#শেহরোজ – ১৯
#ইসরাত_জাহান_দ্যুতি
***
“পেট ভরেছে?” শাজকে টেনে তুলে দাঁড় করাল শেহরোজ।
খুক খুক করে কাশছে শাজ। হাঁপাচ্ছেও বেশ। সত্যিই পানি খেয়ে ফেলেছে অনেক। সাঁতার তেমন জানা নেই বলেই ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থার পর শেহরোজের বিকারশূন্য চেহারা দেখে আর প্রশ্নটা শুনে রাগে মাথা এলোমেলো হয়ে গেল ওর৷ তেড়েমেরে মারতে উদ্যত হলো সে‚ “খচ্চর বুলডগ! আপনার কত বড়ো…” শেহরোজের ইস্পাত-দৃঢ় বুকটার সঙ্গে গিয়ে বাড়ি খেতেই কথা থেমে গেল। ওর মুষ্টিবদ্ধ হাতটা শূন্য সেকেন্ডের মাঝে শেহরোজ খপ করে হাতের মুঠোতে চেপে ধরেই এক ঝটকায় ওকে নিজের কাছে টেনে এনেছে।
“সাহসের সাইজ তো তুমি দেখোইনি‚ মাই রোজিয়েট।”
“রোজিয়েট কে?” তেতে উঠল শাজ।
“হোয়াট আ ম্যাডেন্ড অ্যারোমা”‚ শাজের কথার জবাব না দিয়ে হঠাৎ ওর কাঁধের কাছে হাতটা নাড়াল শেহরোজ—ওর শরীরের ঘ্রাণ বাতাসে টেনে আনার জন্য। “পানিতে ভেজার পরও এত স্ট্রং স্মেইল কেন তোমার পারফিউমের? তোমার এই রোজ স্মেইল পারফিউমটার নামটা কী বলো তো আমাকে? আগেও যতবার পেয়েছি ইট হ্যাজ অলওয়েজ ফ্যাসিনেটেড মি। ইজ ইট পিয়োর রোজ অ্যারোমা?”
“ইটস নট আ পারফিউম স্মেইল”‚ শেহরোজকে ধাক্কা দিয়ে বলল শাজ। “ইটস মাই বডিস অওন ফ্রেগ্রেন্স।”
“রিয়্যালি?” অকস্মাৎ এগিয়ে এসেই শাজের গলার পাশে নাক ডুবাল শেহরোজ। চোখ বুজে লম্বা করে শাজের শরীরের সুবাসটুকু টেনে নিলো।
স্তম্ভিত শাজ মুহূর্ত মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়ায় দেখাতে পারল না। কয়েক মুহূর্ত পর শেহরোজ নিজেই সরে এলো আর ওকে বলে বসল‚ “তুমি দেখি দারুণ রাগের সঙ্গে দারুণ মিথ্যাও জাহির করতে পারো! এটা হতেই পারে না তোমার নিজস্ব সুবাস। আমার মায়ের শরীরের ঘ্রাণও মিষ্টি৷ বাট দিজ ফ্রেগ্রেন্স ইজ কমপ্লিটলি ডিফ্রেন্ট। কোনো মানুষের নিজস্ব সুবাস এমনটা হয় না।”
“তাই বলে আপনি এভাবে এসে…” রাগ‚ লজ্জায় গলা বুজে এলো শাজের। সেই সুযোগে শেহরোজ আরও অপ্রস্তুত করতে জিজ্ঞেস করল‚ “আমি এভাবে এসে কী?”
সে কথার জবাবই দিলো না শাজ। অত্যন্ত রেগে বলল‚ “অভদ্র লোক! আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব মানুষের শরীর শুঁকে বেড়িয়েছেন!”
একটু হাসল শেহরোজ। “সব মানুষের শরীর শোঁকার সুুযোগ না হলেও বেশ কিছু ফ্লুজির শরীর তো শুঁকতেই হয়েছে”‚ উত্তরটা ঠোঁটের ডগায় চলেই এসেছিল প্রায়৷ কিন্তু মুখ থেকে বের হতে দিলো না।
“আপনার জানার বাইরেও অনেক কিছু থাকতে পারে‚ বুঝেছেন? এটা আমার শরীরের নিজস্ব সুবাস। বিশ্বাস করলে করুন‚ না করলে নাই।”
“আচ্ছা বুঝলাম। কিন্তু কারণ তো থাকবে তার৷ কেন তোমার শরীরের স্মেইল রোজ স্মেইল হলো? অন্য কোনো ফুলের সুবাসও তো হতে পারত।”
“পারত।” রাগ নিয়েই তাচ্ছল্যপূর্ণ হেসে জবাব দিলো শাজ‚ “যদি আমার মা আমাকে পেটে রেখে রাক্ষসের মতো কাশ্মীরের রোজ গুলকান্দের বদলে অন্য কোনো ফুলের গুলকান্দ খেত তাহলে হতে পারত।”
“গুলকান্দ?” প্রশ্ন চোখে তাকাল শেহরোজ‚ “হোয়াটস দ্যাট?”
“সুইট।” তীক্ষ্ণ সুরে বলেই শাজ উঠে পড়ল।
শেহরোজও উঠে এলো পুল থেকে। ছাদের লাইট সে জ্বালাতেই শাজ পুলের আশেপাশে তোয়ালে খুঁজল। না পেয়ে জিজ্ঞেস করল শুষ্ক গলায়‚ “টাওয়াল নেই এখানে?”
নীরবে মাথা নাড়ল শেহরোজ৷ দৃষ্টিজোড়া হঠাৎ তার থমকে পড়ল শাজের ভেজা শরীরে। শাজ তা খেয়াল না করে বরং তোয়ালে না পেয়ে আবারও রেগে উঠল‚ “এখন তাহলে ভেজা গায়ে ঘরে যেতে হবে? অসহ্য! আর কক্ষনো যদি আমার পুলে নামেন আমি আপনার…” ওই অবদিই থেমে গেল সে—হঠাৎ শেহরোজকে এগিয়ে আসতে দেখে৷ ভাবল‚ এবার ধাক্কা মেরে ওকে পুলে ফেলবে বোধ হয়৷ তাই দ্রুত দুপা পিছিয়েও এলো আর বলল‚ “এটা আমার বাড়ি কিন্তু!”
এসে থামল শেহরোজ শাজের খুব কাছে। “আর যদি”‚ প্রগাঢ় চাউনিতে ওকে আপাদমস্তক দেখতে দেখতেই বলল সে ঘন স্বরে‚ “তুমিই আমার হও‚ তাহলে?”
“হবো না… কখনোই না”‚ শেহরোজের চোখে চেয়ে অকপটে বলে দিলো শাজ।
নীরবে শুনলও শেহরোজ। কিন্তু শাজের কথার বদলে মনোনিবেশ ঘটাল সে শাজের মাঝে৷ চারটা মাস হলো এই মেয়েটির আশেপাশে সে৷ কাছাকাছি আসা হয়তো চারটা দিন। চার মাস চারদিন পর আজ প্রথম সে আবিষ্কার করল এবং আশ্চর্য হলো—শাজ ওকে রীতিমতো আকৃষ্ট করছে! ওর মাঝারি কপাল‚ ছোটো কালো ভ্রু‚ ত্রিভুজাকৃতি মুখ‚ গভীর উপবিষ্ট তৃণমনি চোখ‚ সামান্য খাঁড়া নাক‚ শক্তিশালী চোয়াল‚ হালকা পুরু ঠোঁট‚ ছোটো তীক্ষ্ণ চিবুক‚ আকর্ষণীয় গলা ও ঘাড়‚ সবই আজ খুঁটে খুঁটে দেখছে সে। এমনকি ভেজা সাদা শার্টের কারণে ভেসে ওঠা শাজের মাঝারি আকৃতির উরোজও তাকে প্রলুব্ধ করছে বেশ। এই যে নাকের ডগায় রাগ নিয়েও তাকে উলটোপালটা কথা শুনিয়ে যাচ্ছে! শুনতে তাও সুন্দর লাগছে৷ কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে ওর শরীরে গোলাপের এই নিখাদ সুবাস… এই একমাত্র সুবাস তার মন আর মস্তিষ্ককে সম্মোহন করতে চাইছে যেন। তার মনে হচ্ছে কোনো গুলকান্দ নয়‚ গোলাপের সমুদ্রে ডুবে থাকে শাজ। কথাটা ভাবতেই সম্মোহিতের মতোই ওর আরও কাছে এলো। “ওহ মাই রোজ বে”‚ ডেকে উঠল মৃদুস্বরে। “ইফ আই ওয়ান্ট ইউ টু বি মাইন”‚ একটু থেমে ওর ঠোঁটের কোনে আঙুল ছোঁয়াল‚ “দেন ইউ উইল বি।”
বীরদর্প কণ্ঠে হঠাৎ হঠাৎ এই একেকটি সম্বোধন শাজের পেটের মাঝে কেমন পানির বুদ্বুদের মতো শিরশিরে অনুভূতিগুলো উছলায়‚ বুকের বাঁয়ে ধাক্কা দেয়। ভাবায়‚ সম্বোধনগুলোতে কি শেহরোজ অনুভূতি মেশায়? না-কি ছল করেই কেবল ডাকে ওকে?
ঠোঁটের কোনা থেকে শাজ সরিয়ে দিলো শেহরোজের হাতটা। তার দুর্ভেদ্য দু চোখে অনিমেষ চেয়ে ভাবনায় বুঁদ হলো—কয়েকটা দিনে প্রত্যক্ষ‚ পরোক্ষ‚ সবভাবেই শেহরোজ প্রণয় প্রস্তাব রাখছে ওর কাছে৷ কখনো মনে হচ্ছে সে আসক্ত ওর প্রতি‚ কখনোবা মনে হচ্ছে পুরোটাই তার ছলনা। বিশ্বাসটুকু ও গত দু বছরে কারও প্রতিই ঠিকঠাক করে উঠতে পারছে না৷ রনি আর অয়নের প্রতি না ছিল কোনো অনুভূতি আর না ছিল বিশ্বাস‚ ভরসা। কিন্তু কাছে থাকা এই ছেলেটি রাতদিন নিজের ভাবনাতে ওকে মশগুল রাখছে৷ তবুও তাকে নির্দিষ্ট একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ছকে ফেলতে পারছে না৷ বিভ্রান্ত হচ্ছে নিজের ভাবাবেগ নিয়েও৷ মাত্র চারদিনে শেহরোজকে ঘিরে যে মন উচাটন করা অনুভূতি হয়‚ তা কারও জন্য হয়নি কখনো৷ ইচ্ছা হয়েছিল তাকে বিশ্বাস আর ভরসা করার‚ যে ইচ্ছাও কারও জন্যই জন্মায়নি। অথচ গতকালের পর থেকে এই ইচ্ছাও উবে গেছে আর তারপর থেকেই মনে একরত্তি শান্তিটুকুও নেই৷ কারণ‚ যে অনুভূতি ঘুরপাক খাচ্ছে ওর মন আকাশে তাও যদি হারিয়ে যেত তাহলে এমন ছটফটানির মাঝে দিন কাটাতে হত না। যেভাবে রনি আর অয়নকে দূর করতে পেরেছিল মন থেকে‚ সেভাবেই তবে দূর করতে পারত শেহরোজকেও।
এ মুহূর্তে আর বুঝল না শেহরোজ শাজের ভাবনাগুলো৷ কারণ‚ তার খেয়ালই নেই শাজের অভিব্যক্তির দিকে৷ বিনা মেঘে হঠাৎ বৃষ্টির মতো তার হৃৎ জমিন যে মাদক অনুভূতি ভিজিয়ে তুলছে‚ তাতে সে পিছলে গিয়ে কুপোকাত। বিনা অনুমতিতেই ছুঁতে মন চাইছে শাজকে‚ পেতে ইচ্ছা করছে নিবিড়ভাবে ওকে। দ্বিতীয়বার ছোঁয়ার লোভকে মানাতে না পেরে এবার তাই আঙুল ছোঁয়াল শাজের অধরে৷ অপলক দেখল সেই ওষ্ঠাধর; লিপগ্লস মাখা ভেজা ঠোঁটদুটি সুন্দর। আকৃষ্যমাণ শেহরোজ তখন ভাবনায় মগ্ন শাজের কানেকানে ফিসফিস করল‚ “ইয়োর লাশাস লিপস উফ্…! ক্যান আই বাইট অ্যান্ড সাক ইয়োর লিপস জেন্টলি?”
মুহূর্তেই জবাব পেলো শেহরোজ খুব অন্যন্য উপায়ে। কোনো বলিষ্ঠ হাতের ঘুষিটা হলে নাকটা নির্ঘাত ভর্তা হয়ে যেত তার। মুষ্টি পাকানো হাতটা ওভাবেই পাকিয়ে রেখে কটমট চোখে তাকে একবার দেখে নিয়ে শাজ চলে এলো ঘরে। ব্যথাটা বেশি না হলেও কমও না। তবে ঠিকই আছে‚ কাজে দিয়েছে শাজের ওষুধটা৷ দিবাস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এসেছে বেচারা। নাকের ডগা ডলতে ডলতে ফিরে এলো ঘরে। বাথরুমের দরজা খুলতে না খুলতেই আবার চিকন কণ্ঠের চিৎকার কান ধরিয়ে দিলো তার।
“আবার বাথরুমে এসেছেন আপনি? শিক্ষা হয়নি?”
তোয়ালে হাতে দাঁড়ানো লাস্যময়ী শাজের নজরকাঁড়া অঙ্গে শেষবারের মতো নজর দিয়ে শেহরোজ ঠান্ডা গলায় বলল‚ “একটা হেলদি অ্যামাউন্ট পে করে আমি পুরো বাড়িটা রেন্ট করেছি‚ শাজ। যেখানে এই মুহূর্তে উড়ে এসে জুড়ে বসছ তুমি৷ আমি আমার ঘরের বাথরুমে আবার‚ বারবার‚ শনিবার‚ রবিবার‚ সব বারেই আসতে পারব। উইথআউট পারমিশন তুমি আমার টাওয়াল ব্যবহার করছ কেন?”
শেষ কথাটা শোনা মাত্রই শাজ তোয়ালেটা তার মুখের ওপর ছুঁড়ে দিলো আর কাটকাট সুরে বলল‚ “এই রুম আপনাকে দিচ্ছি না আমি। আপনার হেলদি অ্যামাউন্ট থেকে অর্ধেক ফিরিয়ে আনহেলদি করে নিন। অর্থাৎ এই বাড়িতেই থাকব আমি আজ থেকে৷ আপনার জন্য বরাদ্দ করছি নিচের গেস্টরুমটা। গেস্টরুম টু ডাইনিং অ্যান্ড ড্রয়িংরুম আপনার জন্য স্বাধীন। গো টু দ্য গেস্টরুম রাইট নাও।”
“অ্যাকচুয়ালি যার যে মেডিসিন কাজে দেয়”‚ হতাশ ভঙ্গিতে মাথাটা দোলাল শেহরোজ। “তাকে সেটাই অফার করা উচিত”‚ বলেই বাথরুমে ঢুকে পড়ল সে৷ দরজাটা আটকে দেবে তক্ষুনি শাজ চেঁচিয়ে উঠল‚ “মেরে ফেলব কিন্তু‚ শেহরোজ!”
“বের হও তবে! বেরিয়ে সোজা নিজের ঘরে ঢুকবে। তারপর ফ্রেশ হয়ে আবার আসবে পুল সাইডে। কথা বলার আছে।”
শাজের কেমন অদ্ভুত লাগছে আজ শেহরোজকে৷ তার ফ্লার্টিং আর সব সময়ের রসিকতাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে আজকের ব্যবহারে অনেক ফারাক। চেহারার মুচকি মুচকি হাসি‚ দুষ্টু চাহনি উধাও তার৷ বরং তার গম্ভীর‚ শান্ত চেহারা আর কথাবার্তায় মনেই হচ্ছে না সে কাল পর্যন্তও ওর সঙ্গে হাসিমজা করেছে‚ ওর পিছু পিছু ঘুরেছে‚ ওকে আবেগপ্রবণ শায়েরী উৎসর্গ করেছে—যেন এখনের এই রূপটিই তার স্বরূপ।
“কী হলো?” নিজের দিকে শাজকে ড্যাবড্যাবিয়ে চেয়ে থাকতে দেখে শেহরোজ রগড় করে বলল‚ “এবার কি তোমার মতো কিছু ভেবে আমিও শাউট করব?”
“লুসিফার!” গালিটা দিয়েই শাজ বেরিয়ে পড়ল। ঘর থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে শেহরোজের নির্দেশ বাণী শুনল‚ “টেন মিনিটস বাদে আমার সামনে আসবে আবার।”
“আসছে জমিদার রামপাল আমার”‚ বিদ্রুপ গলায় বলে উঠল শাজ দরজার মুখে দাঁড়িয়েই। “আমার বাড়ি‚ আমার ঘর আর হুকুম দেয় ভাড়াটিয়া কোথাকার!”
ফিরে তাকাল শেহরোজ। পূর্বের মুচকি হাসিটা হঠাৎ ফিরল তার‚ “সো মেক মি ইয়োর ম্যান। তাহলে রেন্টার থেকে সোজা বাড়ির অওনার হয়ে যাব।”
#নোট__ পর্ব ছোটো-বড়ো কিছু বলবেন না কেউ৷ আগামীকাল বড়ো করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ অনেকে অপেক্ষায় থাকবে তাই ছোটো করেই দিয়ে দিলাম।
#বিশেষনোট__ ‘শাজ’ চরিত্র আমার প্রিয় কিছু পাঠকের কাছে স্ট্রং লাগছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাদেরকে প্রথমত বলব‚ আমার সব নারী চরিত্রই মাহি‚ দীধিতি‚ মেহেরের মতো স্ট্রং হবে না। গল্পের ধারা বা কাহিনি অথবা প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে আমি চরিত্র বানাই৷ দ্বিতীয়ত বলব‚ শাজের জীবনটাকে নোটিস করুন। তারপর ভাবুন শৈশব থেকে আপনহারা হতে থাকা‚ টানা দুটো বছর বিপদ ঘাড়ে নিয়ে ঘোরা আর প্যানিকড হয়ে পড়া চরিত্রকে আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বোল্ড করা সম্ভব? আচ্ছা তবুও কি শাজ সপ্রতিভ মেয়ে নয়? নিখোঁজ বাবার চিন্তা নিয়ে ধ্বংসাত্মক সত্য বয়ে চলা—যে সত্য কাছে থাকা মানেই জীবন ঝুঁকিতে। তা জেনেও প্রতিটা দিন স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা চালানো কি ওর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটা কঠিন লড়াই নয়? এটাকে কি কনফিডেন্স‚ বোল্ডনেস বলে না? একটু ভেবে দেখবেন৷ স্ট্রং চরিত্র বলতে আপনারা কেমন বোঝেন তা আমি জানি না ঠিক। মতামত দিতে পারেন এ নিয়ে। আমি ভেবে দেখব।

