হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্বঃ 56

0
37

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্বঃ 56

ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালের এগারো নাম্বার ফ্লোরের সবচেয়ে ভি আই পি কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে ত্রিজয়কে।কাল রাতের এক্সিডেন্টের পর এমপি তাওসিফ তাকরিম নিজ দায়িত্বে হসপিটালে ভর্তি করেছে ত্রিজয়কে।যদিও ত্রিজয়ের বাঁচা মরা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না তাকরিমের, তবুও এক প্রকার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েই ত্রিজয়কে হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছে তার।

কাল রাতে কিছু একটা ঘটেছে।ঘটনা স্পটে যাওয়ার পর নিস্পা যেভাবে পাগল হয়ে তার বুকে হামলে পড়েছিলো,মনে হচ্ছিলো সেই আগের আলেকজান্দ্রা ফিরে এসেছে নিস্পার মাঝে।সেই ছিচকাদুনে,ভীতু মেয়েটাকে কাল নতুন ভাবে উপলব্ধি করেছিলো তাকরিম।এ জন্মে এটাই ছিলো তার আলেকজান্দ্রার প্রথম ছোয়া।কি এক দমবন্ধকর অনুভুতি।তাকরিমের পুরো শরীর বরফের মতো জমে গিয়েছিলো নিস্পার স্পর্শে,এক অন্য রকম প্রশান্তিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো শিরা উপশিরা ধমনীর রক্ত চলাচল।

নিস্পার দুটো হাত যখন তাকরিমের বুকের উপর পাঞ্জাবীটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিলো,যখন,যখন তাকরিমের শুন্য বুকে তার মাথাটা রেখে কেঁদেছিলো ফুফিয়ে।যখন কান্নার তোফে তার পুরো শরীর কাপছিলো,ঠিক তখন, ঠিক তখনই তাকরিমের রক্তাক্ত হৃদয়টাও কেঁপে উঠেছিলো।তাজা রক্তলাল গোলাফের কাটার আঘাতে সুখকর অনুভুতি হচ্ছিলো ভেতরে।

মনে হচ্ছিলো, এতদিনের দমিয়ে রাখা আকাঙ্ক্ষা, অপূর্ণতার সব ক্ষুধা হঠাৎ এক ঝড়ের মতো গায়ে এসে আছড়ে পড়েছে তার। নিস্পার উষ্ণ দেহের ঘনিষ্টতায় তার নিঃশ্বাস আটকে গিয়েছিলো বুকের মধ্যখানটায়।, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে উঠেছিল নোনা জলে, আর?আর তার সমস্ত সত্তা আটকে গিয়েছিলো নিস্পার সেই স্পর্শের মোহে।

উন্মাদনার সীমান্তে রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাকরিম যখন বুঝতে পেরেছিলো তার আলেকজান্দ্রা তার জন্য নয় বরং তার আহত স্বামীর জন্য কাঁদছে তখনি পুরো পৃথিবীটা মাথায় ভেঙে পড়ার মতো অনুভব হয়েছিল তার, নিস্পা যখন কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলো,

“আইরিশ ভাই উনাকে বাঁচান।উনাকে বাঁচান আইরিশ ভাই।আমি সহ্য করতে পারছি না।রক্ত!ওনার শরীরের রক্ত আমি সহ্য করতে পারছি না।”

বুকের ভেতর দলা পাকানো নিঃশ্বাস ততক্ষণে দীর্ঘশ্বাসে রুপান্তর হয়েছিলো তাকরিমের।নিস্পার অশ্রুভেজা লোচনের গভীরে তাকিয়ে বলেছিলো,

“বাঁচাবো?কিন্তু ও তো আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আলেকজান্দ্রা।ও মরে গেলে আমাদের একটা সুখের সংসার হবে।তুমি চাও না আমার সাথে বাঁচতে?তোমার চোখ বলছে তুমি চাও,নয়তো আমার বুকের ভেতরে আশ্রয় চাইতে না।”

এতোক্ষণে সৎবিৎ ফিরে ফেলো নিস্পা,নিজেকে তাকরিমের বুকের ভেতর আবিষ্কার করেই থমকালো কয়েক পল।তারপর এক ঝটকায় সরে এসে দাড়ালো দুরত্ব নিয়ে।নিস্পার কান্ডে পিচলে হাসলো তাকরিম,নিরেট কন্ঠে বললো,

“এটা লজ্জা নাকি অস্বস্তি বুঝতে চাইছি না আমি। কিন্তু তুমি যে আমার আলেকজান্দ্রাই আছো সেটা আমি বুঝে গিয়েছি।”

নিস্পা মনযোগ দিলো না সেথায়,নিস্পার উদ্বিগ্ন চাহনি রাস্তায় পড়ে থাকা ত্রিজয়ের দিকে।যে তখন পুরো চেন্সলেস।তবে বুকটা টিপটিপ করছে নিয়ন বাতির মতো।গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার সাথে সাথেই সিমেন্টের শক্ত পিলারের সাথে গিয়ে লাগে মাথাটা।তৎক্ষনাৎই বোধহয় মাথাটা ফেটে গিয়েছিলো,মাথা থেকে বেড়োনো রক্তের বন্যা স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে সেই দৃশ্যের।গায়ের শার্টটা ছিড়ে গিয়েছে পাকা রাস্তার ঘর্ষণে,হাত পা, পিঠ সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া এবং মাংস খসে গিয়েছে প্রায়।পুরো শরীর ভিজে আছে রক্তে।এমতাবস্থায় ত্রিজয়কে দ্রুত হসপিটালে না নিয়ে গেলে হয়তো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মরে যাবে লোকটা।

মরে যাওয়ার কথাটা ভাবতেই নিস্পার বুকটা ধ্বক করে উঠে।চোখের সামনে ভেসে উঠে ত্রিজয়ের দেওয়া ছোট ছোট কেয়ারগুলো,ত্রিজয়ের অপ্রকাশ্য ভালোবাসা, আর আর দুস্টু কন্ঠের রসিকতা। এক মিশ্র অনুভুতিতে তেতো হয়ে আসে নিস্পার কণ্ঠনালী,তাকরিমের কথার বিপরীতে ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠে বলে,

“উনাকে বাঁচাতে হবে।উনাকে বাঁচাতে হবে এমপি মশাই।উনি আমাকে বাঁচানোর জন্য নিজের প্রাণ সপে দিয়েছে উনাকে আপনি মরতে দিতে পারেন না।”

“উনাকে বাঁচাতে হবে,উনাকে বাঁচাতে হবে। উনার সাথে আমার বিচ্ছেদ দেখার জন্যে হলেও উনাকে বাঁচাতে হবে আপনার।”

নিস্পার কথায় ভ্রু কুচকে এলো তাকরিমের।অস্ফুটে আওড়াল,

“তার মানে তুমি ডিভোর্স নিবে?”

নিস্পা তখন আর উত্তর করলো না।দ্বিধাগ্রস্ত অসার শরীর টা টেনে নিয়ে গিয়ে বসলো ত্রিজয়ের কাছে।ত্রিজয়ের রক্তাক্ত মাথাটা নিজের কোলে নিয়েই ফুপিয়ে উঠলো নিস্পা,পদ্মপরাগি চোখের পাতা বেয়ে নেমে এলো একফোঁটা জল।উত্তপ্ত অশ্রুকণা সোজা ছুটে গিয়ে আছড়ে পরলো ত্রিজয়ের রক্তে রাঙা বদ্ধ চোখের পাতায়।ত্রিজয় হাল্কা নড়ে উঠলো,হা করে নিঃশ্বাস নিলো ঠিক তবে চোখ খোলার শক্তি পেলো না।নিস্পা সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠলো,বিরবির করে আওড়াল,

“উনাকে বাঁচানো ছাড়া এই মূহুর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না আমি।প্লিজ উনাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করুন।”

তাকরিমের মনে আশার আলো জেগে উঠলো।ত্রিজয় আর নিস্পার বিচ্ছেদ দেখার জন্য হলেও বাঁচাতে হবে ত্রিজয়কে।আলেকজান্দ্রাকে পাওয়ার বেলায় 1% আশা পেলেই তাকরিম দুনিয়া তোলপাড় করে দিতে পারে,আর সামান্য ত্রিজয়কে বাঁচানো টা তো মামুলি কাজ।

_____________

পরের দিন সকাল বেলা।
ত্রিজয়ের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। বুকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মনিটরের তার, প্রতি মুহূর্তে হৃদস্পন্দনের ওঠানামা সবুজ রেখায় ফুটে উঠছে মনিটরের পর্দায়।পাশেই একটা স্যালাইনের স্ট্যান্ড থেকে স্বচ্ছ ফোঁটা ফোঁটা তরল ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে তার শিরার ভেতর।শরীর নিস্তেজ, তবে চোখ খোলা, ঠোঁটের কোণে জমে আছে শুষ্কতা, প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে অক্সিজেন মাস্কের কাঁচ ভেতর থেকে হালকা বাষ্পে ঝাপসা হয়ে উঠছে।

নিস্পা নিস্পলক তাকিয়ে আছে ত্রিজয়ের নীল চোখের দিকে।সত্যিই এই চোখ যাদু যানে,সম্মোহন যানে।এই যে নিস্পা তাকিয়ে আছে তো তাকিয়েই আছে,চোখ নামাতে মনই চাইছেই না।

ত্রিজয় নিভু নিভু তাকালো নিস্পার আহত চোখের দিকে।বা পাশের ভ্রুটা উঁচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো,
“কি?”

নিস্পা গরম নিঃশ্বাস ছেড়ে সোজা হয়ে বসলো।কাল রাতে আইসিউ থেকে বের করার পর ভোর চারটা থেকে এপর্যন্ত এভাবেই মেরুদণ্ড বাকিয়ে বসে ছিলো নিস্পা।আর তাকরিম?সে কি তার আলেকজান্দ্রাকে রেখে চলে যাওয়ার লোক?সেও দেয়ালের সাথে এক বাহু কাত করে দাঁড়িয়ে ছিলো পুরো চার ঘন্টা।নিরব দর্শক হয়ে শুধু তাকিয়ে দেখছিলো নিস্পাকে।

শুকনো ঢোক গিলে গলা ভেজালো নিস্পা,শুস্ক কন্ঠে শুধালো,

“ঠিক আছেন?”

ত্রিজয় চোখের পলক ফেললো ইশারায় আস্বস্ত করলো ঠিক আছে।পরপরই অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া অবস্থাতেই জিজ্ঞেস করলো,

“তুমি?”

নিস্পা চোখের নিচে লেপ্টে থাকা জল দু’হাতে মুছে নিলো, নাক টেনে বললো,

“ঠিক আছি বলেই তো আপনার সামনে বসে আছি,নয়তো এতোক্ষণে আপনার মতো বেডে শুয়ে থাকতে হতো।”

কিঞ্চিৎ ঠোঁট এলিয়ে দিয়ে ম্লান হাসলো ত্রিজয়।স্যালাইন লাগানো হাতটা একটু উচুতে তুলে কাছে আসতে ইশারা করলো নিস্পাকে।সঙ্গে সঙ্গে নিস্পা বিচলিত হয়ে ঝুকলো ত্রিজয়ের মুখের কাছে,উদ্বিগ্নের ন্যায় কান পাতলো ত্রিজয়ের কথা শোনার জন্য। ত্রিজয় ঠোঁট নাড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,

“একটা চুমু খাবে?”

ত্রিজয়ের এহেন আবদারে চোয়াল বেঁকে এলো নিস্পার।লোকটার সারা শরীর জুড়ে ব্যান্ডেজ।কিছু ঘন্টা আগেও প্রানটা ঝুলে ছিলো নাকের ডগায়।মাত্র চার ঘন্টা হলো জ্ঞান ফিরেছে,আর এই লোকের কথা শুনে মনে হচ্ছে কিচ্ছু হয় নি,হসপিটালে শুয়েও বেহায়াপনা যাচ্ছে না।আর সে কিনা এই বেহায়া লোকের জন্য কেঁদে কেটে চোখের পানি নাকের পানি এক করছে।ছিঃ,ভাবতেই ঘৃনা লাগছে।
কথাগুলো ভাবতেই তড়িৎ মেরুদণ্ড সটান করে ত্রিজয়ের কাছ থেকে উঠে বসলো নিস্পা,ঘার ঘুড়িয়ে তাকালো কাঁধ শক্ত করে নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে থাকা তাকরিমের দিকে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে রাগে ভেতর ভেতর ফেটে যাচ্ছে লোকটা।অথচ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে নিজেকে সামলে।

নিস্পা এবার এক ধ্যানে তাকালো তাকরিমের দিকে।তার আইরিশ ভাই।সেই লম্বাটে হ্যাংলা পাতলা লোকটা একই রকম, শুধু ফিটনেসে একটু পরিবর্তন এসেছে,কৃষি জমি আর চালের আড়তে কাজ করা লোকটা তো এখন দেশের এমপি, নিশ্চয়ই জিমে যায় নিয়ম করে।নিস্পার চোখ জুড়ে বিস্ময়,এই সেই আইরিশ ভাই যে বীনাসর্তে বীনা স্বার্থে ভালোবাসে তাকে।যে ভালোবাসা সামান্য বকুল গাছের সাথেও ভাগ করে নিতে নারাজ সে, আজ কেমন নির্লিপ্তে তার আলেকজান্দ্রাকে অন্য কারো সাথে ভাগ করে নিচ্ছে।

কি নিষ্ঠুর নিয়তি।এমন নিয়তি কেন নিস্পারই হতে হলো?কেন তার সাথে জুড়ে গেলো এই মানুষ গুলো।কথাগুলো ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো নিস্পা।জ্বিভের আগায় আটকে আটকে বললো,

“আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো।”

ত্রিজয় ভ্রু উঁচিয়ে ইশারায় বলতে বললো।নিস্পা ঘনঘন ঢোক গিলে ফের তাকালো তাকরিমের ব্যাতিব্যাস্ত মুখের দিকে,ঠোঁট টিপে মিনমিনে কন্ঠে বলতে চাইলো,

“না মানে, আসলে।”

নিস্পা বলতে পারছে না।অজানা কারনেই কণ্ঠনালী জমে আসছে তার।কিন্তু তাকে যে বলতেই হবে,যত দ্রুত সম্ভব বলতে হবে,এই লোকটার কাছ থেকে মুক্তি চাই তার।এই লোকটা একটা জানোয়ার।সে জন্মে করা তার নৃশংস অত্যাচার গুলোর কথা মনে পড়লে শরীর কেঁপে উঠে নিস্পার।ঘৃনায় বিতৃষ্ণায় কলিজাটা পর্যন্ত জ্বলে উঠে আগুনের ছ্যাকা খাওয়ার মতো।

ছ্যাঁকা? হ্যা ছ্যাঁকা দেওয়াটাও তো বাদ রাখে নি এই লোক।দিনের পর দিন সিগারেট দিয়ে নির্মম ভাবে পুড়িয়েছে তার নাভিকমলের অংশ, ঝাজড়া করে দিয়েছে চামড়া।সে কথা কিভাবে ভুলে যাবে নিস্পা?কিছুতেই ভুলতে পারবে না,বরং এই লোকটার দিকে তাকালেই জ্বলোচ্ছাসের ন্যায় হামলে এসে পড়বে সেই স্মৃতি গুলো, এই দূর্বিষহ ভয়ংকর স্মৃতি নিয়ে সে কিছুতেই এই লোকটার সাথে থাকতে পারবে না কিছুতেই না।নিস্পা খুব কষ্ট করে প্রস্তুত করলো নিজেকে,অতঃপর সমস্ত গ্লানি সাইডে রেখে বলেই ফেললো,

“আমাদের বিচ্ছেদ প্রয়োজন।”

ত্রিজয়ের কোমল অভিব্যক্তিতে চিড় ধরলো মূহুর্তেই, নিস্পা বুঝে উঠার আগেই আচনক শক্ত হাতের মুঠোয় গ্রীবা চেপে ধরলো নিস্পার,অন্যহাতে অক্সিজেন মাস্ক টা খুললো খুব কষ্ট করে,তারপর হ্যাসহ্যাসিয়ে বললো,

“আমার চাটনির প্যাকেট আমি এখনো খুললাম না,ধরলাম না, খাইলাম না তার আগেই ডেট ওভার?অসম্ভব। সোজা কলিজাটা টেনে ছিড়ে ফেলবো।”

কথাটা বলে খুব হাপালো ত্রিজয়,মনিটরের স্ক্রিনে স্পষ্ট দেখা গেলো তার হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিক অস্থিরতা, বেশ কিছুক্ষন রয়েসয়ে উত্তর দিয়ে বললো,

” জাস্ট সুস্থ হতে দে”

নিস্পার গলা চেপে ধরায় দম বন্ধ হয়ে এলো নিস্পার, এতোক্ষণে নিরব ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা এবারে আর নিরব থাকতে পারলো না কিছুতেই,তাকরিম ঝড়ের মতো ছুটে এসে প্রতিহত করলো ত্রিজয়কে,বাঘের থাবার ন্যায় নিজের শিকার কেড়ে নেওয়ার মতোই নিস্পাকে টেনে এনে ঢুকিয়ে নিলো বুকের মাঝে,অস্থির চিত্তে বললো,

“ঠিক আছো তুমি?”

নিস্পা হাঁপাতে হাঁপাতে তাকরিমের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো চট জলদি,চোখের ইশারায় আস্বস্ত করলো ঠিক আছে সে।কিন্তু তাকরিমের রক্ত গরম,তার আলেকজান্দ্রার উপর হাত তোলার অপরাধে ত্রিজয়ের প্রানটা টেনে বেড় করে নিতে ইচ্ছে করছে।হলোও ঠিক সেটাই, ক্ষুব্ধ হয়ে তেড়ে গিয়ে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের গলা,চেচিয়ে বললো,

“এই জানোয়ারের বাচ্চাকে এখান থেকে মর্গে পাঠাবো আমি।”

ত্রিজয় যেহেতু শারীরিক ভাবে অনেকটাই আহত, সেহেতু তাকরিমের হটাৎ আক্রমণে ধরাশায়ী হয়ে পারলো। তবে ব্যান্ডেজ করা এই অসুস্থ ভাঙাচোড়া হাত দিয়ে যতটা সম্ভব নিজেও চেপে ধরলো তাকরিমের কলার,ক্রোধিত কন্ঠে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

“বাসর করে চারটা বাচ্চা ফয়দা করা না অব্দি আমার বা*লও আপনি ছিড়তে পারবেন না এমপি মশাই।”

এদের দুজনের দ্বন্দে পুরো শরীর হীম হয়ে এলো নিস্পার,বিচলিত হয়ে দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে টেনে সরাতে চাইলো তাকরিমকে, কাঁদতে কাঁদতে বললো,

“থামুন, প্লিজ থামুন।ছাড়ুন ওনাকে।”

তাকরিম ওভাবেই ত্রিজয়ের গলা চেপে ধরে রেখে আগুনঝরা কন্ঠে বললো,

“ও তোমার গায়ে হাত তোলে কীভাবে আলেকজান্দ্রা, আমার রত্নের উপর এতো অধিকার কীসের?”

নিস্পা চোখের পানি মুছে নিয়ে কঠোর কন্ঠে প্রত্যুত্তর করে বললো,
“কীসের অধিকার আপনি ভুলে কেন যাচ্ছেন?কাগজ কলমে যে আমার উপর সমস্ত অধিকার উনার সেটা তো অস্বীকার করার পথ নেই।আপনি বরং একটা কাজ করুন আমার আর ওনার ডিভোর্স লেটার বের করুন।”

এক মূহুর্তের জন্য থমকে গেলো তাকরিম।নরম হয়ে গেলো ত্রিজয়ের গলায় ধরে রাখা হাতটা।পাথরের মতো নিটোল বুকে ধ্বস নামলো অতিশয়,নৈঃশব্দ্যে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

“কাল সন্ধ্যার মধ্যেই সব কাগজ পত্র রেডি হয়ে যাবে।কোন সমস্যা নেই।”

নিস্পা প্রত্যুত্তর করলো না, পা টিপে এগিয়ে এসে দাড়ালো ত্রিজয়ের সামনে, অনুরাগী কন্ঠে বললো,

“খুব শীঘ্রই আমি মুক্ত হবো মিস্টার ত্রিজয় তেজ।নিজেকে প্রস্তুত করুন।”

ত্রিজয় পাত্তাই দিলোনা নিস্পার কথা,উল্টো তাচ্ছিল্য হাসলো ঠোঁট বাকিয়ে,কথার প্রসঙ্গ পাল্টে তাকরিমের দিকে জ্বলন্ত নয়নে তাকিয়ে বললো ,

“উনি তোমার সাথে কেন?”

নিস্পা এক পলক তাকালো তাকরিমের শক্ত মুখের দিকে,তারপর ত্রিজয়ের দিকে ফিরে উত্তর দিলো,

“উনিই আপনাকে হসপিটালে ভর্তি করেছে।”

“তো?উনি হসপিটাল না আনলে মরে যেতাম নাকি আমি?”

“মরে যেতেন কিনা যানি না, তবে বাঁচানো টা কষ্ট হতো।”

“মরে গেলে মরে যেতাম।তাই বলে এই বা*ল ছা*লের দয়া আমি নিতাম না।আমাকে হসপিটাল আনার রাইট ওনাকে কে দিয়েছে।”

ত্রিজয়ের এমন অকৃতজ্ঞের মতো কথায় ফুসে উঠলো নিস্পা,চাপা রাগান্বিত স্বরে বললো,

“আপনার স্ত্রী দিয়েছে।”

“নিজেকে আমার স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করছো?”

নিস্পা নির্লিপ্ত জবাবে বললো,

“স্বীকার করছি কারণ আমার ডিভোর্স চাই।”

মেজাজ খারাপ হলো ত্রিজয়ের,নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে শান্ত থাকার চেষ্টা করল,ক্ষনশ্বর থমকে থেকে বললো,

“সেটা কি?খায় নাকি মাথায় দেয়?”

ত্রিজয়ের এমন হেয়ালিপনায় বেশ ক্ষেপেছে তাকরিম,নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হয়ে ক্রোধিত কন্ঠে চেচিয়ে বললো,

“এই শালা বাংলা বুঝিস না?ও তোর কাছ থেকে ছাড়াছাড়ি চাইছে।”

ত্রিজয়ের অভিব্যক্তি শান্ত।শত হোক সে একজন ল’ইয়ার আজ পর্যন্ত শান্ত থেকেই সমস্ত যুক্তি তর্কে জিতে এসেছে সে,তাই ঠান্ডা মাথায় কিভাবে অপমান করতে হয় সেটা ত্রিজয়ের ভালো করেই জানা আছে,তাই রয়েশয়েই জবাব দিয়ে বললো,

“আমাকে বাংলা শেখানোর আগে নিজে ভদ্রতা শিখুন এমপি মশাই।স্বামী স্ত্রীর প্রেমালাপে বা’হাত না ঢুকিয়ে সেই হাতে নিজের পেছন চুলকান।আরাম পাবেন।”

ত্রিজয়ের কথায় অপমানে ফোসফোস করে উঠলো তাকরিম,দাঁতে দাঁত পিষে কিছু বলতেই যাবে, তার আগেই ক্রুদ্ধ স্বরে প্রত্যুত্তর করলো নিস্পা,

“আমি আপনার সাথে প্রেমালাপ করতে আসি নি।আমার ডিভোর্স চাই।”

“সেদিন রাতে কালা পিরিত করতে চাওয়া মহিলা আজ হটাৎ ডিভোর্স চাওয়ার কারণ কি?”

“আমি সিরিয়াস কথা বলছি আপনি কি বুঝতে পারছেন না?”

“এমপি মশাই বের না হলে আমি আরেকটু সিরিয়াস হয়ে তোমার ঠোঁট পর্যন্ত চলে আসবো মিসেস চাটনি।”

তাকরিম আক্রোশে ফেটে পড়ে কিছু বলতেই যাবে নিস্পা দুই হাত জোড় করে অনুনয়ের দৃষ্টিতে তাকালো,বিনয়ি দৃষ্টিতে তাকিয়ে ইশারা করলো চলে যাওয়ার জন্য।
তাকরিম থেমে গেলো, রাগে জেদে স্বজোরে একটা ঘুষি বসালো কংক্রিটের শক্ত দেয়ালে।তারপর হিংস্র নেকড়ের ন্যায় ফোসফাস করতে করতে বেড়িয়ে গেলো কক্ষ থেকে।

তাকরিম বেড়িয়ে যেতেই তপ্ত শ্বাস টানলো নিস্পা।ত্রিজয়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো,

“আমি সত্যিই সিরিয়াস মুডে আছি।”

ত্রিজয় কামুক চোখে নিস্পার দিকে তাকিয়ে রস্য কন্ঠে বললো,

“নিজেকে কন্ট্রোল করো মিসেস চাটনি,হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরতে দেও আগে।তারপর না হয় তোমার মুড আরেকটু কড়া করে দিবো।”

নিস্পা প্রচন্ড রেগে গজগজ করে বললো,

“আপনি কিন্তু অতিরিক্ত করছেন ফাজলামোর একটা লিমিট থাকে।”

“আমি লিমিট ক্রশ করতে পছন্দ করি।”

“যা ইচ্ছে করুন,আমাকে মুক্তি দিন।”

“মুক্তি চাইলে যে মৃত্যুও কবুল করতে হবে মিস চাটনি।”

“এই এই খবরদার আর একবারও চাটনি ফাটনি ডাকবেন না,চাটনি আবার কি হ্যাঁ?”

ত্রিজয় এক হাত তুলে টেনে খুলে ফেললো তার অন্য হাতে লাগানো স্যালাইনের ক্যানাল,নিস্পা ব্যাতিব্যাস্ত নয়ন কিছু বলতে নিলেই ত্রিজয় গালে হাত রাখলো তার,ফিসফিসিয়ে বললো,

“চাটনি হলো চেটে খাওয়ার জিনিস, কখনো খাও নি নাকি?”
নিস্পা ঝাড়া মেরে সরিয়ে নিলো ত্রিজয়ের হাত চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

“আমি খাই বা না খাই। সেই কৈফিয়ত আপনাকে দিবো না।ফারদার এসব আজাইরা নামে আমাকে ডাকবেন না।যাচ্ছি আমি।”

বলেই উঠে দাড়ালো নিস্পা,চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই নিস্পাকে রাগানোর জন্য পুনরায় পিছু ডাকলো ত্রিজয়,

“এই মিসেস চাটনি?”

নিস্পা কটমট করে তাকিয়ে বললো,

“আবার কেন ডাকলেন?কি সমস্যা?”

ত্রিজয় ঠোঁট কামড়ে পিচলে হেসে বললো,

“কাছে এসো একটু চেটেচেটে খাই।

“আপনার মুখে ঠাডা পড়ে না কেন?”

“যার বাসরে ঠাডা পড়ে আছে তার মুখে ঠাডা পড়ে কি লাভ কলিজা?যৌবন তো শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

“অসভ্য ইতর লোক।ঠাডা পরে মরেন আপনি।”

বলেই গটগট করে বেড়িয়ে গেলো নিস্পা।ত্রিজয় সেদিকে তাকিয়ে বুকে হাত রেখে আওড়াল,

“আর কতবার মরবো মিসেস চাটনি ?তোমার জন্য মরতে মরতে ক্লান্ত হয়ে যাবো, কিন্তু পিছু ছাড়বো না।কিছুতেই না।”

পরপরই ঠোঁট গোল করে সুর ধরলো,মোহিত কন্ঠে ধরলো গান,

“তোমার প্রেমে আমি পড়েছি,
বেঁচে থেকেও যেন মরেছি।
তোমার নামে বাজি ধরেছি
বারেবার,,,,,,,,,,,,,,
_____________

কাল রাত শুধু রাত ছিলো না,কাল রাত ছিলো নিয়তি পাল্টানোর একটা অধ্যায়,অভিশপ্ত জীবনে নতুনত্ব আসার একটা করাল মূহুর্ত।
কাল রাতে ওই গ্রাম থেকে সুস্থভাবে বেড়িয়ে আসতে পারেনি অনু আর কিয়ান।গ্রামের এতোগুলো মানুষের মধ্যে কিয়ানের ক্ষমতা দেখানোর মতো কিচ্ছু ছিলো না।এক প্রকার বাধ্য হয়েই কবুল করতে হয়েছে ওই থার্ডক্লাস উগ্র অসভ্য মেয়েটাকে।রাগে মস্তিষ্ক ফেটে যাচ্ছে কিয়ানের।ভেতরে জেগে উঠেছে সাইকো সত্তাটা।মন চাইছে এক্ষুনি এই মেয়েটার মাথাটা কেটে আলাদা করে দিতে।যেখানে তার হৃদয়ে তার বাপ মায়ের প্রতিই মায়া নেই সেইখানে এই মেয়ে তো তুচ্ছ পিপড়ে।যখন মন চাইবে তখনই মেরে ফেলতে পারবে।আপাতত মেয়েটাকে বাচিঁয়ে রাখা জরুরি, মেয়েটাকে গুটি বানিয়েই রুপাঞ্জেল কে কব্জা করতে হবে তার।

এই বিকৃত চিন্তা মাথায় নিয়েই অনুকে নিয়ে ঢাকায় বেক করেছে কিয়ান।নিজের বাসায় নিয়ে এসেছে সাদরে।গরু কোরবানি করার আগের দুদিন যেমন গরুকে যত্নআত্মি করা হয় ঠিক তেমনই অনুকে মারার আগে একটু বাজিয়ে দেখবে সে।

এতো কিছুর টু শব্দটিও জানে না অনু।তার মন বিষাধে পরিপূর্ণ।ওই গ্রাম থেকে ফিরে এসে নিজেকেই নিজে গালাগাল দিচ্ছে সে।তারই দোষ, কেন যে টয়লেটের খোঁজে বের হলো? যদি বের না হতো তাহলে কি আর এমন ভাবে জীবন বদলে যেত?তার জীবনে এমপি মশাই এর নামের জায়গায় সে অন্য কাউকে চিন্তাও করতে পারে না।ওই জঘন্য মানুষ টাকে তো একদমই নয়।এক হিশুর চক্করে যে তার জীবনটাই হিশুময় হয়ে যাবে সে কথা কল্পনাই করতে পারে নি অনু।

এখন তো টয়লেট পেলেই কলিজাটা কেঁপে উঠবে।মনে পড়ে যাবে এক লামহায় জীবনটা তছনছ হয়ে যাওয়ার মূহুর্তটা।কথাগুলো ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওয়াশ রুম থেকে বেড়িয়ে এলো অনু।আসার পর লম্বা একটা শাওয়ার নিয়েছে,ধুয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে সমস্ত অবসাদ।অথচ শরীরের ক্লান্তি ধুয়ে ফেললেও মনের ভেতর বসত গড়া এক দলা যন্ত্রণা কিছুতেই মুছে ফেলা গেলো না,কিছুতেই না।

অনু বেড়িয়ে আসার পরপরই ওয়াশরুমে ঢুকলো কিয়ান।তার অভিব্যক্তি শুন্য।গুমোট মুখ দেখে কিচ্ছুটি আঁচ করার উপায় নেই।কেমন নির্জিব,নির্বিকার,ঝড় আসার আগের মতো ঠান্ডা ভয়ংকর।

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এতোক্ষণ সিগারেট টানছিলো সে,হুইস্কির বোতল টা শেষ করেছিলো ঢকঢক করে, মনে মনে কষে নিচ্ছিলো ভবিষ্যতের প্রত্যেকটি কদমের হিসাব।তবে এখন গোসল করা জরুরি, নয়তো শরীরের অবসাদ মনে জেকে বসবে যেটা কিয়ান একদমই অপছন্দ করে।

কিন্তু ওয়াশরুমে ঢুকেই বিপত্তিতে পড়ে কিয়ান।অনুর একটা ইনার বালতিতে রয়ে গিয়েছে ভুল করে,যেটায় নজর পড়েছে কিয়ানের।মেয়ে মানুষের লজ্জা নিবারন বস্তু দেখেও একটুও প্রতিক্রিয়া দেখালো না কিয়ান বরং বিরক্তিতে দাঁতে দাঁত চাপলো বস্তুটির দিকে তাকিয়ে।অতঃপর একটি স্ট্যান্ডের মাথায় তুলে নিলো কালো রঙের ইনারটা।ওভাবেই বাইরে বেড়িয়ে এসে সোজা দাড়ালো অনুর সামনে,দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

” এসব আমার ওয়াশ রুমে কেন?”

কিয়ানের হাতের স্ট্যান্ডে নিজের ইনার টা দেখেই অস্বস্তিতে পড়ে গেলো অনু,বিস্ময়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো এই ঘাড়ত্যাড়া মানুষ টার গম্ভীর মুখের দিকে,পরপরই চোখ মুখ বিকৃত করে বললো,

“ছিঃ।আপনার লজ্জা করছে না এভাবে ওপেনলি এসব জিজ্ঞেস করতে?”

“আমি কি তোমাকে বউ ভাবা শুরু করেছি নাকি যে আমার লজ্জা করবে?এমনিতেও ওসব থার্ড ক্লাস জিনিস আমার নেই।”

অনু ছো মেরে ইনার টা নিজের হাতে নিয়ে নিলো,রাগান্বিত কন্ঠে বললো,

“আপনার লজ্জা নেই কিন্তু আমার আছে।ফারদার আমার ব্যাক্তিগত জিনিস ধরবেন তো দূর চোখ তুলেও তাকাবেন না।”

তুরন্ত অভিব্যক্তি পাল্টে ফেললো কিয়ান,কপালের ভাজ ভারি হয়ে এলো তৎক্ষনাৎ,চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলো,

“ওয়েট তোমার লজ্জা আছে মানে?তুমি নিজেকে আমার বউ ভাবা শুরু করেছ নাকি?”

অনু রাগে নাকের পাটা ফোলাল,দুই ঠোঁট উঁচিয়ে বললো,
“নিজেকে আপনার বউ ভাবতে বয়েই গিয়েছে আমার।আমি এমপি মশাইকে আমার হৃদয়ের সম্পূর্ণটা দিয়ে ভালোবাসি।”

“নিজের চেহারা দেখেছ আয়নায়?তোমার মতো কালো মেয়ে যে এমপিকে ভালোবাসো এটা শুনলে এমপি হার্ট অ্যাটাক করে মরে যেত।”

“এই একদম চেহারার খোটা দিবেন না বলে দিলাম।আমি মোটেও কালো নই।আমি শ্যামলা।”

“সেই একই কথা।কালোকে মানুষ ভদ্রতা দেখাতে শ্যামলা বলে।আমি ভদ্রতা দেখাতে অপছন্দ করি।যতসব থার্ডক্লাস কাজ।”

“আপনাকে আমার সহ্য হচ্ছে না।”

“তোমাকে আমার খুব সহ্য হচ্ছে,মন চাইছে মাথাটা কেটে আলাদা করে দেই।”

“আমার মাথায় হাত দেওয়ার আগে আপনার হাতটা কেঁটে আলাদা করে ফেললে কি হবে?”

“কিছুই হবে না।জাস্ট মেরে বালুচাপা দিয়ে দিবো।”

অনু এক প্রকার তেড়ে এসে দাড়ালো কিয়ানের মুখোমুখি,দাপটিয় কন্ঠে বললো,

“আসুন না একবার,ছুয়ে দেখান।কতবর সাহস আমিও দেখি।”

কিয়ান ক্রুদ্ধ হয়ে অনুর হাতটা মুচড়ে ধরলো একপাশে, তারপর অনুর হাতের ইনারটা কেড়ে নিয়ে পায়ের নিচে পিষতে পিষতে বললো,

“এসব থার্ডক্লাস জিনিস ছুতে পারলে তোমাকে ছোয়া দু মিনিটের কাজ।”

অনু ক্ষুব্ধ হয়ে ধাক্কা মারলো কিয়ানের বুকে,চেচিয়ে বললো,

“আপনি একদম ঠিক করছেন না,আমি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাবো।”

কিয়ানের রাগ এবার সপ্তম আকাশে পৌছেচে,ক্রোধে জ্বলে উঠেছে দুই চোখ,পাশের টেবিল থেকে একটা হুইস্কির বোতল তুলে সজোরে আঘাত করলো দেয়ালে,বোতলটা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হতেই কেঁপে উঠলো অনু,অথচ কোনরুপ হেলদোল হলো না কিয়ানের,বরং তার ভেতরে জেগে উঠা সাইকো টাকে প্রাধান্য দিয়ে ভাঙা কাচের বোতলটা সোজা চেপে ধরলো অনুর গলায়,হিংস্র কন্ঠে বললো,

“তোমাকে আমি দাওয়াত দিয়ে আনি নি যে আপ্যায়ন করে থাকতে বলবো।তোমাকে কিডন্যাপ করে এনেছি আমি।”

অনু শুকনো ঢোক গিললো,হুইস্কির ভাঙা বোতলের চৌকল অংশের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বললো,

“এটা নামান,আমার গলা কেটে যাবে।”

“সো হোয়াট?তোমাকে পিস পিস করে কাটার জন্যই এনেছি আমি।প্রতিদিন এক টুকরো করে কেটে রুপাঞ্জেলকে পাঠাবো।রুপাঞ্জেল তোমাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আমার কাছে চলে আসবে।”

“আমি কিন্তু আপনার স্ত্রী,আমার গলা কাঁটতে হাত কাঁপবে না আপনার?”

“এসব থার্ডক্লাস সম্পর্ক মানি না আমি।”

অনু আর চোখে তাকালো কিয়ানের ফর্সা হাতের দিকে,কিয়ানের অমনোযোগের সুযোগ লুপে নিয়ে আচানক দু হাতে খামচে ধরলো কিয়ানের হাত,কিয়ান কিছু বুঝে উঠার আগেই,নিজের পেলেপুষে বড় করে তোলা বত্রিশটা দাঁত বসিয়ে দিলো কিয়ানের হাতে,কর্কষ কন্ঠে চেচিয়ে বললো,

“এই থার্ডক্লাসের বাচ্চা,আমিও তোকে মানি না স্বামী হিসেবে।তাড়াতাড়ি ডিভোর্স এর ব্যাবস্থা কর নয়তো কামড়ে লাল করে দেবো।”

বিহ্বলতায় থ হয়ে রইলো কিয়ান,আচমকা এই দু ইঞ্চি লিলিপুট এমন কাজ করবে কল্পানাতেও ভাবে নি সে।ব্যাপারটা বুঝে উঠা মাত্রই মাছি মারার মতো করে হাত ঝাড়া দিয়ে অনুকে দূরে সরালো সে,গর্জনমিশ্রিত কন্ঠে বললো,

“হোয়াট দ্যা হেল?বাচ্চা তুমি?বাচ্চাদের মতো কামড়ানোর স্বভাব কোত্থেকে এলো।ছিঃ যতসব থার্ডক্লাস কাজ।”

রাগে ফোসফোস করছে অনু,কিয়ানের মুখে থার্ডক্লাস শব্দটা শুনলেই রাগটা হুরহুর করে বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুন হারে,সে আর কিছুতেই সহ্য করতে পারলো না কিয়ানের এসব কথাবার্তা,তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,

“থার্ডক্লাসের বাচ্চা আর একবার থার্ডক্লাস বলবি তো থুথু মারবো বলে দিলাম।”

কিয়ান দমিত ক্রোধে ভরা দৃষ্টিতে তাকালো অনুর দিকে,চোয়াল শক্ত করে দেয়ালে ছুড়ে মারলো হাতে ধরে রাখা হুইস্কির বোতল টা,দমকা শ্বাস টেনে জিভের আগা কামড়ে ধরে দমিত কন্ঠে আওড়াল,

“ডিজগাস্টিং। থার্ডক্লাস মেয়ে কোথাকার।”

বলেই হনহনিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো কিয়ান।অনু থ মেরে দাঁড়িয়ে কিড়মিড় করে রাগ দেখালো,

“আয়ায়ায়ায়া।আবারও।”

____________

রাত দশটা,সবাই চলে গিয়েছে।হাসপাতালে এগারো নাম্বার ফ্লোরটা প্রায় খালি।ত্রিজয়কে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।বেঘোরে ঘুমাচ্ছে সে।ইভান কাল রাতে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হসপিটালে এসেছে।
সেই থেকে দৌড়াদৌড়ি করেই যাচ্ছে।ত্রিজয়ের প্রতি অন্যরকম টান তার।যেমনটা আপন ভাইয়ের প্রতি থাকে ঠিক তেমনও ধরা যায়।

ছোটবেলায় ইভানকে রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিলো ত্রিজয়ের দাদু।নিজের নাতির মতোই মানুষ করেছে তখন থেকে।ত্রিজয় তো অন্যরকম একজন মানুষ।একটা বাইরের ছেলে এসে তার আদরে ভাগ বসালো অথচ লোকটা তেমন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।বরং যেদিন ইভানের পছন্দের জিনিস টা রান্না হতো সেদিন নিজের ভাগেরটাও ইভানকে খাইয়ে দিতো ত্রিজয়।কি না করেনি, এই অনাথ রাস্তার কুড়িয়ে পাওয়া রাস্তার ছেলেটার সাথে বেড শেয়ার অব্দি করেছে।পড়াশোনার জন্য বিদেশেও পাঠিয়েছে শেষ পর্যন্ত। যদি ত্রিজয় না থাকতো তাহলে এতো বড় কিভাবে হতো ইভান?সবই তো ত্রিজয়ের অনুদান, যদিও ত্রিজয় তাকে ভাইয়ের মতোই স্নেহ করে তবুও ইভান কৃতজ্ঞ, ত্রিজয়ের প্রতি এই কৃতজ্ঞতা কখনোই অস্বীকার করতে পারবে না ইভান।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই সামনের দিকে দৃষ্টি থমকালো ইভানের।সামনেই কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রা।চিত্রাকে দেখেই হাত ঘড়িতে নয়ন বুলালো ইভান,দশটার বেশি বাজে,এই সময়ে চিত্রার উপস্থিতি আশানুরূপ।

ইভান এগিয়ে গেলো চিত্রার দিকে,চিত্রার মুখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কৌতুহলি কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“কি হলো? এমপি মশাই তো আরও আধঘন্টা আগেই চলে গিয়েছে। তুমি গেলে না যে?”

চিত্রা জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে উত্তর দিলো,

“আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”

চিত্রার কথা শুনে ভ্রুকুটি তুললো ইভান,ঠোঁট বাকিয়ে বললো,

“এই মেয়ে লাইন মারতে চাইছো নাকি আমাকে?”

চিত্রা চোখ গোলগাল করে তাকালো ইভানের দিকে,রাগচটা কন্ঠে বললো,

“আজাইরা কথা কম বলুন।আমার গাড়ির চাবি আপনার কাছে।”

চিত্রার কথা শুনে জ্বিভ কাটলো ইভান,ফোকলা হেসে বললো,

“ওহ সরি!ভুলেই গিয়েছিলাম।”

“অন্যের জিনিস নিয়ে আপনার ভুলে যাওয়ার অভ্যাস আছে বলেই বসে ছিলাম এতোক্ষণ।গাড়ি রেখে চলে গেলে যদি অন্য কোথাও বেঁচে দেন।”

“এমন ভাবে বলছো যেন কত কি নিয়ে আর ফেরত দেইনি।”

চিত্রা মুগ্ধ নয়নে তাকালো ইভানের ঘামে ভেজা তৈলাক্ত মুখের দিকে।লোকটা শ্যামলা।ক্লিন সেভ গাল,সবচেয়ে সুন্দর তার ঠোঁট গুলো, ত্বক কালো অথচ দুই ঠোঁট টকটকে লাল, এটাই হয়তো তার বিশেষত্ব।ফোকলা হাসলে কি নিদারুণ লাগে লোকটাকে।চিত্রা সেদিকে তাকিয়েই আনমনে বিরবির করলো,

“নিয়েছেন তো,মূল্যবান জিনিসটাই তো নিয়ে নিয়েছেন।আমার হৃদয়টা নিয়ে গিয়ে বেমালুম ভুলে গিয়েছে।হৃদয়ের বিনিময়ে হৃদয় হস্তান্তর করতে হয় সেটাও তো ভুলে বসে আছেন।”

ইভান এগিয়ে এসে চাবিটা বাড়িয়ে দিলো চিত্রার দিকে,বললো,

“এই নেও ধর তোমার চাবি।”

“আমি নিয়ে কি করবো?”

ইভান ভ্রুকুটই তুলে বললো,

“তবে কি তুমি আমাকে গাড়িটা গিফট করতে চাইছো?”

“এক লাইন বেশি বুঝেন কেন?গাড়িটার এমপি মশাইয়ের,উনার গাড়ি আমি আপনাকে গিফট করতে যাবো কোন দুঃখে?আমি বলতে চেয়েছি আমি গাড়ি ড্রাইভ করতে যানি না।”

“তো?”

“তো আর কি? আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসুন।”

“পারবো না।হসপিটালে স্যার একা।”

“সমস্যা নেই।আমার বাসা কাছেই।বেশিক্ষণ লাগবে না।”

ইভান চুপ থেকে কিছুক্ষণ ভাবলো।কাল থেকে মেয়েটা হেল্প করছে তাকে,বিনিময়ে এটুকু হেল্প করাই যায়,যেতে যেতে না হয় একটু অনুর খোঁজ খবর নেওয়া যাবে।
অনুর কথা ভেবেই মুচকি হাসলো ইভান।সম্মতি যানিয়ে বললো,

“ওকে। চলো।”

“হুম চলুন।”

_______

লিফট দিয়ে এগারো তলা থেকে নিচতলায় নামতে নামতেই বাধলো বিপত্তি।পিরিয়ড প্রবলেম শুরু হয়েছে চিত্রার।এজন্যই এতোক্ষণ ধরে চিনচিন করে পেট ব্যাথা করছিলো বোধহয়। গ্যাস্টিকের ব্যাথা ভেবে খুব একটা গুরত্ব দেয় নি।কিন্তু এ সময় যে পিরিয়ড সমস্যা শুরু হতে পারে এ বিষয় টা একবারের জন্যেও মাথায় আসেনি মেয়েটার।

ইভান আগে আগে হাটছে,পার্কিং লডে গাড়ি রাখা, সেদিকটাতেই যাচ্ছে সে।তবে চিত্রার আর হাটার জো নেই,এক কদমও এগোনো যাবে না এ অবস্থায়, কি করবে কিছুতেই ভেবে পেলো না মেয়েটা।ভিষণ অস্বস্তিতে ভুগে অবশেষে পিছু ডাকলো ইভানকে,

“শুনুন।”

ইভান থেমে পেছনে তাকালো,জিজ্ঞেস করলো,

“আবার কি?”

চিত্রা চিবুক নামালো অগ্রভাগে,বলতে চাইলো,

“আমার আসলে।”

ইভান কিছু একটা চিন্তা করে এগিয়ে এসে দাড়ালো চিত্রার কাছে, জিজ্ঞেস করলো,

“তওমার কি? বলবে তো?”

“একটু সমস্যা হয়েছে।”

“কি সমস্যা?”

লজ্জায় চিত্রার হাসফাস লাগছে, কিভাবে বলবে ভেবেই পাচ্ছে না বেচারি,উসখুস করে বললো,

“একটা উপকার করুন না প্লিজ।”

“কি সমস্যা আগে সেটা বল।তারপর উপকার।”

অনু ঠোঁট কামড়ে বললো,

“আমার।”

অনুর কথা শেষ করার আগেই ইভান বলে বসলো,

“তোমার কি?টয়লেট পেয়েছে?টয়লেটে যাবে?”

“ধুর,,বলতে তো দিবেন।”

“তাড়াতাড়ি বল না রে আম্মা,যেভাবে বলা শুরু করেছ আমারই টয়লেট পেয়ে যাচ্ছে।”

চিত্রা চোখ বন্ধ করে এক নিশ্বাসে বললো,

“আমার,, আমার পিরিয়ড হয়েছে।”

ইভান চুপ হয়ে গেলো। চিত্রা অস্বাভাবিক ভাবেই ভিষন লজ্জায় চিবুক নামিয়ে রেখেছে,এমন পরিস্থিতিতে চিত্রাকে স্বাভাবিক রাখার জন্য কোনরুপ প্রতিক্রিয়া দেখালো না ইভান,অভিব্যাক্তি বিহীন বললো,

“এই সামান্য বিষয়টা বলতে এতো সময় লেগেছে।তুমি তো দেখিছি ভারি অভদ্র নারী।”

চিত্রা রা রু করলো না,দৃষ্টি নমিত রেখে নখ খুটলো কেবল,

“আচ্ছা ওয়াশরুমের কাছে গিয়ে দাড়াও আমি আসছি।”

ইভানের কথা মতো চিত্রা পা টিপে টিপে ওয়াশরুমের কাছে এসে দাড়ালো। প্রায় মিনিট দশেক সময় নিয়ে হাজির হলো ইভান।হাতে তার ন্যাপকিনের প্যাকেট নয়,বরং ন্যাপকিনের প্যাকেট এর যায়গায় পেম্পাসের প্যাকেট।চিত্রা পেম্পাস দেখেই কপাল কুচকালো, বিব্রত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“একি এটা কি?”

ইভান ভাবলেশহীন উত্তরে বললো,

“কেন?এটাই তো এই মূহুর্তে তোমার প্রয়োজন।”

“এটা বাচ্চাদের পেম্পাস।”

“তো কি হয়েছে?বাচ্চারা যে কারণে পড়ে তোমরাও তো সে কারণেই পড়বে তাই না?”

চিত্রা রেগে বোম হয়ে গেলো, ক্রুদ্ধ স্বরে বললো,

“মাথা খারাপ আপনার?আমি কেন বাচ্চাদের পেম্পাস পড়তে যাবো?আপনি ন্যাপকিন চিনেন না?”

“আরেহ সমস্যাটা কোথায় আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না।কাজ তো একই তাই না?এটা কিনেছি লাভে ওইটা কিনলে শুধু শুধু অপচয় হতো।”

“মানে?”

“মানে পেম্পাস পাঁচ ফিস একশো টাকা।আর ন্যাপকিন ছয় পিস একশো ষাট টাকা।তাই চিন্তা করলাম একশো ষাট টাকায় ছয় পিস না কিনে একশো টাকায় পাঁচ পিস কেনাটাই বেটার হবে।”

চিত্রা রাগে ফায়ার,ইভানের কথা শুনে তার চেয়ে বেশি অবাক, তাজ্জব হয়ে বললো,

“মানে সামান্য ষাট টাকা বাঁচাতে আপনি ন্যাপকিনের বদলে পেম্পাস এনেছেন?ছিঃ আপনি এমন কিপ্টেমি কোত্থেকে শিখেছেন?”

ইভান চিত্রার হাতে পেম্পাসের প্যাকেটটা ধরিয়ে দিতে দিতে বললো,

“অভদ্র নারী এটা কিপ্টামি না এটাকে হিসেবি পুরুষ বলে।ভবিষ্যতে আমি সংসারি হবো।”

পরপরই ইভান পকেট থেকে একটা ফোন বের করে চিত্রার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

“চার ঘন্টা হলো তোমার ফোন আমার কাছে ইচ্ছে করে খোজো নি নাকি মনে ছিলো না?”

“চিত্রাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মোবাইলের স্ক্রিন টা অন করে ইভান নিজেই বললো,

” অয়েলপেপার টা বাজে দেখাচ্ছে।একদম শাকচুন্নি টাইপ।”

চিত্রা জ্বালামাখা চাহনিতে তাকালো ইভানের দিকে,ফোনটা ছো মেরে নিতেই যাবে ঠিক সেই মূহুর্তে, টুং টুং করে স্ক্রিনে ভেসে উঠলো দুটো মেসেজ।ইভান না চাইতেও কেন যানি চোখ বুলালো,লেখাগুলো পড়লো স্পষ্ট,

“অনু মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে ম্যাম।ডক্টর কিয়ানের সাথে পালিয়েছে হসপিটাল থেকে।আমি পিছু নিয়েছিলাম তাদের।কিন্তু একটা গ্রামে ঝামেলা লেগে বিয়ে হয়ে গিয়েছে ওদের।মেয়েটা এখন আর অনাথ অসহায় নেই।ও এখন মিসেস কিয়ান চৌধুরি।”

চলবে,,,,,,,,,,

⭕যারা ত্রিজয়ের কলিজা ডাকটা নিয়ে একটু নারাজ ছিলা তাদের জন্যই পাল্টে ফেললাম। এখন থেকে মিসেস চাটনি ডাকা হবে।নামটা কেমন জানাবে কিন্তু।আর হ্যাঁ নিস্পা কিন্তু সুফির মুখোমুখি হতে চলেছে খুব শীগ্রই।গল্পের মোড় ঘুরে গিয়েছে।1k রিয়েক্ট দ্রুত চাই⭕

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here