ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব__________২৬

0
21

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব__________২৬

গোধূলির আলো ফুরিয়ে চারপাশটা ধূসর হতে শুরু করেছে, তখনই ফালাক সাদের মায়ের অনুমতি নিয়ে পাশের বাড়ির কাকিমার বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়। কাকিমা বারবার করে ওকে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন, তাই ফালাক ভাবল কিছুক্ষণ গল্প করে ফিরবে। সাদের মা খুশি মনেই সম্মতি দিলেন।
____________

সন্ধ্যা পেরিয়ে অন্ধকার ঘন হয়ে আসে, এদিকে সাদ ফিরে সোজা রুমে যায়। প্রতিদিন সাদ বাসায় ফিরলেই ফালাক শরবত, পানি নিয়ে সামনে হাজির হয় । সাদ ভাবল ফালাক হয়তো নিচে কোনো কাজে ব্যস্ত।ঘরে গিয়ে সাদ জ্যাকেটটা খুলে রাখে

দশ মিনিট, বিশ মিনিট পার হয়ে গেল। সাদের ইদানীং ফালাকের সান্নিধ্য ছাড়া কেন জানি অস্থির লাগে। বাড়ি ফিরে এখনো ফালাক এর দেখা পায়নি। নিচে নেমে এসে মাকে জিজ্ঞেস করল—

“মা, ফালাক কোথায়? ।”

“ও তো পাশের বাড়ি নাহিদাদের ওখানে গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা তো অনেক আগেই হয়ে গেছে, এখনো এল না কেন!”

সাদের মায়ের মনেও এবার দুশ্চিন্তা দানা বাঁধল। তিনি মিরাকে ডেকে বললেন—

“মিরা, যা তো মা। পাশের বাড়ি থেকে তোর ভাবিকে ডেকে নিয়ে আয়। রাত হয়ে যাচ্ছে।”

মিরা দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল। পাঁচ মিনিট পর মিরা প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতে ফিরে এল। চোখেমুখে আতঙ্ক। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে থাকা সাদ মিরার অস্থিরতা দেখে থমকে দাঁড়ালো।

“মা… ভাবি… ভাবি তো ওখানে নেই!”

সাদ মিরার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।

“মানে কী নেই?

“কাকিমা বললেন, ভাবি তো সন্ধ্যার আজান দেওয়ার পরপরই ওখান থেকে বেরিয়ে গেছে! প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেছে ওখান থেকে বেরিয়েছে।”

পাশের বাড়ি থেকে তাদের গেট পর্যন্ত আসতে বড়জোর দুই মিনিট সময় লাগে। তবে এক ঘণ্টা ধরে ফালাক কোথায়?

“কী…! তাহলে ফালাক কোথায় গেল? এক ঘণ্টা ধরে ও বাড়ির বাইরে?”

সাদ আর এক মুহূর্ত দেরি না করে পকেট থেকে ফোন বের করল।

বাড়ির সবাই আশপাশে, পাড়া-প্রতিবেশী সবার বাড়ি খুঁজল, কিন্তু ফালাকের কোনো হদিস পাওয়া গেল না।সবার মনে একটাই প্রশ্ন—মেয়েটা গেল কোথায়?

সাদ পাথরের মতো স্থির হয়ে সিসিটিভি ফুটেজের সামনে বসে আছে। চোখ লাল হয়ে গেছে। রিওয়াইন্ড করে দেখছে ফালাক কখন বেরিয়েছিল। ফুটেজে দেখা গেল, ফালাক যখন ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের গেটের দিকে আসছিল, ঠিক তখনই গেটের থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ লোক ওকে ডাক দেয়। ফালাক সহজ সরল মেয়ে, কোনো সন্দেহ না করে লোকটার কাছে এগিয়ে যায়। লোকটা কাঁপা কাঁপা হাতে ফালাককে একটা ভাঁজ করা কাগজ দিল।
ফালাক যখনই কাগজটা খুলে পড়তে শুরু করল, তখনই দেখা গেল হঠাৎ টলতে টলতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার কোণে দাঁড়িয়ে থাকা একটা কালো রঙের গাড়ি এসে দাঁড়ালো আর দ্রুত ফালাককে ভেতরে তুলে নিয়ে গাড়িটা হাওয়া হয়ে গেল।

সাদ কাঁপাকাঁপা হাতে ফুটেজটা জুম করল। সারা শরীর রাগে রি রি করে উঠল। হাতের মুঠি শক্ত হয়ে এল।
সাদ দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল—
” হামজা!”
সাদের বুঝতে বাকি রইল না কেন এমন করেছে।হামজা অনেকদিন ধরেই সাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল।
সাদের চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। টেবিলের ওপর জোরে একটা কিল মেরে উঠে দাঁড়ালো। বাড়ির সবাই ওকে দেখে ভয়ে পিছিয়ে গেল। সাদ এখন এক জ্যান্ত আগ্নেয়গিরি।

____________
ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। বাইরের অন্ধকারের সাথে পাল্লা দিয়ে ফালাকের চোখের পাতাও যেন ভারী হয়ে ছিল। অবশেষে খুব কষ্টে চোখ মেলল। মাথাটা প্রচণ্ড ঝিমঝিম করছে,
ফালাক দেখল একটা ভাঙাচোরা, স্যাঁতসেঁতে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। চারপাশে ধুলোবালি আর মাকড়সার জাল। ওর হাত-পা শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধা।ফালাক ভয়ে অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠল—

“কেউ আছেন??!”

কিন্তু কোনো উত্তর এল না। ঘরের কোণে একটা ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই ফালাকের কলিজা শুকিয়ে গেল। বাইরে কেবল ঘন জঙ্গল আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। চাঁদের আলো গাছের পাতায় লেগে এক ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। ফালাক বুঝতে পারল, ও লোকালয় থেকে অনেক দূরে কোনো এক নির্জন জায়গায় বন্দি।

হঠাৎ ভারি বুটের শব্দ শোনা গেল। কেউ একজন ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। ফালাক ভয়ে দেয়ালের সাথে সেঁটে গেল। দরজাটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে খুলে গেল হাতে একটা টর্চ নিয়ে ভেতরে ঢুকল সেই লোকটা—যার নাম হামজা। লোকটার ঠোঁটে এক পৈশাচিক হাসি।

ফালাক ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল—
“কেন নিয়ে এসেছেন আমাকে এখানে? আপনার কী ক্ষতি করেছি?”

হামজা ফালাকের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসল ওর চিবুকটা জোরে চেপে ধরল।

“ক্ষতি? তোমার ওই অহংকারী স্বামী আমার সাম্রাজ্য শেষ করে দিয়েছে। আজ আমি তার অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দেব। তুই হবি সাদ মির্জার ধ্বংসের শুরু,।

ফালাকের দু-চোখ বেয়ে জলের ধারা নামছে। মনে মনে শুধু একজনের কথাই ভাবছে।

হামজা ফালাকের চিবুকটা শক্ত করে ধরে কথাগুলো বলছিল, তখন ফালাকের চোখের জলে ভেজা নিষ্পাপ মুখটা চাঁদের আলোয় এক অলৌকিক সৌন্দর্যের মতো ফুটে উঠল। হামজা কিছুক্ষণ স্থবির হয়ে ফালাকের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কুৎসিত মনেও এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময় জাগল।

হামজা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে মাথা নাড়ল।

“মানতেই হবে রে, ওই শয়তান সাদ মির্জার কপাল
আছে বলতে হয়! এতো সুন্দরী বউ ও কোথায় পেল? এই মায়াবী চেহারা দেখলে তো যে কারো পাষাণ মন গলে যাবে। সাদ মির্জা শুধু ক্ষমতায় নয়, কপালেও দেখছি সবাইকে টেক্কা দিয়েছে।

” ছেড়ে দিন…… ছেড়ে দিন বলছি!
ফালাক মনে মনে ভাবে তার জীবনে কি কোনো শান্তি আসবে না এ কোন বিপদে পড়লো। আচ্ছা ফালাক কে কি সাদ খুজবে??” আল্লাহ তুমি পথ দেখাও এখন থেকে কিভাবে বের হবো। বাঁচাও আল্লাহ। মনে মনে দোয়া পড়তে থাকে।

হামজা ফালাকের গালটা আবার স্পর্শ করতে গেল, ফালাক ঘৃণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে । হাতটা ফালাকের ত্বক ছোঁয়ার আগেই হঠাৎ হামজা অনুভব করল ওর ঠিক পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে।

হামজা চমকে গিয়ে পেছনে ফিরতেই দেখল ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝখানে আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলন্ত সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে সাদ মির্জা। সাদের পরনের শার্টের হাতা গোটানো, কপালে রাগের রগগুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে।
সাদ এক চুলও সময় নষ্ট করল না। বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হামজার কলার ধরে এক হ্যাঁচকা টানে ওকে মেঝেতে আছাড় মারল। হামজাকে লাথি মেরে দেয়ালের সাথে পিষে ধরে সাদ গর্জে উঠল—

“তোর দেখছি এখনো শিক্ষা হয়নি হামজা! তুই ভেবেছিলি এই জঙ্গলে লুকিয়ে আমার থেকে বাঁচবি? সাদ মির্জার জিনিস ছোঁয়ার সাহস দেখাস কোন সাহসে?”

ফালাক ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। ভয়ে ওর শরীর কাঁপছে, সাদকে দেখে ওর মনে হলো যেন মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টি নেমেছে। সাদ এসেছে!
ঠিক সেই মুহূর্তে হামজার এক চেলা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সাদের একদম পেছন দিয়ে এসে ধারালো এক ছুরি দিয়ে সাদের পিঠে সজোরে আঘাত করল। সাদের সাদা শার্ট মুহূর্তেই লাল রক্তে ভিজে একাকার হয়ে গেল।
ফালাক চিৎকার করে উঠল—

আপনার পিঠে… আপনার রক্ত পড়ছে! সরে যান!”

ব্যথায় সাদের মুখটা একবার কুঁচকে উঠল, কিন্তু দমে গেল না। উল্টো ঘুরে এক ঝটকায় লোকটার হাত থেকে ছুরিটা কেড়ে নিয়ে লোকটাকে সজোরে লাথি মারল। সাদ যেন আজ মানুষ নয়, এক আহত সিংহ। পেছনে থাকা লোকটাকে এমনভাবে মারল যে সে ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল। এরপর সাদ আবার হামজার দিকে ফিরল। হামজা তখন পালানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু সাদ ওকে টেনে ধরে এমন আছাড় মারল যে হামজার আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রইল না।
সাদ রক্তাক্ত অবস্থায় টলতে টলতে ফালাকের দিকে এগিয়ে এল। ফালাক কাঁদতে কাঁদতে সাদের কাছে ছুটে গেল। সাদ নিজের ব্যথা ভুলে গিয়ে খুব সাবধানে ফালাকের বাঁধন খুলে দিল।

“কিছু হয়নি … আমি আছি তো।

সাদ ফালাককে নিজের পাজাকোলে তুলে নিল। সাদের পিঠ দিয়ে তখনো অনবরত রক্ত গড়িয়ে ফালাকের হাত ভিজিয়ে দিচ্ছে। ফালাক সাদের বুকের সাথে লেপ্টে আছে, ফালাককে নিয়ে ভাঙাচোরা ঘর থেকে বেরিয়ে বনের বুক চিরে নিজের গাড়ির দিকে এগোতে লাগল।
ফালাক সাদের জখমের ওপর নিজের ওড়না চেপে ধরল।
“কেন এলেন আপনি একাই? আপনার এই অবস্থা আমি সহ্য করতে পারছি না!”

সাদ ম্লান হেসে ফালাকের গালের চোখের জল মুছে দিল।
এরপর ফালাক কে কোলে নিয়ে জঙ্গলে এর মধ্যে দিয়ে হাঁটতে থাকে।। ফালাক নামিয়ে দিতে বললেও সাদ নামিয়ে দেয় না।

স্টুপিড ” কেউ ডাকলেই যেতে হয়!??

“আমাকে addres জিজ্ঞাস করেছিলো তাই তো…..

হুম তাইতো…… সাদ ব্যাঙ্গ করে বলল।
…………..
ব্যথায় সাদের নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, পিঠের জখমটা প্রতি পদক্ষেপে জানান দিচ্ছে তার গভীরতা। কিন্তু ফালাককে কোলে নিয়ে হাঁটার সময় চোখেমুখে কোনো যন্ত্রণার ছাপ নেই, আছে কেবল এক অস্থির জেদ। বনের অন্ধকার চিরে সাদের ভারী বুটের শব্দ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক মিলে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা তৈরি করেছে। তখন হামজা এর কথা ভেবে সাদ বেরিয়ে পড়ে। লক্ষ্য ছিলো এখানে পৌঁছানো। কাউকে কিছু বলার কোথাও মাথায় আসে নি।

____________

ফালাক সাদের বুকের সাথে লেপ্টে আছে। ফালাক অনুভব করতে পারছে সাদের শরীর ক্রমশ ঘেমে উঠছে, ফালাক কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলল—

প্লিজ আমাকে নামিয়ে দিন। আপনি হাঁটতে পারছেন না, আপনার শরীর দিয়ে অনেক রক্ত পড়ছে। আমি নিজে হাঁটতে পারব।”

সাদ এক মুহূর্তের জন্য থামল না। দুহাতের বাঁধন আরও শক্ত করে ফালাককে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বলল—

“চুপচাপ থাক । একবার স্টুপিডগিরি করেছিস, এখন দ্বিতীয়বার আমার মেজাজ খারাপ করিস না। তোর পায়ে জুতো নেই খালি পায়ে এই জঙ্গলের মাটিতে কোথায় কি আছে পা কেটে যাবে।

ফালাক আর কোনো কথা বলল না। শুধু সাদের কাঁধে মাথা রেখে অঝোরে কাঁদতে লাগল। কেবল মনে হচ্ছে—এই মানুষটা নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ওর জন্য ছুটে এল? এতোটা রক্ত ঝরিয়েও ওকে আগলে রাখছে?

বন থেকে বেরিয়ে গাড়ির কাছে পৌঁছাতেই সাদ ফালাককে খুব সাবধানে ফ্রন্ট সিটে বসিয়ে দিল। এরপর নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসল।

“আপনি কি এই অবস্থায় গাড়ি চালাবেন?

সাদ গাড়ি স্টার্ট দিল। বনের এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে জিপটা তীব্র গতিতে ছুটছিল, ফালাক একদৃষ্টে সাদের মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। চাঁদের আবছা আলোয় সাদের ফর্সা মুখটা এখন যন্ত্রণায় ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ফালাক আলতো করে সাদের হাতের ওপর নিজের হাতটা রাখল।

“আমি খুব সরি । আমার জন্যই আপনার এই অবস্থা…”

সাদ গাড়ির স্পিড আরও বাড়িয়ে দিল। সামনের দিকে তাকিয়েই খুব নিচু স্বরে বলল—
“সরি বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করিস না। এই যে আমাকে এতোটা ভোগালি, বাড়িতে গিয়ে এর কড়ায় গণ্ডায় হিসেব নেব আমি। আপাতত দোয়া কর যাতে মাঝপথে অজ্ঞান না হয়ে যাই।”

ফালাকের বুকটা কেঁপে উঠল। ও দ্রুত সাদের পিঠের জখমের ওপর নিজের আঁচলের অংশটা চেপে ধরল যাতে রক্তপাত কিছুটা কমে। মনে মনে শুধু প্রার্থনা করছে— “আল্লাহ, উনাকে সুস্থ করে দাও। আমার সবটুকু আয়ু ওনাকে দিয়ে দাও।”

________

হাসপাতালের সামনে জিপটা প্রচণ্ড শব্দে ব্রেক কষে থামল, সাদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, কিন্তু জেদি মানুষটা নিজের ব্যথার চেয়েও ফালাকের সুরক্ষাকেই বড় করে দেখল। স্টিয়ারিং ছেড়ে টলতে টলতে গাড়ি থেকে নামল ফালাকের পাশের দরজাটা খুলে ধরল।

সাদ ফালাকের হাত ধরে এক প্রকার টেনে স্ট্রেচারের কাছে নিয়ে গেল। কর্তব্যরত ডাক্তার আর নার্সরা এগিয়ে আসতেই সাদ গর্জে উঠল—

“আগে ওকে ট্রিটমেন্ট করেন! ওর শরীরে কোথাও কোনো চোট লেগেছে কি না ভালো করে চেক করুন।”

ডাক্তার অবাক হয়ে সাদের রক্তাক্ত পিঠের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মিস্টার, আপনার অবস্থা তো গুরুতর! আপনার অপারেশন থিয়েটারে যাওয়া দরকার।”

সাদ ভ্রু কুঁচকে কর্কশ গলায় বলল, “আমি যা বলছি তা-ই করুন। ও ভয় পেয়েছে, ওর ট্রিটমেন্ট আগে জরুরি।”

ফালাক কাঁদতে কাঁদতে সাদের হাত আঁকড়ে ধরল। চিৎকার করে বলতে চাইল যে এই লোক টাই বেশি আহত, কিন্তু সাদ ওকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিল। বেশ কিছুক্ষণ প্রাথমিক চিকিৎসার পর জানা গেল ফালাক এর শুধু হাতে-পায়ে সামান্য ছিলে গেছে। অন্যদিকে সাদের পিঠের জখমটা বেশ গভীর ছিল। ডাক্তাররা ব্যান্ডেজ করে ওকে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কড়া নির্দেশ দিলেও সাদ শোনেনি। একগুঁয়ে মানুষটা নিজের সাইন করে রিলিজ নিয়ে ফালাককে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলো।
রাত তখন গভীর। মির্জা বাড়ির গেটে জিপটা থামতেই বাড়ির সবাই—সাদের মা, বাবা, মিরা আর বাকিরা পাগলের মতো ছুটে এলেন। সাদকে আর বিধ্বস্ত ফালাককে দেখে বাড়িতে যেন একটা ছোটখাটো ভূমিকম্প হয়ে গেল।
সাদের মা ফালাককে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন, আর সাদকে ওই অবস্থায় দেখে মিরার চিৎকার বের হয়ে গেল—

“ভাইয়া! তোমার এ কী হাল!”

সাদ কোনো কথা না বলে ভেতরে ঢুকল। ফালাক এক মুহূর্তের জন্যও সাদের পাশ ছাড়ল না। সাদের হাত শক্ত করে ধরে আছে। ড্রয়িংরুমে সোফায় সাদকে বসানো হলো।
সাদের মা কান্নাকাটি করছেন দেখে সাদ খুব ধীর স্বরে বলল—
“মা, অনেক রাত হয়েছে। ফালাক ঠিক আছে, আমি ওকে নিয়ে এসেছি। এখন কান্নাকাটি বন্ধ করো আর সবাই যার যার রুমে যাও। আমি ঠিক আছি।”

চলবে ~~~

#উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট #everyonefollowers

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here