#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:38
আজ শুক্রবার।সকালে প্রকৃতি ছিল শান্ত ,নিস্তরঙ্গ। বাতাসে ছিল হালকা শীতলতা,নিজেদের ছন্দে পাখিরা গাইছিল গান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্রপট বদলে গেল অতি দ্রুত।
দুপুর গড়াতেই আকাশ ঢেকে গেল ঘন কালো মেঘে। সূর্যের আলো দপ করে নিভে গেল ধোঁয়াটে ছায়ার নিচে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো গুমোট ভাব, আর এক ভয়াবহ শূন্যতা।প্রকৃতি রঙ হারিঅশুভ পূর্বাভাস দিচ্ছিলো ক্ষনে ক্ষনে।
কপালে হাত রেখে চোখ ছোট ছোট করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে বৃদ্ধ মহিলা।তার মুখে এক অদ্ভুত ঝিলিক,চোখ চিকচিক করছে জলে,কলিজা ফেটে বেড়িয়ে আসছে চাপা আর্তনাদ,
“সময় আসন্ন,অতীত বর্তমানের সংঘর্ষ হতে চলেছে খুব শীঘ্রই।নিয়তি তার খেল শুরু করে দিয়েছে।”
_______________
নিস্পাকে নিজের হাতে নাস্তা খাইয়ে দিয়েছে ত্রিজয়,ভাব ভঙ্গি অন্যরকম,চোখ মুখ শান্ত থাকলেও অশান্ত দৃষ্টি আটকে আছে নিস্পার চিকন ঠোঁটের উপর।
চোখে দেখতে না পেলেও, নিজের অতি নৈকট্যে ত্রিজয়ের নিঃশ্বাসের উপস্থিতি টের পাচ্ছে নিস্পা,এতেই বাড়ছে অস্বস্তি। বুকটা ধুকপুক করছে অজানা কারণেই। নিজের অস্বস্তি কাটাতে নড়েচড়ে বসলো নিস্পা ,শুখনো ঢোক গিলে মিহি কন্ঠে বললো,
“শুনুন, একটা কথা বলার ছিলো।”
ত্রিজয়ের সমস্ত ধ্যান তখন নিস্পার পদ্মপাপড়ির ন্যায় ঠোঁটের গভীরে,মনের মধ্যে তৈরি হওয়া কামনা বাসনা ইতিমধ্যে কাবু করে ফেলেছে তাকে,কি আছে এই মেয়েটার ঠোঁটে? কেন এতো বেশি আকর্ষিত করে এই ঠোঁট জোড়া,বিশেষত্ব কি এই ঠোঁট জুড়ে তৈরি হওয়া নাম না জানা অনুভুতিদের?
ত্রিজয় হু হ্যা কিছু বলে না, সে এগিয়ে আসে, কিঞ্চিৎ ঝুকে আসে নিস্পার দিকে, নিস্পার বুকটা আরেকটু জোড়ে লাফাতে শুরু করে,ত্রিজয় যতটা এগোলো, ঠিক ততটা পেছনোর চেষ্টা চালালো নিস্পা,তার সটান পিঠ বেকে গিয়ে ঠেকলো বালিশে,ত্রিজয় থামার নাম গন্ধ অব্দি নিচ্ছে না,কেমন রোবটের মতো এগিয়ে যাচ্ছে নিস্পার অনেক অনেক কাছে,দুরত্ব ঘোচাতে চাইছে শেষ ইঞ্চিটুকুরও।
ত্রিজয়ের তপ্ত নিঃশ্বাস নিস্পার চোখে মুখে আছড়ে পড়তেই মৃদু শিরশিরানি অনুভুত হলো,খিচে বন্ধ করে ফেললো চোখ,কম্পিত কন্ঠে বললো,
“কি,,কি করতে চাইছেন আপনি?”
ত্রিজয়ের দৃষ্টিতে ঘোর,সম্মোহনী কন্ঠে উত্তর দিলো,
“আই ওয়ান্ট টু ইউ লিপকিস।”
ত্রিজয়ের কথাটুকু খামচে ধরলো নিস্পার হৃৎপিন্ড,শুখনো ঢোক গিলে নিজেকে সংবরণ করলো অতিদ্রুত, ত্রিজয়ের মনযোগ ক্ষুন্ন করতে বললো,
“লিপ কিস কে শুদ্ধ বাংলায় কি বলে জানেন?”
ত্রিজয় অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,
“কি?”
নিস্পা ঠোঁট দিয়ে ঠোঁট টিপে ধরলো,চাপা স্বরে বললো,
“থুতু খাওয়া,খাবেন নাকি?আমার থুতু।”
ত্রিজয়ের মেজাজ খারাপ হলো,দাঁতে দাঁত চেপে ছেড়ে দিলো নিস্পার কোমর,তরিৎ এক ঝটকায় টেনে আনলো নিস্পার ডান হাত,একদলা থুতু নিস্পার হাতের তালুতে দিয়ে বললো,
“কানার বাচ্চা নে খা।”
নিস্পা রাগে ফুসে উঠলো,সেকেন্ডের গতিতে হাতটা বাড়িয়ে দিলো ত্রিজয়ের দিকে,তারপর ত্রিজয়ের শার্টে হাত ঘসতে ঘসতে বললো,
“আপনি এতো নোংরা কেন?”
ত্রিজয় চেপে ধরলো নিস্পার হাত, শক্ত কন্ঠে বললো,
“নোংরামি তো তুই শেখাচ্ছিস।”
নিস্পা তিরিক্ষি কন্ঠে প্রতিত্তোর করলো,
“একদম বাজে কথা বলবেন না।”
“বাজে কথাও তুই শিখিয়েছিস, বিয়ের আগে বছর কেটে গেলেও এসব অশালীন কথা বলতাম না আমি।”
নিস্পা ভ্রু উচালো,সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কি বুঝাতে চাইলেন আপনি?আমি আপনাকে অশালীন কথা শিখিয়েছি?”
“শুধু কি কথা?বিয়ের পর থেকে অশ্লীল কাজ কর্মও করতে ইচ্ছে করছে।সব তো তোর জন্যই, আমার মতো ভদ্র ছেলেকে অশ্লীল বানিয়ে দিলি,ছেঃ।”
“আমার তো মনে হচ্ছে আপনি জন্মগতভাবেই অশ্লীল,শুধুমাত্র একটা বউয়ের অভাবে নিজেকে ভদ্র সাজিয়ে রেখেছিলেন এতোদিন।”
“শুধু জন্মগত ভাবে না, আমি বংশগত ভাবেও একজন শালীন পুরুষ।আমার বাপ দাদা আজ পর্যন্ত নিজেদের বউয়ের সাথেই অশ্লিলতা করে নি।”
নিস্পা দাঁতে দাঁত পিষলো,চাপা ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“হ্যাঁ আপনি তো অশ্লীলতা ছাড়াই তালগাছ থেকে টপকে পড়েছেন।”
“তুই কি আমাকে খোচা দিলি?”
“অবশ্যই হ্যাঁ।”
“থাক মেয়ে মানুষ তাই কিছু বললাম না।”
“আপনাকে ডাকাটাই আমার ভুল হয়েছে।”
“ওহ হ্যাঁ, ভুলে গিয়েছিলাম। কেন ডেকেছিলি বল।”
নিস্পা শুখনো ঢোক গিললো,মুখের অভিব্যাক্তি পাল্টে গেলো ওমনি,মনে করলো সত্যবীনা পাখির কথা, আর মাত্র আজকের দিনটুকু সময় আছে তার কাছে,তারপর কি হবে কিচ্ছু জানে না নিস্পা,এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাকে টেনে নিয়ে যাবে অপ্রত্যাশিত অতীতে।সময় তার জন্য একরৈখিক নয়,তা বেঁকে গেছে, পাক খেয়েছে, গিলে নিতে চাইছে তাকে।
সে জানে না তার সাথে কি হতে চলেছে,আদৌও সে সেখান থেকে ফিরবে নাকি সেখানেই অনন্তকালের জন্য আটকে যাবে তার সময় এ সম্পর্কে কিছুই জানে না সে। তাই আগামী কালের সময় ভ্রমণ তার কাছে কেবলমাত্র অভিযাত্রা নয়,এটি মৃত্যুশঙ্কার মতো জটিল, আতঙ্কে মোড়ানো,আশ্চর্যরকম গুমোট ।
ত্রিজয় চোখ বাঁকিয়ে তাকিয়ে আছে নিস্পার কুচকানো মুখের দিকে,প্রায় মিনিট পাঁচেক হতে চলেছে মেয়েটা চুপ করে গেছে,টু শব্দ অব্দি করছে না,মুখের উপর কুচকানো ভাজ আর, বেঁকে যাওয়া চোয়াল স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে কিছু একটা নিয়ে গভীর ভাবনায় মত্ত মেয়েটা।
ত্রিজয় গলা খাকিয়ে ডাকলো নিস্পাকে,
“ওই কি হলো?কি বলবি বল।”
নিস্পা নড়েচড়ে দাড়ালো, বেড়িয়ে এলো ভাবনার জগৎ থেকে,তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বললো,
“কাল তো আমার চোখের অপারেশন বললেন।”
“হ্যাঁ। তো?”
“তাহলে আমার হাতে আর মাত্র এক দিন সময় আছে।”
ত্রিজয় চোখ উল্টে তাকালো,অপ্রস্তুত হয়ে বললো,
“লিসেন,কাল তোর চোখের অপারেশন হবে,জানে মেরে ফেলা হবে না।”
নিস্পা থতমত খেলো, ঢোক গিলে বললো,
“আমি তেমন কিছু বলি নি, বলতে চাইছি আমার অন্ধকার জীবনের আর একদিন আছে।তারপর এই জীবনটাকে হয়তো খুব মিস করবো আমি।”
“মাথার তাড় ছেড়া থাকলে মিস করতেই পারিস।”
নিস্পা এবারে আর তর্কে জড়ালো না,কন্ঠ নরম করে বললো,
“আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন প্লিজ।”
“কেন?সাথে গিয়ে করবি?”
“অন্ধকার জীবনটাকে শেষ বারের মতো উপভোগ করবো।”
ত্রিজয় বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো, তারপর আলতো করে হাতটা চেপে ধরে অস্পষ্ট বললো,
“চল।”
____________
তাকরিমের বাড়ি থেকে অণুকে নিয়ে আসতে পারে নি ইভান।তাই বাধ্য হয়ে একা ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।তার মুখে এখনো বিভ্রান্তির ছায়া,মেয়েটা হটাৎ করে ওমন কেন করলো ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সে।তার গাড় বাদামী রঙের চোখ দুটোতে অদ্ভুত কৌতুহল,অনুকে গভীর ভাবে জানার অদম্য ইচ্ছে ভেতরটা নিংড়ে দিচ্ছে অজানা দহনে।
বাড়ি থেকে বেড়িয়ে প্রায় অনেকটা দূর হেটেই চলে এসেছে ইভান।তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পাকা রাস্তায়,এক হাত পকেটে রাখা, সানগ্লাস টা ঝুলছে বুক পকেটে,হাঁটার ধরন অদ্ভুত,যেন রাস্তা মেপে মেপে হাঁটছে, তআর বিভ্রম জুড়ে অনুর রাজত্ব, মেয়েটার কপালের কুচকানো ভাব,আর চোখের পল্লবের ঘন ঘন আন্দোলন,ইশ,কি জীবন্ত দৃশ্য,যেন এই ফাকা রাস্তায় নিরব অভিসারের ন্যায় মেয়েটাও হাঁটছে তার সাথে,পদ্মপরাগে রাঙা ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে তাকে ধমকেই যাচ্ছে তখন থেকে।
হঠাৎ করেই নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে এলো গাড়ির গর্জন, ফাঁকা রাস্তার বুক চিরে ছুটে এলো একটি কালো রঙের গাড়ি।দ্রুত, অপ্রতিরোধ্য ভঙিতে গাড়িটা এসে থামে ঠিক ইভানের সম্মুখে,গাড়িটার ইঞ্জিনের গর্জন, টায়ারের ঘর্ষণ শুনেই থমকে দাঁড়ায় ইভান।
বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার মতো কেঁপে উঠলো সে,সানগ্লাসটা বুক থেকে দুলে উঠলো সামান্য,কিছু বুঝে উঠার আগেই গাড়ি থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে আসলো চিত্রা,অস্থির ভঙিতে বললো,
“আপনি? কিছু হয় নি তো আপনার?এভাবে রাস্তার মাঝখানে কেন হাঁটছিলেন?”
ইভান অপ্রস্তুত ভঙিতে নড়েচড়ে দাড়ালো,চিত্রাকে আস্বস্ত করার জন্য বললো,
“ইটস ওকে,ডোন্ট ওয়ারি,কিছু হয়নি আমার।ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই,আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার অপরাধে জেলে যেতে হবে না তোমাকে।”
চিত্রা থতমত খেলো,স্থির হয়ে তাকালো ইভানের চোখের দিকে,কন্ঠে অভিমানী সুর তুলে বললো,
“আমি নিশ্চয়ই জেলে যাওয়ার ভয়ে আপনার জন্য অস্থির হই নি।”
ইভান ভ্রু উঁচালো,মেকি কন্ঠে বললো,
“ওহ, রাইট।তুমি জেলে যাওয়ার ভয় কেনই বা পাবে,এমপি মশাইয়ের পিএ বলে কথা,বাট,আমার জন্য এতটা অস্থির হওয়ার কারণ টা কি তাহলে?”
চিত্রা ভ্যাবাচেকা খেলো,দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো, আমতা আমতা করে বললো,
“মানুষ মানুষের বিপদে অস্থির হবে এটা স্বাভাবিক নয় কি?”
চিত্রা আর ইভান তখনও মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে,ঝোকের বসে চিত্রা সে বিষয় ভুলে গেলেও, ইভান ঠিক লক্ষ করল,আরেকটা গাড়ি চিত্রাকে প্রায় পিষে ফেলার উদ্দেশ্যে ছুটে আসছে,ইভান হাত বাড়িয়ে হেচকা টান দিলো চিত্রার হাতে,চিত্রা টাল সামলাতে না পেরে থুবড়ে পড়লো ইভানের সৌবিষ্ট্য বুকের উপর,পরমুহূর্তেই একটা গাড়ি বিদ্যুৎ গতিতে পাশ কাটলো তাদের।
চিত্রা ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো,খামচে ধরলো ইভানের শার্ট, তবে ইভান ততটা গুরুত্ব দিলো না, সাবলীল ভাবে নিজের বুক থেকে সরিয়ে নিলো চিত্রাকে,ভরাট কন্ঠে বললো,
“মানুষের বিপদে মানুষ অস্থির হবে স্বাভাবিক কিন্তু সেই অস্থিরতার জন্য নিজের বিপদ ডেকে আনা মোটেও স্বাভাবিক নয় মেডাম।”
_________
তাকরিম বাড়িতে পৌছেই শাওয়ার নিয়েছে।প্রায় ঘন্টাখানেক সময় নিয়ে ভিজেছিলো কৃত্রিম ঝর্নার পানিতে,ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিলো একজীবনের সমস্ত ব্যার্থতা।অথচ পারলো না,কথাও একটা মস্ত বড় শুন্যতা ছিলো তার হৃদয়ে।সে বেড়োতে পারে না,কিছুতেই বেড়োতে পারে না ওই শুন্যতার দেওয়াল ভেঙে।
অতিরিক্ত ভেজার কারণে চোখ দুটো ভয়ংকর লাল হয়ে উঠেছে তাকরিমের,জ্বলছিলো ভিষণ।অথচ তাকরিম তোয়াক্কা করলো না,বরং সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো চোখ বন্ধ করে।ঠিক তক্ষুনি অনবরত ভেসে এলো ফোনের রিংটোন,দ্রুত ঝর্ণার সেন্সরে হাত ঘোরালো, একহাতে টেনে নিলো তোয়ালে,মাথাটা কোন রকম মুছতে মুছতে ভেজা শরীরেই বের হলো ওয়াশরুম থেকে।
তার পুরো শরীর ভেজা,চোখ পল্লব বেয়েও জল পড়ছে টুপটাপ,সুডৌল দেহ, ভেজা ত্বকে জলের কণাগুলো ঠিক কাঁচের মতো চিকচিক করছে।,মাংস পেশি গুলো টানটান,এক হাতে মাথায় তোয়ালে ঘসতে ঘসতে আরেকহাত বাড়িয়ে তুলে নিলো মোবাইল ফোন।
রিসিভ করা মাত্রই যান্ত্রিক মেশিনটির অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো কারো আতংকিত কন্ঠ,
“স্যার,আমাদের সবগুলো লোক কে মেরে ডক্টর কিয়ান পালিয়ে গিয়েছে।”
তাকরিমের অভিব্যক্তি ঠান্ডা,সাদা তোয়ালেটা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললো,
“মরেছে কয়জন?”
অপরপ্রান্তের লোকটা আমতা আমতা করে বললো,
“চার জন স্পট ডেট স্যার।”
তাকরিমের চোয়াল চাপ ধরা,কন্ঠ ভয়ংকর ঠান্ডা করে বললো,
“সবগুলোকে পিস পিস করে কেটে আমার পোষা কুকুরকে খাইয়ে দেও,একটা কাক পক্ষিও যেন টের না পায়।”
তাকরিমের কথাটা শেষ হওয়া মাত্রই ঝনঝনিয়ে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো,তাকরিম কপাল কুচকে তড়িৎ তাকালো সেদিকে।অনুর কম্পিত ফ্যাকাসে চেহারা দেখেই আরেকটু গাঢ় হলো কপালের কুচকানো ভাজ,সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি এখানে কি করছো?”
অনুর দৃষ্টি নিচের দিকে,তাকরিমের জন্য নিয়ে আসা কফির মগটা ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে আছে।তাকরিম তার দৃষ্টি অনুসরন করে তাকালো সেথায়,ভেঙে যাওয়া মগটার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
“কফি নিয়ে আসতে বলেছে কে?আমি বলেছি?”
অনুর দৃষ্টি নমিত, শুখনো ঢোক গিলে দু’দিকে মাথা নাড়ালো দ্রুত।তাকরিম এগিয়ে এলো দুপা,কিছু একটা বলতেই যাবে তার আগেই মেঝেতে বসে পড়লো অনু,দ্রুত হাতে কাচের টুকরো গুলো তুলতে তুলতে বললো,
“কিছু শুনিনি আমি, বিশ্বাস করুন।এমনিই কীভাবে যে মগটা পিচলে পড়ে গেলো,এক্ষুনি তুলে নিচ্ছি আমি।”
তাকরিম তাচ্ছিল্য হাসলো,ঠোঁট বাঁকালো কিঞ্চিৎ,ধিরে ধিরে ঝুকে বসলো অনুর সামনে,অনু ভড়কালো, ঘাবড়ালো ভিষ, তাকরিম প্রতিক্রিয়া বিহীন একটা কাঁচের টুকরো অনুর হাতে উঠিয়ে দিতে দিতে বললো,
“তোমার শোনা না শোনায় পরোয়া করি না আমি।”
অনু শুখনো ঢোক গিললো,সকাল থেকেই তার মনটা অস্থির,যখন থেকে নিজের ভেতরে লালিত আসল অস্তিত্বের হুদিশ পেয়েছে তখন থেকেই তৃষ্ণার্ত হৃদয় তাকরিমকে এক নজর দেখার জন্য ছটপট করতে শুরু করেছে।তাই আজ নিজেই আগ বাড়িয়ে কফি নিয়ে হাজির হয়েছে তাকরিমের ঘরে,কিন্তু তাকরিমের ঘরে আসার পর যে, মানুষটার মুখে এমন ভয়ংকর কথা শুনবে সে বিষয়ে ভাবেই নি মেয়েটা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কাচের টুকরোতে আঙুল লেগে গেলো অনুর,অনু অস্ফুটে শব্দ করে উঠলো,
“আউচ,,,”
তাকরিম তাকালো সেদিকটায়,অনুর হাতের বৃদ্ধাঙুলের মাথায় এক ফোটা রক্ত বেড়িয়েছে,সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখলো সেই রক্তের ফোটা,তারপর খপ করে চেপে ধরলো অনুর হাত।অনু ঘাবড়ে উঠলো, উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
“একি, কি,,,,”
অনু তার কথাটুকু শেষ করে উঠতে পারলো না,তার আগেই তাকে কয়েক গুন অবাক করে তার বৃদ্ধাঙুল টা মুখে ঢুকিয়ে নিলো তাকরিম।
অনুর গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো, ধড়পড় করে উঠলো বুক,অজানা ভয়ে শুখিয়ে এলো কলিজা,আতংকিত কন্ঠে অস্পষ্ট বললো,
“কি করছেন?”
তাকরিম স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বজায় রেখে চুষে নিলো অনুর হাতের রক্ত,তারপর বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে মুছলো ঠোঁটের কিনার,সম্মোহিত কন্ঠে বললো,
“প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট করলাম।”
অনু বড় বড় শ্বাস টানলো,খড়খড়ে জ্বিভের আগা ভিজিয়ে নিয়ে বললো,
“আপনাকে কেমন অদ্ভুত লাগলো।”
তাকরিম হেসে ফেললো, তাকালো নিজের দিকে, ছোট্ট করে বললো,
“অদ্ভুত?কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে উন্মুক্ত শরীরে আমাকে এট্রাক্টিভ লাগছে।”
অনু লজ্জা পেলো,চিবুক নামালো দ্রুত,উশখুশে কন্ঠে বললো,
“আমি ওসব বলি নি।”
“কিন্তু আমি তো জানতাম মেয়েরা ওসবই বলে।”
অনু চোখ রাঙিয়ে তাকালো,দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“আমাকে অন্য মেয়েদের সাথে কেন গুলিয়ে ফেলেন বলুনতো?”
তাকরিম উঠে দাড়ালো,ভেজা তোয়ালে টা ছুড়ে ফেললো বিছানার উপর, তারপর হেয়ালি কন্ঠে বললো,
“তার মানে তুমি অস্বীকার করছো?”
অনু ভ্রু কুচকে তাকালো, জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু স্বীকার করার কথা ছিলো নাকি?”
তাকরিম এগিয়ে গেলো তার কেবিনেটের দিকে, তারপর একটা পাঞ্জাবি বেড় করতে করতে বললো,
“আমাকে পছন্দ করো তুমি, বিষয়টা কি সুন্দর অস্বীকার করছো।”
অনু থতমত খেলো,চোরা চোখে তাকালো তাকরিমের দিকে,থমথমে কন্ঠে বললো,
“তেমন কিছুই নয়।”
“তাহলে অদ্ভুত ব্যাপার টা কি?এই মূহুর্তে আমার উন্মুক্ত ফিগার ছাড়া তো তোমার কিছু চোখে পড়ার কথা না।”
অনু বিব্রত হলো, সাথে রাগ হলো প্রচুর,কর্কষ কন্ঠে প্রতিবাদ করলো তাকরিমের কথার,
“একদম আজেবাজে কথা বলবেন না বলে দিলাম, আমি অদ্ভুত বলেছি আপনার ব্যাবহার,যেভাবে আমার রক্ত খাচ্ছিলেন যেন মনে হচ্ছিলো কোন ভ্যাম্পায়ার আমার রক্ত চুষে খেয়ে ফেলছে।”
কথাটুকু অনর্গল বলে থামলো অনু,তারপর আবার বললো,
“সত্যিকারের ভ্যাম্পায়ার না হলেও কি?ভ্যাম্পায়ার থেকে কম কিছু না আপনি, ভ্যাম্পায়ার রক্ত খায় আর আপনি আমার মাথা চিবিয়ে খান,একই কথা।”
অনুর কথায় মুচকি হাসলো তাকরিম,ধিরে ধিরে এগিয়ে আসলো অনুর অনেকটা কাছে, তারপর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,
“তোমার রক্তের স্বাদ কিন্তু অন্যরকম মেয়ে,ডিফরেন্ট।”
___________
ডাইনিং এ খাবার খেতে বসেছে তাকরিম,কফির মগে প্রথম চুমুক বসিয়েছে প্রভা,তারপর তাকরিমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো ,
“নিন।”
তাকরিম হাতে নিলো মগ, তারপর চুমুক দিতে নিয়েও কিছু একটা ভেবে ফিরিয়ে আনলো মুখের সামনে থেকে।প্রভা কপাল কুচকালো,জিজ্ঞেস করলো কারণ,
“কি হলো?”
তাকরিম কফির মগ টা নামিয়ে রাখলো টেবিলের উপর,বললো,
“আজ কফি না,এক কাপ লাল চা বানিয়ে আন।”
“হটাৎ লাল চা খেতে ইচ্ছে করলো যে?”
“দেখতে রক্তের মতো লাগে।”
তাকরিমের ছোট্ট উত্তরে মুচকি হাসলো প্রভা,ঠোঁটে হাঁসি রেখেই বললো,
“এমপি মশাইয়ের আজকাল রক্তও খেতে ইচ্ছে করে নাকি?”
তাকরিম নিচের ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো স্মিথ,একটা সিদ্ধ ডিম মুখে দিতে দিতে বললো,
“ইচ্ছে তো সেই পঞ্চাশ বছর আগে থেকেই করে ফেলেছিস।”
প্রভা সন্দিহান চোখে তাকালো,অস্পষ্ট কন্ঠে শুধালো,
“মানে?”
তাকরিম উঠে দাড়ালো ডাইনিং টেবিল থেকে,তারপর টিস্যুতে মুখ মুছতে মুছতে বললো,
“আমি তোর কাছ থেকে কেন লাল চা চাইলাম তুই নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিস প্রভা।”
প্রভার মুখটা মিইয়ে গেলো,শুখনো ঢোক গিলে অবিশ্বাস্য চাহনিতে তাকালো তাকরিমের চোখের দিকে,তাকরিম নিজের ঠান্ডা হাতটা রাখলো প্রভার গালে,নরম কন্ঠে বললো,
“থ্যাংকস। বাট মিথ্যা বরদাস্ত করতে পারি না আমি।
__________
সন্ধ্যা আটটা।শহরের নাইট ক্লাব গুলো মেতে উঠেছে হৈ হুল্লোড় আর মজা মাস্তিতে।লাল, নীল, বেগুনি আলো ঘুরপাক খাচ্ছে ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত। সাউন্ড সিস্টেমের তালে তালে কাঁপছে মেঝে,বেজে চলেছে ডিপ হাউজ মিউজিক, বিটের প্রতিটি ঢেউ পৌঁছে যাচ্ছে শরীরের ভেতর পর্যন্ত।
বার কাউন্টারটায় সারি ধরে সাজানো কাঁচের বোতল, উজ্জ্বল রঙের ককটেল, চিলড বিয়ার, বারটেন্ডার সেসব পানিয় সার্ভ করতে ব্যস্ত।
সারাদিন ঘুরে ফিরে নিস্পাকে নিয়ে নাইট ক্লাবে এসেছে ত্রিজয়।চারদিকে আলোর ঝলকানি,হাই বিট মিউজিকের শব্দ।ত্রিজয় নিস্পার হাতটা চেপে ধরে সোজা চলে এলো ভেতরের দিকে।
নিস্পার সামান্য অস্বস্তি লাগছে, আলাদা পরিবেশে অস্থিরতা বাড়ছে তার,চোখে দেখতে না পাওয়ার দরুন উপস্থিত মানুষের সমাগোম অবলোকন করতে পারলো না।তবে বুঝতে পারলো অনেক মানুষ উপস্তিতি আছে যায়গা টায়।
পাশেই দাঁড়িয়ে লাল পানি খেতে মত্ত কিছু মেয়ে,পড়নে হাটু অব্দি ওয়েস্টার্ন,ঠোঁটে কড়কড়ে লাল লিপস্টিক, মুখে মেকাপের আস্তরণ তো আছেই।
প্রায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে ত্রিজয়কে ফলো করার পর তারা বুঝতে পেরেছে এতো সুন্দর সুদর্শন পুরুষ মানুষটার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা অন্ধ।ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই মেয়েগুলোর মধ্যে একজন কুটিল হাসলো, সুযোগ লুপে নেওয়ার জন্য এগিয়ে গেলো ত্রিজয়ের দিকে,
“হ্যালো জ্যান্টালম্যান,লেট’স ডান্স।”
ত্রিজয় একনজর তাকালো মেয়েটার দিকে,তারপর একটু শক্ত করে চেপে ধরলো নিস্পার হাত,ভরাট কন্ঠে উত্তর দিলো,
“নো থ্যাংকস, আই হেব আ পার্টনার।”
মেয়েটা ঘাড় কাত করে তাকালো নিস্পার দিকে,ঠোঁটে খেলে গেলো তাচ্ছিল্যের হাসি,ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“হেই বেবি,তুমি কি এই অন্ধ মেয়েটাকে পার্টনার বলছো?”
মেয়েটির সন্মোধনে রাগ হলো ত্রিজয়ের,চোয়াল শক্ত করে তাকালো মেয়েটার দিকে,চাপা রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“ও আমার ওয়াইফ।”
“ওহ আই সি,তোমার লাক টা কি খারাপ সুইটহার্ট,ডোন্ট ওয়ারি,তোমার লাক আর মুড দুটোই ঠিক করে দিতে রাজি আছি আমি।”
“ত্রিজয়ের রাগ এবার আকাশ ছুই,বেজায় রেগে গিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“কিরে মা?এতো চুলকানি কেন তোর?আমার বউয়ের কাছে ল্যাংটা বাবার মলম আছে,একবার লাগালে যৌবনের সব চুলকানি চলে যাবে।লাগাবি নাকি?
মেয়েটার মুখ চুপসে গেলো, লিপস্টিক রাঙা অধর নাড়িয়ে বললো,
“এই অন্ধ বউয়ের জন্য আমার মতো সুন্দরী কে রিজেক্ট করছো?এই সুযোগ কিন্তু দ্বিতীয়বার পাবে না মিস্টার।”
“এ্যা,আসছে আমার ময়দা সুন্দরী, একটা এডভাইস দেই শোন,চেহারার সাথে চোখ দুটোও ডিটারজেন্ট দিয়ে ক্লিন করে নিস,আমার বউকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী মনে হবে।”
নিস্পা ঠোঁট কামড়ে ধরলো,দু হাতে খামচে ধরলো ত্রিজয়ের হাত,মিনমিনে কন্ঠে বললো,
“এতো বেশি বেশি কেন বলছেন?এসব মেয়েদের সাথে কথা না বাড়ানোই ভালো।”
ত্রিজয় হাত ঝাড়া দিলো,তাকালো মেয়েটির দিকে,রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“এই লুইচ্চা মেয়ে, এদিকে তাকা। শোন,এখন থেকে দৈনিক এক কেজি করে গোবরজল খাবি,মাথার সাথে মনটাও পরিস্কার হয়ে যাবে।লুচ্চামি ধুয়ে সাপ হয়ে যাবে গোবরজলের সাথে।”
মেয়েটা অপমানে কটমট করে তাকালো,আশাপেশের গুটিকয়েক জনের দৃষ্টি তাদের উপর নিবদ্ধ,এতোগুলো মানুষের সামনে এভাবে অপমানিত হয়ে রাগে ফুসে উঠলো মেয়েটা,ধপাধপ পা ফেলে চলে গেল বারকাউন্টারের দিকে।
মেয়েটার প্রস্থান টের পেলো নিস্পা,আস্তে করে বললো,
“মেয়েদের সাথে ঝগড়া করার ট্রেনিং কোথায় পেয়েছেন?”
“সব বিবাহিত পুরুষের ঝগড়ার হাতেখড়ি হয় বউয়ের কাছ থেকেই।”
“আপনি বলতে চাইছেন আমি আপনাকে ঝগড়া শিখিয়েছি?”
“শুধু ঝগড়া না, জেলাসিও শিখিয়েছিস।”
“মানে?”
“মানে আবার কি?তোকে কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে পায়ের তালু থেকে পাচা সব জ্বলতে থাকে।”
“বাহ!,আমি তো শুনেছি জেলাসি ফিল হলে মানুষের মাথার তালু জ্বলে,আপনার দেখছি পশ্চাদ্দেশ জ্বলে।”
কথার পৃষ্ঠে ত্রিজয়কে উত্তর দিতে দিলো না নিস্পা,আগ বাড়িয়ে আবার বললো,
“আচ্ছা আপনার ওইখানে কি কারেন্ট বেশি?বাল্ব লাগালে আলো জ্বলবে?”
ত্রিজয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিলো,দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“বোকা নারী, শুধু বাল্বের আলো না,বংশের আলোও জ্বলে যাবে নিশ্চিন্তে।”
__________
নিস্পাকে পাশের একটা খোলা যায়গায় দাড় করিয়ে,পকেট থেকে ফোন বের করলো ত্রিজয়,ডায়াল করলো ইভানের নাম্বারে।
দু বার রিং হতেই ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ করলো ইভান,
“হ্যাঁ স্যার,বলুন।”
“আমি একটা ঠিকানা মেইল করছি, চলে এসো।”
“কেন স্যার?”
ত্রিজয় কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
“তোমার ম্যাম আমার সাথে আছে।”
ইভান ভ্রু উচালো,ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“কোন ম্যাম স্যার?কোন ম্যামের কথা বলছেন?”
ত্রিজয় দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো,নিস্পার নামটা মুখে আনতে কেমন অস্বস্তি লাগছে,জড়িয়ে আসছে শব্দ,চেপে আসছে কণ্ঠনালী।
ত্রিজয়ের নিরবতা পেয়ে ওপাশ থেকে তাড়া দেখালো ইভান,
“হ্যালো, হ্যালো স্যার।”
ত্রিজয় সুষ্ক ঢোক গিললো,জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
“মশকরা কেন করছো ইভান?ওই মেয়েটা, কি যেন নাম,নি,,”
ত্রিজয়ের হার্টবিট ক্রমশ লাফিয়ে উঠলো,ঘনঘন নিঃশ্বাস নিয়ে বললো,
“নিস্পার কথা বলছি আমি।”
ইভান প্রায় অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর ঠান্ডা কন্ঠে ডাকলো,
“স্যার।”
ত্রিজয় অস্ফুটে বললো,
“হু?”
“ঠিক আছেন?”
“ঠিক নেই ইভান?অদ্ভুত ভাবে কলিজাটা কাঁপছে।”
ইভান মুচকি হাসলো,কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
“কিছু ফিল করছেন স্যার?”
“কি ফিল করবো?”
“সামান্য নামটা আপনার কলিজায় কম্পন তুলে দিলো যে।”
তাতে কি?”
“এখনো বুঝতে পারছেন না?”
“কি বোঝার কথা বলতে চাইছো তুমি?”
“আপনি নিস্পা ম্যামের প্রেমে পড়েছেন স্যার।”
“অসম্ভব।”
“স্বীকার করুন স্যার,আপনার হৃদয় স্পন্দিত হয় নিস্পা ম্যামের নামে।আপনি নিজের অজান্তেই আপনার হৃদয়ের মালিকানা সমর্পন করে দিয়েছেন স্যার।”
ত্রিজয় নিঃশ্বাস আটকে থম মেরে দাঁড়িয়ে রইলো, অথচ তার হৃদপিন্ড দাপাচ্ছে,কোন গলা কাটা মুরগী বা চাতক পাখির ন্যায়,যেন চিৎকার করে উচ্চারণ করছে কেবল একটি নাম,
“নিস্পা,নিস্পা,নিস্পা।”
ত্রিজয় বা হাতটা এগিয়ে নিয়ে রাখলো নিজের বুকের উপর,ডান হাতে শক্ত করে চেপে ধরলো মোবাইল,অস্ফুটে বললো,
“তুমি সত্যি বলছো তো ইভান?”
“আমি হান্ডেট পারর্সেন্ট৷ শিউর স্যার।”
ত্রিজয় ঘাড় ফেরালো,নেশাতুর নয়নে তাকালো গুটিশুটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকা নিস্পার দিকে, তারপর বলল,
“আচ্ছা রাখছি।”
ইভান তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলল,
“স্যার,স্যার।”
“হ্যাঁ বলো।”
“প্রোপজ করে ফেলুন নিস্পা ম্যামকে,জানিয়ে দিন মনের কথা।”
“তুমি আগে এসো, তারপর দেখা যাবে।”
“আগে বলুন কোন ফুল নিয়ে আসবো?”
ত্রিজয় আবারও দম বন্ধ করে চুপ হয়ে গেলো, তারপর শান্ত ভরাট কন্ঠে বললো,
“একটা গোলাপ নিয়ে এসো।”
ফোন কেটে দিয়ে নিস্পার কাছে এগিয়ে গেলো ত্রিজয়,ত্রিজয়ের উপস্থিতি টের পেতেই ত্রিজয়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো নিস্পা,বললো,
“কে ফোন করেছিলো?”
ত্রিজয় ছোট করে জবাব দিলো,
“ইভান।”
“কি বললো?”
“তোর না জানলেও চলবে।”
ত্রিজয় কথা বলছে নিস্পার সাথে, অথচ তার সমস্ত মনযোগ তখনকার সেই মেয়েটার দিকে।নিস্পা আরো কিছু জিজ্ঞেস করতেই যাবে, তার আগেই থামিয়ে দিলো ত্রিজয়।গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“দাড়া এখানে আসছি আমি দু মিনিট লাগবে।”
নিস্পাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ত্রিজয় দ্রুত প্রস্থান করলো সেখান থেকে।
____________
মেয়েটা ওয়াশরুমের দিকে গিয়েছে, ত্রিজয় সিগারেট ধরিয়েছে পরপরই, সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে।
মেয়েটা সবে মাত্র বেড়োলো,বেড়িয়েই দেখতে পেলো ধোয়ায় আবৃত ত্রিজয়ের চওড়া পিঠ। ত্রিজয়কে এই সময় এখানে দেখতে পেয়েই মেকি হাসলো মেয়েটা, অর্ধ নগ্ন পা হেলিয়ে দুলিয়ে এগিয়ে গেলো ত্রিজয়ের দিকে,
“হেই বেবি,আমি জানতাম তুমি আমাকে এভোয়েড করে থাকতেই পারবে না।”
ত্রিজয় কিছু বললো না, রিক্তশুন্য নীল চোখে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে,মেয়েটা আবার বললো,
“শেষ মেস আসতেই হলো আমার কাছে,কিন্তু এখন যে আর আমার সময় নেই,ওই অন্ধ মেয়েটার হয়ে তখন,,,,,”
বাকিটুকু বলার ফুসরত পেলো না মেয়েটা, তার আগেই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে জ্বলন্ত সিগারেট টা চেপে ধরলো মেয়েটের ঠোঁটের উপর, তারপর হিসহিসিয়ে বললো,
“হুশশ,একদম অন্ধ বলবি না ওকে,ও দেখতে পায়, আমার চোখ দিয়ে ও পুরো পৃথিবী দেখার ক্ষমতা রাখে।”
ত্রিজয়ের হটাৎ আক্রমনে ধরাশায়ী হয়ে গেলো মেয়েটা, আতংকে কেপে উঠলো বুক,চোখের পল্লব নাড়ানোটাও ভুলে গেছে মনে হয়।
ত্রিজয় হিসহিসিয়ে আবার বললো,
“তোকে হিপনোটাইজ করে এর চেয়ে বাজে কিছু করতে পারতাম,বাট করি নি কেন জানিস?তোকে সজ্ঞানে যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য। শালি স্লাট,আর কখনো আমার সামনে পড়বি না।”
***
মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে নিস্পাকে নিয়ে ক্লাব থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে ত্রিজয়,ততক্ষণে ক্লাবে শুরু হয়ে গিয়েছে চিৎকার চেচামেচি,মেয়েটার চিৎকারে নষ্ট হয়েছে পুরো আনন্দঘন পরিবেশ।
নিস্পাও শুনেছে মেয়েটার চিৎকার, তবে কিছু জিজ্ঞেসা করে উঠতে পারেনি।ক্লাব থেকে বেড়িয়েই মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস নিলো আগে, তারপর জিজ্ঞাসা করলো,
“তাড়াহুড়ো করে চলে এলেন যে?কীসের গন্ডগোল হলো ভেতরে?মেয়েটা চিৎকার করছিলো কেন?”
নিস্পার প্রশ্নে অপকট জবাব দিলো ত্রিজয়,
“মেয়েটার মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে এসেছি।”
নিস্পা আঁতকে উঠল, বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“কিহ!কিন্তু কেন?”
“মেয়েটা তোকে অন্ধ বলে মজা করছিলো।”
“তো? আপনি তো কানা বলেন তার বেলায়?”
“তাতে কি?তোকে কানা বলার হক আছে আমার।”
___________
ইভাব এসেছে, সাথে করে নিয়ে এসেছে একটা গোলাপ।নিস্পার সাথে কুশল বিনিময় করে তিনজন হাঁটছে শুনশান পাকা রাস্তা ধরে।
ইভান কিছুক্ষন পর পর খুচিয়ে যাচ্ছে ত্রিজয়কে, কথাটা বলানোর জন্য জাহাপরান চেষ্টা তার।
ত্রিজয় নিজেকে প্রস্তুত করেছে কোনরকম,
“এই মেয়ে শুনো।”নিস্পাকে ডাকলো ত্রিজয়,
নিস্পা হাঁটতে হাঁটতে অস্ফুটে বললো,
“হু শুনছি।”
ত্রিজয় শুখনো ঢোক গিললো,বাঁকা চোখে তাকালো ইভানের দিকে,ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো কিছু একটা। ইভান হাত নাড়িয়ে বোঝালো উত্তর,
“দাঁড়াতে বলুন।”
ত্রিজয় আবারও ঢোক গিললো, নিজের হাতের মুঠোয় ধরে রাখা নিস্পার হাতটা আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে দাঁড়িয়েই গেলো মাঝরাস্তায়,নিস্পা থমকাল,স্বাভাবিক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হলো দাঁড়িয়ে গেলেন যে?”
ইভান ঘনঘন হাত নাড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“বলুন স্যার, বলুন।”
ত্রিজয় ঢোক গিলতে গিলতে জ্বিভের আগা শুখিয়ে ফেলেছে ,নিজেকে কোনরকম সামলে নিয়ে বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানলো, গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“একটা কথা বলবো বললাম না?না দাঁড়ালে কি করে বলবো।”
নিস্পা অস্থির কন্ঠে বললো,
“আচ্ছা,কি বলবেন বলুন তাড়াতাড়ি।”
ত্রিজয় তার হাতের গোলাপটি নিস্পার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসলো। বুকের ভেতর ধুকপুক ধ্বনি ক্রমশ জোরাল হয়ে উঠছে তার, হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে লুকোচুরি করছে এক অনির্বচনীয় অস্থিরতা। কপাল বেয়ে নেমে এলো ঘামের উষ্ণ উদ্বেল। তার নীল নেত্রজোড়া স্থির হয়ে আছে নিস্পার স্নিগ্ধ মুখপানে।
নিস্পা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে, মুখজুড়ে উশখুশে ভাব।
যদি দৃষ্টিশক্তি থাকতো, হয়তো দেখতে পেত ত্রিজয়ের বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ জ্বলোচ্ছ্বাস। পড়ে নিতে পারতো তার নীল চোখের অন্তঃস্থ গোপন, অনাহূত অনুভূতির অস্ফুট ভাষা।
ইভান কটমট করে তাকিয়ে আছে ত্রিজয়ের দিকে, ত্রিজয়ের চুপ করে থাকা একদমই সহ্য হচ্ছে না তার,ত্রিজয়ের ধ্যান ভাঙানোর জন্য হাতে থাকা পানির বোতল টা ছুড়ে মারলো ত্রিজয়ের মাথায়,হিসহিসিয়ে বললো,
“শালা বোন মনে করেই না হয় বল।”
ত্রিজয় রেগে তাকালো ইভানের দিকে, দাঁতে দাঁত চেপে চাপা কন্ঠে বললো,
“তোমাকে আমি পরে দেখে নিবো ইভান।”
ইভান চুপসে ফেললো মুখ,চেহারায় অসহায় ভাব নিয়ে, দু হাত জোর করে বোঝালো,
“বলে দিন না স্যার।”
ত্রিজয় ফোস করে নিঃশ্বাস নিলো,চওড়া বুক শক্ত করে চোখ দিয়ে আস্বস্ত করলো ইভানকে,অফুরন্ত অনুভুতি নিয়ে তাকালো নিস্পার দিকে,নিস্পার উশখুশে ভাবটা আরেকটু বেড়েছে,সে অধৈর্য কন্ঠে বললো,
“সাড়া রাত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার প্ল্যান করেছেন নাকি?কি বলবেন বলুন,নয়তো চলুন।”
ত্রিজয় আমতা আমতা করলো,জড়ানো কন্ঠে বললো,
“ইয়ে মানে আমি,,
” হ্যাঁ বলুন,আপনি কি?”
ইভানের চোখে মুখে উত্তেজনা,সে দাঁত কামড়াচ্ছে ,নখ খুটছে ঘনঘন।
ত্রিজয় খড়খড়ে কন্ঠে বললো,
“আমি,আমি,, ”
ইভান দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
“শালা পরের টুকু বল।”
ত্রিজয় ক্রোধিত দৃষ্টিতে তাকালো ইভানের দিকে,রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“সুযোগের সৎ ব্যাবহার করার চেষ্টা করো না ইভান।এবার আর সেলেরি নয়, ডিরেক্ট চাকরি নট করে দিবো।”
ইভান আর ত্রিজয়ের ফিসফিসানির শব্দ শুনতে পেলো নিস্পা,তবে বুঝতে পারলো না তেমন কিছু ,তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,
“কি হলো কি ফুসুরফুসুর করছেন দুজনে মিলে?কি বলার জন্য দাড় করিয়ে রাখলেন সেটাই তো বললেন না।”
ত্রিজয় ভ্যাবাচেকা খেলো, দ্রুত কন্ঠে বললো,
“দাড় করিয়েছি কারণ, আমি,, আমি,,,,,, ”
নিস্পার গরম কন্ঠে বললো,
“আমি আমি করছেন কেন তখন থেকে?তারপর কি সেটা তো বলুন?”
ত্রিজয় ধড়ফড়িয়ে উঠলো,তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,
“আমি ডক্টরের সাথে কথা বলেছি।”
“হ্যাঁ, কি বলেছে ডক্টর?”
“কাল বিকেলের মধ্যেই তোর চোখের অপারেশন করা হবে।”
“এইটুকু কথা বলার জন্য এতোক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখলেন?”
“নাহ!আরেকটা কথা ছিলো।”
“হ্যাঁ বলুন না,সেই আরেকটা কথা কি?”
ত্রিজয় তাকালো ইভানের দিকে, ইভান চোয়াল শক্ত করে তার দিকেই তাকিয়ে,চোখের ইশারায় বলছে,
“আল্লাহর ওয়াস্তে বলে দিন স্যার।”
ত্রিজয় হাত বাড়িয়ে গোলাপটা তুলে দিলো নিস্পার হাতে,নিস্পা অনুভব করলো গোলাপের নরম পাপড়ি গুলোর ছোয়া,এক অন্যরকম ভালো লাগায় ছুয়ে গেলো ভেতরটা,সে রিনরিনিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“কি বলবেন? বলুন না?”
ত্রিজয় জ্বীভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
“আমি,,,,,”
ইভান হাত মুঠো করে শক্ত হয়ে তাকালো খোলা আকাশের পানে, বিরবির করে বললো,
“গড, এবার যেন বলতে পারে প্লিজ গড,প্লিজ প্লিজ।”
নিস্পা অধৈর্য, মোলায়েম কন্ঠে বললো,
“আপনি? ”
“আমি, আমি থুতু খাবো?”
সঙ্গে সঙ্গে চোখ মুখ বিকৃত করে ফেললো নিস্পা,উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলো,
“কিহ?”
ত্রিজয় নিজের উপর চটে গেলো এবার,নিজের মাথায় নিজেই মৃদু থাপ্পড় দিয়ে আবার বললো,
“না মানে তুমি থুতু খাবে?”
ইভান চরম পর্যায়ে চটে গেলো ,তিক্ত বিরক্ত হয়ে পাশে পড়ে থাকা বোতল টা তুলে নিলো ফের,প্রচন্ড ক্ষোভে ত্রিজয়ের দিকে ছুড়ে মেরে বললো,
“কচু কাছে ফাসি দে শালা,একটা মেয়েকে ভালোবাসি বলতে পারলি না অথচ থুতু খাওয়ানোর অফার দিয়ে দিলি।”
ইভানের চাপা স্বরের কথাটি স্পষ্ট কানে পৌঁছালো নিস্পার। মুহূর্তেই মনে হলো বুকের ভেতর কেউ হাতুড়ি চালিয়ে দিয়েছে ঠকঠক করে, ইভানের বলা প্রতিটি শব্দে হৃদয়ের ছন্দ বিগড়ে যেতে লাগল নিস্পার।
অজানা এক ভালো লাগার উত্তাপে জ্বলে উঠল তার মন,না বলা অনুভবের গোপন আগুনে দগ্ধ হলো হৃদয়ের গহীন প্রান্ত।
এক অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল সমস্ত শরীরে,রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাজতে লাগল অচেনা সুর। নিঃশ্বাস হয়ে উঠল অসংলগ্ন,খামচে ধরলো গলায় ঝুলে থাকা ওড়নার একপ্রান্ত।মনে মনে বলল,
“তারমানে আপনি আমায় ভালোবাসেন?অবশেষে এই অন্ধ অসহায় মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেললেন তাহলে ত্রিজয়।বলুন না প্লিজ, মুখ ফুটে একবার বলুন আমাকে ভালোবাসেন আপনি।”
ত্রিজয় বলল না,তার অনুভুতি প্রকাশ করতে সে ব্যার্থ।গলবিলে আটকে গেছে শব্দরা,নিস্পার ঠোঁটের দিকে তাকালেই গোলমেলে হয়ে যায় সাজানো সংলাপ,মনের পর্দা জর্জরিত হয় বিশৃঙ্খল নীরবতার আবরণে।
নিস্পার ব্যাকুল মন অপেক্ষায়,ত্রিজয়ের মুখ থেকে ভালোবাসি শোনার তৃষ্ণায় কাতর,হৃদয়জুড়ে নীরব আকুতি, প্রতিটি নিঃশ্বাসে ভেসে আসে একটিমাত্র শব্দের প্রতীক্ষা।
অথচ ত্রিজয়ের গুমোট নিরবতা ছাড়া কিছুই শুনতে পায় না সে,অধৈর্য মন একটু বেহায়া হয়,অস্ফুটে ডাকে ইভানকে,
“ভাইয়া,উনি কি বলবে বলতে বলুন তাড়াতাড়ি।”
ইভান ঠোঁট কামড়ে ধরে,নিস্পার কথার উত্তরে বলতে চায় কিছু একটা, কিন্তু ত্রিজয় সুযোগ দিলো না,তার বলার আগেই ত্রিজয় গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
“নাথিং কিছু বলবো না।”
নিস্পার ব্যাকুল মুখটা দপ করেই নিভে গেলো, মিইয়ে এলো কন্ঠ,
“কিন্তু আপনি না কি যেন বলবেন বললেন?”
ত্রিজয় দুই ঠোঁট টিপে নিচের দিকে তাকালো,বৃদ্ধাঙুল দিয়ে কপাল কুচকালো, তারপর চট করেই চেপে ধরলো নিস্পার হাত,মোহিত কন্ঠে বললো,
“তোমাকে বলার মতো কোন শব্দ নেই,পৃথিবীর সমস্ত শব্দ ফিকে হয়ে যায় তোমার নাম শুনলেই।”
নিস্পার হৃদস্পন্দন বাড়লো,ছোট্ট করে জিজ্ঞেস করলো,
“কিন্তু কেন?”
ত্রিজয় এগিয়ে নিয়ে আসে নিজের ঠোঁট, তারপর নিস্পার কানের কাছে থেমে ফিসফিসিয়ে বলে,
“বিকজ তেরে নামছে মেরা দিল ধারাকতাহে।”
কথাটা বলেই দুই ঠোঁট গোল করলো ত্রিজয়,বাজাতে শুরু করলো এক অদ্ভুত সম্মোহনী সুর।নিস্পা স্তব্দ,রোবটের মতো পায়ে পা মিলিয়ে এগোলো ত্রিজয়ের সাথে,ত্রিজয়ের বাজানো সুরের সাথে কানের কাছে ঘুরপাক খেলো একটি গান,
“Phir agar mujhe
Tu kabhi na mile
Humsafar mera tu
Bane na bane
Faslon se mera
Pyar hoga na kam
Tu na hoga
Kabhi ab juda
Maine tera naam
Dil rakh diya
Maine tera naam
Dil rakh diya
চলবে,,,,,,,

