#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৯|
#শার্লিন_হাসান
ফারিশ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে। আজকে তার বউ রৌদিয়া আইরিনকে নিয়ে ঘুরবে বেরুবে। ঘুরতে বলতে, জয়কে দেখতে যাবে। তাঁদের পরিচয়টা ফেসবুকের মাধ্যমে হয়েছে। অবশ্য, ফারিশ তার মামুর পরিবারের উপর একটু অসন্তোষ ছিলো। মূলত তার বাবার মৃত্যু নিয়ে। একসময় বিরাট বিজনেস ম্যান থাকললও, বড়সড় ক্রাইম করেছে। যার দরুন যাবত জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইনান শেখ নিজে তার বাবার বিরুদ্ধে কেস লড়েছে। কী অদ্ভুত না? বোনোর বরের বিরুদ্ধে আদালতে কথা বলেছে। ফারিশের বাবার মৃত্যুটা জেলেই হয়েছে। সেটাও আদালতের সিদ্ধান্ত আসার ছয়মাসের মাথায় হার্ট অ্যাটাকে।
ইনান শেখকে তার কোনকালেই পছন্দ না। শুধু ভাঁজে ভাঁজে চলছে। ইনান শেখ তাকে আগে থেকেই পছন্দ করত ব্যপারটা ফারিশ বুঝতে পেরেছে। সেজন্যই ইনান শেখের সাথে বেশি বেশি কথা বলে খোঁজ খবর নিতো। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করত। যাতে খুব সহজে ইনান শেখের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠা যায়। আদনানের চালচলন আগে থেকেই উশৃংখল, উড়নচণ্ডী, বখাটে সেজন্য ফারিশ প্রতিবার আদনানের কথা তোলে ইনান শেখের কানে বিষ ঢালত। সবচেয়ে বেশি সুযোগ এসেছে, আদনান-ইলমাকে রাতের বেলায় ঘুরতে দেখে। পিকচার তুলে ইনান শেখকে সাথে,সাথে পাঠিয়েছে। তার অবর্তমানে তার মেয়েকে নিয়ে আদনান ঠিক কী করছে। ছেলেরা ভোলাতেভালাতে কতক্ষণ? মেয়ে যত চালাকই হোক!
এরপর খবর আসে জয় আবরণের। রৌদিয়ার কাজিন জয়। এমনিতে ভার্সিটির লাইফ থেকে ফারিশ রৌদিয়াকে পছন্দ করত। সে অনুযায়ী জয় তাকে শর্ত দিয়েছে ইলমাকে তার করে দিকে, সে রৌদিয়ার সাথে ফারিশের বিয়ে দিবে। কিন্তু দেখতে গিয়েই যত অঘটন। সেজন্য ফারিশ প্ল্যানিং করেছে এসিড মারতে বা রে’প করে দিতে। বাকী ব্যবস্থা সে করে দিবে। ফারিশের বুদ্ধিতে জয় সেই সিদ্ধান্তে আসে। বিনিময়ে, রৌদিয়ার সাথে তার বিয়েটা হয় গোপনে। এরপর ফারিশ নিজেই সেদিন শপিংমলে বসে জয়কে লোকেশন, যাওয়া-আসার সময় বলেছে।
ভেবেছিল, ইনান শেখের সামনে আজীবন ভালো থাকবে। কিন্তু নিজের কিছু অপকর্মের জন্য সব সামনে চলে আসে।
ফারিশ গাড়ি ড্রাইভ করছে। পাশে রৌদিয়া বসা। ফারিশ একহাতে স্টিয়ারিং ধরেছে অন্যহাতে রৌদিয়ার হাত ধরে রেখেছে। জেনো ছেড়ে দিলে হারিয়ে যাবে। দু’জন একসাথে একটা রিসোর্টের সামনে আসে। ফারিশ গাড়ি থামিয়ে বেরোয়। গেটের সামনে টিকিট কেটে দু’জন ভেতরে যায়।
রৌদিয়ার হাত ধরে পুরো রিসোর্টের আশেপাশে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যায় ফারিয়। রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্য দু’জন হাটা ধরে। ফারিশ আশেপাশে তেমন তাকায়নি। সেজন্য একটা ছেলের সাথে বুকে ধাক্কা লাগে। যার দরুন ছেলেটা ব্যাথা পেয়ে চেঁচিয়ে উঠে। ফারিশ স্যরি বললেও ছেলেটা থামেনা। এগিয়ে এসে ফারিশের কলার চেপে ধরে মুখ বরাবর ঘুষি বসিয়ে দেয়। ফারিশ বুঝতে পারেনি তাকে মারা হলো কেন? ছেলেটা মারা আরম্ভ করতে আর কয়েকটা ছেলে সেখানে উপস্থিত হয়। এসেই তাকে মারধর শুরু করে দেয়। ফারিশের ভাঙা হাত যাই সুস্থ হচ্ছিলো, মার খেয়ে সেটা আগের মতো হয়ে গেছে। ছেলেদের মারামারির মাঝে আরেকটা ছেলে উপস্থিত হয় সেখানে। বলিষ্ঠ দেহের উত্তরাধিকারী,মুখে মাস্ক লাগানো! শার্টের হাতা ফোল্ড করতে,করতে ভীড়ের ভেতর ঢুকেই ফারিশের অণ্ডকোষ বরাবর লাথি মারে। পরপর বেশ কয়েক লাথি মেরে ভাঙা হাতে এক পা দিয়ে চেপে ধরে। অন্য পা দিয়ে গলা চেপে ধরতে ফারিশের চোখমুখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। তখন একটা ছেলে স্টিক দিয়ে ফারিশের পা বরাবর আঘাত করতে থাকে। রৌদিয়া পাশে থেকে চিৎকার করছে অবিরত। তবে কারোর কানে সে চিৎকার যাচ্ছেনা। সবচেয়ে বড় কথা রিসোর্টের ভেতর এরকম উত্তেজনা পূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করায় রিসোর্ট কতৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
ফারিশকে ইচ্ছামত দোলাই করে সবাই বেরিয়ে যায়। তার অবস্থা ভীষণ শোচনীয়। ভেবেছিল ঘুরা শেষ করে জয়কে দেখে বাসায় ফিরবে। এ খন তাকেই জয়ের পাশের সীটে এডমিট করানো হয়েছে।
★★★
সন্ধ্যায় আদনান একাই এসেছে একটা রেস্টুরেন্টে। আসার পেছনে অবশ্য কারণ আছে। জেসিয়া মাহজেবিন তাকে ডেকেছে দেখার করার জন্য। ইলমাকে আর নিয়ে আসেনি। আদনান আসতেই দেখে জেসিয়া আগে থেকেই উপস্থিত সেখানে। আদনান এসে বসতে জেসিয়া জিজ্ঞেস করে, “কী খাবে?”
“কফি।”
জেসিয়া কফি অর্ডার দেয়। আদনান জেসিয়া মাহজেবিনের চোখের দিকে তাকায়। জেসিয়া আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “ম্যালির সংসারজীবন কেমন কাটছে?”
“মৃ’ত মানুষকে নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে নেই।”
আদনানের কথায় জেসিয়া মৃদু হাসে। জবাব দেয়, “সন্তান হিসেবে মৃত ব্যক্তি হিসেবে না।”
“ওর কী দোষ ছিলো?”
“কিছুনা। আমার জীবনের ভুল ছিলো।”
“আপনার ভাবা উচিত ছিলো। প্রেমিকের হাত ধরে যাওয়ার পরিকল্পনা যেহেতু ছিলো, ম্যালিসাকে কেন জড়ালেন?”
“সবই ভাগ্য!”
“হাহা! ভাগ্য! আপনার কাছে সামান্য মনে হতে পারে কিন্তু চৌদ্দ বছরের ব্যপার। আমি তার জীবনেম এসেছি একমাস হবে। তাকে ভালো রাখার চেষ্টা করছি। তার জীবনের কষ্ট গ্লানি মুছে দেওয়ার চেষ্টায় আছি। শুনুন, চৌদ্দবছর বুঝেছেন? এক যুগেরও বেশি সময়। সে মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখেনি। মায়ের মমতা পায়নি! ইনান শেখ ওকে যতটুকু আদর দেওয়া সম্ভব ততটুকু আদর-যত্ন দিয়ে বড় করেছে। তবুও মা তো মাই হয়! আপনার অন্য মেয়ের জন্য যে ভালোবাসা সে ভালোবাসা ম্যালিসাও পায়।”
জেসিয়া কথা বলতে ভুলে গেছে। আদনান কথাটুকু শেষ করে চুপ করে রয়। জেসিয়া কিছুক্ষণ মৌনতা বজায় রেখে বলে, “আমার ছোট মেয়েটা প্রতিবন্ধী।”
“সবই আল্লাহর ইচ্ছে।”
জেসিয়া জবাব দেয়, “আমি যে খুব সুখী তা কিন্তু না। সংসার জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে নিয়ে দিন পেরুচ্ছে। ম্যালি তার পরিবার এবং বাবার কাছে ভালো আছে। সে ভালো থাকুক।”
“তার নাম উচ্চারণ করে তাকে টানবেন না। সে আপনার কিছু হয়না। আপনিও তার কিছু হোন না।”
“এতো অধিকারবোধ?”
“সে তো আমারই! আমার জিনিসে আমার অধিকার থাকবে এটাই স্বাভাবিক।”
“বেশ ভালো। সুখী হও তোমরা।”
“আপনিও সুখী হোন। দোয়া রইলো।”
আদনানের কথা জেসিয়া মাহজেবিন হাসেন। বলার মতন অনেক কথা থাকলেও এখন বলতে পারছেন না। তার একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে! তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার হচ্ছে। সব বাবা মাই চায় তার সন্তান সুস্থ স্বাভাবিক হোক। একটা প্রতিবন্ধী সন্তান অভিশাপ বৈকি কিছুইনা। তবে বাবা মা কখনো সন্তান ফেলে দেয়না। সে যেরকমই হোক। আদর- যত্ন,মায়া-মমতা দিয়ে বড় করেন। প্রেমিকের হাত ধরে আসলেও পরবর্তীতে একটুও হলেও তাপ-শোক হয়েছে। ইনান শেখ কোন অংশে কম ছিলেননা। শিক্ষিত, ভালো পরিবার। তার ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তানও ছিলো। কত সুন্দর একটা পরিবার হতে পারত। নিজের জেদ,ইচ্ছের কাছে সবই এলোমেলা। যেহেতু নিজের জেদ এবং ভুলে সবকিছু হয়েছে সেহেতু সবকিছু অতীত এবং মৃত ভেবে হৃদয়ে পাথর চাপা দিয়েছেন।
সেদিন আদনানের সাথে ম্যালিসার ব্যপার আর জিজ্ঞেস করেনি জেসিয়া। বাকীদের কথা জিজ্ঞেস করেছে। ফাইজা তার ছেলের কথা। আদনানের কথাও। কীভাবে কী করলো, এখন কী করছে। ম্যালিসাকে নিয়ে সব ঠিকঠাক যাচ্ছে তো। যেহেতু আদনান এখনো স্টুডেন্ট, তার বউও স্টুডেন্ট। দুজনের খরচা বেশি। আদনানের ইনকাম আহামরি না্ কোনরকম টেনেটুনে চলার মতো। বাপের টাকা উড়ানো ছেলে আদনান, এখন নিকের স্বল্প বেতনের টাকায় বউ চালায়,নিজে চলে। চাহিদা খুব সামান্যতে চলে এসেছে। অল্পস্বল্প চাওয়া-পাওয়াতে সে বিশাল সুখ খুঁজে পায়।
ফিরার পথে ইলমার জন্য দু’টো গোলাপ নেয় আদনান। বাইক নিয়ে বাসা আসে। গ্যারেজে সেটা রেখে ভেতরে যায়। নিজেদের রুমে গিয়ে সোফায় বসে। ইলমা আদনানের রুমে নেই। কোথায় আদনান জানেনা। ঘড়ির কাটায় রাত নয়টার ঘর ছুঁইছুঁই। আদনান গলা ছেড়ে ডাকে, “কইগো, প্রেমিকনারী।”
ইলমা তখন রুমেই আসছিলো। আদনানের এরকম সম্মোধন পেয়ে হকচকিয়ে যায়। আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “দরজা লাগিয়ে ভেতরে আয়।”
ইলমা দরজা লাগায়। ভেতরে আসতে আদনান তাকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে দেয়। ঘাড়ে থুঁতনি রেখে বলে, “আজকে শাড়ি পরবি?”
“না।”
“কেন?”
“দাদী বিকেলে ফুফুর বাসায় গিয়েছে। ফারিশ হসপিটালে ভর্তি।”
“তো?”
“তুমি করেছ?”
“ধুরু না।”
“এহহ, মিথ্যে বলবেনা।”
“আমি জানিওনা এসব। ব্যাংকে ছিলাম। বিকেলে এসে, সন্ধ্যায় আবার বেরিয়ে গেছি তো।”
“কই ছিলা সারা সন্ধ্যায়?”
“বন্ধুদের সাথে।”
“তাহলে ফারিশকে মারলো কে?”
“কে আবার? আমি মারিনি ,মনে হয় তোর বাপ ইনান মেরেছে।”
“জয়কে নিশ্চয়ই তুমি মেরেছ?”
“হ্যাঁ।”
“ওমাহ্। তুমি তো মনে হয় ঝগড়া করলে আমাকেও এভাবে মারবে। তোমার হাত চলবে।”
“এখন অব্দি একটা চড়ও মারিনি। তুই তো আমাকে মারিস। যখন হাতের কাছে যেটা থাকে সেটাই আমার গায়ে ছুঁড়ে মারিস।”
“তুমি যে বেশি ভালো সেজন্য।”
আদনান জবাব দেয়না। ইলমার সামনে দু’টো গোলাপ ধরে বলে, “সুন্দর না?”
“সুন্দর।”
“গতবছর তোর বার্থ ডে-তে আমার দেওয়া হরলিক্সটা ঠিকঠাক খেয়েছিস তো?”
“সর। হরলিক্সের কথা বলছ কেন?”
“ঘড়িটা আছে?”
“কোনটা?”
“যেটা আমি দিলাম।”
ইলমা সবিস্ময় নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। চোখ বড়বড় করে বলে, “ঘড়ি ব্রেসলেট তুমি দিয়েছ?”
“হ্যাঁ। কেনো?”
“লুকিয়ে দেওয়ার কী আছে?”
“এই সর। আমি মেয়েমানুষদের এসব গিফট দেইনা।”
“তাহলে আমাকে দিলে কেন?”
“সেজন্যই তো অপরিচিত সেজে দিয়েছি। প্রকাশ্যে দিলে আমার মান থাকত নাকী?”
ইলমা এগিয়ে আসে। আদনানের কোলে বসে তার মাথার চুল টেনে ধরে বলে, “ইভটিজার ভাই, শাহরিয়ার আদনান শেখ কাউকে ভালোবাসে।”
“কোন সন্দেহ আছে?”
“আছে তো!”
“কী?”
“থালা-প্লেট ধুয়েমুছে দিলে না বুঝতাম সত্যি ভালোবাসো।”
“এমন একটা চড় দেব বাপ-দাদার নাম ভুলে যাবি।”
“তোমার হাতের চড় খেয়ে তোমার নাম ভুললে বেশি খুশি হবো।”
“তোর চড় খেতে হবেনা। আমার নামও ভুলতে হবেনা।”
কথাটা শেষ করে আদনান ইলমার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। ইলমা চোখ বন্ধ করে আদনানের দেওয়া ভালোবাসার পরশ নেয়।
★★★
“মিস তৃপ্তি শেখ আপনি রাজী থাকলে, আপনার বাবার কাছে আমি বিবাহের প্রস্তাব পাঠাতে পারি।”
নির্মাণের ম্যাসেজে তৃপ্তি হাসে। লজ্জায় মুখশ্রী লাল হয়ে গেছে। তবে সে লজ্জা মাখা মুখশ্রী দেখার মতো কেউ নেই। সে একাই রুমে বসে আছে। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর তৃপ্তি লিখে,
“এই ছেলে, কোন কাজ করো? বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবে?”
“তাড়াতাড়ি বিয়ে করলে চাকরী এমনিতেই পেয়ে যাব। তুমি রাজী কীনা সেটা বলো?”
“এখন কোন বিয়েশাদি না। তোমার পড়াশোনা শেষ হোক। জব ধরো দ্যান বাবাকে বলবে। আমার ভাই আদনানকে রাজী করাও এমনিতেই সব রাজী।”
“তোমার ভাই তো বারোমতের অধিকারী। কতক্ষণ বলে,বোন দিবে। আবার কতক্ষণ বলে, ” দিবেনা।” মাঝখানে আমার প্রেসার হাই হয় আবার লো তে নেমে যায়।”
“ভাইয়া এরকমই।”
“আচ্ছা তৃপ্তি শেখ পড়াশোনা করুন। আমিও পড়াশোনা শেষ করি এরপর নাহয় বর-বউ সাজব। কী বলেন?”
“ইনশাআল্লাহ।”
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ দিন বুকলেট কম পেজে। পেজ লিংক
https://www.facebook.com/share/153ciYupU5/
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

