হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:54

0
31

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:54

“আমি ফ্লোরেন্সা,অভিশপ্ত জীবনে মৃত্যু না চেয়ে আপনাকে চেয়েছি,অথচ আপনি মজে আছেন অন্যকারো প্রেমে।আপনার এই অবিচার আমায় খুব কষ্ট দিচ্ছে আইরিশ ভাই।”

চিরকূটের অর্ধেক অংশ পুড়ে গিয়েছে প্রায়।আগুনের ফুলকির সাথে ছাই হয়ে যাচ্ছে কালো কালিতে লেখা জ্বলজ্বলে অক্ষর গুলো।যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই,বানোয়াট এক গোলকধাঁধা ছাড়া আর কিচ্ছু নয়।
আগুনের নাচনশিখা কাগজের উপর ছন্দহীন সঙ্গীত তুলছে,যার প্রতিটি সেকেন্ড গ্রাস করে নিচ্ছে মিথ্যায় বোনা শব্দগুলো কে।কাগজের প্রতিটি দহনশিখা ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে শূন্যে। তাকরিমের স্বচ্ছ চোখের গভীরতায় প্রতিফলিত হচ্ছে সেই আগুনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। নিরাবেগ, নিস্পন্দ দেহভঙ্গিতে সে তাকিয়ে আছে জ্বলতে থাকা চিরকূটটার দিকে গুমোট কন্ঠে বিরবির করে বলছে,

“ফ্লোরেন্সাই নিস্পা,নিস্পাই ফ্লোরেন্সা।এই সত্য ব্যাতিত দ্বিতীয় কোন সত্য গ্রহনযোগ্য নয়।”

যান্ত্রিক মোবাইল ফোনের উচ্চশব্দের রিংটোনে ধ্যান ছুটলো তাকরিমের,টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে কানে লাগাতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো একজন স্পাই এর কন্ঠস্বর,

“স্যার এডভোকেট ত্রিজয় আর তার ওয়াইফ মাত্রই বের হলো, বরিশাল রোডে ঢুকেছে,আমি তাদের পেছনে আছি।”

খবর টা কানে পৌছানো মাত্রই কপালে ভাজ পড়লো তাকরিমের,ত্রিজয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে সেটা নিয়ে চিন্তায় মশগুল হলো কিয়ৎক্ষন।চতুর মস্তিষ্ক কিছু একটা বুঝতে পেরেই হকচকিয়ে উঠে দাড়ালো,ব্যাস্ত হাতে কেবিনেট থেকে একটা পাঞ্জাবী বের করে গায়ে জড়ালো তারাহুরোয়।অতঃপর খুব দ্রুত লম্বা পা ফেলে বের হলো ঘর থেকে।

সিড়ির কাছে পৌছাতে না পৌছাতে মোবাইল ফোন টা আবারও বেজে উঠলো সশব্দে,তাকরিম কানে লাগানো ব্লুটুথ অন করতেই ভেসে এলো একটি ভীত কন্ঠস্বর,

“স্যার একটা গন্ডগোল হয়ে গিয়েছে,সকালে যেই ডোনারকে পাঠিয়েছিলেন সে হসপিটাল থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে, মনে হচ্ছে পালিয়েছে।”

এমন একটা মূহুর্তে এই খবরটা বিস্ফোরিত করল তাকরিমের মস্তিষ্ক।রাগে ক্ষোভে হিসহিসিয়ে বললো,

“পালিয়েছে মানে?এতো কড়া সিকিউরিটির মধ্য থেকে পালিয়েছে কিভাবে? তোমরা কি বসে বসে ঘাস খাচ্ছিলে?”

রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে তাকরিমের,কাল রাতে প্ল্যানিং করে অনুর খাবারে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিলো।এবং সেই ঘুমের মধ্যেই আজ সকালের দিকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে,তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্গান গুলো খুলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে।এতোক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিলো,প্ল্যান মতোই তাকে ঢোকানো হয়েছিলো অপারেশন থিয়েটারে,কিন্তু ওখান থেকে মেয়েটা বেড়োলো কি করে?কারো সাহায্য ছাড়া তো ওটি থেকে পালানো সম্ভব নয়।

কথাটা মাথায় আসতেই টনক নড়ে তাকরিমের,তৎপর কন্ঠে বলে,

“সি সি টিভি ফুটেজ আমাকে সেন্ড করো, ইমিডিয়েট।”

____________

সকাল এগারোটা বাজতে চলেছে,ত্রিজয় এখনও টাকা পাঠায় নি।রেস্টুরেন্টের কাজ করতে করতে ইভানের বেহাল দশা।আর এক ঘন্টা কাজ করলেই বেড়োতে পারবে এখান থেকে।সকাল থেকে যতগুলো থালাবাসন জমা হয়েছে সবগুলো ধুয়ে ঝকঝকে করছে ইভান,দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে গালাগাল দিচ্ছে ত্রিজয়কে।

একই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে এসেছে চিত্রা।খাওয়ার সময় ভুল করে হাত লেগে একটা ড্রিংকস এর গ্লাস পড়ে ড্রেস নষ্ট হয়ে যেতেই তড়িঘড়ি পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে।প্রায় মিনিট বিশেক সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়োতেই নজর আটকালো রেস্টুরেন্টের কিচেনের দিকে।চওড়া পিঠ আর সিলকি চুলগুলো খুব চেনা চেনা লাগলো,কৌতুহল মেটাতে খাবারের টেবিলে ফিরে না গিয়ে ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো কিচেনের দিকে।

যা সন্দেহ করেছিলো ঠিক তাই কিচেনে গিয়ে ইভানকে দেখে রীতিমতো চোখ ছানাবড়া হলো চিত্রার।সবচেয়ে বেশি অবাক হলো ইভানের হাতে থালাবাসন দেখে।এডভোকেট ত্রিজয় তেজের পারসোনাল সেক্রেটারি থালাবাসন ধুচ্ছে,চাকরি চলে গেল?নাকি টাকার দরকার পরলো এটাই বুঝতে পারলো না চিত্রা।বোকা বোকা কন্ঠে বললো,

“এই আপনি?আপনি এডভোকেট ত্রিজয়ের পিএ না?”

অসময়ে এমন অবস্থায় চিত্রাকে দেখেই হুশ উড়ে গেলো ইভানের।এতোক্ষণ ত্রিজয়কে গালগাল করা ছেলেটা ভাগ্যকেও গালাগাল দিলো আচ্ছামত।চিত্রার সামনে মান ইজ্জত জলাঞ্জলি যাওয়ার ভয়ে অভিব্যক্তি শক্ত করে,গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“পরিচয় জেনেও জিজ্ঞেস করা কোন ধরনের ভদ্রতা?”

চিত্রা ভ্যাবলার মতো তাকিয়েই আছে ইভানের দিকে,ইভান কি বললো না বললো আপাতত সেখানে ধ্যান নেই, সে ধিরে ধিরে এগিয়ে এসে কুজো হয়ে বসলো ইভানের সামনে,কন্ঠে কৌতুহল নিয়ে শুধালো,

“আপনার কি জব চলে গিয়েছে?”

ইভান ভেতরে ভেতরে ফুসে উঠলো,চাপা স্বরে বললো,

“এসব আজাইরা কথা জিজ্ঞেস করার মতো জায়গা বা সময় এটা নয়।”

নিজের কৌতুহল আর দমিয়ে রাখতে পারলো না চিত্রা,বিহ্বলিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“কিন্তু আপনি এখানে থালাবাসন কেন ধুচ্ছেন?”

ইভান তপ্ত শ্বাস ফেললো, ঘুরে তাকালো চিত্রার দিকে,তারপর এক নিঃশ্বাসে বললো,

“আমার অনেক দিনের ড্রিম ছিলো এভাবে থালাবাসন ধোব,তাই ধুচ্ছি।”

ইভানের কথায় নাক কুচকালো চিত্রা,তাজ্জব ভঙিতে বললো,

“লাইক সিরিয়াসলি? থালাবাসন ধোয়াও কারো ড্রিম হতে পারে?”

ইভান দাঁতে দাঁত পিষে উত্তর দিলো,

“হতে পারে,সব হতে পারে।তুমি এখন এখান থেকে যাও।”

চিত্রার মন মানলো না।এমন আজগুবি ইচ্ছে কোন মানুষের হয় বলে জীবনেও শুনে নি সে,নিশ্চয়ই ইভান তার কাছ থেকে কিছু লুকোচ্ছে,এইভেবে আগ বাড়িয়ে আবার বললো,

“দেখুন আপনি যদি বিপদে পড়ে থাকেন তাহলে বলতে পারেন।আমি হেল্প করবো।চাইলে একটা ভালো জবেরও ব্যাবস্থা করে,,,,,,,”

ধৈর্যের বাধ ভাঙলো ইভানের,এমনিতেই কাজ করতে করতে জান শেষ, আর এখন এই মেয়ের প্যানপ্যানানি বিরক্তির শেষ সীমায় পৌছে দিয়েছে তাকে।সে সহ্য করতে না পেরে দুই হাত জড়ো করে মাথা নুইয়ে চাপা ক্রোধিত কন্ঠে বললো,

“আরে আমার মা যেচে পড়ে সাহায্য করতে হবে না।আমি বলেছিনা এটা আমার ড্রিম।”

দ্বিতীয় দফায় থতমত খেলো চিত্রা।বুকে থুতু ছুটিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,

“এমন অদ্ভুত ড্রিম।আচ্ছা, আপনি তাহলে আপনার ড্রিম পুরন করুন।আমি যাচ্ছি।”

নিরাশ হয়ে পিছু হাটলো চিত্রা।চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পেছনে ডাকলো ইভান,

“এই শোন।”

চিত্রা দাঁড়িয়ে গেলো,মনে মনে প্রসন্ন হলো খুব,ইভানের চোখের দিকে তাকিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বললো,

“হু বলুন?”

ইভান থালাবাসন ফেলে রেখে উঠে এসে দাড়ালো,ঠোঁট কামড়ে মাথা চুলকে আইঢাই করে বললো,

“সত্যি হেল্প করতে পারবে?”

“আপনার হেল্প লাগবে?”

“কিছু টাকা ধার পেলে উপকার হতো।”

ইভানের মিথ্যাচার ধরে ফেলার আনন্দ ফুটে উঠলো চিত্রার চোখে মুখে ,উৎকন্ঠিত স্বরে বললো,

“তার মানে আপনার চাকরিটা সত্যিই চলে গেছে তাই না?আহারে,,,,আপনি চাইলে,,,

ইভান কটমট করে তাকালো, চিত্রাকে সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

” এক লাইন বেশি বুঝস কেন মা?যেটা বলেছি সেটা করতে পারলে বল।”

মুখটা চুপসে নিলো চিত্রা,লঘু কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

“আচ্ছা কত লাগবে বলুন।”

“আপাতত বরিশাল যাওয়ার ভাড়াটা হলেই এনাফ।”

“আপনি বরিশাল যাবেন নাকি?”

“আমি বরিশাল যাবো নাকি ভেড়ারপাল যাবো সেটা জেনে তুমি কি করবে?”

“না মানে আমিও বরিশালেই যাচ্ছিলাম।স্যার একটা জরুরি কাজে ডেকে পাঠিয়েছেন।”

ইভানের কপালে ভাজ পড়লো,চিত্রার দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো,

“স্যার? এমপি মশাইয়ের কথা বলছো?”

চিত্রা উপর নিচ মাথা ঝাকিয়ে অস্ফুটে বললো,
“হ্যাঁ।”

সঙ্গে সঙ্গে ইভানের অভিব্যক্তি পাল্টালো,সাথে পাল্টালো তার কথা বলার টোন,কন্ঠে এক নিমিষে গম্ভীরতা টেনে বললো,

“উনি বরিশালে কেন?”

“সেটা আমি কীভাবে জানবো।”

ইভান আর এক মূহুর্তে দেরি করলো না,চিত্রার হাতটা চেপে ধরে বললো,

“আচ্ছা চলো কুইক।”

আচমকা ইভানের হাতের হেচকা টানে পা টলে যেতে যেতেও চিত্রা সামলে নিলো নিজেকে,ইভানের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে যেতে অস্পষ্ট আওড়াল,

“আরেহ!”

ইভানের অভিব্যক্তি ইস্পাতের ন্যায় কঠিন।চোয়াল শক্ত,চোখ মুখের ধরন দৃঢ়।সে চিত্রাকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়োতে বেড়োতে তরল কন্ঠে বললো,

“চুপ, চলো দ্রুত।”

____________________

দুপুর বারোটা নাগাদ।টানা দশ ঘন্টা পর চোখ খুলেছে অনু।গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকার দরুন এই দশ ঘন্টায় ঠিক কি কি হয়েছে সে বিষয়ে অবগত নয় সে।রাত বারোটায় খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো নিজের ঘরে, অথচ চোখ খোলার পর নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ঘরে আবিষ্কার করেই চমকে উঠলো, ঘুম ঘোর কেটে গেলো বিস্ময়ে,চোখ খুলে বিস্মিত দৃষ্টিতে অবলোকন করলো পুরো ঘর,অবাক হয়ে আওড়াল,

“আমি? আমি কোথায়?”

দৃষ্টি ঘোরাতেই থমকালো অনু,প্রশ্নবিদ্ধ নয়ন আটকে গেলো কালো স্যুটের আস্তরণে ঢাকা একজন লম্বা চওড়া পুরুষের দিকে,মূহুর্তেই কপাল বেঁকে এলো তার,কৌতুহলি কন্ঠে জিজ্ঞেস করল ,

“আপনি কে?আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছেন।”

লম্বা গড়নের লোকটা এগিয়ে এলো,অনুর সামনে এসে দাড়ালো সটান হয়ে,গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“কিয়ান।আ’ম ডক্টর কিয়ান চৌধুরী।”

কিয়ানের দিকে তাকিয়ে দুই ভ্রু গুটিয়ে নিলো অনু,মাথায় একটু চাপ দিতেই মনে পড়ে গেলো সেদিনের কথা,উৎকন্ঠা মিশ্রিত স্বরে বললো,

“আপনাকে চেনা লাগছে আমার,আপনি সে নয় তো যে নিস্পাকে কিডন্যাপ করেছিলেন?”

কথাটা বলতে গিয়েও থামলো অনু,কিছু একটা মনে করার ভঙিমায় সন্দিহান কন্ঠে বললো,

“আপনি আমাকে কিডন্যাপ করেননি তো?”

ডক্টর কিয়ানের প্রতিক্রিয়া শক্ত,সে ভরাট কন্ঠে প্রত্যুত্তর করলো,

“ইয়েস, আমি সে যে নিস্পাকে কিডন্যাপ করেছি,বাট আমি সে নই যে তোমাকে কিডন্যাপ করেছে।বরং আই সেভ ইউর লাইফ।”

অনু ঠোঁট উল্টোলো, ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,

“কিডন্যাপার বলছে কিডন্যাপ করে নি,বাহ!তো আমি কি এখানে উড়ে উড়ে চলে এসেছি?”

কিয়ান দু হাত আড়াআড়ি করে রাখলো বুকের উপর,গুরুগম্ভীর কন্ঠে বললো,

“নো,আমার কোলে চড়ে এসেছ।”

অনুর মেজাজ খারাপ হলো,চটাং করে উঠে দাড়ালো বিছানা থেকে,রুষ্ঠ কন্ঠে বললো,

“আপনার মনে হচ্ছে আমি আপনার সাথে মশকরা করছি?”

ডক্টর কিয়ান এবারেও অভিব্যক্তি বিহীন, ভাবলেশহীন উত্তর দিলো,

“আমি কিয়ান চৌধুরী রুপাঞ্জেল ব্যাতিত অন্যকারো ব্যাপারে কখনোই মন দিয়ে ভাবি না।”

অনু ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো কিয়ানের মুখের দিকে,খেপাটে স্বরে বললো,

“আপনি আমাকে কেন কিডন্যাপ করেছেন বলুনতো?মন্ত্রী মশাইয়ের বাড়ি থেকে একটা মেয়েকে তুলে আনতে বুক কাপলো না আপনার?”

এতোক্ষণে প্রতিক্রিয়া দেখালো কিয়ান,অনুর প্রশ্নে চেহারায় ফুটে উঠলো রুক্ষতা, ধমক দিয়ে বললো,

“আর ইউ মেড?তুমি আমার বউ লাগো নাকি শালি লাগো যে সোজা এমপির বাড়িতে গিয়ে লাইফ রিক্স নিয়ে তোমাকে তুলে আনতে যাবো?”

অপমানে মুখটা চুপসে ফেললো অনু,ঠোঁট টিপে অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,

“তাহলে? ”

“তোমাকে হসপিটাল থেকে বাচিঁয়ে এনেছি আমি।আমি তোমাকে নিয়ে না এলে এতোক্ষণে তোমার শরীর কাটাকাটি শুরু হয়ে যেত।”

তরাগ করে চোখ তুলে তাকালো অনু,কিয়ানের কথার বিরোধিতা করে বললো,

“কিসব আজেবাজে কথা বলছেন আপনি? ”

কিয়ান থামলো তারপর সোজাসুজি অনুর চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কন্ঠে বললো,

“কিয়ান চৌধুরী বাজে কথা কম বলে।”

“কিন্তু আমি কাল রাতে খেয়ে দেয়ে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম।”

“এতো বোকা কেন তুমি হ্যা?”

“আমি মোটেও বোকা নই,বোকা হলে এতোক্ষণে আপনার মিথ্যা কথাগুলো গিলে বসে থাকতাম।”

“বোকা বলেই বিশ্বাস করছো না।”

“আমি বোকা নাকি চালাক সেটার সার্টিফিকেট দিতে বসি নি এখানে।আমাকে দয়া করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসুন।”

“কোন বাড়ি?তোমার নিজের কোন বাড়ি আছে?থাকলে চল ফিরিয়ে দিয়ে আসি।”

নিজের বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করতেই মলিন হয়ে এলো অনুর মুখ,আঁধার ঘনিয়ে এলো শ্যাম রঙা মুখে।এ জীবনে তার যে কেউ নেই,বাবা মা সেই ছোট বেলায় অনাথ আশ্রমে ফেলে রেখে গেছে তাকে।যেই মেয়ের নিজের একটা পরিচয়ই নেই সেই মেয়ের একটা বাড়ি থাকা তো বিলাসিতা।কথাগুলো ভেবে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো অনু,বিমর্ষ কন্ঠে বললো,

“গত তিনমাস যেই বাড়িতে ছিলাম সেই বাড়িতেই ফিরিয়ে দিয়ে আসুন।এমপি মশাই জানতে পারলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।”

অনুর কথায় কটাক্ষ হাসলো কিয়ান,ভ্রু নাচিয়ে বিদ্রুপ কন্ঠে বললো,

“এমপি কে খুব ভরসা করো মনে হচ্ছে?”

অনু ম্লান কন্ঠে উত্তর দিলো,

“সেটা আপনাকে বলতে বাধ্য নই।”

পুনরায় শ্লেষ হাসলো কিয়ান,তাচ্ছিল্য মিশ্রিত কন্ঠে বললো,

“তুমি যাকে ভরসা করছো সে তোমার শরীরের অর্গান গুলো কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে।”

চমকে স্তম্ভিত দৃষ্টিতে তাকালো অনু,বিস্ফোরিত কন্ঠে বললো,
“অসম্ভব! উনি এমন কিছু করতে পারেন না।”

“পারে মিস,এমপি তাওসিফ তাকরিম নিজ স্বার্থে সব পারে।”

“কি প্রমাণ আছে আপনার কাছে?এমপি মশাই এমন কিছু করেছে প্রমান করতে পারবেন?”

“অভিয়েসলি তুমি প্রমাণ চাইছো?”

“হ্যাঁ আমি প্রমাণ চাই।”

কিয়ান চট করেই মুঠো বন্দী করল অনুর নরম হাত,ভরাট কন্ঠে বললো,

“চল।”

অনু শুখনো ঢোক গিলে তাকালো নিজের হাতের দিকে,অস্ফুটে জিজ্ঞেস করলো,

“কোথায়?”

কিয়ান ভারী কন্ঠে প্রত্যুত্তর করলো,

“যেখান থেকে নিয়ে এসেছি সেখানেই ছেড়ে দিয়ে আসবো,দেখবো কোন এমপির বাপ তোমায় বাঁচাতে আসে।”

____________

বরিশাল শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার এক গ্রাম্য পরিবেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে আছে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র বারো আউলিয়ার দরবার, পুরো বাকেরগঞ্জ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও এই দরবারটির স্থাপত্য এখনো রয়ে গেছে।
1947 সালের দিকে বাকের গঞ্জ একটি ছোট অঞ্চল ছিলো, অথচ বর্তমান সময়ে বরিশালের একটি উপজেলা হিসেবে ধরা হয়েছে বাকেরগঞ্জ,যার পরিধি তখনকার তুলনায় বহুগুণ বিস্তৃত।

আপাতত সেখানকার একটা রিসোর্টেই নিস্পাকে নিয়ে উঠেছে ত্রিজয়।তবে ত্রিজয় সেখানে কি কাজে গিয়েছে সে বিষয়ে জানা যায় নি এখনো।নিস্পা তেমন প্রশ্ন করেনি,ত্রিজয়ের যে কোন বিষয় বরাবরই এড়িয়ে চলে সে।তাই এখানে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করা হয় নি।সন্ধ্যা তখন সাতটা।নিস্পা শাওয়ার নিচ্ছিলো।ত্রিজয় রুমে বসে কাজ করছে,তার মনযোগ ল্যাপটপের স্ক্রিনে।একটা ভিডিও জুম করে দেখছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে,মনে হচ্ছে কোন সিসিটিভি ফুটেজ।সম্ভবত এই হোটেলেরই কারো উপর নজরদারি করছে গোপনে।

ওয়াশরুমের ভেতর থেকে পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দে বারবার মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে ত্রিজয়ের।খুব চেষ্টা করেও মস্তিষ্ক স্থির রাখতে পারছে না নিজের কাজে।বেহায়া মন মস্তিষ্ক ঘুরেফিরে কল্পনায় আঁকছে নিস্পার স্নান করার মোহমায়ি দৃশ্য।

নিস্তব্ধ ভোরের মতো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত নিস্পার শরীর, তুলতুলে রেশমের ন্যায় কোমল ত্বকে জমে আছে মুক্তো দানার মতো ঝলমলে জলের ফোঁটা। লজ্জার ভারে নাজুক হাতদুটি আপন অন্তরালে গুটিয়ে নেওয়ার ভঙ্গুর প্রচেষ্টা।আর একজোড়া ভীত চোখ।এই অনির্বচনীয় দৃশ্যগুলো ত্রিজয়ের মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠা মাত্রই তার হৃদপিণ্ড উন্মাদনার বেগে ধকধক করতে শুরু করলো।

নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলো না ত্রিজয়।চুপচাপ ল্যাপটপ টা ফেলে রেখে উঠে দাড়ালো।অদ্ভুত ভাবে তাকালো ওয়াশরুমের দরজার দিকে।এই দরজাটা নেহাৎ সফেদ পর্দার মতো পাতলা তার কাছে,যার ওপারে নিস্পার সমস্ত গতিবিধ সে দেখছে,হৃদয়ের মোহনীয় দৃষ্টি অনুভবে দেখছে নিস্পার শরীরের প্রতিটি লোমকূপের গোড়ায় জমে থাকা অস্থিরতা।

ত্রিজয় শুখনো ঢোক গিললো,ঘাড় কাত করলো অদ্ভুত ভাবে,দুই ঠোঁট গোল করে ধরলো সেই সম্মোহিত সুর,শিহরণ জাগানো কন্ঠে ডাকলো,

“ন্যাক্সোরা? ন্যাক্সোরা ডার্লিং।আমার কলিজাকে একটু ভয় দেখিয়ে আসো তো।”

সাই-সাই করে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকলো কালো কুচকুচে ন্যাক্সোরা, ত্রিজয়ের হুকুমের গোলাম হয়ে ফনা তুলে তাকিয়েই রইলো নির্বিশেষ।ত্রিজয় বক্র হাসলো, পুনরায় বললো,

“বি কেয়ারফুল ডার্লিং, ডোন্ট লুক এট হিম।ওকে শুধু আমি দেখবো।”

________

ওয়াশরুমে আপন মনে স্নান করছে নিস্পা।গায়ে চিকন ফিতের একটা ইনার আর সেলোয়ার ছাড়া আর কিছু নেই।শরীরের বেশিরভাগ যায়গা উন্মুক্ত।দুধসাদা ফর্সা ত্বক উঁকিঝুকি দিচ্ছে কেবল।

তার অগচরে কালো কুচকুচে সাপ টা এসে প্রবেশ করলো ওয়াশরুমের ভেতর,কলমি লতার ন্যায় দেয়াল বেয়ে সোজা নেমে এলো নিস্পার দিকে।খুব সুক্ষ্ম কৌশলে নিজেকে পেচিয়ে নিলো ঝর্ণার সেন্সরে।নিস্পা স্নান শেষ করার জন্য হাত বাড়ালো সেন্সরের দিকে, ঠিক সেই সময় সাপটা ফনা তুলে বের করলো তার কলকলে জ্বিভ।এমন ভয়ংকর একটা সাপের দর্শন হতেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো নিস্পার,ভয়ের তোপে গলা ফেটে বের হলো চিৎকার,

“আয়ায়ায়ায়ায়ায়া!”

ভয়ে আতংকে জ্ঞান শুন্য হয়ে এক প্রকার লাফাতে লাফাতে ওয়াশরুম থেকে বের হলো নিস্পা।ত্রিজয় দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে,এক সেকেন্ড, দু সেকেন্ড করে ঠিক তিন সেকেন্ড গোনার মধ্যেই এক অপূর্ব মোহনীয় রুপে বেরিয়ে এলো নিস্পা,ঝড়ের মতো ছুটে এসে জাপ্টে ধরলো ত্রিজয়কে, দু’হাতে খামচে ধরলো ত্রিজয়ের শার্ট।আতংকে জর্জরিত কন্ঠে আওড়াল,

“সাপ সাপ সাপ!”

ত্রিজয় পিলারের মতো শক্ত হয়ে গেলো,বরফের ন্যায় শীতল স্রোত বয়ে গেলো তার বুকের ভেতর,দ্রিম দ্রিম শব্দ হতে শুরু করলো হৃদপিন্ডে।হটাৎ করে মরুভূমির মতো শুখিয়ে এলো গলবিল।কবুতরের পালকের ন্যায় নিস্পার নরম শরীর টা গুটিয়ে আছে তার বুকের ভেতর,অজানা ভালোবাসা আর ভালোলাগায় তান্ডব শুরু হলো ত্রিজয়ের পৌরষ্যে।অতঃপর শুখনো ঢোক গলদঃকরন করে, জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো।নির্জিব দুটো হাত ধিরে ধিরে তুলে নিয়ে রাখলো নিস্পার উন্মুক্ত পিঠের উপর, লম্বা শ্বাস টেনে বললো,

“কি হয়েছে?কুল ডাউন।কি হয়েছে কলিজা?”

নিস্পা তখনও ভয়ে নাজেহাল,কালো সাপটার কথা মনে পড়লেই কলিজা শুখিয়ে যাচ্ছে,আর একটু হলেই সাপটা কামড়ে দিতো তাকে।ভাবতেই ভয়ে গতর কেঁপে উঠলো নিস্পার,ত্রিজয়কে আরেকটু খামচে ধরে আওড়াল,

“সা,,সাপ।ওয়াশরুমে সা,,,প। ”

ত্রিজয় নিস্পাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরেই এগোলো ওয়াশরুমের ভেতরে,সাপটা ততক্ষণে চলে গিয়েছে,ওয়াশরুম পুরো ফাঁকা,ত্রিজয় নিস্পাকে দেখিয়ে বললো,

“কোথায়?কোথায় সাপ?এখানে কোন সাপ নেই।”

নিস্পা ভয়ে চোখ খুলছে না,তিরতির করে কাপছে তার ঠোঁট, সে ত্রিজয়ের বুকে মুখ গুজে রেখেই হাতের ইশারায় দেখালো ঝর্ণার সেন্সরের দিকে।ত্রিজয় বক্র হাসলো,নিস্পার ভেজা চুলের ভাজে চুমু এঁকে বললো,

“ডোন্ট এফ্রেইড কলিজা,আ’ম হেয়ার।ওকে?”

তারপর ভরসা দিয়ে বললো,

“নেই?সাপ নেই?দেখো,চোখ খোল।”

নিস্পা ধিরে ধিরে চোখ খুললো,খিচে রাখা চোখের পাতা আলগা করে তাকালো সেন্সরের দিকে।সাপটাকে দেখতে না পেয়ে আওড়াল,

“নেই!সাপটা নেই এখানে। ”

ত্রিজয় দু’হাতে নিচের দিকে নামিয়ে আঁকড়ে ধরলো নিস্পার উন্মুক্ত কোমর,নিজের মোহিত দৃষ্টি নিস্পার ঢেউখেলানো অর্ধ উন্মুক্ত বুকের উপর রেখে নেশাময় কন্ঠে বললো,

“উহু নেই,আমি আর তুমি বাদে এখানে আর কেউ নেই।”

টনক নড়লো নিস্পার।ত্রিজয়ের চাহনি অনুসরণ করে নিজের দিকে তাকাতেই সচকিত হলো মস্তিষ্ক।ভেজা শরীরের এমন শোচনীয় পরিস্থিতি অবলোকন করতেই লজ্জায় নতজানু হলো চিবুক,নিজেকে ছাড়ানোর প্রচেষ্টায় আইঢাই করে বললো,

“ছাড়ুন আমাকে।আমি ভিজে আছি।”

ত্রিজয় ছাড়লো না,বরং নিস্পাকে এক হাতে টেনে এনে দাড় করালো তার পায়ের উপর,তারপর এক হাত তুলে খামচে ধরলো নিস্পার ঘাড়,মোহগ্রস্ত কন্ঠে বললো,

“ভেজা শরীরে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।”

নিস্পা ভয়ে লজ্জায় অস্বস্তিতে নাজেহাল,ত্রিজয়ের এমন বেসামাল কথায় ধড়ফড়িয়ে উঠলো হৃদয়,সে কন্ঠে আকুতি নিয়ে বললো,

“কি করছেন ছাড়ুন।বাজে দেখাচ্ছে আমায়।”

ত্রিজয় নিজেকে ঝুঁকিয়ে এনে নিস্পার ভেজা চুলের গন্ধ শুখলো,দীর্ঘ নিঃশ্বাসের সাথে শুষে নিলো নিস্পার শরীরের আরাধ্য ঘ্রাণ।তারপর নিস্পাকে ঘুড়িয়ে নিয়ে চেপে ধরলো কাচের দেয়ালের সাথে,নিস্পার দুই হাতের উপরে নিজের দুইহাত চেপে পেছন থেকে ঠোঁট দাবালো নিস্পার ঘাড়ে,ফিসফিসিয়ে বললো,

“তোমার ভেজা গায়ের গন্ধে প্রেমের কুয়াশা ছড়িয়ে পড়েছে,ঝাপসা করেছে আমার দু চোখ।আমি আরেকটু বাজেভাবে দেখতে চাই তোমাকে।”

শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো নিস্পার, ত্রিজয়ের ছোয়ায় জেগে উঠা অবাঞ্চনিয় অনুভুতির দাসত্ব থেকে পালানোর প্রচেষ্টায় বললো,

“প্লিজ ছাড়ুন আমাকে,অস্বস্তি লাগছে।”

ত্রিজয় ছাড়লো না,বরং আরেকটু তীব্র দংশনে আহত করলো নিস্পার কোমল ত্বক,মাদকিয় কন্ঠে বললো,

“তোমার অস্বস্তিই আমার নেশা কলিজা।এই অস্বস্তিতেই তোমাকে আরও সুন্দর লাগছে।

ত্রিজয় ধিরে ধিরে হাত রাখলো নিস্পার ইনারের চিকন ফিতায়,নিস্পা ছটপট করতে করতে বললো,

“ছাড়ুন প্লিজ।”

ত্রিজয় নিস্পার কাঁধ থেকে ফিতেটা সরাতে সরাতে বললো,

“তুমি না চাইলেও আমি ছাড়বো, কিন্তু আজ রাতের পর তোমার শরীর আর আমাকে ছাড়তে পারবে না।”

ত্রিজয় ধির হস্তে সরিয়ে নিলো নিস্পার পিঠের উপরের চুল,পরক্ষণেই একের পর এক অধর স্পর্শে উন্মাদ করতে শুরু করলো নিস্পার নারী সত্তা।ত্রিজয়ের অধরজোড়া আর দন্তপাটির বেপরোয়া দংশন ছড়িয়ে পড়লো নিস্পার উন্মুক্ত পিঠে ঘাড়ে, গলায়।নিস্পা ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো, আহত স্বরে অস্ফুটে বললো,

“আপনি,,,

কথা শেষ করার আগেই নিস্পাকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে নিলো ত্রিজয়,উন্মাদের মতো ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে কামুক কন্ঠে বললো,

” হেল্প লেস কলিজা।প্লিজ হেল্প মি।”

নিস্পা বাধা দিতে চাইলো, অস্ফুটে বলতে চাইলো,

“দেখুন,,, ”

এবারেও পুরো বাক্য সম্পন্ন করা হলো না নিস্পার,ত্রিজয় নতুন উদ্যোমে নিজের অধর যুগল দ্বারা চেপে ধরলো নিস্পার অধর,ফিসফিসিয়ে বললো,

“আমার তৃষ্ণার্ত হৃদয় তোমার ভেতরটা স্বচ্ছ কাচের মতো দেখতে চাইছে কলিজা।”

নিস্পা হাপানি রোগীর মতো হাঁপালো,অস্পষ্ট বললো,

“আপনি,,, ”

ত্রিজয় প্রত্যুত্তরে বললো,

“আমি ব্রিটিশ।”

চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো নিস্পা,বিস্মিত কন্ঠে আওড়াল,

“আপনি সব,,,”

ত্রিজয় নিস্পার ফর্সা বুকে রাজত্ব চালাতে চালাতে বললো,

“দু বছর আগে থেকেই যানি।”

নিস্পা ধাক্কা দিতে সরাতে চাইলো ত্রিজয়কে,দু’হাতে ত্রিজয়কে আটকে দিয়ে বললো,

“তাহলে তো এটাও জানেন আপনি একজন,,,,

ত্রিজয় নিস্পার দু-হাত উপরের দিকে চেপে ধরলো এক হাতে,তারপর নিস্পার বুকের খাজে লাভ বাইট দিয়ে বললো,

” আমি খুনি নই কলিজা,কিছু দিনের মধ্যে প্রমাণ করে দেবো।ট্রাস্ট মি।”

নিস্পা চোখ বন্ধ করে নিলো,শ্বাস টেনে বললো,

“কিন্তু,,, ”

ত্রিজয় টেনে খুলে ফেললো নিজের শার্ট, তারপর ধিরে ধিরে হাটু গেড়ে বসলো নিস্পার সামনে,অতঃপর নিস্পাকে ভিষণ অবাক করে দিয়ে কিঞ্চিৎ নিচের দিকে নামিয়ে নিলো সেলোয়ার,তারপর? তারপর আর কি?সেই দগদগে লাল তিলটাকে গভীর ভাবে স্পর্শ করে ঠোঁট দাবিয়ে দিলো।

নিস্পা বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে,কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে শ্বাস আটকে ধরলো বুকের মধ্যে,এই খানে তিল আছে কি করে জানলো ত্রিজয়?এই প্রশ্নে জর্জরিত হলো মস্তিষ্ক।ঠিক তক্ষুনি ভেসে এলো ত্রিজয়ের নেশাময় কন্ঠ,

“কোন কিন্তু নয়,আ’ম হেল্পলেস কলিজা।প্লিজ,,,,”

নিস্পার উত্তরের অপেক্ষা করলো না ত্রিজয়,এবার আর নরম স্পর্শে নয়,দন্তপাটির আঁচড় বসিয়ে দিলো নিস্পার লাল তিলে,নিস্পা ব্যাথায় চোখ খিচে নিলো,হাত দিয়ে খামচে ধরলো ত্রিজয়ের চুল,অস্ফুটে গোঙিয়ে উঠলো,

“আহ!ব্যাথা পাচ্ছি।”

ত্রিজয় বেসামাল আদরে কব্জা করে নিলো নিস্পার সমস্ত অনুভুতি।মোহনীয় কন্ঠে বললো,

“আজ রাত বিষাক্ত হোক আমার নামে।”

নিস্পা হাল ছেড়ে দিলো, নিজের নারী সত্তাকে করে দিলো উন্মুক্ত,শরীরের চাহিদার নিকট দলিতমথিত হলো মনের দ্বন্দ্ব আর জেদ,ত্রিজয়ের এমন অনাহুত গভীর আলিঙ্গনে নিজেকে স্বাধিন করে দিয়ে আওড়াল,

“এখনও রাত শুরু হয় নি।”

নিস্পার নরম কন্ঠে সম্মতির আঁচ টের পেয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো ত্রিজয়,ধিরে ধিরে উঠে দাঁড়িয়ে তাকালো নিজের হাত ঘড়িটার দিকে ,সন্ধ্যা সাতটা ত্রিশে মিনিটের কাটা স্থির।আর এক মূহুর্ত বিলম্ব করলো না সে, ঘড়িটা খুলেই ছুড়ে ফেললো, নিস্পা বুঝে উঠার আগেই আচমকা ধাক্কা দিলো তাকে,নিস্পা টাল হারিয়ে গিয়ে পড়লো বাথটবে, মনের কোনে জেগে উঠা সুপ্ত বাসনা বাস্তবায়ন করার উদ্বেগে ত্রিজয় ঝাপিয়ে পড়লো হিংস্র সিংহের ন্যায়।একের পর এক তীব্র দংশনে দগ্ধ করলো নিস্পার ঘাড়ের কোমল ত্বক।মোহগ্রস্ত কন্ঠে বললো,

“এই মূহুর্ত থেকে পুরো দশ ঘন্টা আমি আমার নামে লিখে নিলাম।”

নিস্পা লজ্জায় অস্বস্তিতে মুখ লোকাল ত্রিজয়ের উন্মুক্ত বুকে,কুন্ঠিত কন্ঠে বললো,

“পাগল আপনি? মরে যাবো আমি।”

ত্রিজয় ঠোঁট কামড়ে হাসলো পুনরায়,ফিসফিসিয়ে বললো,
“ডোন্ট ওয়ারি,বোন মনে করে দেবো,একটুও পেইন হবে না।”

নিস্পা আপোষে আত্মসমর্পণ করলো নিজেকে,
নিস্পার পক্ষ থেকে কোন প্রকার বাধা না পেয়ে সুযোগ লুপে নিলো ত্রিজয়। তার এক হাত নিস্পার পল্লবিত কটিদেশের বাঁক, আরেক হাত খামচে ধরলো নিস্পার কৃষ্ণকুন্তল।দু জোড়া অধরের কয়েক দফা সংঘর্ষ হলো রয়েশয়ে,অতঃপর আরেকটু গভীর আলিঙ্গনে পৌছানোর আগ মূহুর্তেই দরজায় নক করলো কেউ।কলিং বেলের শব্দ পেয়ে সরে আসতে চাইলো নিস্পা,অথচ ত্রিজয় হতে দিলো না,ঝর্ণার সেন্সরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছেড়ে দিলো পানি।পানির কলতান শব্দে কলিং বেলের আওয়াজ কমে এলো কিঞ্চিৎ।

ত্রিজয় ঠান্ডা পানির ছোয়ায় ডুব দিলো প্রেয়সীর অতল সৌন্দর্যের গভীরে,নিস্পাকে পাওয়ার সুযোগে এক বিন্দুও ছাড় দিতে চাইলো না আজ।ত্রিজয় যত বেশি তলিয়ে যেতে শুরু করলো নিস্পার শরীরের বাঁকে ঠিক ততবেশিই বাজতে শুরু করলো কলিং বেল।কেউ একনাগাড়ে কলিং বেল বাজিয়েই যাচ্ছে।

নিস্পা নিজেকে আর ডুবিয়ে রাখতে পারলো না,অতিরিক্ত আওয়াজে অনুভূতি ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে তার,তাই নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়ে রিনরিনিয়ে বললো,

“দেখুন না কে এসেছে।জরুরি হতে পারে।”

রাগে ক্ষোভে দুঃখে গজগজিয়ে উঠলো ত্রিজয়,নিস্পাকে ফেলে রেখে ভেজা শরীরেই বেড়িয়ে এলো ওয়াশ রুম থেকে,তারপর টেবিলের উপর থেকে একটা ফুলদানি উঠিয়ে নিয়ে প্রচন্ড আক্রোশে ছুড়ে মারলো কলিংবেলের স্পিকার বোর্ডের দিকে,হিসহিসিয়ে বললো,

“ঠাডা পড়ছে।”

(দরজার ওপাশে কে আছে গেস করুন তো?)

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here