#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪১|
#শার্লিন_হাসান
(বিয়ে স্পেশাল❤️)
আদনান ফারিশের চুল টেনে ধরতে ফারিশ জবাব দেয়, “হ্যাঁ, আমি সেদিন তোর আর ইলমা ছবি তুলেছি। ফুল পড়ানোর সময়কার ভিডিও করেছি। ইনান শেখকে আমি তোদের ছবি,ভিডিও পাঠিয়েছি।”
“আর কী,কী করেছিস?”
ফারিশ ছটফট করে আদনানের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। আদনান, ফারিশের নড়াচড়া দেখে শক্ত করে ফারিশের দুগাল চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “খনিকেরপোলা আজকে তুই শেষ।”
“বলছি।”
আদনান দুগাল ছেড়ে দিতে, ফারিশে জোর,জোরে শ্বাস নেয়। বলা শুরু করে, “ইনান শেখ তোকে পছন্দ করেনা ঠিক আছে, তবে অতিরিক্ত অপছন্দ করার কারণ আমার বলা কথা।”
“তার আদরের ফারিশ যে, মেয়েদের সাথে কনসার্টে গিয়ে ঢলাঢলি করে সেটার খবর রাখে তো?”
“বাজে কথা ছাড়।”
আদনান এগিয়ে আসে। ফারিশকে উপরনিচ পরখ করে বলে, “বিয়ের কয়মাস হলো?”
“কার বিয়ে?”
“তোর।”
“বাজে কথা ছাড়।”
“প্রমাণ আছে।”
“তাতে আমার বাল ছিঁড়া গেলো। একটা ছেলে দু’টো বিয়ে করতেই পারে।”
কথাটা বলে ফারিশে সরে আসে। আদনান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ে। নিজের রাগকে সংযত করে। ফারিশে দরজার কাছে আসতে আদনান, ফারিশের মাথা দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “শূয়রের ছাওয়াল, আমার প্রেমিকনারীর থেকে একশহাত দূরে থাকবি। নিজের বউ নিয়ে সুখে থাক। খামোখা আমাকে রাগাস না। জান বের করে নেব।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে পুনরায় বলে, “এই বাড়ির আশেপাশে বিয়ের কথাবার্তা নিয়ে আসলে, তোর বাপের মতো তোরও একই পরিণতি হবে।”
ফারিশ জবাব দেয়না। আদনানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। নিচে চলে আসে। ফারিশের পেছন দিয়ে, আদনানও আসে। ফারিশ সেদিন আর কারোর সাথে দেখা করতে ভেতরে যায়নি। নিজের মার খাওয়া শরীর নিয়ে ভালো,ভালোয় কেটে পড়ে।
সন্ধ্যায় সবাই যখন একসাথে বসেছিল, তখন ফাতিহা কল দিয়েছে ইনান শেখের ফোনে। সবার সামনেই কল রিসিভ করে কথা বলে ইনান শেখ। টুকটাক খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করা হতে, ফাতিহা বলে, “দুইদিন পর এনগেজমেন্ট হবে। খুন শীঘ্রই বিয়ের ডেট রাখব।”
ইনান শেখ জবাব দেন, “আমার মেয়ের মত নেই। এতো তাড়াহুড়োর কিছু হয়নি। ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেব না আমি।”
“আমার ইলমার কাছে ফোনটা দাও।”
ইনান শেখ ইলমাকে ফোন এগিয়ে দেয়। বলে, “তোমার ফুফু কথা বলবে।”
ইলমা ফোন নেয়। সালাম দিয়ে খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করে। ইলমা ফোন লাউডস্পিকারে দেয়। ফাতিহা ইলমার খোজ নিয়ে বলে, “মা ইলমা, ফারিশকে তোমার পছন্দ হয়নি?”
ইলমা সবার দিকে একনজর তাকায়। আদনানের দৃষ্টি ইলমার দিকে স্থির। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ইলমা জবাব দেয়, “আপনার ছেলের মতো অতিরিক্ত সুশীল ছেলেকে আমার পছন্দ না। আর না, তাকে বিয়ে করতে রাজী আমি। একটা কথা মনে রাখবেন, মনুষ্যত্ব না থাকলে মানুষ পশুর চেয়েও অধম। সবার পছন্দের দামী হীরে আমার প্রয়োজন নেই। আমি খাটি কয়লাতেই খুশি।”
ইনান শেখ মেয়ের কথায় ভীষণ অবাক হয়েছেন। এটা সেই ইলমা তো? আজকাল মেয়ে বেশ স্পষ্টবাদী হয়ে উঠেছে। আদনান মুখের সামনে হাত দিয়ে হাসি নিভিয়ে রাখছে। তারেক মাহমুদ ইলমার দিকে তাকিয়ে আছেন। ইলমা সবার উপস্থিতি লক্ষ্য করে। ফাতিহা শেখ ইলমাকে বলেন, “তোমার তো মা নেই। ভেবেছিলাম, পুতবঁধূকে মেয়ের মতো করব।”
“যাদের মা নেই তারা দিব্যি বেঁচে থাকে। আমি ছিলাম,আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। কারোর কৃত্রিম ভালোবাসা আমার প্রয়োজন নেই।
থেমে,
ভালো থাকবেন।”
ইলমা কল কেটে দেয়। ইনান শেখ চুপচাপ স্থান ত্যাগ করেন। ইলমা তার বাবার যাওয়ার দিকে তাকায়। আদনান ইলমার দিকে একনজরে তাকিয়ে আছে। অনেকদিন পর ইলমাকে মন ভরে দেখছে সে। ফর্সা মুখশ্রীর একপাশটা কালো হয়ে বটে গেছে। দুহাতের চামড়াও কুঁচকে গেছে। ইলমা উঠে চলে যায়।
রুমে আসতেই আননোন নাম্বার থেকে ইলমার ফোনে কল আসে। রিসিভ করলে ফারিশের কন্ঠস্বর শোনা যায়। ইলমা চোয়াল শক্ত করে বলে, ” আমাকে কল দিয়েছিস কেন? জুতোর বারি দুটোতে মন ভরেনি? আরো দু’টো লাগবে?”
“কুল বেইব। আমি যা বলছি মন দিয়ে শোন।”
“সময় নেই।”
★★★
ইনান শেখ রুমে আসতে ফাতিহার কল আসে। ইনান শেখ কল রিসিভ করলে ফাতিহা বলে, “ভাইয়া ইলমাকে রাজী করাও। আমার অনেক আগের শখ, ইলমাকে ছেলের বউ বানাব।”
“ইলমা রাজী না এই সম্পর্কে।”
“তোমারও তো ইচ্ছে, ওকে ফারিশের মতো ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়া। তুমি ওকে বুঝাও?”
“ও রাজী না ফাতিহা। আমার কিছু বলার নেই।”
“ইলমা তো এমন না।”
“যেমনই হোক। এই চিন্তা সরাও মাথা থেকে।”
“ওকে বুঝাও! দেখো একে তো চেহারার বাজে অবস্থা। তারউপর সম্মন্ধ ফাঁকা হয়ে আছে। অন্যান্য ছেলেরা তো রুপ খোঁজবে তাইনা? দেখতে এসেও দু’চারটে কথা শোনাবে। এখানে তো নিজের ফুফু। আচ্ছা ধরো, অন্য জায়গায় বিয়ে হলো। বর মন মতো হলোনা। চারদিন গিয়ে পাঁচ দিনের দিন তো খোঁটা দিবে তাইনা? এটার কী ভরসা যে আলুথালু করে মাথায় তোলে রাখবে?”
ফাতিহার কথায় ইনান শেখ জবাব দেয়না। সত্যি তো! ফাতিহার কথা ভুল কিছুনা। ইনান শেখ কিছুক্ষণ দম নিয়ে বলে, “আমি কথা বলছি ইলমার সাথে।”
ইনান শেখ কল কেটে ইলমার রুমের দিকে যায়। নক করে ভেতরে গেলে, ইলমা বাবাকে দেখে বসতে বলে। ইনান শেখ ইলমার দিকে তাকান। ইলমা মেঝেতে দৃষ্টি স্থির করে রেখেছে। ইনান শেখ ইলমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “ফারিশ ছাড়া অন্য কোন পছন্দ আছে তোমার?”
ইলমা না বোধকে মাথা নাড়ায়। তবে চটজলদি বলে, “থাকলে তুমি তার সাথে আমার বিয়ে দিতা নাকী?”
“আমার পছন্দ হলে অবশ্যই দিতাম। যাই হোক, তোমার যেহেতু পছন্দ নেই সেখানে এসব বলেও লাভ নেই।”
“কিছু বলবে?”
“ফারিশকে নিয়ে তোমার কী সমস্যা?”
ইলমা চুপ হয়ে যায়। ফারিশের আসল রুপটা বলে দিবে? ভিডিও দেখাবে? ইলমাকে চুপ থাকতে দেখে ইনান শেখ বলেন, “ফারিশ ভীষণ ভালো ছেলে। তোমার ফুফুরও ইচ্ছে তোমাকে বউ করা। দেখো, বাবা তোমার ভালো চেয়ে সবটা করছি।”
ইলমা জবাব দেয়না। ইনান শেখ হেঁসে বলেন, “বাবার উপর ভরসা নেই?”
ইলমা জবাব দেয়না। ইনান শেখ মেয়ের থুতনিতে হাত রেখে বলেন, “আগামী কালকে ওদের আসতে বলছি।”
“এখন তুমি আসতে পারো।”
ইনান শেখ বেরিয়ে আসেন। ইলমা ছুটে ব্যালকনিতে চলে যায়। আকাশের দিকে তাকায়। মূহুর্তে বুকটা হু হু করে উঠে। না চাইতেও চোখ বেয়ে নোনাজল টলটল করে পড়তে থাকে। ইলমা ফ্লোরে দপ করে বসে পড়ে। চিন্তায় মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। কারোর কাছে সবটা খুলে বলতে পারলে মনটা খুব হালকা হতো। সে জানেনা ফারিশ ঠিক কী করতে চাইছে। ইলমা পাশের ব্যালকনিতে তাকায়। সেটা তৃপ্তির রুমের ব্যালকনি। আগে আদনানের সাথে পাশাপাশি ছিলো। বাসা চেঞ্জের সময় আদনান তার রুমের পাশের রুমটা নেয়নি। আজকাল তার দেখাও পাওয়া যায়না।
এতো ভালোবাসে তো দূরে সরে থাকছে কেন? সে কী টের পায়না ইলমার নিরব আর্তনাদ। সে কী ইলমার চোখে জমে থাকা ব্যাথা উপলব্ধি করতে পারেনা? এতো কীসের রাগ, অভিমান? দূরে থাকার প্রতিযোগিতা?
সকাল থেকেই রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে। ইনান শেখের কথা মতো রান্নাবান্না হচ্ছে বাড়িতে। আজকে ইলমার এনগেজমেন্ট হবে এই খবর আদনান ছাড়া সবাই জানে।
ফাইজা এসে ইলমার শাড়ি দিয়ে যায়। যেটা কিনে এনেছিল। ইলমার শাড়িটা দেখেই রাগ উঠে যায়। ব্যাগ থেকে বের করতে আরো বেশি রাগ হয়। হাত নিয়ে রাগে ছুঁড়ে মারে দরজার দিকে। ইলমার ছুঁড়ে মারা শাড়িটা গিয়ে আদনানের মুখের উপর পড়তে মুখ ঢেকে যায়। ইলমা আদনানকে দেখে আরো বিরক্ত হয়। কাঠকাঠ গলায় বলে, “কারোর রুমে আসতে পারমিশন নিতে হয়। জানো না?”
“এই চোপ। আজকে বিয়ে দিলে কালকে শ্বশুর বাড়ি চলে যাবি। এতো রুম,রুম করছিস কেন? ভবিষ্যতে এই রুমে আমার বউ আর বাচ্চারাই রাজত্ব করবে। তুই তখন কোথাকার কে?”
ইলমার প্রচন্ড রাগ হতে, হাতের কাছে থাকা এলার্ম-ঘড়ি আদনানের কপাল বরাবর ছুঁড়ে মারে। শক্ত ঘড়ি গিয়ে আদনানের কপালে লাগতে আদনানের হাত চলে যায় কপালে। ভীষণ ব্যাথা পেয়েছে। ইলমার এরকম রেগে যাওয়া,পাগলামিতে আদনান অসন্তোষ প্রকাশ করছেনা। বরং মনের অজান্তে হাসে। ইলমা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে, “রুম থেকে বের হও। একটাও বাজে কথা বলবেনা।”
“খোদা, এই মেয়ের বরকে তুমি রক্ষা করিও। নাহলে বেচারা দুইদিনে মারা পড়বে।”
“তাতে কার বাপের কী?”
“এই শালী তুই বাপ টানছিস কেন?”
“একশবার টানব। তাতে কার বাপের কী?”
“আয়হায়! শালীর প্রেমিকের সাথে ঝগড়া চলছে নাকী?”
আদনানের গা জ্বালানো কথায় ইলমা ফোঁস করে উঠে। আদনানকে রেখেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আদনান ইলমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে, “কী অভদ্র মেয়ে! মানুষ রুমে গেলে বসতে দেয়, আর এই মেয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।”
আদনান ফ্লোরে পড়ে থাকা নতুন শাড়িটা হাতে নেয়। ব্যাগে ঢুকিয়ে ইলমার কাবাডের উপর ছুঁড়ে মারে। বিরক্ত হয়ে রুম থেকে বেরোয়।
দুপুরে ফাতিহা একাই এসেছে। বাকীরা অবাক হয়। পাত্র ছাড়া কিসের এনগেজমেন্ট। ইলমা রাগে গিজগিজ করতে,করতে সোফায় বসে। শাড়িটারি পড়েনি। নরমাল থ্রি-পিস পড়ে এসেছে। ফাইজা,ফরিদা পারভীন মিলে শাড়িটা খুঁজেছে কিন্তু পায়নি। ইলমা নিজেও জানেনা শাড়িটা কোথায়।
খাওয়াদাওয়া শেষ হতে ইনান শেখ ফাতিহাকে বলে, “ফারিশ কোথায়?”
“কাজ পড়েছে। সমস্যা নেই, আমরা আমরাই তো।”
ইলমা বিরক্ত হয়। আদনান সাদা পাঞ্জাবি পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, এনগেজমেন্টটা তারই হবে। ফাতিহা আংটি বের করে। ইলমার দিকে তাকিয়ে একগাল হাসে। কিন্তু ইলমা তাকায়না। আদনান দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে দেখছে। তখন ইনান শেখের কল বেজে উঠে। ফারিশ কল দিয়েছে। ইনান শেখ হাসিমুখে কল রিসিভ করতে, ফারিশ সালাম দেয়। ইনান শেখ সালামের জবাব দিয়ে ফোন লাউডস্পিকারে দেয়। তখন ফারিশ বলে, “আম্মু কোথায়?”
“ইলমা পাশে বসা।”
“শেখ নিবাসে গিয়েছে?”
“কেন তুমি জানো না?”
“না। কেন গিয়েছে?”
“আজকে তো এনগেজমেন্ট তোমার আর ইলমার তুমি আসোনি কেন?”
“আমি কোন ইলমাকে বিয়ে-শাদি করতে পারব না। আর আপনার অসুন্দর মেয়েকে বিয়ে করবে কে? এতো সুন্দর মেয়ে থাকতে এসিডে কুঁচকানো,কালো চামড়ার মেয়েকে আমি ফারিশ বিয়ে করব? শুধু আমি কেন, কোন রুচি সম্পন্ন ছেলেই ওকে বিয়ে করবেনা। মাফ চাই। আম্মুকে বলবেন চলে আসতে।”
ফারিশের কথা শেষ হতে ইনান শেখ কলটা কেটে দেন। রাগে মুখশ্রীর রঙ পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফাতিহা অবাক হয়েছে ছেলের কথায়। যে ছেলে তাকে পাঠালো, সেই বলছে কিছু জানেনা। আদনান সোফায় বসে ইনান শেখকে দেখছে। আগুন লেগেছে ভালোই। ইলমা আর একমুহূর্তও বসেনি। সোজা উঠে চলে আসে। ইনান শেখ মেয়ের যাওয়া দেখছে।
আদনান তারেক মাহমুদকে কনুই দিয়ে গুঁতা দেয়। তারেক মাহমুদ ছেলের ইঙ্গিত পেয়ে সজাগ হয়ে যান। ফাইজা রেগে ফুঁসে উঠেছে। ভাব এরকম, ফাতিহা মুখ খুলবে তো ফাইজা ডিটারজেন্ট ছাড়া ধুয়েমুছে দিবে। ইনান শেখের কথা হারিয়ে গেছে। তারেক মাহমুদ গম্ভীর কন্ঠে বলেন, ” আমাদের মেয়ে যথেষ্ট সুন্দর। অন্য কোথাও বিয়েশাদি দিয়ে দূরে সরাতে চাইনা। পরিবারেই রেখে দেব।”
ইনান শেখ কিছু বলেননা। ফরিদা পারভীন ফারিশের কথা ভেবেই অবাক হচ্ছে। ছেড়াকে ভালো মনে করেছিল সবাই।
ফরিদা পারভীন আদনানের দিকে তাকান। ইনান শেখকে বলেন, “আমার নাতিনরে আমার কাছেই রাখমু। তারেক যে প্রস্তাব দিলো, আমি রাজী। ইনান তোমার কোন মত আছে?”
ইনান শেখ নিভন্ত গলায় জবাব দেয়, “ইলমা রাজী থাকলে আলহামদুলিল্লাহ।”
ইনান শেখের কথায় আদনান মৃদু হাসে। ফাইজা এবং তৃপ্তি যায় ইলমার রুমে। আদনান একমূহুর্ত দাঁড়ায় না। নিজের রুমে এসে কাবাড থেকে একটা শপিং ব্যাগ বের করে সোজা ইলমার রুমে যায়।
ইলমা গম্ভীর মুখ করে বসে আছে। ফাইজা, তৃপ্তি হয়ত বিয়ের কথা বলেছে। প্রতিত্তোরে ইলমার প্রতিক্রিয়া আদনান দেখেনি। এসেই ইলমার দিকে শপিং ব্যাগ ছুঁড়ে দিয়ে বলে, “তাড়াতাড়ি রেডি হো। বিয়ে করব।”
“এই আমার রুম থেকে যা৷”
ইলমা তেজ দেখিয়ে বলে। আদনান ধমকে বলে, “এখন উলটাপালটা করবি তো, তুলে কাজী অফিস নিয়ে বিয়ে করব।”
তখন তৃপ্তি বলে, “এতো কষ্ট করে কাজী অফিস যেতে হবেনা। দু’জন ঝগড়া বন্ধ করলে, বাড়িতেই বিয়ে হবে।”
“শালীকে বলবি, ভদ্রতা শিখে নিতে।”
“তোর ভাইকে বলবি, কথায়,কথায় শালি বলা বাদ দিতে।”
ইলমার কথায় আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “আমি কী বলব, না বলব তোকে জিজ্ঞেস করব নাকী?”
“আমি তোকে বিয়ে করব না।”
“আমিও করব না। ঠেকা পড়েনি।”
“চুপ করবে তোমরা? আদনান যাও তো!”
ফাইজার ধমকে আদনান ইলমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইলমা মুখ ভেংচি কাটে। আদনান থমথমে মুখ করে বেরিয়ে আসে। তৃপ্তি শপিং ব্যাগ খোলতে দেখে লাল রঙের একটা শাড়ি। শাড়িটা চিনতে অবশ্য ভুল হয়নি। এই সেই শাড়ি যেটা ইলমা মেলায় পছন্দ করে এসেছিল। কিন্তু নেয়নি। আদনান সেটা কিনে রেখে দিয়েছে। সাথে আছে দুমুঠো লাল রেশমি চুড়ি।
কোন আপত্তি ছাড়াই ইলমা নিজেকে লাল শাড়িতে সুসজ্জিত করে। ঈশিতা নিজের কাবাড থেকে, নিজের বিয়ের দোপাট্টা এনে ইলমাকে পড়িয়ে দেয়। আদনান লিভিং রুমে তারেক মাহমুদের পাশে বসে বন্ধুদের খবর দিচ্ছে। ইনান শেখের মুখ এখনো থমথমে। তবে বুঝেছে, ইলমা বিয়েতে রাজী। তারেক মাহমুদ হুজুর এবং কাজী দু’জনকে খবর দিয়েছেন।
মাগরিবের পরপর হুজুর আসে। আসে আদনানের বন্ধুমহলের সবাই।
ইলমাকে সাজিয়ে রুমে বসানো হয়েছে। আদনান মাথায় টুপি পড়ে ইলমার রুমে আসে। দু’জনকে পাশাপাশি বসানো হয়। হুজুর এসে দু’জনের বিয়ে পড়ানো শুরু করে। আদনানকে যখন হুজুর বলে, “কবুল বলো বাবা।”
আদনান ফটাফট তিনবার বলে, “আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”
তার এরকম তাড়াহুড়ো দেখে, নির্মাণ, শেজান সবাই হাসে। ইনান শেখ এককোণে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা টু শব্দও করেননি তিনি। দেখে মনে হচ্ছে, ভীষণ শকে আছেন। ইলমাকে যখন কবুল বলতে বলা হয়। ইলমা অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে। ইলমার চুপ থাকাতে আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “এখন আবার ঝগড়া করতে চাচ্ছিস?”
“আমি তোকে বিয়ে করব না।”
“তাহলে আমার বউয়ের জন্য কিনে আনা শাড়ির ভাঁজ নষ্ট করলি কেন?”
“আমার রুম থেকে বের হো।”
ওদের ঝগড়া দেখে হুজুর মুখটা গম্ভীর করে নেয়। তারেক মাহমুদ আদনানকে বলেন, “চুপ থাকতে কী কষ্ট হয়?”
ফাইজা ইলমাকে বলে, “কবুল বলো?”
ইলমা চুপ করে রয়। ইনান শেখের দিকে তাকায়। ফরিদা পারভীন বলেন, “ইনান এদিকে আসো। তোমার মেয়ে তোমাকে পাশে রেখে বিয়েতে সম্মতি দিবে।”
ইনান শেখ চুপচাপ এসে ইলমার পাশে বসতে ইলমা বাবার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। জোরে শ্বাস নেয়। চোখ বন্ধ করে বলে, “আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”
ইলমার কবুল বলা হতে আদনান হাসে। হুজুর মোনাজাত ধরে নবদম্পতির জন্য দোয়া করে। ইনান শেখ মুখ গম্ভীর করেই উঠে পড়েন। পাশে বসে ফরিদা পারভীন। আদনান সবার দিকে আঁড়চোখে তাকায়। নির্মাণ আদনানকে বলে, “অবশেষে তোর এওয়ার্ড তুই পেয়ে গেলি।”
আদনান মৃদু হাসে। সবাই যখন মিষ্টি মুখ করতে ব্যস্ত তখন আদনান
ইলমার কাছাকাছি ঘেঁষে বলে, “শাদী মোবারক মিসেস শাহরিয়ার আদনান শেখ।”
#চলবে
(শব্দসংখ্যা :২০০০+)
আদনান ইলমাকে নিয়ে লেখা বই ❝বুকপকেটের মায়াবিনী❞ অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন বুকলেট কম পেজে।
পেজ লিংক
https://www.facebook.com/share/1AKGvBibLx/
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

