ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_2

0
29

(🚫প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য !)
(18+ আলার্ট, যাদের এমন গল্প পছন্দ না তারা এড়িয়ে চলবেন )

(কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌ কেউ অনুমতি না নিয়ে কপি করে অন্য কোথাও পোস্ট করবেন না )

ফালাকের লজ্জায় কান গরম হয়ে উঠল। নুইয়ে পড়া মাথাটা যেন আর কোনোভাবেই সোজা করতে পারল না সে। লজ্জায় তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। দাদির কথার ধরনে যেমন ঠাট্টা ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল এক ধরনের রূঢ় সত্য। ফালাক হাত দিয়ে নিজের পরনের শাড়ির আঁচলটা গায়ের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন সে দাদির তীক্ষ্ণ চাহনি থেকে নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করছে।
কিছু বলতে যাবে তখনই সিঁড়িতে ভারী পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। ফালাক আড়চোখে চেয়ে দেখল—সাদ নামছে।
সাদের পরনে এখন সাদা একটা শার্ট
আর জিন্স প্যান্ট। রাতের সেই মদ্যপ অবস্থায় থাকা রক্তচক্ষু নেই ঠিকই, কিন্তু চোখের সেই কাঠিন্য এখনো একই রকম। চুলগুলো অবিন্যস্ত, চোখে ঘুমের চেয়ে বিরক্তি বেশি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় একবার ফালাকের দিকে তাকাল। ফালাক শিউরে উঠল। রাতের সেই পাশবিক স্মৃতিগুলো আবার তার শরীরের নীল ক্ষতগুলোতে চাবুকের মতো আঘাত করল যেন ফালাক কে।

সাদকে দেখে দাদি পান চিবুনো বন্ধ করে একটা কুটিল হাসলেন।
দাদি: “কি রে সাদ, আজ এত ভোরেই বিছানা ছাড়লি যে? নতুন নাতবউ তো দেখি সকালে হাঁটাচলাই করতে পারছে না। তুই কি তবে একটু বেশিই মাতলামি করলি রাতে?”
সাদ দাদির কথার কোনো উত্তর দিল না। ফালাকের একদম সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ফালাক ভয়ে দুপা পিছিয়ে গেল। যা এখান থেকে, গিয়ে আমার ঘরে বসে থাক।”
সাদ তার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা বিদ্রূপের হাসি দিল।” মনে রাখিস, তুই এই বাড়ির উত্তরাধিকারী জন্মানোর একটা মাধ্যম মাত্র। এর বেশি কিছু আশা করলে ভুল করবি। যা উপরে যা!”
ফালাক আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। প্রায় দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। পেছনে শুনতে পেল দাদি খিকখিক করে হাসছেন আর সাদকে বলছেন, “মেয়েটা খুব নরম রে সাদ, একটু আস্তে চালাস।”
ফালাক নিজের ঘরে ঢুকেই দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল। তার মনে হচ্ছে এই বিশাল মির্জা ভিলার প্রতিটা ইটের নিচে একেকটা গোপন অভিশাপ লুকিয়ে আছে। সে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তার ১৮ বছরের জীবনটা আজ এই জঞ্জালের মাঝে আটকে গেছে।
হঠাৎ তার নজর পড়ল খাটের পাশে মেঝেতে—রজনীগন্ধার সেই পিষ্ট হয়ে যাওয়া পাপড়িগুলো এখনো পড়ে আছে। তার জীবনের পবিত্রতাও যেন ওই পাপড়িগুলোর মতোই সাদের পায়ের নিচে পিষে শেষ হয়ে গেছে।

সাদ কোনো কথা না বলে গটগট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। জিপ গাড়ির স্টার্ট দেওয়ার বিকট শব্দ ফালাকের কানে এল। সাদ কোথায় গেল, কেন গেল—কাউকে কিছু বলে যায়নি। মির্জা বাড়িতে সাদ মির্জাকে প্রশ্ন করার সাহস কারো নেই।
ফালাক দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখল সাদের গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে গেট পার হয়ে চলে যাচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও সে এই লোকটার বিষাক্ত উপস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে।
ঘরটা এখনো অগোছালো। সাদের ফেলে রাখা সেই মদের বোতলের কাঁচের টুকরোগুলো এখনো মেঝেতে ঝিকঝিক করছে। ফালাক নিজেই একটা ঝাড়ু নিয়ে ঘরটা পরিষ্কার করতে লাগল। কি করবে সে সবটা মেনে নিতে হবে। অনাথ মেয়ে সে খুব কষ্টে বড় হয়েছে। ভাই- ভাবীর সংসারে বোঝা হয়ে ছিলো এতদিন, সেটা থেকে তো অন্তত মুক্তি হয়েছে।

ঠিক তখনই দরজায় করাঘাত পড়ল।
ফালাক, ভেতরে আছো? দোর খোলো।”
ফালাক চট করে চোখ মুছে আঁচল ঠিক করে দরজা খুলল। সাদের মা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে একটি নতুন শাড়ি আর কিছু গয়না।
“সাদ কোথায় গেছে জানি না, তবে আজ বিকেলে আমাদের আত্মীয়রা আসবে তোমাকে দেখতে। সাদকে ছাড়াই তোমাকে সবার সামনে হাসিমুখে দাঁড়াতে হবে। মির্জা বাড়ির ইজ্জত যেন ছোট না হয়, সেটা খেয়াল রেখো।”
ফালাক বুঝল, এই বাড়িতে তাকে স্রেফ একটি সাজানো পুতুলের মতো রাখা হয়েছে।
বিকেল গড়াতেই সাদের দুই কাজিন বোন রিসা আর নিশা আর সাদের ভাবি মামাতো ভাই এর বৌ হুড়মুড় করে ফালাকের ঘরে ঢুকল। তাদের হাতে মেকআপ বক্স, দামি কাতান শাড়ি আর গয়না। ফালাক খাটের এক কোণে বসে ছিল, তাদের দেখে সে জড়সড় হয়ে দাঁড়াল।

“ওমা! মেয়েটার মুখ তো শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে। সাদ কি সারা রাত ঘুমাতে দেয়নি নাকি? যা মেজাজি ছেলে,
বলেই ভাবি খিলখিল করে হেসে উঠল। ফালাকের ইচ্ছে করছে মাটির সাথে মিশে যেতে। তার গলার কাছে যে নীলচে দাগটা হয়ে আছে, সেটা ঢাকতে সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

ফালাক কোনো কথা বলল না। কেউ তার ভেতরের রক্তক্ষরণ দেখতে পাচ্ছে না।
তারা জোর করে ফালাককে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসাল। মুখে কড়া মেকআপ ঘষা হচ্ছে যাতে কাল রাতের কালশিটেগুলো ধরা না পড়ে। গলায় ভারী নেকলেস পরিয়ে দেওয়া হলো।

আত্মীয় স্বজন রা দেখছে আর প্রশংসা করছে ফালাকের রূপের। ফালাকের বাড়ির লোকে ও এসেছে। ফালাকের বড় ভাবি ফালাক কে বলে যাচ্ছে,
একটু মাথা নিচু করে চলবি। সাদের প্রথম বউটা খুব মুখে মুখে তর্ক করত, তাই তো সাদ ওকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছে। ফালাক হুম হাঁ বলে উত্তর করেছে।
হঠাৎ বাড়ির সদর দরজায় জিপ গাড়ির কর্কশ আওয়াজ শোনা গেল।সাদ ফিরেছে।সবাই চুপ হয়ে গেল। সাদের হাতে একটা ব্যান্ডেজ, শার্টের কলারে রক্তের ছিটা। ড্রয়িং রুমে ঢুকেই সবার সাজগোজ আর ফালাককে দেখে থমকে দাঁড়াল। চোখে বিরক্তি।
“এই সঙের নাটকের মানে কী? তোমরা পুতুল নিয়ে সাজ সাজ খেলছ? ফালাক, তুই এখনো এই লোকগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছিস? উপরে যা!”
“সাদের হুংকারে পুরো ড্রয়িং রুমে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। উপস্থিত আত্মীয়রা ভয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। সাদের হাতের ব্যান্ডেজ আর শার্টের কলারে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখে ফালাকের কলিজা যেন শুকিয়ে এল।
সাদ আবার গর্জে উঠল, “কী হলো? কানে কথা যায় না? বলেছি না উপরে যা!”
ফালাক আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। ভারী শাড়ি আর গয়নার ভার সামলে প্রায় দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে নিজের ঘরে চলে গেল। ঘরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে লাগিয়ে দিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিতে লাগল। হার্টবিট এত দ্রুত চলছে যে সে নিজের কানেই সেই ধকধক শব্দ শুনতে পাচ্ছে।
মিনিট দশেকের মধ্যেই সিঁড়িতে পরিচিত ভারী বুটের আওয়াজ পাওয়া গেল। সাদ আসছে। ফালাক ভয়ে খাটের এক কোণে জড়সড় হয়ে বসে রইল। সাদ লাথি দিয়ে দরজাটা খুলল। চোয়াল শক্ত, কপাল থেকে ঘাম ঝরছে। গটগট করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
আয়নায় ফালাকের পরিপাটি সাজ আর গয়না পরা প্রতিচ্ছবি দেখে সাদ একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিল।
“কী রে? বেশ সেজেছিস তো! বাড়িতে কেউ আসার কথা শুনলেই কি তোর রূপ এভাবে ফেটে পড়ে? নাকি ভাবছিস আমাকে খুশি করতে না পারলেও মেহমানদের দেখিয়ে নিজের দাম বাড়াবি? তোর ভাই কি তোকে শিখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ডং করে সাজতে হয়?”
ফালাক কাঁপতে কাঁপতে বলল, “না… মা আর ভাবিরা জোর করে সাজিয়ে দিয়েছে।”
সাদ এক ঝটকায় ফালাকের কাছে চলে এল রক্তমাখা হাত দিয়েই ফালাকের গলার ভারী নেকলেসটা টেনে ধরল।
“খোল এসব! সরা এসব সঙের গয়না!
সাদ নেকলেসটা এমনভাবে টানল যে ফালাকের নরম চামড়ায় লাল দাগ বসে গেল। ফালাক যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠল।
সাদ নিজেই নিজের রক্তাক্ত হাতে ফালাকের চুলের পিনগুলো হ্যাঁচকা টানে খুলতে শুরু করল। ফালাকের কয়েকটা চুল পিনের সাথে ছিঁড়ে এল। সাদের স্পর্শে কোনো মায়া নেই, আছে শুধু এক অদ্ভুত আক্রোশ। যেন বাইরের সব রাগ আর ক্লান্তি এই নিরীহ মেয়েটার উপর। এবার সাদ ফালাক কে ছেড়ে বিছানায় গিয়ে বসল। ভীষণ রাগ হচ্ছে।
কেটে যায় কিছু ক্ষণ…………. ফালাক ভয়ে এক পাশে বসে আছে।
সাদের রক্তমাখা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল ফালাক। অনেক রক্ত ঝরছে। সাদের হাতের ব্যান্ডেজ ভিজে টকটকে লাল রক্ত চুইয়ে মেঝেতে পড়ছে। ফালাক ভয়ে ভয়ে খাট থেকে নেমে আলমারির পাশে থাকা ফাস্ট এইড বক্সটা খুঁজে বের করল। খুব ধীর পায়ে সাদের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
সাদ ফালাকের দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়ে কর্কশ স্বরে বলল,
“কী করতে এসেছিস? তুই তোর কাজ কর। আমার সামনে ঘেঁষবি না একদম!”
ফালাক কিছু না বলে হাঁটু গেড়ে সাদের পাশে মেঝেতে বসল। হাত কাঁপছে, ফালাকের এতো রক্ত দেখে ভালো লাগছে না। সাদকে অবাক করে দিয়ে ফালাক খুব সাবধানে সাদের রক্তমাখা হাতটা নিজের হাতের ওপর নিল।
“হাত ছাড় বলছি! কী ভাবছিস তুই? এই সেবা করে আমার মন গলাবি? তোর ভাই তোর যে রেট ফিক্স করেছে, তার চেয়ে এক পয়সা বেশি আমি তোকে দেব না। সর এখান থেকে!”
ফালাক উত্তর দিল না। পরম যত্নে পুরনো ব্যান্ডেজটা খুলতে শুরু করল। ফালাক আস্তে করে টানল বান্ডেজ, সাদ যন্ত্রণায় একটা শব্দ করে দাঁতে দাঁত চেপে ধরল।
“একটু সহ্য করুন… অনেক রক্ত বের হচ্ছে। এভাবে ফেলে রাখলে ঘা হয়ে যাবে।”
ফালাক কটন দিয়ে ক্ষতস্থানটা ড্রেসিং করতে লাগল। সাদের মতো শক্তপোক্ত মস্তানও ফালাকের এই হাতের ছোঁয়ায় মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সাদের মনে হলো, যে হাতগুলো কাল রাতে সে পিষে দিয়েছিল, সেই হাতগুলোই আজ তাকে এত মমতা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছে।
সাদ ফালাকের মুখের দিকে তাকায়। ফালাকের দুচোখ এখনো লাল হয়ে আছে, সারা মুখে কালকের সেই যন্ত্রণার ছাপ, অথচ তার কাজে কোনো অবহেলা নেই। সাদের বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু নিজের ইগো আর ঘৃণা তাকে আবার শক্ত করে তুলল।
ব্যান্ডেজ করা শেষ হলে ফালাক সাদের হাতটা আলতো করে ছেড়ে দিল।
“হয়েছে? অনেক তো দরদ দেখালি। এখন যা, গিয়ে নিজের সাজ খোল। তোকে দেখে আমার ঘেন্না লাগছে। সাদ হাতটা সরিয়ে নিল ঠিকই, কিন্তু এবার ফালাকের গায়ে হাত তুলল না। গটগট করে বারান্দায় চলে গেল একটা সিগারেট জ্বালাতে। ফালাক মেঝেতে বসে রক্তমাখা তুলো আর ব্যান্ডেজগুলো দেখছে।
________

ফালাক একটা সাধারণ সুতির শাড়ি আর ব্লাউজ বের করে নিল। দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। মুখের সব কড়া মেকআপ ধুয়ে ফেলল ফালাক। ধোয়ার সময় কাল রাতের কালশিটে পড়া দাগগুলো আবার স্পষ্ট হয়ে উঠল—গালের পাশে, গলায় সাদের আঙুলের সেই নীল হয়ে যাওয়া ছাপ।
কিছুক্ষণ পর শাড়ি পরে বের হয়ে এল। ফালাক ভাবল, সাদ হয়তো ঘরে নেই, কিন্তু ওয়াশরুম থেকে বেরোতেই দেখল সাদ এখনো বারান্দায় ঠিক আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। সিগারেটের ধোঁয়াগুলো কুন্ডলী পাকিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকছে।
ঘরটা একদম নিস্তব্ধ। শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ আর বারান্দা থেকে আসা বাতাসের ঝাপটা। ফালাক খাটের এক কোণে খুব সন্তর্পণে গিয়ে বসল, যেন কোনো শব্দ না হয়। সাদের দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে। সাদের জ্বলন্ত সিগারেটের লাল অংশটুকু একটা ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করছে।অনেক্ষন পর সাদ রুমে আসল। ফালাক কে একদম স্নিগ্ধ লাগছে। ফালাকের কাছে গিয়ে সাদ ফালাকের দুই হাত মাথার ওপরে তুলে ধরল। সাদের গরম নিঃশ্বাস ফালাকের গলায় লাগছে। ফালাক আজ আর চিৎকার করল না, বুঝতে পেরেছে এই মস্তানের কাছে দয়া ভিক্ষা করা বৃথা। সে শুধু চোখ বন্ধ করে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিল।
সাদ আক্রোশে আর উন্মাদনায় ফালাকের সুতি শাড়ির আঁচলটা হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে দিল। রাতের অন্ধকার ঘরে আবার শুরু হলো এক অসম লড়াই। সাদের প্রতিটি স্পর্শে ছিল আক্রোশ আর দাবি, যেন সে বুঝিয়ে দিচ্ছে এই শরীরে কেবল তার একার অধিকার। ফালাক পিষ্ট হতে হতে শুধু ভাবল, এই রাত কি কোনোদিন শেষ হবে না?,…..

চলবে-

#ফালাক
#লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_2

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here