#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(২০)
…
অর্নব ভাই আপনি ?
হুমায়রার এরূপ প্রশ্নে অর্নব ভ্রু কুঁচকে তাকালো , – হ্যাঁ আমি , তুই এই রাস্তায় এমন দোড়াদৌড়ি কেন করছিলি আর ব্যাথা পেলি কিকরে?
হুমায়রা – ঐ পরে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি , রাস্তা পর হতে ভয় লাগে তাই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।
অর্নব বিরক্তির দৃষ্টি দিয়ে বললো- তাই বলে রাস্তার মাঝে গিয়েছিস মরতে । যত্তসব ফালতু কথাবার্তা।
হুমায়রা মাথা নিচু করে নিলো , তার মাথায় অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, ধীরে ধীরে বেড থেকে নামলো , নিজের ব্যাগ খুঁজতেই , অর্নব বললো – তোর ব্যাগ গাড়িতে, যা নিচে গাড়ি আছে গাড়িতে গিয়ে বস।
হুমায়রা মাথা নাড়িয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো , অর্নব তার ফুপাতো ভাই, আয়ান এর বড়ো ভাই , তিনি একজন ডাক্তার।
হুমায়রা কে নিয়ে অর্নব হাওলাদার বাড়িতে প্রবেশ করলো , হুমায়রা দ্রুত গিয়ে গেস্ট রুমে ঢুকলো , দেখলো নূর ঘুমিয়ে আছে , মুখটা কেমন শুকনো লাগছে ।
বুঝতে পারলো কেউই ওকে দেখে রাখেনি , দীর্ঘশ্বাস ফেললো , ওর ফুপু নূর কে অজানা কারনে দেখতে পারে না।
হুমায়রার মনে পড়লো মায়ের মৃত্যুর কথা , ফ্যানের সাথে ঝুলতে থাকা লাশ!হুমায়রা ভেবেছিলো মেহেরিন মির্জা আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু রুমি যে তাকে মেরেছে এটা সে খুনাক্ষরেও টের পায়নি ।
ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো , মা মানসিক রোগী তা কখনোই বোঝা যায়নি , মেয়ে ছেলেকে খুব ভালোবাসতেন, ছেলের এমন জঘণ্য রূপ টাও দেখার বাকি ছিলো ।
হুমায়রা নূর কে কোলে তুলে নিলো , ব্যাগে ক্রেডিট কার্ড, আর টাকা সবই আছে , টিকেট সে আগেও কেটে রেখেছিল।আরোও বারো ঘন্টা পর ফ্লাইট হলেও সে এবাড়িতে থাকতে চাইলো না ।
নিজে পরিপাটি হয়ে নূরকে ও রেডি করিয়ে রুম থেকে বের হলো , হুমায়রার ফুপি হুমায়রার থাকাটাও পছন্দ করছেন না , কারনটা স্পষ্ট, তার দুজন ছেলে বড়ো বড়ো । তাছাড়া তার বড়ো জায়ের ও ছেলেরা আছে , একজন এর চরিত্রে সমস্যা আছে ।তাই তিনি ভাইয়ের মেয়েকে রাখতে পারবেন না ।তবে হুমায়রা এখন বের হওয়া নিয়েও তিনি অসন্তুষ্ট হলেন , এখন কিছুতেই বের হতে দিবেন না।
নায়লা মির্জা – একি হুমায়রা তুমি যাচ্ছো কোথায় এখন ?
হুমায়রা কেঁপে উঠলো ,এতো গম্ভীর গলার স্বর হুমায়রা থেমে গেলো কাঁপা গলায় বললো- ফুপি আমি চলে যাচ্ছি।
নায়লা মির্জার দৃষ্টি নরম হয়ে এলো ,তিনি কিছু যেন ভাবলেন , আচমকা মা মরা মেয়েটাকে নিয়ে তার মনে ভয় আছে ,মেয়েটার মনের অবস্থাও ভালো না ।তবে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অবশ্যই হুমায়রার জন্য ভালো হবে ।
নায়লা মির্জা- ঘরে যাও ,আমি আসছি কিছুক্ষন পর ।
হুমায়রা ঘরের দিকে গেলো ,হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চায় ,নায়লা মির্জা হুমায়রা কে তার একটা ফ্ল্যাটে থাকতেন বলেছিল,বাড়িটা পাঁচ মিনিট এর দূরত্বে অবস্থিত,তবে হুমায়রা আর এখানে থাকতে চায় না ।সে তার জায়গায় ফিরে যেতে চায় ।
নায়লা মির্জা আসতেই হুমায়রা সেদিকে তাকালো , কেমন অদ্ভুত দৃষ্টি তার , হুমায়রা কে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন – হুমায়রা তোমার সাথে আমার ছেলে অর্নব এর বিয়ে ঠিক ছিলো অনেক বছর আগেই ,আমি তোমাকে এখানে রাখতে পারবোনা এটা ঠিক , আমাদের পারিবারিক ঝামেলা টা খুব জটিল, তোমার সাথে অর্নব এর বিয়ে টা হলে অর্নব এর সাথে নেদারল্যান্ড চলে যেও ।আর নূর মেয়েটাকে কোনো আশ্রম এ দিয়ে দাও কিংবা কাউকে দিয়ে দাও ।
হুমায়রার মুখটা শুকিয়ে এলো ,সাদির মুখটা প্রথমে চোখের সামনে ভেসে উঠল, ঘুমন্ত নূরের দিকে তাকালো একবার,মেহেরিন মির্জার প্রতিরূপ যেন!
অন্যদিকে তার সামনে তার ফুপু দাঁড়িয়ে আছে যে হুমায়রার ভালো চায় , হুমায়রা কে নিজের পুত্রবধূ করতে চায় ।
কি করবে এখন সে ? নূরের জীবন আর তর জীবন ও যে বিপদের মুখে!
……
আজ মেডিকেল এ যায়নি আহিয়া , আফিয়া স্কুলে গেছে, মা রান্না করছে , আহিয়া বসে বসে চিপস খাচ্ছে আর টিভিতে ড্রামা দেখছে hidden love , নায়ক টাকে ওর ভীষণই পছন্দ, তিন চার বার দেখা হয়ে গেছে তারপরেও দেখতে মনে চায় ।
আহিয়ার ধ্যান ভাঙলো ফোনে নোটিফিকেশন আসার শব্দে , অভ্যাসবশত ফোন আনলক করে নোটিফিকেশন এ ক্লিক করতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো , আফিয়ার মাথায় লাল ওড়না , আয়ান লাল পাঞ্জাবি পড়া , দুজনের ছবি সামনে কাজি অফিস লেখা দেখা যাচ্ছে।
আয়ান লিখেছে – একজন সাক্ষী লাগবে , তুমিই এসে পরো কেমন?
নিচে একটা এড্রেস দিলো ।
আহিয়া লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো, নাম্বার টায় কল দিলো দুই তিন বার , বন্ধ বললো ।কয়েকটা গালি দিয়ে দৌড় লাগালো রুমে , একটা কালো কামিজ আর সাদা প্লাজু মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে দিলো দৌড়।
আহিয়ার মা মেয়েকে এমন দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে জিজ্ঞেস করলো – কিরে এমন বান্দর এর মতো লাফালাফি করছিস কেন ? কোথায় যাচ্ছিস?
আহিয়া যেতে যেতে চিল্লিয়ে বললো- জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাই , তোমার ছোটো মেয়েকে আর স্কুলে যেতে দিবো না আমি ।
আহিয়ার মা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল মেয়ের যাওয়ার দিকে, এমন খাপছাড়া কথা তো জীবনেও বলতে শোনেনি মেয়েকে , শান্ত মেয়েটা এমন উল্টো পাল্টা কথা কবে থেকে বলতে শুরু করলো? নিজের সাইকোলজিস্ট ভাইকে ফোন করলো চিন্তিত মুখ নিয়ে ।
এদিকে, আহিয়া আয়ানের বলা জায়গায় এসে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, তার বোন স্কুল ড্রেস পড়া , একপাশে বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে, আয়ান আর তার সাথে দুজন সঙ্গী আছে ।তারা বসে বসে লুডু খেলছে।
আহিয়া কে দেখে আয়ানের বন্ধু রা বললো – বন্ধু তাকাইয়া দেখ ঝাল মরিচ ভাবী আসছে!
আয়ান তাকিয়ে দেখলো আহিয়া এসেছে , ক্লাস টুয়েলভ এ থাকতে আহিয়াকে খুব ভালো লেগেছিল আয়ান এর , প্রোপোজ বিষয় টা তখন ফেমাস খুব ।আয়ান ট্রেন্ড টাকে ফলো করে পিচ্চি আহিয়াকে প্রপোজ করে, কিন্তু দূর্ভাগ্য বসত আহিয়ার বাবা পাশেই ছিলো অন্যদিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলছিল।
কি উদ্যম মাইর খেয়েছিল, আহিয়া এতটুকুই জানে যে আয়ান তাকে টুনটুনির মা বলে ডাকতো আর ওর পেছনে ঘুরেছিল ।
আহিয়া- আপনি এতো খারাপ কেন আয়ান ? আমার ছোট্ট বোনটার সাথে আপনি এটা কিভাবে করতে পারলেন , আমি আমার বোনের সাথে আপনার বিয়ে হতে দেব না ।
আয়ান হো হো করে হেসে উঠলো,আফিয়া জোড়ে বললো- আরে আপু দুলাভাই আমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসছে তোমাকে আনার জন্য, বিয়ে আমার না তোমার। আমাকে বাঁচাও এই শয়তান গুলোয় আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে ।
আয়ান – চলো টুনটুনির মা ,এই কাজি বিয়ে পড়ানো শুরু করেন ।
কাজি কাগজপত্র ঠিক করতে লাগলো ,আয়ান আহিয়া কে একটানে নিয়ে নিজের কোলে বসালো ,আহিয়া এতটাই অবাক হয়েছে যে চিৎকার করতেই ভুলে গেলো ,একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে।
কাজী আয়ান কে কবুল বলতে বললে আয়ান গরগর করে বলে ফেললো ,আহিয়া কে বলতে বললে আহিয়া ছোটাছুটি করতে শুরু করল,আয়ান আহিয়ার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললো- পিচ্চিরানী চুপচাপ বিয়েটা করে ফেলো ,নাহলে তোমার বোনকে আমি গুলি করে দেব ।জানোই তো আমি এমপির পিএ ছিলাম, মানুষ দু একটা মেরেছি ।
আহিয়ার কানে কোনো কথাই যাচ্ছে না ,ও দম মেরে বসে আছে ,আয়ান বাঁকা হেসে বললো – এই রনি আফিয়া কে ঐ রুমে নিয়ে যা তো ।
আফিয়া কে অন্য রুমে নিয়ে যাওয়া হলো ,আহিয়া সরতে চাইলে ওকে শক্ত করে নিজের সাথে আটকে রাখলো ।
আহিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো – আমাকে যেতে দিন, আমার ঠিক হয়নি আপনার সাথে লাগতে যাওয়া,আমি জীবনেও আপনার সামনে আসবোনা,আই এম সরি।
আয়ান উচ্চস্বরে হেসে উঠলো – আমাকে অপমান করেছে তোমার বাবা ,তুমিও মেয়ে বহুত ফটরফটর করো ,বিয়ে করো ছেড়ে দিচ্ছি,বোন কে নিয়ে বাড়ি চলে যাও ।
আহিয়া ফোঁপাতে ফোঁপাতে তিন কবুল বলতেই আয়ান ওকে ছেড়ে দিলো ,আহিয়ার চোয়াল চেপে ধরে একটা মিষ্টি ঢুকিয়ে দিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
আহিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বললো – তোমার বাবা সেদিন বলেছিল আমার কোনো যোগ্যতাই নেই তোমার কাছে যাওয়ার,তাই তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এটা করলাম ।
আয়ান থামলো , এরপর আবার বললো -আর তুমিও মেয়ে বেশি উড়ছিলে , ব্যাবহার নিজের আয়ত্তে আনো ,নাহলে আমার ব্যাবহার এতোটাই খারাপ শুনলে মরে যেতে ইচ্ছে করবে ।
এরপর বুকে ঝুলিয়ে রাখা চশমাটা চোখে দিয়ে বললো – আর হ্যাঁ, যেখানে সেখানে এতো অপরিচিত মানুষ দের সাথে গায়ে পড়ে কথা বলতে যেওনা,বলা তো যায়না আবার বিয়ে হয়ে যাবে ।
কথাগুলো বলে নিজের সঙ্গি দের নিয়ে বেরিয়ে এলো , তখুনি আহিয়ার বাবা রায়হান খন্দকার সেখানে আসলেন , আয়ানের সাথে চোখাচোখি হলো , তিনি গর্জে উঠলেন – আমার মেয়েরা কোথায়? তুমি কি করেছো তাদের সাথে ?
আয়ান বাঁকা হেসে বলল – বরোটাকে বিয়ে করেছি ছোটো টাকে আইসক্রিম খাইয়েছি।
…..
বিশাল এক কালো রঙের বাংলো , জঙ্গলের মাটির নিচে গভীর সুরঙ্গ কেটে বানানো হয়েছে তা। সেখানে শ পাঁচেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে তাদের সামনে একটা সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রেয়ান চৌধুরী,রাজার বেশে দাঁড়িয়ে তিনি ।তার মাফিয়া রাজ্যে ,আজ পঁচিশ বছর পর নিজের রাজ্যে তিনি পদার্পণ করেছেন।
সকলেই খুশি হয়তো মাফিয়া কিং আবার ফিরে এসেছে ,তবে তাদের অবাক করে দিয়ে তিনি অদ্ভুত ঘোষণা করলেন – আমি আমার এই রাজ্য কে হারিয়ে যেতে দেব না ,তাই এটাকে আবার নতুন করে সাজাতে নতুন একজন কে আমার সকল শক্তি দিবো ।সেই হচ্ছে নতুন মাফিয়া কিং, তোমাদের রাজা ।
সবাই চুপ করে সব কথা শুনলো ,এই পঁচিশ বছর তারা নিজেরাই এই
মাফিয়া রাজ্যে রাজ করেছে এখন তাদের মধ্যে কাউকে দেবে কিনা সেটা নিয়েই আগ্ৰহ তাদের।
কিন্তু তাদের অবাক করে দিয়ে রেয়ান চৌধুরী বললো – দেখা করো তোমাদের নতুন মাফিয়া কিং আর্থার এর সাথে সেই তোমাদের পরিচালনা করবে।
ভারী বুটের শব্দ করে মুখে মাস্ক দিয়ে সেখানে প্রবেশ করলো আর্থার, সকলের মুখে অবাক এর ছোঁয়া দেখা গেলো ।
আর্থার বাঁকা হাসলো বিড়বিড় করে বললো- রেয়ান চৌধুরী আপনি সাপকেই নিজের কাছে ডাকছেন হাডুডু খেলার জন্য।আপনি আমার সাথে খেলেছেন সেটা আপনি ভাবছেন, কিন্তু সবটাই আমার সাজানো । আপনার বিশ্বাস অর্জন করতে আমি এতটুকু তো করতেই পারি।
আরোও একধাপ এগিয়ে আসলো সে ,প্রতিটা ধাপে হিংস্রতা প্রকাশ পাচ্ছে ,রেয়ান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে মাস্কের আড়ালে বাঁকা হাসলো ।রেয়ান চৌধুরী এসে আর্থার কে জড়িয়ে ধরলো ,কানের কাছে ফিসফিস করে বললো-
রোবট টা না থাকলে আমি জানতেই পারতাম না তুমি আমাকে কতোটা সম্মান করো ,রোবট টাকে বলা সব কথাই আমি শুনতে পেতাম। দুঃখিত এই গেইম খেলার জন্য তবে এই ঘুমিয়ে পড়া মাফিয়া রাজ্য এখন জেগে উঠলো কেবল তোমার জন্য, তোমাকে আমি এটা উপহার দিলাম, আমার পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে তোমাকে নির্বাচন করালাম আমি ।
“মাফিয়া কিং আর্থার ”
আর্থার ফিসফিস করে বললো – প্রশংসা সব আপনাকে শোনানোর জন্যই তো করেছিলাম মিষ্টার রেয়ান চৌধুরী,এখন আমি আমার পরিকল্পনায় সফল ।ধীরে ধীরে সব নিয়ে নেব আমি ।আপনি কিছুই করতে পারবেন না ।
রেয়ান চৌধুরী দূরে থাকায় শুনতে পেলো না কথা গুলো, তিনি একটা কালো হীরেখচিত মুকুট এনে আর্থার এর মাথায় পরিয়ে দিলেন।
আর্থার তার বেগুনী চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রেয়ান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বললো- আপনার মেয়েকে দূরে নিয়ে যে শূন্যতা আমাকে দিলেন সেটার অর্থ আমি পূর্ণতা বদলে দেব আপনার রক্ত দিয়ে রেয়ান চৌধুরী।
এরপর রেয়ার চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললো – আপনার ফিডার খাওয়া মেয়েটাকে দেবেন না শ্বশুরমশাই?
চলবে কি?
#মিহিকা_রোজা
কমেন্ট করবেন,এই পর্ব সম্পর্কে মতামত চাই নাহলে পরের পর্ব হবে শেষ পর্ব।

