#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩৩|
#শার্লিন_হাসান
“সদরঘাটের প্রেমিকনারী কথা বলবিনা।”
“কিসের সদরঘাটের প্রেমিকনারী ? বলবা, আমার প্রেমিকনারী।”
ইলমার কথায় আদনান সবিস্ময় নিয়ে তাকায়। ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে বলে, “কার প্রেমিকনারী?”
আদনানের কথায় ইলমা লজ্জা পায়। মাথা নিচু করে নেয়। ইলমাকে লজ্জা পেতে দেখে, আদনান মৃদু হেঁসে বলে, “আমার প্রেমিকনারী মেলিচা।”
ইলমা উপরনিচ মাথা নাড়ায়। আদনান আকাশের দিকে তাকিয়ে সুখের হাসি দেয়। ইলমার দিকে তাকায়। পুনরায় ইলমাকে পরখ করে বলে, “এবার চল বিয়েটা করে ফেলি।”
ইলমা মুখ বাঁকিয়ে জবাব দেয়,”প্রেম করার শখ আমার। আগে প্রেম করব এরপর বিয়ে। দেখব,কেমন ভালোবাসো আমায়।”
“তোর যা ভালো লাগে। কিন্তু আমরা হালাল বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই। প্রেম মানে তো মিষ্টিপাপ। আমার তরফ থেকে একটু আধটু ভুলত্রুটি হয়ে যেতে পারে।”
“কিসের ভুল? তুমি কী আগের আদনান আছো?”
আদনান হেঁসে বলে, “আগের আদনান তো প্রেম করত, একটুআধটু ভুল করত না। তোর কী মনে হয় আমি প্রেমিকাদের চুমু খেতাম? ছিঃ!ছিঃ!”
“তাহলে প্রেমিকাদের সাথে ক্লাবে গিয়ে কী করতে?”
“তুই আয়,তোকে নিয়ে ক্লাবে যাই। তারপর দেখাব কী করতাম। কিন্তু তোর তো তাঁদের মতো মদ খাওয়ার অভ্যেস নেই।”
“যেমন প্রেমিক,তেমনি তার প্রেমিকা ছিলো।”
“হ্যাঁ। তখন ওরা আমার টাইপের ছিলো। এখন আমি তোর টাইপের হয়ে গেছি।”
“আমি গেলাম,তুমি থাকো।”
ইলমার কথায় আদনান হতভম্ব হয়ে যায়। বাঁধা দিয়ে বলে, “আবার কী হলো?”
“ঘুম আসছে।”
“আজকের আকাশ টা দেখ,কী সুন্দর। চল ছাঁদে যাই।”
“বাবা জানলে খবর করে দিবে।”
“টের পাবে না। এখন কেউ আমাদের রুমে এসে চেক করবে না। আয় না।”
“না,না। আমি পারব না।”
“এই সাহস নিয়ে প্রেম করতে এসেছিস? প্রেমিকা হতে হলে সাহসী হতে হয়। অনেক মিষ্টিভুল করতে হয়, স্যাক্রিফাইস করতে হয়। প্রেমিকের আবদার রাখতে হয়।”
“থাক ভাই। প্রেম করব না।”
ইলমার কথায় আদনান হাসে। তাড়া দিয়ে বলে, “চলনা।”
“যাব না।”
“কেউ টের পাবে না।”
“না পাক।”
ইলমা আদনানের কথা উপেক্ষা করে রুমে চলে আসে। আদনান তাকিয়ে আছে ইলমার যাওয়ার পাণে।
ইলমা রুমে এসে শব্দ করে হাসে। নিজের কপালে নিজেই চাপড় মারে। সত্যি, কীভাবে প্রেমের জালে ধরা দিয়ে দিলো। কিন্তু আদনানের হৃদয়ের আকুলতা, চোখেমুখের কোমলতা,সরল ভাষায় প্রেম নিবেদন সবটাই ইলমাকে মুগ্ধ করেছে।
হুট করে আদনানকে মনে গেঁথে নিয়েছে। হয়ত এই ভুলটা হয়েছে, আদনানকে নিয়ে একটু বেশি ভাবার কারণে। আচ্ছা ভালো মেয়েদের কী,বাজে ছেলেদের প্রেমে পড়া উচিত? কী জানি! ইলমা তো বাজে ছেলের প্রেমে পড়ে গেলো। হৃদয়ের লাফঝাঁপ, সারাক্ষণ ওই বাজে ছেলেটাকে নিয়ে ভাবনায় মগ্ন থাকা। এই ভালো মেয়েটার মনে এতো বড় সর্বনাশ ঘটিয়েছে বাজে ছেলেটা।
ইলমার ভাবনার মাঝে,আদনানের ম্যাসেজ আসে। ইলমা ফোন হাতে নেয়। তাতে লেখা, “আমার প্রেমিকনারী, আপনি অনেক ভীতু। আপনাকে আরেকটু চালাক হতে হবে।”
“তুমি তো চালাক আছো। আমি চালাক না হলেও হবে।”
“ধর, একটা বিপদে পড়লাম। আমার বুদ্ধি দিয়ে, উদ্ধার পাওয়ার জন্য তোকে কোলে নিয়ে দৌড় দিতে হবে। এখন তো তুই কোলে উঠবি না। তাহলে কীভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার পাব?”
“আমার দুটো পা থাকতে, বিপদ থেকে উদ্ধার হতে তোমার কোলে উঠে দৌড় দিতে হবে কেন?”
“এই চোপ। সবসময় বেশী জ্ঞানী সাজতে আসবি না। আমি যেটা বলেছি সেটাই সঠিক।”
“আমার মাথা। তোমার যে বুদ্ধি, ফিউচারে কপালে বাঁশ ছাড়া কিছুই নেই।”
“এই মেলিচা চুপ। আমার কথাই ঠিক।”
“এই রাগ দেখাবে না। সরো।”
“এই ছেড়ি, ঝগড়া করবি না।”
“যাহ তোর সাথে ব্রেকআপ।”
“আরেহ্, প্রেমই তো হলো না। তুই ব্রেকআপ করে নিচ্ছিস?”
“কিসের প্রেম? প্রেম একটা অশ্লীল শব্দ। এই অশ্লীল শব্দ আমার কাছে উচ্চারণ করবে না।”
ইলমার ম্যাসেজ দেখে আদনান হতভম্ব হয়ে যায়। খোঁচা মেরে বলে, “কার জেনো প্রেম করার শখ?”
“জানি না।”
“এতো রাগ কেন?”
“গুড নাইট।”
ইলমা ফোন রেখে শুয়ে পড়ে। আদনান বসে, বসে ম্যাসেজ দেখছে। আদনান ভাবছে, কী এক নিরামিষ মার্কা মেয়ের সাথে প্রেম করতে এসেছে। আদৌ প্রেম হবে তো?
★★★
সকালে আদনান রেডি হয়ে নাশতা খেতে বসেছে। বাকীরাও আছে। সবাই সবার মতো নাশতা খাওয়ায় ব্যস্ত। আদনান কিছুক্ষণ পরপর আঁড়চোখে ইলমাকে দেখছে। ইলমা নাশতা খেলেও আদনানের নজর চোখ এড়ায়নি। অনেকক্ষণ এভাবে কাটার পর ইলমা কেশে উঠে। ইনান শেখ ইলমার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেন। জিজ্ঞেস করেন, “কী হয়েছে মা?”
ইলমা পানি পান করে বলে, “নজর পড়েছে বাবা। মানুষের নজর এতো খারাপ কী বলব।”
সাথে,সাথে আদনান নজর সরিয়ে নেয়। বাকীরা ইলমার দিকে তাকিয়ে আছে। এখন কে নজর দিয়েছে? কিন্তু কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি। ইলমা ঠোঁট কামড়ে হেসে নাশতা খেতে শুরু করে।
ইনান শেখ যেতে, আদনান ইলমাকে চোখ দিয়ে ইশারা করে বলে, “বাইরে আয়।”
ইলমা পাত্তা দেয়না। আদনান দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে ইশারা করছে। আদনানের এরকম ইশারা দেখে ইলমা গলার আওয়াজ চওড়া করে বলে, “দাদীন, কই তুমি?”
ইলমার ডাকে আদনান বিরক্ত হয়। চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইলমা সেসব পাত্তা দেয়না। আদনান আশেপাশে তাকায়। কেউই নেই আশেপাশে। ঈশিতা,ফাইজা রান্নায় ব্যস্ত। দাদী,তৃপ্তি রুমে সুযোগ বুঝে আদনান ইলমার হাতটা খপ করে ধরে। মেইন ডোরের বাইরে এনে দাঁড় করায়। আচমকা আদনানের কাজে ইলমা হতভম্ব হয়ে যায়। ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকায়। আদনান ইলমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “স্যরি।”
“কেন?”
“গতকাল রাতে ঝগড়া করেছি।”
“আরেহ সরো। কেউ দেখে ফেলবে।”
“এই চোপ। আমি কী তোর সাথে রোমান্স করছি নাকী? যে কেউ দেখলে সমস্যা। কথা বলছি,কথা।”
“এ্যাই মাতাল কাজে যাও।”
“তোকে রেখে যেতে ইচ্ছে করছেনা।”
“কত বড় নজরহারাম হলে এমন কথা বলতে পারে। আমি তোমার বউ নাকী যে রেখে যেতে ইচ্ছে করছেনা। বিয়ে না হওয়া অব্দি এরকম আবদার করা যাবে না।”
“নজরহারাম কী?”
“নজর ভালো না।”
“আসতাগফিরুল্লাহ।”
কথাটা বলে আদনান বাইকের চাবি হাতে ঘরাতে,ঘুরাতে গ্যারেজের দিকে যায়। ইলমা তড়িঘড়ি ভেতরে চলে যায়। এসেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। কেউই দেখেনি। মনে,মনে আদনানকে বকা দিচ্ছে। এই ছেলের এমন পাগলামি থাকলে ধরা খেতে দুইদিন ও লাগবে না। ইলমা ভাবছে, কী এক পাগলের পাল্লায় পড়ে গেলাম।
ব্যাংকে গিয়েও আদনান ইলমাকে ম্যাসেজ দেয়। এবার ইলমা ত্যাড়া কথা বলেনি। দু’জনে সুন্দর ভাবেই কিছুক্ষণ কথা বলেছে।
★★★
দেখতে,দেখতে ইলমা তৃপ্তির এডমিশন পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। সেজন্য ইলমার প্রস্তুতি চলছে জোর দমে। রুমে বসে পড়াটা খুব কমই হয়। ব্যালকনিতে বসেই পড়ে ইলমা। পাশের ব্যালকনিতে আদনান বসে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইলমা ব্যালকনিতে থাকে। তাঁদের কথাবার্তা চলে
তবে আদনান হুটহাট পাগলামি করে। আবদার করে বসে। ইলমা সেসব তোয়াক্কা করেনা। এতো তাড়াতাড়ি ধরা খেলে খবর আছে। আদনানকে বুঝিয়ে বললে সেও সতর্ক হয়ে যায়। আদনানের ধ্যাণ জ্ঞান এখন ইলমা। ইলমার কথায় সে সবই করতে রাজী আছে।
ইনান শেখ এতো নজরদারি করেও কিছুই আন্দা করতে পারেনি। কারণ তার সামনে ইলমা,আদনানের দূরত্ব আগের মতোই পরিলক্ষিত।
ইনান শেখ সকালে, ফাইজাকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে। দু’টো দিন বাসায় থাকবেন না। আদনানের জেনো ঈদের খুশি লেগেছে।
ইনান শেখ যাওয়ার পেছন দিয়ে, আদনানও রওনা হয় ব্যাংকের উদ্দেশ্যে। যেতে,যেতে ইনান শেখকে কত বকা যে দিলো আদনান। সেই বকা দিতে,দিতে ব্যাংকের গেট দিয়ে প্রবেশ করে।
এরই ভেতর খবর আসে আদনান প্রতিযোগিতায় প্রথম ধাপে সিলেক্ট হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে সিলেক্ট হলে ফাইনালে যাবে। এতে অবশ্য আদনানের মন নেই। মিডিয়ায় ঢুকার ইচ্ছেটা মৃত প্রায়। সে তার ছোট্ট দুনিয়ায়, তার ভালোবাসার মানুষ নিয়ে সুখে থাকতে চায়। অন্য বেডিদের সাথে কাজ করার রুচি নেই। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্বিতীয় ধাপে গান দিবে না। নিজের জব আর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে।
বাসায় আসতে তৃপ্তি আদনানকে জিজ্ঞেস করে, “ভাইয়া প্রতিযোগিতায় সিলেক্ট হয়েছ?”
আদনান জবাব দেয়,”হুম।”
“জানতাম সিলেক্ট হবা। এবার সামনে এগিয়ে যাও।”
“সর! আমার এসবের ইচ্ছে নেই।”
“খারাপ কী? তুমি সেলিব্রিটি হবা,তোমার সাথে সেলফি নিয়ে ফেসবুকে আপলোড দিলেই রিয়েক্ট পাব। এমনিতে আমার আইডির রিচ ডাউন। একমাত্র তুমি, রিচ ঠিক করে দিতে পারো।”
“তোর আইডির রিচ ঠিক করা না। আইডি ডিলিট করাব আমি।”
“না থাক। তোমার সেলফি আমার লাগবে না।”
কথাটা বলে তৃপ্তি আলগোছে সরে যায়। আদনান ক্লান্ত দেহ নিয়ে সোফায় বোসে। তখন ঈশিতা পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। ইলমা এবং ইজাজ একসাথে ইজাজের রুম থেকে বেরোয়। ইজাজকে চট্টগ্রাম নেওয়া হয়নি তার এক্সাম চলছে তাই। এখন ইলমা তাকে গাইডলাইন দিচ্ছে। ইলমা দাঁড়িয়ে থাকলেও,ইজাজ এসে সামনের সোফায় বোসে। আদনান পানি পান করতে,করতে ইজাজকে বলে, “কিয়ো প্রেমিকার ভাই।”
আদনানের কথায় ইজাজ অবাক হয়। জিজ্ঞেস করে, “কোন প্রেমিকা?”
আদনান কিছু বলতে যাবে তখন তার মুখের সামনে এসে কুশন পড়ে। সামনে ইলমা রেগে তাকিয়ে আছে। আদনান কুশন হাতে নিয়ে বলে, “আরেহ্ প্রেমিকনারীর ভাই। ওইটাই সংক্ষিপ্ত করে প্রেমিকা বলেছি।”
“আপুকে এসব নামে ডাকবেনা। আমার আপু অনেক ভালো কারোর প্রেমিকা না।”
ইজাজের কথায় আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে হাসে। ইলমা মূহুর্তে, মূহুর্তে চোখ রাঙিয়ে তাকাচ্ছে। আদনান নিজের মাথার চুলগুলো পেছনে ব্যাকব্র্যাশ করে বলে, “হ্যাঁ তোর বোন অনেক ভালো। যে ভালোর তুলনা হয়না।”
“হ্যাঁ। নাম ধরে বলবে।”
“এই শালা তুই আমাকে শাসাচ্ছিস নাকী? তোর বোনের নাম শুদ্ধ করে বলতে গেলে, ” প্রেমিকনারী মেলিচা।” বুঝেছিস?”
“ইজাজ রুমে যাও। মাতালদের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করোনা।”
ইজাজ বোনের কথায় উঠে চলে যায়। ইলমা আশেপাশে তাকায়। এসেই আদনানের মাথার চুল টেনে ধরে। শাসিয়ে বলে, “তুই আমার সাথে কথা বলবিনা। তুই এমন কেন? আমি যদি ধরা খেয়েছি তো, তোর সানডে মানডে একদম ক্লোজ করে দেব।”
ইলমার থেকে নিজের মাথার চুল ছাড়িয়ে নেয় আদনান। বিরক্ত হয়ে বলে, “সাহস বেশি বেড়ে গেছে?”
“তুই আমার ভাইকে উল্টাপাল্টা শিখাচ্ছিস কেন? ও কিছু বুঝেনা?”
“বুঝে তো, তার বোন প্রেম করেনা।”
“দাদীইইই”
ইলমার ডাকে আদনান বিরক্ত হয়। জবাব দেয়, “যা দাদীর কোলে গিয়ে বসে থাক। কানের কাছে ভ্যাঁ,ভ্যাঁ করে দাদী ডাকবিনা।”
“তোর মতো বাজে লোক দুটোও দেখিনি।”
“তোর মতো ঝগড়ুটে দুটোও দেখিনি।”
“তার মানে তুই এখনো মেয়েদের দিকে তাকাস।”
“তার মানে তুই এখনোও ছেলেদের দিকে তাকাচ্ছিস।ছিঃ!”
আদনানের কথায় ইলমা জবাব দেয়,
“ছিঃ!”
আদনান ভীষণ বিরক্ত হয়। ইলমাকে পাত্তা না দিয়ে উঠে নিজের রুমে চলে যায়। এমনিতে ভীষণ ক্লান্ত সে। তারউপর ইলমা যেই ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে।
আদনান যেতে ইলমা তৃপ্তির রুমে চলে যায়। দু’জন শুয়ে,বসে গল্প শুরু করে দেয়। তাঁদের সাথে যোগদান করে দাদী এবং ঈশিতা। ইলমা ছাড়া বাকীরা সবাই আদনানের বিয়ে নিয়ে প্ল্যানিং করছে। কেমন মেয়ে দরকার। কীভাবে কী! ইলমা শুধু ভালো শ্রোতা হয়ে সবার কথা শোনছে। ইলমাকে চুপচাপ দেখে তৃপ্তি ধাক্কা দিয়ে বলে, “তুই বল? আদনানের জন্য কেমন মেয়ে পারফেক্ট?”
“আদনানকে জিজ্ঞেস কর। ওর যেমন মেয়ে পছন্দ তেমনই হয়ত পারফেক্ট।”
“না,না। গেলে ধমক দিবে।”
“তাহলে প্ল্যানিং করতে থাক। আমিও শুনি।”
তখন ঈশিতা বলে, “আদনানের কাছে কে মেয়ে বিয়ে দিবে? আর কোন মেয়েই বা ওকে বিয়ে করবে?”
ঈশিতার কথায় সবাই থমথমে মুখ করে তাকায় তার দিকে। ফরিদা পারভীন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আমার নাতি যেই ডহের। চাঁদের মতো মুখ মেয়ের অভাব পড়ব বুঝি? তোমার চোখে সমস্যা নাকী? দেখো না আদনানের জন্য কত মেয়ে পাগল।”
“আরেহ দাদী জেঠিমা ঠিকই বলেছে। ওকে কোন মেয়ে বিয়ে করবে? আমার নিজেরও মাথায় আসেনা।”
ইলমার কথা শেষ হতে তৃপ্তি দাদীর পক্ষ নিয়ে বলে,”আরেহ আমার ভাইয়ের মতো বর কেউ পাবে নাকী?”
“মেয়েদের জন্য অভাব পড়বেনা।”
মুখ বাঁকিয়ে বলে ইলমা।ঈশিতা ইলমাকে নিজের দলে দেখে ভীষণ খুশি হয়। এদিকে দরকার কাছে বুকে হাত গুঁজে সবার কথপোকথন শুনছে আদনান। ইলমার পুরো কথাই সে শুনেছে। সবাই তার উপস্থিতি টের পেয়ে যখন তাকায়। ইলমা তখন ঢোক গিলে।
#চলবে
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

