#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:35
বাড়ির নিচতলায় দাঁড়িয়ে হাক ছুড়ছে তাকরিম,গলা ছেড়ে ডাকছে প্রভাকে,
“প্রভা? প্রভা?কোথায় তুই?”
প্রভার কোন সাড়া শব্দ নেই,অথচ তাকরিমের ডাক শুনে এগিয়ে এলো অনু,কর্কষ কন্ঠে বললো,
“কি হয়েছে?ষাড়ের মতো চেচাচ্ছেন কেন শুনি?”
প্রভার বদলে অনুকে দেখতে পেয়ে ভিষন রাগ হলো তাকরিমের,তার উপর অনুর চটাং চটাং কথায় রাগের মাত্রা বাড়লো আরেকটু,তবে এই মূহুর্তে কিছু বললো না, রাগ সংবরণ করে চাপা ভরাট কন্ঠে বললো,
“ভাষা সংযত কর মেয়ে, তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো।”
“সামান্য এমপি হয়ে এতো ভাব দেখান কেন হ্যাঁ? আপনিও বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন আপনি কাদের ভোটে এমপি হয়েছেন।”
তাকরিম বিরক্ত হলো পুনরায়,এগিয়ে গিয়ে চেপে ধরলো অনুর গ্রিবাদেশ, অগ্নি কন্ঠে বললো,
“এই মেয়ে তোমাকে কি বলছি কথা কানে যাচ্ছে না?সাবধান করছি আমাকে রাগিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনো না।”
অনুর নিঃশ্বাস আটকে এলো, অথচ তেজ কমলো না, হিসহিসিয়ে বললো,
“আপনি এমনিতেই আমার জীবন বিপদ বানিয়ে রেখেছেন,আর কি বিপদ ডেকে আনার বাকি আছে আপনার?”
“যদি বলি মৃত্যু?” তাকরিমের ঠান্ডা কন্ঠস্বরের তোয়াক্কা করলো না অনু,তেজি কন্ঠে বললো,
“মারবেন?মেরেই দেখুন না, আপনাকে সাথে নিয়ে মরবো।”
তাকরিম পিক করে হেসে দিলো অনুর কথা শুনে,ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“হোয়াট আ জোক?এসব রেডিকিউলাস কথাবার্তা কি করে আসে মাথায়?”
অনু এবারে পুরোপুরি নিস্তব্ধ। চারপাশের সমস্ত শব্দ, সব থেমে গেছে, তেজি কন্ঠের সমস্ত উত্তর গুলিয়ে গিয়েছে। তার নিস্প্রভ চোখ থমকে দাঁড়িয়েছে, আটকে গিয়েছে তাকরিমের হাসির মাঝে। আহ্, কী অপার্থিব সে হাসি! মনে হচ্ছে ভোরের প্রথম রোদের মত কোমল, পূর্ণিমার জোছনার মত নিঃশব্দ অথচ আলো ছড়ানো। এতো সুন্দর হাসি কারো হয় বুঝি?অনুর দেখা পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর হাসি এটা।অনু পুরোপুরি হারিয়ে গেলো তাকরিমের হাসির গভীরে,বিমোহিত কন্ঠে বললো,
“আপনার হাসি খুব সুন্দর।”
তাকরিম চোখ ছোট ছোট করে তাকালো অনুর দিকে, গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“আবারও সাবধান মেয়ে হাসির ছলনায় আটকিও না, নিয়তি বড় ভয়ংকর হতে চলেছে।”
অনু মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় উত্তর দিলো,
“সারাদিন এমন গোমড়া মুখো হয়ে না থেকে একটু হাসতেও তো পারেন।আপনি নিজেও জানেন না আপনার হাসি কত সুন্দর।”
তাকরিম রহস্য হাসলো,
“তোমাকে আমি আটকে রেখেছি মেয়ে, বন্দী করেছি চারদেয়ালে, তিরস্কারের বদলে প্রসংশা করছো যে হটাৎ?”
“সুন্দরকে সুন্দর বলতে কৃপণতা করি না আমি।”
“সুবুদ্ধি হয়েছে তাহলে?”
“একটা প্রশ্নের উত্তর দিবেন?”
“কি?”
“আমাকে আটকে কেন রেখেছেন?কোন উদ্দেশ্যবিহীন?”
তাকরিম রহস্যময় হাসলো এবার,অনুর কপালের উপর ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো কানের কাছে গুজে দিতে দিতে বললো,
“তোমার রক্ত ভোজনের উদ্দেশ্যে।”
অনু কপাল কুচকালো,তাকরিমের কথা বুঝতে না পেরে পাল্টা প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে ঠোঁট নাড়াতেই পেছন থেকে ভেসে এলো প্রভার কন্ঠ,
“ডাকছিলে ভাইয়া?”
তাকরিম ছেড়ে দিলো অনুকে, পেছনে ঘুরে তাকালো প্রভার দিকে, তারপর গায়ের সাদা পাঞ্জাবী টা খুলে দিতে দিতে বললো,
“সুন্দর করে ধুয়ে রাখবি,রক্তের একটা ফোটাও যেন না থাকে।”
প্রভা অভিব্যক্তি বিহীন হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিলো পাঞ্জাবি টা।নিরস কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কীসের আয়োজন করে এলেন সাদা পাঞ্জাবী রাঙিয়ে?”
“তোকে নিঃশেষ করার আয়োজন।” তাকরিমের অপকট উত্তর খামচে ধরলো প্রভার হৃৎপিন্ড।অথচ প্রতিক্রিয়া দেখালো না, ছোট্ট করে বললো,
“আমি এমনিতেই নিঃস্ব তাকরিম ভাই।আয়োজন কি জান কেড়ে নেওয়ার জন্য করছেন?”
“যদি বলি তাই?”
প্রভা মলিন হাসলো, নিস্প্রভ কন্ঠে বললো,
“আপনার হাতে জান কোরবান।হয়তো মরার পর আরেকটা সুযোগ পাবো।”
“কিন্তু আমি চাই না আর কোন জন্ম আসুক।তোকে ভালোবাসতে না পারার আক্ষেপ আমার দু জন্মের, আরো এক নতুন জন্মে তোকে আঘাত দিয়ে আক্ষেপের পাল্লা ভারি করতে চাই না।”
প্রভা ডুকরে কেঁদে উঠলো, ভঙুর কন্ঠে বললো,
“আমাকে একটু ভালোবাসলে কি হতো তাকরিম ভাই?”
তাকরিম দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল, পেছনে তাকিয়ে দেখল অনুকে,নাহ!মেয়েটা দাঁড়িয়ে নেই,কথার ফাঁকে হয়তো কখন চলে গিয়েছে টের পায় নি।তাকরিম গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“নিয়তি দ্বন্দ্ব চায়, ভালোবাসা চায় না প্রভা।এজন্যই তো আমরা যাকে চাই তাকে ভুল করেও পাই না।”
________________
আলোয় পরিপূর্ণ ভিআইপি কেবিন। এয়ার কন্ডিশনের হালকা শীতল বাতাস প্রশান্তির চাদর মেলে দিয়েছে পুরো রুম জুড়ে। চোখ দুটো বন্ধ করে সবে মাত্র ঘুমিয়েছে নিস্পা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীরটা একেবারে নিস্তেজ, নিস্প্রাণের মতো নিথর পড়ে আছে সে। নিঃশ্বাসটাও হালকা, প্রায় অশ্রুত।
ভিআইপি কেবিনে চারদিক নীরব আপাতত, নরম আলোয় ঝিম ধরে আছে ঘর। এয়ার কন্ডিশনের শীতল বাতাস ধীরে ধীরে বইছে, জানালার পর্দার ফাঁক গলে একফালি রোদ এসে পড়েছে তার পাশে রাখা কাঁধ অবধি সাদা চাদরের ওপর।
বাইরে তাকরিমের রেখে যাওয়া গার্ডদের সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করে ভেতরে ঢুকেছে ত্রিজয়। সেই যে ঢুকেছে সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে সে, চোখে অপরাধবোধের ছায়া স্পষ্ট।কেবল চুপচাপ নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে মেয়েটার মুখের দিকে।
“আপনার আসাটা অপ্রত্যাশিত।”
নিস্পার কন্ঠ পেয়েই নড়েচড়ে দাড়ালো ত্রিজয়, ফিরে এলো ভাবনার জগৎ থেকে, শুখনো ঢোক গিলে নিস্পার দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমি এসেছি কি করে বুঝলি?”
“আপনার পারফিউমের সুগন্ধি চেনা।” নিস্পা ছোট্ট করে উত্তর দিলো।
ত্রিজয় বেশ কিছুক্ষণ ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলো আবার, তারপর ঠান্ডা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“কেমন আছিস?”
“যানা টা বোধহয় বেশ প্রয়োজন নেই।শুধু শুধু ফর্মালিটি দেখাতে হবে না, আমি কিছু মনে করবো না।”
“এতো চটাং চটাং কথা বলছিস যে?”
“আমি এভাবেই কথা বলি, আপনিই হটাৎ করে ভালোমানুষি দেখাচ্ছেন তাই এমন মনে হচ্ছে।”
“আমার তো মনে হচ্ছে এমপি মশাইয়ের পাওয়ার পেয়ে অহংকার বেড়ে গিয়েছে তোর ।”
“অন্ধের আবার অহংকার।আমাকে তো যে যেভাবে পারছে টিস্যুর মতো ইউজ করে ছুড়ে ফেলছে।”
কথাটা বলতে গিয়েই নিস্পার দুই ঠোঁটের ফাঁক গলে বেড়িয়ে এলো তাচ্ছিল্যের হাসি।
ত্রিজয় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কথাটা নিস্পা তাকেই বলেছে বুঝতে তার একটুও ভুল হলো না। অথচ আশ্চর্য, অন্তরে একফোঁটাও রাগের সঞ্চার হলো না তার। বরং কোথা থেকে এক অচেনা মনখারাপের সুর বেজে উঠল হৃদয়ের গহিনে। নিস্পার ফ্যাকাসে ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা কটাক্ষ মিশ্রিত তাচ্ছিল্যের হাসিটা হঠাৎ করেই শাণিত অস্ত্রের ন্যায় বিঁধে গেল ত্রিজয়ের কলিজায়।
ত্রিজয় নিঃশব্দে এগিয়ে এলো নিস্পার দিকে। আশপাশের নিস্তব্ধতা ভারী হয়ে উঠল হঠাৎ, বাতাস থমকে রইল এক নিঃশ্বাসে। ত্রিজয় ধীরে ধীরে ঝুঁকে গেলো নিস্পার দিকে, এক রহস্যময় স্পর্শে বৃদ্ধাঙুল রাখলো নিস্পার শুষ্ক ঠোঁটের উপর।নিস্পা কেঁপে উঠলো, মেঘলা দুপুরে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো শিহরণ খেলে গেল তার হৃদয়ে,আতংকিত কন্ঠে বললো,
“ক,কি করছেন?”
ত্রিজয় গভীর দৃষ্টিতে তাকালো নিস্পার ঠোঁটের দিকে,নিস্পার লালচে উষ্ণতায় মোড়া ঠোঁট জুড়ে নিস্তেজ ফ্যাকাসে ছায়া,যেন শুকিয়ে যাওয়া গোলাপের পাপড়ি, রঙের ঔজ্জ্বল্য মুছে গিয়ে বাসা বেঁধেছে বিবর্ণতা।
ত্রিজয় বৃদ্ধাঙুল দিয়ে স্লাইড করলো দুবার,কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
“ঠোঁট গুলো এমন করে রেখেছিস কেন?পেত্নীর মতো লাগছে।”
“লাগুক তাতে আপনার কি?”
ত্রিজয় হতাশ কন্ঠে বললো,
“আমার আর কি?মিষ্টির স্বাদ শুটকি দিয়েই মেটাতে হবে।”
নিস্পার রাগ হলো খুব,নাক ফুলিয়ে বললো,
“আপনি এসব আজাইরা কথা বলার জন্য এসেছেন?”
“উঁহু তোকে লিপস্টিক পড়িয়ে দিতে?”
“কিহ?”
ত্রিজয় প্রতিত্তোর করলো না,পকেট থেকে বেড় করলো একটা পিংক কালার লিপস্টিক।তারপর হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকা নিস্পার ঠোঁটে পড়িয়ে দিতে নিলেই চমকালো নিস্পা,বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“একি?কি,,,,,
সম্পূর্ণ কথাটুকু বলতে দিলো না ত্রিজয়, তার আগেই নিস্পাকে থামিয়ে দিয়ে মোহনীয় কন্ঠে বললো,
“ঠোঁটের যত্ন নিবে,ঠোঁট সুন্দর থাকলে শরীর সুস্থ থাকবে।”
“সব ছেড়ে হটাৎ ঠোঁট নিয়ে পড়লেন যে?”
“একমাত্র এই ঠোঁট দু’খান ছাড়া, তোর কোন কিছুতেই আমার খেয়াল আঁটকায় না। ”
কথাটা বলে থামলো ত্রিজয়,পরপরই নিগূঢ় কন্ঠে বললো,
“নিঃশ্বন্দেহে তুই সুন্দরী। অথচ তোর সৌন্দর্য আমাকে টানে না?আমাকে মোহীত করতে পারে না কিছুতেই।তোর প্রতি ভিন্ন একটা টান অনুভব করি আমি।মৃত্যু কিংবা বিষাক্ত নিঃশ্বাসের টান।আমার কেন যানি মনে হয় তোর সাথে আমার দ্বন্দ্ব আছে,ভালোবাসার দ্বন্দ্ব।আবার কেন যানি মনে হয় তোর নিঃশ্বাস আমাকে আকর্ষণ করে,এতো বেশি আকর্ষণ করে যে কখনো কখনো মনে হয় এই নিঃশ্বাস টুকু ধরে রাখার জন্য আমি খুব তড়পেছি।ছটপট করেছি গলা কাটা মুরগীর মতো।কেন এমন মনে হয় বলতো?”
“হয়তো কোন জন্মে শত্রুতা ছিলো আমাদের।” নিস্পার জবাবে মেকি হাসলো ত্রিজয়, আবেগি কন্ঠে বললো,
“নিয়তি যদি শত্রুতাই নির্ধারন করে রাখে তবে বেধে কেন দিলো?”
“কোথায় বেধে দিলো?আপনি জোর করে বেধে রেখেছেন সেটা বলুন।”
“মুক্তি চাইছো?”
“মুক্তি দেওয়ারই তো কথা, আপনি আপনার জান্নাতকে পেয়ে গিয়েছেন, আমার প্রয়োজন তো ফুরিয়েছে।”
“জেলাস?”
“উঁহু,বিরক্ত।নিজের জীবনটা নিয়ে বিরক্ত আমি।”
ত্রিজয় চুপ করে গেলো ফের, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফুরিয়ে এলো কুথা।প্রায় মিনিট পাঁচেক চুপ থেকে বললো,
“ভালোবাসা বলতে কি বুঝো তুমি?”
নিস্পা সোজাসাপ্টা উত্তরে বললো,
“ভালোবাসা?ভালোবাসা বলতে দূর্ভাগ্য বুঝি আমি।”
ত্রিজয় ঘন শ্বাস টানলো,তারপর বললো,
“আমি ভালোবাসা বলতে কি বুঝি শুনবে?”
“কি?”অস্ফুটে বলল নিস্পা
ত্রিজয় গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” জেদ।”
নিস্পা কিছু বললো না,চুপ করে রইলো কেবল। ত্রিজয় আবার বলতে শুরু করলো,
“জানিস আমার একটা বিশ্বস্ত ভালোবাসার মানুষ ছিলো।যাকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসতাম।আমার দাদুভাই আমার কলিজা ছিলো।কিন্তু আমার ছোট্ট একটা ভুলের জন্য উনি আমাকে একা রেখে চলে গেলো, আমাকে শুন্য করে দিয়ে গেলো চিরজীবনের মতো। জান্নাতের প্রেমে পরা টা ছিলো আমার জীবনের চরম ভুল, আর জান্নাতকে আদায় করে নেওয়াটা হলো আমার একমাত্র জেদ।”
“তাতে কি?জেদ বলুন বা ভালোবাসা গুটি তো আমিই হলাম তাই না?”
“রেগে আছিস আমার উপর?”
“আপনি আমার জন্য স্পেশাল কেউ নয়।”
“কিন্তু আমার কেন রাগ হচ্ছে বলতো?”
“সেটা আমি কি করে বলবো?”
” এমপি মশাইয়ের তোকে কোলে নেওয়ার মূহুর্তটা আমার অসহ্য লেগেছে।”
“সহ্য করে নিন,হয়তো সময়ের ব্যাবধানে আরো বেশি ক্লোজ দেখতে হবে।”
“খোচা দিচ্ছিস?”
“নিজের জেদ টিকিয়ে রাখার জন্য একটু খোচা তো খেতেই হবে।”
“তুই হয়তো ভুলে যাচ্ছিস তুই এখনো আমার লিগ্যাল ওয়াইফ।আমার সামনে পরপুরুষের সাথে ক্লোজ হওয়ার কথা বলার অপরাধে আমি তোর গাল লাল করে দিতে পারি।”
“আপনিও তো তাহলে আমার লিগ্যাল হাসবেন্ড,নিজের স্ত্রীকে ফেলে রেখে অন্য একটা মেয়েকে কোলে তুলে নেওয়ার অপরাধে আমি কিন্তু আপনার দুটো হাত কেটে টুকরো টুকরো করে দিতে পারি।”
“তোর কথা শুনে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তুই জেলাস।”
“আপনার মতো আজাইরা মানুষের জন্য এসব আজাইরা ফিল আসে না আমার।”
“তাহলে কি এমপি মশাইয়ের জন্য আসে?”
“এখন তো আমার মনে হচ্ছে আপনি এমপি মশাইকে হিংসে করছেন।”
ত্রিজয় মুখ বাকিয়ে বললো,
“ওই এমপিকে হিংসে করতে বয়েই গিয়েছে আমার।”
“আমি সীদ্ধান্ত নিয়েছি এমপি মশাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাবো।”
নিস্পার কথায় বোমা বিস্ফোরণ হলো ত্রিজয়ের কর্নগহ্বরে,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“তোর কলিজা টেনে ছিড়ে ফেললে কি হবে?”
“বাহ!আপনি তো দেখছি বারো ভাতারের চেয়ে কম না, জান্নাতকেও চাই আবার আমাকেও অন্যকারো হতে দিবেন না?”
ত্রিজয় চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো, নিজেকে সংযত করে লম্বা শ্বাস ফেললো দুবার,তারপর নিস্পার হাত চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“আমাকে পোড়াস না,আমি এক অদৃশ্য টানাপোড়েন পুড়ছি অযথাই।আমি নিজেও জানি না কি চাই আমার।না ছাড়তে পারছি জেদ, না ছাড়তে পারছি তোকে।”
“আমাকে মেন্টাল পেসেন্ট বানিয়ে অন্যকারো বউ হওয়ার কথা মন থেকে ডিলিট করে দে।”
ত্রিজয় কোমল হাতটা একটু চেপে ধরতেই চোখ মুখ বিকৃত করে কুকিয়ে উঠলো নিস্পা,অস্ফুটে বললো,
“উফফ! ডক্টর ইঞ্জেকশন দিয়েছে এখানে, ব্যাথা লাগছে।”
ত্রিজয় অভিব্যক্তি পাল্টালো মূহুর্তেই, ঠোঁট বাঁকিয়ে বক্র হাসলো হাসলো কিঞ্চিৎ,মুখটা এগিয়ে নিয়ে রাখলো নিস্পার কানের কাছে, ফিসফিসিয়ে বললো,
“সামান্য একটা ইঞ্জেকশনের ব্যাথা সহ্য করতে পারছো না?ভবিষ্যতে এর চেয়ে মারাত্মক ইঞ্জেকশন পুশ করা হলে সহ্য করবে কি করে শুনি?”
নিস্পা বুঝে উঠার আগে আবার বললো,
“ডক্টরের মতো আমি কিন্তু মায়া দয়া দেখাবো না,সোজা কাঁদিয়ে ছাড়বো।”
কথার অর্থ বোঝা মাত্রই ঝাঝিয়ে উঠলো নিস্পার কান, দু হাতে ধাক্কা দিলো ত্রিজয়ের বুকের উপর,ত্রিজয় একটু টলে গিয়ে দাঁড়ালো দূরে সরে,নিস্পা ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“লাজ লজ্জার মাথা খেয়েছেন?অসভ্য লোক থু আপনার মুখে।”
“ওয়ে ওভার এক্টিং এর দোকান,এক্টিং কম কর।জাস্ট বোন মনে করে মশকরা করেছি,তোর প্রতি ফিলিংস নেই আমার, নিজেকে এক্সট্রা অর্ডিনারি ভাবিস না।”
____________
বিকেল চারটে নাগাদ, হসপিটালের পরিবেশে ছড়িয়ে আছে নিস্তব্ধ ঘনত্ব ।সূর্য তখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে, সূর্যের শেষ রশ্মি ছুঁয়েছে জানালার কাঁচ , দেওয়ালের ধূসর বর্ণকে করে তুলেছে কিছুটা উজ্জ্বল। করিডোরে সাদা অ্যাপ্রনে মোড়া নার্সদের বাজতে থাকা পদধ্বনি মেট্রোনোম সময়কে মাপছে নিঃশব্দে।
হাসপাতাল তখন নিঃশব্দ নাট্যমঞ্চ, সাদা পাঞ্জাবীতে মোড়ানো তাকরিমের প্রতিটি পদক্ষেপ অনাহূত সংলাপের প্রতিধ্বনি। হাতে খাবারের প্যাকেট, ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে পায়ের গতি বাড়ালো সে,প্রেস করলো লিফটের বাটম।অধৈর্য হয়ে কিছুক্ষণ পাইচারি করলো লিফটে দাঁড়িয়ে থেকে,তার মনে হচ্ছে নিস্পার কাছে পৌছনের জন্য এই লিফটের গতি যথেষ্ট নয়।
বেখেয়ালি লোকটা এতো বেশিই নিস্পাতে ডুবে আছে যে, আশেপাশের কোন কিছুতেই তার মনযোগ নেই,এইযে নিজের সাদা পাঞ্জাবি টা?সেখানে যে এক ফোটা লাল রক্ত লেগে আছে স্পষ্ট, সে খেয়াল নেই বললেই চলে।
লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণশীল ছায়ার মতো বেরিয়ে এলো তাকরিম।পায়ের গতি দ্রুত, কপালের ভাঁজ আর চোখের দাহে তীব্র কঠোরতা। কিছুক্ষণ আগেই একজন গার্ড ইনফর্ম করেছে, নিস্পার কেবিনে ত্রিজয়ের উপস্থিতির কথা।
খবরটুকুই পাওয়া মাত্রই অস্থির হয়ে ছুটে এসেছে তাকরিম।ত্রিজয় নিস্পার জীবনের দগদগে দাগ, যাকে তাকরিম ভুলিয়ে দিতে চায়। হাসপাতালের চার দেওয়ালের ভেতরে ত্রিজয়ের উপস্থিতি মানেই বিষাক্ত অধ্যায় পূনরায় ফেরত আসা।
তাকরিম সোজা কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন গার্ডের দিকে এগিয়ে গেলো, পরপরই নিজের সমস্ত ক্রোধ উগ্রে দিয়ে বজ্রের মতো এক কষা চড় বসিয়ে দিলো তাদের গালে। ক্রোধিত কন্ঠে ধমকে উঠলো,
“তোমরা কী করছিলে?ওই কু*ত্তার বাচ্চা কেবিনে ঢুকলো কি করে?
তাকরিমের রুদ্ররূপ দেখে কেঁপে উঠলো গার্ডদুজন।
চড়ের তীব্রতা গাল পেরিয়ে আতংক তৈরি করলো তাদের বুকে, উস্কে দিল হৃদয়ের ভয়কে।
কাঁপা কণ্ঠে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে বললো,
“স্যার, আমরা আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম,কিন্তু লোকটা… লোকটা জোর করেই ঢুকে পড়েছে ভেতরে।”
তাকরিমের দৃষ্টিতে তখনো আগুন।কোন জবাবদিহি শোনার মতো সুস্থ মানসিকতা বেঁচে নেই আপাতত।তার রক্তচক্ষু স্থির কেবিনের দরজার উপর।
***
ত্রিজয়ের হাতের গ্লাসে ডাবের স্বচ্ছ পানি,আসার সময় ঠিকই মনে করে নিয়ে এসেছিলো নিস্পার জন্য।মেয়েটার ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো অনেক বেশি টানে তাকে,অথচ সে এড়িয়ে যেতে চায়, এই মেয়েটাকে আর এই অদ্ভুত টানকে।দৃষ্টিতে দ্বিধা,হৃদয়ে টানাপোড়ন,আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়া গ্লাস টা এগিয়ে দিলো নিস্পার দিকে,অস্পষ্ট বললো,
“খেয়ে নে,,,,,”
নিস্পা কপাল কুচকালো,জিজ্ঞেস করলো,
“কি?”
ত্রিজয় কাঠখোট্টা জবাব দিলো,
“বিষ দিচ্ছি না, খেয়ে দেখ,এক্সপ্লেইন করতে পারবো না।”
নিস্পা রাগে চোয়াল শক্ত করলো,ঘাড়তেরা লোকটার সাথে কোনরকম তর্কে গেলো না এবার,চুপচাপ এগিয়ে দিলো হাত।ঠিক সেই মূহুর্তটাকে আরেকটু উত্তেজনাপূর্ন করতে তাকরিম শক্ত করে চেপে ধরলো নিস্পার হাতের কব্জা।দগ্ধ ক্রোধ আর অপ্রকাশ্য অভিমানকে প্রশ্রয় দিয়ে দলিতমথিত করলো নিস্পার কোমল হাত,ঠান্ডা স্বরে বললো,
“আমি খাবার নিয়ে এসেছি আলেকজান্দ্রা।তুমি আমার আনা খাবার খাবে।”
ত্রিজয় ভ্রু বাঁকালো,তার চোখে মুখে অবজ্ঞাসম শান্ত দৃপ্ততা।সে স্থিরভাবে তাকিয়ে রইলো তাকরিমের বিস্ফোরিত চোখের দিকে।
এদিকে নিস্পা কিংকর্তব্যবিমুঢ়।কব্জিতে তাকরিমের চেপে ধরা আঙুলের আঁচর,আর মুখের উপর আছড়ে পরা দুই পুরুষের উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের সংঘর্ষ টের পেতেই ভয়ে কুঁকড়ে উঠল সে।শ্বাস টেনে কিছু একটা বলার উদ্দেশ্যে ঠোঁট ফাঁক করলো দ্রুত,ঠিক সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ত্রিজয় তার হাতের গ্লাসটা কৌশলে এগিয়ে নিলো, নিস্পাকে আরো একদাফ অবাক করে গ্লাসটা ঠেসে ধরল নিস্পার মুখের ভেতর,তারপর রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“কতগুলো টাকা খরচা করে এনেছি জানিস?তোকে এটাই খেতে হবে।”
তাকরিমের চোখে আগুন জ্বলে উঠল, নিস্পার হৃদয়ের মধ্যে অব্যক্ত ভূমিকম্প মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।তাকরিম নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের হাত।রাগে গজগজিয়ে বললো,
“আলগা আদর দেখানো বন্ধ কর।আলোর এই অবস্থার জন্য তুই দায়ি।”
ত্রিজয় অগ্নি চোখে তাকালো তাকরিমের দিকে,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“নিস্পার এই অবস্থার জন্য কে দায়ি আমার ভালো করেই জানা আছে এমপি মশাই।শুধু প্রমাণের অপেক্ষা।”
“জানোয়ারের বাচ্চা, কাল আমি না এলে ওকে একা ফেলে রেখে যেতি তুই,ওর কি অবস্থা হতো তখন?শালা বেইমান,এখন এসেছে পিরিত দেখাতে?”
“আপনি যে নিজের রক্তের সাথে বেইমানী করলেন?তার কি হবে এমপি মশাই?অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়, না ভালোবাসা না তো লড়াইয়ে জেতার আকাঙ্খা।”
“কি বলতে চাইছিস তুই?”
“আপনার বোন হসপিটালে আইসিউতে আছে খবর নিয়েছেন?যে নিজের রক্তের খবর নেয় না সে একটা থার্ড পারসন মেয়েকে কি বালের ভালোবাসবে?”
তাকরিমের রাগ আরেকটু বাড়লো, প্রচন্ড আক্রোশে চেচিয়ে উঠলো,
“শাট আপ, শাট আপ।আলেকজান্দ্রাকে ভালোবাসার উর্ধে আমার লাইফে দ্বিতীয় কোন লক্ষ নেই,কোন গন্তব্য নেই।আমার লাইফে একটা নামই চিরন্তন সত্য,সেটা হলো আলেকজান্দ্রা।ওকে জয় করার জন্য হাজারটা বেইমানি করতে প্রস্তুত আমি।”
ত্রিজয় মুচকি হেসে তাকালো তাকরিমের বুকের দিকে, সন্দিহান কন্ঠে বললো,
“এই রক্তের ফোটা টা কি সেই বেইমানিরই চিহ্ন?এমপি মশাই।”
নিস্পা অবাক হলো দফায় দফায়,চোখে দেখতে না পেলেও দুজনের প্রতিটি কথা কানে শুনেছে স্পষ্ট।ত্রিজয়ের শেষ কথায় হতভম্ব হলো সে,বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“কীসের বেইমানির কথা বলছেন আপনারা?”
তাকরিম দমে গেলো এবার, চকিতে তাকালো সাদা পাঞ্জাবির উপর লেগে থাকা রক্তের ফোটার দিকে,আত্মনিন্দায় দাঁতে দাঁত পিষলো সে,দ্রুত ভাবলো যথাযোগ্য প্রতিত্তোর।কিন্তু তার আর প্রয়োজন পড়লো না,তাকরিমের উত্তর প্রস্তুত করার আগেই কেবিন রুমে প্রবেশ করলো ডক্টর কিয়ান।চোখে পেশাদার সংযম বজায় রেখে চাপা রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“এখানে কি হচ্ছে এসব?”
ত্রিজয় চোখ বড় বড় করে চকিতে তাকালো ডক্টর কিয়ানের দিকে,ডক্টর কিয়ানের চেহারা দেখা মাত্রই শরীরের রক্ত টগবগ করে উঠলো,মস্তিষ্কে দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো আগুন।চোখের সামনে ভেসে উঠলো পরশু ঘটে যাওয়া ঘটনা,ক্রোধের বসবর্তি হয়ে তেড়ে গেলো কিয়ানের দিকে,চেচিয়ে বললো,
“এই শালা এখানে কি করছে?”
কিয়ান কিছু বলার আগেই প্রতিত্তোর করলো তাকরিম,
“কন্ট্রোল ইউর ল্যাঙ্গোয়েজ।উনি আলোর ডক্টর।”
ত্রিজয়ের মেজাজ খারাপ হলো,দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“শালা উজবুক তুই জানিস ও কে?এই ডক্টর ই,,,,
কথাটুকু শেষ করতে দিলো না নিস্পা,চট করেই চেপে ধরলো ত্রিজয়ের হাত।বোঝালো কথাটা সিক্রেট রাখতে।
ত্রিজয় রাগে কটমট করে তাকালো নিস্পার হাতের দিকে, তারপর ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে দিয়ে তাকরিমকে বললো,
” শালা হাম্বা,শেয়ালের কাছে কি করে মুরগী জমা দিতে হয় তোকে না দেখলে জানতেই পারতাম না।”
কিয়ান বাঁকা হাসলো, পরপরই প্রতিক্রিয়া পাল্টে গম্ভীর্য টানলো মুখে,চাপা কন্ঠে বললো,
“আপনারা বাইরে যেতে পারেন, রোগির খাবারের সময় এখন।”
তাকরিম কাঠকাঠ উত্তর দিলো,
“আপনার ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না, আমি খাবার নিয়েই এসেছি।”
“সরি এমপি মশাই, রোগীকে বাইরের খাবার দেওয়া যাবে না।রোগীর জন্য আমি খাবার নিয়ে এসেছি।”
কিয়ানের কথায় ত্রিজয় ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“বাহ!আজকাল ডক্টররা রোগীর খাবারের ব্যাবস্থাও করে দেয়?”
তাকরিম বিরক্ত হলো,ভরাট কন্ঠে বললো,
“আপনার এতোকিছু না ভাবলেও চলবে ডক্টর,আপনার ওভার সারভিস পছন্দ হচ্ছে না আমার।নিজের খাবার নিয়ে বের হয়ে যান।”
কথাটা বলেই থামলো তাকরিম, শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো নিস্পাপের মুখের দিকে, নরম কন্ঠে বললো,
“আলেকজান্দ্রা আমার, তাই আমি যেই খাবারটা এনেছি ও সেটাই খাবে।”
তাকরিমের কথার বিরোধিতা করে কিয়ান পুনরায় বললো,
“পেসেন্ট আমার,তাই ওর হেলথ এর জন্য যেটা ভালো আমি সেই খাবার টাই সাজেস্ট করবো।”
ত্রিজয় দাঁতে দাঁত পিষলো,ভ্যাবলার মতো তাকালো তাকরিম আর কিয়ানের মুখের দিকে, কর্কষ কন্ঠে বললো,
“হ ভাই বুঝছি,আমার বউ আমার না, একজনের আলেকজান্দ্রা, একজনের পেসেন্ট আর আমি রোহিঙ্গা।”
নিস্পা এবার ফুসে উঠলো, এদের ঝগড়ায় তিক্ত বিরক্ত প্রায়, হসপিটালের বেডে শুয়ে থেকেই তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,
“আর আমি তো দুধের বাচ্চা, মনে হচ্ছে মাত্রই জন্মগ্রহণ করেছি।”
ত্রিজয় চোখ উল্টে তাকালো নিস্পার দিকে,ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“ওলে আমাল বাবুটা?তিন বেডার মারামারি বাধিয়ে দিয়ে সে এখন দুধের বাচ্চা।দুধু খাবে?আসো দুধু খাওয়াই।”
নিস্পা নাক কুচকালো,রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“ছেঃ,ওসব অকেজো জিনিস নিয়ে গলাবাজি কমিয়ে করুন।আপনি আজীবন চেষ্টা করলেও এক ফোটা বেড়োবে না।”
ত্রিজয় মুখ বাকালো,দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“ওসব আমার দরকারও নেই।যেটা কাজ করা দরকার সেটা কাজ করলেই চলবে।”
তাকরিম রাগে ক্ষোভে চোখ লাল করলো, ত্রিজয় আর নিস্পার খুনসুটি সহ্যের দেয়াল ভেঙে দিচ্ছে তার,নিজেকে দমিয়ে রাখতে না পেরে তেড়ে গিয়ে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের কলার,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“আর একটা বাজে কথা না বলে এখান থেকে বের হ।”
ত্রিজয় রাগে গজগজ করে উঠলো, প্রচন্ড আক্রোশে নিজের শক্ত দু হাত দিয়ে তাকরিমের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললো,
“তুই বের হ শালা,আমি আমার বউয়ের কাছে কাউকে এলাউ করবো না।”
তাকরিমের ক্রোধ আকাশ ছুই,অগ্নি কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো,
“চুপ,একদম চুপ।আমার আলেকজান্দ্রাকে একদম বউ বউ করবি না,গলার নলী কেটে ফেলবো।”
“শালা একদম হুমকি দিবি না,এমপি হয়ে পাওয়ার দেখাচ্ছিস?তোর বালের পাওয়ার জায়গা মতো কেটে দিবো আমি,আজীবনের মতো আমার বউকে নিজের বলার সখ মিটে যাবে।”
ডক্টর কিয়ান বরাবরের মতোই ঠান্ডা, তার অভিব্যক্তি বোঝার উপায় নেই,তার ভেতরে উথলে ওঠা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত টের পাওয়া যায় না কিছুতেই,সে শান্ত কন্ঠে বললো,
“রোগীর রুম থেকে বের হয়ে কাটাকাটি, মারামারি যা ইচ্ছে করুন,নয়তো এজ এ ডক্টর হিসেবে একশন নিতে বাধ্য হবো আমি।
তাকরিম রাগান্বিত চোখে তাকালো কিয়ানের দিকে,চাপা রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“ডক্টর ডক্টরের মতো থাকুন,পার্সোনাল ব্যাপারে নাক গলাতে আসবেন না।দরকার হয় আপনি বেরিয়ে যান।”
কিয়ান বিরোধিতা করে বললো,
“বিষয় যদি হয় রোগীর কন্ডিশন নিয়ে তাহলে আমি অবশ্যই নাক গলাবো।”
তাকরিম প্রতিত্তোর করার আগেই ত্রিজয় বললো,
“চিন্তা করবেন না এমপি মশাই,বড় নাক কেটে ছোট করার অভিজ্ঞতা আছে আমার।”
ত্রিজয়ের কোন কথাই সহ্য হয় না তাকরিমের, গায়ে জ্বালা ধরে একপ্রকার,ত্রিজয়কে খোচা দিতে তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,
“কারো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই আমার,অন্যের নাক কাটার আগে নিজের নাকটা সংযত করা শিখে নে।”
ত্রিজয় কপট মেজাজ দেখিয়ে তাকরিমের কথার প্রতিবাদ করলো দ্রুত,
“এমপি বলে যা ইচ্ছে তাই বলে সেড়ে যাবি ভাবিস না,এক থাপ্পড়ে চৌষট্টি টা দাঁত ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা আছে আমার।”
ডক্টর কিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে দিলো, ব্যাঙ্গ কন্ঠে বললো,
“মূর্খ।এই জ্ঞান নিয়ে বড় বড় ডায়লগ দিতে এসেছে, মানুষের দাঁত বত্রিশ টা হয়, চৌষট্টি টা নয়।”
“আমি জানতাম তুই তোর লম্বা নাকটা গলাবি , তাই তোর গুলোও এড করে বলেছি।”
কিয়ানের প্রতিত্তরের আগে এবার তাকরিম বললো,
“শালা ফকিন্নি,সামান্য ডায়লগ টাও কপি মেরে দিয়েছে,নিজের বলতে তো দেখছি কিছুই নেই।”
ত্রিজয় রাগে চোয়াল শক্ত করে বললো,
“কেন ভুলে যাস বলতো?আমার নিজের একটা বউ আছে, যার পেছনে কুত্তার মতো পরে আছিস তোরা।”
তাকরিম রাগে গজগজ করে একটা ঘুষি উঠালো ত্রিজয়ের নাক বরাবর ,ক্রোধিত কন্ঠে বললো,
“কুত্তা*রবাচ্চা সাবধানে কথা বল,জ্বিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো।”
ত্রিজয় মুচড়ে ধরলো তাকরিমের হাত,প্রতিহত করল তার দিকে ধেয়ে আসা আঘাত,দাম্ভিক কন্ঠে বললো,
“ফুটানি কম মার, তুই আমার একটা চুলও ছিড়তে পারবি না।”
নিস্পার অবস্থা নাজেহাল,তিনজনের একজনকেও থামানোর উপায় জানা নেই তার,তবে কিছু একটা না করলে যে তারা থামবে না এ ব্যাপারে শিউর সে।মেয়েটা উপায়ন্তর না পেয়ে চেঁচালো,ক্ষতস্থানে হাত রেখে চিৎকার করে বললো,
“ওহ আল্লাহ মরে যাচ্ছি।”
চলবে,,,,,,,,,,,,,

