#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪২|
#শার্লিন_হাসান
আদনান
ইলমার কাছাকাছি ঘেঁষে বলে, “শাদী মোবারক মিসেস শাহরিয়ার আদনান শেখ।”
বিনিময়ে ইলমা কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বিয়েশাদির পর্ব শেষ হতে, আদনান উঠে দাঁড়ায়। নির্মাণ,শেজানকে সাইডে এনে বলে, “বাইরে যাব।”
আদনানের কথায় শেজান শুধায়, “এখন গিয়ে কী করবি?”
“বিয়ে করেছি, অথচ বউকে একটা শাড়ি আর দুমুঠো চুড়ি ছাড়া কিছুই দিতে পারলাম না। কিছু গোল্ড কিনব।”
আদনানের কথায় নির্মাণ হেঁসে আওড়ায়, “তোর শ্বশুরকে নিয়ে যা। তার পছন্দে গোল্ড কিনে আনিস।”
“ওনার ঘুম এখনো ভাঙেনি। আমি যে মেয়ে বিয়ে করে নিয়েছি, বোধহয় টের পায়নি। টের পেলে কী করবে কে জানে!”
“আয়হায়!”
শেজানের কথায় আদনান হাসে। তিন বন্ধু মিলে কথায় ব্যস্ত। তারেক মাহমুদ জানান, “সবাই মিলে ডিনারটা রেস্টুরেন্টে করবে। বাসায় রান্নাবান্নার ভেজাল করার দরকার নেই।”
আইডিয়াটা, সবার কাছে বেশ পছন্দ হয়। আদনান নির্মাণ এবং শেজানকে নিয়ে বেরোয়। নয়টার দিকে বাকীরাও যাবে। আদনান যেতে ইলমা খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে। সাধারণ সাজে সে, কারোর বউ হয়েছে। কী সুন্দর এবং স্নিগ্ধময় ব্যপারটা। এই হালকা সাজসজ্জা, খুব কম খরচের বিয়ে ব্যপারটা স্বপ্নের মতো ছিলো। ইলমা কখনো ভাবেনি এরকম হুটহাট বিয়ে হবে। দু’টো দিন সময় নিয়েও তো বিয়েটা করতে পারত। কিন্তু আদনানের এতো ধৈর্য নাই। ইনান শেখের সম্মতি আছে,ইলমা রাজী মানে আজকেই তিন কবুল।
অবশেষে সে, জেহেরা ইলমা ম্যালিসা থেকে মিসেস শাহরিয়ার আদনান শেখ হয়ে গেলো। সদরঘাটের প্রেমিকনারী থেকে আদনানের প্রেমিকনারী। জার্নিটা খুব একটা সহজ ছিলোনা। দূরত্ব, ঝুটঝামেলা সব মিলিয়ে দুজনের দু-হাত মিলে চার হাত হয়েছে।
আদনান গোল্ডের দোকান থেকে একটা চেইন এবং ছোট্ট একজোড়া কানের দুল নিয়েছে। ইলমার নাক ফুটা করেনি, সেজন্য নাক ফুল নেয়নি। এই ছোট্ট দু’টো জিনিস কিনেই আদনান বেশ শান্তি পেলো। জব করে যা টাকা পেতো, সব খরচ করেনি। এছাড়া আগে তারেক মাহমুদের থেকে টাকা পয়সা যখন যা চেয়েছে, সেরকম এমাউন্টও পেয়েছে। এর মধ্যে কোন মাসে সব খরচ করেছে, কোন মাসে জমিয়েছে। মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেও ভালো এমাউন্টে টাকা পেয়েছে। সব মিলিয়ে তার জমানো টাকার সংখ্যা, ক্ষুদ্র তবে তার কাছে অনেককিছু।
তিন বন্ধু গোল্ডের দোকান থেকে বেরুতে, শেজান এবং নির্মাণ ফুলের দোকানে যায়। আদনান এবং ইলমার জন্য রুম সাজাবে তারা। আদনান এসেই কিছু লাল গোলাপ ফুল দিয়ে ছোট্ট একটা তোড়া বানিয়ে নেয়।
নির্মাণ, শেজান ফুল কিনেছে। তিন বন্ধু মিলে রওনা হয় রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে।
সবাই মিলে পনেরোজনের মতো। খোলামেলা একটা রেস্টুরেন্টে এসেছে। খুব একটা ভীড় নেই। বাইরে চাউনির মতো করে বসার জায়গা। সেখানে বসে আড্ডা দেওয়া যাবে। বড়রা সবাই ভেতরে। ইলমাও তাঁদের সাথে আছে। আদনান বাকীদের নিয়ে ভেতরে যায়। ইলমা তার বাবার পাশের চেয়ারে বসা। আদনান আসতে, ইলমার পাশের চেয়ার ছেড়ে দেয় তৃপ্তি। ইলমা আদনানের দিকে একনজর তাকিয়ে, দৃষ্টি গুছিয়ে নেয়। ইনান শেখ মুখে হাত দিয়ে বসে আছেন। আদনান ইলমার পাশে বসে। টেবিলের নিচে ইলমার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে সামনে তাকায়। ইলমা আদনানের দিকে তাকায়। হাত ছাড়ানোর জন্য নাড়াচাড়া দিলে, আদনান ছাড়েনা। উল্টো সবার সাথে কথা বলায় ব্যস্ত সে। ইনান শেখ ইলমার দিকে তাকিয়ে বলেন, “খাবার আসতে দেরি হবে, তোমার জন্য বাইরে থেকে কিছু আনব?”
ইলমা অন্য হাত দিয়ে, আদনানের হাতে চিমটি কাটলে, আদনান হাত ছেড়ে দেয়। ইলমা দু’হাতে টেবিলের উপর রেখে শ্বাস নেয়। ইনান শেখের দিকে তাকিয়ে বলে, “না, কিছু লাগবেনা।”
আদনানের ঠোঁটের কোণ থেকে হাসি সরছেনা। সবার নজরে আসে সেই হাসি। দেখে মনে হচ্ছে, কতজনমের জমিয়ে রাখা ভালোবাসা সাধন করেছে।
সবাই মিলে ডিনার শেষ করে। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে, আর দেরি করেনি। বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়ে যায়। আদনান বাইরে বপরোয়। বাইকের সামনে আসতে ইলমাকে দেখে বলে,
” বাইকে উঠ। সবাই চলে যাক, তোকে নিয়ে একটু ঘুরে এরপর আসবে।”
ইলমা নাকমুখ কুঁচকে জবাব দেয়, “সবার সামনে তোর বাইকে উঠতে পারব না।”
“কীরে শালী, বিয়ের আগে তো ভালোই ছিলি। এখন দেখি তুই শব্দটা ঠোঁট থেকে সরছেইনা।”
“যতদিন তোর শালী বলা বন্ধ না হচ্ছে, ততোদিন আমারও তুই বলা বন্ধ হবেনা।”
“বাইকে বোস।”
তখন ফরিদা পারভীন বলেন, “নতুন বউ, রাত বিরাতে ঘুরার দরকার নাই। খারাপ বাতাস লাগলে পরে সমস্যা হবে।”
আদনান এসব কুসংস্কার কখনো বিশ্বাস করেনা। তারপরেও জোর দেয়নি। ইলমাও আদনানের বাইকে উঠার আগ্রহ দেখায়নি। সে তার বাবার কারে করে বাড়ি এসেছে। আদনান, নির্মাণকে নিয়ে বাইক চালিয়ে এসেছে। মনে,মনে ইলমাকে কতশত বকেছে। বিয়ের পর জেনো আদনানকে চিনেইনা। অথচ বিয়েটা তার সাথেই হলো। জনসম্মুখে এতো এড়িয়ে যায়, ঠিকই তো তার সাথে এক রুমে থাকবে,ঘুমাবে।
আদনানের মুখের অবস্থা দেখে নির্মাণ শব্দ করে হাসে। পুরোটা পথ মজা নিয়েছে আদনানের সাথে।
বাড়িতে আসতেই বন্ধুমহলের সবাই আদনানের রুম দখল করে নেয়। ইলমা নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েছে। ভীষণ ক্লান্ত সে। বাকীরা লিভিং রুমে গল্প গুঁজবে মেতেছে। ইলমার রুমে, ইজাজ বসে ফোনে গেমস খেলছে। ইলমা বালিশে মাথা লাগিয়ে দিতে ঘুমের ঝংকার চলে আসে।
আধঘন্টার মতো সময় নিয়ে সাধারণ ভাবেই রুম সাজিয়েছে তারা। বারোটা বেজে গেছে অলরেডি। নিশাত,রাহা থেকে যাবে। নির্মাণ, শেজান চলে যাবে। তৃপ্তি সবার জন্য চা বসিয়েছে। নির্মাণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রোল করছে। আদনান সোফায় বসে, ফোনে মগ্ন। এখনো রুমে আসার তাড়া নেই তাঁদের। তৃপ্তি সবার জন্য চা নিয়ে আসে। চা পান করে, ইনান শেখ রুমে চলে যান। ঈশিতা,তারেক মাহমুদও পেছন দিয়ে চলে যান। সবারই ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে। নিশাত,রাহা আদনানের সাথে কিছুক্ষণ ইয়ার্কি করে। তৃপ্তি এবং ফরিদা পারভীন যায় ইলমার খোঁজে। এসে দেখে সে গভীর ঘুমে তলানো। ইলমার অবস্থা দেখে তৃপ্তি এবং ফরিদা পারভীন শব্দ করে হাসে। ইলমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলতে ইলমা বিরক্ত হয়। রাগ দেখিয়ে তৃপ্তিকে বলে, “তোর ভাইকে বল শুয়ে পড়তে। আমি আজকে আমার রুমেই ঘুমাচ্ছি।”
“আরেহ ভাই চল। টাকা নিয়ে ঘুমাতে যাব।”
ফরিদা পারভীন ইলমাকে টেনে তোলেন। ইলমা ঝিমিয়ে উঠে দাঁড়ায়। দুকদম এগুতে ফরিদা পারভীন ডেকে বলেন, “ছেড়ি, আজকে তো সাজলি না। এখন হাতমুখ ধুয়ে, একটু সাজ। আমার নাতি কী এতোই ফালা গেছে?”
“বুড়ি, তুমি সেজে নাতির কাছে যাও। ঘুম বাদ দিয়ে, এতো প্রেম নাই।”
“আমার বয়স শেষ। যুবতী থাকতে তোদের দাদাকে কম নাচাইছি নাকী? যাহ বেডি, রেডি হইয়া আয়। এর আগে রুম থেকে বেরুবি না।”
ইলমা মুখ ভেংচি কাটে। ওয়াশরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে আসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হালকাপাতলা সাজে। তার সাজসজ্জা তদারকির হতে, হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। তৃপ্তি এবং রাহা এসে ইলমা নিয়ে রুমে চলে যায়। খাটের উপর বসিয়ে দিয়ে, দু’জন রুমের দরজার সামনে আসে। বন্ধুমহলের চার সদস্য, সাথে আছে তৃপ্তি, তাঁদেরকে তাঁদের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে আদনান রুমে এসেই দরজা লাগিয়ে দেয়। ইলমা আদনানকে দেখে নজর সরিয়ে নেয়। বুকের ভেতর তোলপাড় হচ্ছে। কেমন নার্ভাস ফিল হচ্ছে। এই সেই বাজে ছেলেটা? যে একসময় মেয়েদের ইভটিজিং করতো,ক্লাবে নাচত! সেই বাজে ছেলেটা বিয়ে করেছে? আদনান সোফায় বোসে। দূর থেকে ইলমাকে একনজর দেখে। ইলমা নড়েচড়ে বসে। আদনানের উপর রাগ হচ্ছে। এদিকে তার ঘুমের ঘোরে চোখ দেখতে পাচ্ছেনা, অন্যদিকে আদনান সঙ সেজে বসে আছে। আদনান ইলমার বিরক্তি টের পেতে উঠে দাঁড়ায়। এগিয়ে এসে ইলমার সামনে বসে। একনজর ইলমাকে দেখে। টেবিলের পাশে থাকা ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে,ইলমার দিকে এগিয়ে দেয়। আমতাআমতা করে বলে, “শাদী মুবারক প্রেমিকনারী।”
ইলমা ফুলগুলো হাতে নিয়ে জবাব দেয়, “দোয়া করি, বিবাহিত জীবন সুখী হোক আপনার। বউকে অনেক বেশি ভালোবাসুন এবং ঝগড়া করা বন্ধ করুন।”
ইলমার কথায় আদনান হাসে। জবাব দেয়, “ভালোবাসি তো! অনেক বেশি ভালোবাসি।”
“সে জানি! কেমন ভালোবাসেন।”
“আমি সিরিয়াস হয়ে কথা বলছি।”
“আমিও।”
ইলমার ত্যাড়া জবাবে আদনান উঠে দাঁড়ায়। ইলমার ঘোমটা সরিয়ে দিয়ে বলে, “আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বল।”
ইলমা তাকা আদনানের চোখের দিকে। ইলমার এরকম ত্যাড়ামী দেখে আদনান বিরক্তিতে নাকমুখ কুঁচকে নেয়। নজর সরিয়ে বলে, “আমার প্রতি রাগ কমেনি তোর?”
“কিসের রাগ?”
“ত্যাড়া কথা বলবিনা।”
ইলমা জবাব দেয়না। পা ছড়িয়ে দিয়ে শুয়ে পড়তে আদনান তড়িঘড়ি এসে হাত ধরে বলে, “এখনি ঘুমিয়ে যাবি?”
“তো কী করব? সরো, আমার ঘুম আসছে।”
আদনান মুখটা গম্ভীর করে নেয়। ইলমাকে ইশারায় বসতে বলে।
আদনান পাঞ্জাবির পকেট থেকে বক্স বের করে ইলমার সামনে ধরে। ইলমা বক্সের দিকে নজর দিতে দেখে, একটা চেইন এবং ছোট্ট একজোড়া কানের দুল আছে। সিম্পলের মধ্যে বেশ সুন্দর দুলগুলো। ইলমা সেদিকে তাকিয়ে বলে, “তুমি পছন্দ করেছ?”
“কেন খারাপ?”
“খারাপ কখন বললাম?”
“আয় তোকে পড়িয়ে দেই।”
ইলমা অগ্রসর হয়। মাথার দোপাট্টা খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইলমার তাড়াহুড়ো দেখে আদনান এগিয়ে আসে। দোপাট্টার ক্লিপ যত্ন সহকারে খুলে দিতে, ইলমা সেটা সাইডে সরিয়ে রাখে। নিজের কানে থাকা ছোট্ট গোল্ডের টপ দু’টো খুলে বক্সে রাখে। আদনানের দেওয়া দুলগুলো কানে পরে নেয়। আদনান ইলমাকে টেনে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড় করায়। ইলমা নিজেকে পুনরায় পরখ করে। সাধারণ একটা লাল শাড়ি, দু’হাতে লাল চুড়ি,কানে ছোট্ট দুল। পাশে শুভ্র রঙের পাঞ্জাবি পড়া একজন পুরুষ দাঁড়ানো। একমূহুর্তের জন্য এই দৃশ্যটা ভীষণ সুন্দর লাগলো ইলমার কাছে। নিজেকে নতুন রুপে আবিষ্কার করলো। কারোর অর্ধাঙ্গিনী রুপে। আদনান ইলমার খালি গলায় নিজের আনা চেইনটা পড়িয়ে দেয়। চেইনের মাঝ বরাবর ছোট্ট ডিজাইন দিয়ে A লেখা। আদনান নিজেও আয়নায় দেখে। নিজের পাশে নতুন বউ রুপে নিজের পছন্দের মানুষ। হৃদয়ের অধীনস্থে থাকা ভালোবাসার মানুষ। যাকে নিজের করে পাওয়ার একবুক আশা এবং আকাঙ্খা ছিলো। আজকে সেই মানুষটা তার হয়েছে।
কিছু মূহুর্ত যাওয়ার পর আদনানের কল আসতে দু’জনের ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায়। আদনান বিরক্ত হয়ে ফোন হাতে নেয়। আননোন নাম্বার দেখে আপাতত কল রিসিভ করেনি। ইলমা ধীর পায়ে হেঁটে খাটের সামনে আসে। ফুল দিয়ে সজ্জিত খাটে উঠে বসে। দেওয়ালের পাশের বালিশে মাথা লাগিয়ে দেয়। আদনান লাইট অফ করে ইলমার পাশে শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর ইলমা ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে। ইলমাকে উঠতে দেখে আদনান টেবিল ল্যাম্প জ্বালায়। ভ্রু কুঁচকে বলে, “কী সমস্যা?”
“কম্বল দাও।”
“এটার জন্য এমন করা লাগে?”
“আমার মনে ছিলোনা, আমি যে শাড়ি পরেছি।”
“তো?”
“তো আবার কী? আমি শাড়ি সামলাতে পারিনা। ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি, শাড়ি আমার সাথে নেই।”
“তাতে কী? আমার অধিকারের জিনিস আমার রুমে এসে অন্য কেউ দেখবেনা।”
“মুখ সামলে।”
আদনান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলে, “তুই চাইলে, আজকে আমি তোর শাড়ি খোলার কাজে হেল্প করতে পারব।”
ঠাস করে থাপ্পড় বসে যায় হাতে। আদনান হাসি থামিয়ে বলে, “সাহস বেশি বেড়ে গেছে? বাসর ঘরে বসেও মারামারি করছিস, মানুষ শোনলে কী বলবে? আজকের বিয়ের দিনেও যে তুই আমার মাথায় এলার্ম-ঘড়ি ছুঁড়ে মেরেছিস ভুলে গেছিস? এখনো মাথাটা ব্যাথা হয়ে আছে।”
“কম্বল এনে দাও।”
“লাগবেনা।”
“এহহহ।”
“তুই শাড়ি পরতে পারিস না?”
“যেভাবে বলছ, মনে হয় তুমি কত পারো।”
ইলমার কথায় আদনান বাঁকা হেঁসে জবাব দেয়,
“শাড়ি পড়িয়ে দিতে পারিনা, তবে খোলতে পারি। তুই চাইলে আমি, শাড়ি খোলার প্রতিভা প্রকাশ করতে পারব।”
“তুই থাক। আমি আমার রুমে চলে যাচ্ছি।”
“সাহস থাকলে যা।”
“সত্যি চলে যাব।”
“গিয়ে তো দেখা।”
ইলমা উঠে দাঁড়াতে গেলে আদনান ধমকে বলে, “ত্যাড়ামী ছেড়ে ভালো মানুষ হো।”
ইলমা থেমে যায়। আদনান উঠে কম্বল এনে ইলমার মুখ বরাবর ছুঁড়ে মারে। চোয়াল শক্ত করে বলে, “নাটকবাজ।”
কথাটা শেষ করেই লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে। ইলমা কম্বল গায়ে জড়িয়ে পাশ ফিরে শোয়। আদনান কপাল স্লাইড করছে। ইলমার কোন টু শব্দও নেই। মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। আদনানের মনে কষ্ট জমে পাহাড় হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের দিন, বউয়ের ইগনোর সহ্য করতে হলো। এখন তো আশেপাশেও ঘেঁষছে না। ইলমা ভীষণ লাজুক ভাবতেই আদনান বিরক্ত হয়।
#চলবে
(স্যরি গাইজ, রোমান্স লিখতে লজ্জা লাগে। সেজন্য লিখছিনা।🙃)
আদনান ইলমার বই “বুকপকেটের মায়াবিনী” অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন বুকলেট পেজে। পেজ লিংক,
https://www.facebook.com/share/1AKGvBibLx/
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

