গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪০| #শার্লিন_হাসান

0
31

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪০|
#শার্লিন_হাসান

হসপিটাল থেকে ইলমা শেখ নিবাসে এসেছে দু’দিন হলো। আগের থেকে একটু সুস্থ। তবে পোড়া জায়গায়, সার্জারীর জন্য ইনান শেখ বন্দবস্ত করছেন।

খাটের সাথে হেলান দিয়ে শুয়েছিল ইলমা। তখন আগমন হয় ফাইজার। হাতে গরম দূধের গ্লাস, ছোলা সেদ্ধ ডিম।
আরেকটা বাটিতে কাটা কিছু ফ্রুটস। এসেই ইলমার সামনে বসে ফাইজা। নিজের সাথে আনা খাবার গুলো ইলমার খাটের পাশের টেবিলের উপর রাখে। ইলমার দিকে একনজর তাকায়। জড়ানো কন্ঠে আওড়ায়, “খাবারগুলো খেয়ে নেও। এবেলার ঔষধ আছে?”

ইলমা একপলক ফাইজার দিকে তাকায়। ইলমার তাকানো দেখে ফাইজা কিছিটা অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তার মূল কারণ, আজীবন ইলমা তার চক্ষুশূল ছিলো, হুট করে ইলমার দিকে খেয়াল রাখা,যত্ন নেওয়া কেমন জেনো! ইলমা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে জবাব দেয়, “এতোকিছু আমি কীভাবে খাব?”

ফাইজা ইলমার চোখের দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে শাসিয়ে বলে, “খাওনা দেখেই তো এই অবস্থা। ঠিক মতো খাবে,ঘুমাবে ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।”

কথাটা বলে ইলমার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নেয় ফাইজা। হুট করে চোখের সামনে ভাসে ঈশিতা হসপিটালে তৃপ্তিকে আদর করার দৃশ্য। ফাইজারও ইচ্ছে হলো। সেজন্য ইলমার হাত নিজের হাতের মুঠোয় এনে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। গালের একপাশে হাত রেখে বলে, “তাড়াতাড়ি খেয়ে নেও। আমি কিচেনে যাব।”

ইলমার চোখে পানি চিকচিক করছে। ফাইজা স্বযত্নে ইলমার চোখের পানি মুছে দেয়। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ফাইজা দাঁড়িয়ে ঘুরতে,দরজা থেকে কারোর সরে যাওয়া দৃষ্টিতে আসে। ইলমা ফাইজার যাওয়া দেখে, খাবারে মনোনিবেশ করে।

মাগরিবের আজান পড়েছে চারদিকে। ফাইজা কিচেনে বিফ খিচুড়ি রান্না করছে। ফরিদা পারভীনের থেকে জেনেছে, বিফ খিচুড়ি ইলমার ভীষণ পছন্দের।

ফরিদা পারভীন, তারেক মাহমুদ এবং ইনান শেখ বসে আছে সোফায়। ফরিদা পারভীনের মুখ ভীষণ গম্ভীর। ইনান শেখ কথা বলার সাহস পাচ্ছেনা। তারেক মাহমুদও ইনান শেখের উপর রেগে আছে। সেজন্য কেউই ঠিক মতো কথা বলেনা। ইনান শেখ খুব সাবধানে ভেবেচিন্তে ফরিদা পারভীনকে বলে, “ফারিশকে জিজ্ঞেস করেছি, কী এমন কাজ ছিলো যে ওদের একা ছেড়ে দিয়েছে। ওর নাকী অফিসে জরুরি মিটিং পড়েছে।”

ব্যাস! ফরিদা পারভীন চেঁচিয়ে বলেন, “ইনান কথা বলোনা। ওর মিটিং থাকলে ওদের নিয়ে বেরুনোর দরকার কী? আমার নাতিনটার দিকে তাকাইছো? ফাতিহা, তো আরেকটা। আমার মেয়ে হলে কী হবে। আক্কলে জ্ঞান সব লোপ পাইছে। ফারিশ জেনে-বুঝে ওদেরকে একা ছাড়ছে।”

তারেক মাহমুদ কিছু বলেননা। ছুটে আসে ফাইজা। হাতে গরম খুন্তি। ইনান শেখের দিকে খুন্তি দেখিয়ে বলে, “সব দোষ তোমার। নাটকবাজ কোথাকার। অতিরিক্ত বুঝলে এমনই হবে।”

ইনান শেখ ফাইজার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ফাইজা সেসব তোয়াক্কা করেনা। উল্টে শাসিয়ে বলে, “ফারিশ এতোই ভালো তাহলে তোমার মেয়েকে এখনো দেখতে আসেনি কেন? চোর একটা। কোথয় ঘাপটি মেরে বসে আছে কে জানে।”

সেসময় আদনান লিভিং রুমে আসে। ফাইজার কথার কানে বাজতে মুচকি হাসে। এসেই তারেক মাহমুদের পাশে বসে পড়ে। সোফায় হেলান দিয়ে বসে ইনান শেখের দিকে তাকায় আদনান। উপরনিচ পরখ করে তার বাবাকে বলে, “এতো ভালো ছেলো, নিজের হবু বউকে দেখতে আসলো না। ব্যপারটা কী জঘন্য।”

তারেক মাহমুদ আদনানকে ধমকে বলেন, “তুমি চুপ করো। ওদের ব্যপার ওরা বুঝবে।”

“বেশ ভালো। বেশি বুঝতে,বুঝতে আবার না শত্রু হয়ে যায়।”

ইনান শেখ আদনানের দিকে চোখ গরম করে তাকায়। আদনান সেদিকে তাকায়না। তখন আদনান তৃপ্তিকে ডাকে। তৃপ্তি আসতে ফরিদা পারভীনের পাশে বসে। আদনান তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, “সেদিনের ঘটনা এ টু জেড সবাইকে বলবি।”

তৃপ্তি মাথা নাড়ায়। বলতে শুরু করে, “আমি, ইলমা,ফারিশ ভাই শপিং করে আইসক্রিম স্টলে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনজন আইসক্রিম খাওয়া শেষের দিকে, ফারিশ ভাই কাকে জেনো কলে বলছে, ‘আইসক্রিমের দোকানে আছি। আরেকটু অপেক্ষা করো, আসছি।’ এরপর আমাদের দু’জনকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়েছে। ওনার কোন কাজ আছে বা কী এরকম কিছুই বলেনি আমাদের। তারপর, আমরা বাড়ির রাস্তায় ঢুকতে জয়কে অনেক ছেলেপেলের সাথে মাইক্রোর সামনে দাঁড়ানো দেখেছিলাম। রিকশাওয়ালা মামা, রিকশা থামাতে জয় এসে ইলমার হাত ধরে টেনে রিকশা থেকে নামিয়েছে। ইলমার হিজাব খোলার সময় আরেকজন ক্যামরা ধরে ভিডিও করছিলো। আমি এগিয়ে আসাতে, আমায় থাপ্পড় মেরেছে, যার ফলে রিকশার হাতলের সাথে বারি খেয়ে নিচে পড়ে যাই। মামা এগিয়ে গেলে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জয় ইলমার গলা চেপে ধরে। থাপ্পড়ও মেরেছিলো। ইলমা হাতে নখের আঁচড় দিলে তার দিকে এসিড ছুঁড়ে মারে। সাথে লাথিও মেরেছিলো।”

তৃপ্তির কথা শেষ হতে আদনান ইনান শেখের দিকে তাকায়। তিনি কপাল স্লাইড করছেন। তারেক মাহমুদও ইনান শেখের দিকে তাকানো। সে কোনরকম কিছু বলছেনা। ফাইজা ইনান শেখকে খোঁচা মেরে বলে, “বিশ্বাস ভালো তবে অন্ধবিশ্বাস না। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। ইনান শেখ এরকম বুদ্ধি নিয়ে এডভোকেট হলো কীভাবে ভাবতেও পারছিনা।”

ইনান শেখ চোখ রাঙিয়ে বলেন, “তুমি চুপ থাকবে?”

“ওমাহ্! সত্যিটা বলাতে গায়ে ফোস্কা পড়লো?”

আদনান ঠোঁট টিপে হাসছে। ইনান শেখ উঠে চলে আসেন। আদনান ফরিদা পারভীনকে বলে, “দাদী বিয়ে করব। মেয়ে দেখো।”

“সবার শেষে তোমার বিয়ে।”

ফরিদা পারভীনের কথায় আদনান মৃদু হাসে। বাবার দিকে তাকাতে তিনি পাত্তা দেননা।

রাতে সবাই খেতে বসেছে। ইলমাও এসেছে সবার সাথে। তবে কারোর সাথে কোন কথা বলেনি। ইনান শেখ ইলমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করেন, “এখন কেমন লাগছে?”

ইলমা কোন জবাব দেয়না। হসপিটাল থেকে আসার পর কারোর সাথেই তেমন কথা বলেনি ইলমা। বিশেষত ইনান শেখকে পুরো দমে এড়িয়ে যাচ্ছে সে। ইনান শেখ বুঝেন তার মেয়ের রাগে-অভিমানের পাল্লাটা একটু বেশি ভারী হয়ে গেছে। ইলমা নিজের খাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসে। ঔষধ খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। ভীষণ খারাপ লাগছে তার। পরিবারের প্রতিটা মানুষকেই স্বার্থপর লাগছে। ভীষণ স্বার্থপর।

আদনান খাওয়া শেষ করে সোফায় বসে। ইলমা চলে গেছে কিছুক্ষণ আগে। তৃপ্তি এসে আদনানের সামনের সোফায় বসে। আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “ভাইয়া একটা কথা বলব।”

“বল।”

“ইলমার সাথে জয়ের পরিচয়টা আমার মাধ্যমে।”

“তো?”

“কী তো? আমার সাথে জয়ের পরিচয় ফারিশের জন্য জয়ের কাজিনকে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে। হুট করে একদিন আমার সাথে দেখ হয়। সেদিন আমার সাথে ইলমাও ছিলো। এরপর ওর ফেসবুক আইডি কালেক্ট করে ম্যাসেজ দিয়েছে। ইলমার আইডিতো পাবলিক করা ছিলো তাই কমেন্ট করেছে। ম্যাসেজ জয় বেশি দিলেও ইলমা দু-একটা রিপ্লাই করে ব্লক মেরে দিয়েছিল।”

“এতোদিন পর এসব বলছিস কেন? এসব আমি ভুলে গেছি। আমি জানি,মেলিচা কেমন মেয়ে।”

“তাহলে রাগ দেখালে কেন?”

“তখন মাথা গরম ছিলো।”

“কথা বলা বন্ধ কেন?”

“এমনিতে।”

কথাটা বলে আদনান সোফায় হেলান দিয়ে বসে। তৃপ্তি কিছু বলেনা। ফরিদা পারভীন ইলমার রুমের দিকে যায়। তাকে যেতে দেখে আদনানও পেছন দিয়ে যায়। ইলমা কপালে হাত দিয়ে চোখ বুঁজে ছিলো। ফরিদা পারভীন এসে ডাক দেয় ইলমাকে। ইলমা হাত সরিয়ে তাকাতে দেখে পেছনে আদনান। নজর ইলমার দিকেই। ইলমা উঠে বসে, পাশ থেকে ওরনা নিয়ে গায়ে জড়ায়। ততক্ষণে আদনা নজর সরিয়ে মেঝেতে স্থির করেছে। ইলমা ঠিকঠাক হয়ে বসতে আদনান ফরিদা পারভীনের পেছনে এগিয়ে যায়। ফরিদা পারভীন খাটের উপর বসলে,আদনান চেয়ার টেনে বসে। ইলমা দাদীর দিকে তাকিয়ে বলে, “কিছু বলবে?”

“ফাতিহাকে আমি কল দিয়ে বকেছি।”

“এসব আমাকে কেন বলছ?”

“ওদের জন্যই তো…

” আমার ভাগ্য ভালো সেজন্য সব ভালো আমার সাথেই ঘটে। জানো তো, এই পরিবারের সবাই ভীষণ স্বার্থপর। আমার মা নেই, মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কপালে নেই। সেইজন্য হয়ত আমি সবার থেকে এতো বেশি আশা রাখি। অথচ দেখো, প্রতিটা ব্যপার খুঁটিয়ে ভাবতে গেলে, আমি ভুক্তভোগী। ভুল সিদ্ধান্ত,রাগ,জেদ সবটার প্রভাব আমার উপর এসে পড়ে। আমিও তো মানুষ! দয়া করে কেউ আর আলগা দরদ দেখাতে এসোনা। আমার বেঁচে থাকার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে নেই। তাড়াতাড়ি মরলে, আলহামদুলিল্লাহ। তোমরাও বেঁচে যাবে, আমিও মুক্তি পাব।”

কথা শেষ হতে ইলমার নজর যায় দরজার দিকে। ইনান শেখ দাঁড়ানো সেখানে। ইলমা নজর সরিয়ে নেয়। আদনান সবিস্ময় নিয়ে ইলমাকে দেখছে। ইলমা সেসব তোয়াক্কা করেনা। কড়াগলায় বলে, “তোমরা আসতে পারো। আমি ঘুমাব এখন।”

ফরিদা পারভীন কিছু বলার মতো খুঁজে পাননি। আদনান ইলমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। তবে কিছু বলেনা। দু’জন বেরিয়ে যাবে, তখন ইলমা বলে, “লাইট অফ করে যেও।”

আদনান বেরুনোর সময় লাইট অফ করে দরজা লাগিয়ে দেয়। আদনানের কানে এখনো বাজছে, ইলমা বলেছে, ‘ বাঁচার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে নেই।’

এভাবে একসপ্তাহের মতো কেটে যায়৷ ইলমা কারোর সাথে ভালো করে কথা বলেনা। শুধু ফাইজার সাথে টুকটাক কথা হয়। সেটাও খাবার খেতে না চাইলে, বকাঝকা করে। কী খেতে ইচ্ছে করে, ফাইজা জিজ্ঞেস করলে,ইলমা টুকটাক জবাব দেয়। এতোটাই রাগ সবার প্রতি যে, কেউ পাশে ঘেঁষতে চাইলে ইলমা চলে আসে। মোট কথা কারোর কথারও জবাব দেয়না। ফিরেও তাকায়না। ইনান শেখ মেয়ের কথা ভাবলেই বুক ছ্যাৎ করে উঠে।

যেহেতু তৃপ্তির সাথেও ইলমার তেমন ভাব নেই এখন। শুধু ফাইজার সাথেই টুকটাক কথা বলে। সেজন্য ইনান শেখ ফাইজাকে বলেম, ‘ইলমাকে নিয়ে বাইরে বেরুতে। রেস্টুরেন্টে যেতে,শপিং করতে।’

ফাইজাও রাজী হয়। সেজন্য বোকরা পরে, হিজাব বেঁধে ইলমার রুমে আসে। ইলমা তখন বই পড়ছিলো। ফাইজাকে দেখে বই রাখে। ফাইজা ইলমার কাছে এসে বলে, “রেডি হও।”

“কোথায় যাব?”

“রেস্টুরেন্টে।”

“যাব না।”

“আমার সাথে যেতে চাচ্ছ না?”

“এরকম কিছুনা।”

“চলো না।”

কিছুক্ষণ বলার পর ইলমা মেনে নেয়। দু’জন রেডি হয়ে বেরোয় বাড়ি থেকে। একটা রিকশা ধরে রওনা হয় রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে। ইলমা এই প্রথম ফাইজার সাথে বেরিয়েছে। ভাবতেই কেমন ভালো লাগছে। ফাইজা তাকে একটুও হলেও আদর যত্ন করছে। যেই আদর যত্ন ছোটবেলা থেকে পাওয়ার আশা করেছিল।

দু’জন একটা রেস্টুরেন্টে আসে। খোলামেলা, নিরব। তেমন কোন ভীড় বা কোলাহল নেই। ফাইজা যায় খাবার অর্ডার দিতে। ইলমা নিজেদের চেয়ারে বসতে নজর আসে একটা ছেলো এবং মেয়েকে। ছেলেটা মেয়েটার হাত ধরে রেখেছে। ইলমা তড়িঘড়ি নিজের ফোনের ভিডিও চালু করে। জুম করে ভিডিও ধারণ করে। বেশি দূরত্বে বসা নেই দু’জন। ইলমার ভিডিও ধারণে সুস্পষ্ট ফুটে উঠেছে, ছেলেটা মেয়েটার হাতে চুমু দিয়ে কিছু বলছে। মেয়েটা বেশ লজ্জা পেয়েছে। ইলমা ফোন নিয়ে এগিয়ে আসে সেদিকে। মেয়েটা ইলমাকে দেখে বলে, “উইদাউট পারমিশনে ভিডিও করেছ?”

ইলমা ফোন লুকিয়ে নিয়েছে। ফারিশ ইলমাকে দেখে চমকে যায়। রৌদিয়ার হাত ছেড়ে দেয়। ইলমা ফারিশের দিকে চোখ ভরা ঘৃণা নিয়ে তাকায়। মেয়েটার কথায় জবাব দেয়না। ফারিশ ইলমাকে দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হয়। বলে, “রৌদিয়া, মিট মাই কাজিন ইলমা।”

ইলমা রৌদিয়ার দিকে তাকিয়ে ফারিশকে বলে, “হু’জ সী?”

ফারিশ জবাব দেয়, “ফ্রেন্ডস।”

“দেখেছি। আমার বাবার কাছে ভালো সাজতে আসলে খবর আছে।”

“আজব! তোর বাবার কাছে আমি ভালো সাজব কেন? তোর বাবা নিজেই আমার ভক্ত। উমম… ভালো তো। তোর হিংসে হচ্ছে বুঝি?”

“থু… তোর সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃণা হচ্ছে।”

“ভিডিওটা ভালোয়,ভালোয় ডিলিট করে দিবি।”

“আমি কোন ভিডিও করিনি।”

ফারিশ রৌদিয়াকে চোখ দিয়ে ইশারা করলে সে বেরিয়ে যায়। ফারিশ আশেপাশে তাকায়। খুব শান্ত কন্ঠে বলে, “ভিডিওটা ডিলিট করে দিও মাই সুইটহার্ট । আমার নামে উল্টাপাল্টা কিছু বললেই জান চলে যাবে।”

ইলমা দাঁড়ায়নি। পিছু হেঁটে সরে আসে। ফারিশ চলে আসে। ইলমা দপ করে বসে পড়ে। পেছন দিয়ে ফাইজা আসে। সে খাবার অর্ডার দিয়ে, ওয়াশরুমের গিয়েছিলো। ইলমাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে, “কিছু হয়েছে?”

ইলমা মদথা নাড়ায়। খাবার আসতে,আসতে ইলমা আদনানকে হোয়াটসআপে ব্লক মেরে, ভিডিওটা আদনানের হোয়াটস অ্যাপে দিয়ে রাখে। যাতে ডিলিট করলেও থেকে যায়। দু’জন টুকটাক কথাবার্তা বলে খাবার খেয়ে বেরিয়ে আসে। ফাইজা ইলমাকে জিজ্ঞেস করে, “জামাকাপড় কিছু কিনবে?”

ইলমা মাথা নাড়ায়। জবাব দেয়, “অন্য সময়। এখন বাড়ি চলো।”

দু’জন বাড়ি আসতে দেখে ফারিশ সোফায় বসা। ইলমা ফারিশকে দেখে বিরক্ত হয়। ইনান শেখের সাথেই বসে কথা বলছিলো। ইলমাকে দেখে ফারিশ বলে, “ইলমা কেমন আছো?”

ইলমা জবাব না দিয়ে রুমে যায়। ফারিশ ইনান শেখকে বলে, “ইলমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।”

“ইলমা আগ্রহ প্রকাশ করলে বলবে। নাহলে নাই।’

ইনান শেখের কথায় ফারিশ অনুরোধের স্বরে বলে, ” অ্যাম রিয়েলি স্যরি, আমি যদি জানতাম ইলমার সাথে এরকম কিছু হবে তাহলে কখনোই ওদের একা ছাড়তাম না। আসলে ভাগ্যে যা থাকে সেটা তো হবেই তাইনা? প্লিজ ইলমার সাথে দু’মিনিট কথা বলার সুযোগ করে দিন। আমি ওকে স্যরি বলব।”

“ও আসুক।”

“আরো কিছু বলার আছে।”
কথাটা বলে ফারিশ নানীর রুমের দিকে যায়। ইনান শেখ কিছু বলেনা।

ইলমা ফ্রেশ হয়ে ছাঁদে যায়। এসেই খোলা প্রকৃতির দিকে তাকায়। চারপাশে মাঠ তবে শহরের উঁচু বিল্ডিং গুলোও দেখা যাচ্ছে। ইলমা রেলিঙ ঘেঁষে আঁটসাঁট হয়ে দাঁড়ানো। তখন ছাঁদে আসে ফারিশ। ইলমা ফারিশকে দেখে থুতু ফেলে। ফারিশ হাসিমুখে এগিয়ে এসে ইলমার পাশে দাঁড়ায়। ইলমাকে উপরনিচ দেখে বলে, “আন্দাজে ছাঁদে এসেছি। ভাবতে পারিনি তোমার দেখা পাব। এখন কিন্তু তোমার বাবা জানেনা আমি যে তোমার সাথে আছি।”

কথাটা বলে ফারিশ, হাত এগিয়ে এনে ইলমার কপালের চুলগুলো সরিয়ে দিতে গেলে ইলমা হাত ঝাড়ি মেরে সরিয়ে দেয়। চোয়াল শক্ত করে বলে, “কসম খোদার। উল্টাপাল্টা কিছু করতে চাইলে, মাথা ফাটাতে দুবার ও ভাববো…
বলার আগেই ফারিশ ইলমার গলা চেপে ধরে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, ” সেদিন তোকে মেরে দিলেই ভালো হতো। মাগীর এতো তেজ জানা ছিলোনা।”

ঠিক সে মূহুর্তে ছাঁদে পা রাখে আদনান। ফারিশ যে ইলমার গলা চেপে ধরে রেখেছে, সাথে লাস্টের কথাগুলো কানে বারি খেয়েছে। আদনান ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করে সামনে এগোয়। আদনানকে দেখে ফারিশ ইলমার গলা ছেড়ে দেয়। ইলমা কাশতে থাকে। আদনান ফারিশের দিকে তাকায়। ফারিশ থতমত খেয়ে বলে, “তুই এখানে?”

“রোমান্স করছিলি নাকী যে আমি আসতে পারব না? কন্ট্রোল ব্রো! এখনো বিয়ে হয়নি।”

“বাজে কথা ছাড়।”

আদনান মৃদু হেঁসে এগিয়ে আসে। খপ করে ফারিশের কন্ঠ নালি চেপে ধরে। ফারিশ আদনানের হাত চেপে ধরে ছাড়া পাওয়ার জন্য। আদনান দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “কার কলিজায় হাত দিয়েছিস ভেবেছিস?”

নিজের রাগ দমিয়ে কিছুক্ষণ পর আদনান ফারিশকে ছেড়ে দেয়। এক হাতে ফারিশের কলার চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে ফারিশের ডান হাত মোচড়ে দেয়। হয়ত হাতটা ভেঙে গেছে। আদনান নিজের রাগ নিভাতে পারেনি। সেজন্য ইলমাকে বলে, “জুতা খোল।”

ইলমা জুতা খোলে হাতে নেয়। আদনান ফারিশকে ইলমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, “মন না ভরা অব্দি, জুতা দিয়ে আদর করতে পারবি। সুযোগ একবারই।”

আদনানের কথায় ইলমা নিজের রাগ-ক্ষোভ মেটাতে ফারিশের গালে দু’টো জুতোর বারি দেয়। কান্না গিলে নিয়ে তেজী স্বরে ইলমা জবাব দেয়, “আমার থেকে একশহাত দূরে থাকবি। মুখোশধারী।”

ইলমা ছাঁদ ত্যাগ করতে আদনান হেঁসে ফারিশের দিকে তাকায়। ফারিশের চুলগুলো ব্যাকব্র্যাশ করে বলে, “চুপ থেকে ভালোই খেলায় মেতেছিস। ইনান শেখের কাছে,আমার আর মেলিচার সেদিন রাতে ঘুরতে বেরুনোর ছবি তুই পাঠিয়েছিস?”

ফারিশ জবাব দেয়না। আদনান ফারিশের চুল টেনে ধরতে ফারিশ জবাব দেয়, “হ্যাঁ, আমি সেদিন তোর আর ইলমা ছবি তুলেছি। ফুল পড়ানোর সময়কার ভিডিও করেছি। ইনান শেখকে আমি তোদের ছবি,ভিডিও পাঠিয়েছি।”

#চলবে

ইলমা আদনানকে নিয়ে লেখা বই ❝বুকপকেটের মায়াবিনী❞ অর্ডার করুন আপনার পছন্দের যেকোন বুকশপে।

আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here