#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (৪)
….
“দুদিন ধরে রাজকন্যার কোনো খোঁজ নেই মিষ্টার রেয়ানশ চৌধুরী আপনি চুপ থাকতে বলছেন? দুদিন আগে যদি ওকে ওখানে রেখে আসাটাই সবচেয়ে বড়ো ভুল হয়েছে । আমার বাচ্চা টা আমাকে রেখে একদিন ও থাকতে পারে না । আপনার জন্য সব হয়েছে । বিজনেস ই কি সব?
ওর কোনো খোঁজ দিতে পারছে আমার রাজকন্যার , মনে রাখবেন রেয়ানশ আমার মেয়ের যদি কিছু হয় আপনাকে ছাড়বো না ”
রেয়ানশ চৌধুরী -তুমি ভুলে যাচ্ছো ইমিনা আমি রেয়ান চৌধুরী আমার রাজকন্যার বাবা আমি , আমারো চিন্তা হচ্ছে। এতো বড় ঝামেলায় না পড়লে বাচ্চা কে রেখে আসতাম? আমার বাচ্চাটার জীবনের ঝুকি ছিলো ।
বলেই মুখে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মিষ্টার রেয়ান চৌধুরী।
রেয়ানশ চৌধুরীর স্ত্রী ইয়াসমিনা আল-হাদাদ চৌধুরী। স্বামীর মুখে এরূপ কথা শুনে অবাক হয়ে বললো – আপনি কি বলছেন মৃত্যুর ঝুকি? আপনি কি শুরু করেছেন রেয়ান , আমার বাচ্চাটার কি হবে? ঢাকা ফিরতে হবে এখুনি আপনার বোনের উপর ভরসা নেই ।
রেয়ান চৌধুরী হাফসাফ করে বলে উঠলো – ইমিনা এখন কোনো মতেই যাওয়া যাবে না ।আর মাত্র দুদিন অপেক্ষা করো আমি সব ঠিক করে দেব রাজকন্যা কে খুঁজে বের করবো ।
এরপর উঠে দাঁড়ালো, হেঁটে বুলেট প্রুফ বিশাল তাই গ্লাসের সামনে দাঁড়ালো । সূর্যের আলোর ঝলকানি চোখে লাগার মতো ।
দৃঢ় কন্ঠে বললো – প্রত্যেক এর লাশ এর জন্য আমি কবর খুঁড়ে রেখেছি ইমিনা , আমার পিঠ পিছে ছুঁড়ি মেরেছে ওরা জন্য আমাদের রাজকন্যা কে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়েছে ।
ইয়াসমিনা এগিয়ে আসলেন চোখে রাগের আগুন ফুটে উঠেছে, স্বামীর কাধে হাত রেখে তাচ্ছিল্য করে বললো- ওহ তারমানে আপনার সেই বিশ্বাস ঘাতক বিজনেস পার্টনার দের চিনতে পেরেছেন। কিন্তু আফসোস সময়ের শেষ প্রান্তে।
রায়ান চৌধুরী স্ত্রীর দিকে ফিরলেন দুহাতে জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দিলো – এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যু দেব যে দুনিয়া কেঁপে উঠবে । রাজকন্যার জন্য আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এরা ছাড়েনি ।
ইয়াসমিনা স্বামীর বুকেই মুখ গুঁজে বিড়বিড় করে বললো- রায়ান আপনি আমাকে জানান নি কেন করছেন এগুলো।খুনাক্ষরেও টের পেতে দেননি । এবার যা করার আমি করবো ।
….
“মেয়েটা কোথায় নওশাদ, স্টাফ রুমের বারান্দা দিয়ে পালিয়েছে শুনলাম”
মেহেরিন মির্জা নূরকে কোলে নিয়ে প্রশ্ন টা করলো।
নওশাদ স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিলো – হসপিটাল এ।
মেহেরিন মির্জা চমকে উঠলেন, – হসপিটাল এ মানে? মেরেছো নাকি? সমস্যা হবে কিন্তু।
নওশাদ – আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না আপনি , একবার তো চিন্তা করে জীবনে দাগ লাগিয়ে দিলেন।
মেহেরিন মির্জার চোখে জল আসলো , তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।
নওশাদ হাতঘড়ি পড়তে পড়তে আড়চোখে সেটা খেয়াল করে বললো- মেয়েটা মিনি স্ট্রোক করেছে। আমাদের হসপিটাল এই আছে ।দু একদিন এর মধ্যেই নিয়ে আসবো ।পালাবে আর কোথায়, পালাতে দিলে তো।
টেবিলের উপর থেকে কালো সানগ্লাস টা নিয়ে নূর এর গালে চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেলো ।
নূর তার পাপার যাওয়ার দিকে চেয়ে রইল,আদো আদো গলায় বললো- পা..পা…আববা ।
মেহেরিন মির্জা নওশাদ এর কথায় অবাক হলো স্ট্রোক করেছে মানে? এসেছিল সকালের নাস্তা খেয়ে যেতে বলার জন্য। কিন্তু তাকেই উল্টো ভাবনার গভীরে ফেলে চলে গেল ।
নূর এর বলা কথাটুকু তে ধ্যান ভাঙলো,নাতির গালে টুপ টুপ করে চুমু খেল । এরপর কোলে নিয়ে বাগানে গেল । দোলনায় দাদির সাথে দোল খেতে নূর ভীষণ পছন্দ করে সেটা দুমাস আগেই বুঝতে পেরেছে ।দোলনা দেখলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইবে ।
নাতির সাথেই দিন কেটে যায় তার ,ছেলের অবহেলা সহ্য হয়ে গিয়েছে,দোষ তো নিজের নওশাদ কে আর কি বলবে । প্রতিনিয়ত এই ভুল কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।
অস্ফুট স্বরে বলল – টাকাই কি সব?
…
.(এই জায়গা টা পড়ে মনে রাখতে হবে ,সামনে এটাকে নিয়েই ধামাকা হবে)
নওশাদ নিজের কাজ শেষে বিকেলের দিকে নিজের কাজের জায়গা থেকে বের হলো , অফিস এ যাওয়া প্রয়োজন কিছু বিষয় দেখতে হবে ।আয়ান কে হুর এর দায়িত্ব দিয়ে এসেছে । হসপিটাল এর বাইরে আড়ালে ত্রিশ জন এর মতো গার্ড রেখে এসেছে ।অবশ্য ছদ্দবেশী তারা , সাধারণ মানুষের মতোই লাগবে ।তাই আপাতত সেসব কথা ভাবছে না।
মির্জা গ্ৰুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর মালিকের একমাত্র ছেলে নওশাদ মির্জা এটার মালিক ।তাই সবদিক তাকেই সামলাতে হয় ।
নওশাদ কতগুলো ফাইল দেখছিল, ম্যানেজার এসে নক করলো ।
ম্যানেজার কাইফ – স্যার আসবো?
নওশাদ – ইয়েস কাম ।
ম্যানেজার কাইফ – স্যার এই ফাইল টা দেখে দিন ।
নওশাদ ফাইল টা চেক করতে শুরু করলো , এদিকে ম্যানেজার কিছু বলতে চাইছে কিন্তু বলতে পারছেনা ভয়ে ।
নওশাদ – মিস্টার কাইফ সময় নষ্ট না করে দ্রুত বলে ফেলুন।
মিস্টার কাইফ- স্যার মেহবুবা প্রজেক্ট টা খুব গুরুত্বপূর্ণ এর ডিল টার অফার আমরা করেছিলাম।এম-এইচ_সি গ্ৰুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সিইওর সাথে আপনার কথা বলতে হবে ।উনি আমাদের সাথে তেমন কথা বলছেন না। কিন্তু আমাদের এই ডিল টা প্রয়োজন নাহলে পাঁচশ কোটি টাকার লসে পড়তে পারি ।
ওনাদের সাহায্য দরকার আপনার নূর প্রজেক্ট এর জন্য।
নওশাদ কিছুক্ষন চিন্তা করলো । এরপর ম্যানেজার কে বললো – আচ্ছা আমাকে ফাইল দিয়ে যাবেন ।আমি তিন চার দিনের মধ্যে সব ম্যানেজ করে ফেলবো ।
ম্যানেজার ভয় পেলো , নওশাদ অবশ্যই কাউকে অনুরোধ করার মানুষ না , নওশাদ কে যদি একটা ত্যাড়া কথাও বলে তাহলে কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে আসবে নওশাদ।
ম্যানেজার বলতে চাইলো এরপর সেটাকে মনে ধামাচাপা দিয়ে আপনমনে ভাবলো
উনি অনেক বড়ো বিজনেস ম্যান, নওশাদ অনেক পাওয়ারফুল হলেও ,উনার পাওয়ার ও কম না ।দেশ বিদেশে ওনার সম্মান অনেক বেশি । এমনকি সে তূলনায় নওশাদ পিছিয়ে খানিকটা।
নওশাদ এর দিকে নজর দিয়ে মিনমিন করে বললো- স্যার আপনি ওনার সাথে কথা বলার আগে আমার পাঠানো ইনফরমেশন গুলো পড়ে নিবেন।রাতে পাঠিয়ে দেবো ।
বলেই ফাইল নিয়ে দ্রুত পায়ে চলে গেলো ।
….
আয়ান- বস আপনি কি আসবেন?
নওশাদ বিরক্তসূচক শব্দ উচ্চারণ করলো এই ছেলেটা এতো বকবক করে কেন ।
– আয়ান কথা সবসময় কম বলবি ,আমি মুখ খুললে টিকতে পারবি না । চুপচাপ নিজের কাজ কর ।অযথা ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করবি না ।আমি আসবো নাকি আসবো না সেটার আগাম বার্তা দিতে হবে নাকি?
আয়ান ফোনের দিকে তাকিয়ে হতাশ হলো ,ত্যাড়া কথা বলাই কি এই লোকের কাজ? সবসময় ধমকের উপর রাখে ।মুখ বাঁকিয়ে বসে বিড়বিড় করে গালমন্দ করতে শুরু করলো । তখনই মনে হলো সামনে এসে কেউ দাঁড়িয়েছে ।
তাকাতেই চেয়ার থেকে ধপ করে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে পা বেজে নিচে পড়ে গেলো । কিন্তু সালাম দিতে ভুললো না – আসসালামুআলাইকুম বস ।কেমন আছেন?
আয়ান নিজেও জানেনা ভয়ের চোটে কি বলে ফেলেছে।গলা ইতিমধ্যেই শুকিয়ে গেছে । হঠাৎ মনে পড়লো একটু আগেই ও নওশাদ কে গালি দিচ্ছিল ।
আয়ান উঠে দাঁড়িয়ে আবার বলল- সরি বস ,সরি সরি ।
নওশাদ – ফুপি কে বলে তোর ব্যাবস্থা করতে হবে ঝাড়ুর বাড়ি খেয়েও পড়াশোনা করলি না ,তোকে মারলে তো তোর বাপের কলিজায় লাগে ।একটা কাজ করলে কেমন হয়? তোর চাকরিটাই খেয়ে দেই কেমন হবে?গালি দেওয়া ছুটিয়ে দেব একদম , পাছার ছাল তুলে ফেলবো বেয়াদব।
বলেই গটগট করে চলে গেলো ডাক্তার এর রুমের দিকে ।
এদিকে আয়ান ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো পাড়ছেনা চিৎকার করে কাদতে।হা করে নওশাদ এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
তখুনি একটা চিকন মেয়েলি কন্ঠ পেলো – এমা আপনি এমন চেগাইয়া ভেটকাইয়া আছেন কেন ভাইয়া ?
….
” আসুন স্যার,ম্যাম এখন আপাতত আউট অফ ডেঞ্জার,উনি ঘুমচ্ছে,যেতে পারবেন”
নওশাদ ডাক্তার এর সাথে ভেতরে প্রবেশ করলো । প্রবেশ করে ডাক্তার কে ইশারায় যেতে বললে ডাক্তার মাথা নিচু করে চলে গেলো । নওশাদ এই কেবিনে কোনো পুরুষ ডাক্তার এর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ।কেন সেটা সে নিজেও জানে না ।সেই একমাত্র পুরুষ যে প্রবেশ করলো ।
নওশাদ এই প্রথমবার এর মতো হুরের দিকে পূর্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ।এক সেকেন্ড এর জন্য তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলো যেন ।আকাশী হসপিটাল গাউন।মাথায় সাদা হিজাব,বুঝলো মেয়েটাই দিতে বলেছে হয়তো ।হিজাব ছাড়া দেখেনি সে এখোনো।
তবে ধবধবে ফর্সা নূরানী মুখ ,হাত ,পা দৃশ্যমান।কেমন গুটিশুটি মেরে বিড়াল ছানার মতো শুয়ে আছে ।একটা বাচ্চা লাগছে হুরকে।
নওশাদ কিছুক্ষন এর জন্য তাঁর স্বাভাবিক জ্ঞানের বাহিরে চলে গিয়েছিল। কিছুক্ষন এর মধ্যেই নিজের মধ্যে ফিরে আসলো । একটু আগে সে একটা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিল ভেবেই রাগ হলো । বড়ো বড়ো পা ফেলে বেরিয়ে এলো ।
….
একটা অন্ধকার জায়গা , টিমটিমে আলো বিদ্যমান,দুটি রোলস রয়েস কার ।একটা মেয়ে রক্তমাখা পায়ে একটা পোড়াবাড়ির পেছনের দিকে হেঁটে যাচ্ছে।যেতেই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখলো ।একটা লোকের গলায় একজন সুঠামদেহী পুরুষ একটি তলোয়ার ধরে আসছে ।মেয়েটার গলা আটকে আসছে ,সে থামাতে চাইলো কিন্তু এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেলো ।
লোকটার গলা শরীর হতে আলাদা করে দেওয়া হলো রক্তে গুলো মেয়েটার গায়ে ছিটকে গেলো ।…………….…….
– মাম্মা,পাপা বাচাওওওওও ।
হুর আর কিছু ভাবতে পারলো না ,মুখ ঘামে ভিজে গিয়েছে।চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ।
হুরের চিৎকার শুনে নওশাদ দড়জা খুলে প্রবেশ করলো মাত্র রুম থেকে বের হলো , চিৎকার শুনতেই পিছু ফিরতে হলো ।
হুর উঠে বসেছে , দুহাতে মুখ চেপে ধরে জোরে জোরে বলছে – পাপা , মাম্মা বাঁচাও তোমরা আমাকে , ভাইয়া তোমার প্রিন্সেস মরে যাচ্ছে,মেরে ফেললো বাঁচাও ।
নওশাদ হুরের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো ,হুরের প্রত্যেকটি কথা তাকে অবাক করছে ।
হুরের কাছে গিয়ে একটু ঝুঁকে ঠান্ডা গম্ভীর ভরাট গলায় বললো- মিসেস হুর সুলতানা?
হুর তড়িৎ বেগে মুখ থেকে হাত সরিয়ে নওশাদ এর দিকে তাকালো , এরপর আচমকা বলে উঠলো – কে হুর সুলতানা? আমি মেহবুবা চৌধুরী হুর ! কে আপনি দূরে সরুন ,মেরে ফেলবে আমার ওরা ।
চলবে,,,,,,,
লেখিকা: মিহিকা রোজা- Black Rose
রেসপন্স করবেন। নেক্সট নেক্সট করবেন না প্লিজ এটা খুবই বিরক্তিকর। মানসম্মত কমেন্ট করবেন। রেসপন্স করবেন।
আর হ্যাঁ প্রথম পর্বে রিয়েক্ট করে ১হাজার পূর্ন করে দিন ।

