#ফালাক
#লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
(🚫প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য !)
(18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন )
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌ কেউ অনুমতি না নিয়ে কপি করে অন্য কোথাও পোস্ট করবেন না )
বাইরে বক্স বাজছে, কিন্তু ১৮ বছরের ফালাক এর কাছে মনে হচ্ছে সেটা তার মরণঘণ্টা। আয়নার সামনে বসে ফালাক ফুঁপিয়ে কাঁদছে। গালের কাজল চোখের জলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। বাবা-মা মরা এতিম মেয়ে ফালাক। বড় ভাই আর ভাবির সংসারে সে বড় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ বুঝল সে আসলে তাদের কাছে কেবল একটি ‘পণ্য’ ছিল।
“ভাইয়া, তুমি এই কয়েকটা টাকার জন্য আমাকে ওই লোকটার হাতে তুলে দিচ্ছ? যে লোকটা ডিভোর্সি, যার বয়সের সাথে আমার কোনো মিল নেই? লোকে বলে সে বড় মাস্তান, সবাই তাকে ভয় পায়। আমি ওই বাড়িতে গিয়ে বাঁচব তো?”
ফালাকের বড় ভাই ঘরের এক কোণে বসে মির্জা বাড়ি থেকে পাঠানো টাকার বান্ডিলগুলো গুছিয়ে রাখছে। তার চোখে কোনো অনুশোচনা নেই, আছে শুধু লোভের তৃপ্তি।
“চুপ কর ফালাক! কপাল করে এমন ঘরে বিয়ে হচ্ছে তোর। সে মস্তানি করুক আর যাই করুক, তার অনেক টাকা। এই যে গয়নাগুলো পরেছিস, এগুলো সব ওদের বাড়ি থেকে পাঠিয়েছে। তোর ভাবি আর আমি তোকে আর কতদিন খাওয়াব? এখন নিজের পথ নিজে দেখে নে।”
ফালাকের ভাবি পাশ থেকে বলে উঠে
এই যে এতগুলো টাকা আর এই গয়না—এগুলো ওনার পরিবার থেকেই পাঠিয়েছে। এই অভাবের সংসারে তুই থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হতো।”
যা ঠিক মতো তৈরী হয়ে নে।
ফালাক এই বিয়ে করতে করতে চায়না। তার জীবন টা যে শেষ হয়ে যাবে। ছোট থেকে খুব কষ্টে বড়ো হয়েছে।
______
৩২ বছর বয়সী সাদ মির্জা তার কামরায় বসে সিগারেট টানছে। সাদ এলাকার দাপুটে মাস্তান, সবাই তাকে যমের মতো ভয় পায়। তার আগের স্ত্রী তার এই অন্ধকার জগত আর রূঢ় আচরণ সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে।
সাদের মা ঘরে ঢুকে বলেন,
সাদের মা: “সাদ, গাড়ি তৈরি। আর কতক্ষণ বসে থাকবি? মেয়েটা এতিম, খুব শান্ত। তুই বিয়েটা করলেই ওর একটা গতি হবে, আর আমাদের ও বংশও রক্ষা পাবে।
সাদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে “আমি আগেই বলেছি মা, আমি বিয়ে করতে চাই না। তোমরা টাকা দিয়ে মেয়ে কিনে আনছ আমার জন্য, এটা বিয়ে নয়। আমি তাকে কোনোদিন স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারব না। সে এই বাড়িতে শুধু তোমাদের পছন্দের পুতুল হয়ে থাকবে, আমার কেউ না।”
_________
রাত বাড়ে। সাদের দামি গাড়ি ফালাকদের বাড়ির সামনে । পাড়া-পড়শিরা জানলা দিয়ে উঁকি মারছে। মস্তান সাদ মির্জার ভয়ে কেউ সামনে আসার সাহস পাচ্ছে না। ফালাকের বড় ভাই প্রায় জোর করেই তাকে ধরে গাড়িতে বসিয়ে দেয়।
গাড়ির পেছনের সিটে ফালাক এক কোণে জড়সড় হয়ে বসে আছে। তার পাশে বসে আছে সাদ মির্জা। সাদের গায়ের পারফিউমের কড়া ঘ্রাণ আর তার গাম্ভীর্য ফালাককে আরও আতঙ্কিত করে তুলছে। সাদ একবারও ফালাকের দিকে ফিরে তাকায়নি। গাড়ি চলতে শুরু করে মির্জা ভিলার দিকে।
_____
মির্জা ভিলার বিশাল রাজকীয় কামরায় ফালাক এক কোণে মাথা নিচু করে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগেই এই ঘরে এনে বসিয়ে দিয়ে গেছে এই বাড়ির কয়েকজন।
সাদ ঘরে ঢুকেই লাথি মেরে দরজাটা বন্ধ করে দিল। সেই শব্দে ফালাক আঁতকে ওঠে। সাদের হাতে ছিল একটা মদের বোতল। সারা শরীর থেকে কড়া অ্যালকোহলের গন্ধ বেরোচ্ছে। টলতে টলতে ফালাকের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ফালাক ভয়ে খাটের এক কোণে সিঁটিয়ে আছে। সাদ বোতলের শেষ চুমুকটা দিয়ে সেটা মেঝেতে আছাড় মেরে ভাঙল। কাঁচ ভাঙার শব্দে ফালাক আর্তনাদ করে উঠল।
সাদ কোনো কথা না বলে রাগে আর বিরক্তিতে নিজের গায়ের দামী শেরওয়ানিটা টেনে খুলে একপাশে ছুড়ে ফেলল। তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে আছে।
ধীরপায়ে ফালাকের দিকে এগিয়ে এল। ফালাক ভয়ে পিছাতে পিছাতে দেয়ালের সাথে মিশে গেল। সাদ ফালাকের খুব কাছে এসে দাঁড়াল, তার তপ্ত নিঃশ্বাস ফালাকের কপালে লাগছে।
কি হলো? ভয় পাচ্ছিস? তু্ই জানতি আমি কেমন লোক। জেনেশুনেই তো টাকার লোভে এই মাস্তানের গলায় ঝুলে পড়েছিস। এখন সতীপনা দেখিয়ে লাভ নেই!”
“বিয়ে করার শখ আজ মিটিয়ে দিচ্ছি তোর। সাদ তার শক্ত আঙুলে ফালাকের চিবুকটা চেপে ধরে মুখটা ওপরে তুলল। সাদের চোখের মণি দুটো লাল হয়ে আছে। ফালাক কিছু বলার আগেই সাদ তার চুলের খোপায় হাত দিল। সযত্নে গেঁথে রাখা সাদা গাজরা ফুলগুলো এক ঝটকায় টেনে ছিঁড়ে ফেলল। কয়েকটা ফুল ছিঁড়ে ফালাকের কোলের ওপর পড়ল, বাকিগুলো ছড়িয়ে গেল বিছানায়। খোপাটা আলগা হয়ে ফালাকের পিঠময় তার ঘন কালো চুল ছড়িয়ে পড়ল। হ্যাঁচকা টানে ফালাকের ব্লাউজের বোতামগুলোতে হাত দিল। ফালাক ছটফট করছে, সাদ এক নিমেষেই উপরের বোতামগুলো ছিঁড়ে ফেলল। ফালাকের কান্নার শব্দ সাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না, মাথায় তখন কেবল নেশা আর ঘৃণা কাজ করছে। কান্নার নাটক বন্ধ করো! তোমার মতো লোভী মেয়েদের আমি চিনি। বিয়ে করার যখন এতই শখ, তখন সেই শখ আমি আজ মিটিয়ে দিচ্ছি।
বলেই সাদ প্রচণ্ড আক্রোশে ফালাকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ফালাক নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সাদের পাশবিক শক্তির সামনে তার ১৮ বছরের দুর্বল শরীরটা কিছুই নয়। ফালাকের আর্তনাদ ওই বন্ধ ঘরের দেয়াল ভেদ করে বাইরে যাওয়ার কোনো পথ পেল না। সাদ তাকে স্রেফ একটা ‘পণ্য’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করল, যার কোনো মন নেই, কোনো অনুভূতি নেই।ফালাকের শাড়ির আঁচলটা অবজ্ঞার সাথে সরিয়ে দিলো। রজনীগন্ধার পাপড়িগুলো তাদের শরীরের নিচে পিষ্ট হয়ে সুবাস ছড়াতে লাগল। ব্যথার এক তীক্ষ্ণ অনুভূতি ফালাকের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।,
ফালাক যন্ত্রণায় কুঁকড়ে আছে, তার দুচোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে চাদর ভিজে যাচ্ছে। ফালাক এখন এই লোকের নাম সিলমহর হয়ে গেছে। বিয়ে হয়ে গেছে এখন এসব স্বাভাবিক । ফালাক এটাই মনে মনে শান্তনা দিলো নিজেকে।
ভোরের আজান দিচ্ছে। সাদ অন্য পাশ হয়ে শুয়ে আছে। ফালাক উঠে কোনো মতে চাদর পেঁচিয়ে ওয়াশরুমে চোলে গেলো। ঘন্টা খানিক পর একটা শাড়ি পড়ে বের হলো।
ভালো লাগছে না কিছুই, তাই নিচে নেমে এলো আস্তে আস্তে হেটে। প্রথমেই একজন বয়স্ক মহিলার সাথে দেখা হলো জিনি পান চিবুচ্ছেন ” সম্ভবত এটা সাদ মির্জার দাদি “।
” কি লো নতুন বৌ আমার নাতি মনে হয় তোমায় হাঁটার অবস্থায় রাখে নাই। এমন ভাবে হাঁটছো??
ফালাকের লজ্জায় কান গরম হয়ে উঠল। কিছু বলতে যাবে তখনই……..
চলবে –

