#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:58(টুইস্ট রিভিল পার্ট)
হসপিটালে আজ চতুর্থ দিন ত্রিজয়ের।শরীর এখনো পুরোপুরি সেড়ে উঠে নি।তবে ত্রিজয়ের দ্বারা এর চেয়ে বেশি সময় শুয়ে থাকা সম্ভব না।চার দিন চার বছরের মতো লাগছে তার কাছে।নিস্পা সেদিনের পর আর আসেনি,অসুস্থ স্বামীকে এক নজর দেখতেও মন চায়নি তার।কিন্তু ত্রিজয় তো আর কঠোর হতে পারে না,তার মনটা যে বউয়ের বিরহে আকুপাকু করছে।নিস্পাকে একটা নজর দেখার জন্য ছটপট করছে কলিজাটা।
ইভান এসেছে কিছুক্ষণ হলো।ত্রিজয়কে হসপিটাল থেকে রিলিজ করার জন্য রিসেপশনে ছিলো এতোক্ষন।ত্রিজয়ের শারীরিক কন্ডিশন বিবেচনা করে হসপিটাল কতৃপক্ষ কিছুতেই ত্রিজয়কে রিলিজ দিতে চাইলো না।পরবর্তীতে অনেক রিকুয়েষ্ট এর পর আরও একদিন থাকার কথা বলা হলো।
“আপনার কার্ড দিন স্যার।হসপিটালের বিল পে করতে হবে।”
ইভানের কথা কানে আসতেই বন্ধ চোখের পাতা খুলে তাকালো ত্রিজয়।ঠান্ডা দৃষ্টিতে ইভানের চুপসানো মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে নিলো পুনরায়।লঘু স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“হসপিটালের বিল কত এসেছে ইভান?”
ইভান এগিয়ে এসে দাড়ালো,স্পষ্ট স্বরে বললো,
“এক লাখ ছত্রিশ হাজার টাকা স্যার।
তরাগ করে চোখ খুললো ত্রিজয়,ত্রিজয়ের হটাৎ এমন রিয়েকশনে কিঞ্চিৎ ভিমরি খেলো ইভান,অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞে করলো,
” কিছু হয়েছে স্যার?”
ত্রিজয়ের অভিব্যক্তি শক্ত,তাকানোর ধরনটাও আলাদা,সে দাঁতে দাঁত পিষে প্রত্যুত্তরে বললো,
“এতগুলো টাকা বিল আসে কীভাবে?শুধু শুয়ে থাকার জন্য এতো টাকা!অসম্ভব!”
বেড থেকে উঠে বসলো ত্রিজয়,ইভানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার বউকে নিয়ে এসো ইভান,অন্তত বোন মনে করে হলেও বাসর করে টাকা টা উশুল করতে হবে।”
ইভান দাঁতে দাঁত পিষে কটমট করে তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,কিড়মিড়িয়ে আওড়াল,
“শালা তোর টাকার কপালে বিলাই মুতুক।”
ইভানের বিরবিরানি শুনতে না পেয়ে ত্রিজয় ভ্রুকুটি তুলে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু বললে?”
ইভান দ্রুত দু পাশে মাথা নাড়ালো,তড়িঘড়ি করে বললো,
“না স্যার তেমন কিছু না।আসলে আপনার সৎ বোন না মানে সৎ বউ আপনাকে দেখতেও আসতে চান না।বাসর তো বিলাসিতা।”
ত্রিজয় চোখ পাকিয়ে তাকালো,সংক্ষিপ্ত করে জিজ্ঞেস করলো,
“কেন?”
ইভান আইঢাই করলো।একটু আগে ফোন করেছিলো নিস্পা,ত্রিজয়ের খবর নেওয়ার জন্য। তারপরই ডিভোর্স এর বিষয়ে বলেছে,কিন্তু এই কথাটা ত্রিজয়কে কি করে বলবে ভেবে পেলো না ইভান।ভাবনার মধ্যেই আবারও শোনা গেলো ত্রিজয়ের ঠান্ডা স্বর,
“কি হলো ইভান?”
ইভান নড়েচড়ে দাড়ালো,শুকনো ঢোক গিলে বললো,
“ইয়ে স্যার উনি জানিয়েছেন উনি ডিভোর্স লেটার পাঠাবে শীঘ্রই।”
ত্রিজয়ের অভিব্যক্তি এবারেও শান্ত,সে ক্ষীণ কন্ঠে বললো,
“মজা করছো ইভান?আমি কিন্তু তোমার সেলারি কেটে দেবো।”
“মজা করছি না স্যার।উনি নিজে আমাকে ফোন করে আপনার খবর জানতে চেয়েছিলো।তারপরই ডিভোর্স এর কথাটা বললো।”
“ও ফোন পেলো কোথায়?”
“উনি এমপি মশাই এর বাড়িতে আছে।হয়তো,,,,,”
এবার আর স্থির বসে থাকতে পারলো ত্রিজয়।রাগে লাথি বসালো পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা স্যালাইনের স্ট্যান্ডে,লোহার স্ট্যান্ডটা পড়ে যাওয়ার তীব্র ঝনঝনানি শব্দে ক্ষানিক ঘাবড়ালো ইভান,তবে কোন কিছু বলার সাহস পেলো না ত্রিজয়ের জেদের সামনে।ত্রিজয় নিজের হাতের ক্যানাল টা এক টানে খুলে ছুড়ে ফেললো, রাগান্বিত স্বরে বললো,
“এমপির বাড়িতে মানে?ও আমার লিগ্যাল ওয়াইফ,আমার অনুমতি ছাড়া ও কি করে এমপির বাড়িতে যায়।ওর কলিজায় এতো সাহস এলো কীভাবে?”
ত্রিজয় ক্ষুব্ধ হয়ে আরও কিছু ভাঙতে যাবে তার আগেই ইভান তার সবটুকু শক্তি দিয়ে দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো ত্রিজয়কে,উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
“শান্ত হন স্যার।আপনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হন নি।”
ত্রিজয় প্রচন্ড আক্রোশে ধাক্কা মারলো ইভানকে,ইভান টাল হারিয়ে পিছিয়ে গেলো দু কদম,ত্রিজয়ের তাতে ভাবন্তর নেই,মেঝেতে পড়ে থাকা স্যালাইনের স্ট্যান্ড টা উঠিয়ে আঘাত করলো নিজের ক্ষত শরীরের উপর,চেচিয়ে বললো,
“ওই এমপি একে একে আমার সব কেড়ে নিচ্ছে ইভান।আমার শান্ত হওয়া টা কি আদৌও জায়েজ?”
ত্রিজয়ের ক্ষত স্থান থেকে রক্ত বেড় হওয়া শুরু হয়েছে,সাদা ব্যান্ডেজ ভিজে উঠেছে লাল রক্তে।অথচ ইভান থ মেরে দাঁড়িয়ে রইলো এক যায়গায়,তার কানে বাজতে শুরু করলো ত্রিজয়ের একটা কথাই ‘আমার সব কেড়ে নিচ্ছে ইভান।’ইভান বাকরুদ্ধ হয়ে অস্পষ্ট আওড়াল,
“সব?আরও কি কেড়ে নিয়েছিলো স্যার?এমপির সাথে আপনার শত্রুতা আসলে কি নিয়ে স্যার।”
ইভানের চতুর প্রশ্নে হুশে ফিরে ত্রিজয়,কিঞ্চিৎ নারভাস হয়ে বলে,
“জান্নাতকে নিয়ে, কতবারই তো বললাম।”
“কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে জান্নাত এই খেলার একটা গুটি মাত্র।এর পেছনে কাহিনী ভিন্ন তাই না স্যার।”
ত্রিজয় হাতের স্ট্যান্ড টা ছুডে ফেললো।এগিয়ে গেলো ইভানের দিকে,তার নীল চোখে আজ একটু বেশিই রহস্য আঁচ করলো ইভান।তবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পেলো না একদম,কারণ তার সমস্ত প্রতিক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে ভেসে এলো ত্রিজয়ের বরফের মতো ঠান্ডা স্বর,
“জানতে চাও কাহিনি কি?”
ইভান ত্রিজয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে মোহাবিষ্টের ন্যায় উত্তর দিলো,
“যদি আপনি জানান।”
ত্রিজয় ঠোঁট বাকিয়ে বক্র হাসলো,হাত বাড়িয়ে ইভানের গালে মৃদু থাপ্পড় দিয়ে বললো,
“চল,,,”
_________________
গ্যারেজের বেজমেন্টে আজও সেই একই সুর ভেসে বেড়াচ্ছে।কি ভয়ংকর সুর,যেনো হেমিলিয়ন তার বাশির সুরে পুরো পৃথিবীকে বশ করে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ত্রিজয়ের পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ।পড়নের জিন্স প্যান্ট টা নাভির নিচের দিকে নামানো।বুকটা উন্মুক্ত তবে ব্যান্ডেজের কারনে অস্পষ্ট।হাতে তার সিগারেট, অন্যহাতে হুইস্কির বোতল।
হসপিটাল থেকে ইভানকে নিয়ে একপ্রকার লুকিয়েই বেড় হয়েছিলো তখন।সারাদিন নিজেই গাড়ি ড্রাইভিং করে বরিশাল গিয়েছে।সাথে করে নিয়ে এসেছে আজকের শিকার।
লোকটা নিস্প্রান কলের পুতুলের ন্যায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।এইটা সেই লোক, যার উপর গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করছিলো ত্রিজয়।কিন্তু এই লোকটার সাথে ত্রিজয়ের কি শত্রুতা সেটাই বুঝতে পারছে না ইভান।আসার সময় সারা রাস্তায় কেবল এই লোকটার পরিচয় জানার জন্য হাজারটা প্রশ্ন করে গলা শুকিয়ে ফেলেছিলো ইভান,অথচ ত্রিজয় লোকটার সম্পর্কে টু শব্দ অব্দিও বলে নি।
ত্রিজয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সে।আজ সকাল থেকে এইটুকুই তার ডিউটি।চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তার কিছু বলারও নেই, জানারও নেই।ত্রিজয়ের এমন হেয়ালিপনা ভাবাচ্ছে তাকে,ভেতর ভেতর রাগে ফুসছে খুব।
ত্রিজয় হটাৎ উঠে দাড়ালো।ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো লোকটার দিকে।তারপর টেবিলের উপর থেকে একটা চাপাতি উঠানো মাত্রই কলিজা কেঁপে উঠলো ইভানের,ত্রিজয়ের গতিবিধি আঁচ করতে পেরে সন্দিহান কন্ঠে শুধালো,
“কি করতে চাইছেন স্যার?”
ত্রিজয় কানেও তুললো না ইভানের কথা,তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নেড়েচেড়ে দেখতে লাগলো চাপাতিটতা। বক্র হেসে তাকালো ইভানের ঘামে ভেজা মুখের দিকে।অতঃপর?অতঃপর আচমকাই ইভানকে ভড়কে দিয়ে একের পর এক কোপ দিতে শুরু করলো।মূহুর্তেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলো পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার শরীর।একেকটি কোপের সাথে ছিটকে আসা রক্ত গিয়ে পরলো ইভানের মুখের উপর।ঘটনার আকস্মিকতায় শিউরে উঠলো ইভান,চোখ বড়বড় করে আতংকিত কন্ঠে বললো,
“স্যার,,,,,,,!স্যার,,,,,,,!”
“স্যার,,,,,,,স্টপ স্যার,,,!স্টপ,,,,,,”
ত্রিজয় থামছে না।লোকটা চিৎকার করার সম টুকুও পায়নি, মরে গিয়েছে বোধহয়, অথচ ত্রিজয়ের হাত থামছে না।ক্ষুদার্ত বাঘের সামনে শিকার ছেড়ে দেওয়ার পর বাঘ যেমন খুবলে খুবলে তার শিকারকে ছিন্নভিন্ন করে খেয়ে ফেলে, ঠিক তেমন করেই লোকটাকে কুপিয়ে যাচ্ছে ত্রিজয়।তার সমস্ত রাগ জেদ ক্রোধ একজোট হয়ে এক উন্মাদ নেকড়ের ন্যায় নিজের শিকারকে নিঃশেষ না করা অব্দি থামবে না, কিছুতেই থামবে না।
ইভান আর নিতে পারলো না এই নৃসংশতা, সে ছুটে গিয়ে পেছন থেকে দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরলো ত্রিজয়কে,সন্ত্রস্ত কন্ঠে বললো,
” কি করছেন স্যার?একটা নিরপরাধ মানুষকে কেন এভাবে নির্মম ভাবে খুন করছেন?”
হাপালো ত্রিজয়,শান্ত হয়ে ধিম কন্ঠে বললো,
“নিরপরাধ?মানে তো ইনোসেন্ট ইভান।মৃত্যুর সময় সবাইকেই ইনোসেন্ট লাগে।”
“স্যার,,,কিন্তু আপনি কেন এসব করছেন?সজ্ঞানে কেন এতোগুলো খুন করছেন?”
ত্রিজয় উঠে দাড়ালো, রক্তে রঞ্জিত তার সাড়া শরীর,চোখ মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে তাজা রক্ত,সে এক হাতে মুখটা মুছে হাত ঝাড়া দিলো,তারপর অন্যহাতের চাপাতিটা ইভানের দিকে ছুড়ে দিয়ে বললো,
“কেচ ইট ইভান।”
ইভান দ্রুত কেচ করলো সেটা,স্তব্ধ কন্ঠে আওড়াল,
“স্যার,,,! ”
ত্রিজয় তার পা খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে বসলো কাউচের উপর।তারপর রক্তে ভেজা হাতেই ধরালো একটা সিগারেট,সুখ টান দিতে দিতে তরল কন্ঠে বললো,
“টেক আউট হিজ হার্ট, ইভান।”
আতংকে মুখ নীল হয়ে গেলো ইভানের,সে ত্রস্ত গলায় বলল,
“নো স্যার,,,অসম্ভব।”
ত্রিজয়ের চোখ মুখের ধরন পাল্টাতে শুরু করলো, অকস্মাৎ ইভানের নড়বড়ে হাতে ধরে রাখা চাপাতিটা নিয়েই সেকেন্ডের গতিতে বসিয়ে দিলো একদম হৃদপিন্ড বরাবর,ক্রোধিত কন্ঠে চেচিয়ে বললো,
“হৃদপিন্ড টা টেনে বেড় করে নেও ইভান।আই সে আগেইন ইভান।এই কুত্তার বাচ্চা আমার মায়ের খুনি।”
বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো ইভান,গলা শুকিয়ে এলো হটাৎ, দমবন্ধকর কন্ঠে আওড়াল,
“স্যার!”
ত্রিজয় ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিলো,জংলী পশুর ন্যায় টেনে ছিড়ে ফেললো শরীরে ব্যান্ডেজ গুলো,যন্ত্রণায় চোখ মুখ খিচে পুনরায় ক্রুদ্ধ কন্ঠে চেচিয়ে বলল,
“ইয়েস ইভান।এপর্যন্ত ছয়টা খুন করেছি আমি।ওরা আমার মায়ের খুনি ছিলো।”
ইভান স্তম্ভিত হয়ে গেলো,অবিশ্বাস্যে হা হয়ে গেলো মুখ।পাশের বার কেবিনেট থেকে একটা হুইস্কির বোতল হাতে তুলে নিয়ে ঢকঢক করে গিললো লাল তরল,গলা ভিজিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“কিন্তু কেন স্যার? আপনার মাকে কেন ওরা খুন করেছিলো?”
“আমার মায়ের কাছে কিছু ছিলো ইভান।একটা ছবি।যেই ছবির জন্য আমার দুই মাকে হত্যা করেছে ওরা।ছবিটার মোট দশটা টুকরো ছিলো।ছয়জন ছয়টা ভাগে ডেস্ট্রয় করেছে ছবিটা।আমার ওই বাকি টুকরো গুলো চাই ইভান।যার জন্য আমার মাকে খুন হতে হলো।”
“ওয়েট স্যার! দু দুটো মা মানে?”
“দু দুটো মা মানে আগের জন্মে আমার নিজের জন্মদাত্রী জননী আমাকে ফেলে রেখে কোত্থাও যান নি।তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন।আমার অজান্তে রানী ক্যাথরিন ওনাকে বন্দী করে রেখেছিলেন আমার নিজের মহলে।”
“মানে আপনার আম্মিজান বেঁচে ছিলো?”
“হ্যাঁ বেঁচে ছিলো।হয়তো সেদিন নিস্পার সাথে আসা বাচ্চা ছেলেটা অনেক কিছু দেখেছে।ছেলেটাকে সত্য গোপন করার উদ্দেশ্যে খুন করা হয়েছে।”
“আপনি কি করে এতো শিউর হচ্ছেন স্যার!”
“ছয় জনের কাছে পাওয়া ছয়টি কাগজের টুকরো মিলিয়েছি আমি,যেখানে একটা বাচ্চার ছবি আঁকা।যাকে নির্মম ভাবে খুন করা হচ্ছে,আমি খুব ভুল না হলে সেটা ওই বাচ্চা ছেলে সত্যই ছিলো।”
“এই ছবিটা কে এঁকেছিলো স্যার?”
“খুব সম্ভবত আমার আম্মি জান।যার চোখের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো।এই ছবিটাই একমাত্র, যেটা দ্বারা আমি নিস্পার কাছে নিজেকে নির্দোশ প্রমাণ করতে পারবো।”
“আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না স্যার।আপনার মায়ের আঁকা ছবি আপনার বর্তমান মায়ের হাতে এলো কীভাবে?”
“আমার আম্মিজানের একটা বোন ছিলো।যে আম্মিজানের খোঁজ করতে মহলে আসার পর বেঁচে ফিরে যেতে পারে নি।তার সাথে তার একটা ছোট মেয়েও এসেছিলো।আর সেই ছোট মেয়েটাই আমার বর্তমান মা।।”
“মানে?”
“আমার বাবার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আমার আম্মিজানকে ভালোবেসে নিকাহ করেছিলেন তিনি।কিন্তু ব্রিটিশ লর্ড হয়ে নিজের আত্মমর্যাদা খুয়ানোর ভয়ে আমার আম্মিজানকে স্বীকৃতি দিতে পারেন নি।কিন্তু যখন আমি জন্ম নিলাম তখন ব্রিটিশ লর্ড আমার আম্মিজানকে স্বীকৃতি দেওয়ার সীদ্ধান্ত নেন।কিন্তু রানী ক্যাথরিন সেটা মেনে নিতে পারেন নি।আমার আম্মিজানকে মহলে বন্দী করে সবাইকে ঘোষণা দেন আমার আম্মিজান অন্য কাউকে ভালোবেসে তার হাত ধরে পালিয়েছে।যদিও আমি সেই একটা কথা বিশ্বাস করেই আমার আম্মিজানকে ঘৃনা করতে করতে বড় হয়েছিলাম।
তারপর থেকেই আম্মিজান আমার মহলে আমার অগোচরেই দিনের পর দিন বন্দী থেকে নির্যাতিত হচ্ছিলো, আর আমি রানী ক্যাথরিন কে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে শুরু করলাম।
নিস্পা ব্রিটিশ মহলে আসার পর যেদিন সত্যের খুন হয়। সেদিন কিছু একটা ঘটেছে।খুব সম্ভবত সত্য আমার আম্মিজানকে দেখে নিয়েছিলো।যার জন্য আমার আম্মিজানের সামনেই সত্যকে খুন করেছে ওরা।আম্মিজান সুযোগ পেয়েছিলো সেদিন।পালিয়েছিলো ব্রিটিশ মহল থেকে।সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলো তার বোনের রেখে যাওয়া বাচ্চা মেয়েটাকেও।
কিছুদূর পালিয়ে গিয়ে ঘাপটি মেরে থাকার পর, সকাল হতেই যখন আমার আম্মিজান শুনতে পেলো সত্যকে খুন করার দায়ে আমি আমার প্রেয়সীকে হারাতে বসেছি তখন তিনি সীদ্ধান্ত নিলেন আমাকে সবকিছু জানিয়ে দিবেন।
কিন্তু তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো অন্য চিন্তা, তিনি আগে তার বোনের মেয়েটাকে একটা নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করলেন।তিনি সোজা চলে এলেন আমার চাচা লর্ড কার্ল এর কাছে।যাকে বাঙালী কন্যা বিয়ে করার অপরাধে ব্রিটিশ মহল থেকে বিতারিত করা হয়েছিলো।এবং বাঙালীদের মতোই খুব নিম্নমানের জীবন কাটানোর শাস্তি দেওয়া হয়েছিলো।আমার আম্মিজান উপায়ন্তর না পেয়ে ওই বাচ্চা মেয়েটাকে আমার চাচার কাছে রেখে যান।এবং ফিরে আসার সময় বুদ্ধি করে ওই খুনের একটা নকশা তৈরি করে দিয়ে যান তার কাছে।
মনে আছে তুমি যেদিন পালিয়ে মহলে প্রবেশ করেছিলে সেদিন কিছু কুকুর তাড়া করেছিলো তোমাকে?”
“হ্যাঁ। ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গিয়েছিল সেদিন।সেই ঐতিহাসিক ঘটনা মনে না রেখে উপায় আছে।”
“সেই কুকুর গুলো তোমার পিছু নয় বরং আমার মায়ের গায়ের গন্ধ পেয়ে তাড়া করেছিলো।”
“মানে?মানে সেই একই সময় আমার আম্মিজান সবার চোখের আড়ালে আমার সাথে দেখা করার জন্য মহলে প্রবেশ করেছিল।কিন্তু আফসোস আমি জানতেও পারি নি।”
“তারপর?”
“তারপর তো আর কিচ্ছু যানা নেই ইভান।আমার রাজ্য, আমার সাম্রাজ্য, আমার আত্মিয় স্বজন কাছের মানুষ সবাই তো ঝলসে গেলো পাপের আগুনে।হয়তো সেই আগুনে আমার আম্মিজান ও,,,,,,,,নয়তো নয়তো রানী ক্যাথরিন তাকে মেরে ফেলেছিলেন।”
“লর্ড কার্ল আমার মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষাতে ছিলেন।অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে সেই ছোট মেয়েটাও বড় হয়ে গেলো। যখন দেখলেন আম্মিজান আর ফিরলেন না তখন সেই মেয়েটার সাথে তার ছেলের বিয়ে দিয়ে দিলো।আর সেই নব দম্পতির ঘরেই জন্ম হলো ত্রিজয় তেজের।আমি বাঙালির সন্তান হয়ে ফিরেছি ঠিক, কিন্তু ব্রিটিশের রক্ত আমার শিরায় উপশিরায় বইছে ইভান।”
“বাপরেহ,,,,,,এতো বড় ইতিহাস!”
“সেখানেই শেষ নয় ইভান।আমার মায়ের এঁকে দিয়ে যাওয়া নকশাটা আমার দাদার কাছ থেকে আদায় করে নেওয়ার জন্য আমার মাকে খুন করা হয়েছিলো।শুধু খুন নয় আমার মায়ের শরীরের প্রত্যেকটা অর্গান খুলে রেখে দেওয়া হয়েছিলো পোস্ট মর্টামের নাম করে।আমার বাবা লিগ্যাল ডকুমেন্টস চাইতে গেলে ওরা কোন কাগজপত্রই দেখায় নি।বরং আমার বাবার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো আমার মায়ের লাশ।হসপিটাল টা ছিলো এমপি তাওহীদ তাকরিমের।তিনি বেআইনি ভাবে প্ল্যান করে করা খুনকে নরমাল মৃত্যুতে রুপান্তর করলো।বাঁচিয়ে দিলো আমার মায়ের খুনিদের,বড় একটা প্রফিট হাতিয়ে নিলো আমার মায়ের অর্গান বিক্রি করে।সেই থেকে আমার বাবা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লো।কয়েক মাসের মাথায় হ্যার্ট আ্যটাকে মৃত্যু হলো তার।আমি হয়ে গেলাম অনাথ।”
“কিন্তু পঞ্চাশ বছর পর এসে এই নকশার খোঁজ কে করলো স্যার?কে চায়না আপনি সত্যিটা জানুন।আপনি নির্দোষ প্রমান হোন,আপনি নিজের ভালোবাসা পেয়ে যান।”
“হয়তো সে যে আগের জন্মে সে যে প্রতিশোধ নিতে চায়।”
“আপনি বলতে চাইছেন রানী ক্যাথরিন,,,,,, ”
“হতেও পারে ইভান,আবার নাও হতে পারে।দেখা গেলো রানী ক্যাথরিনের সাথে যুক্ত কেউ এমনটা করেছে।”
“এসবের পেছনে আসল মাস্টার মাইন্ডকে কি করে খুঁজে বের করবেন স্যার?”
ত্রিজয় পায়ের উপর পা তুলে আয়েশ করে বসলো,দুই হাত দু দিকে মেলে দিয়ে মাথা এলিয়ে দিলো কাউচে,রহস্যময়ি কন্ঠে বললো,
“সেসব পরে ভাববো,আমার হাতে পায়ে নতুন ব্যান্ডেজ বাধো আগে।”
ইভান তাকালো ত্রিজয়ের দিকে,ব্যান্ডেজ না থাকায় খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে মনে তো হচ্ছে না, তাহলে ব্যান্ডেজ বাধার কি প্রয়োজন মাথায় ঢুকলো না ইভানের,
“কিন্তু স্যার! ব্যান্ডেজ থাকা না থাকায় কিচ্ছু আসবে যাবে না মনে হচ্ছে।”
ত্রিজয় পা দোলাতে দোলাতে পিচলে হাসলো, রহস্যময় কন্ঠে বললো,
“আছে ইভান আছে।কাল সকাল দশটায় থানার এসিপি আর কয়েকটা নিউজ চ্যানেল কে হসপিটালে আসার আমন্ত্রণ জানাতে হবে।”
চরম বিস্ময়ে কপাল কুচকে এলো ইভানের,বিহ্বলিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“মানে স্যার?কি করতে চাইছেন আপনি?”
ত্রিজয়ের হাতের সিগারেটটা পুড়তে পুড়তে ছাই হয়ে গেলো, ত্রিজয় শেষ অংশটুকু টোকা দিয়ে ছড়ে ফেলে বললো,
“এমপি মশাইয়ের আরামের ঘুম হারাম করতে চাইছি ইভান।”
____________
প্রতিটি অভিশপ্ত রাত একটু সুন্দর সকালের সূচনা করে, তবে প্রতিটি সুন্দর সকাল সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না।এই-যে অনু, তার প্রতিটি দিবস কাটে বিবষ যন্ত্রনায় হাসফাস করতে করতে।অনুশোচনা, আফসোস, না পাওয়ার গ্লানি, জীবনের চরম বাস্তবতা সব কিছু একজোট হয়ে তার প্রতিটি সকালকে করে দিচ্ছে মেঘে ঢাকা আকাশের মতোই অন্ধকার।তার সকালে সূর্য হাসে না,তার সকাল তাকে নরম রোদে ভেজার সৌভাগ্য দেয় না,বরং প্রখর তেজে পুড়িয়ে দেয় তার ভেতর বাহির সব।
সকাল হয়েছে প্রায় অনেক্ষন।খিদেয় পেট চু চু করছে অনুর।যন্ত্রনা আর কষ্ট সব ভুলিয়ে দিলেও খিদে ভুলিয়ে দিতে ব্যার্থ।খিদে পেলেই মাথা ঘোরায় অনুর,পেটে কিছু না পড়া অব্দি শান্তি লাগে না শরীরে।গত তিনদিন কিয়ান সময় মতো সার্ভেন্ট দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিতো অনুর ঘরে।অথচ আজ এতো বেলা হয়ে যাওয়ার পরও খাবারের নাম গন্ধও পেলো না,না তো দেখা পেলো সেই সার্ভেন্টের।আচ্ছা ওই খবিপড়ে শ লোকটা সার্ভেন্টকে ছুটি দিয়ে দিলো নাতো?আজ থেকে এই বাড়ির সমস্ত কাজ অনুকে দিয়েই করানোর প্ল্যান করে নি তো?
কথাগুলো ভাবতেই রিরি করে শরীর জ্বলে উঠলো অনুর।খালি পেটে ঘরে বসে না থেকে হনহনিয়ে বেড় হলো ঘর থেকে।
ডাইনিং টেবিলে বসে ব্রেকফাস্ট করছে কিয়ান।এক হাতে কাটা চামচে লেটুস পাতা মুখে দিচ্ছে আর অন্য হাতে স্ক্রলিং করছে ফোন।লোকটাকে খেতে দেখেই রাগে ফেটে গেলো অনু,ক্ষেপা ষাড়ের মতো তেড়ে এসে দাড়ালো কিয়ানের সামনে,কর্কষ কন্ঠে বললো,
“এই বাড়িতে যে আরেকটা মানুষও আছে সেটা বোধহয় আপনি ভুলে গিয়েছেন তাইনা?”
মোবাইলের স্ক্রিনে অনবরত চলতে থাকা বৃদ্ধাঙুল টা থেমে গেলো কিয়ানের,চোখ তুলে তাকালো অনুর মুখের দিকে,ছোট্ট করে বললো,
“তুমি মানুষ?”
কিয়ানের এমন প্রশ্নে চোখ মুখ কুচকে তাকালো অনু,কটমট করে বললো,
“আমাকে কি আপনার অন্য কিছু মনে হয়?”
কিয়ান তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখালো না,সে আবারও ধ্যান দিলো মোবাইলের স্ক্রিনে,ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“অহ আই সি,, তুমি মানুষ আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।”
ভেতরকার জেদ সংবরণ করে ফোস করে নিঃশ্বাস নিয়ে বললো,
“ফালতু কথা বাদ দিন।খিদে পেয়েছে আমার।কি খাবো?”
কিয়ান চুপচাপ লেটুস পাতা আর দু পিস ব্রেডের একটা প্লেট হাত দিয়ে এগিয়ে দিলো অনুর সামনে,অনু প্লেটের দিকে তাকিয়েই নাক ছিটকালো,বললো,
“ছেঃ এসব ঘাস পাতা আমি খাবো না।এসব ছাগলে খায়।”
কিয়ানের রাগটা চট করেই মাথায় চড়ে গেলো,নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেও দেখছি উপায় নেই,এই বাচাল মেয়েটা তাকে শান্ত থাকতে দিবে না কিছুতে।
কিয়ান টেবিলের উপর থেকে একটা ফল কাটার ছুড়ি উঠিয়ে নিয়ে সোজা তাক করলো অনুর গলায়,চাপা ভরাট কন্ঠে বললো,
“ইউ? আমাকে ইনডিরেক্টলি ছাগল মিন করছো?”
ঘটনার আকস্মিকতায় বেশ অনেকটা ঘাবড়ে গেলো অনু,ভয়ে চেপে ধরলো একটা চেয়ার,গলার উপর ধারালো ছুরির উপস্তিতি টের পেতেই শুখনো ঢোক গিললো সে,মিনমিনিয়ে বললো,
“না মানে মানুষ হয়ে ঘাস পাতা চিবোচ্ছেন কোন দুঃখে?আপনি ভাত খেতে পারেন না?”
কিয়ান রাগ সংবরণ করে ছুড়িটা নামিয়ে নিজের জায়গায় বসলো শান্ত হয়ে,গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ওসব থার্ডক্লাস খাবার আমি খাই না।”
অনু চিবিয়ে চিবিয়ে বিরবির করে বললো,
“ওরে খবিশের ঘরে খবিশ দুই টাকার বাহাদুরি দেখাস,খবর নিয়া দেখ তোর বাপ দাদা এই ভাতও ঠিক মতো খাইতে পায় নাই।”
অনুর ঠোঁট নড়তে দেখেই কিয়ান কপাল কুচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু বললে?”
তড়িত হাত পাখার মতো দু’পাশে মাথা নেড়ে না বোঝালো অনু,বোকা বোকা কন্ঠে বললো,
“নাহ!কিচ্ছু নাহ!কি বলবো?কিছু বলি আর আপনি আমার ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে দিবেন সেই সুযোগ তো দিচ্ছি না।দরকার হয় আরও তিনবেলা না খেয়ে থাকবো।”
কিয়ান কাটা চামচে লেটুস পাতার শেষ অংশটুকু মুখে দিতে নিয়ে থামলো,অনুর কথা শুনে না চাইতেও প্রসারিত হলো নিম্নোষ্ঠ,সাথে হেসে উঠলো তার দুই চোখ।নিজের হাসিতে নিজেই বিব্রত হলো কিয়ান।তৎক্ষনাৎ বেহায়া ঠোঁটের লাগাম টেনে ভরাট কন্ঠে বললো,
“ওইদিকে কিচেন আছে।কি খাবে রান্না করে খেতে পারো।”
অনু ঠোঁট উল্টে বাহবা দিয়ে বললো,
“বাহ! আপনি দেখি চোর হলেও ইমানদার আছেন।”
“ইউ,,,”
কিয়ান ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় ছুরিটা হাতে নিতেই।ভয়ে এক দৌড় লাগালো অনু,দৌড়ে যেতে যেতে বললো,
“খবিশ বেটা ইহ জীবনেও আমার মাথাকাটার স্বপ্ন পূরণ হবে না আপনার।”
কিয়ান এবারেও হাসলো।দুই ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে ফেললো সে।যানেনা কেন?তবে এটাই বোধহয় তার জীবনের প্রথম হাসি ছিলো।মন থেকে উথলে আসা হাসি।
________________
সকালের নাস্তা মাত্রই শেষ করেছে নিস্পা।লিভিং রুমের সোফার উপর পা তুলে বসে আছে সে।কোলের উপর কুশন বালিশ আর হাতে ফোন।পরশু তাকরিম দিয়েছিলো।এতো দামি ফোন আগামাথা কিচ্ছু বুঝে না নিস্পা।যদিও তাকরিম সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিলো, কিন্তু এখন বেশি অর্ধেকই মাথা থেকে বেড়িয়ে গেছে।
আপতত তার সমস্ত মনযোগ মোবাইলে,কোন কিছু হয়তো উল্টো পাল্টা করে ফেলেছে।চোখের মুখের ভাব দেখে তেমনটাই মনে হলো তাকরিমের।নিস্পার কুচকানো চোখ আর বিরক্তিতে কামড়ে রাখা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে স্মিথ হাসলো তাকরিম।মোলায়েম কন্ঠে বললো,
“এমন ভাবে ফোন টিপছো মনে হচ্ছে কোন বিজন্যাস ডিল করতে বসেছ।”
তাকরিমের কথা শুনে,ঘাড় তুলে সামনে তাকালো নিস্পা,তড়িঘড়ি সোফার উপর থেকে পা নামিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“না আসলে তেমন কিছু না।আজাইরা একটা জিনিস ঘেটে ঘ বানিয়ে দিয়েছি।”
নিস্পার সরলতায় মোড়ানো কথা শুনে এক গাল হাসলো তাকরিম।আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো,
“নাস্তা করেছ?”
“হ্যাঁ। এইতো মাত্রই শেষ হলো।”
“আচ্ছা শোন।আম্মা কল করেছিলো, তোমার কথা শুনেই শুরু করেছে দেশে আসবে।আজ সন্ধ্যায় আম্মা আসছে।”
“কিন্তু আমি তো আপনাকে সেদিন,,,”
নিস্পার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তপ্ত শ্বাস ফেললো তাকরিম।বিরহবিধুর কন্ঠে বললো,
“ডোন্ট ওয়ারি।আমি যানি আমি ক্ষমার অযোগ্য,বাট তুমি যতদিন আমাকে ক্ষমা করতে না পারবে ততদিন তোমার কাছে আমি কোন প্রত্যাশা রাখবো না।”
মনে মনে ক্ষানিক প্রসন্ন হলো নিস্পা।নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“ডিভোর্স এর ব্যাপারটা? কতদূর এগোলো?”
“আজ বিকেলেই প্রেপার চলে আসবে।তুমি সাইন করে দিলেই ত্রিজয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
নিস্পা ঠোঁট নাড়িয়ে আরও কিছু বলতেই যাবে তার আগেই উচ্চশব্দে ফোন বেজে উঠলো তাকরিমের।তাকরিম হাতের ইশারায় নিস্পাকে থামতে বললো,
“ওয়েটা,,,,,
তারপর পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোনটা বের করে স্বাভাবিক ভাবে কানে ধরে বললো,
” হ্যাঁ বল।”
তাকরিম নরমাল ভাবে শব্দ গুলো উচ্চারণ করলেও,ওপাশে চিত্রার কন্ঠে শোনা গেলো অস্থিরতা,
“স্যার হসপিটালে হাঙ্গামা লেগেছে।দ্রুত আসুন,সাথে ত্রিজয় তেজের ওয়াইফকেও নিয়ে আসবেন। ”
সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু গুটিয়ে এলো তাকরিমের,চিত্রার কথার মানে বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,
“কেন?”
চিত্রা কন্ঠে উদ্বেগ নিয়ে বললো,
“ত্রিজয় তেজ বউ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে হসপিটালের ছাদ থেকে সুইসাইড করার হুমকি দিচ্ছে স্যার,প্রেস মিডিয়া,এসিপি ভুইয়া সহ হাজার হাজার মানুষ জড় করে ফেলেছে।”
চিত্রার কন্ঠে ঘটনার বিবরণ পেতেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো তাকরিম।উত্তেজিত কন্ঠে আওড়াল,
“হোয়াট!”
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
⭕ত্রিজয় যেটা করছে সেটাকে পাগলামি নয় মাইন্ড গেম বলে।নিস্পা এমপির বাড়িতে,নিস্পাকে পেতে হলে অবশ্যই এখন তার এমপির বাড়িতে ঢুকতে হবে। সামান্য একটা উকিল হয়ে এমপির বাড়িতে ঢোকা সহজ ব্যাপার না।তাই এইটা হাল্কা পাতলা মাইন্ড গেম খেলা হবে।আজকের পর্ব যারা বুঝতে পারেন নাই তারা পাবনার দিকে হাটা ধরেন,আমি এগিয়ে দিয়ে আসি।⭕

