#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৩|
#শার্লিন_হাসান
“এই মুখ সামলে কথা বলবি।”
“নারী দরদি জাতির পিতা, জনগণের খাওয়া জিনিস আবার টেস্ট করবে। ছিঃছিঃ.।”
“তাহলে তোর বোনকে দিস। নিশ্চয়ই পিওর হবে। একবারে দেশি খাঁটি মাল।”
“শূ^য়রের বাচ্চা! আর একবার এই কথাটা বললে তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব।”
কথাটা বলে আদনান ফোন ছুঁড়ে মারে। মূহুর্তে নিজের মাঝে উত্তেজনা দেখতে পায়। রক্ত জেনো টগবগ করছে। হাত নিশপিশ করছে। জেনো এই মূহুর্তে জয় আবরণকে হাতের কাছে পেলে দুই কো’প বোসিয়ে দিতো। মাথা ভীষণ গরম হয়ে আছে আদনানের। কী করা যায় ভেবেই ব্যালকনিতে যায়। নিস্তব্ধ চারপাশ, আকাশে নেই চাঁদ বা তারা। তিমিরে ডুবে থাকা বিশাল আকাশ। মৃদু হিমশীতল বাতাস। আদনান বারবার ঘেমে উঠছে। ব্যাকুল মনটাকে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বারবার। বুকের বা পাশে হাত রাখে। তার মনের সেই পবিত্র এবং শুদ্ধ নারীর কথা মনে আনে। মূহুর্তে একরাশ ভালো লাগা কাজ করে। সেইজন্য মৃদু হেঁসে বিড়বিড় করে বলে,
“ভাগ্যিস পবিত্র নারী হৃদয়ের অন্তস্থলে আছে,
নাহলে বেসামাল আমিকে এতো সহজে কে সামলাতো?”
ব্যালকনির গ্রিলে হাত রেখে গুনগুন করে গেয়ে উঠে,
“আমি কেমনে তোমায় রাখি গো
কোন বাধনে বাধি গো
তুমি ছাড়া হৃদয় অচেতন
তুমি ছাড়া হৃদয় অচেতন।”
★★★
সুপ্রভাতে শেখ পরিবারের সবাই নাশতা খেতে বোসেছে। এক পর্যায়ে কথা উঠে নতুন বাড়ি নিয়ে। তৃপ্তি তারেক মাহমুদকে জিজ্ঞেস করে, “বাবা কাজ কবে শেষ হবে?”
“ছয়মাস একবছর তো লাগবে।”
তারেক মাহমুদের কথা শেষ হতে ইলমা জবাব দেয়, “তৃপ্তি গিয়েছিস সেখানে?”
তৃপ্তি উপরনিচ মাথা দুলিয়ে বলে, “হ্যাঁ, সেদিন গিয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে।”
আদনান দু’জনের কথা শোনে। তখন ইলমা বলে উঠে, “বাবা, আমিও যাব সেখানে।”
সাথে সাথে ইনান শেখ বলেন, “কাজ শেষ হলে যাবে। এখন দিনের বেলায় ওখানে ছেলেপেলে থাকে। কাজ করে। যুগ খারাপ,তোমার যেতে হবেনা।”
“তুমি নিয়ে চলো?”
মেয়ের কথায় ইনান শেখ ভ্রুদয় কোঁচকান। জবাব দেন, “বাবার সময় নেই। একটু অপেক্ষা করো। একবারে যেও।”
ইলমা জবাব দেয়না। মূহুর্তে চুপসে যায়। বাকীরাও যে যার মতো নাশতা খেয়ে নিজেদের গন্তব্যে রওনা হয়।
আদনান রুমে এসে একটা সিগারেট ধরায়। সেটা টানতে টানতে শরীরে পারফিউম মাখে। সিগারেট খাওয়া শেষ হতে মুখ ধুয়ে নেয়। পরিপাটি হয়ে বাইকের চাবি নিয়ে বেরোয় বাসা থেকে।
নির্মাণ, শেজান, নিশাত এবং রাহা আদনানের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আদনান আসতে চারজন তাকে চেপে ধরে। নির্মাণ জিজ্ঞেস করে, “তোর কী হয়েছে?”
শেজান জিজ্ঞেস করে, “সত্যি ভালো হয়ে গেছিস?”
নিশাত জিজ্ঞেস করে, “আবার নতুন করে প্রেমে পড়ছিস?”
সবার একনাগারে করা প্রশ্নে আদনান বিরক্ত হয়। সবাইকে থামিয়ে বলে, “এরকম কিছুনা। কয়েকদিন রিলেক্সে থাকতে চাচ্ছি। প্রেম মানেই তো প্যারা তাইনা?”
“তুই প্লিজ এসব বলিস না। এইধরনের কথা তোর মুখে একদম শোভা পায়না।”
নির্মাণের কথায় আদনান কয়েকটা গালি উচ্চারণ করে বলে, “তোদের জ্বালায় কী ভালো হতে পারব না?”
“ঠিক করে বল কোন মহীয়সী নারীর প্রেমে পড়েছিস?”
রাহার কথায় আদনান বিরক্তি নিয়ে বলে, “সর তো। সেই কখন থেকে প্যানপ্যান করে যাচ্ছিস। বলেছি, প্রেম করব না আবার বলছিস কার প্রেমে পড়েছি।”
আদনানের কথায় সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে। সবার এমন তাকানোতে আদনান আরো বিরক্ত হয়। সবাইকে রেখেই সে ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাকীরা তার যাওয়া দেখছে একদৃষ্টিতে।
★★★
ইলমার টেস্ট এক্সাম সামনে। এরপর ফাইনাল এক্সাম। এই নিয়ে তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। উচ্চ মাধ্যমিকের পড়া যা! মাঝেমধ্যে ডিপ্রেশনে পড়ে যায় সে। পাশ করা ইজি কিন্তু ভালো মার্ক উঠানো কঠিন। তবুও নিজেকে পড়াশোনায় মনোযোগী করে রাখে। যেখানে তার বন্ধুবান্ধবরা প্রেম নিয়ে ব্যস্ত সেখানে সে পড়াশোনায় সময় দিচ্ছে। ছুটির সময় তৃপ্তি, প্রীতির সাথে গেটের কাছে এসেই গাড়ি ধরে তিনজন।
ইলমা আনমনে বাইরে দেখছে। তৃপ্তি এবং প্রীতি পরীক্ষা নিয়ে কথা বলছিলো। ইলমার সেসবে মনোযোগ নেই। হুট করে তৃপ্তি বলে, “এই ইলমা, অবন্তী আপুর যে বিয়ে, শুনেছিস?”
ইলমা খানিক চমকে উঠে। জবাব দেয়, “কবে?’
” আগামী কালকে মনে হয় হলুদ। এরপর বিয়ে।”
“ওহ। ভালোই তো। দেখা হয়নি তাই জানিনা।”
দু’জনের কথা মাঝেই তাদের রাস্তার পরিসমাপ্তি ঘটে। ভাড়া মিটিয়ে প্রীতিকে বিদায় দিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটে দু’জন। তাঁদের বিল্ডিংয়ের সামনে আসতে হুট করে ইলমা দাঁড়ায়। তৃপ্তি ইলমাকে দাঁড়াতে দেখে জিজ্ঞেস করে, “আবার কী হলো?”
“আরেহ্। উপরে দেখ।”
ইলমার কথায় তৃপ্তি চোখ তুলে তাকায়। ছাঁদে ডেকোরেশন করা হচ্ছে। সেটায় একবার চোখ বুলিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দু’জন।
সন্ধ্যায় অবন্তীর বাবা এসে পুরো শেখ পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে যায়। ইনান শেখ এবং তারেক মাহমুদ দাওয়াত গ্রহণ করে। অবন্তীর বাবা আদনান,তৃপ্তি এবং ইলমাকে এক্সট্রা ভাবে বলেন, গায়ে হলুদে আসার জন্য। সব দেখভাল করার জন্য। অন্তীর তো ভাই নেই।
এদিকে তারেক মাহমুদ আদনানের দিকে তাকিয়ে বলেন, “নিজের বোনের দায়িত্ব পালন করেনা আবার অন্যজনের দায়িত্ব পালন করবে? ওর মতো ছেলের থেকে এসব আশা করা বোকামি।”
অবন্তীর বাবা তারেক মাহমুদের এমন কথায় জবাব দেন, “সবসময় মানুষ একরকম থাকেনা। আদনানও পরিবর্তন হবে।”
“হবে! যেদিন সূর্য পশ্চিম আকাশে উঠবে।”
বাবার এমন কথায় আদনানের রাগ হয়। বিরক্ত ভাব নিয়ে বলে, “গেলাম না এই বিয়েতে। তাতে আমার কিছু যায় আসবেনা।”
আদনানের ত্যাড়া কথায় তারেক মাহমুদ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “এই ত্যাড়ামির জন্যই কিছু করতে পারবেনা।”
অবন্তীর বাবা তারেক মাহমুদকে থামিয়ে বলেন, “আরে এখনকার ছেলেদের রক্ত গরম। শান্ত ভাবে কথা বল।”
“আমি ওর বাবা হই।”
তখন ইনান শেখ বলেন, “আরেহ্ ভাইয়া থামো। ও তো প্রফেশনাল বেয়াদব সবাই জানে। নতুন করে বলার কিছু হয়নি।”
আদনান চুপ করে থাকে। অবন্তীর বাবা কফি শেষ করেই বিদায় নেয়। তিনি যেতে ইলমা তৃপ্তিকে বলে, “ওই, ফুলের গহনা দিয়ে সাজব।”
“কাকে বলব?”
“বাবাকে।”
“নাহ্। বকা দিবে। বলবে সামনে টেস্ট এক্সাম।”
“তাহলে?”
“আদনান ভাইয়াকে।”
তৃপ্তির কথায় ইলমা আদনানের দিকে তাকায়। একটু আগে যা করলো মাথা গরম। এখন বললে নিশ্চয়ই ছ্যৎ করে উঠবে। আদনান তৃপ্তি এবং ইলমার ফিসফিস করে বলা কথায় দৃষ্টিপাত করেছিলো। ইনান শেখ উঠে রুমে যান। তখন তৃপ্তি তারেক মাহমুদকে বলেন, “বাবা ফুল লাগবে।”
মূহুর্তে মেজাজ হারায় তারেক মাহমুদ। বলেন, “ফুল দিয়ে কী করবে তুমি?”
“গহনা বানাব।”
“টাকা দেব নিজে নিয়ে আসবে। আমার সময় নেই।”
“তাহলে ভাইয়াকে বলো?”
তারেক মাহমুদ বিরক্ত হোন। আদনানের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি স্বপ্ন দেখো, তোমার ভাই ফুল এনে দিবে।”
আদনান এবার গলার আওয়াজ চওড়া করে।
বলে, “সব বিষয়ে আমাকে টানবে না। না তৃপ্তির, না এই পরিবারের কোন ব্যপারে। আমার মতো বেয়াদবের থেকে কোন আশা রাখবে না কেউ। কথায় কথায় বালের কথা বলে। আ মি জানি আমি বেয়াদব। এই পাড়ার সবাই জানে। প্রতিদিন বলার কিছু হয়নি।”
আদনানের মৃদু চিৎকারে তারেক মাহমুদও চেঁচিয়ে বলেন, “টাকা খরচ করে বেয়াদব বানাচ্ছি। এতো সফলতা দিয়ে কী করব? যদি ছেলেটাকে মানুষ করতে না পারি।”
তখন ঈশিতা বলে, “ওকে তুমি খারাপ বানিয়েছ। মানুষ অভাব বোঝায়, তুমি কখনো অভাব বুঝিয়েছ? টাকা চাইলে দিয়ে দিতা। ভুল হয়েছে, ওকে দেশের বাইরে পাঠানো উচিত ছিলো। পরিবারের অভাব বুঝত, হার্ড ওয়ার্ক করতো। এটাই বেটার ছিলো। সব দোষ তোমার। তুমি তখন রাজী হওনি কেন?”
ঈশিতার কথায় তারেক মাহমুদ ক্ষুব্ধ হয় আদনানকে বলেন, “তোমাকে পনেরোদিন সময় দিলাম। নিজেকে পরিবর্তন না করলে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে।”
“আমি কারোর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করতে পারব না। থাকলাম না এই বাড়িতে। তাতে আমার কিছু যায় আসবেনা।”
ফরিদা পারভীন সবাইকে থামিয়ে বলেন, “আমার নাতি কোথাও যাইব না। তারেক কী বলে এডিন।”
তখন ঈশিতা বলে, “আর লায় দিবেন না প্লিজ। ওর পরিবর্তন হওয়াটা জরুরি।”
ইলমা তৃপ্তি দুজনেই স্তব্ধ। কী একটা কথার থেকে কোথায় গেলো? ইলমা ভাবছে, ফুলের কথা তোলাটাই ভুল ছিলো। তৃপ্তি ভাবছে, ফুলের কথা তারেক মাহমুদকে বলাটাই ভুল ছিলো। কিন্তু তারেক মাহমুদ এবার জোর দিয়ে বলছেন সবটা। আদনানকে মাত্র পনেরো দিনের সময়। এরপর আদনানের বাড়ি ছাড়তে হবে।
তখন ফরিদা পারভীন বলেন, “আদনানটা কী হইলো। ওর ফুফাতো ভাইটারেও তো দেখতে পারে। কত নম্র ভদ্র।”
আদনানের মেজাজ ঘেঁটে গেছে। তার দাদীর দরকার ছিলো নিজের মেয়ের নাতির কথা তোলার? আদনান বিরক্তি নিয়ে বলে, “ওই টেপলার কথা আমার কাছে বলবেনা। ও কী কী করে বেড়ায় তুমি জানো নাকী?”
“নিজে তো বেয়াদব, সেজন্য ভালো ছেলেটাকেও তোমার মতো ভাবছ? ”
ঈশিতার কথায় আদনান বাঁকা হেঁসে বলে, “কেমন ভালে সেটা সময় হলে বুঝবে।”
কথাটা বলে সে রুমে চলে যায়। বাকীরা তার কথায় চোয়াল শক্ত করে নিয়েছে। তখন ফরিদা পারভীন বলেন, ‘আদনানরে বিয়া করাই দেও। যখন বউ আসবো তখন দেখবা সোজা হয়ে যাইব।”
মায়ের কথায় তারেক মাহমুদ বিরক্ত হয়ে বলেন, “আম্মা, ওর মতো বেয়াদবের কাছে কে মেয়ে বিয়ে দিবে? ও কী চাকরি বা কোন কাজ করে নাকী? বউ চালাবে কীভাবে? পনেরোদিনে যদি নিজেকে সঠিক পথে আনতে পারে তো, আমার বন্ধুর কাছে প্রস্তাব রাখব।”
“তাহলে তো ভালোই।”
ফরিদা পারভীনের কথা শেষ হতে, ইলমা তৃপ্তি দুজনেই উঠে রুমে আসে। তৃপ্তি ইলমাকে বলে, “ভাইয়া কীভাবে পনেরোদিনে নিজেকে পরিবর্তন করবে?”
“জানি না। ও বেশি উশৃংখল। মানে অতিরিক্ত।”
“শোন একটা কথা বলি?”
তৃপ্তির কন্ঠ অন্যরকম শোনালো। ইলমা কিছুটা অবাক হয়। জবাব দেয়, “কী?”
“ভাইয়াকে বুঝাবি?”
“কীহ্?”
“হ্যাঁ। ভাইয়া যদি তোর কথা শোনে?”
“আসতাগফিরুল্লাহ, আদনান যা। আমাকে ধমকে সাইডে রেখে দিবে। না ভাই। ওনার গার্লফ্রেন্ডকে বল বোঝাতে। আমি এসবে নাই।”
“আমার মনে হয় ভাইয়া তোর কথা শোনবে।”
“কোন অধিকারের জন্য আমার কথা শোনবে?”
“জানি না। ভাইয়ার চোখে তোর জন্য আকুলতা, টান, মায়া দেখতে পাই।”
“এসব কেমন কথা তৃপ্তি? আদনানের মতো প্লে বয়ের মাঝে এরকম কিছু থাকতেই পারেনা। তুই প্লিজ উল্টাপাল্টা বলে, আমার মনে ওকে নিয়ে তিক্ততা তৈরি করিস না। এরপর থেকে ওর সাথে কথা বলতে গেলেও চারবার ভাবতে হবে আমার। আমি এসব পছন্দ করিনা তৃপ্তি।”
“আচ্ছা বাদ দে। কিছু বলতে হবেনা।”
“হ্যাঁ। ওনার ভালো উনি আমাদের থেকেও বেশি বুঝেন।”
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
(সামনে স্পেশাল পার্ট আসছে। আদনানের বুকের বা পাশের পবিত্র নারীকে বুঝতে পারবেন।)
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT
এই গল্পের চলমান পার্টের লিংক
https://www.facebook.com/share/p/1Y36AxRX3B/

