নিয়ে এসে ফেললো নিজের প্রসস্ত বুকের উপর, অস্পষ্ট মাতাল কন্ঠে বললো,
“আলেকজান্দ্রা।”
অনু চমকালো, তাকরিমের বুকের ভেতর এসে পরতেই গা গুলিয়ে এলো তার,মদের গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো প্রায়, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মুচড়া মুচড়ি করতে করতে বললো,
“আপনি ড্রিংক করেছেন,আমার ঘরে এতো রাতে এসে মাতলামো করতে লজ্জা করছে না?দেশের মন্ত্রিরা কি রাত বিরেতে এসবই করে নাকি?”
তাকরিম নেশাগ্রস্ত, পুরোপুরি মাতাল, তার মস্তিষ্ক এখন লাটাই বিহীন ঘুড়ির মতো, খেয়ালি বেখেয়ালি,দিকভ্রান্ত, ভারসাম্যহীন।চোখ দুটো ঘোলাটে, বুকের সাথে মিশে থাকা অনুরিকার মুখটাও অসচ্ছ।তার ঘোলাটে দু চোখের পাতায় শুধু নিস্পার প্রতিচ্ছবি, খোলা চুলে বকুল ফুল কুড়োতে থাকা ফ্লোরেন্সার প্রতিচ্ছবি তাকে পোড়াচ্ছে, অঙ্গার করে দিচ্ছে তার হৃদয় মাজার।
সে দিকভ্রান্ত পথিক,ভুল করেই হানা দিয়েছে অনুরিকার ঘরে, তার আলেকজান্দ্রাকে খুজে পাওয়ার আকাঙ্খায় নির্বোধ মস্তিষ্ক ছুয়ে দিয়েছে অনুরিকাকে,শুধু স্পর্শে সীমাবদ্ধ নয়, ভেঙেছে অবাধ্যতার দেওয়াল,দু হাতে কোলে তুলে নিয়েছে অনুরিকার ছোট্ট শরীর।অনুরিকা এবার আর চমকালো না, বরং একটু বেশি ঘাবড়ালো,চাপা রাগান্বিত স্বরে বললো,
“মাতলাম করার একটা লিমিট থাকে, আপনি সেই লিমিট ক্রস করে ফেলেছেন, এখন আমি আমার ধৈর্যের লিমিট ক্রস করতে বাধ্য হবো।”
তারপর গলার স্বর আরেকটু চওড়া করে বললো,
“ছাড়ুন আমাকে,আমি কিন্তু চিৎকার করবো,ছিঃ, আমাকে এই বাড়িতে বন্দী করে রাখার পেছনে তবে এমন জঘন্য উদ্দেশ্য ছিলো আপনার।”
তাকরিম চোখের পানি ছেড়ে দিলো,ভাঙা ভেজা কন্ঠে বললো,
“আমি জঘন্য নয় আলেকজান্দ্রা, আমি প্রেমিক,এক মৃত প্রেমিক আমি।”
তাকরিমের ভেজা ঠান্ডা স্বর শুনতেই বিস্মিত হলো অনু,গুটিয়ে এলো তার ভ্রু,কিছু একটা বলতে গিয়েও থমকালো, চুপচাপ বোঝার চেষ্টা করলো তাকরিমের ভাবানুভুতি।
তাকরিম টালমাটাল হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে দাড়ালো বিছানার কাছে,খুব যত্ন করে অনুকে বসিয়ে দিলো বিছানায়, তারপর ধীরে ধীরে নিজে বসে পড়লো অনুর পায়ের কাছে।অনু নির্বিকার, কি বলবে বা কি করবে বুঝতে পারছে না, তবে এইটুকু বুঝেছে আর যাই হোক তার ঘরে আসার পেছনে এমপি মশাই এর খারপ কোন উদ্দেশ্য নেই।
তাকরিম তার টলে যাওয়া মাথাটা আস্তে করে রাখলো অনুর কোলের উপর,মাতাল কন্ঠে বললো,
“কোথায় যাবো বলতো?কোথায় গেলে তোমার আমার সংসার পাতা হবে?কোথায় গেলে আমাদের মাঝে তৃতীয় ব্যাক্তি আসবে না?কোথায় গেলে আমাদের বিচ্ছেদ হবে না?কোথায় পাবো সেই বেনামী ঠিকানা?”
অনু বাকরুদ্ধ,ইচ্ছে করছে তাকরিমের মাথাটা নিজের কোল থেকে সরিয়ে দিতে, কিন্তু পারছে না, এক অজানা বাঁধা আঁটকে দিচ্ছে তাকে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে কোন এক অপ্রত্যাশিত স্মৃতির অন্তরালে।
হুট করেই মনে হচ্ছে এমন একটা রাত এসেছিল পূর্বে, এই মানুষ টা এমনি করে শুয়ে ছিলো তার কোলে।পাগলের প্রলাপ বকেছিলো সাড়া রাত,ঘুমাতে দেয় নি একটুও।সে রাতের পর কিছু একটা হয়েছিলো, চুরি হয়েছিলো তার মন, প্রেমে পড়েছিলো এই নিষিদ্ধ পুরুষের।
কিন্তু কবে এসেছিলো সে রাত?জন্মের পর তো এই পুরুষের সাথে এটাই তার ঘনিষ্ঠ মূহুর্ত,তবে এমন রাত সে আরো একবার কি করে কল্পনা করে?একি মনের ভুল?শুধুই মনের ভুল,নিছক কল্পনা বা হ্যালুশিনেসন?
তাকরিম বাচ্চাদের মতো নিজের চোখের পানি মুছলো,নাক ঘষলো অনুর কোলে,জড়ানো কন্ঠে বললো,
“যদি এজন্মেও মিলন না হয়, তবে পরজন্মে পাখি হবো,আমি আর তুমি উড়ে বেড়াবো খোলা আকাশে,খড়কুটো দিয়ে বাধবো সুখের ঘর,যেখানে না পাওয়ার আক্ষেপ থাকবে না,মিলন তিথির অপেক্ষা থাকবে না।খড়কুটোয় বাধা বাসায় থাকবে সুখ আর সুখ,চিরস্থায়ী সুখ।”
অনুর খুব কৌতুহল জাগলো,মানুষটাকে ভালো করে জানার কৌতুহল মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো হটাৎ, নিজেকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলো না একদম,শান্ত সাবলীল কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“দেশের এমপি আপনি,প্রভাব প্রতিপত্তি,ধন সম্পদ, টাকা পয়সা সবই তো আছে আপনার, তবে সুখের কেনো এতো খোঁজ?”
“সব কিছু নিলামে তুলে দিবো,বিনিময়ে চেয়ে নেবো তোমাকে,আমার ভালোবাসা, আমার আজন্মের আক্ষেপ তুমি।তোমাকে পাওয়ার জন্য বিসর্জন দিবো সব,তবুও তুমি নামের সুখটার মালিকানা পেতে চাই আমি।”
অনু হতভম্ব হয়ে শুনলো তাকরিমের কথা,অব্যাক্ত প্রেমাসুখের ব্যাকুলতা।এই ব্যাকুলতা যে নিস্পার জন্য সে কথা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে অনু,বুঝতে পেরেছে বলেই অবাক হয়েছে বেশ,দেশের এমপি মশাই নিস্পার মতো একটা সামান্য মেয়ের জন্য কতটা তড়পাচ্ছে হয়তো না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতো না।
তাকরিম থেমে থেমে আবার বললো,
“তুমি তো জানো নীল রঙ আমার কতো পছন্দ,বিয়ের জন্য তোমার জন্য নীল শাড়িটাই কিনে এনেছিলাম আমি,ওই নীল শাড়িতে তোমাকে দেখার এক বুক তৃষ্ণা ছিলো আমার,কিন্তু নীল শাড়ির বদলে, যন্ত্রণায় মোড়ানো তোমার নীল শরীর টা কেনো দেখতে হলো বলতো?”
তাকরিমের কথার আগা গোড়া কিছুই বুঝতে পারলো না অনু, অস্ফুটে বললো,
“আপনি অতিরিক্ত ড্রিংক করেছেন, দয়া করে নিজের ঘরে যান, আপনি কি বলছেন আপনি হয়তো নিজেও জানেন না।”
অনুর কথা কানে গেলো কি নেশাগ্রস্ত তাকরিমের? সেতো তার পাগলামতেই ব্যাস্ত, তার আলাদা জগতে তার আলেকজান্দ্রাকে একের পর এক অভিযোগ করছে সে, অভিমানের ভারে কন্ঠে টেনেছে গম্ভীরতা,
“নীল প্রেমিকে নীল রঙের মৃত্যু দিলে, এ তোমার কেমন বিচার আলেকজান্দ্রা?”
“এ জন্মে নিজের পছন্দ ত্যাগ করেছি আমি,নীলের পরিবর্তে লালকে করেছি আপন,তবে এবারেও কি মৃত্যু দিবে?কঠিন মৃত্যু?লাল রক্তের মৃত্যু কি এবারেও নসিবে হবে আমার?
_______________
দরজার ওপাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে প্রভা,তাকরিমের প্রতিটি শব্দ তার কানে পৌঁছানো মাত্রই বিষ প্রবাহিত হচ্ছিলো শিরায় শিরায়। মনের ভেতর ঢেউ তুললো যন্ত্রণার এক মহাসমুদ্র, বুকের গভীরে জমে উঠলো দুঃখের পাহাড়।
তার ভাগ্যে কি চিরকালই এমন নিষ্ঠুরতা লেখা ছিল? কেনো বিধাতা তাকে বারবার অভাগা করেই এই পৃথিবীতে পাঠান? কেনো তার ভাগ্যের আকাশে কখনো সূর্যের আলো ফোটে না?
কথাগুলো ভাবতেই নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসলো প্রভার, চোখের কোণে জমলো বেদনার স্বচ্ছ জলকণা।
সেবারও তো সে অসহায় ছিলো, বাপ-মা ছাড়া এক অভাগী। নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় আশ্রিতা হয়ে ছিলো ফ্লোরেন্সাদের বাড়িতে।
আইরিশ ভাইয়ের একটুখানি ভালোবাসার উষ্ণতা পাওয়ার হাহাকার করেই তো দিনের পর দিন কাটিয়ে দিয়েছিলো। প্রতিটি সূর্যোদয়, প্রতিটি সন্ধ্যা তার অপেক্ষার সাক্ষী হয়েছিলো প্রতিটিক্ষণ,অথচ আইরিশ ভাই বুঝেও বুঝলো না।
এ অভাগী কি জানত, এই অপেক্ষা কেবল কয়েকটি ঋতুর নয়, নয় কয়েকটি বছরের, এ যে জন্ম থেকে জন্মান্তরে গড়িয়ে যাওয়া অপেক্ষা,অবিরাম, অনন্ত।
সময় তাকে উপলব্ধি করিয়ে দিচ্ছে, তার ভাগ্যে ভালোবাসা নয়, কেবল প্রতীক্ষারই লিখন লেখা হয়েছে জন্ম জন্মান্তরের জন্য।
নিজের দুর্দশার কথা মনে করতেই ঝর্ণার মতো অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়লো অশ্রু, ভিজে উঠলো প্রভার চোখের পল্লব। বুকের গভীর থেকে উঠে আসা যন্ত্রণার ভারে বন্ধ হয়ে এলো দম।
পা দুটো নিজের ওজনই বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়লো। শিরায় শিরায় বইতে শুরু করলো বেদনার স্রোত ,বিবশ যন্ত্রণায় অবশ পা গুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না আর। ধীরে ধীরে দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়লো মেঝেতে। নিরব কান্নার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিরবির করে বললো,
“আমি আপনাকে আর কত ভালোবাসলে পেয়ে যাবো বলুনতো?আপনি ভালোবাসা বুঝেন অথচ আমায় বুঝেন না,কেমন প্রেমিক আপনি? ”
“যদি এবারেও না পাই, তবে আর চাইবো না।যদি আরো একটি জন্ম এসে যায় ভুল করে, তবুও আর চাইবো না, আপনারা পাখি হলে আমি খড়কুটো হবো,দু চোখ ভরে দেখবো আপনাদের সুখের সংসার।”
কথাগুলো বলতে বলতে এবার ফু্ঁপিয়ে কেঁদে উঠলো প্রভা,এক হাত মুখে ঢুকিয়ে কামড়ে ধরলো হাতের পিঠ, চোখ বন্ধ করে নিলো, কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“কেনো ভালোবাসা যায় না আমাকে?এ পৃথিবীতে বুঝি সুফিদের ভালোবাসা নিষিদ্ধ,সুখ বুঝি অবরুদ্ধ।”
______________
ভোর সাতটা বেজে কুড়ি মিনিট,সকালের শুভ্র রোদ্দুর ক্রমশ তেজি হয়ে, আকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি আভা।জানালার ফাঁক গলে আসা নরম আলো ছুঁয়েছে জানালার পর্দা। বাইরে শোনা যায় পাখিদের কিচিরমিচির,এদের নিত্যদিনের কাজ নিস্পাপের ঘুম ভাঙানো,আজও ব্যাতিক্রম হয় নি,ঠিক সময় মতোই ভেঙেছে নিস্পার ঘুম।
কিন্তু আজ নিস্পার ঘুম ভেঙেছে অন্য এক কারণে। চোখ না খুলেই সে অনুভব করল, ভারী একটা হাত ঠিক তার পেটের ওপর। তারমধ্যে কড়া পারফিউমের গন্ধ নাকে আসতেই শিরদাঁড়া দিয়ে শিহরণ বয়ে গেল। পাশে, খুব কাছে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে নিঃশ্বাস আটকে গেলো কিছুক্ষনের জন্য।আর সে মানুষ টা যে ত্রিজয় সে কথা বুঝতে অসুবিধা হলো না তার।
নিস্পার বুকটা দুরুদুরু করে কেঁপে উঠল। মেয়েলি সত্তা এক ঝটকায় শিহরিত হয়ে উঠল অজানা অনুভূতিতে। কাঁপতে থাকা হাতটা ধীরে ধীরে এগিয়ে নিলো, স্পর্শ করল ত্রিজয়ের ভারী, শক্ত হাতটাকে।
আঙুলের পেঁচিয়ে ধরা স্পর্শে অনুভব করল হাতের উপর ছড়িয়ে থাকা মোটা মোটা লোমগুলো। নিস্পার নিঃশ্বাস তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে,ঝড়ের গতিতে ওঠানামা করতে শুরু করেছে স্পন্দন। মাথার ভেতর তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে সমস্ত ভাবনাচিন্তা।
পুরো শরীর বরফের মতো শীতল হয়ে এসেছে, অথচ কপালের কিনারে আর নাকের ডগায় টুপটুপ করে জমছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
নিস্পার দিশেহারা মস্তিষ্ক আর অসংলগ্ন ভাবনাগুলো বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। শীতল, জমে যাওয়া শরীরটা মুক্ত হওয়ার জন্য তড়পাল।
নিস্পা দ্রুত দুই হাত বাড়িয়ে ধাক্কা দিল ত্রিজয়ের ভারী হাতটাকে। সরিয়ে দিতে চাইলো, মুক্ত হতে চাইল অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ থেকে।কম্পিত কন্ঠে বললো,
“আ,,আপনি আমার বিছানায় কি করছেন?ছাড়ুন আমায়।
নিস্পা যতটা সহজ ভাবে হাতটা সরাতে চাইলো, ঠিক ততটাই কঠিন হয়ে গেলো কাজটা।
ত্রিজয়ের হাতটা নড়ে উঠল বটে, কিন্তু পুরোপুরি সরল না। বরং পূর্বের তুলনায় আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরল নিস্পার শরীর।নিজের মুখটা এগিয়ে নিয়ে গেলো নিস্পার ঘাড়ের কাছে,নিস্পাপের গলায় ঘাড়ে নাক আর গাল ঘসে পুনরায় বিভোর হলো ঘুমে।
নিস্পার নিঃশ্বাস তখন আরো দ্রুত, আরো অস্থির। বুকের ধুকপুকানিটা বজ্রপাতের মতো শোনাচ্ছে। আতঙ্ক, উত্তেজনা আর অজানা শিহরণ একসাথে মিশে গেল তার রক্তের প্রবাহে,এবার আর রয়ে শয়ে নয়, গলা ফাটিয়ে চেচিয়ে উঠলো,
” আল্লাহর লানত কোথাকার, আমার উপর থেকে হাত সরান বলছি।”
নিস্পাপের চেচানোর আওয়াজে লাফিয়ে উঠলো ত্রিজয়,ঘুমু ঘুমু চোখে ঝাপসা তাকালো নিস্পাপের দিকে,কত স্নিগ্ধ, সুন্দর একটা মুখ।সাত আসমান থেকে নেমে আসা স্বর্গ পরির মতো শুভ্র মুখের দিকে তাকাতেই হিপনোটাইজ হলো ত্রিজয়।এক অজানা সময়, এক অজানা রাজ্য আর সাদা পোশাকে আবৃত নিস্পার সাথে হারিয়ে গেলো অচেনা মায়াজগতে।
সম্মোহনের গুরু সম্মহিত হলো, এক সাধারণ অতি তুচ্ছ অন্ধ মেয়ের আবৃত চোখের পল্লবে,নিখুঁত এক জোড়া ঠোঁটের ভাজে,আর নাকের ডগায় জমে থাকা এক ফোটা ঘামের মাঝে।
নীল রঙের একজোড়া নেত্রমনি গভীর ভাবে হিপনোটাইজ হলো, পরিচালনা শুরু করলো ত্রিজয়ের মস্তিষ্ক,ত্রিজয় ধিরে ধিরে এগিয়ে এলো নিস্পার খুব কাছে, এক হাত নিয়ে রাখলো নিস্পার শরীরের অন্যপাশে। নিস্পা উপলব্ধি করলো তার পুরো শরীর ত্রিজয়ের দু হাতের বন্ধনীতে আবদ্ধ,তার বুক পৃষ্ঠ হচ্ছে ত্রিজয়ের উদোম বুকের জাতাকলে।
নিস্পা ভয় পেলো,কম্পন তুললো তার কণ্ঠনালী, কিছু একটা বলার জন্য ঠোঁট নাড়াতেই যাবে, ত্রিজয় তার আঙুল রাখলো নিস্পার ঠোঁটের উপর,মাদকিয় কন্ঠে বললো,
“ওহে নীল রক্তের মেয়ে, তোমার বিষ প্রাণ করার জন্য আবারো জন্মেছি আমি,প্রেম নাকি মৃত্যু?কোনটা টিকে যাবে অনিবার্য সত্য হয়ে?”
নিস্পা ভরকায়, চমকায় বারকয়েক , তবে খুব বেশি বিস্মিত হয় না,সত্যবীনা পাখির কথা মনে আছে তার, সে যানে ভাগ্য তাকে গোলকধাঁধায় ফেলেছে।
নিশ্চয়ই ত্রিজয় আর তার মধ্যে অতীতে গভীর সংযোগ ছিল। সময়ের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া সেই সম্পর্কের স্মৃতিগুলো আজও হয়তো রয়ে গেছে অবচেতন মনের সপ্ট কর্নারে,একে অপরকে খুঁজে ফেরার এক অদৃশ্য আকর্ষণ হয়ে।
তফাৎ কেবল, নিস্পা হারায় ঘুমের ঘোরে, স্বপ্নের অলিগলিতে ফিরে যায় বিস্মৃত অধ্যায়ে,দেখে অস্বচ্ছ অচেনা মুখ, শুনতে পায় হারিয়ে যাওয়া কথা। অথচ ত্রিজয়? সে হারায় না ঘুমের রাজ্যে, বরং জেগে থেকেও দেখে অতীতের ছায়া, অনুভব করে এমন কিছু, যা বাস্তব হয়েও বাস্তব নয়।
ত্রিজয় জানেও না এই হ্যালুশিনেশনের মাঝেই লুকিয়ে আছে তার পূর্বজন্মের গল্প,এক অসমাপ্ত অধ্যায়, যা নতুন জন্মেও টেনে নিয়ে এসেছে তাদের পরস্পরের কাছে।
ত্রিজয় আরেকটু ঘনিষ্ঠ হলো, সম্মোহনী কন্ঠে বললো,
“আমার কাটা যুক্ত হৃদয়ে তুমি ফুলের স্ফুরণ হয়ে এসেছো,জালিমকে শিখিয়েছো প্রেম,তুমি কি যানো এতো সবে পাপ হয়েছে তোমার? আগামী সাত জন্ম এ পাপের শাস্তি ঘোষণা করা হলো, তুমি প্রস্তুত তো ব্লু ব্লাড গার্ল?
” তোমার পাপ প্রেম ডেকে এনেছে, আহ্বান করেছে ধ্বংসকে,রচনা করছে পূনর্জন্ম, সৃষ্টি করেছে মৃত্যুকে।”
ত্রিজয় চোখের পল্লব নাড়িয়ে আবার বললো,
“তুমি প্রেমের মতো সুন্দর,অথচ তোমার প্রেম সায়ানাইডের চেয়েও বিষাক্ত,আমি নির্দিধায় শত কোটিবার সে বিষ প্রান করে মরতে চাই, জন্মাতে চাই আরো সাত জন্ম।তবুও তোমাকে পেতে চাই,তোমার বিষে তোমাকেই যন্ত্রণা দিয়ে মারতে চাই।জালিমের হাত থেকে মুক্তি নেই,ঘৃনায় হোক বা ভালোবাসায় এই জালিমের বন্দীনি হয়েই থাকতে হবে তোমায়।”
নিস্পার বুক দুরুদুরু কাঁপছে, বুকের ভেতরে বন্দী কোনো বুনো পাখি মুক্তির জন্য ডানা ঝাপটাচ্ছে। ত্রিজয়ের নগ্ন বুকের তলদেশ থেকে তার আত্মাটা পালানোর জন্য করছে ছটপট, অথচ শরীর বাঁধা পড়েছে ত্রিজয়ের উন্মুক্ত বাহুর শিকলে। ত্রিজয়ের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস চোখে-মুখে আছড়ে পড়ার কারণে ,ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে নিস্পার শ্বাসপ্রশ্বাস।
ত্রিজয় তার ভাবনায় বুদ,কল্পনার রাজ্যে সাজিয়েছে কথার ঝুড়ি,
“রক্তজবার মতো তোমার ওই ঠোঁট আমাকে জালিম থাকতে দিচ্ছে না,বারংবার দুশ্চরিত্র হওয়ার আশকারা দিচ্ছে, কি করি বলতো?”
কথাটা বলেই ত্রিজয় ঘটিয়ে ফেললো বড়সড় অঘটন,আচমকাই নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো নিস্পার ঠোঁটের ভাজে।আতংকে নিস্পা চোখ বড় বড় করে ফেললো, দু হাত দিয়ে থাপ্পড় দিতে শুরু করলো ত্রিজয়ের নগ্ন বাহুর উপর।
অথচ ত্রিজয়ের কোন হেলদোল নেই, সে সম্পূর্ণভাবে বিভোর হয়েছে নিস্পার ঠোঁটের গভীরে।
নিস্পা নিয়ন্ত্রণহীন, ত্রিজয়ের উদ্ভট আচরন সহ্যসীমা অতিক্রম করেছে, ত্রিজয়ের শক্তির সাথে কিছুতেই পেরে না উঠে,পা দিয়ে লাথি বসিয়ে দিলো ত্রিজয়ের তলপেটে, তারপর নিজের সমস্ত শক্তি ব্যাবহার করে ঠেলে সরালো ত্রিজয়ের মুখ, রাগে জেদে গজগজ করে চেচিয়ে উঠলো,
“আল্লার লানত, আমার উপর থেকে সর।”
ত্রিজয় চমকালো, হুসে ফিরলো পুরোপুরি, সজ্ঞানে এসেই নিজের কর্মকান্ড সম্পর্কে আঁচ করতে পারলো ক্ষানিকটা।নিজের কাজেই নিজেই বিব্রত হলো সে,এমন একটা ভুল কি করে করতে পারলো তার মাথাতেই এলো না,তবে নিজের ভুল নিয়ে ভাবার সময় নয় এখন, যত যাই হোক নিস্পার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করা যাবে না।
ত্রিজয় নড়েচড়ে বসলো, কন্ঠ চওড়া করে, ধমকে উঠলো,
“এই চুপ, আল্লার লানত যখন বলেছিস তবে আমি তাই, তোর উপর পরেছি তোর উপরেই জুড়ে বসে থাকবো, কি করতে পারবি?”
“অসভ্য দুশ্চরিত্র লোক,এতো বড় একটা নোংরামি করার পর জোর গলায় কথা কি করে বলছেন?”
ত্রিজয় মুখের ভঙিমা পাল্টালো,অবুঝ ভঙিতে বললো,
“নোরাংমি আবার কি?তোর মতো কানার সাথে নোংরামি করতে বয়েই গিয়েছে আমার।”
“নোংরামি করেন নি অথচ একটা অন্ধ মেয়ের ঠোঁটে চুমু খেয়ে নিলেন,এটা কি আপনার সভ্যতা মনে হয়?”
“তো কি?তোর প্রতি চুল পরিমাণ ফিলিংস নেই আমার, জাস্ট বোন মনে করে একটা চুমু খেয়েছি।”
“ওয়াক থু,,,কীভাবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে হয় আপনার থেকে শেখা উচিত।”
“অবশ্যই, এমনি এমনি তো আর উকিল হয়ে যাই নি, ছলাকলা তো আধ একটু জানিই।কথায় আছে না চোরের মায়ের বড় গলা।”
“ছিঃ আপনার মধ্যে লাজ লজ্জা টুকুও নেই।
ত্রিজয় দাপটিয় ভাব নিলো,চওড়া কন্ঠে বললো,
” ওসব লাজ লজ্জা দিয়ে কি করবো?,অন্যায়কে জিতিয়ে দিয়ে যখন কোর্ট থেকে বের হই, কত পাব্লিক ডিম, টমেটো, লাঠি, ঝাটা ছুড়ে মারে, লাজ লজ্জার ধার ধারলে তখনই তো গলায় ফাস দিতে হতো আমার।”
“নিজের সম্পর্কে এতো জঘন্য কথা বলতে রুচিতে বাধে না আপনার?”
“আমার রুচিও নেই, নইলে কি আর তোর মতো কানাকে নিজের লাইফ পার্টনার হিসেবে সিলেক্ট করতাম।”
নিস্পা বিরক্ত হলো,শত হোক প্রতিপক্ষ যখন উকিল তখন তার সাথে তর্কে গিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না একথা বুঝলো নিস্পা,তাই নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“আপনার মতো নিচু মানসিকতার লোকের সাথে তর্ক করাটাই আমার পাপ হয়েছে।”
“তবে তো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত।” বললো ত্রিজয়।
“সেটা না হয় আমাকেই ভাবতে দিন, আপনার নাকটা না গলালেও চলবে।”
“কিন্তু আমি তো নাকের সাথে ঠোঁট টাও গলিয়ে ফেলেছি।”
নিস্পা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েও ব্যার্থ হলো, রাগে ফুসে উঠে বললো,
“এই সমস্যা কি আপনার?অযথা কোন কারণ ছাড়া এসব লজিকলেস কথা বলে ক্ষেপাচ্ছেন কেনো আমায়?”
ত্রিজয় ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো,রহস্যময় কন্ঠে বললো,
“ত্রিজয় কারণ ছাড়া টয়লেটেও যায় না,কারন ছাড়া তোমাকে ক্ষেপানো তো দূরের কথা।”
নিস্পা রাগে ক্ষোভে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিলো,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“ওই বাচালের বংশধর,টয়লেটে মানুষ কারন থাকলেই যায়, ভাত খেতে যায় না।”
“আমি তো বলি নি আমি ভাত খেতে যাই।জাস্ট একটা উদাহরণ বললাম।”
“আপনার টয়লেটের উদাহরণ আপনার কাছে রাখুন,সকাল সকাল মেজাজটাই বিগড়ে দিলেন।ছিঃ।”
নিস্পা তেড়ে বিছানা থেকে উঠতে নিলেই হাতের ধাক্কা খেয়ে টেবিলের উপরে রাখা একটা ফুলদানি ফ্লোরে পরে গেলো, মূহুর্তেই বিকট শব্দ করে ভেঙে গেলো ফুলদানি টা।
কিছু একটা ভেঙে যাওয়ার শব্দ পেয়ে চমকে উঠলো ইভান, সোফার স্বল্প জায়গায় নড়তে গিয়ে ধাম করে পড়ে গেলো ফ্লোরে,নিজের উপর নিজেই চরম বিরক্ত হলো ইভান, দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করলো,
“হে খোদা তুমি আমাকে চান্দে নিয়া যাও, তাও এদের মাঝখানে রেখো না।এতো তাড়াতাড়ি হার্ট এটাক করার ইচ্ছে আমার নেই।”
কথাটা বলতে বলতে উঠে দাড়ালো ইভান, চোখ কচলাতে কচলাতে এগিয়ে গেলো নিস্পার ঘরের দিকে।
নিস্পার হাতের ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া এক্সপেন্সিভ ফুলদানি টা ভেঙে যাওয়ায় চরম ক্ষেপেলো ত্রিজয়,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“ওই ফইন্নির বাচ্চা, কি করলি তুই এটা?আমার এতো দামি ফুলদানি টা ভেঙে দিলি।”
“তো কি হয়েছে?আমি কি ইচ্ছে করে ভেঙেছি নাকি,ভুল করে ভেঙে গিয়েছে যখন আবার কিনে নিলেই তো হয়।”জবাবে বললো নিস্পা।
” আবার কেনার টাকা কি তোর বাপ এসে দিয়ে যাবে?”
নিস্পা উত্তর দিতেই যাবে, ঘরে এসে দাড়ালো ইভান, ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললো,
“কি হয়েছে স্যার?ঝগড়া করার জন্য তো সারাদিন পরে আছে, ভোর ছয়টাতেই কেনো করতে হবে,সময়টা তো একটু দেখে নেওয়া উচিত ছিলো।”
ইভানকে দেখে এগিয়ে এলো ত্রিজয়, রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“রাখো তোমার সময়, এই কানার বাচ্চা কি করেছে দেখো, আমার কত দামি ফুলদানি টা ভেঙে ফেলেছে।”
ইভান চোখ কুচকে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে তারপর বললো,
“এসব নিয়ে ঝগড়া করার কোন মানে আছে স্যার?একটা ভেঙেছে তো আরেকটা কিনে নিবেন সিম্পল।”
“হোয়াট কি বলছো তুমি?আমি ত্রিজয় আরেকটা কিনবো? এই মেয়ের ভুলের জন্য আমি কেনো টাকা খরচ করবো?এই মেয়েকে বলো নিজের টাকা দিয়ে সেম টু সেম ফুলদানি এনে দিতে।”
ইভান রাগে গজগজ করলো, মনে মনে আওড়ালো,
“ওরে কিপ্টার বাচ্চা, এটা তোর বউ হয় বউ, একটু তো কৃপা কর,শালা তোর টাকা ঘুনে খাবে অভিশাপ দিলাম।”
ত্রিজয় তাড়া দিলো,
“কি হলো চুপ করে আছো কেনো?কিছু বলছো না কেনো এই ফইন্নি কে।”
ইভান দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, ত্রিজয়কে শান্ত করার জন্য বললো,
“বাদ দিন স্যার,এমন সেম টু সেম ফুলদানি আমি কিনে এনে দিবো, আপনার এক টাকাও খরচ করতে হবে না। এখন একটু শান্ত হোন।”
ত্রিজয় শান্ত হলো,তাকালো কাচুমাচু ভঙিতে দাঁড়িয়ে থাকা নিস্পার দিকে,ভরাট কন্ঠে বললো,
“এই মেয়ে, আমার কথা মন দিয়ে শুনো।”
“মনকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছি, আপনার কথা শোনার চেয়ে ঢের ভালো জায়গা।” কর্কষ কন্ঠে বললো নিস্পা।
“তবে সেখানেই রাখ,আমার কথা শোনার পর যদি উত্তর দিস তবে উস্টা দিয়ে আবার জাহান্নামে পাঠিয়ে দিবো।”
নিস্পা উত্তর দিলো না, শক্ত খুটি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কেবল।
ত্রিজয় নিজের কথা শুরু করলো,
“তোর বাবা এবং মায়ের খুনের পেছনে এমপি তাওসিফ তাকরিম এর হাত আছে,ওই এমপিকে বাঁচানোর জন্যই তার বাবা তোর মা বাবাকে খুন করেছে।আমি কেস টা পুনরায় রি ওপেন করাবো।”
নিস্পা বিস্মিত,তাড়াহুড়ো কন্ঠে বলে উঠলো,
“কিহ আপনি ন্যায়ের পক্ষে লড়বেন?আমার বাবা মাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে পারবেন তো?”
ত্রিজয় ধমকে উঠলো,
“এই চুপ, এতোক্ষণ না বলেছিস মনকে জাহান্নামে পাঠিয়েছিস, এখন উত্তর দিচ্ছিস কেনো, দিবো উস্টা?”
নিস্পা ঠোঁট ফোলালো, উত্তরে বললো,
“মনকে পাঠিয়েছি, কানকে তো আর পাঠাই নি।”
নিস্পার উত্তর শুনে হেঁসে উঠল ইভান,ঠোঁট টিপে বিরবির করলো,
” শালা তুই যেমন, তোর বউও তেমন, একদম বোম্বাই মরিচ,যেখানেই লাগবে সেখানেই জ্বলবে।”
_____________
সন্ধ্যা নেমে এসেছে ধরনীতে, মাগরিবের আজান শোনা যাচ্ছে চারদিকে,মুসল্লিরা যে যার মতো ঢুকছে মসজিদে, অধিকাংশ দোকান পাট খালি।
কোলাহল থেকে একটু দূরে ঝোপের আড়াল থেকে ভেসে এলো একটা মেয়ের কন্ঠ থেকে বেড়িয়ে আসা ঘোৎ ঘোৎ শব্দ। মেয়েটা তড়পাচ্ছে,জান বাচানোর জন্য এক হাত দিয়ে খামচে ধরেছে গুল্মলতা গুলো,আরেক হাতে খামচাচ্ছে ভেজা মাটি।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, একজন বোরকা পরিহিত ব্যাক্তি এক পর্যায়ে কেটে আলাদা করে ফেললো তার মাথা, চুলের মুঠি ধরে মাথাটা ঝুলিয়ে ধরলো তার সামনে, হিংস্র চোখ দিয়ে দেখলো কাটা মাথা থেকে টুপটাপ ঝড়ে পরা রক্তের ফোটা গুলো,অত:পর আরেক হাতের মুঠো খুলে সামনে ধরলো ফ্লোরেন্সার পুরোনো একটি ছবি,ছবিটির দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসলো সে ব্যাক্তি, অদ্ভুত রহস্যময় কন্ঠে বিরবির করলো,
“পূনর্জন্মের মানে নতুন মৃত্যুর সূচনা ,সেজন্মে হয়েছে নীল রঙের বিষাক্ত মৃত্যু, এ জন্মে হবে লাল রঙের রক্তাক্ত মৃত্যু।”
চলবে,,,,,,,,

