হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:11

0
39

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:11
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

আশানুরূপ! পরিস্থিতি টা সম্পুর্ণ আশানুরূপ। ফ্লোরেন্সার কঠিন কন্ঠের আক্রোশে ভরা ছোট্ট একটা বাক্য যেনো শ্বাসরুদ্ধকর। ফ্লোরেন্সা ভীতু, তার আইরিশ ভাইয়ের কাছে ফ্লোরেন্সা জ্বলজ্যান্ত একটা ভিতু মেয়ে। অথচ আজ এ যেনো এক অন্য ফ্লোরেন্সার সম্মুখীন হলো আইরিশ, পায়ের নিচের মাটিটা কেপে উঠলো আচমকা, ভূমিকম্পের ন্যায় স্ব বেগে কম্পন তুললো শক্তপোক্ত শরীর টাও।বুকের মধ্যখানটায় শুরু হলো দহনক্রিয়া, সেকি হেরে গেলো? তবে কি জোসেফের কথাই সত্যি হলো?জোসেফকে যেই আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য মড়িয়া হয়ে উঠেছিলো সেই আগুনে কিনা এখন নিজের হৃদয়টাই ঝলসে যাচ্ছে।

নির্বাক নিথর চাহনি, বাক হারা কন্ঠ কেনো যানি আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারলো না। ফ্লোরেন্সার হাতে ম্যাচের কাঠি, সে কঠিন কন্ঠে নিজের পিতার উদ্দেশ্যে বললো,

“নিষ্ঠুর বাবা আপনি, কি করে পারলেন নিজের মেয়ের গায়ে হাত তুলতে? একটা নিরপরাধ মানুষকে কি করে মৃত্যুর মতো কঠিন শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন?ছোট থেকে আপনার দয়ালু হৃদয় টার সাথে পরিচিত হয়ে বড় হয়েছি আর সেই আপনি কিনা এতো নির্মমতার পরিচয় দিলেন?”

মেয়ের এহেন কথা শুনে করিমুন্নেসা মুখে কাপড় গুজে কেদে উঠলো,
“ফ্লোরেন্সা আম্মিজান, উনি তোমার বাবা,তোমার বাবা কখনো ভুল সীদ্ধান্ত নেয় না।”

“আপনি চুপ করুন আম্মিজান, আপনারা সবাই স্বার্থপর, শুধু মাত্র ব্রিটিশ পুত্র বলে একটা মানুষকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া উচিত নয়।সেটা আপনার স্বামী বুঝতে পারছে না।”

লতিফ বিমূর্ষ নয়নে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে,এটা কি তার মেয়ে? সেই সহজ সরল কোমল মেয়েটার এমন রুপ কিছুতেই মানতে পারলো না লতিফ। পা দুটো কেমন টলে গেলো, চোখ ঝাপসা হয়ে এলো, কাঁপা কন্ঠে বললো,
“এই ছেলেটা ব্রিটিশ পুত্র আম্মিজান, ব্রিটিশদের মধ্যে নিরপরাধ বলতে কোন শব্দ থাকে না, ব্রিটিশদের রক্তে বেইমানি আর স্বার্থসিদ্ধি মিশে থাকে,এই ব্রিটিশ পুত্রেরও যে কোন উদ্দেশ্য আছে, স্বার্থ আছে।”

“আপনার ভুল হচ্ছে, আপনাদের সবার ভুল হচ্ছে, উনার কোন উদ্দেশ্য নেই উনার কোন স্বার্থ নেই উনি নিরপরাধ, উনাকে মুক্ত করে দিন। ”

“অসম্ভব, একজন ব্রিটিশ পুত্র কে হাতে পেয়ে মুক্ত করা অসম্ভব।” লতিফ বলে উঠলো

“তবে আজ দুটো মানুষকে পোড়াতে হবে বাবা, উনার গায়ে আগুন লাগালে আমি নিজেকে নিজে পুড়িয়ে দেবো।”

আইরিশ নিশ্চুপ, নিস্পলক, নির্বাক ভঙিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে তার আলেকজান্দ্রার দিকে, আলেকজান্দ্রার কঠিন কথা গুলো তার বুকে তীরের ফলার মতো বিধছে, যন্ত্রণায় খন্ড খন্ড হচ্ছে বক্ষপট, অন্য এক পুরুষের জীবন বাচাতে তার ব্যাক্তিগত আলেকজান্দ্রার এমন কাতরতা সহ্য হচ্ছে না তার।কণ্ঠনালী টা কেমন বিষক্রিয়ায় দগ্ধ হয়ে আসছে, যন্ত্রণায় লাল হয়ে গিয়েছে অনুভুতি শুন্য দুটো চোখ, পা দুটো অবশ হয়ে আসছে,দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে হাটু ভেঙে বসে পরলো আচমকা, ফ্লোরেন্সার চির চেনা চোখে তাক করে নিজের শুন্য দৃষ্টি, আহত কন্ঠে সুধায়,

“শুধু নিরপরাধ বলেই কি একজন ব্রিটিশ পুত্রের জন্য তোর এতো আকুলতা?নিজের প্রান বিসর্জন দিতে একটুও না ভাবার কারনটা কি শুধুই,,,,, ”

আইরিশের মুখের কথা কেড়ে নিলো ফ্লোরেন্সা,

“আমি দুঃখিত ভাইয়া, মাপ করবেন আমায়, আমি চাইনি আপনার অনুভুতিকে অসম্মান করতে কিন্তু আমি স্বার্থপর ভাইয়া, নিজের স্বার্থের জন্য আপনার অনুভুতি গুলো আমি গ্রহন করতে পারলাম না, কারন আমার ভালো থাকা শুধু মাত্র ওই মানুষটার মধ্যে নিহিত।আপনার অনুভুতি কতটা সুন্দর আমি অনুধাবন করতে পারছি না কারন ওই লোকটাকে ঘিরে সাজানো অনুভুতি আমার মনকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে।আমি লজ্জিত, ক্ষমা পার্থি আমি আপনার ভালোবাসা গ্রহণ করতে ব্যার্থ।”

আইরিশ কি জীবিত আছে? এই কথা গুলোর আঘাত কি তাকে জীবিত থাকতে দিয়েছে? হ্যাঁ আছে তো,ঠায় একইভাবে বসে আছে সে। দেহের আত্মাটা যে চাতক পাখির ন্যায় ছটপটাচ্ছে, সুযোগ খুজছে উড়ে চলে যাওয়ার, আত্মাটা যদি বেড়িয়ে যেতো তবে মুক্তি পেতো আইরিশ এই ভয়ংকর যন্ত্রণা থেকে একেবারে মুক্তি পেতো।

কিন্তু নাহ ভেতরের আত্মাটা মরে গিয়েও গেড়ে বসে আছে, বেড়োচ্ছে না মুক্তি দিচ্ছে না যন্ত্রণার মহাসমুদ্র থেকে।জ্বালা ধরা চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু কনা, বড় হওয়ার পর, বুঝতে শেখার পর এই তার দ্বিতীয় বারের মতো কান্না।প্রথম কান্নার কারনটাও ছিলো ফ্লোরেন্সা, সেদিনও খুব যন্ত্রণা হয়েছিলো।

ফ্লোরেন্সার তখন বারো বছর বয়স, ম্যালেরিয়া ব্যাধি টি ছিলো পুরো বাকেরগঞ্জের বুকে এক আতংকের নাম। যেই পরিবারে একজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হতো, এক এক করে সেই পরিবারের সবাই মারা যেতে শুরু করতো, মৃত্যুর হার এমন অবস্থায় দাড়িয়েছিলো যে উপায় না পেয়ে গণকবর দিতে হয়েছিলো।
এই সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলো ফ্লোরেন্সার ছোট ভাই অনেক চিকিৎসা করার পরও বাচানো গেলো না তাকে, তার কিছু দিন পরেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলো ফ্লোরেন্সা।মৃত্যু সয্যায় পৌছে গিয়েছিলো প্রায়। সেদিন ফ্লোরেন্সাকে চিরতরে হারানোর ভয়ে কেদেছিলো আইরিশ, খুব কেদেছিলো, নামাজের মুনাজাতে ফ্লোরেন্সার জীবন ভিক্ষা চেয়ে করেছিলো কত আর্জি, সেদিন থেকেই ভেবে নিয়েছিলো সে ডাক্তার হবে, ভবিষ্যতে কখনো ফ্লোরেন্সার অসুখ হলে নিজেই সারিয়ে তুলবে তাকে।

আজ একইভাবে কাদছে আইরিশ, তবে একই যন্ত্রণায় নয় বরং এবারের যন্ত্রনা ভিন্ন, এ যেনো এক মিশ্র যন্ত্রনা, ব্যাখাতীত এই যন্ত্রণার ধরন। কাতর কন্ঠে ফ্লোরেন্সাকে জিজ্ঞেস করলো আবারো,

“ওই লোকের মধ্যে কি পেয়েছিস আলেকজান্দ্রা যা এই দশ বছরেও মার মাঝে পাস নি? আমার ভালোবাসায় কমতি কোথায় ছিলো? আমার মধ্যে এমন কিসের খাত ছিলো যেটা এই ব্রিটিশ পুত্রের মধ্যে পেয়ে গেলি? বল না আলেকজান্দ্রা?আমি কেনো তোর ভালোবাসা জয় করতে পারলাম না দশ দশটা টা বছর চেষ্টার পর আমি কেনো তোর অনুভূতিতে জড়াতে পারলাম না?যে কাজ আমি দশ বছরেও করতে পারি নি সেই কাজ ওই ব্রিটিশ কি করে দশ দিনে করে ফেললো?”

আইরিশের কথায় নত হয়ে গেলো ফ্লোরেন্সার মাথা, নতজানু হয়েই নরম কন্ঠে বললো,
“ক্ষমা করবেন ভাইয়া, আমি আপনাকে ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখতাম। সেখানে অনুভুতির কোন ঠাই ছিলো না।ভালোবাসা একটি অপার্থিব বিষয়, ভালোবাসা জন্ম নেয় হুট করে স্বচ্ছ আকাশে ঝুম বৃষ্টির মতো, ভালোবাসা বলে কয়ে আসে না, ভালোবাসা হয়ে যায়, প্রজাতির মতো রঙিন অনুভুতিরা পাখা মেলে, তারা সময় চেনে না, দিন মাস বছর গুনে না, তারা তো হটাৎ করেই উড়ে চলে আশে এক অন্যরকম নাম না জানা অনুভুতিকে চাপিয়ে দেয় হৃদয়ে। আমি বুঝি নি ভাইয়া, আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করার পরেও আমি উপলব্ধি করতে পারি নি, অথচ ওই মানুষটার অপ্রকাশিত চোখের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমি নিজেকে হারিয়েছি উপলব্ধি করেছি এক নতুন ফ্লোরেন্সাকে, পরিচিত হয়েছি এক নাম না জানা অনুভুতির সাথে।”

আইরিশের কলিজাটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম, ভালোবাসার প্রেয়সীর মুখ থেকে অন্য পুরুষের জন্য জাগা অনুভুতির বিশ্লেষণ শুনে মনে হচ্ছে কেউ যেনো হৃৎপিন্ড বরাবর একের পর এক বর্ষা ছুড়ে মেরে ফালাফালা করে দিচ্ছে হৃৎপিন্ড।ভাঙা নিস্তেজ কন্ঠে বললো,

“এই অনুভূতি আমার জন্য কেনো হলো না আলেকজান্দ্রা? সৃষ্টি কর্তা কেনো একা আমার মনেই এই নিষিদ্ধ অনুভুতির জন্ম দিলো?কেনো এমন যন্ত্রণা শুধু আমার ভাগ্যেই লিখে দিলো?তুই বুঝতে পারছিস ফ্লোরেন্সা, আমার ঠিক কেমন যন্ত্রণা হচ্ছে?এই যন্ত্রণা আমি কি করে ব্যাখ্যা করবো?এই যন্ত্রণার নাম কি দিবো আমি?কেনো আমার অনুভুতি গুলো হেলায় হারালো? কেনো আমাকে ভালোবাসার মতো একটি ভুল, ভুল করেও হলো না। ওই আল্লাহ আমার নামে অনুভুতি লিখলো অথচ তোকে কেনো লিখলো না?আমি মরে যাবো আলেকজান্দ্রা, আমার সাথে এই কাজটা করিস না, মিথ্যা মিথ্যা হলেও একটি বার ভালোবাসি বল, তোর মুখে এই শব্দটা শোনার আক্ষেপ আমার মৃত্যু দিয়েও যে গুছবে না। আমাকে রেহাই দে আলেকজান্দ্রা, এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই দে মিথ্যা অভিনয় করে হলেও থেকে যা আমার হয়ে, তোকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালো বাসার বিনিময় হলেও আমাকে বাচিঁয়ে নে। দয়া কর। ”

ফ্লোরেন্সা নতজানু, চিবুক নামিয়ে,জোসেফকে বেধে রাখা রশির গিট খুলতে ব্যাস্ত, তার বিমূর্ষ হৃদয় জোসেফ ছাড়া অন্য কারো কথা ভাবতে পাড়ছে না,জোসেফ ছাড়া অন্যকারো যন্ত্রণা তাকে কাবু করছে, কিছুতেই করছে না। মন মস্তিষ্ক স্রোতের বিপরীতে বহমান,যার গন্তব্য সে নিজেও যানে না, যার বিশ্লেষণ করতে সে ব্যার্থ। অথচ কোমল প্রানের অধিকারী ফ্লোরেন্সা কখনোই এতো স্বার্থপর ছিলো না, কিন্তু এখন সে স্বার্থপর, এতটাই স্বার্থপর যে আইরিশের আর্তনাদ, মুমূর্ষু যন্ত্রণা কাবু করতে পারছে না তাকে। সে স্বার্থপর, খুব স্বার্থপর, নিজের ভালোবাসা রক্ষার্থে প্রিয় আপন মানুষ গুলোর সাথেই সম্পর্ক ক্ষুন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলো সে। জোসেফের হাত ধরে বিদায় নিলো এক অলিখিত গন্তব্যে।অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

প্রিয় আপনজনকে পেছনে ফেলে ফ্লোরেন্সা এগিয়ে গেলো জোসেফের হাত ধরে। ফ্লোরেন্সার চলে যাওয়ার আকস্মিক ধাক্কায় হৃৎপিন্ড খসে পড়লো যেনো। চিৎকার কেরে উঠলো আইরিশ,

“তুই যেতে পারিস না ফ্লোরেন্সা, তুই আমাকে ছেড়ে যেতে পারিস না।”

ফ্লোরেন্সার হাটা থামে না,পাথরের মতো সে এগিয়ে যাচ্ছে কেবল। করিমুন্নেসা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো ফ্লোরেন্সাকে,
“এতো নিষ্ঠুর হইও না আম্মিজান।তোমার বাবা আর আমি তোমার শুন্যতা সহ্য করতে পারবো না,আমাদেরকে ছেড়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত তুমি নাকোচ করো আম্মিজান, আইরিশ মরে যাবে, তোমাকে আইরিশ নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে আম্মিজান।আর তোমার বাবা পাথর হয়ে যাবে তুমি বিহীন”

ফ্লোরেন্সা নিস্ফল নিশ্চল কন্ঠে বললো,
“আমাকে ক্ষমা করুন আম্মিজান, আমাকে যেতে দিন দয়া করে, পথ ছেড়ে দিন।”

মেয়ের কাঠিন্যতা দেখে হুহু করে কেদে উঠলো আব্দুল লতিফ, টলমল করতে করতে বসে পড়লো কেদারায়।কম্পিত কন্ঠে করিমুন্নেসার উদ্দেশ্যে বললো,

“ওকে যেতে দেও ফ্লোরেন্সার মা, ও আর আমাদের মেয়ে নেই। ওকে যেতে দেও।”

আইরিশের কন্ঠে আতংক শরীর কাপছে তার, চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছে প্রায়,
“এসব কি বলছো জেঠু, আমার আলেকজান্দ্রা কোথাও যাবে না,যেতে দিবো না আমি, কিছুতেই না।”

এগোতে পারলো না আইরিশ, মানসিক আঘাত সহ্যশক্তির বাহিরে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো মাটিতে।

জোসেফ উপভোগ করলো আইরিশের এমন পরিনতি। ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বিরবির করলো,

“বলেছিলাম না জোসেফ নিজের ভাগ্য নিজে লিখে, জোসেফের ভাগ্যবিধাতা জোসেফ নিজেই।কোথায় তোমার আল্লাহ?সহায় কেনো হলো না তোমার? ”

________________________

বাংলাদেশের সিংহভাগ অঞ্চল জুড়ে স্থান গেড়ে বসেছিলো ব্রিটিশরা। অত্যাচার, নিপীড়ন সহ নানা বৈষম্যমূলক এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে সেসব অঞ্চলের মানুষ।ব্রিটিশরা একে একে নিজেদের রাজত্ব পাকা পোক্ত করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলো,বাড়িয়ে দিয়েছিলো বাংলার মানুষের উপর নিপীড়নের মাত্রা।

লর্ড মাউন্টের নিজস্ব সাম্রাজ্য ” দ্যা ম্যান্ডেট” মহলের প্রবেশ দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে প্রিন্স জোসেফ এবং ফ্লোরেন্সা। প্রিন্স জোসেফের আগমি বার্তা পুরো মহলে ছড়িয়ে পড়লো বিদ্যুৎ গতিতে।মহলের সকল কর্মচারি উপস্থিত হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রিন্স জোসেফের সাথে অতি রূপবতী কন্যাকে দেখে সবার চোখে মুখেই কৌতুহল, আবার কারো কারো চোখে কৌতুহলের সাথে রয়েছে আকাশ পরিমাণ আফসোস।

ফ্লোরেন্সা অনুভুতিহীন এক মূর্তি মানবীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, তার মস্তিষ্ক এখনো অস্বচ্ছল, ঝাপসা।নিজের হাতের মুঠো থেকে ফ্লোরেন্সার হাতটা সরিয়ে নিয়ে দু কদম সামনে এগিয়ে গেলো জোসেফ, ঠিক সেই মুহুর্তেই ঝড়ের বেগে জোসেফের বুকে আছড়ে পড়লো এক অতি রূপবতী তরুনি।চোখেমুখে তার বহু বছরের তৃষ্ণা, কন্ঠে আকুলতা,

“আপনার এই অবস্থা কি করে হলো প্রিন্স?আপনাকে কত মনে পড়েছে যানেন?আপনার অপেক্ষায় কত নির্ঘুম রাত্রি কেটেছে আপনার ধারনাও নেই। অবশেষে অপেক্ষা শেষ হলো আমার। এবার খুব শীঘ্রই আমাকে নিজের করে নেওয়ার ব্যাবস্থা করুন প্রিন্স।”

জোসেফ আলতো হাত রাখলো তরুনীর গালে,
“ভেতরে যাও জুবাইদা, এই বিষয়ে পড়ে কথা বলবো।”

জুবাইদা চোখের অশ্রু মুছে মাথা নাড়ালো, দৃষ্টিপাত করলো ফ্লোরেন্সার দিকে, মেয়ে হয়েও কেমন মুগ্ধ হলো এতো সুন্দরী একটি মেয়েকে দেখে। কপাল কুচকে বললো,

“এই মেয়েটা কে প্রিন্স?”

জোসেফ ঘার ঘুরিয়ে তাকালো রোবটের মতো নিস্প্রান দাঁড়িয়ে থাকা ফ্লোরেন্সার দিকে, ঠান্ডা কন্ঠে বললো,

“আম্মিজানকে খবর দেও, বাকের গঞ্জের সবচেয়ে সুন্দরি কন্যা তার খাস দাসি হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে।”

জোসেফের এমন কথায় একটুও চমকালো না ফ্লোরেন্সা, একইভাবে প্রানহীন দাঁড়িয়ে রইলো মূর্তিমানবীর মতোই।
ফ্লোরেন্সাকে ফেলে রেখেই ভেতরে চলে গেলো জোসেফ আর জুবাইদা।তাদের যাওয়ার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো ফ্লোরেন্সা, যেনো দুনিয়ার বিচরন থেকে সে পুরো পুরি বিচ্ছিন্ন।

কয়েকজন কর্মী এসে ফ্লোরেন্সাকে নিয়ে গেলো মহলের ভেতরে, যেতে যেতে কেবল আফসোসের সহিত বললো,

“কে তুমি সুন্দরী কন্যা?অবশেষে কিনা ওই নির্দয় নির্মম হৃদয়হীনা পুরুষের নীল চোখের সম্মোহনের শিকার হলে?”

পাশের একজন বলে উঠলো,
“দেখেছো মেয়েটা কতো সুন্দরী, যেনো আকাশ থেকে নেমে আসা কোন পরি, খোদা না করুক হৃদয়হীনা নিষ্ঠুর প্রিন্সের হৃদয় না সম্মোহন করে নেই এই মেয়ে।”

চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here