গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৯| #শার্লিন_হাসান

0
32

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৯|
#শার্লিন_হাসান

ফরিদা পারভীন আদনানের অসুস্থতার খবর শুনে উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। শত হোক তার আদরের নাতি। আদনানকে সবাই মুখে যাই রাগ চাপ দিক, তাকে ছাড়া বাসা খালি খালি লাগে।

আদনান দাদীর উত্তেজনা মিশ্রিত ব্যাথাতুর মুখশ্রীতে পরখ করে। এই টান টা একদম খাটি এবং নির্ভেজাল নেই কোন আশা-আকাঙ্ক্ষা বা স্বার্থ। ফরিদা পারভীন আদনানকে বকা দিয়ে বলেন, “নিজের খেয়াল রাখার দরকার নাই। কোন আজ’রাইল গুলা আমার নাতিরে এমনে মারলো। আল্লাহ সারাইছে, হাতে ছুড়ি বসাইছে যদি পেটে বা গাড়ে বসাইতো, কী উপায় হইতো? তারেক আসুক।”

দাদীর কথায় আদনান খানিক হেঁসে বলে, “আরে দাদী ব্যাথা সেরে গেছে। সেরা কাজেরঝি-র থেকে সেবা পেয়েছি না। ব্যাথা কী আর থাকে বলো?”

আদনানের এমন কথায় ইলমা চোখ রাঙানি দেয়। সেই চোখ রাঙানি আদনানের দৃষ্টির অগোচর হয়না। ইলমার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে আদনান। তৃপ্তি প্রশ্ন করে, “কাজেরঝি পাইলা কই?”

“হসপিটালে।”

“নার্স?”

তৃপ্তির কথায় আদনান মাথা নাড়ায়। ইলমা বিরক্ত হয়। সারারাত সেবা করলো সে আর সহজে ক্রেডিট দিয়ে দিচ্ছে নার্সকে? কতবড় অকৃতজ্ঞ ভাবা যায়!! ফরিদা পারভীন চিন্তিত হয়ে বলেন, “সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসার বাইরে যাওয়া নিষেধ তোমার।”

“কী বলো দাদী! বাসায় আমার দম বন্ধ লাগে। আমি ছেলেমানুষ বাইরে যাবো এটাই স্বাভাবিক।”

“আগে বলো হসপিটালের সেই নার্সকে ইভটিজিং করোনি তো?”

তৃপ্তির কথায় ইলমা মুখ টিপে হাসে। আদনান বিরক্ত হয়। চোয়াল শক্ত করে জবাব দেয়, “মনে ছিলো না। যেহেতু তুই মনে করিয়ে দিয়েছিস, এরপরের বার অবশ্যই ইভটিজিং করবো।”

তৃপ্তি হতভম্ব হয়ে বলে, “আরে না। আমি কী এটা বলেছি নাকী? তুমি তো ইভটিজার। যখন যেখানে সেখানে মেয়ে,মেয়ের বাপ সবাইকে ইভটিজিং করো।”

“এই চোপ থাকবি তুই? মাথা গরব করবিনা। সর সামনে থেকে।”

মৃদু চেঁচিয়ে জবাব দেয় আদনান। এই না ভালো ছিলো, মূহুর্তে টেমপার গরম। আদনানের ধমক খেয়ে তৃপ্তি চুপসে যায়। তখন ইলমা ফরিদা পারভীনকে বলে, “দেখেছ, তোমার নাতির ব্যবহারের নমুনা। তৃপ্তি খারাপ কী বলেছে? অসভ্য একটা। যাকে তাকে ইভটিজিং করে।”

“সদরঘাটের প্রেমিকনারী, মুখটা বন্ধ করবি নাকী চড় থাপ্পড় খাবি।”

“মুখ সামলে কথা বলো অসভ্য। কিসের প্রেমিকনারী? ফালতু কোথাকার! চড় মারবে তুমি? হাত দুটো গলায় ঝুলিয়ে দিলে নিশ্চয়ই তেমন কিছু হবেনা।”

“তুই আমাকে থ্রেট দিচ্ছিস? তোর ধারণা আছে আমি তোর কী কী ক্ষতি করতে পারি?”

“ইভটিজারদের ব্যবহার এর থেকে সুন্দর হয়না জানি। ব্যক্তিত্ব রাস্তার কুকুরের থেকেও নিম্নতর হয় সেটাও সবাই জানি।”

দুজনের ঝগড়ায় ফরিদা পারভীন আদনানকে ধমকে বলেন, “এতো জেদ ভালো না। নিরব হয়ে, কথা বলতে হয়। তৃপ্তি খারাপ কিছু
বলেনি। ”

“তোরা সব কয়টা নাটক বাজ। এরপর আমার সাথে মিল দিতে আসলে খবর আছে বলে দিলাম।”

ইলমার চোখের দিকে তাকিয়ে বাজখাঁই কন্ঠে কথাটা বলে আদনান। দুপদাপ পা ফেলে নিজের রুমে চলে যায়। বাকীরা তার যাওয়া দেখছে। ইলমা বিরক্ত হয় আদনানের ব্যবহারে। তৃপ্তি নিজের রুমে চলে যায়। ফরিদা পারভীন এবং ইলমা কথা বলছে। মূলত আদনানকে নিয়েই ইলমার কাছে কথা তোলছে ফরিদা পারভীন। ইলমা আদনানের ব্যপারে বেশ বি-রক্ত। কিছু বলতেও পারছেনা দাদীকে।
ফরিদা পারভীন আফসোসের স্বরে বলেন, “আমার নাতিডার কী যে হইলো। খনে ভালা,খনে রাগ। আর মাত্র এগারোদিন সময় আছে। কী যে হইবো এডার।”

“যা খুশি হোক। বিরক্ত লাগে ওকে।”
কথাটা বলে ইলমা রুমে চলে আসে। ফরিদা পারভীন ইলমার যাওয়া দেখছে।

রুমে এসে ইলমা ম্যাসেন্জারে প্রবেশ করে। দু’টো দিন কলেজ যাওয়া হয়নি। এরই মাঝে টেস্ট এক্সামের রুটিন দিয়ে দিয়েছে। ইলমা রুটিন দেখে কপাল কোঁচকায়। তেমন চিন্তা নেই, কারণ তার প্রিপারেশন ভালো। তারপরেও একটা ভয় কাজ করছে। সারাবছর মন দিয়ে পড়াশোনা করে ইলমা। আলতুফালতু কোন বিষয় নিয়ে ইন্টারেস্ট নয় সে। তার ব্যাচম্যাট, বন্ধুরা যেখানে প্রেমে মজে আছে সেখানে ইলমা নিজের বিশ্বস্ততা বজায় রাখছে। হারাম সম্পর্কে জড়াতে চায়না সে। এমনিতে তার বাবার ইচ্ছেতে সব হবে। আগামী কালকে এডমিট কার্ড আনতে যাবে। পরের দিন থেকে এক্সাম শুরু। টানা একসপ্তাহ পরীক্ষা হবে। মাঝে কোন গ্যাপ নেই। ভেবে ইলমা খানিক বিরক্ত হয়। পড়ার টেবিলে বসে পড়া রিভিশন করতে থাকে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে ঈশিতা,তারেক মাহমুদ এবং ইনান শেখ বাসায় এসেছে। তৃপ্তি দরজা খোলে দিতে সবাই ভেতরে প্রবেশ করে। যে যার রুমে ফ্রেশ হতে চলে যায়।

ইনান শেখ এসেছে শেনে ইলমা লিভিং রুমে আসে। ইনান শেখ চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে আসতে মেয়েকে দেখে জিজ্ঞেস করেন, “সন্ধ্যায় নাশতা করেছ মা?”

ইলমা মাথা নাড়ায়। ইনান শেখ মেয়েকে কাছে ডেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। ইলমা বাবার আদরে চুপ করে রয়। বাকীরাও লিভিং রুমে আসে। আদনান সবার শেষে আসে। ইলমা এবং ইনান শেখকে দেখে মনে মনে বিড়বিড় করে বলে, “নাটক।”

তারেক মাহমুদ এবং ঈশিতা ছেলের অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছে। আদনান কিছুক্ষণ চুপ থেকে জবাব দেয়, “ওই ছেলেপেলের সাথে মারামারি হয়েছিলো।”

“বাহ্! এভাবেই মার খাবে তুমি। নিজের খেয়াল তো রাখো না। আর তুমি ভালো হবে কবে? আর এগারোদিন সময় আছে।”

তারেক মাহমুদের কথায় আদনান বিরক্ত হয়। জবাব দেয়, “কী ভালো হওয়া নিয়ে পড়ে আছো? কোথায়, আমি অসুস্থ সবাইকে বলবে। ফল,মিষ্টি নিয়ে আমাকে দেখতে আসবে। আম্মুকে বলবে ভালো-মন্দ রান্না করতে। তা না বলছ, তুমি ভালো হবে কবে!”

আদনানের কথায় ইনান শেখ তারেক মাহমুদের দিকে তাকান। তিনি ছেলের কথায় মৃদু হাসেন। ঈশিতা জবাব দেয়, “তোমার বন্ধুদের বলো তোমায় দেখতে আসতে।”

“আগামী কালকে আসতে বলছি।”

কথাটা বলে আদনান স্থান ত্যাগ করে। ভাবছে, তার বন্ধুদের বলবে সে অসুস্থ দেখতে আসতে? সবাই মজা নিয়ে বলবে, নাটক বন্ধ কর। সবাইকে সারাবছর নাটক বাজ বলে আদনান। এদিকে নিজেই নাটকে অভিনয় করছে। ভেবেই নাক মুখ কোঁচকায় সে।

রুমে আসতে দেখে রিয়ানার কল। বেশ কয়েকদিন হলো কথা হয়না তাঁদের। আদনান কল ব্যাক করতে রিয়ানা খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করে। আদনান স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলে। অসুস্থতার কথা আর বলেনি। সবশেষে আদনান জিজ্ঞেস করে, “ভার্সিটি আসো না কেন?”

“বাসা চেঞ্জ করেছি। ব্যক্তিগত প্রব্লেম তাই খুব কম বেরুই।”

“কী হয়েছে?”

“তেমন কিছুনা। প্রোপার্টি নিয়ে ঝামেলা চলছে।”

“ব্যপারটা কী?”

“এখানকার এমপি বাবার প্রোপার্টি চাচ্ছে, ক্লাব বানাবে বোধহয়। বাবা চাচ্ছেনা দিতে। এসব নিয়েই ঝামেলা। থ্রেট দিচ্ছে সেজন্য আমি একটু সাবধানে থাকি।”

“জয় পাকিস্তানের বাপ?”

“জয় পাকিস্তান কে?
ওহ আচ্ছা আবরণ।”

“হুম। আর কী খবর বলো?”

“চলছে। এরপর কী হবে জানিনা।”

“আরেহ চিন্তা করো না। ঠিক হয়ে যাবে।”

“জানি না। ভাবছি শহর ছেড়ে দেব।”

“এতো ভয় কিসের?”

“ওরা মানুষ মা’রতেও দুবার ভাবেনা।”

“টেনশন ফ্রি থাকো।আমি যতটুকু সম্ভব তোমায় হেল্প করব।”

“আচ্ছা।”

দু’জন অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলে। ডিনারের জন্য ডাক পড়তে আদনান কল কেটে বাইরে আসে। সবার সাথে বসেই খাবার খেয়ে নেয় সে। তেমন কথা বলেনি সে।

রুমে এসে গ্রুপে কল দেয় আদনান। একে একে সবাই জয়েন করে কলে। আদনান সবার উদ্দেশ্য বলে, “আগামী কালকে আমাদের বাসায় তোদের দাওয়াত।”

আদনানের এরকম কথায় সবাই একসঙ্গে বলে, “কীইই!”
আদনান বিরক্ত হয়। যেখানে যায় সেখানেই নাটক! তার বন্ধুরাও কম না। নির্মাণ বলে,
“সত্যি ভাই? তুই দাওয়াত দিচ্ছিস? ভেবেছিলাম তোর বিয়ে ছাড়া এই বাসায় আসা হবেনা।”

নির্মাণের কথায় বাকীরা হাসে। কারণ আদনান কখনো তাঁদের দাওয়াত করেনি বাসায় আসার জন্য। যতবার আসার জন্য আবদার করত, রেস্টুরেন্টে খাওয়াতো। তবুও বেটা বাসায় বন্ধুবান্ধন আনত না। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতো, “আমার বউ নেই, তোদের রান্না করে খাওয়াবে কে?”

কিন্তু তার আম্মু,বাবা এরকম না। অতিথি আপ্যায়ন খুব ভালো করে করতে পারে।
নির্মাণের কথায় আদনান ধমক দিয়ে বলে, “আমি অসুস্থ আমাকে দেখতে আসবি তোরা। এখন তো বাইরে বেরুতে দিবে না। তোরাই আয়, আড্ডা দেবো।”

“তোকে দেখতে যাওয়ার জন্য সাথে কী নেব?”
শেজানের কথায় নির্মাণ বলে, “জুনিয়র মেয়ে জোগাড় করিস। শাহরিয়ার আদনান শেখ ইভটিজিং করবে তাকে।”

“এই হালারপো, চুপ থাক। এই ইভটিজিং কথাটা শোনতে শোনতে বিরক্ত আমি।”

আদনানের কথায় নিশাত জবাব দেয়, “তাহলে ভালো হয়ে যা।”

“তুই ভালো হো। আদনান বাজে ছেলে, বাজেই থাকবে।”

“আল্লাহ এই ছেড়াকে সঠিক পথে আনো।”
রাহার কথায় নির্মান জবাব দেয়, “কাকে জানি ভালোবাসে আমাদের ইভটিজার ভাই শাহরিয়ার আদনান শেখ। বল ভাই, মেয়েটা কে?”

“তোর নানী। তোর নানীকে ভালোবাসি আমি।”

“আমার নানী আরো তিনবছর আগে মা’রা গেছে।”

“মুখ বন্ধ কর।”
আদনানের কথায় নির্মাণ আর এই জথা তোলেনি। তবে সবাই শিওর আদনান নতুন কারো প্রেমে পড়েছে। কিন্তু কে সে সেটাই জানেনা কেউ। কারণ রিসেন্ট কোন মেয়েকে পছন্দ করা নিয়ে কিছু বলেনি আদনান। অন্যান্য সময় বন্ধুমহলে মেয়ের ডিটেইলস, পিকচার সবই দেখাতো সে। এবার কিছুই করছেনা।

★★★

সকালে ইলমা,তৃপ্তি দু’জনেই কলেজ গিয়েছে এডমিট কার্ডের জন্য। ঈশিতা এবং ফরিদা পারভীন একা হাতে রান্নাবান্না সামলাচ্ছে। আদনানের বন্ধুরা আসেনি এর আগে। এই প্রথম আসবে সেজন্য আদর – আপ্যায়ন একটু অন্যরকম হওয়া চাই।

একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে আদনান। ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে নিজের রুমটা গোছায় সে। নিজের রুম নিজেই গোছাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে।

এগারোটার দিকে ইলমা তৃপ্তি বাসায় চলে আসে। দু’জন ফ্রেশ হয়ে ঈশিতাকে কাজে হেল্প করে। কাজ কর্ম শেষ হতে ইলমা গোসল সেরে নামাজ আদায় করে নেয়। এরই মাঝে কিছুটা হৈচৈ কানে আসে। ইলমা বুঝে আদনানের বন্ধুরা এসেছে। ইলমা রুমেই থাকে। তাঁদের সামনে যেতে লজ্জা করছে তার।

আদনান তার বন্ধুদের সাথে দাদী,মা,তৃপ্তির পরিচয় করিয়ে দেয়। নির্মাণ আদনানকে কনুই দিয়ে গুঁতা মেরে বলে, “তোর প্রেমিকনারী কেথায়?”

“জানি না।”

বিরক্ত নিয়ে বলে আদনান্ নির্মাণ খানিক হেঁসে বলে, “ব্রেকআপ হয়েছে?”

“আজকে তোর খাওয়া বন্ধ। উল্টাপাল্টা বলছিস কেন?”

“বাপ্রে! সামান্য কথায় আমার দুপুরের খাওয়া বন্ধ করে দিবি?”

“হুম।”

কথাটা বলে আদনান শেজানের দিকে তাকায়। যেহেতু দুপুরের খাওয়া সেজন্য দেরি করেনি। সবাই টেবিলে বোস খাবার খেতে।
আদনান তৃপ্তিকে ডাকে। তৃপ্তি আসতে নিশাত বলে, “পাশে বোসো। দূরে দূরে থাকছ কেন?”

তৃপ্তি খানিক লজ্জা পায়। জবাব দেয়, “তেমন কিছুনা।”

আদনান সেসব তোয়াক্কা না করে বলে, “মেলিচা কোথায়?”

“রুমে।”

“খাবার খাবেনা?”

“খাবে।”

“ডেকে আন তো। তোদের নাটকের শেষ নেই। ছেলেফ্রেণ্ড রাখতে পারে,কিন্তু মেহমানদের সামনে আসতে যত সমস্যা।”

লিভিং রুমে পা রাখতে আদনানের কথা কর্ণকুহর হয় ইলমার। দাদী তাকে ডেকে এনেছে খাবার খেতে। দাদীর সাথেই এসেছে সে। আদনানের ঝাঁঝালো কন্ঠের বলা কথা শোনে ইলমা বিরক্ত হয় সাথে কিছু লজ্জা পায়। বাকীদের দিকে তাকানোর সাহস করতে পারেনি। ইলমাকে আসতে দেখে আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “সদরঘাট থেকে আসতে এতো দেরি হচ্ছে যে ভেবেছিলাম প্রেমিকনারীর জন্য হেলিকপ্টার পাঠাব। কিন্তু প্রেমিকনারী তার আগে তার পদধূলি দিয়েছে। ধন্য হলাম। প্লিজ আসন গ্রহণ করুন।”

আদনানের অপমানসূচক বাক্যে ইলমা জবাব না দিয়ে সোজা পাশ কাটিয়ে কিচেনের দিকে যায়। তৃপ্তি মুখ টিপে হাসে। নির্মাণও হাসছে। বাকীরা আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান হতভম্ব হয়ে যায়। বাকীদের ধমকে বলে, “খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দে। ওর ভাব এমনিতেও একটু বেশি।”

নির্মাণ চুপিচুপি বলে, “এটা কিন্তু বেস্ট।”

“চোপ।”

আদনান খাবার খাবে কী রাগ হচ্ছে ইলমার প্রতি। নিজে যে কতগুলো কথা বলেছে সেসবে তার হেলদোল নেই। পুরোটা সময় আর ইলমা এদিকে আসেনি।

বাকীরা খাবার খেয়ে ঈশিতার রান্নার প্রশংসা করে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সবাই আদনানের রুমে যায়৷ নির্মাণ আদনানের গিটার নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। রাহা বলে, “চল ছাঁদে যাই। আদনান গান শোনাবে।”

“বিকেলে।”
শান্ত স্বরে জবাব দেয় আদনান। বাকীরা কেউ ফোন স্ক্রোল করছে। কেউ আদনানকে নিয়ে হাসছে। ইলমা কীভাবে সূক্ষ্মভাবে আদনানের মাথা হেট করে দিলো।

খাবার খেয়ে ইলমা রুমে চলে আসে। তৃপ্তিও নিজের রুমে চলে যায়।
রুমে এসে ইলমা পায়চারি করতে থাকে। এখনো তার গা জ্বলে যাচ্ছে আদনানের কথার জন্য। কত বড় দুঃসাহস! সবসময় এমন করে আদনানটা।

বিকেলে সবাই মিলে ছাঁদে আসে। একেকজনের অবস্থা খারাপ চারতলা বেয়ে। নির্মাণ গিটার নিয়ে উঠেছে। আদনান তৃপ্তিকে ম্যাসেজ দিয়ে বলে, “মেলিচাকে নিয়ে ছাঁদে আয়।”

তৃপ্তি রিপ্লাই করে, “ও আসবেনা।”

“আসবে। বল, আমি বলেছি আসার জন্য।”

“না আসলে?”
“আমি আসব?”

“আচ্ছা দেখি।”
তৃপ্তি ইলমার রুমে যায়।
সাহস সঞ্চয় করে বলে, “ছাঁদে যাবি ইলমা?”

“এখন?”

“বিকেল বেলা। চল, শিমুলকে আসতে বলব। আড্ডা দেব। ”

“ভালো লাগছেনা।”
তৃপ্তি এটা ওটা বলে টেনেটুনে ছাঁদে নিয়ে আসে ইলমাকে। ইলমা ছাঁদে এসে বিস্ময় নিয়ে তাকায় তৃপ্তির দিকে। সে জানত না আদনান যে, তার বন্ধুদের নিয়ে ছাঁদে। ইলমা যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে তৃপ্তি হাত ধরে নেয়। আদনান রাহাকে চোখ দিয়ে ইশারা করলে রাহা বলে, “এদিকে আসো মেলিচা। এতো লজ্জা পাচ্ছ কেন?”

তৃপ্তির সাথে সামনে এগোয় ইলমা। তাদের সামনে আসতে নিশাত বলে, “আমরা তোমার বড় ভাই বোনের মতো। এতো লজ্জা পাচ্ছ কেন? আমরা আমরাই তো।”

ইলমা দৃষ্টি মেঝেতে রেখে বলে, “তেমন কিছুনা।”

বাকীদের সাথে টুকটাক পরিচয় হয় ইলমা। সবাইকে নিজের নামের উচ্চারণ বলে, “ম্যালিসা” নট “মেলিচা।”

টুকটাক কথাবার্তা বলে নির্মাণ গিটারপ সুর তোলে। আদনান গান গাইবে। বন্ধুমহলে গান গায়,ভিডিও মেক করে। তবে ফ্যামিলি মেম্বার্সদের সামনে গান গায়না তেমন।
কী গান গাইবে ভাবতে, ভাবতে আদনান সুর তোলে গাওয়া শুরু করে,

❝আমি প্রেমিক আমি কবি
তুমি সিরিয়াসভাবে দেখো সবই
আমি গেম খেলে সারা রাত জাগি
তুমি পড়ুয়া মেয়ে বেজায় রাগি।
আমি বিরিখোর আমি আড্ডাবাজ
পড়াশোনা শুধু তোমার কাজ।
তোমার প্রিয় বিড়াল ছানা
আমার প্রিয় কুকুর
তোমার প্রিয় পাহাড়ি ঝর্ণা
আমার প্রিয় পুকুর।
গোলাপ ফুলের জায়গায় আমি
দিলাম তোমায় জবা
বলো তুমি এইবার কি
আমার প্রেমিকা হবা।❞

#চলবে

যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1

ছবি ক্রেডিট: নাফিসা কামাল আপু❤️
বিঃদ্রঃ গানটা কিন্তু বখাটে শাহরিয়ার আদনান শেখের সাথে খাপেখাপে মিলে গেছে😝
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here