গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৬| #শার্লিন_হাসান

0
33

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৬|
#শার্লিন_হাসান

ইলমা এবং আদনানের বিয়ে একসপ্তাহ কেটে গেছে। শুক্রবার দিন ব্যাংক বন্ধ। বাইরে কিছুকাজ থাকায় আদনান নাশতা সেরেই চলে গেছে কাজ সারতে। ইলমা রুম গুছিয়ে, ঈশিতাকে কাজে হেল্প করেছিলো। তবে ইনান শেখ মেয়েকে সারাক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কিছু লাগবে কি-না। খাওয়াদাওয়া করেছে কিনা সবকিছুর খোঁজখবর রাখেন তিনি।

ঈশিতা শুক্রবার দেখে দেশি হাস এবং মুরগী দু’টোই রান্না করেছে। যার যেটা পছন্দ সেটা খাবে। কিচেনের কাজ শেষ হতে ইলমা শাওয়ার নিতে চলে যায়।

বারোটার দিকে আদনান এসেছে বাসায়। এসেই গলা ছেড়ে ইলমাকে ডাক দেয়। আদনানের এমন ডাকাডাকিতে ইলমা লজ্জা পায়। তবুও আদনান ডাকা ছাড়েনা।

চুলের পানি মুছেনি ভালো করে। টপটপ করে পানি পড়ছে। আদনানের ডাকে সায় দিতে ইলমা ওরনাটা কোনরকম গলায় ঝুলিয়ে লিভিং রুমে আসে। ইলমার অবস্থা দেখে আদনান খানিক বিরক্ত হয়। রুক্ষ গলায় বলে, “পানি নিয়ে রুমে আয়।”

ইলমা জবাব দেয়, “সামনে জগ গ্লাস রাখা। ঢেলে খেতে পারোনা?”

“না।”
মেজাজ হারিয়ে জবাব দেয় আদনান। ইলমা গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে আদনান রুমে। ইলমা মনে,মনে হাজারটা বকা দেয় আদনানকে। বজ্জাত লোক, বউ পেয়ে এখন ইচ্ছে মতো নাচাচ্ছে। রুমে আসতেই দেখে আদনান খাটের উপর বসা। ইলমা পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে সেটা পান করে ধপ করে খাটে শুয়ে পড়ে আদনান। পকেট থেকে বাইকের চাবি আর ফোন বের করে ইলমার দিকে এগিয়ে দেয়। ইলমা সেগুলো হাতে নিয়ে টেবিলের উপর রাখে।
তোয়ালে হাতে চুলের পানি মুছতে,মুছতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। আদনান আধশোয়া হয়ে ইলমাকে দেখছে। টি-শার্টের সাথে স্কার্ট পরেছে। গলায় ওরনা ঝুলানো। আদনান ঘড়িতে সময় দেখে।
ইলমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “শাড়ি কই?”

ইলমা পেছন ফিরে তাকায়। জবাব দেয়, “শাড়ি পরতে পারিনা।”
“শাড়ি পরতে না পারলে শিখে নিবি। বিয়ে করেছি কেন? এসব স্কার্ট আর টিশার্টে বউকে দেখার জন্য?”

“উনিশবছর ধরেই আমাকে দেখছ।”

“এই চোপ। তখন কী তুই আমার বউ ছিলি নাকী? এখন বউ হয়েছিস,শাড়ি পরবি। এসব টি-শার্ট পড়ে আমার সামনে আসলে খবর আছে তোর।”
“এই মসজিদে যাবে না? আজকে জুমা।”

“ভালো লাগছেনা।”
আদনানের কথা শেষ হতে না হতে ইলমা চোখ রাঙিয়ে তাকায়। ইলমার চোখ রাঙানো দেখে আদনান খানিক হেঁসে উঠে। শোয়া থেকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “উঠা আমাকে।”

ইলমা হাত ধরে সামনের দিকে টান দেয় আদনানকে। কিন্তু বেচারি একচুলও নাড়াতে পারেনা আদনানকে। উল্টো আদনান ইলমাকে নিজের দিকে টান দিতে ইলমা ধপাস করে আদনানের বুকের উপর পড়ে। ইলমা খানিক রেগে জবাব দেয়, “এটা কিন্তু চিটিং।”

“ভালো লাগছে।”
“গোসলে যাও।”
কথাটা বলে ইলমা সরে যায়। আদনান উঠে দাঁড়ায়। কাবাড থেকে পাঞ্জাবি নামিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। ইলমা আদনানের ব্যালকনিতে যায়। নিজের ভেজা জামাকাপড় মেলে দিয়ে রুমে আসে।

ইলমা আসার পেছন দিয়ে আদনান বেরোয় গোসল করে। ভেজা জামাকাপড় ইলমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, “রোদে দিয়ে দিস। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

ইলমা জবাব দেয়না। আদনানের ভেজা টি-শার্ট, প্যান্ট নিজের জামাকাপড়ের পাশে মেলে দেয়। আদনান তৈরি হয়ে নেয়। রুম থেকে বেরুনোর আগে ইলমাকে ডাকে। ইলমা মুখোমুখি হতে আদনান নিজের কপালে ইশারা করে বলে, “চুমু দিবি।”
“এই নামাজে যাও। তাড়াতাড়ি আসবে,খুদা লাগছে।”
“চুমু দিলেই যাব।”
“পারব না। তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

কথাটা বলে আদনানক ঠেলে রুম থেকে বের করে ইলমা। আদনান যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলে, “আজকে তোর খবর আছে মেলিচা।”

আদনানকে বিদায় দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে ইলমা। অযু করে জায়নামাজ বিছিয়ে, নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যায়।

নামাজ শেষ করে কিচেনে আসে ফাইজা। ছুরি দিয়ে সালাদ কাটছে। ঈশিতা এসে খাবার-দাবার বেড়ে সেগুলো টেবিলে নেয়।
টেবিল গোছানো শেষ হতে চারজন সদস্য আসে। তারা হলো, ইজাজ,আদনান,তারেক মাহমুদ এবং ইনান শেখ। তারা বোসতে ফরিদা পারভীন এবং ফাইজাও বোসে। বাকী আছে ঈশিতা এবং ইলমা। আদনান ঈশিতাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “আম্মু দাঁড়িয়ে আছ কেন? বোসে পড়ো।”

কথাটা শেষ করে ইলমার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়। সেও খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে। আদনান তেজী স্বরে বলে, “তুই কী নতুন বাড়িতে বউ হয়ে এসেছিস? খাবার খাবি না?”
আদনানের কথায় ইলমা খানিক লজ্জা পায়। তবে সবার আড়ালে আদনানকে চোখ রাঙাতে ভোলেনা সে। আদনান নিজের পাশের চেয়ারে ইলমাকে বসায়। সবাই চুপচাপ খাবার খাচ্ছে। কারণ, এখনো শেখ পরিবারের সবার রাগে-অভিমান ভাঙেনি। আদনান ইলমার বিয়ে এখনো মানতে পারেননি, ইনান শেখ। আদনান নিজে খাওয়ার সাথে ইলমার খাওয়াও দেখছে। মাঝেমধ্যে আড়চোখে তো এদিকসেদিক তাকানোর বাহানায়। খাওয়ার মাঝে নিজের পাতে থাকা মুরগির লেগ পিসটা ইলমার পাতে উঠিয়ে দেয় আদনান। ইলমা তাকাতে দেখে আদনান খাওয়ায় মনোনিবেশ করেছে। এদিকে নজর নেই। সাথে সাথে ইলমার কাশি উঠে যায়। আদনান তড়িঘড়ি পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে, “আবার কী হলো?”

ইলমা পানি পান করে বলে, “কিছুনা।”
ইনান শেখ আদনানের দিকে তাকান। নাহ্! তার মেয়ের ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করছে ছেলেটা। হুট করে সব ঠিকঠাক হয়ে গেলো কীভাবে?

খাওয়া দাওয়া শেষ হতে আদনান সোফায় গিয়ে বসে। ইজাজ এসে আদনানের পাশে বোসতে আদনান পিঠে চাপড় মেরে বলে, “কিয়ো শালাবাবু।”
“এই আদনান ভাইয়া,কিসের শালাবাবু? আমার লজ্জা করছে।”

“ছেলেমানুষ হয়ে এতো লজ্জা থাকলে, ভবিষ্যতে বউকে ভালোবাসা দিবি কীভাবে?”

আদনানের ঠোঁট কাটা কথাবার্তায় ইজাজ উঠে দাঁড়ায়। ইলমা এসে কুশন দিয়ে আদনানের মাথায় বা’রি মারে। ইজাজকে বলে, “এই অসভ্যের থেকে দূরে থাকবি। এটা জীবনেও ঠিক হবেনা।”

ইজাজ মাথা নাড়িয়ে চলে যায়। ইলমা চোখ রাঙাচ্ছে মূহুর্তে মূহুর্তে। আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি তোর ভাইকে। আর তুই আমাকে চোখ রাঙাচ্ছিস? উপকারের কোন মূল্য নেই।”

“এরকম অসভ্যমার্কা উপকার চাইনা।”
“বেশি অসভ্য, অসভ্য করবি তো, সবার সামনে তোকে কোলে নিয়ে রুমে যাব।”

কথাটা শেষ হতে ইলমা পুনরায় আদনানের মুখের উপর কুশন ছুঁড়ে মারে। এক মূহুর্ত না দাঁড়িয়ে রুমে চলে যায়। আদনান নিজেও উঠে দাঁড়ায়। একটা ভাতঘুম দেওয়া দরকার। সেজন্য রুমে এসেই দরজা লক করে দেয়। ইলমা নিজেও শুয়ে পড়েছে। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর এমনিতেও একটা ঘুমের ঝংকার আসে। আদনান লাইট অফ করে বিছানায় আসে। ইলমার পাশের বালিশে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ সেভাবে থাকার পর ইলমার দিকে ফিরে শোয়। একনজর ইলমাকে দেখে আদনান বলে, “মেলিচা মাথা ব্যাথা করছে। মাথার চুলগুলো টেনে দে।”

ইলমা এগোয়। আদনানের মাথার চুলগুলো আলতো করে টেনে দেয়। আদনানের ভালো লাগছে ইলমার যত্ন। চোখ বন্ধ করে রাখে কিছুক্ষণ। ইলমার হাত ব্যাথা হয়ে যাওয়ায় চুল টানা বন্ধ করে দেয়। আদনান চোখ মেলে তাকায়। ইলমাকে দেখে বলে, “কী হলো?”
“হাত ব্যাথা করছে।”
“এরকম টি-শার্ট পড়লে হাত ব্যাথা করবে স্বাভাবিক।”
“এই চুপ করো। আমি শাড়ি পরতে জানিনা।”
আদনান ইলমাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। বুকের খুব কাছাকাছি নিয়ে আসে ইলমাকে। আদনানের হুটহাট করা পাগলামিতে ইলমা এখন আর অবাক হয়না। আদনান ইলমাকে আদেশ করে বলে, “আমার কপালে ঠোঁট ছোঁয়া।”
“খুঁজে নিচ্ছ কেন?”
“কারণ তুই লাজুক।”

কথাটা বলে ইলমার কপালে উষ্ণ পরশ দেয় আদনান। নিজের বুকের সাথে ইলমার হাত চেপে ধরে বলে, “তুই আমার এখানে থাকিস। একদম হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে।”

“বাজে ছেলেদের এতো ভালো হতে নেই আদনান শেখ।”

“তোর কাছে আমি এখনো বাজে রয়ে গেলাম?”

“আজীবন বাজেই থেকে যাবে।”

“কেনরে?”

“জানি না।”

“একটা কারণ বল?”

“এখনো আমাকে প্রেমিকনারী বলে ক্ষেপাও। বেয়াদব।”

“আরেহ ওইটা আদুরে ডাক। তুই বুঝবিনা।”

আদনানের কথায় ইলমা জবাব দেয়না। আদনান ইলমার দিকে একনজর তাকিয়ে বলে, “শাড়ি পড়লে কী হাতে ক্ষয় হবে?”

“ঘুমাও।”

“না।”

ইলমা পাত্তা দেয়না। চুপচাপ পাশ ঘুরে যায়। আদনান ইলমাকে পাশ ঘুরতে দেখে বিরক্ত হয়। টেনে নিজের মুখোমুখি করে নেয়। চোখ রাঙিয়ে বলে, “তুই কাকে এড়িয়ে যাচ্ছিস?”

“কই? এড়িয়ে গেলাম।”

আদনান জবাব দেয়না। ইলমার উপর হালকা ঝুঁকে। ইলমা বুঝতে পারেনা আদনানের হাভ-ভাব। ভ্রু কুঁচকে তাকালে, আদনান ইলমার টিশার্টের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে মুখোমুখি হয়। আদনানের এরকম কাজে ইলমা হা হয়ে যায়। কিছু বলতে গেলে, আদনান ইলমার হাত জোড়া দখল করে নেয় নিজ হাত দ্বারা। নিকের শরীরের ভর ইলমার উপর ছেড়ে দেয়। ইলমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে, “আর পরবি টিশার্ট?”

“সর তো। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আশি মণ ওজনের কুমির।”

“নাটক করবিনা।”

আচমকা ইলমা আদনানের গালে দাঁত বসিয়ে দিতে আদনান ছিটকে যায়। ইলমা বসে জোরে,জোরে শ্বাস নেয়। আদনানের মাথার চুল টেনে ধরে বলে, “আমাকে মেরে ফেলবি তুই? আমি কিন্তু বিচার দেব।”

আদনান ইলমার হাত থেকে নিজের চুল ছাড়িয়ে নিতে,নিতে বলে, “কী বলে বিচার দিবি শুনি?”

“তুমি আমাকে মেরে ফেলতে চাও।”

“মেরে ফেলার জন্য কীরকম চেষ্টা করেছি?”

ইলমা চুপ। আদনান নিজের গালে হাত দিয়ে ঢলতে,ঢলতে বলে, “ইশ, সুন্দর গালটা নষ্ট করে দিলি। মেয়েরা দেখলে এখন আর ক্রাশ খাবেনা।”

“বেয়াদব।”

“সর।”

ইলমা আদনানকে ধাক্কা দিয়ে খাট থেকে নামতে গেলে স্কার্টের সাথে পা ভেজে সোজা ফ্লোরে ধুম করে পড়ে। আদনান বুঝতে পারেনি ইলমা যে স্বল্প সময়ের মধ্যে পড়ে গেছে। সে হতভম্ব হয়ে শুধু তাকিয়ে আছে। ইলমা পড়ে ‘মা’ বললেও বাকীটা বলতে পারেনা। বেচারি ব্যাথা পেয়েছে ভালো। আদনান খাটের উপর থেকে হাত এগিয়ে দেয় ধরার জন্য। ইলমা সেই হাতে থাপ্পড় দিয়ে বলে, “তোর অত্যাচারের থেকে এভাবে পরে যাওয়াও ভালো।”

“আরেহ না, একটামাত্র লিলিপুট বউ। হাত দে তো! তোকে ফ্লোরে মানায় না, খাটে মানায়।”

ইলমা হাত ধরলে৷ আদনান ইচ্ছে করে ছেড়ে দেয়। ইলমা পুনরায় ফ্লোরে পড়ে মাথায় ব্যাথা পায়। আদনান উঠে দাঁড়ায়। পড়ন্ত ইলমার সামনে বসে বলে, “এখন ব্যাথা উপভোগ কর আর ভাব, কোনটা বেশি ভালো লেগেছে। আমার ভালোবাসার ব্যাথা নাকী ফ্লোরে পড়ে মাথা ফাটানোর ব্যাথা।”

“তোর বিচার খোদা করবে। আর আসিস চুমু খেতে।”

“একশবার আসব। তোর সমস্যা?”

“তুই আমাকে চুমু খেতে আসলে, দেওয়ালে মাথা বারি দিয়ে ফাটিয়ে দেব।”

“নড়াচড়া করার সুযোগ পেলে তো।”

“গজব!”

ইলমার কথায় আদনান হো হো করে হেঁসে উঠে। এগিয়ে এসে ইলমার মাথার নিচে হাত দিয়ে বসায়। তবে হাত ছাড়েনা। অন্য হাতো আলগোছে ইলমার হাত দু’টো নিজের বাঁধনে বেঁধে নেয়। ইলমা বুঝেছে, আদনান কী করবে। তার বুঝার মাঝেই আদনান ইলমার ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। ইলমা নড়াচড়া করলে আদনান ছেড়ে দিয়ে বলে, ” আমার আদর ভালো লাগেনি?”

“তোর থেকে মাফ চাই।”

“তোকে আজীবন ভালোবাসা দিতে চাই।”

“লাগবেনা।”

“না,লাগবে।”

#চলবে

(গল্পটা কিন্তু শেষপর্যায়ে সবাই খেয়াল করছেন তো?)

আদনান ইলমাকে নিয়ে লেখা বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন,

https://www.facebook.com/share/153ciYupU5/

গ্রুপ লিংক
https://www.facebook.com/share/g/16JkDnG8US/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here