#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤 |৩|
লেখনীতে: #শার্লিন_হাসান
নিশির আগমন হতেই প্রকৃতির কপোলে ছড়িয়ে পড়েছে হীমের বার্ধক্যের ছটা। চারদিকে জীর্ণ-শীর্ণ প্রাণ স্পন্দন নিরব আবহাওয়া। শীতের আক্রমণে প্রকৃতির সাথে মানুষও হয়ে উঠে জড়োসড়ো।
কনকনে শীতের মাঝেও কপাল বেয়ে ঘাম ছুটছে তারেক মাহমুদের। তার সামনে এখনো নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বোসে কফি পান করছে তারই পুত্র আদনান। কিছুক্ষণ আগের করা বেয়াদবি সে হয়ত আমলে নেয়নি। তারেক মাহমুদ ক্ষুব্ধ হয়ে জবাব দেন,
“তুমি কবে স্মোক করা ছাড়বে?”
বিরক্তিতে নাক মুখ কুঁচকে নেয় আদনান । কপালে কয়েকটা ভাঁজ ফুটে উঠে। বাকীরা তার দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান মেঝেতে দৃষ্টি রেখে জবাব দেয়, “খোদা যেদিন চায়।”
“খোদা মানো তো?”
তারেক মাহমুদের পাল্টা কথায় আদনান জবাব দেয়, “এতো কিছুর উত্তর দিতে বাঁধ্য নই আমি।”
“আদনাননন…..
চিৎকার করে বলে তারেক মাহমুদ। আদনান ক্রুর হেঁসে উঠে দাঁড়ায়। হেলেদুলে হেঁটে যেতে যেতে ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, ” এরপর যে আমার রুমে যাবে, বালপাকনামি করবে আমার থেকে খারাপ কেউ হবেনা।”
আদনানের কথায় ঈশিতা রেগে ফুঁসে উঠেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় আদনানের যাওয়ার দিকে। তারেক মাহমুদকে কয়েকটা কড়া কথা শোনানোর জন্য উদ্বুদ্ধ হতে যাবেন। তখন আবার ফরিদা পারভীন বিলাপ জুড়ে দেন। “আদনান দিনদিন খারাপ হইতাছে। এডারে বিয়া করাই দেও। বউ যহন আঁচলে বাইন্ধা নিবো তহন দেখবা সব শয়তানি বাই-রা-ইয়া যাইব।”
তখন তৃপ্তি জবাব দেয়, “ওর শয়তানি ভালো হওয়ার সাথে বিয়ের লজিক বুঝলাম না।”
ফরিদা পারভীন জবাব দেয়, “বিয়া অইলো পবিত্র বেপার। আদনানের শয়তানি ভালা করার জন্য ওর মতোন একটারে দরকার।”
তারেক মাহমুদ বিরক্ত হয়। ছেলের বয়স হয়েছে নাকী বিয়ে করার। বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবে? যেখানে নিজেই বাপের হোটেলের তিনবেলা ষাঁড়ের মতো খাবার গিলে। বিয়ে কী এতোই সোজা? সারাজীবনের জন্য একটা মেয়ের দায়িত্ব নেওয়া চারটি খানি কথা না। তার ভরণপোষণ,চাহিদা,চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা কী সহজ কথা? ফরিদা পারভীন আরো কিছু বলতে যাবেন। তখন ইলমা বলে উঠে, “ওপরওয়ালা হেদায়েত না দিলে তোমার নাতিকে কেউই সঠিক পথে আনতে পারবে না।”
তারেক মাহমুদ কপাল স্লাইড করছেন। ছেলেকে নিয়ে তার মাথা ব্যথা প্রচুর। বাইরে যা খুশি করুক তাতে তার বিন্দু মাত্র মাথা ব্যথা নেই। এই রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে দাঁড়িয়ে এরকম দু-একটা বাঘ রাখা আবশ্যক। সেখানে তার ছেলে তো একবারে নাম করা। কে না চেনে তাকে? খারাপ কাজের মাস্টার সে। তারেক মাহমুদ শুধু মুখের শাসন করেন। অন্তর থেকে এরকম কিছুর প্রতিবাদ আসে না। তার এই চুপ থাকাটা কতটা শোভনীয় তা নিজেরও জানা নেই। একজন বাবা হিসাবে অনেক দায়িত্ব থাকে। তার মধ্যে অন্যতম দায়িত্ব সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়া,মানুষের মতো মানুষ করা। যাতে দেশের এবং দশের ভবিষ্যৎ হয়। সেখানে সে বাবা হিসাবে তেমন শাসন দেখাচ্ছেনা। আদনানের এরকম উচ্ছন্নে যাওয়ার পেছনে বড় আবদান খারাপ সঙ্গ;নেশাদ্রব্য সেবন। রাগ- দম্ভ-হিংস্রতা। বা অন্য কোন কারণ!
রুমে এসে পড়ার টেবিলের সামনে চেয়ার টেনে বোসে ইলমা। কপালে সূক্ষ্ম ঘাম জমেছে। বুকটা ধুকপুক শব্দ করছে। হাতের আঙুলের ফাঁকে কলম রেখে সেটা ডানে-বামে নাড়াচ্ছে। এরই মাঝে ফোন টুংটাং শব্দ হতে সেটা হাতে নেয় ইলমা। তাঁদের গ্রুপে অনবরত ম্যাসেজ হচ্ছে। তাকেও মেনশন দেওয়া হচ্ছে। ইলমা গ্রুপে ঢুকতে প্রীতি বলে, ‘বড়লোক্স আপা এসেছে।’
তখন তাদের বন্ধু রিহান রিপ্লাই দেয়, ‘ইলু বেবি কার কাছে ছিলি এতোক্ষণ? আসতে এতো লেট হলো কেন?’
ইলমা আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়ায়। রিপ্লাই করে, ‘তোদের জিজুর কাছে ছিলাম। ছাড়ছিলোই না সেজন্য আসতে লেট হয়েছে। ফাজিল গুলো।’
প্রীতি রিপ্লাই করে, ‘খালামুনি হচ্ছি কবে?’
ইলমা কয়েকটা রাগী ইমুজি ছেড়ে রিপ্লাই দেয়, ‘আসতাগফিরুল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহ। বাজে ধান্ধা বন্ধ করে ধর্মের পথে আয় তোরা।’
তাঁদের সাথে যোগ দেয় তাঁদের আরেক বন্ধু মাহিম। ইলমাকে পচিয়ে বলে, ‘আমাদের গালি তুই শিখিয়েছিস এখন পল্টি নিচ্ছিস কেন? স্কিনশর্ট ভাইরাল করব?’
ইলমা মুখ বাঁকানো ইমুজি দিয়ে রিপ্লাই করে, ‘তাহলে তোর কুকীর্তি সব তোর গার্লফ্রেন্ডের ইনবক্সে লিস্ট হিসাবে চলে যাবে। ভালো চাস তো আমাকে ভদ্র মেয়ে বলে মান্য কর।’
মূহুর্তে হাসির ইমুজিতে ভরে উঠে গ্রুপ। মাহিম ইলমাকে ভালো মেয়ে বলে উপাধি দিয়েছে। ইলমা সবাইকে পড়ার জন্য তাড়া দিয়ে অফলাইন হয়ে যায়। পুনরায় চেয়ারে বোসে টেবিলের উপর থাকা ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ ভোলায়। দু’টো দিন পর তার বার্থডে। তার জন্য একটা স্পেশাল দিন।
★★★
রাতের খাবার খেয়ে রুমে আসতেই আদনানের গার্লফ্রেন্ড রিয়ানা কল দেয়। আদনান নিজের ভাবভঙ্গির পরিবর্তন এনে কল রিসিভ করে। রিয়ানা অভিমানের স্বরে বলে, ‘বেইব, সারাটাদিন গেলো কল দিলে না।’
আদনান নরম স্বরে জবাব দেয়, ‘ব্যস্ত ছিলাম জান। এখন বলো কেমন আছো?’
‘তোমাকে দূরে রেখে ভালো থাকা যায় বুঝি।’
‘ভণিতা ছেড়ে আসল কথাটা বলো।’
‘চলো ক্লাবে যাই।’
আদনান ভ্রু কুঁচকে ফোনে স্কিনে তাকায়। রাত এগারোটার উপরে। এখন ক্লাবে গেলে নিশ্চয়ই মদ গিলা হবেনা। হবে তো অন্যকিছু! মদ অব্দি আদনান সঙ্গ দিবে এর বাইরের কিছুতে সে নেই। আদনাম মনে মনে বিশ্রী কয়েকটা গা’লি দেয় রিয়ানাকে। রিয়ানা আদনানকে চুপ দেখে পুনরায় বলে, ‘কী হলো বেইব? আসবে না?’
‘কেন তুই কী বেশি হর্নি হয়ে গেছিস?’
রিয়ানা থতমত খেয়ে বলে, ‘কী বলো এসব? জাস্ট একটু মজা করব সেজন্য বলেছি।’
‘ক্লাবে যা, ছেলের অভাব পরবে না। ইন্টিমেন্ট হতেও বেশি দেরি হবেনা। মজা হবে বেশ! আমার মাথা ব্যথা করছে ঘুমাব এখন।’
কথাটা বলে আদনান কল কেটে দেয়। দু-হাত ব্যালকনির গ্রিলে রেখে বাইরে তাকায় আদনান। মদ গিলার সাথে সাথে প্রেমটাও ভালো আয়ত্ত্ব করতে পেরেছে সে। এই পর্যন্ত কতগুলো গার্লফ্রেন্ড বানিয়েছে গুনেও দেখেনি। জাস্ট একমাস,পনেরোদিনের প্রেম নতুন আরেকটাকে ধরে। রিয়ানাও তার ব্যতিক্রম না। পনেরোদিন হলো নতুন রিলেশনশিপ তাঁদের। কিন্তু আদনানের ইন্টারেস্ট নেই রিয়ানার প্রতি। তার শিকার অন্য কেউ। সেখানেই রাত-দিন সময় ব্যায় করছে সে। ইভটিজিং, ফ্লার্টিং, মদ গিলা,ঝামেলা পাকানো, গা’লি দেওয়া এসব তো তারই কাজ। তার বাবার টাকা আছে, সে শো অফ করে। বড়লোকের মেয়ে ইমপ্রেস হয় যাদেরও একশ একজন বফ চেঞ্জ করার অভ্যাস আছে। তারা কেউই প্রেম সিরিয়াসলি নেয়না। এসব গার্লফ্রেণ্ড/বয়ফ্রেণ্ড টিস্যুর মতো চেঞ্জ করা কোন ব্যপার না।
————————————
টিংটিং আওয়াজে ঘড়ির কাটা সকাল আটটার ঘর ছুঁয়েছে। এলার্ম-ঘড়ির শব্দে ঘুম ভেঙেছে আদনানের। উঠে শাওয়ার নিয়ে লম্বা সময়ের ব্যবধানে তৈরি হয়। হাতে কালো বেল্টের ঘড়ি। কড়া পারফিউম মেখে বাইরে আসে। হাতে বাইকের চাবিগোছা সেই সাথে হেলমেটও আছে। শেখ পরিবারের সবাই নাশতা করতে বসেছে। আদনান নিজপর চেয়ার টেনে বোসে। ব্রেডে জেল মাখতে মাখতে ইলমার দিকে একনজর তাকায়। সাদা রঙের কলেজ ড্রেস সাথে দুই বিনুনি করা। উপরে এপ্রোন জড়ানো। তার সাথে তৃপ্তিও আছে একই বেশে। দু’জনে একই ব্যাচ শুধু গ্রুপ আলাদা। তৃপ্তি কমার্সের স্টুডেন্ট আর ইলমা সাইন্সের স্টুডেন্ট।
আদনান নাশতাটা সেরে উঠে চলে আসে বাইরে। হেলমেট পড়ে বাইক স্টার্ট দেয়। তার পছন্দের রঙ কালো। সেজন্য বাইকটাও কালো দেখে কিনেছে।
শো শো শব্দ করে দ্রুত গতিতে বাইক চলছে ভার্সিটির উদ্দেশ্য।
শেজান,নির্মাণ,নিশাত,রাহা চার বন্ধু ক্যাম্পাসের ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে আছে। অপেক্ষা আদনান কখন আসবে। তারা একটা ব্যপার নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করছে যেটা কয়েকদিন ধরে সবারই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। সেটা হলো ভার্সিটির জুনিয়র বেশ সুশ্রী রমণী জেভিন। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ ভালো। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তে থাকার মূল কারণ বিপরীত দলের লিডার জয় আবরণ। এমপির একমাত্র ছেলে জয় আবরণ। যার সাথে আদনানের ঘোর বিরোধিতা আছেই বটে। কেউ কারোর ছায়া ও সহ্য করতে পারেনা। এখন তো এক জেভিন নিয়ে না জানি কত কাহিনি হয়। বলা যায়, আদনানের জিনিস আবরণ কেড়ে নিতে পছন্দ করে আর আবরণের জিনিস আদনান। যেকোন ফাংশানে মেইন দায়িত্বে আদনান থাকলেও মাঝে-মধ্যে আবরণও থাকে। এই দু’জনের ঝামেলা সবারই কম বেশি জানা।
ভার্সিটির গেট দিয়ে প্রবেশ করছে জেভিন। পরণে কাঞ্জিভরম শাড়ি। কাঁধে একটা ব্যাগ। খুবই স্বল্প সাজে তাকে বেশ সুন্দর লাগছে। তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদনানের বন্ধু মহল। এরই মাঝে নির্মাণ বলে উঠে, ‘ভার্জিন বলে মনে হয়না।’
সাথে সাথে কেশে উঠে শেজান মুহিত। আদনান কোন জবাব দেয়না। নিশাত এবং রাহা মুখ বাঁকা করে। নিশাত খানিক রাগ দেখিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে শুধায়,
‘এসব কেমন কথাবার্তা? তোর নজর এতো খারাপ কেন?’
‘এই শ্লী চুপ থাক। ছেলেদের সম্পর্কে তোর ধারণা আছে? ওরা একটা মেয়ের হাঁটা চলা দেখেই বুঝতে পারে অনেক কিছু। বিশেষত মেয়েটা ভার্জিম কি-না। তার পোশাকআশাক দেখেও অনেক কিছু বুঝা যায়। মেয়েটার রুচি কেমন।’
‘ওর রুচি সুন্দর। দেখ না শাড়ি পরিধান করেছে।’
রাহার কথায় নির্মাণ হো-হো করে হেঁসে উঠে। আদনান বিরক্তি সূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে তাদের পাণে। নির্মাণ হাসি থামিয়ে বলে, ‘শাড়ি পড়লেই রুচি সুন্দর হয় নাকী? গিয়ে দেখ, রাত বিরাতে ক্লাবে বেটা মানুষের সাথে ঢলাঢলি করে।’
আদনান এবার মুখ খুলে। ধমকে বলে, ‘এই তোরা চুপ থাকবি? মেয়েটা যেমনই হোক সে আবরণের পছন্দ করা জিনিস।’
‘আর তোর শিকার।’
শেজান ব্যতীত একজোটে কথাটা বলে উঠে সবাই। আদনান কিঞ্চিৎ হাসে। মনের মধ্যে কী চলছে সে ব্যতীত কেউ জানেনা। তার মাঝে শেজান মুহিত বলে, ‘তাহলে রিয়ানা?’
‘ধুরু! জেভিন যতদিন পর্যন্ত না ইমপ্রেস হয় ততোদিন রাখবো রিয়ানাকে। আই হোপ এরপর ও আবরণের কাছেই যাবে।’
আদনানের কথায় শেজান খুশি হয়নি। বিরক্তি নিয়ে বলে, ‘এসব বন্ধ কর। মেয়ে নিয়ে প্রেম প্রেম খেলা শুধু শুধু নিজের সময় আর ব্যক্তিত্ব নষ্ট। অন্ধ হয়ে গেছিস তোরা। চোখ মেল, দুনিয়াটা দেখ। গুরুত্বপূর্ণ সময় ভালো কাজে ব্যায় কর। যতই বাপের টাকা থাকুক, একটা সময় ভালো কিছু করতে না পারলে ছুঁড়ে ফেলে দিবে।’
শেজানের কথা কেউই আমলো নেয়নি তেমন। তবে নিশাত খানিক ভেবে বলে, ‘শেজানের কথাটা খারাপ না।’
‘তাহলে সবার আগে তুই প্রেম প্রেম খেলার মাঠ থেকে বের হো।’
নির্মাণের কথায় নিশাত মুখ বাকিয়ে জবাব দেয়, ‘আমি এক পুরুষে আসক্ত। তোদের মতো মেয়ে বাজি বা ছেলেবাজিতে নাই আমি।’
‘শেজানের দলের সদস্য। যা তোরাই দেশের ভবিষ্যৎ। একনারী আর পুরুষ, ছ্যাকা একটা দিবে যখন ব্যাকা হয়ে যাবি তখন। এরপরই বুঝবি একসাথে চার-পাঁচটা প্রেম করার মানে।’
নির্মাণের কথা কানে তোলেনি নিশাত আর শেজান। রাহারও এসবে ইন্টারেস্ট আসছেনা। নিশাত শেজানের সাথে সে ডিপার্টমেন্টের দিকে চলে যায়। তার পেছন দিয়ে নির্মাণ এবং আদনান ও যায়। তারা যাবে অফিসের দিকে। সামনে আসছে বসন্ত। বড়সড় অনুষ্ঠান হবে ভার্সিটিতে। সেসব প্রোগ্রামের দায়িত্ব পালন করার মতো ব্যপারস্যপার আছেনা।
★★★
কলেজে পরপর ক্লাশ গুলো করে ক্লান্ত হয়ে যায় ইলমা। পাশে বোসা প্রিতী। সেও বেশ ক্লান্ত। আগামী কালকে ইলমার বার্থডে। সে বিষয়েও পরিকল্পনা চলছে মাহিম এবং রিয়ানের সাথে। যেহেতু কলেজ খোলা এখান থেকেই কিছু একটা করবে।
ছুটি হতে সবাই একসাথে বের হয়। সবার চোখেমুখে ক্লান্তি উপচে পড়ছে। গেটের সামনে আসতে দেখা হয় আদনানের সাথে। সে এই পথেই বাসায় যাচ্ছে। ইলমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিজ গন্তব্য যাচ্ছে সে। আদনানকে দেখে খানিক বিরক্ত হয় ইলমা। প্রীতি হাসি ঠাট্টা করার সাহস পাচ্ছেনা। কিন্তু মাহিম এসব ভাবেনি। চট করে বলে উঠে, ‘আরেহ্ আদনান ভাইয়া গেলো। তাকে সুন্দর লাগছে তো।’
মাহির কথায় ইলমা তার দিকে দৃষ্টি স্থির করে। তখন প্রিতী সাহস করে বলে, ‘ওনার কী সত্যি গার্লফ্রেন্ড আছে?’
‘কেন তুই প্রেম করতি চাস নাকী?’
ইলমার কথায় প্রীতি ধুম করে কিল বসায়। দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দেয়, ‘নাহ্। তোর জন্য বলছিলাম।’
‘আসতাগফিরুল্লাহ দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছে নাকি?’
ইলমার কথায় রিয়ান বলে, ‘নাহ্। একটা জিজুর অভাব। ইলু একটা প্রেম করনা। তোর বফকে ফকির বানানোর দায়িত্ব আমাদের।’
‘সময় হলে সঠিক মানুষ আসবে। আমি যদি প্রেম করি, বাবা শোনলে কষ্ট পাবে। তার আমাকে নিয়ে অনেক আশা।’
‘এডভোকেট ইনান শেখের মেয়ে বলে কথা।’
মৃদু হেঁসে কথাটা বলে মাহিম। ইলমা নিজেও হাসে। চোখমুখ হাসিতে উজ্জ্বলতার। ইলমা জবাব দেয়, ‘আমার বাবা আমার আদর্শ, অনুপ্রেরণা। খোদার পরে তিনি আমার পথপ্রদর্শক।’
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

