শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১৯)

0
26

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১৯)

– আব্বু এটা কি করলে ? পাখিকে বিয়ের দিন এমন লুকিয়ে ওর প্রতিরূপ কে কেন পাঠালে ।
রেয়ান চৌধুরী – তোমাকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে না সাদি ,আমি অবশ্যই কোনো ভুল কাজ করবো না সেটা তুমি জানো ।এই বিষয়ে আর কোনো‌ কথা বলতে চাই না ।আমরা মিশ্র ফিরবো ।

সাদিক অবাক হলো ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো – আব্বু তুমি তো বললে আমরা বাংলাদেশেই সেটেল হয়ে যাব ,তাহলে? তাছাড়া বরিশাল এ আমাদের বাড়িও আছে , চাচ্চুরাও আছে সেখানেই থাকবো ।

রেয়ান চৌধুরী চোয়াল শক্ত করে ফেললো- খবরদার এই বিয়ের ঘটনা যেন তাদের কানে না যায় ,আমি চাই না এর প্রভাব প্রিন্সেস এর উপর পরুক । তাছাড়া সম্পর্ক দূর থেকেই সুন্দর।কাছে এলে তা বিষাক্ত কাটায় রূপান্তরিত হয় । ভেবেছিলাম এখানেই থেকে যাব কিন্তু যেখানে ছিলাম সেই জায়গা টাই হয়তো আমাদের জন্য ঠিক ।
সাদিক অবাক হয়ে তার বাবার দিকে তাকালো , তার বাবাকে কেমন অন্যমনস্ক লাগছে , সে কখনোই তার বাবার মুখে মুখে তর্ক করবে না , তাই চুপচাপ সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো ।

….
-পাখি!
হুর মন খারাপ করে বসে ছিলো , ভাইকে দেখে এগিয়ে এলো – ভাইয়া আমরা কবে বাড়ি যাব ।
সাদিক ও অবাক হয়ে গেলো তার বোন ও যেতে চাইছে , দুদিন আগেই তো হুর যেতে চাইতো না ।
সে এতোকিছু বললো না কারন তার বাবার কড়া নিষেধাজ্ঞা যে হুরকে যেন কোনো প্রশ্ন না করে এই বিষয়ে।
হুরের সাথে মিলে গল্প করতে লাগলো , যদি হুরের মনোভাব বুঝতে পারে এই উদ্দেশ্যে নিয়ে ।


রেয়ান চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক হলরুমে, আশেপাশে অনেক কম্পিউটার, এটা তার একটা প্রজেক্ট, সিক্রেট বলা যায় ।তিনি একটা গোপন রুমে প্রবেশ করলো , পাসওয়ার্ড প্রেস করে সেখানে ঢুকতেই হুরের চারটা প্রতিরূপ দেখা গেলো ।
রেয়ান চৌধুরীর মুখে অদ্ভুত হাসি, তবে বিরক্তির ও ছায়া আছে ।

রেয়ান চৌধুরী হুরের প্রতিরূপ পাঁচটা রোবট বানিয়েছিলেন, এদের মধ্যে হুরের সুক্ষ্ম সূক্ষ্ম দিকগুলোও দেওয়া হয়েছে , দেখলে কখনোই আলাদা করা যাবেনা ।
হুরের ব্যাবহার কীরূপ এবং ভবিষ্যতে কেমন হতে পারে সেটা রেয়ান চৌধুরী খুব ভালো করেই জানেন তাই হুরের মনোভাব অনুযায়ী এগুলো বানানো হয়েছে ।
এই পাচটার মধ্যে কেবল একটা রোবট সম্পূর্ণ রূপে হুরের প্রতিরূপ হয়েছিল যেটাকে রেয়ান চৌধুরী নিজের কাজে লাগালেন, সেখানে ক্যামেরা এবং রেকর্ড যন্ত্র সেট করে আর্থার এর কাছে পাঠালেন।

একদম হুবহু হুর , কোনো পার্থক্য নেই , কেউই কখনোই আলাদা করতে পারবেনা যে এটা রোবট , কেবল পানির সংস্পর্শে এলে এটি প্রতিক্রিয়া দেখায়।
বাকি চারটায় রেয়ান চৌধুরী সফল হতে পারেন নি , কিন্তু যেটায় সফল হলো আর্থার ওটাকে পানিতে চুবিয়ে শর্ট সার্কিট করিয়ে দিয়েছে ।

তবে রেয়ান চৌধুরী খুব খুশি একটা অজানা কারনে ।

….
হুমায়রা দ্রুতপায়ে হেঁটে যাচ্ছে একটা গলি দিয়ে তার মুখ ভয়ে শুকিয়ে আছে , মাত্র সে জানলো তার ভাই মৃত , তাকে কেউ মেরে ফেলেছে , হুমায়রার ঠোটে হাসি খেলে গেলো, তাচ্ছিল্যের হাসি , বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না তার , চোখ হঠাৎ ছলছল করে উঠলো , ফুঁপিয়ে কাদতে চাইলো ।
ভাইয়ের এমন জঘণ্য রূপ তার সামনে না আসলেও হতো ।

তখুনি তার সামনে একজন এসে দাঁড়ালো , হুমায়রা চমকে থেমে গেলো , হুডি জিন্স পরা মেয়েটাকে দেখে একটু চিন্তিত হলো – তুমি?

অজানা ব্যাক্তিটি হেসে উঠলো – আমাকে ঐ মেয়েটাকে দিয়ে দাও ।

হুমায়রা অবাক হলো – রুমি তুমি এসব কি বলছো ? নূর কে নিয়ে তোমার কি কাজ ?
রুমি , যে নওশাদ এর বাড়ির একজন মেইড যাকে এমন অদ্ভুত কথা বলতে শুনে হুমায়রা অবাক হয়েছিল সাথে আরোও অবাক হওয়ার বাকি ছিলো ।

রুমি বিকৃত ভাবে হেসে উঠলো – দেখো নূর কে আমার প্রয়োজন, ওকে না পেলে এতো বছর এর কষ্ট সব বৃথা যাবে । নওশাদ আমাকে কথা দিয়েছিলো যে আমাকে বিয়ে করবে , ওর সম্পদ এর মালিক করবে ,তাই তো চাকর সেজে ও বাড়িতে পড়ে ছিলাম ।নূর মেয়েটাকে দিয়ে দাও আমি চলে যাব ।

হুমায়রা থমকে গেলো , রাগে শরীর থরথর করে কাপছে , রুমি কে আক্রমণ করতে যাবে তখুনি রুমি হুমায়রা কে ধাক্কা দিলো । হুমায়রা ছিটকে দেওয়ালে আছড়ে পড়লো ।
কপাল ফেটে রক্ত পড়তে লাগলো , হুমায়রা কপাল চেপে ধরে উঠে দাঁড়ালো , উল্টো ঘুরে দৌড় দিল কারন তার দিকে ছুঁড়ি হাতে এগিয়ে আসছে রুমি ।

হুমায়রা দৌড়াতে দৌড়াতে মেইন সড়কের পাশে চলে আসলো , একটা গাড়ি ধেয়ে আসছে , হুমায়রা রাস্তা পার করতে চেয়েও পারলো না , সেখানেই জ্ঞান হারালো , রুমি হুমায়রা কে রাস্তার মাঝে পড়ে থাকতে দেখে পালালো।

হুমায়রা সেখানেই পড়ে রইলো, তার দিকে ধেয়ে আসা গাড়িটা ব্রেক কশলো, হুমায়রা কে পড়ে থাকতে দেখে দৌড়ে এলো , পাঁজাকোলা করে গাড়ি নিয়ে দ্রুত ছুটলো হসপিটাল এর উদ্দেশ্যে।

….
হুর নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে , মেহেদির রং টা গাঢ় এসেছিল , মেহেদি এখনো একটু একটু আছে , কিন্তু হাতে লেখা প্রিয়তম ( পরিবর্তন করলাম, এটাই ঠিক আছে , প্রিয়তম ই সুন্দর) লেখাটা মোছেনি , ঘৃনার দৃষ্টিতে তাকালো সেদিকে , আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে মনের শান্তির জন্য দোয়া করলো ।
মিশর এসেছে দুদিন হলো , পড়াশোনা ওর দ্বারা সম্ভব না ,হুর ভেবেছিল বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডমিশন নেবে , কিন্তু হুর যে মাথামোটা ওর পড়াই হয় না । বাংলা ইংরেজি আর আরবি বাদে তার মাথায় আর কিছুই ঢোকে না ।
তাই ও বলে দিয়েছে আর কোনো পড়াশোনা করবেনা , কুরআন মুখস্থ করবে। মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিতে বললো ।
হুরের এরূপ আচরণ এ তার বাবা মা হা হুতাশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারলোনা,এমন মাথামোটা,গাঁধী মেয়ে তাদের , ভেবেছিল মেয়ে ছেলে মিলে বিজনেস সামলাবে কিন্তু একি! মেয়ে তো হুজুর হয়ে বসে আছে ।

হুর আইভি কে কাঁধে নিয়ে বাগানে ফুল গাছে পানি দিচ্ছিল তখুনি একটা মার্সিডিজ এসে থামলো ,গাড়ি থেকে দুজন বৃদ্ধ, বৃদ্ধা বেরিয়ে এলো হুর তাদের দেখে দৌড়ে এলো , নিজের প্রিয় নানী কে দুহাতে আগলে ধরলো ,নানু তার পছন্দের তালিকায় প্রথমে আছেন ।
রুহানি আল হাদাদ যিনি ইয়াসমিনা চৌধুরীর মা ,তিনি নাতনিকে জড়িয়ে ধরলো ,দুজনে গল্প করতে করতে বাড়ির ভেতরে চলে এলো ।
ইয়াসমিনা চৌধুরী রান্না করছিল সে তার পরিবারের জন্য নিজেই রান্না করে মেয়ে ছেলে অন্যের হাতে রান্না খাবে তা তিনি পছন্দ করবেন না ,মা কে দেখে ইয়াসমিনা চৌধুরী ফল কাটা রেখে রুহানি কে এসে জড়িয়ে ধরলেন।

রুহানি আল হাদাদ যিনি একটু গম্ভীর হলেন , সোফায় গিয়ে বসে ঠান্ডা শরবত দিয়ে গলা ভিজিয়ে নিলো , এরপর নিজের স্বামী ইউসুফ আল হাদাদ এর দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করলেন।

ইউসুফ গলা খাকারি দিয়ে বললো- ইয়াসমিন তোমার বোন আসছে কাশ্মীর থেকে ,আমরা একসাথে সময় কাটাতে চাই ,তোমরা তোমাদের কাজ ছেড়ে যেতে চাও না ।
ইয়াসমিনা চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে তাকালো ,যার অর্থ সে এসব ফালতু ফ্যামিলি মিটিং এ যোগদান করবে না ,তবে একদিন এর জন্য অবশ্যই যাওয়া যায় – আব্বু আমি চেষ্টা করবো একদিন থাকার।

ইউসুফ এর মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো ,মেয়ের এমন ব্যাবহার এর সাথে সে পরিচিত তাই কাথা‌ বাড়ানো বৃথা – ঠিক আছে ,হুর কে নিয়ে যাচ্ছি,সাদিকে পাঠিয়ে দিও , ওকে বলবে ইরফান খান তার প্রিয় বন্ধু আসছে ।

ইয়াসমিনা চৌধুরী – কিন্তু আব্বু?

ইউসুফ কঠোর গলায় বলল – কোনো কিন্তু নয় ইয়াসমিন,হুর কে নিয়ে যাচ্ছি, তোমাকে দরকার নেই। তোমার মেয়ে সেখানে অতি আদরেই থাকবে ,এমনকি তোমার থেকে সেখানে হুরের কদর বেশি ।
এরপর হুরের দিকে তাকিয়ে বললো – যাও হুর রেডি হয়ে আসো ।

হুর খুশিতে নাচতে নাচতে চলে গেলো , সেখানে গেলে তো ওর নিজের গোসলটাও একা করতে হয় না ,হাত দিয়ে খাওয়া তো দূর ,হুর ওর মামীর সাথে বন্ধুর মতো ,মামাতো বোনেরা তো ওকে মাথায় তুলে রাখে ।
তাই হুরের সেখানেই থাকতে ইচ্ছে করে ।সবাই ওর মতো পর্দা করে ।

ইউসুফ মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো , রুহানি তো মেয়ের এমন অবস্থা দেখে মুখ টিপে হাসলো ,মেয়ে তার বাবাকে ভয় পায় ।

.,,,,
– ইরফান তুমি এসব কি বলছো , যাবেনা মানে?
ইরফান তার মায়ের দিকে বিরক্তির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো – যাবো না মানে যাবনা ,মিশর যেয়ে করবো টা কি? তোমার বাপের বাড়ি তুমি যাও তো , আমার এসব ভালো লাগে না ,দেখা যাবে তুমি আবার আমাকে সেখানে নিয়ে বিয়ে দিয়ে দেবে । তোমাকে ভালো চেনা আছে আমার।যাব না এটা ফিক্সড।

ইরফান এর মা অনামিকা আল হাদাদ খান ছেলের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে বললো – একসপ্তাহের ই তো ব্যাপার আব্বু,চলো , তুমি যেসব ভাবছো সেসব কিছুই হবেনা।

ইরফান রেগে গেলো – যাব না মানে যাব না ।

#মিহিকা_রোজা
চলবে,,,,,,

এহেম এহেম 🙄 🙄 🙄 🙄 নাহ কিছু না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here